মেন্যু
nana ronger manush

নানান রঙের মানুষ

পৃষ্ঠা: ১৩৬ বিচিত্র মানুষের বসবাস আমাদের চারপাশে। চলার পথে তারা গল্প করে, গল্প বানায়, গল্প গাঁথে। সেসব গল্পে উঠে আসে জনমানুষের কথা, জীবনের কথা। প্রাণ এবং প্রণোদনার কথা। উৎসাহ এবং উদ্দীপনার... আরো পড়ুন
পরিমাণ

137  185 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

4 রিভিউ এবং রেটিং - নানান রঙের মানুষ

4.5
Based on 4 reviews
5 star
50%
4 star
50%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 4 out of 5

    মো জসিম উদ্দীন:

    আমাদের সমাজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন স্বভাব, চরিএ, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, ভিন্ন বৈশিষ্টের মানুষ। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়, বিভিন্ন মানুষের মনের বিভিন্ন রং আমাদের মনেও বিচিএ রংধনু রূপে প্রতিফলিত হয়। কিছু মানুষ আছে যাদের সংস্পর্শ আমাদের ভালো লাগে, কিছু মানুষের ভালোবাসার উষ্ণতায় আমরা উদ্বেল হই, কখনো মানুষের উদারতায় মুগ্ধ হই, কখনো অপরের মনের বেদনাগুলো আমাদের মনকেও রাঙিয়ে দিয়ে যায় বেদনার নীলে, কিছু মানুষের হিংসা ঘৃণা জিঘাংসা কৃতঘ্নতার কালো অন্ধকারে আমরা ভীত হই, আবার কখনো সাদা রঙের মানুষের সাথে মিশতে মিশতে আমাদের মনটাও পবিএ হয়ে যায়। বিচিএ এ মানুষগুলোর বসবাস আমাদের সমাজেই। সমাজের এই বিচিএ মানুষগুলোকে নিয়েই লেখা ‘নানান রঙের মানুষ’ বইটি।

    ★বইটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ উল্লেখ করছি, যা পাঠকদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে-

    ~~~~ ওরা পাকিস্তানী~~~~~
    পাকিস্তানী নাম শুনলেই আমাদের মধ্যে এক অন্যরকম ধারণার সৃষ্টি হয়। আর হবে নাই বা কেন? পাকিস্তানিরা আমাদের উপর তো কম অত্যাচার করে নি। কিন্তু সব পাকিস্তানীই কি সমান?

    শীত যাই যাই করছে, আমাদের পাড়ার মধ্যেই আরেকটা নতুন বাসায় শিফট হলাম। বেচারা, তার নাম শাফকাত ভাই, বৃষ্টির মধ্যে নিজে মাথায় করে ভারী বিছানা আগের বাসা থেকে নতুন বাসায় এনে আমাদের সাথে ধরাধরি করে সেট করে দিলেন। শিফট করার শেষ দিন রান্না করতে কষ্ট হবে বলে তার স্ত্রী হাবিবা আমাদের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়ালেন। আমাদের পাড়ায় দু’টো বাংলাদেশী পরিবার আছে। তাদের কাছেও আমরা এই সহযোগিতা আশা করিনি। তাই সপ্রণোদিত হয়ে এই সাহায্য আমাদের হৃদয় ছুয়েঁ দিল।

    ~~~~~~~~সত্যানুসন্ধানী~~~~~~~
    আমাদের মাসজিদে জুমু’আর নামাযের পর এক শেতাঙ্গ ক্যানাডিয়ান ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইমামের সাথে প্রথমে ‘আরবীতে এবং অত:পর ইংরেজিতে শাহাদাহ’র বাক্যগুলো উচ্চারণ করলেন। সাথে সাথে পুরো মাসজিদ ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হলো। নবাগত মুসলিম ভাইটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
    ইউসুফ এস্টেস সাহেব একবার এক ব্যক্তির শাহাদাহ কবুলের পর ব্যাখা করলেন, কোন ব্যাক্তি যখন সত্যকে গ্রহণ করে তখন তার হৃদয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে করুণাধারা বর্ষিত হয় সে কারণেই তার দুচোখ প্লাবিত হয়, এর দ্বারা তার অতীতের সব পঙ্কিলতা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়।

    ~~~~~~~~~~পরিশেষে~~~~~~
    বইটি ১৮টি খন্ডের প্রথম অংশে লেখিকা তার সাদামাটা জীবনের অভিজ্ঞতার ঘটনাগুলো এবং দ্বিতীয় অংশের গল্পগুলো সত্যিকার মানুষজনের বাস্তজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে সাজিয়েছেন। আমাদের চারপাশের হরেক রকম মানুষের হরেক রকম গল্প নিয়েই মূলত সাজানো হয়েছে এ বইটি।সাহিত্যপাঠে অভ্যস্ত যেকোনো পাঠকের জন্য বইটি নির্মল আনন্দের খোরাক হবে, ইন শা আল্লাহ।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Sabiha Jannat:

    বই- নানান রঙের মানুষ
    –––––––––

    “মানুষ” — আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। তবে এই মানুষকে কি এক দেখাতেই চেনা যায়? তার বাহ্যিক দিক আর অভ্যন্তরীণ দিক কি একই রকম হয়? হয়তো হয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটে তার বিপরীত।
    ,
    মানুষের সাথে মিশতে পারার ক্ষমতাও কিন্তু বেশ চমৎকার! তাদের কাজগুলো দেখে দেখে শেখার দক্ষতা অর্জন করাও কিন্তু এক শৈল্পিকতা। আমাদের আশেপাশের মানুষগুলো আমাদের এমন সব শিক্ষা ও উপলব্ধি দিয়ে যায় যা আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নজরআন্দাজ করে ফেলি, হেলায় ভাসিয়ে দেই। তবে একটুখানি খেয়াল করে যদি কুড়িয়ে নিতে পারি তাদের অভিজ্ঞতাগুলো, এর থেকে বড় দিক্ষা আর হতেই পারেনা কখনো।
    – এমন নানান রঙের মানুষের রঙ গুলো আলোকচ্ছটার মতো জ্বলে উঠেছে এ বইতে।

    ❐ বই আলাপনঃ
    লেখিকা “রেহনুমা বিনতে আনিস” তার জীবনের মোড়ে মোড়ে আলোক রশ্মি নিয়ে দাড়িয়ে থাকা কিছু মানুষের কথা বলেছেন এ বইতে। কিছু মানুষ আবার এই আলোকরশ্মি অনুসরণ করে হাত ধরে চলতে শিখিয়েছেন তাকে, আবার কিছু মানুষ হাড়ানো আলোটুকু খুঁজে পেতে সাহায্য করেছেন। কিছু মানুষ বুঝতে শিখিয়েছেন কিভাবে শত কষ্টের আড়ালেও সফলতাকে হাসিমুখে ছিনিয়ে আনতে হয়, আবার কিছু মানুষের কর্কষ মুখের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে তুলোর মতো কোমল হৃদয়।
    ,
    লেখিকার এসকল উপলব্ধিমূলক আত্মকাহিনীগুলো বিভিন্ন ছোট ছোট শিরোনামে সাজিয়ে উপস্থাপন করেছেন তিনি পাঠকদের সামনে।

    ❐ ভালোলাগা-মন্দলাগাঃ
    সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়টি ছিল পাঠকের কাছে নিজ অভিব্যক্তি গুলো লেখিকার পোরট্রে করার দক্ষতাগুলো। পাঠক এর যেন মনে হবে নিজেই সবকিছু সচক্ষে দেখছেন।
    আর বইতে অনেক ক্ষেত্রেই ফ্রি মিক্সিং এর বিষয়টি চলে এসেছে যেহেতু লেখিকা বিদেশে অধ্যায়নরত অবস্থার চিত্র এবং কর্মক্ষেত্রের চিত্র উপস্থাপন করেছেন। এই বিষয়টি আমার কাছে দৃষ্টিকটূ লেগেছে অনেকটা।

    ❐ পাঠ্যাভিমতঃ
    মানবিকতা, সামাজিকতা আর ইসলাম এর এক অপূর্ব মিশ্রণে প্রতিটি কাহিনী যেন বলে দিচ্ছিল আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর জীবনচিত্র। এ কাহিনী গুলো যেন আমাদের অতিপরিচিত, জীবনঘনিষ্ঠ!
    বইটি পড়া শেষ করে মন যেন আরও কিছু পড়তে চাচ্ছিল, শেষের পাতাগুলো পড়তে যেয়ে ইচ্ছে হচ্ছিল যদি আরও কিছু পাতা থাকতো!

    নিজ প্রতিবেশি, স্বামী, সহপাঠী, সহকর্মী, বান্ধবী, রাস্তায় চলতে থাকা কিছুটা পরিচিত-অপরিচিত মুখ- এরা সবাই আমাদের জীবনে কিছুনা কিছু প্রভাব ফেলে যায়, রেখে যায় কিছু মধুর স্মৃতি আবার কিছু স্মৃতি হয় বেদনার। এমনই এক অদ্ভুত পাঠ শিখিয়ে যাবে পাঠককে বইটি, ঈন শা আল্লাহ!
    ————————

    বই- নানান রঙের মানুষ
    লেখিকা- রেহনুমা বিনতে আনিস
    প্রকাশনী- সমকালীন প্রকাশনী
    ——–

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    বৃষ্টি জলি:

    ? লেখিকার পরিচয় :

    লেখিকার জন্ম চট্টগ্রামে, শৈশব ঢাকায়, কৈশোর আবুধাবি ও ভারতে। বিয়ের পর আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসা। বর্তমানে স্বামী ও দুই সন্তানসহ ক্যানাডায়। আদর্শবাদী ও জ্ঞানানুরাগী একটি পরিবারে বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই মুখচোরা, বইপোকা।

    ইংরেজিতে অনার্স। ছাএাবস্থায় চট্টগ্রামের সিজিএস ও প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অনেক দিনের।
    ভালো লাগে বিশ্বসাহিত্য। অত্যধিক আগ্রহের ফলে জ্ঞানের মোটামুটি সব শাখাতেই তার অল্পবিস্তর বিচরণ রয়েছে।
    ছোটবেলায় ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে ছোটদের লেখা পড়ে উদ্দীপ্ত হয়ে লেখালেখিতে হাতেখড়ি। পাঁচ বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা দিয়ে সূএপাত হলেও প্রথম প্রকাশ নয় বছর বয়সে, আবুধাবির ইয়াং টাইমস এবং জুনিয়র নিউজে। ইয়াং টাইমসে নির্বাচিত লেখিকা হয়ে পরিচিতি লাভ। এসএসি’র পর দেশে ফিরে প্রথম বাংলায় লেখালেখি শুরু। পরবর্তী সময়ে বৃহওর অঙ্গনে পদচারণা।

    ? বই রিভিউ :

    আমাদের সমাজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন স্বভাব, চরিএ, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, ভিন্ন বৈশিষ্টের মানুষ। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়, বিভিন্ন মানুষের মনের বিভিন্ন রং আমাদের মনেও বিচিএ রংধনু রূপে প্রতিফলিত হয়। কিছু মানুষ আছে যাদের সংস্পর্শ আমাদের ভালো লাগে, কিছু মানুষের ভালোবাসার উষ্ণতায় আমরা উদ্বেল হই, কখনো মানুষের উদারতায় মুগ্ধ হই, কখনো অপরের মনের বেদনাগুলো আমাদের মনকেও রাঙিয়ে দিয়ে যায় বেদনার নীলে, কিছু মানুষের হিংসা ঘৃণা জিঘাংসা কৃতঘ্নতার কালো অন্ধকারে আমরা ভীত হই, আবার কখনো সাদা রঙের মানুষের সাথে মিশতে মিশতে আমাদের মনটাও পবিএ হয়ে যায়। বিচিএ এ মানুষগুলোর বসবাস আমাদের সমাজেই। সমাজের এই বিচিএ মানুষগুলোকে নিয়েই লেখা ‘নানান রঙের মানুষ’ বইটি।

    ✨ বইটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ উল্লেখ করছি, যা পাঠকদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে—

    ? ওরা পাকিস্তানী—
    পাকিস্তানী নাম শুনলেই আমাদের মধ্যে এক অন্যরকম ধারণার সৃষ্টি হয়। আর হবে নাই বা কেন? পাকিস্তানিরা আমাদের উপর তো কম অত্যাচার করে নি। কিন্তু সব পাকিস্তানীই কি সমান?

    শীত যাই যাই করছে, আমাদের পাড়ার মধ্যেই আরেকটা নতুন বাসায় শিফট হলাম। বেচারা, তার নাম শাফকাত ভাই, বৃষ্টির মধ্যে নিজে মাথায় করে ভারী বিছানা আগের বাসা থেকে নতুন বাসায় এনে আমাদের সাথে ধরাধরি করে সেট করে দিলেন। শিফট করার শেষ দিন রান্না করতে কষ্ট হবে বলে তার স্ত্রী হাবিবা আমাদের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়ালেন। আমাদের পাড়ায় দু’টো বাংলাদেশী পরিবার আছে। তাদের কাছেও আমরা এই সহযোগিতা আশা করিনি। তাই সপ্রণোদিত হয়ে এই সাহায্য আমাদের হৃদয় ছুয়েঁ দিল।

    কিছুদিনের মধ্যে জানতে পারলাম, হাবিবা পাড়ার ছেলেমেয়েদের কুর’আন শেখায়। আমাদের বাংলাদেশীদের অধিকাংশই বিদেশে এসে হালাল হারামের ধার ধারেন না। এখানের মাসজিদ, দোকানপাট, হালাল পণ্য, হালাল রেস্টুরেন্ট সবই শাফাত ভাই চিনিয়ে দিলেন। এমনকি আমাদের যতদিন গাড়ি ছিলো না ততদিন তিনি আমাদের বাজারে নিয়ে যেতেন, আবার বাসার সামনে বাজার নামিয়ে দিয়ে যেতেন নিজের হাতে।
    হাবিবা প্রায়ই আমাদের নানারকম নাস্তা,তরকারি বানিয়ে পাঠায়। পরে দেখলাম শুধু আমাদের নয়, পাড়ার যত পরিচিত লোকজন, অসুস্থ রোগী সবাইকে সে নিয়মিত খাবার পাঠায়, কারও অসুবিধা থাকলে তাদের বাচ্চাদের ওদের বাসায় রেখে যায়।কিছুদিনের মধ্যে আমার হাবিবার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল।

    এর কিছুদিন পর আমি একটা কোর্সে ভর্তি হলাম। হঠাৎ একদিন আমার শরীর খুব খারাপ ছিল। সাধারণত আমি আর কিছু না হোক, ভাত রান্না করে যেতাম, যেন সাড়ে তিনটায় আমার মেয়ে যখন স্কুল থেকে তখন অন্তত ডিম ভেজে হলেও খেয়ে নিতে পারে। সেদিন ভাতও রান্না করা হয়নি। অফিসে কিছুতেই কাজে মন দিতে পারছিনা। চারটা বাজতেই দিলাম স্টেশনের দিকে ছুট। মনে মনে ভাবছি— আমার ছেলেমেয়েগুলো না খেয়ে নিশ্চয় শুকনো মুখে বসে আছে। এত কষ্ট লাগছিল আমার বাচ্চাদের জন্য, যে নিজেকে অপদার্থ মা হিসেবে ধিক্কার দিচ্ছিলাম।
    সেদিন বরফ পড়ে রেললাইন স্লিপার হয়ে গিয়েছে। সবাই সব চলছে ধীর গতিতে। ওদিকে আমার হার্টবিট বেড়ে চলেছে প্রতি সেকেন্ডে। বাসার দরজায় এসে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। মুখের চামড়া টেনশানে চড়চড় করেছে। নামায আগে পড়ব, না ভাত আগে বসাবো? চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখি আমার ছেলেমেয়ে কিচেনের ডাইনিং টেবিলে মহা উৎসবে খাচেছ!। মনে করলাম হাফিজ সাহেব রান্না করেছে। তাই হাফ ছেড়ে ভাবলা, আমার উনিকে আল্লাহ রাহমাত করুন।
    রাদিয়াকে বললাম, ‘কী খাচ্ছ, আম্মু?’
    ও মহা আনন্দে বলল, ‘বিরিয়ানী’।
    হাফিজ সাহেব তো বিরিয়ানী রান্না করতে পারেন না! ‘তোমরা বিরিয়ানী পেলে কোথায়?’
    ‘হাবিবা আন্টি পাঠিয়েছে’, বলেই আবার খাওয়া দাওয়ায় মনোনিবেশ করল দুই ভাইবোন।
    কৃতজ্ঞতায় মাথা নুয়ে এলো। আল্লাহ তোমাকে ধন্যবাদ এই পাকিস্তানীদের জন্য।

    ❄️ সত্যানুসন্ধানী—
    আমাদের মাসজিদে জুমু’আর নামাযের পর এক শেতাঙ্গ ক্যানাডিয়ান ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইমামের সাথে প্রথমে ‘আরবীতে এবং অত:পর ইংরেজিতে শাহাদাহ’র বাক্যগুলো উচ্চারণ করলেন। সাথে সাথে পুরো মাসজিদ ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হলো। নবাগত মুসলিম ভাইটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
    ইউসুফ এস্টেস সাহেব একবার এক ব্যক্তির শাহাদাহ কবুলের পর ব্যাখা করলেন, কোন ব্যাক্তি যখন সত্যকে গ্রহণ করে তখন তার হৃদয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে করুণাধারা বর্ষিত হয় সে কারণেই তার দুচোখ প্লাবিত হয়, এর দ্বারা তার অতীতের সব পঙ্কিলতা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়।

    পৃথিবীর কোটি কোটি কবি সাহিত্যিক, শিল্পী, বিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষ—
    চিন্তাশীল মানুষ মাএই এই সত্যের অনুসন্ধান করেছেন। কেউ খুঁজে পেয়েছেন, কেউ কাছাকাছি এসেও নিরাশ হয়েছেন, কেউ পাননি, কেউ পেয়েও বরণ করতে পারেননি; কিন্তু যে সর্বাত্নকভাবে সত্যের অনুসন্ধান করে তার পাবার আকুতি বিফলে যায় না। যে সত্যকে পাওয়া মাএ জীবনপণ করে আঁকড়ে ধরে সকল বাধাবিপত্তি তুচ্ছ করে, সত্য তার কাছেই ধরা দেয়।
    তাই আল্লাহ বলেন, ‘যে সৎকর্ম সম্পাদন করে সে ঈমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাকে পবিএ জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উওম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরষ্কার দেব যা তারা করত।‘
    আমরা সবাই কি এই নবাগত ভাইটির এত পবিএ জীবন এবং উওম পুরষ্কারের দিকে ছুটে যেতে প্রস্তুত???

    ? পরিশেষে, বলতে চাই— বইটি ১৮টি খন্ডের প্রথম অংশে লেখিকা তার সাদামাটা জীবনের অভিজ্ঞতার ঘটনাগুলো এবং দ্বিতীয় অংশের গল্পগুলো সত্যিকার মানুষজনের বাস্তজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে সাজিয়েছেন। লেখিকা তার সুন্দর লেখনীর ভঙ্গি দ্বারা খুব সাধারণ ঘটনাকেও অসাধারণ করে উপস্থাপন করেছেন। বইটি পড়ে আপনি নিজের জীবনের পাথেয় স্বরূপ অনেক উপাদান খুঁজে পাবেন। প্রয়োগ দেখতে পাবেন ভদ্র আচরণের, আবার বিভিন্ন পরিবেশ সম্পর্কে জানার শখও পূরণ হবে। বইটিতে সাহিত্যের গন্ধ ও উপন্যাসের স্বাদও উপভোগ করবেন সমানভাবে।
    আমাদের চারপাশের হরেক রকম মানুষের হরেক রকম গল্প নিয়েই মূলত সাজানো হয়েছে এ বইটি।সাহিত্যপাঠে অভ্যস্ত যেকোনো পাঠকের জন্য বইটি নির্মল আনন্দের খোরাক হবে, ইন শা আল্লাহ।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    mdazum99:

    এই বই ওজনের দিক থেকে না হলেও জ্ঞানের দিক থেকে অনেক ভারী । বইটির নাম নানান রঙের মানুষ হলেও এটি মুলত আমাদের আশে পাশে ছড়িয়ে থাকা নানান ভালো মানুষের গল্প, ভালো মানুষ হবার গল্প, নৈতিকতা শিক্ষার গল্প ।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top