মেন্যু
muslimder porajito manoshikota

মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা

অনুবাদক : মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল মাসউদ
পৃষ্ঠা : 45, কভার : পেপার ব্যাক
ভাষা : বাংলা
যখন আপনি কোনো মুসলিমের কাছে পুনর্জাগরণের আশা ব্যক্ত করবেন, দেখবেন সে হতাশা ব্যক্ত করছে। সে বলবে, ‘তুমি উলো বনে মুক্তা ছড়াচ্ছ।’ কেউ হয়তো আরও আগ বাড়িয়ে বলবে, ‘তুমি তো ফুটো... আরো পড়ুন
পরিমাণ

52  70 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

- ৫৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি আমল চেকলিষ্ট।

- ৮৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি বই।

6 রিভিউ এবং রেটিং - মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা

5.0
Based on 6 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    দ্বীন মুহাম্মাদ:

    ◾বইটির প্রেক্ষাপট :

    বইটি মূলত ড. আব্দুল্লাহ আল খাতির (রহি:) এর বৃটেনে মুসলিম তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত ভাষণের বঙ্গানুবাদ। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে প্রদত্ত এ ভাষণে তিনি মুসলমানদের পরাজিত মানসিকতার লক্ষণ এবং বাস্তবতার নিরিখে এর পেছনের কারণগুলো বর্ণনা করেছেন; পাশাপাশি বাতলে দিয়েছেন এ থেকে উত্তরণের পথ। বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রেখে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল খাতির ভাষণটি গ্রন্থাকারে সংকলন করেন।
    .

    ◾ যা পাবেন বইটিতে :

    ছোট্ট একটি বই। অথচ গুরুত্বের বিচারে অতুলনীয়।

    মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের এ যুগে আমরা পাশ্চাত্যের কাছে মানসিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত। ফলস্বরূপ আমাদের ভেতর দানা বাঁধে ইসলাম নিয়ে নানারকমের হতাশা ও সংশয়। ইসলামকে ধারণ করে বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠ হবার স্বপ্ন এখন আমরা আর দেখি না। বরং পশ্চিমের নির্দ্বিধ অনুসরণের মাঝেই খুঁজি শ্রেষ্ঠত্ব।

    আচ্ছা, এ পরাজিত মানসিকতার কারণ কী? এ থেকে উত্তরণের উপায়ই বা কী? কীভাবে ফিরে পেতে পারি আমাদের হারানো গৌরব? জানতে চান? ঠিক এ প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর পাবেন বইটিতে।

    বইটির শুরু হয়েছে মুসলমানদের পরাজিত মানসিকতার লক্ষণ বর্ণনার মধ্য দিয়ে। এর পর লেখক বর্ণনা করেছেন মানসিক এ পরাজয়ের কারণসমূহ। এ পরাজিত মানসিকতা থেকে উত্তরণের উপায়ই বা কী, তাও বিবৃত হয়েছে বইটির শেষাংশে।
    .

    ◾ বইটির বিশেষত্ব :

    সংক্ষিপ্ত এ বইটি বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

    – আলোচনা খুব সংক্ষিপ্ত। তাই যে কেউই এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলতে পারবেন বইটি।
    – সংক্ষিপ্ত হলেও উদ্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ওপর অনেক আলোচনা এসে গিয়েছে।
    – বইটির জ্ঞানগর্ভ আলোচনা যে কারো ভাবনাজগতে নাড়া দেবে। ইনশাআল্লাহ।
    – বাহুল্যবর্জিত টু দ্যা পয়েন্ট আলোচনা হওয়াতে বিরক্তি আসবে না।
    – দলিলপত্রের উল্লেখও রয়েছে পর্যাপ্ত।
    – প্রচ্ছদও সুন্দর। বিষয়বস্তুকে ফুটিয়ে তুলেছে।
    – অনুবাদ বেশ ঝরঝরে।
    – ফ্ল্যাপে লেখক পরিচিতিও দেওয়া আছে। তাই লেখক সম্পর্কেও জানা সহজ হয়ে যাবে।
    .

    ◾ বইটি কেন পড়বেন :

    বইটি পড়তে আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি। বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের এ যুগে শত্রুর আক্রমণের পথ ও পন্থা জানা আমাদের জন্য একান্ত জরুরি। কেনই বা আমরা শত্রুর কাছে পরাজিত, তাও উদঘাটন করা সময়ের দাবি। তাই বইটি আপনারও পড়া উচিত। মানসিক পরাজয়ের এ শৃঙ্খল থেকে কীভাবে ওঠে আসা যাবে, তাও জানা আবশ্যক। তাই আপনাকে বইটি পড়তে বিশেষভাবে পরামর্শ দিচ্ছি।

    আমাদের বর্তমান এ পরাজিত মানসিকতার লক্ষণগুলো চিনতে, এর পেছনের কারণগুলো উদঘাটন করতে এবং এর উত্তরণের পথে এগিয়ে যেতে বইটি আমাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Hasnain Islam Emon:

    ◉ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।

    বর্তমান বিশ্বে আদর্শ,সমর,শিক্ষা,সংস্কৃতি সহ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানদের একটা বিপর্যয় লক্ষ্য করা যায়।
    আমরা দিনের পর দিন একটু একটু করে দ্বীন ইসলামের পথ থেকে কেমন যেনো সরে যাচ্ছি। দাওয়াহ এর কাজ তো ছেড়েই দিয়েছি। কেমন যেন একটা ঝিমিয়ে পড়ার মতো একটা অবস্থা আমাদের । মুসলমানদের এই পরাজিত মানসিকতার জন্য পাশ্চাত্য সভ্যতাও কিছুটা দায়ী। আমরা যেনে পাশ্চাত্য সভ্যতার লেন্সই দুনিয়াকে দেখা শুরু করে দিয়েছি। ইসলামে তো অনেক কিছুই নিষেধ, পাশ্চাত্য সভ্যতায় তো নিষেধ নেই বরং ভোগ, বিলাসিতার অনন্য মাধ্যম এটি।
    কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ইসলামের সাথে পাশ্চাত্যের মূল বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ সাংঘার্ষিক।

    আমাদের আজকের আলোচনা ড. আব্দুল্লাহ আল খাতির এর ❛মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা❜ বইটি নিয়ে।

    ♦ বইটিতে যা যা রয়েছেঃ

    বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের নিজ থেকে হেরে যাওয়া কিংবা একটা মুসলমানদের পরাজিত মানসিকতার ফলে মুসলিম উম্মাহ যে ক্ষতির মুখ পড়েছে,সেসব বিষয় এখানে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে আরো রয়েছে- মুসলিমদের হতাশায় ভোগা,নিজের পরিচা ভুলে যাওয়া, শ্রেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন হারিয়ে ফেলা, পশ্চিমা রীতিনীতি অনুসরন করা,দ্বীন প্রচারে অলসতা,জিহাদ ছেড়ে দেওয়া,পরাজিত জাতির ন্যায় বেঁচে থাকা,পশ্চিমা/পাশ্চাত্য সভ্যতার লেন্সে দুনিয়া দেখা। এসব বিষয়ইগুলোই আমাদের মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার কারনেই আজ মুসলিম জাতি পরাজিত মানসিকতায় ভোগে।

    ♦ পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ

    মুসলমানদের পরাজিত মানসিকতা বইটি শাইখ ড. আবদুল্লাহ আল খাতির রহিমাহুল্লাহ প্রদত্ত একটি ভাষন থেকেই লেখা হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর আগে ব্রিটেনে মুসলমানতরুনদের উদ্দেশ্য এই ভাষনটি তিনি দেন।
    বইটির অনুবাদ করেছেন মুহম্মদ সাইফুল্লাহ।সম্পাদনা করেছেন আবদুল্লাহ আল মাসউদ।

    বইটি পড়ার পরে আমার মন হঠাতই খুব খারাপ হয়ে যায়। আমি ভাবতে থাকলাম আমরা মুসলমান জাতি কি ছিলাম,আর বর্তমানে আমরা কি অবস্থায় আছি। আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম দ্বীন ইসলামকে তিনি সবকিছু দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। নবীজী (সঃ) এর মাধ্যমে আমাদরকে সকল করনীয় জানিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে ইসলাম নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। আজকের মুসলিমে উম্মাহ সঠিকভাবে দ্বীন পালনে করতে জানে না,যারাও বা জানে তারা অন্যকে শেখাতে আগ্রহী প্রকাশ করে না,দাওয়াহ দিতে অনিহা দেখায়। অযুহাত দেখাতে ব্যস্ত আমরা।শুধু বলে যাই আমরা কাউকে পাশে পাই না,মানুষ কথা শুনতে চায় না। বর্তমান মুসলমানদের মাঝে কুরআন,সুন্নাহর দলিল থাকা সত্ত্বেও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার প্রবনতাও দেখা যায়। দলিলকে যথার্থ মনে না করার প্রবনতাও বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন।পাশ্চাত্য সভ্যতা গ্রাস করেছে আমাদের। আমাদের বুঝতে হবে পশ্চিমাদের যে উন্নতি রয়েছে সেটা যন্ত্র ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি,মানবতার নয়। মুসলমানদের জন্য সবচয়ে বড় হুমকি নাস্তিকতা নয় বরং পাশ্চাত্য সভ্যতা।তাদের একমাত্র উৎস আল্লাহ ও তার দ্বীনের বিশ্বাস ও বাস্তব ক্ষমতা খর্ব করা। নিজের ইসলামি ব্যক্তিত্বকে গোপন রাখার প্রবনতা,মানসিক দূর্বলতা তরুনদের মাঝে ফুটে উঠেছে, এটা থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের বের হতে হবে।

    ◉ আমার কাছে মনে হয়েছে নুসুস পাবলিকেসন্স এর এই বইটি একটা জাগরন সৃষ্টি করবে এবং মুসলমানদেরকে দ্বীন পালনে চাঙ্গা হতে সাহায্য করবে। যে কোনো বয়সী মানুষ বইটি পড়তে পারেন। উপহার দিতে পারেন বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের।

    ♦এক নজরে বইটিঃ

    বই : ❛মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা❜
    লেখক : ড. আব্দুল্লাহ আল খাতির
    অনুবাদক : মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
    পৃষ্ঠা: ৪৫ (পেপার ব্যাক)
    মুল্যঃ ৫০ টাকা(২৯%ছাড়ে)

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    কামরুননাহার মীম:

    ছোট্ট একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাক, পারস্যের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধের সময় আলোচনার জন্য মুসলিমদের একদল প্রতিনিধি চেয়েছিলেন সেনাপতি রুস্তম। রিবিঈ বিন আমের যখন আসলেন, অস্ত্র নিয়েই সভাকক্ষে প্রবেশ করলেন। প্রহরীরা তাকে বলেছিল, “অস্ত্র রাখো”। তিনি বললেন, “তোমরাই আমাকে ডেকেছ, আমি আসিনি। এভাবেই যেতে দিলে প্রবেশ করব, নয়তো ফিরে যাবে।” সৈনিকরা বাধ্য হয়ে তাকে সেভাবেই প্রবেশের অনুমতি দিলেন। ফলে তিনি তার অস্ত্র ও বর্ষা নিয়েই প্রবেশ করেছিলেন। রুস্তম মুসলিমদের আসার কারণ জানতে চেয়েছিলেন। রিবিঈ বিন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন, যেন আমরাআল্লাহর বান্দাদেরকে মানুষের দাসত্ব থেকে এক আল্লাহর দাসত্বের দিকে বের করেআনি, যেন পৃথিবীর সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দিয়ে প্রশস্ত পৃথিবীর বুকে নিয়ে আসি।”
    কত বলিষ্ঠ কন্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। কত আত্মমর্যাবোধ ছিল তাদের!সেদিন তার বাক্যগুলো, পারস্যের মতো বিশাল সাম্রাজ্যের সম্রাট রুস্তমের হৃদয়েও যেন কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল। আর বর্তমানে মুসলিমরা কাফেরদের কাছে পরাজিত। একবার সালাফে সালেহীন দের দিকে দৃষ্টি দিলেই বুঝা যায় কতটা বিজয়ী মন-মানসিকতা তাদের মধ্যে ছিল। আজ আমরা ইতিহাসের সেই বিজয়ী মুসলিম জাতি প্রতিটি পদক্ষেপে নির্যাতিত, লাঞ্চিত, নিপীড়িত জাতি হিসেবেই পরিচিত।

    মুসলিম উম্মাহ-র মাঝে কেন এই অধঃপতন? কি কারণ এই পতনের? এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় কি নেই? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে সাহায্য করবে “মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা” বইটি।

    বইকথনঃ
    ********
    লেখক ড. আবদুল্লাহ আল খাতির এই ভাষণটি পঞ্চাশ বছরের ও পূর্বে বৃটেনে মুসলিম তরুণদের উদ্দেশ্যে দিয়েছিলেন। সেই ভাষণ পরবর্তীতে গ্রন্থরূপে সংকলিত করা হয়-যার অনুবাদ করা হয়েছে এই বইটিতে। বইটিতে লেখক মুসলিম উম্মাহের মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ, কারণ এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে পাঠককে অবগত করেছেন। লেখক সুন্দরভাবে আমাদের লক্ষ্মণগুলো তুলে ধরেছেন এবং এর কারণগুলো পয়েন্ট আকারে লিখেছেন যাতে পাঠকের বোধগম্য হতে সুবিধা হয়। সবশেষে তিনি বইয়ে পয়েন্ট আকারে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে জানিয়েছেন। খুব ছোট পরিসরে একদম মূল পয়েন্টগুলোই তার বইয়ে উঠে এসেছে।

    কেন পড়বেনঃ
    **************
    বইটি পুরো মুসলিমদের মাঝে তাদের হারানো আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। আমাদের হতাশা আমাদের কে দ্বীন প্রচার, আল্লাহর আহবান থেকে দূরে রাখছে। আমাদের মানসিকতার সেই শ্রেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন ক্রমশই হ্রাস পেয়ে শোষণ কে বরণ করে নিচ্ছে। ইসলামের সাথে পশ্চিমাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে দ্বীনের সঠিক পথ থেকে আমরা সরে যাচ্ছি বহুদূরে। দ্বীনকে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণে ব্যবহার কিংবা পরিবর্তন করছি। নিজের স্বকীয়তা বিলিয়ে দিচ্ছি সামাজিকতার মোহে। আর এই শিথিলতা এক পর্যায়ে দ্বীন কে সরিয়ে নিচ্ছে আমাদের হৃদয় থেকে। এই সুযোগে অমুসলিমদের রাজত্ব ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিশ্বজুড়ে। তাই এই সমস্যার সমাধান করতে বইটি নতুন এক পথ দেখাবে ইন শা আল্লাহ।

    বইটি কাদের জন্যঃ

    বইটি বর্তমান পরিস্থিতি কে সকল মুসলিম কে বদলাতে জাগরণের নতুন পথ দেখিয়ে দিবে ইন শা আল্লাহ। নৈরাশ্যবাদ কে দূরে ঢেলে পুরো উম্মাহকে নতুন আলোর পথে চলতে সাহায্য করবে তাই বইটির প্রয়োজনীয়তা অনেক। তবে যুবকদের জন্য বইটি বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে।

    একগুচ্ছ অনুভূতিঃ

    ছোট কিন্তু মূল্যবান এই বইটি পড়ার সময় অধীর আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। মুসলমানদের সেই বিজয় আবারো ফিরিয়ে আনার এক অদম্য মনোবল লেখক বারবার দিয়ে যাচ্ছিল আমাকে। পরিবর্তনের সূচনা হোক নিজেকে দিয়ে তাই সবারই এই মানসিকতার বেড়াজাল থেকে বের হতে হবে।

    সংক্ষেপে বইটি সম্পর্কে-
    বইঃ মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা
    লেখকঃ ড. আবদুল্লাহ আল খাতির
    অনুবাদকঃ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ
    প্রচ্ছদ মূল্যঃ ৭০ টাকা
    প্রকাশনঃ নুসুস পাবলিকেশন

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    Montasir Mamun:

    কেন এত অধঃপতন? কি আমাদেরকে দূরে ঠেলে দিল সোনালী যুগের সেই শান্তিময় সময় থেকে? কারা নিয়ে নিল মাথার মুকুট? পরাজয়, লাঞ্ছনা, অবিচার, অত্যাচার কেন আমাদের জেঁকে ধরে আছে? এ থেকে কি মুক্তি নেই? আছে। অবশ্যই আছে। সেই সমাধান ও আশার আলো দেখাচ্ছে এই বই।

    বইটি কেন পড়বেন?
    +++++++++++++
    চারিদিকে অনেক হতাশা। অনেক বন্ধুরা, বড় ভাইয়েরা, আলেমরা বলতে থাকেন নানা সমস্যার কথা, ষড়যন্ত্রের কথা। এই নেগেটিভিটির মাঝে থেকে কীভাবে উৎসাহী হয়ে বাস্তব কাজ করতে হবে সেই বিষয়ে মোটিভেশনমূলক এই বই। হতাশার চাদরে মুড়ে থাকা নয় বরং দৃপ্ত প্রত্যয় নিয়ে সত্যের পতাকা হাতে আলোকিত পথে চলে নতুন দিনের সূর্য নিয়ে আসার জন্য পথ দেখাবে এই বই।

    সারসংক্ষেপঃ
    +++++++++++++
    মুসলিম সমাজের পিছিয়ে পড়ার জন্য অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে পরাজিত মানসিকতার। লেখক এই বইয়ে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের ভূমিকায় থেকে এর পিছনের লক্ষন ও কারনগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে লিপিবদ্ধ করেছেন। নিজের পরিচয় ভুলে, অন্যের অনুকরন করে হতাশ ও হিম্মতহারা হয়ে যাওয়াটা বড় সমস্যা। শুধু সমস্যা খুঁজে পাওয়াটাই বড় কথা নয়। বরং সমাধানের পথে দেখিয়ে দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই চলা হয়েছে বইয়ের পরের অংশে। একজন ডাক্তার যেমন রোগীকে সারিয়ে তোলেন তেমনি এই বইয়ের পাতায় পাতায় এর সমাধান খুঁজে পাওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক।

    বইয়ের উপযোগীতাঃ
    +++++++++++++
    আধুনিক এই সময়ে এই বইটি অমূল্য রতন হিসাবে আলোক বর্তিকার মত কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। হতাশার কালো অন্ধকার থেকে আগামী দিনের সোনালী আলো বের করে নিয়ে আসবে। ঘরে ঘরে এই ধরনের বই ঘরকে আলোকিত করবে, সুন্দর, প্রশান্ত করবে এই সমাজকে।

    আমার উপলব্ধিঃ
    +++++++++++++
    প্রত্যেক অশান্ত মন, অতৃপ্ত হৃদয়কে প্রশান্তির ঠান্ডা বাতাস এ বিমোহিত করবে ইনশা আল্লাহ। এই প্রজন্মের যুবকদের জন্য বইটি খুবই উপকারী হবে এবং তাদের মূল স্পিরিটকেই ধারন করছে এর প্রতিটি লাইন। বইয়ের সাফল্য ও পাঠকদের শিক্ষালাভের দোয়া করছি। আল্লাহ এই বই সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।

    বই : মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা
    লেখক : ড. আব্দুল্লাহ আল খাতির
    অনুবাদক : মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
    গায়ের মুল্যঃ ৭০ টাকা

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    mdshohanali2000:

    “সারা দুনিয়াজুড়ে মুসলিমদের আজ দুর্দশাগ্রস্ত
    অবস্থা, নির্যাতন, নিপীড়নের এক অভিন্ন চিত্র সবখানে
    প্রতিফলিত হচ্ছে। একটা কথা ভাবতে অবাক লাগছে ,
    কিভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অনুসারীদের মাঝে একটি বিজয়ী মন মানসিকতা রেখে গিয়েছিলেন, তাদের মাঝে তিনি এই বিজয়ী মানসিকতার লালন ও বৃদ্ধি শিখিয়েছেন।
    বর্তমান সময়ের মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিজয়ী মানসিকতা কিংবা এর লালন, বৃদ্ধি করা এগুলো নেই,
    অনুপস্থিত। এ কারণে এই কঠিন সময়ে এটা কোন
    অস্বাভাবিক ঘটনা নয় যে, মুসলিমদের সেই বিজয়ী মন
    মানসিকতা আর নেই, বরং তাদেরকে গ্রাস করেছে একটি
    বিপরীত পরাজিত ক্ষমাপ্রার্থী মানসিকতা। আর এটা
    যুলুম নির্যাতনের একটি সহজাত ও অনিবার্য ফলাফল। যত বেশি আপনি যুলুম নির্যাতনের ভিকটিম হবেন, তত বেশি আপনার মাঝে তৈরি হবে ভিকটিম মানসিকতা বা
    পরাজিত মানসিকতা, ক্ষমাপ্রার্থী মনোভাব, কিছু হলেই
    আপনি ভাবতে শুরু করবেন কিভাবে নিজেকে যুলুমের হাত থেকে রক্ষা করবেন, কুফফারদের থেকে নিজের পিঠ বাঁচাতে কি অজুহাত প্রদর্শন করবেন -এই মানসিকতা। এই পরাজিত অজুহাত প্রদর্শনকারী ক্ষমাপ্রার্থী
    মানসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হচ্ছে, নিজের
    অবস্থানের উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা, তা থেকে
    উত্তরণে অপারগতা প্রকাশ করা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার প্রচেষ্টা। অতিরিক্ত রয়েছে হতাশা ও নিষ্কর্ম
    মনোভাব এর জন্মলাভ। এটা সেই পরাজিত মানসিকতা যা উম্মাহকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে এবং সমাজ বা আমাদের পরিবেশকে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উন্নত করে এগিয়ে নিয়ে যাবার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের থেকে আমাদের মুসলিম ভূমিকে মুক্ত করা, ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা, দীন কায়েম করা কিংবা চূড়ান্ত লক্ষ্য জান্নাতুল ফিরদাউস অর্জন – এগুলোর পথে বড় বাধা আমাদের পরাজিত মানসিকতা।
    অনাকাংক্ষিতভাবে, এই পরাজিত মানসিকতা নিজেই একটি অভিশাপ। যত বেশি আপনি অজুহাত
    প্রদর্শনকারী পরাজিত মানসিকতার অধিকারী হবেন,
    এটা আপনাকে আরও পেঁচিয়ে ধরবে, এরপর তা আরও
    বাড়তে থাকবে, এটা থেকে কোন মুক্তি নেই, চক্রাকারে
    কেবল আপনাকে নিচের দিকে টেনে নামিয়ে নিয়ে
    যাবে। যারা সত্যিকারের ভিকটিম, তাদের সমবেদনা
    প্রাপ্য; কিন্তু অধিকাংশ সময়েই যারা নিজেরাই পরাজিত মানসিকতার শিকার তাদের দুরবস্থার জন্য সমব্যথা অনুভব করাটাও কঠিন। এমনকি তাদের প্রতি
    সম্মান প্রদর্শন করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে কারণ তারা
    এমনভাবে কথা বলে, আচরণ করে বা বিশ্বাস করে
    যে, যেন তারা একটি ক্রমিক ক্ষয়ের মধ্যে রয়েছে !
    অথচ আমরা যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
    সাল্লামের জীবনের দিকে মনোযোগী হই, আমরা দেখতে
    পাই যে তিনি এবং তাঁর সাথীরা সম্মুখীন হয়েছিল
    এরচেয়েও অনেক কঠিন অত্যাচার-নির্যাতনের। এত কিছুর পরেও তারা নিজেদের মানসিকতার পরাজয় ঘটতে
    দেননি। বরং, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে যে মানসিকতার বৃদ্ধি ঘটিয়েছিলেন ও লালন করেছিলেন তাতে তাঁরা শিখেছিলেন ও মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন যে তারাই সেই সকল লোক যারা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করছেন আর জীবন ব্যবস্থা বা সিস্টেম হিসেবে ইসলাম চূড়ান্তভাবে বিজয় ও সফলতা লাভ করবে। তাদের প্রতি হুমকি আর যুলুম যত বেশি কঠিন হতো, তাঁরা তাদের মন মানসিকতাকে তার চেয়েও
    বেশি ইতিবাচক করে নিতেন। উদাহরণস্বরূপ, খাববাব ইবন আল-আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যান্য সাহাবীরা একবার আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাদের উপর চলমান অত্যাচার নির্যাতনের কথা তুলে ধরে অনুযোগ অভিযোগ পেশ করলেন। তাঁরা চাইলেন, তিনি যেন তাদের জন্য মুশরিকদের বিরুদ্ধে দুয়া করেন ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
    বইটির সংক্ষিপ্ত পিডিএফ আলোচনাঃ
    মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতা বইটি শাইখ ড. আবদুল্লাহ আল খাতির রাহিমাহুল্লাহ-প্রদত্ত একটি ভাষণ। প্রায় পঞ্চাশ বছর পূর্বে ভাষণটি তিনি বৃটেনে মুসলিম তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছিলেন। আদর্শ, বিশ্বাস, সমর, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিমদের যে বিপর্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা আরো বহু আগেই সূচিত হয়েছে। সে প্রেক্ষিতেই বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ করে আবদুল্লাহ আল খাতির ভাষণটি প্রদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে গ্রন্থাকারে সংকলন করেন। বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বিবেচনায় এ বইটি বাংলাভাষাভাষী পাঠকদের সামনে তুলে ধরাটা ছিল সময়ের অন্যতম একটি দাবি।
    কি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বইটিঃ
    বইটিকে ৩টি অধ্যায়ে ও ২৪ টি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলোতে একটু আলোকপাত করা যাকঃ-
    মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ
     প্রথম লক্ষণ : হতাশায় ভোগা
     দ্বিতীয় লক্ষণ : শ্রেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন হারিয়ে ফেলা
     তৃতীয় লক্ষণ : নিজের পরিচয় ভুলে যাওয়া
     চতুর্থ লক্ষণ : পশ্চিমা রীতিনীতি অনুসরণ করা
     পঞ্চম লক্ষণ : পরিস্থিতি বদলে দেবার হিম্মত হারিয়ে ফেলা
     ষষ্ঠ লক্ষণ : স্পষ্টভাবে ইসলামের কথা না বলা
     সপ্তম লক্ষণ : লক্ষ্য ছোটো হওয়া
     অষ্টম লক্ষণ : শুধুই আত্মরক্ষামূলক জবাব দেওয়া
     নবম লক্ষণ : দ্বীন প্রচারে অলসতা
     দশম লক্ষণ : মানব-রচিত বিধানে সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া
    বিপর্যয়ের কারণসমূহ
    অভ্যন্তরীণ কারণসমূহঃ-
     প্রথম কারণ : ঈমানি দুর্বলতা
     দ্বিতীয় কারণ : জিহাদ ছেড়ে দেওয়া
     তৃতীয় কারণ : বিপদের ভয়ে আতঙ্কিত থাকা
     চতুর্থ কারণ : নিজেদেরকে ব্যর্থ মনে করা
     পঞ্চম কারণ : ইতিহাসের সাহসী ভূমিকাগুলো ভুলে যাওয়া
     ষষ্ঠ কারণ : আপন শক্তি কাজে না লাগানো
     সপ্তম কারণ : সর্বোচ্চ স্বপ্ন দেখতে ভয় পাওয়া
     অষ্টম কারণ : পরাজিত জাতির ন্যায় বেঁচে থাকা
    বহিরাগত কারণসমূহ
     প্রথম কারণ : শত্রুদের ক্ষমতাকে বড় করে দেখা
     দ্বিতীয় কারণ : মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে ধৈর্য না ধরা
     তৃতীয় কারণ : সবকিছু পশ্চিমা লেন্সে দেখতে পছন্দ করা
     চতুর্থ কারণ : প্রবৃত্তির মাঝে ডুবে থাকা –

    প্রতিকার
    • প্রথম উপায় : সমস্যার কারণ উদঘাটন করা
    • দ্বিতীয় উপায় : দৃঢ় ঈমানের ওপর নিজেকে গঠন করা
    • তৃতীয় উপায় : দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া
    • চতুর্থ উপায় : ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া
    • পঞ্চম উপায় : আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা
    • ষষ্ঠ উপায় : আগামীর দিন এ দ্বীনের পক্ষে
    কেন বইটি সংগ্রহে রাখব ও পাঠ করবোঃ-
    আমরা মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে সেই সূত্রে আমরা মুসলিম । মুসলিম উম্মাহর সর্বত্র আজ বিপর্যয়কর অবস্থা । বিপর্যয়ের শুরু হয় সর্বপ্রথম চিন্তা-চেতনা ও মানসিক দিক দিয়ে। বর্তমানে মুসলিম জাতির যে অবনতি ও অধঃপতন তা মূলত মুসলিম জাতির ঈমানী দুর্বলতা, হীনমন্যতা, হতাশা তথা মানসিক বিপর্যয় থেকেই সৃষ্ট। বর্তমানে মুসলিম জাতির মধ্যে এ বিপর্যয় বিপুল হারে প্রকাশ পাচ্ছে । অবাক করা বিষয় হলেও সত্য যে , এই বিপর্যয়ের কারণ গুলো মুসলিম জাতির মধ্যে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যা মুসলিম জাতিকে আরো নিচে নামিয়ে আনছে তবুও তারা সজাগ হচ্ছে না । অথচ তারা হয়তো জেনেও জানে না আমরা বীরের জাতি । আমরা ২মিনিট কোন বিষয়ের অনুপ্রেরণার ভিডিও দেখলে তখন মনে আজকে দুনিয়া উল্টে ফেলবো কিন্তু ৫মিনিট পর আগের আমি তে রুপান্তর হয়ে যাই ,তাই এই বইটি মুসলিম জাতিকে অবশই্য সংগ্রহে রেখে বইটি পাঠ করতে হবে এবং বইয়ের কথা গুলো অনুপ্রেরণা হিসেবে নয় বাণী হিসেবে মেনে নিয়ে মানতে হবে , তবেই হয়তো মুসলিম জাতির অধঃপতনের দিনকাল ঘনিয়ে আসবে । আমি বইটির মঙ্গল ও সর্বোচ্চ পাঠকপ্রিয় বই হিসেবে গৃহীত হওয়ার আশা ব্যক্ত করছি ।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top