মেন্যু
muslim chorittro

মুসলিম চরিত্র

বিষয় : আদব, আখলাক
অনুবাদক"` আলী আহমাদ মাবরুর ‘মুসলিম চরিত্র’ প্রখ্যাত স্কলার মুহাম্মাদ আল-গাজালির বিখ্যাত বই ‘খুলকুল মুসলিম’ গ্রন্থের অনুবাদ। তরুণ অনুবাদক আলী আহমাদ মাবরুরের এটি দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। গ্রন্থটি ইসলামি নৈতিকতার সেই ব্যাপকতর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন... আরো পড়ুন
পরিমাণ

230 

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

7 রিভিউ এবং রেটিং - মুসলিম চরিত্র

5.0
Based on 7 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    munira.sirajum2020:

    প্রাথমিক কথাঃ
    জীবনে চলার পথে অনেক মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। আমাদের এক সময়ের চরিত্র পরবর্তী অন্য আর এক সময়ের চরিত্রের সাথে মিলে না। মানুষ একদিন আমাদেরকে তাক্বওয়াবান হিসেবে দেখে অনুপ্রাণিত হয়। পরের দিন আমাদের অনৈসলামিক কাজ দেখে ধোঁকায় পড়ে যায়। কোনটা আমাদের প্রকৃত চরিত্র?
    আদর্শ মুসলমানের চরিত্র কেমন হবে, তা না জানার চেষ্টা করি না। লেখক এই সমস্যার সমাধান দিতেই এই বইটিতে আদর্শ মুসলমানের চরিত্রের রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন।
    বইয়ের মূল কথাঃ
    মূলনীতি হতে দূরে চলে যাওয়ার কারণে আজ মুসলমানদের মাঝে এত নৈরাজ্য বিরাজ করছে।
    এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূণ হলো-নৈতিকতার অবক্ষয়। এই নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে গোটা সমাজে ঘূণ ধরেছে। আর নৈতিক চরিত্র এমন বিলাসিতার জিনিস নয় যে, এটা না হলেও চলে। বরং এটা জীবনের অবিচ্ছেদ্দ অংশ।নৈতিক চরিত্র ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না । যার চরিত্র যত সুন্দর তার ঈমানও তাতটাই পূর্ণাঙ্গ এবং পরিপক্ক।
    রাসুল (সাঃ)কে প্রশ্ন করা হয়েছে- কোন মুসলমানের ঈমান সবচেয়ে সুদৃঢ়? রাসুল (সাঃ) উত্তরে বলেন- সেই মুসলমান যিনি উত্তম উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
    কিন্তু আমরা আমাদের আদর্শ চরিত্রকে অবলীলাক্রমে ভুলে যাচ্ছি। এই দূর্বলতা দূর করতে না পারলে মুসলমান হিসেবে আমাদের সফলতা পাব না। এই দূর্বলতা কাটতে আমাদের অবশ্যই মুহাম্মদ সাঃ এবং সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ অনুসরণ করতেই হবে। ছুড়ে ফেলতে হবে প্রথাগত নিয়মনীতি। আদর্শ মুসলমান হিসেবে গড়ে উঠার জন্যে আলেয়ার বলয় ভেঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ, সততা-সত্যবাদীতা, আস্থা, আমানতদারীতাকে গ্রহণ করতে হবে। চরিত্র সংশোধনের জন্য দৈনন্দিন ইবাদাতের পাশাপাশি শেষ বিচারের শাস্তি সর্ম্পকে ভয় করতে হবে। ইবাদাতের ধারাবহিকতা এবং নিয়মিত প্রচেষ্টা করতে হবে। ইবাদাত নিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা,কথাবার্তায় আদব, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা আনতে হবে।
    পার্থিব জীবনে অনেক বিপদ আসবে, সেই সব বিপদকে ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে কুরআন-হাদীসের ট্রাকে চলতে হবে।
    এই বই পড়া জরুরী কেন?
    আমরা সাধারণত গতানুগতিক চরিত্র ধারণ করি। যার ফলে দৈনন্দিন ইবাদাত শেষেই আমরা সবপ্রকারের খারাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছি। নামায পড়ছি আবার মিথ্যা কথাও বলছি। রোযা রাখছি আবার অন্যের হক নষ্ট করছি। এই সমস্ত দূরাচার হতে সংশোধিত হয়ে আদর্শিক মুসলমান হিসেবে গড়ে উঠার জন্য এই পড়া একান্ত জরুরী।
    আমার মতামতঃ
    এই বইটি একজন আদশ মুসলমানের চরিত্রের রুপরেখা। এই বই পড়ে নিজের চরিত্রকে আদর্শক চরিত্রের আয়নার সামনে দাড় করাতে পেরেছি।খুঁজে পেয়েছি অগণিত ত্রুটি। এর পাশাপাশি এই বইয়ে চরিত্র গঠণ এবং চরিত্র সংশোধনের পথও খুঁজে পাই।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Mahmudul Hasan:

    বুক রিভিউ
    বইয়ের নামঃ মুসলিম চরিত্র
    লেখকঃ মুহাম্মাদ আল গাজালি
    অনুবাদঃ আলী আহমাদ মাবরুর
    প্রথম প্রকাশ: ০৮ মে, ২০১৯
    মূল্য : ৩০০ টাকা
    পৃষ্ঠাঃ ১৯৮
    প্রকাশনী: প্রচ্ছদ প্রকাশন
    প্রচ্ছদ: হাসান শাহিন
    ————————————————-
    প্রাথমিক কথাঃ
    পার্থিব জীবনে আমরা মুসলমান হিসেবে বিক্ষিপ্তভাবে অনেক চরিত্রকে অবলোকন করেছি। আদর্শ মুসলমানের চরিত্র কেমন হবে, তা না জানার চেষ্টা করেছি, আর জেনে থাকলেও না তা বাস্তবায়ন করেছি । আর সেই সাথে আমরা হারিয়েছি নৈতিক মূল্যবোধ। লেখক এই দূর্বলতা দূর করতেই এই বইটিতে আদর্শ মুসলমানের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।

    বইয়ের মূল কথাঃ
    ইসলামে চরিত্র ও কর্ম নামক শব্দটির গুরুত্ব অনেক বেশি। চরিত্র ও কর্ম হলো কথা অনুযায়ী কাজ। একজন মুসলমান হিসেবে আমরা আমাদের আদর্শ চরিত্রকে অবলীলাক্রমে ভুলে যাচ্ছি। নৈতিক চরিত্র ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না। যার চরিত্র যত সুন্দর তার ঈমানও তাতটাই পূর্ণাঙ্গ এবং পরিপক্ক।
    হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। আমি রাসুল (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- হে মুমীনগণ ! একজন ব্যক্তি শুধু উত্তম চরিত্রের বদৌলতে সালাত ও সিয়াম পালনকারী বান্দার মতো একই মাপের সম্মান পেয়ে যেতে পারে।
    আমরা নৈতিক চরিত্রের দূর্বলতা দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাব না। তাই আমাদেরকে মুহাম্মদ সাঃ এবং সাহাবায়ে কিরামের চরিত্রের অনুসরণ করতে হবে । ইসলামের অন্য কোন সংস্কার করার আগে নিজের চরিত্রের সংস্কার জরুরী।প্রচলিত নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে হলেও ইসলামকে ধারণ করত হবে। আর এ কারণে আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ, সততা-সত্যবাদীতা, আস্থা, আমানতদারীতা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। ইবাদাত এবং নিয়্যাতে নিষ্ঠতা, কথাবার্তায় আদব, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা আনতে হবে।
    যা একজন মুসলমানের পূর্ণ চরিত্রের রুপরেখা।

    এই বই পড়া জরুরী কেন?
    একজন মুসলমান হয়ে আমরা অধিকাংশই গড়পড়তা চরিত্র নিয়ে চলি। এ কারণেই আমরা সালাত, সিয়াম পালন শেষেও নানাবিধ দূরাচারে লিপ্ত। আমানত খেয়াতন করি। ওয়াদা পালন করতে পারিনা। সর্বদা কাজে -কর্মে নিজেকে বাটপার, প্রতারক, ধান্দাবাজ প্রমাণ করি। এই বইটি পড়লে চরিত্র সংশোধন করে উজ্জ্বল এবং আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হওয়া সম্ভব।

    আমার মতামতঃ
    এই বইটি একজন মুসলমানের চারিত্রিক বৈশিষ্টের রুপরেখা। এই বই পড়ে নিজের চরিত্র গঠণের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি চরিত্র সংশোধনের পন্থা খুঁজে পাই।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    Mohammad Maruf Aziz:

    রাসূল সা. বলেছেন,”পানি যেভাবে বরফকে গলিয়ে দেয়, সৎ চরিত্র সেভাবে গুণাহগুলোকে নষ্ট করে দেয়।” তিনি আরো বলেছেন,”আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়তম বান্দা হলো সেই বান্দা যার চরিত্র উত্তম।”আর এই চরিত্র গঠনের অবকাঠামো নিয়েই ‘মুসলিম চরিত্র’ বইটি।

    একজন মানুষের নৈতিক চরিত্র যত সুন্দর তার ঈমান ততোটাই পূর্ণাঙ্গ ও পরিপক্ক। সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা, কথাবার্তার আদব, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, ধৈর্য ও ক্ষমা, নম্রতা, ভদ্রতা এবং দয়া এই গুণগুলোর সমন্বয়ে একজন মুসলিম চরিত্রবান হয়ে উঠে।আর এই গুণগুলো যার যতো বেশি উন্নত, সে ততো বেশি নৈতিক চরিত্রবান।

    একজন মুসলিম শুধু সালাত আদায় আর সাওম পালন করলেই চরিত্রবান হয়ে যায় না।সাথে তাকে হতে হয় সত্যবাদী,অঙ্গীকার পূর্ণকারী,আমানতদার, অন্যের গোপনীয়তা রক্ষাকারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ়কারী, হিংসা-প্রতিহিংসা পরিহারকারী, লেনদেনে সত্যের সাক্ষী।তাকে আরো হতে হয় ধৈর্যশীল,ক্ষমাশীল, দয়াশীল, মানবপ্রেমী, ব্যাবহারে উত্তম আচরণকারী এবং ক্ষমতার সঠিক ব্যাবহারকারী যদিও সেই ক্ষমতা হয় পরিবারের প্রধান হওয়ার ক্ষেত্রে।

    একজন মুসলিমের চরিত্র গঠনের এই অবকাঠামোগুলো কোরআন এবং হাদীস দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ‘মুসলিম চরিত্র’ বইটিতে।বইটিতে নৈতিকতাকে মানবতার মুক্তির হাতিয়ার বলা হয়েছে।কেননা, এই নৈতিকতা দিয়েই রাসূল সা. এবং খুলাফায়ে রাশেদীনরা পৃথিবীকে উপহার দিয়েছিলেন একটি সোনালী যুগ।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    naziamahzabin:

    “কোন ইসলামের কথা বলেন! আমার মুসলিম রুমমেইট কে আমি জুম্মার দিন ছাড়া কখনো নামাজ পড়তে দেখিনি এবং সে ১০০ টা কথার ভিতরে ৯৯ টা কথাই মিথ্যা বলে,এর থেকে তো আমি ভালো, সকাল সন্ধ্যায় পূজা দেই! ইসলামের দাওয়াত দিতে আসা দ্বীনি ভাইটি লজ্জায় কুঁকড়ে গেলো।
    বর্তমানে বিধর্মীদের দাওয়াত দিতে গেলে এমন কথার আক্রমণের শিকার হওয়া স্বাভাবিক। বর্তমান মুসলিমরা তাদের শিকড় থেকে দূরে সরে গিয়েছে ফলে তাদের উন্নত চরিত্রে বলে সমাজে যে উচ্চাশনে বলিয়ান হওয়ার কথা ছিল তারা তাতে সমাসীন নয়।একজন মুসলিম চরিত্র যে কতগুলো উন্নত ও নৈতিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় সে সম্পর্কে খুব কমই ধারণা রাখে।

    রসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও ওলামায়ে কেরাম যুগে যুগে একমাত্র তাদের চরিত্র বলেই ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন তাদের চরিত্র মাধুর্য মুগ্ধ হয়েই দলে দলে লোক ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে।তাদের চালচলন আমানত দ্বীনদারী লেনদেনসহ সর্বকাজে ছিল ইসলামে আখলাক-চরিত্র তাই তাদের দ্বারা ইসলামের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে বিশ্ব বিজয় সম্ভবপর হয়েছিল।
    ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া,ভারত ও আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিলো ইসলাম কোন শক্তির বলে? কিভাবে ইসলাম সে দেশের হাজার হাজার মানুষের অন্তরকে আকৃষ্ট করেছিলো?নিশ্চয়ই তরবারীর ভয়ে নয় বরং ব্যবসায়ী ও দায়ীদের চরিত্র ও ব্যক্তিগত আমল দেখে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে।

    বইটি কি নিয়েঃ
    ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে,
    “A Beautiful name is better than a lot of Wealth”
    বইটির নামই বইটির বিষয় বস্তু প্রকাশ করে দিচ্ছে।
    আমরা আমরা বিক্ষিপ্তভাবে অনেকেই মুসলমানদের চরিত্রের অনেক বিষয়াবলী সম্বন্ধে জানি। একজন আদর্শ মুসলমানের চরিত্র কেমন হতে পারে তার একটি পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি এই বইটিতে ফুটে উঠেছে।

    বইটি কেন পড়বেনঃ
    লেখক বইটিতে নিজ থেকে খুব একটা কিছু বলেননি বরং তিনি প্রতিটি বক্তব্যকে কুরআন বা হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন। যে কারনে বইটি নির্ভর যোগ্য।বইটি কোন দল বা গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং সব শ্রেণীর মুসলমানের জন্য। যে কোন মানুষ বইটি পড়লে নিজের চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার পাশাপাশি চরিত্র সংশোধনের উপকরণ পাবেন।

    বিষয় বস্তুঃবইটিতে ষোলো টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথমেই ইসলামে নৈতিকতার অবস্থান, নির্জীব অন্তর, প্রাণহীন ইবাদতের মূল নৈতিকতার ঘাটতি, আদর্শ চরিত্র গুরত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা গড়িয়েছে
    হজরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত,রাসূল বলেছেন- “পানি যেভাবে বরফকে গলিয়ে দেয় , সৎ চরিত্র সেইভাবে গুনাহগুলােকে নষ্ট করে দেয় । আর সিরকা বা ভিনেগার যেভাবে মধুকে নষ্ট করে দেয় , অসৎ চরিত্র ঠিক সেইভাবেই নেক আমলগুলােকে নষ্ট করে)দেয় ।” (তাবানি : ১০৭৭৭ ; শুআবুল ঈমান : ৭৬৭৩)

    তিনি আরো বলেন,”কিয়ামতের দিন একজন মুমিনের জন্য তার উত্তম চরিত্রের চেয়ে আর ভারী ও ওজনদার কিছুই হবে না । আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতা ও কটুভাষীদের মােটেই পছন্দ করেন না । যার চরিত্র ভালাে , তার সালাত , সিয়াম ও অন্যান্য ইবাদতের মানও উত্তমই হবে । “( তিরমিজি : ২০০৩)
    এরপরে সততা এবং সত্যবাদিতার গুরুত্ব অধ্যায়ে দৈনন্দিন জীবনে সততা সংক্রান্ত বিভিন্ন পয়েন্ট আউট করা হয়েছে যেমন সন্তান প্রতিপালনে মিথ্যা না বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা। আস্থা আমানতদারীতা, ইখলাস, কথাবার্তা আদব, অন্তরের পরিছন্নতা( অধ্যায়টি ভালো লেগেছে) ধৈর্য, ক্ষমা, মানবপ্রীতি ইত্যাদি অধ্যায়ে জীবন ঘনিষ্ঠ আলোচনার সাথে সাথে দেওয়া হয়েছে হাদিস এবং কুরআন থেকে রেফারেন্স যার ফলে লেখার গাঁথুনি হয়েছে মজবুত ও শক্তিশালী।

    লেখকঃশায়েখ মোহাম্মদ আল গাজ্জালী আহমদ অাল সাকা একজন বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলজেরিয়ার আবদ আল কাদির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা করেন। লেখক হিসেবে মোট ৯৪ টি বই লিখেছেন।তার রচনাবলী মিশরের প্রজন্মের পর প্রজন্ম কে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করেছে। ১৯৪৮সালে ফিলিস্তিন যুদ্ধ অংশ নেওয়ার অপরাধে মিশরের সরকার উনাকে গ্রেফতার করেন।তাকে মিশরের ইসলামের উথানের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    অনুবাদকঃ
    বইটির অনুবাদক চতুরমুখী মেধাবী আলি আহমদ মাবরুর। মানারাত ইউনিভার্সিটির কলা সমাবর্তনে কলা অনুষদের পক্ষে তিনি একমাত্র গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত ছাত্র ছিলেন।তার প্রথম অনূদিত গ্রন্থ ‘ডেসটিনি ডিজরাপ্টেডঃ পৃথিবীর চোখে ইসলামের ইতিহাস’ তুমুল পাঠকপ্রিয় বই।

    শেষ কথাঃ আমাদের অনৈতিক চরিত্রের চারা গাছটি মহিরুহতে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই তাকে উপড়ে ফেলতে হবে।নীতিহীনতা সমূলে উৎপাটনে বইটি অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করবে।ইনশাআল্লাহ।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    Azmin Akther Eva:

    বই- মুসলিম চরিত্র
    লেখক- মুহাম্মাদ আল গাজালি
    অনূদিত- আলী আহমদ মাবরুর
    মূল্য- ৩০০
    গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স

    পাঠ অনুভূতিঃ-
    কোথায় যেন পড়েছিলাম, কিছু বই থাকে যেগুলো একবার পড়ে সম্পূর্ণ উপলব্ধি করা যায় না। সেই বই গুলো বারবার পড়তে ইচ্ছা করে বইয়ের আলোকে নিজের জীবন সাজাতে ইচ্ছা করে। চরিত্র গঠন ও সংশোধনের এক দারুণ বই এই মুসলিম চরিত্র। পুরো বইটি সাজানো হয়েছে কুরআনের আয়াত ও হাদীসের দ্বারা। বইয়ের প্রতিটি লাইন যেন এক একটা মণিমুক্তা। যেগুলো মেনে চলতে পারলে উজ্জ্বল হবে আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ। ইনশা আল্লাহ্।

    মুসলিম শরীফে একটি হাদীস আছে,
    “আদম সন্তানরা একেবারে বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছে গেল দুটো অন্তর্নিহিত স্বভাব থাকতে পারেনা একটি হলো লোভ আর দ্বিতীয়টি অফুরন্ত আশা বা চাহিদা পোষণ করা।” (মেশকাতঃ৫২৭০)

    আর এই বইটিতে একজন আদর্শ মুসলমানের চরিত্র কেমন হতে পারে, তার একটি পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি এ বইটিতে ফুটে উঠেছে। আমরা বিক্ষিপ্তভাবে অনেকে মুসলমানের চরিত্রে অনেক বিষয় গুলি সম্বন্ধে জানি বা ধারণা রাখি। কিন্তু এ বইটিতে এমন একটি সংকলন যেখানে মানবিক আচারণ ব্যবহারে সকল বিষয়কে ইসলামের আলোকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। যে কোন মানুষ বইটি পড়লে নিজের চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার পাশাপাশি চরিত্র সংশোধনের খোরাকও পাবেন বলে বিশ্বাস করি।

    বইটির বিষয়বস্তুঃ-
    নৈতিক চরিত্রের বলিয়ান হওয়া ছাড়া আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো একেবারে অসম্ভব। আমাদের চরিত্র মডেল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে আজমাইন। এই গ্রন্থে আমরা সুন্নাহর চোখে চরিত্রগঠনের অবকাঠামো দেখতে পাই। গৌরবান্বিত মুসলিম জাতির আজকের দিনে ক্রমান্বয়ে ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হওয়ার অন্যতম মৌলিক কারণ নৈতিক চরিত্রের চরম অবনতি। অন্ধকারে ডুবে থাকা দুটি উপায় আছে। একটি হল নতুন কিছু জানতে বা শিখতে না চাওয়া আর দ্বিতীয়টি হল ধৈর্য ধারণ না করা।
    তাই আমাদের বেশি বেশি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এবং সেই সাথে নিজের চরিত্রকে উত্তম চরিত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন মুসলিমের চরিত্র যেমন হওয়া উচিত আমাদের চরিত্রকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। সেই চরিত্র গঠনে প্রতিটি ধাপে রয়েছে এই মুসলিম চরিত্র বইটিতে। এটি একজন মুসলিমের পূর্ণাঙ্গ চারিত্রিক রূপরেখা। আর নৈতিক চরিত্র গঠন হচ্ছে এই বইয়ের মূল বিষয়বস্তু।

    বইটি কেন পড়বেন এবং অন্যকে উৎসাহিত করবেনঃ-
    মুসলিম চরিত্রের অপরিহার্য গুণাবলী হচ্ছে তাওহিদের চেতনা, সত্যতা, বিশ্বাস, আন্তরিকতা, সহনশীলতা, ক্ষমা, ধৈর্য, আচরণে নিরপেক্ষতা, ভ্রাতৃত্ব, প্রেম, রহমত ও উদারতা। এসব গুণাবলী অবশ্যই অর্জনযোগ্য এবং আল্লাহ্‌র রসূল দ্বারা প্রদর্শিত ও প্রমাণিত। প্রত্যেক মানুষের কাছে আল্লাহ্‌র রাসূল (সা.) উসওয়াতুন হাসানাহ।এই গ্রন্থ থেকে আমরা মুসলিম চরিত্রের নৈতিক দিকগুলোর উত্তম জ্ঞাণ আরোহণ করব, ইনশাআল্লাহ্‌।

    বই সম্পর্কে কিছু কথাঃ-
    বইটি ১৬ টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে প্রতিটি অধ্যায়ে আবার বিভিন্ন বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা আছে। প্রতিটি অধ্যায়ের আলোচনা এত সুন্দর ভাবে করা আছে যেন আমাদের মত সাধারণ পাঠকরা তা বুঝতে পারে। একনজরে সুচিপত্রঃ-
    ইসলামের ভিত্তি ও নৈতিক মূল্যবোধ নৈতিকতা ঘাটতি, দুর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, জান্নাত নাকি জাহান্নামের পথে, নৈতিক অপরাধের শাস্তি, সমগ্র মানব মানবতা ও নৈতিকতার প্রত্যাশী, সত্য ও সত্যবাদিতা , আস্থা, আমানতদারীতা ও সততা, প্রতিশ্রুতি, এক নিষ্ঠতা ও একাগ্রতা, কথাবার্তার আদব, অন্তরে পরিছন্নতা, শক্তি, ধৈর্য ও ক্ষমা, মানবপ্রীতি ও দয়া, ধৈর্য।

    আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র আল কুরআনের সূরা আহযাবের ৪৫ নং আয়াতে বলেছেন
    “হে নবী আমি আপনাকে সাক্ষী সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি”
    একথা শুধু মুসলমান নয়, সারা পৃথিবীর সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষ স্বীকার করে- শুধু আল্লাহর নবী হিসেবে নয় বরং গোটা জীবনটাই হচ্ছে মানবতার জন্য উত্তম আদর্শ কেউ যদি নিজেকে স্বস্তি দিতে চাই, জীবনে সুখ ও সফলতা অর্জন করতে চায়, তাহলে তার জন্য রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ ব্যক্তি জীবন অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই।

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নৈতিকতার বিষয়টি কোন আরাম-আয়েশ বা বিলাসিতার মতো বিষয় নয়, যা না হলেও আমাদের চলে বরং নৈতিকতা হলো এমনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা একটি ধর্মকে অবশ্যই ধারণ করতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে সেটা আরও এগিয়ে নিতে হয়। ইসলামে এ ব্যাপারে সবচেয়ে অগ্রগামী। তাই যারা ইসলামকে অনুসরণ করেন তাদের এই নৈতিকতা এবং উন্নত গুণাবলিকে নিজের জীবনের অংশ হিসেবে পালন করতে হবে। আর এই বইটিতে তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ খুব সুন্দর ভাবে করা আছে। যা পড়ে প্রতিটি পাঠকই ভালো ফল পাবেন ইনশা আল্লাহ।

    অনুবাদক পরিচিতিঃ-
    আলী আহমাদ মাবরুর। পেশায় সাংবাদিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয়। জাতীয় সাপ্তাহিক দৈনিকে তার নিয়মিত কলাম প্রকাশিত হয়। যা ইতিমধ্যেই সচেতন পাঠক সমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মুসলিম চরিত্র অনুবাদকের দ্বিতীয় অনূদিত গ্রন্থ। তার প্রথম অনূদিত গ্রন্থ ‘ডেসটিনি ডিজরাপ্টেডঃ পৃথিবীর চোখে ইসলামের ইতিহাস’ তুমুল পাঠকপ্রিয়।

    লেখক পরিচিতিঃ-
    শায়খ মুহাম্মদ আল গাজ্জালি আহমদ আল সাকা ছিলেন একজন বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া নিকলা আল ইনাব নামক ছোট্ট একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। লেখক হিসাবে তিনি মোট ৯৪ টি বই লিখেছেন। তাঁর রচনাবলীর মিশরের প্রজন্মের পর প্রজন্ম কে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে। তিনি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা সমূহকে তরুণদের সামনে যুগোপযোগী করে উপস্থাপন করার উদ্যোগ নেন। তাকে মিশরের ইসলাম উত্থানের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১৯৯৬ সালের ৭৮ বছর বয়সে কায়রোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর তৎকালীন সৌদি যুবরাজ আব্দুল্লাহ বিশেষ একটি বিমানে করে তার লাশ নিয়ে যান এবং সেখানে পবিত্র মদিনায় তাকে দাফন করা হয়।

    শেষ কথাঃ-
    আমাদের সকল কাজ ,পরিশ্রম ও চেষ্টা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ যেন লেখক সহ বইয়ের সাথে যারা জড়িত সকলকে সফল করেন। দ্বীনের জন্য তাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করে নিন। আমিন।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top