মেন্যু


মুসলিম বিশ্ব ও উসমানি খেলাফত

পৃষ্ঠা : 104

বাগদাদে আব্বাসি খিলাফতের পতনের পর মুসলিম বিশ্ব একটি অভিভাবকশূন্য সময় পার করে। সারা পৃথিবীতে মুসলিমদের দুর্দশার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়। ক্রুসেডারদের ক্ষুৎপিপাসা প্রবলতর হতে থাকে। পৃথিবীজুড়ে তারা মুসলিমদের হত্যা করে বেড়ায়। মুসলিম ভূখণ্ডগুলো ছোট ছোট প্রদেশ ও অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনৈক্যের তুমুল তুফান মুসলিমদেরকে শত্রুর সম্মুখে তুচ্ছ খড়কুটায় পরিণত করে। অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে নি মুসলিমরা।

ইতিহাসের এই করুণ মুহূর্তে ইসলাম ও মুসলিম জাহানের মুক্তির জন্য এবং নতুন করে বিশ্বশাসনের জন্য এক অনন্য অভিভাবকের আবির্ভাব ঘটে। যার নাম উসমানি খেলাফত। মুসলিমদের ইতিহাসে যুক্ত হয় আরেকটি সোনালি অধ্যায়। মহা কুচক্রী ক্রসেডারদের অন্তরে সঞ্চার হয় ত্রাস। আরব থেকে অনারব পৃথিবীর যে প্রান্তেই কোনো মুসলিম অঞ্চল ক্রুসেডারদের ও খৃস্টান সাম্রাজ্যবাদীদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে সেখানেই তারা ছুঁটে গেছেন। নিজেদের রক্ত দিয়ে সেই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। লেখকের জাদুকরী বর্ণনায় এসব ইতিহাস যেনো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বইটির রচয়িতা সাইয়িদ সুলাইমান নদবি রহ.। ভারতীয় উপমহাদেশে বিগত দুই শতকে যে অল্প কয়জন মনীষা সিরাত, ইতিহাসবিদ্যা ও জ্ঞানগবেষণায় অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছেন এবং সমগ্র বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তাদের অন্যতম তিনি। এমন একটি বই বাংলাভাষায় অনন্য সংযোজন নিঃসন্দেহে।

পরিমাণ

94  135 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
প্রসাধনী
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

1 রিভিউ এবং রেটিং - মুসলিম বিশ্ব ও উসমানি খেলাফত

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    বুক রিভিউ
    মুসলিম বিশ্ব ও উসমানি খেলাফত
    ________________________________________________

    বইটি রচনার প্রেক্ষাপট- ১৯২৬ সাল। উসমানী খিলাফতের পতনের দুই বছর পর।১৯২৪ সালে উসমানী খেলাফতের পতন হয়।এর পর সারা বিশ্ব উসমানিদের নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করতে থাকে। তবে খুব কম মানুষই উসমানিদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের প্রতি সুবিচার করেছে। ইতিহাসের প্রতি এমন অবিচারে কোনো ইতিহাস সচেতন মানুষের পক্ষে বসে থাকা সম্ভব নয়।তাই, এসময় যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ
    ইতিহাসবিদ সাইয়িদ সুলাইমান নদবি এগিয়ে এলেন। মুসলিম জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিলেন উসমানিদের অবদান।এই প্রেক্ষাপটেই বইটি লিখিত হয়েছে।

    এভাবে ইতিহাসের প্রতি অবিচারের এক নাজুক মুহূর্তে বইটি লিখিত হয়েছে।বইটিতে মূলত উসমানিদের অবদান নিয়ে আলোচিত হয়েছে।

    ▪️বিষয় বিন্যাস ও আলোচনা-

    •প্রারম্ভিকা-
    উসমানি খেলাফতের পূর্বে ইসলামী বিশ্বের অবস্থা এই অধ্যায় আলোচিত হয়েছে। আব্বাসিদের পতনের পর মুসলিম বিশ্বের করুণ অবস্থা, ব্যর্থ ক্রুসেডারদের নতুন চাতুরী, মুসলিমদের দুর্দশা, সাফাভি সাম্রাজ্যের সুন্নিদের করুণ পরিণতি এই অধ্যায়ে যেন জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে।

    •উসমানী খেলাফত-
    এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে উসমানি খেলাফতের অভিষেক, সমগ্র মুসলিম বিশ্ব যেভাবে উসমানি খেলাফতের পতাকাতলে সমবেত হল, হারামাইন শরীফাইনের সেবায় উসমানীদের অভিষেকের ইতিহাস এবং এর সেবায় সুলতান
    সালিমের অনন্য নজির।

    •খেলাফতে উসমানিয়া ও মুসলিম বিশ্ব-
    এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ইউরোপের ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি, পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় পশ্চিমাদের নৃশংসতা।

    •আন্দালুস ও উত্তর আফ্রিকা-
    এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে আন্দালুসের ট্র্যাজিক পতন, খ্রিস্টানদের বিশ্বাসঘাতকতা ও মুসলিমদের জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ, উসমানীরা কেনো আন্দোলনের মুসলিমদের সহায়তা করেনি, সুলতান সালিম তার পিতা দ্বিতীয় বাইজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণ, খাইরুদ্দিন বারবারুসা, সুলতান সুলাইমান ও মহান দুই নাবিকের কীর্তি, সাগরপথে হজ ও বাণিজ্যে বাধা, মুসলিমদের দুর্দশার নতুন অধ্যায়, সুলতান সুলাইমানের স্পেনিশদের হাত থেকে একাধিক মুসলিম অঞ্চল উদ্ধারকরন, তিউনিসিয়ার মুসলিমদের দুর্দশা, এভাবে মুসলিম বিশ্বের অবস্থা ও উসমানীদের বিভিন্ন অবদান এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

    •আরব- ভারত সাগরে সাম্রাজ্যবাদী পর্তুগীজ দস্যুদের মোকাবিলায় উসমানিগণ-
    এই অধ্যায় আলোচিত হয়েছে পর্তুগীজদের সামুদ্রিক আবিষ্কারের প্রকৃত উদ্দেশ্য, পর্তুগীজদের অরাজকতার সূচনা,পর্তুগীজদের প্রতিহিংসা, হাজার মাইল দূর থেকে হিন্দুস্তানের মুসলিমদের সহায়তায় উসমানিগণ, পর্তুগীজদের নৈরাজ্যের প্রথম জবাব, পর্তুগীজদের দস্যুতা থেকে পরিত্রাণের জন্য গুজরাটের দূত উসমানী দরবারে, এভাবে পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে উসমানীদের বিভিন্ন অভিযান বর্ণিত হয়েছে।

    •রুশ অঞ্চলে মুসলিমদের দুঃসহ ইতিহাস ও উসমানী
    গণ-
    এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে এক হারানো মুসলিম সালতানাতের কথা, সুলতানের চিঠিতে তিন দেশ একসাথে রুশদের মোকাবিলায় অবতীর্ণ হওয়া,
    আস্ত্রাখানে করুণ পরিণতি, সুলতান দ্বিতীয় সালিম, ক্রিমিয়ার মুসলিমদের বিভ্রান্ত করতে জাল ফতোয়া ও মুসলিমদের পরাজয়, রুশদের কবলে কাজান রাজ্য, রুশদের মোকাবিলায় কাওজাক বা কাজাকিস্তানের মুসলিমদের পাশে উসমানীগণ, সাম্রাজ্যবাদী পোল্যান্ডকে আহমদ কোপরিলির ঐতিহাসিক জবাব, খেলাফতের শেষ সময়গুলোতেও উসমানীগণ উম্মাহকে ভুলে যাননি, ইত্যাদি ।

    •খেলাফতে উসমানিয়া এবং খ্রিস্টান ও মুসলিম বিশ্বের ঋণস্বীকার-
    এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে খেলাফতের দায়িত্ব পালনে উসমানীগণ কতটা সফল, আরবরা কি উসমানীদের খলিফা মনে করতে, উসমানী খেলাফত সম্পর্কে শিআদের মনোভাব, সুন্নি-শিআ দ্বন্দ্ব নিরসনের অপূর্ব প্রচেষ্টা, উসমানী খেলাফত সম্পর্কে ইউরোপিয়ানদের মনোভাব।

    ▪️পাঠ্যানুভূতি-
    বইটির পাতায় পাতায় উসমানিদের অবদান মুখরিত হয়েছে। উম্মাহর জন্য তাদের দরদ,তাদের বিপদে সাহায্য করা , নিজেদের জীবনের পরোয়া না করে বিশ্বের যে প্রান্তেই মুসলিমরা নির্যাতিত হয়েছে সেখানেই চলে গেছেন উসমানীরা,নিজেদের রক্ত দিয়ে মুসলিম ভূখন্ড গুলোকে বর্বর ক্রুসেডার, ইহুদি, খ্রিস্টানদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এসব বর্ণনা লেখকের জাদুকরী বর্ণনায় যেন জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে ‌।এই বইটি পড়ার মাধ্যমে অনেক ইতিহাস জানতে পেরেছি-আমাদের সোনালী অতীত, খিলাফতের স্বর্ণোজ্জ্বল অতীত,বর্বর ক্রুসেডার, ইহুদি, খ্রিস্টানদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, মুসলিম ভূখণ্ড দখল, ইত্যাদি।এক কথায় বইটি অসাধারণ।

    ▪️বইটির নির্ভরযোগ্যতা-
    বইটিতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে উসমানী খেলাফতের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।যেমন- ইংরেজি ভাষায় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য “Historians History of The World”, মুফতি ওয়াহলান বিরচিত ফুতুহাতে ইসলামিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ইত্যাদি।তাই,বইটি নির্ভরযোগ্য।

    ▪️লেখক-
    বইটির লেখক সাইয়িদ সুলাইমান নদবি। ভারতীয় উপমহাদেশে গত দুই শতকে অল্প কয়জন মনীষী সিরাত, ইতিহাস বিদ্যা ও জ্ঞানগবেষনায় অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছেন এবং সমগ্র বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তাদের একজন তিনি। তিনি নিকট অতীতের মুসলিম বিশ্বের এমন একজন বিখ্যাত গবেষক ,জীবনী কার, পন্ডিত যে তার গবেষণাকর্ম কে জ্ঞানী মহলে সনদ হিসেবে গণ্য করা হয়। ড. ইকবাল (রহ) তাকে “উস্তাদুল কুল” এবং ইসলামি জ্ঞান গবেষণার “দুধের নহরের ফরহাদ” প্রবাদে আখ্যা দিয়েছেন।

    ▪️ অনুবাদক-
    এমন অসাধারণ একটি বই বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন কামরুল হাসান নকীব। তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুবাদ করেছেন। তার আরও কিছু অনুবাদের কাজ রয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি আমাদের আরও অনেক ভালো কাজ উপহার দিবেন ইন শা আল্লহ।

    রেটিং-১০/১০

    এমন অসাধারণ একটি বই প্রকাশ করেছে মুভমেন্ট পাবলিকেশন্স।

    একনজরে বইটি-

    নাম-মুসলিম বিশ্ব ও উসমানি খেলাফত
    লেখক-সাইয়িদ সুলাইমান নদবি
    অনুবাদ- Kamrul Hasan Nokib
    প্রকাশনায়- মুভমেন্ট পাবলিকেশন্স
    কভার- পেপারব্যাক
    মুদ্রিত মূল্য-১৩৫ টাকা

    আল্লাহ তা’আলা বইটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন আমিন।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top