মেন্যু
muminer patheyo kitabuz zuhuder onubad

মুমিনের পাথেয় (কিতাবুয যুহদের অনুবাদ) (দুই খণ্ড)

অনুবাদক : আবদুস সাত্তার আইনী   তাহকিক : শায়খ আহমাদ ফরিদ সম্পাদক : মাকতাবাতুল বায়ান সম্পাদনা পরিষদ পৃষ্ঠা : ৫০৪ কভার: হার্ড কভার বক্স ফ্রি !  ধরুন আপনি ওয়েটিং রুমে বসে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। কোনো কারণে... আরো পড়ুন
পরিমাণ

533  730 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

6 রিভিউ এবং রেটিং - মুমিনের পাথেয় (কিতাবুয যুহদের অনুবাদ) (দুই খণ্ড)

5.0
Based on 6 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    Hasnain Islam Emon:

    ◉ বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম!

    ❛ বল, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, যিনি কুল মাখলুকাতের প্রতিপালক। ❜
    (সূরা আল আনয়াম : আয়াত ৬২)

    শুরুতেই মহান রব আল্লাহ ত’আলার দরবারে অশেষ শুকরিয়া যে তিনি হায়াত এবং রিযিকের মাধ্যমে মহামারী এই করোনা ভাইরাস থেকে আমাদেরকে হেফাযত করেছেন।

    আমাদের রব আমাদেরকে এই পৃথিবীতে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠিয়েছেন।সেটি হলো,একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত বন্দেগী করা। শুধুমাত্র এই একটি কারনেই আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে একজন মুসাফিরের মতো দুনিয়ায় জীবন-যাপন করতে বলেছেন। একজন মুসলমান কিভাবে একজন মুমিন হয়ে উঠবেন,কিভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে আবার কিভাবে ঘুমাতে যাবেন অর্থ্যাৎ সম্পূর্ণ জীবনব্যাবস্থা,হ্যা আবারও বলছি আমাদের সম্পূর্ণ জীবনব্যাবস্থা মহান রব আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কিতাব আল- কুরআন এবং প্রিয় নবী হয়রত মুহম্মদ(সঃ) এর মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমাদের রেগুলার রুটিন,কাজ-কর্ম, ইবাদাত সবকিছু মহান রব বলে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে দুনিয়ায় থেকে আখিরাতের জীবনের পাথেয় অর্জন করতে বলেছেন এবং কিভাবে আমরা সেগুলো অর্জন করবো সেসব বিস্তারিত ভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ব্যাস এইটুকুই,এইটুকুই আমাদের রব আমাদের কাছে চেয়েছেন,এইটুকুই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য। আর আমরা? আমরা কি করছি? আমরা কি আদৌ সঠিক পথে আছি নাকি পথভ্রষ্ট হয়েছি সেই কবেই?

    আমরা আজ দুনিয়ার মোহ, ভোগবিলাসীতায় মগ্ন।দুনিয়ার চাকচিক্য যেন আমাদের প্রচন্ড শক্তভাবে গ্রাস করে ফেলেছে। আমরা সর্বদাই প্রতিযোগীতায় লিপ্ত।গাড়ি,বাড়ি,সম্পদ এবং ক্ষমতা লাভের এক অসুস্থ প্রতিযোগীতা গ্রাস করে রেখেছে আমাদের।এজন্যই জীবনের আসল উদ্দেশ্য স্রষ্টার অনুগত্য এবং আখিরাতকে ভুলতে বসেছি আমরা। আমরা ভাবছি এই জীবনের কাটানো দিনগুলোই মাঝেই বুঝি আমাদের জীবনের পরিসমাপ্তি। কিন্তু না মৃত্য আমাদের পরকালের জীবনের প্রথম স্তর। আমাদের জাহান্মামের কথা ভুলে গেছে চলবে না। জাহান্নাম থেকে বাচতে হলে মুমিন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

    আল্লাহ তা’আলা মুমিনের জন্য জান্নাতে বাড়ি/প্রাসাদের ব্যাবস্থা করে রেখেছেন। দুনিয়ার সৌন্দর্য দেখেই আমরা বিমোহিত হই। অথচ, আখিরাত নিয়ে,জান্নাত নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

    মুমিন ব্যক্তিই প্রকৃতই ভালোবাসার প্রতীক।
    এই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, মুমিন মহব্বত ও দয়ার প্রতীক। ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যে কারো সাথে মহব্বত রাখে না এবং মহব্বত প্রাপ্তও হয় না। (মুসনাদে-আহমাদ: ১/১৮০)।

    আজকে যে বইটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, আন্দাজ করতে পারছেন বইটি কি নিয়ে। “মুমিনের পাথেয়” বইটি এক কথায় একজন মুসলমানের জন্য মুমিন হয়ে ওঠার অন্যতম সেরা একটি পথপ্রদর্শক।

    ♦বইটিতে কি কি রয়েছেঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    এই বইটিকে ২ খন্ডে মোট ১১টি অধ্যায়ে পূর্ণ করা হয়েছে। এখানে একজন বান্দার মুমিন হয়ে ওঠার মাধ্যম দেখানো হয়েছে নবীজীর সুনাহ,হাদিস এবং সালাফে-সালেহিন দের জীবনী থেকে।

    এখানে বিভিন্ন অধ্যায়ে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলেচনা করা হয়েছে-

    আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মগ্ন হওয়া, দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে জ্ঞান শিক্ষা করার পরিনাম, পাপের ভয়াবহতা, আল্লাহর ইবাদত করার ফযিলত, ব্যাথা-বেদনা ও অশ্রু, গোফন আমল ও যিকির, নম্রতা ও আল্লাহভীতি।
    একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করা, ইখলাস ও নিয়ত, আল্লাহ তাআলার যিকরের মহত্ত্ব, জানাযায় যাওয়া এবং জানাযা দেখে উপদেশ গ্রহন, উচ্চাশার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া, শেষ নিশ্বাস, ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মৃত্যুভয়, উপদেশ গ্রহন ও চিন্তা-ভাবনা, সততার উপর অটল থাকার পরিনাম, জমিনের কথোপকথন, সৎ ও সত্যবাদী সঙ্গী, জিহ্বাকে সংযত রাখা, সালাতের জন্য অপেক্ষা করার ফজিলত, আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা, মৃত্যুর সময় সুসংবাদ পায় যারা লোক দেখানো আমল ও আত্মতৃপ্তির পরিণাম, নবীগণের তওবা নিয়ে। এছাড়াও সালাফে সালেহীনগণ কীভাবে দুনিয়ায় জীবনযাপন করেছেন, তাদের ইবাদত কতটুকু ইখলাসপূর্ণ ছিল, তাদের জীবনে দুনিয়ার গুরুত্ব কতটুকু ছিল, রবের সন্তুষ্টির জন্য তাদের মনে কতটা উদ্বিগ্নতা ছিল, পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহে তারা কতটা ব্যস্ত ছিলেন, রবের সামনে হিসাব নিয়ে দাঁড়ানোর ভয়ে বিসর্জন দিয়েছেন কত চোখের জল – মূলত সেইসব বিষয় গুলোকে লেখক খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন বইটিতে।

    ♦লেখক পরিচিতিঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    লেখক ইমাম ইবনুল মুবারক রহ. এমন একজন মনীষী, যার সম্পর্কে ওনার নিজ শায়খ ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন,”…. তিনি তো পূর্ব, পশ্চিম এবং এর মধ্যকার সবজায়গার শাইখ।” আরেক প্রখ্যাত মনীষী ইমাম যাহাবী রহ. তিনিও ইবনুল মুবারকের রহ. প্রশংসা করেছেন।

    ইবনুল মুবারক রহ. একাধারে একজন তাবে-তাবিঈ,যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস,ফকিহ,মুজাহিদ, মুজাদ্দিদ,আবিদ এবং একজন দক্ষ ব্যবসায়ীও। তিনি তৎকালীন ইলমচর্চার প্রাণকেন্দ্র খুরাসানে ১১৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ইন্তেকাল করেন ১৮১ হিজরী সনের রমাদ্বন মাসে, মাত্র ৬৩ বছর বয়সে।

    ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) রচিত ‘কিতাবুয যুহদ ওয়া ইয়ালিহি আর-রাকায়িক’। প্রায় ১৩০০ বছর আগে, নববী যুগের কাছাকাছি সময়ে রচিত অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই সংকলনটির বাংলা অনুবাদ ‘মুমিনের পাথেয়’ নামে ২ খন্ডে শীঘ্রই প্রকাশ করতে যাচ্ছে মাকতাবাতুল বায়ান।
    বইটির সহজবোধ্য অনুবাদক করেছেন আব্দুস সাত্তার আইনী।

    ♦পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    শুরুতেই আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক এর জীবনী জেনেছি। তিনি শুধু জ্ঞানের মাধ্যমেই না,তিনি অস্ত্রের মাধ্যমেও ইসলামের প্রতিরক্ষা করেছেন।

    বইদুটি পরে একের পর এক খাটি মুমিন বান্দা- আমরা যাদের সালাফ বলে জানি,তাদের জীবনী এবং ইবাদাতের গল্প শুনতে শুনতে আমি কোথায় যেনো হারিয়ে গিয়েছিলাম।এ যেনো এক ভিন্ন জগত। মনে হচ্ছিল আমাকে কেউ এক নাগারে সালাফদের গল্প বলে যাচ্ছিল।
    আমার আফসোস হচ্ছিল,আমি কেনো এমন খাটি সালাফদের সান্নিধ্য পেলাম না,কেনো তাদের ছাত্র হতে পারলাম নাহ।

    বইটি সম্পর্কে আমি বিশ্বাসের সাথে বলতে পারি,একজন বান্দার মুমিন হয়ে ওঠার অন্যতম পথপ্রদর্শক হতে পারে এই বইটি।

    ♦ বইটি কেনো পড়বেনঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    বর্তমান পৃথিবীতে আমরা মুসলমানরা আজ বড়ই দিশেহারা। কুরআান,হাদীস বাদ দিয়ে আমরাও ফেসে গেছি পাশ্চাত্য সভ্যতায়। আমাদের খুব জরুরি প্রত্যাবর্তন করা উচিত,নাহলে আমাদের পরিনতিও কাফির মুসরিকদের মতো হবে।
    রসুল (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ভালবাসা দৃঢ় করার লক্ষ্যে সালফে সালেহীনের বুঝ ও আদর্শকে ধ্যানে, জ্ঞানে ও মননে লালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার পন্থা আয়ত্ব করতে “মুমিনের পাথেয়” বইটি একটি অনন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

    কিভাবে একজন মুমিন শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও দ্বীনের পথে অটল থাকবে,এর জন্য প্রয়োজন সঠিক দিক নির্দেশনা,উত্তম পাথেয়ের।
    মুমিনের প্রকৃত গন্তব্য কে চিনিয়ে দিতে, রবের সামনে নিজের সম্বল নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করতে মুসলিম উম্মাহ’র প্রতিটি ব্যক্তির বইটি পড়া উচিত।

    ♦ভালোলাগা/মন্দলাগাঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    “মাকতাবাতুল বয়ানের” এর আগের তিনটি বই সম্পর্কে ধারনা রয়েছে আমার। বইগুলো হলো -“রাসূলের চোখে দুনিয়া,বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া,সীরাতুন নবী। তাদের বইয়ের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছি আগে।এক্ষেত্রেও তাই।

    “মুমিনের পাথেয় ” বইটিই একটি ভালোলাগা,
    এই বইটিকে হৃদয়ে ধারন করার মতো একটি বই। ১৩০০ বছর আগের পুরনো সব রেফারেন্স, যেগুলো একদম খাটি,সেগুলে আজকে আমরা নিজ হাতে নিয়ে পড়তে পারছি।

    ∎বইয়ের প্রচ্ছদ,অনুবাদ সবকিছুই দারুন।
    ∎লেখকের জরুরি নির্দেশনাগুলো অনুবাদক খুবই সুন্দর করে,সহজবোধ্য ভাবে অনুবাদ করেছেন।
    ∎মুমিন হওয়ার জন্য বইটি নিঃসন্দেহে একটি উত্তম পথপ্রদর্শক।
    ∎খাটি সব রেফারেন্স পেয়েছি বইটিতে যার মাধ্যমে সালাফ/খাটি মুমিনদের সম্পর্কে জেনেছি।

    ∎খারাপ লেগেছে একটা বিষয়েই সেটা হলো- সূচিপত্রের বিষয়বস্তুর সাথে পৃষ্ঠার নাম্বার লেখা ছিলো না।ইনশাআল্লাহ এটা ২য় সংস্করনেই একদম ঠিক হয়ে যাবে।

    সব মিলিয়ে বইটি একটা মাস্টারপিচ।

    ♦মন্তব্যঃ
    ▔▔▔▔▔▔

    মুমিনের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পরকালে সফলতা লাভ করা।
    আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মুমিনের একমাত্র পাথেয় আল্লাহ ও রাসূল(সঃ)এর নির্দেশিত বিধি বিধান।
    দুনিয়ার মোহে মানুষ আজ বিচলিত,দিশেহারা।
    দ্বীনের পথে অটল থাকা যুদ্ধের সমান।নিজের নফসের সাথে যুদ্ধে জিততে হবে।
    প্রতিটি কাজ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত। মুমিন হওয়া ছাড়া নামেমাত্র মুসলিম হয়ে জান্নাত কামনা করা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। জীবনের বেলা ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যদি অনুতপ্ত না হই,আল্লাহর কাথে ক্ষমা না চাই,না শোধরাই, তাহলে মৃত্যুর পর আমাদের অবস্থান কোথায় হবে একবার ভেবে দেখুন। তাই আজ থেকেই হোক মহান বর আল্লাহর সামনে মুমিনরূপে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি।

    ♦বইটি সম্পর্কে-

    বইঃ ❛মুমিনের পাথেয়❜ (কিতাবুয যুহদ) (দুই খণ্ডে)
    লেখকঃ আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)
    অনুবাদঃ আব্দুস সাত্তার আইনি
    তাহকিকঃ শায়খ আহমাদ ফরিদ
    পৃষ্ঠাঃ ৫০৪
    মূল্যঃ ৪৭৫(৩৫% ছাড়)
    প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল বায়ান
    কভারঃ হার্ড কভার

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Md Amdadullah Tafhim:

    ♤ নদী বয়ে চলার কোন নিয়ম থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু আপাত চোখে দেখলে মনে হয় সে আপনমনে নিজের খেয়াল মত বয়েই চলছে।এই বয়ে চলার ব্যাপারটা সম্পুর্ন তার নিজের,এর জন্য কারো কাছে তার জবাবদিহিতার ভয় নেই, নেই কারো কাছে থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন। হয়ত নদী জানেও না কেন, কোন্ পথ ধরে আর কোন্ উদ্দ্যেশ্যে তার যাত্রা।

    একজন মুমিনের জীবনপথ মোটেও এমন উদ্দ্যেশ্যহীন নয়,প্রতিপদে তার জবাবদিহিতার ভয় আছে। এই উৎকন্ঠা-ই প্রতিটা মুহুর্ত তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। কোন্ কোন্ আকুতি কখন কিভাবে কোন্ পথ ধরে তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সে সম্পর্কে তাকে সম্পুর্ন সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। অবাধে মুক্ত-স্বাধীন জীবনযাপন তার জন্য শুভনীয় নয়। নফস আর শয়তানের চক্রান্তের সাথে সব সময় লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।আর এ লড়াইয়ে তার বড় অস্ত্র স্বচ্ছ ঈমানের বল।

    মানুষের ঈমান কিছু উপায়ে বাড়ে আবার এর উল্টো উপায়ে কমতেও শুরু করে। বান্দা যখন দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে তার প্রকৃত উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যায়, আল্লাহর যিকির থেকে গাফেল হয়ে যায়,সুখ আর ভোগের উন্মত্ত নেশা যখন অন্তরে চেপে বসে তখন ঈমানী শক্তিও কমতে শুরু করে ধিরে ধিরে।এই ঈমানী শক্তি পুনর্জাগরণের অন্যতম উপায় “উত্তম নাসীহাহ”। আত্নশুদ্ধিমুলক ঈমান জাগানিয়া উত্তম উপদেশ সম্বলিত ‘কিতাবুয যুহদ’ গ্রন্থের অনুবাদ মাকতাবাতুল বায়ান কর্তৃক প্রকাশিত “মুমিনের পাথেয়” বইটি।

    ○ বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত নির্মোহ বিশ্লেষণঃ

    “মুমিনের পাথেয়” বইটি এগারোটি অধ্যায়ের সুদীর্ঘ সমষ্টি। ব্যক্তিজীবিনের প্রায়োগিক প্রায় সকল দিক সম্পর্কেই উত্তম আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষমার আশ্বাস ও পাপের ভয়াবহতা, বিনয়ের ভূষণ ও নম্রতা,আল্লাহর প্রতি অঘাত বিশ্বাস ও ভীতি, ইখলাসের মাহাত্ত্ব ও এক্বিন, সংযত জবান ও অসংলগ্নতার পরিনতি ,রিয়ার নিন্দা ও ভোগবিলাসের অনুৎসাহ, অল্পে তুষ্টতা ও সদাচরণের মিষ্টতা, মৃত্যু চিন্তা ও পারলৌকিক ভাবনা ইত্যাদি সহ ইসলামের মূল ও মৌলিক বিষয়াবলী নিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ প্রায় সকল উত্তম উপদেশের এক অপুর্ব সম্মিলন এই বইটি।

    পাঠক পড়ামাত্রই আত্নশুদ্ধি ও আত্নোন্নয়নের মহান ব্রতে নিজেকে উন্নীত করার মহান এক শিক্ষা পাবেন। তারই ধারাবাহিতায় মাত্র একটি উপদেশ বই থেকে উদ্ধৃত করছি। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,” হে আদম সন্তান,তুমি তোমার ভাইয়ের চোখে সামান্য ময়লা থাকলেও তা দেখতে পাও, কিন্তু নিজের দুই চোখে গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকলেও দেখতে পাও না।”

    ○ বইটির ভালোলাগা অংশঃ

    ফিতনার স্রোতে নিমজ্জিত মুসলিমদের জন্য এধরনের কিতাবের প্রয়োজন যে কত বেশি, তা ফিতনায় কবলিত প্রতিটি মানুষই উপলব্ধি করার কথা। সম্পুর্ন বইটির আলাদা ভালোলাগা অংশ বেছে নেওয়া খুবই কঠিন। তবুও কিছু জিনিস উল্লেখ না করলেই নয়। প্রত্যেকটি হাদিসের তথ্যসুত্র সুস্পষ্টভাবে বইটিতে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি হাদিস সমূহের তাহকিক সম্বলিত ছোট্ট ছোট্ট ব্যাখ্যা পাঠকের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।

    ○ বইটি কাদের জন্যঃ

    ঈমানের সামান্য ছিটেফোঁটাও যাদের হৃদয়ে লালিত হয় তাদের প্রত্যেকের জন্য বইটি হাইলি রিকোমেন্ডেড। সহজ ভাষায় বললে, ঈমান আছে বলে দাবী করে এমন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য বইটি পড়া প্রচণ্ডভাবে জরুরি।

    ○ লেখক সম্পর্কেঃ

    “মুমিনের পাথেয়” বইটির লেখক যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকিহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রহিমাহুল্লাহ।বইয়ের শুরুতে প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে পাঠক লেখকের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন। তার সময়কালে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের হাদিসের জ্ঞান এবং বর্ণনা সম্পর্কে কেউ যদি সন্দেহ প্রকাশ করতো তাহলে তার ইলমি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরিস বলেছেন,”আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক যে হাদিস জানেন না, ওটা জেনে আমাদের কোন কাজ নেই।” নুমান ইবনু মুহাম্মদ বলেছেন, “আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,আমার বাবা আমাকে বললেন,আমি যদি তোমার বই পুস্তক দেখি সেগুলো আগুনে জ্বালিয়ে দেব।আমি বললাম, তাতে আমার কোন দুঃখ হবে না,সেগুলো আমার বুকের মধ্যেই আছে।”

    পার্থিব ও ধর্মীয় বিদ্যার নানা শাখায় পারদর্শিতার পাশাপাশি ইবনুল মুবারাক একজন দক্ষ কবি। সামাজিক নানা বিষয়ে (ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি) তিনি উপদেশের ভঙ্গিতে কবিতা লিখতেন । এর কয়েকটির ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়-

    “দ্বীন ছেড়ে সুখী হবে ভেবেছিল যারা
    দুনিয়া নিয়ে সুখে নেই তারা
    দ্বীন নিয়ে খুশি থাকো,দুনিয়া ছেড়ে দাও রাজাদের হাতে
    যেভাবে তারা দুনিয়া আঁকড়ে দ্বীন ছেড়েছে তোমাদের পাতে”

    ○ পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ

    পাঠ্যানুভুতি কাগজের পাতায় কলমের আচড় কেটে অল্প কথায় বুঝানো অসম্ভব। তারপরও কিছু কথা না বললেই নয়। একটি বই সুখপাঠ্য হয়ে পাঠকের হৃদয়কে আলোড়িত করতে কয়েকটি বিষয় ধর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।
    ● লেখকের পরিচয়
    ● বিশ্বস্ত প্রকাশনী
    ● আলোচ্য বিষয়বস্তু
    ● দৃষ্টিনন্দন পৃষ্ঠাসজ্জা ও বাইন্ডিং
    ● সামঞ্জস্যপূর্ণ মলাট ।

    উক্ত বিষয়গুলো বইটিকে সর্বসাকুল্যে পাঠকের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলে।বইটির প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং এবং মলাট খুবই ভাল লেগেছে। সবকিছু মিলিয়ে স্বল্পকথায়, বইটি দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য মুমিন হিসেবে যথেষ্ট পাথেয়’র সঞ্চার করেছে।

    ○ অনুবাদ সম্পর্কেঃ

    বইটির সম্পুর্ন অনুবাদ কর্মটি মেদ চর্বিহীন এক অতুলনীয় সংস্কার। বানানরীতি ও প্রতিটি বর্ণায়নের সাথে ব্যাকরণসিদ্ধতা, প্রয়োগযোগ্যতা ও প্রয়োগ বাহুল্য এসব গুনের অধিকারী ছিলেন গ্রন্থটির অনুবাদক। যথেষ্ট দক্ষতা ও সতর্ক দৃষ্টির সাথে অনুবাদ টি আঞ্জাম দিয়েছেন। তাই গ্রন্থটি সুখপাঠ্য হবে বলেই আশা করছি।

    ○ বইটি থেকে পছন্দের একটি উক্তিঃ

    “জমিনের লবণকে নষ্ট করো না; কোন বস্তু পচে গেলে লবণ দিয়ে তার পচন রোধ করা যায়। কিন্তু লবণ নষ্ট হয়ে গেলে তার কোন ওষুধ নেই।জেনে রাখো, তোমাদের মধ্যে দু’টি মূর্খতাসুলভ খাসলত রয়েছে, “কোন কারণ ছাড়াই হাসা এবং রাত্রি না জাগরণ সত্ত্বেও সকালে ঘুমিয়ে থাকা।”

    পরিশেষে,চেতনার দরজা উন্মুক্ত করে ঘুম ভেংগে জাগ্রত হয়ে নিজেদের অন্তিম যাত্রার পাথেয় সঞ্চয়ে আত্নশুদ্ধির মহান সাধনায় আরো তৎপর হওয়ার প্রত্যয়ে “মুমিনের পাথেয়” বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে শেষ করছি।

    1 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    কামরুননাহার মীম:

    ধরুন, আপনি ট্রেনে উঠেছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। দু-তিন ঘন্টার এই ভ্রমণে ট্রেনের হাই ক্লাস কম্পার্টমেন্ট, জানালা দিয়ে দৃশ্যমান প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ, কিছু সুদর্শন-সুকণ্ঠী যাত্রীদের কার্যকলাপে বাঁধা পড়ে কখনো কি গন্তব্যের কথা ভুলে গিয়েছিলেন?
    নাহ, কখনোই এমন হয়নি, তাইনা?
    তাহলে দুনিয়া নামক এই ট্রেনে আমরা গন্তব্য (জান্নাত) কে ভুলে দুনিয়ার চাকচিক্যে মরিয়া হয়ে যাই কেন? আমরা সবাই আজ দুনিয়ার প্রতিপত্তির মোহে ব্যস্ত। দুনিয়ায় সব অর্জনের নেশায় বেঘোর। আমরা দিনের শুরু থেকে শেষ অব্দি একটু পার্থিব সুখ খুঁজতে এই জীবন সংগ্রামে ব্যস্ত থাকি। রবের অস্তিত্বের বিষয়টি আমাদের জীবনের এক কোণায় অনাদরে পড়ে আছে। দিনশেষে ক্লান্ত আমরা নতুন দিনের আশায় ঘুমিয়ে পড়ি। অথচ যার জীবন অন্যের হাতে, সেই আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে আরেকটা দিনের আকাঙ্ক্ষা রাখি! পাথেয় সংগ্রহ করার কথা ছিল জান্নাত অর্জনের, আর আমরা পাথেয় সংগ্রহ করছি দুনিয়ার। দুনিয়ার হাজারো ফিতনার মাঝে মুমিনের প্রকৃত গন্তব্যের পাথেয় সংগ্রহ করার এই উপলব্ধি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে “মুমিনের পাথেয়” বইটি। বইটির লেখক ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ।

    ★লেখক সম্পর্কেঃ

    জগদ্বিখ্যাত ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ কে নিয়ে পাঠক কম বেশি জানে। তিনি একাধারে ছিলেন আলিম, ফকিহ, মুজাহিদ, মুজতাহিদ, দুনিয়াবিমুখ আবিদ, দানশীল, সফল ব্যবসায়ী, প্রখ্যাত কবি। তার ইলমের অবস্থানও ছিল অত্যুচ্চে। আর তাই ইমাম সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ তাকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শাইখ অভিহিত করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা, ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানেও ছিলেন সবার অগ্রে। তাঁর রচিত “কিতাবুয্ যুহদ ওয়া ইয়ালিহি আর-রাকায়িক” নামক সুপরিচিত গ্রন্থটিই “মুমিনের পাথেয়” নামে অনুবাদ হয়ে এসেছে মাকতাবাতুল বায়ানের আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

    ★বইটি কি নিয়েঃ

    দুই খন্ডের এই বইটিকে মোট ১১টি অধ্যায়ে পূর্ণ করা হয়েছে, যাতে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের সালফে সালেহীন দের আদর্শ। বইটির প্রথম খন্ডে ৪টি অধ্যায় স্থান পেয়েছে এবং বাকি ৭টি অধ্যায় দ্বিতীয় খন্ডে স্থান পেয়েছে।
    সালফে সালেহীনগণ কীভাবে দুনিয়ায় জীবনযাপন করেছেন, তাদের ইবাদত কতটুকু ইখলাসপূর্ণ ছিল, তাদের জীবনে দুনিয়ার গুরুত্ব কতটুকু ছিল, রবের সন্তুষ্টির জন্য তাদের মনে কতটা উদ্বিগ্নতা ছিল, পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহে তারা কতটা ব্যস্ত ছিলেন, রবের সামনে হিসাব নিয়ে দাঁড়ানোর ভয়ে বিসর্জন দিয়েছেন কত চোখের জল – মূলত সেইসব বিষয় গুলোকে লেখক খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন বইটিতে। বইটিতে তাদের ইবাদতের ধরণ, দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে, দুনিয়া প্রীতি ভুলে গিয়ে মৃত্যুচিন্তায় বিভোর হয়ে এক সহজ – সরল জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনদের মাঝে সৌহার্দ্যতা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসার পথ দেখানো হয়েছে সালাফে-সালেহীন জীবনযাত্রার মাধ্যমে। তাদের ইবাদতে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রাধান্য দেওয়া আমাদের কে বারংবার মনে করিয়ে দেয় প্রকৃত পাথেয় সংগ্রহের কথা। তাদের ইবাদতের ধরণ, মাত্রা উন্মোচিত করে পাঠককে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার এক সতর্ক বার্তা বইয়ে পাওয়া যায়।
    আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা, তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ কে হারাতে চায়? বইটিতে এই সকল বিষয়ের সুন্দর আলোচনা রয়েছে। বইটিতে দুনিয়ার প্রকৃত স্বরূপ বর্ননা করা হয়েছে। দুনিয়াকে চিনলে তবেই তো তবে যুহদের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। সালাফে সালেহীন দের আদর্শেই তো পরকালের পাথেয় অর্জনের সরল পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

    ★ বইটি কেন পড়বেনঃ

    বইটি আজ আমাদের মতন দুনিয়ার মায়ায় পড়ে যাওয়া মানুষের বারবার পড়া দরকার৷ আমরা মুসলিম রা আজ আমাদের আদর্শ কে দূরে সরিয়ে দিয়ে রবের সন্তুষ্টির দ্বার থেকে সরে যাচ্ছি বহুদূরে। মুমিনের প্রকৃত গন্তব্য কে চিনিয়ে দিতে, রবের সামনে নিজের সম্বল নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করতে মুসলিম উম্মাহ’র প্রতিটি ব্যক্তির বইটি পড়া উচিত। প্রত্যাবর্তন তো হবে রবের দিকেই, তবে নিজেকে প্রস্তুত করার দিন টা কবে আসবে?! দেহের প্রত্যাবর্তনের পূর্বে আত্মাকেও রবের দিকে প্রত্যাবর্তিত করতে বইটি পড়তে হবে৷ কেনইবা পড়ব না বইটি, যে বই আমাকে আমার আদর্শ আর আমার প্রকৃত পাথেয়ের কথা মনে করিয়ে দিবে?

    ★বইটির ভাল দিকঃ

    ‌‌‌★বইটিতে ইসলামের শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের মনীষীদের ঘটনা স্থান পেয়েছে।
    ★ খুব সুন্দর, সহজ, সাবলীল ভাষায় লিখা এই বইটি পড়ে পাঠকের বিরক্ত লাগবেনা ইন শা আল্লাহ।
    ★ নিজের আত্মশুদ্ধি এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
    ★ দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝতে ও মানতে বইটি যথেষ্ট সহায়তা করবে।
    ★ সালাফদের আদর্শ কে নিজের মধ্যে জাগরণের জন্য সহায়ক হতে পারে ইন শা আল্লাহ।
    ★ বইটির ফুটনোটে তাহকীক যুক্ত আছে।

    ★আমার অনুভূতিঃ

    বইটি পড়ে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক দরসে বসে সালাফগণের কথা শুনছি। প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়ে মনে হচ্ছিল, এটি তো আমারই জন্য লিখা। বইটি আমার কাছে আত্মশুদ্ধির এক নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছিল।

    সকলকে গুরুত্বপূর্ণ এই বইটি পড়ার অনুরোধ থাকল ইন শা আল্লাহ।

    বইটি সম্পর্কে একনজরেঃ
    বইয়ের নামঃ মুমিনের পাথেয় ১ ও ২
    লেখকঃ ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ
    অনুবাদকঃ আবদুল সাত্তার আইনী
    পৃষ্ঠাঃ ৫০৪
    ধরণঃ হার্ডকভার
    মূল্যঃ ৭৩০৳

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    কামরুননাহার মীম:

    ধরুন, আপনি ট্রেনে উঠেছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। দু-তিন ঘন্টার এই ভ্রমণে ট্রেনের হাই ক্লাস কম্পার্টমেন্ট, জানালা দিয়ে দৃশ্যমান প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ, কিছু সুদর্শন-সুকণ্ঠী যাত্রীদের কার্যকলাপে বাঁধা পড়ে কখনো কি গন্তব্যের কথা ভুলে গিয়েছিলেন?
    নাহ, কখনোই এমন হয়নি, তাইনা?
    তাহলে দুনিয়া নামক এই ট্রেনে আমরা গন্তব্য (জান্নাত) কে ভুলে দুনিয়ার চাকচিক্যে মরিয়া হয়ে যাই কেন? আমরা সবাই আজ দুনিয়ার প্রতিপত্তির মোহে ব্যস্ত। দুনিয়ায় সব অর্জনের নেশায় বেঘোর। আমরা দিনের শুরু থেকে শেষ অব্দি একটু পার্থিব সুখ খুঁজতে এই জীবন সংগ্রামে ব্যস্ত থাকি। রবের অস্তিত্বের বিষয়টি আমাদের জীবনের এক কোণায় অনাদরে পড়ে আছে। দিনশেষে ক্লান্ত আমরা নতুন দিনের আশায় ঘুমিয়ে পড়ি। অথচ যার জীবন অন্যের হাতে, সেই আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে আরেকটা দিনের আকাঙ্ক্ষা রাখি! পাথেয় সংগ্রহ করার কথা ছিল জান্নাত অর্জনের, আর আমরা পাথেয় সংগ্রহ করছি দুনিয়ার। দুনিয়ার হাজারো ফিতনার মাঝে মুমিনের প্রকৃত গন্তব্যের পাথেয় সংগ্রহ করার এই উপলব্ধি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে “মুমিনের পাথেয়” বইটি। বইটির লেখক ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ।

    ★লেখক সম্পর্কেঃ

    জগদ্বিখ্যাত ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ কে নিয়ে পাঠক কম বেশি জানে। তিনি একাধারে ছিলেন আলিম, ফকিহ, মুজাহিদ, মুজতাহিদ, দুনিয়াবিমুখ আবিদ, দানশীল, সফল ব্যবসায়ী, প্রখ্যাত কবি। তার ইলমের অবস্থানও ছিল অত্যুচ্চে। আর তাই ইমাম সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ তাকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শাইখ অভিহিত করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা, ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানেও ছিলেন সবার অগ্রে। তাঁর রচিত “কিতাবুয্ যুহদ ওয়া ইয়ালিহি আর-রাকায়িক” নামক সুপরিচিত গ্রন্থটিই “মুমিনের পাথেয়” নামে অনুবাদ হয়ে এসেছে মাকতাবাতুল বায়ানের আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

    ★বইটি কি নিয়েঃ

    দুই খন্ডের এই বইটিকে মোট ১১টি অধ্যায়ে পূর্ণ করা হয়েছে, যাতে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের সালফে সালেহীন দের আদর্শ। বইটির প্রথম খন্ডে ৪টি অধ্যায় স্থান পেয়েছে এবং বাকি ৭টি অধ্যায় দ্বিতীয় খন্ডে স্থান পেয়েছে।
    সালফে সালেহীনগণ কীভাবে দুনিয়ায় জীবনযাপন করেছেন, তাদের ইবাদত কতটুকু ইখলাসপূর্ণ ছিল, তাদের জীবনে দুনিয়ার গুরুত্ব কতটুকু ছিল, রবের সন্তুষ্টির জন্য তাদের মনে কতটা উদ্বিগ্নতা ছিল, পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহে তারা কতটা ব্যস্ত ছিলেন, রবের সামনে হিসাব নিয়ে দাঁড়ানোর ভয়ে বিসর্জন দিয়েছেন কত চোখের জল – মূলত সেইসব বিষয় গুলোকে লেখক খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন বইটিতে। বইটিতে তাদের ইবাদতের ধরণ, দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে, দুনিয়া প্রীতি ভুলে গিয়ে মৃত্যুচিন্তায় বিভোর হয়ে এক সহজ – সরল জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মুমিনদের মাঝে সৌহার্দ্যতা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসার পথ দেখানো হয়েছে সালাফে-সালেহীন জীবনযাত্রার মাধ্যমে। তাদের ইবাদতে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রাধান্য দেওয়া আমাদের কে বারংবার মনে করিয়ে দেয় প্রকৃত পাথেয় সংগ্রহের কথা। তাদের ইবাদতের ধরণ, মাত্রা উন্মোচিত করে পাঠককে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার এক সতর্ক বার্তা বইয়ে পাওয়া যায়।
    আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা, তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ কে হারাতে চায়? বইটিতে এই সকল বিষয়ের সুন্দর আলোচনা রয়েছে। বইটিতে দুনিয়ার প্রকৃত স্বরূপ বর্ননা করা হয়েছে। দুনিয়াকে চিনলে তবেই তো তবে যুহদের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। সালাফে সালেহীন দের আদর্শেই তো পরকালের পাথেয় অর্জনের সরল পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

    ★ বইটি কেন পড়বেনঃ

    বইটি আজ আমাদের মতন দুনিয়ার মায়ায় পড়ে যাওয়া মানুষের বারবার পড়া দরকার৷ আমরা মুসলিম রা আজ আমাদের আদর্শ কে দূরে সরিয়ে দিয়ে রবের সন্তুষ্টির দ্বার থেকে সরে যাচ্ছি বহুদূরে। মুমিনের প্রকৃত গন্তব্য কে চিনিয়ে দিতে, রবের সামনে নিজের সম্বল নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করতে মুসলিম উম্মাহ’র প্রতিটি ব্যক্তির বইটি পড়া উচিত। প্রত্যাবর্তন তো হবে রবের দিকেই, তবে নিজেকে প্রস্তুত করার দিন টা কবে আসবে?! দেহের প্রত্যাবর্তনের পূর্বে আত্মাকেও রবের দিকে প্রত্যাবর্তিত করতে বইটি পড়তে হবে৷ কেনইবা পড়ব না বইটি, যে বই আমাকে আমার আদর্শ আর আমার প্রকৃত পাথেয়ের কথা মনে করিয়ে দিবে?

    ★বইটির ভাল/খারাপ দিকঃ

    ‌‌‌★বইটিতে ইসলামের শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের মনীষীদের ঘটনা স্থান পেয়েছে।
    ★ খুব সুন্দর, সহজ, সাবলীল ভাষায় লিখা এই বইটি পড়ে পাঠকের বিরক্ত লাগবেনা ইন শা আল্লাহ।
    ★ নিজের আত্মশুদ্ধি এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
    ★ দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝতে ও মানতে বইটি যথেষ্ট সহায়তা করবে।
    ★ সালাফদের আদর্শ কে নিজের মধ্যে জাগরণের জন্য সহায়ক হতে পারে ইন শা আল্লাহ।
    ★ বইটির ফুটনোটে তাহকীক যুক্ত আছে।
    ★ তবে বইটির সূচি অংশে পৃষ্ঠা নাম্বার ছিল না, তাই প্রয়োজনীয় বিষয় সহজে খুঁজে পেতে কিছুটা সমস্যা হয়।

    ★আমার অনুভূতিঃ

    বইটি পড়ে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক দরসে বসে সালাফগণের কথা শুনছি। প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়ে মনে হচ্ছিল, এটি তো আমারই জন্য লিখা। বইটি আমার কাছে আত্মশুদ্ধির এক নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছিল।

    সকলকে গুরুত্বপূর্ণ এই বইটি পড়ার অনুরোধ থাকল ইন শা আল্লাহ।

    বইটি সম্পর্কে একনজরেঃ
    বইয়ের নামঃ মুমিনের পাথেয় ১ ও ২
    লেখকঃ ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ
    অনুবাদকঃ আবদুল সাত্তার আইনী
    পৃষ্ঠাঃ ৫০৪
    ধরণঃ হার্ডকভার
    মূল্যঃ ৭৩০৳

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    fahimmuhammad.iisd:

    ♤ নদী বয়ে চলার কোন নিয়ম থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু আপাত চোখে দেখলে মনে হয় সে আপনমনে নিজের খেয়াল মত বয়েই চলছে।এই বয়ে চলার ব্যাপারটা সম্পুর্ন তার নিজের,এর জন্য কারো কাছে তার জবাবদিহিতার ভয় নেই, নেই কারো কাছে থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন। হয়ত নদী জানেও না কেন, কোন্ পথ ধরে আর কোন্ উদ্দ্যেশ্যে তার যাত্রা।

    একজন মুমিনের জীবনপথ মোটেও এমন উদ্দ্যেশ্যহীন নয়,প্রতিপদে তার জবাবদিহিতার ভয় আছে। এই উৎকন্ঠা-ই প্রতিটা মুহুর্ত তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। কোন্ কোন্ আকুতি কখন কিভাবে কোন্ পথ ধরে তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সে সম্পর্কে তাকে সম্পুর্ন সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। অবাধে মুক্ত-স্বাধীন জীবনযাপন তার জন্য শুভনীয় নয়। নফস আর শয়তানের চক্রান্তের সাথে সব সময় লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।আর এ লড়াইয়ে তার বড় অস্ত্র স্বচ্ছ ঈমানের বল।

    মানুষের ঈমান কিছু উপায়ে বাড়ে আবার এর উল্টো উপায়ে কমতেও শুরু করে। বান্দা যখন দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে তার প্রকৃত উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যায়, আল্লাহর যিকির থেকে গাফেল হয়ে যায়,সুখ আর ভোগের উন্মত্ত নেশা যখন অন্তরে চেপে বসে তখন ঈমানী শক্তিও কমতে শুরু করে ধিরে ধিরে।এই ঈমানী শক্তি পুনর্জাগরণের অন্যতম উপায় “উত্তম নাসীহাহ”। আত্নশুদ্ধিমুলক ঈমান জাগানিয়া উত্তম উপদেশ সম্বলিত ‘কিতাবুয যুহদ’ গ্রন্থের অনুবাদ মাকতাবাতুল বায়ান কর্তৃক প্রকাশিত “মুমিনের পাথেয়” বইটি।

    ○ বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত নির্মোহ বিশ্লেষণঃ

    “মুমিনের পাথেয়” বইটি এগারোটি অধ্যায়ের সুদীর্ঘ সমষ্টি। ব্যক্তিজীবিনের প্রায়োগিক প্রায় সকল দিক সম্পর্কেই উত্তম আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষমার আশ্বাস ও পাপের ভয়াবহতা, বিনয়ের ভূষণ ও নম্রতা,আল্লাহর প্রতি অঘাত বিশ্বাস ও ভীতি, ইখলাসের মাহাত্ত্ব ও এক্বিন, সংযত জবান ও অসংলগ্নতার পরিনতি ,রিয়ার নিন্দা ও ভোগবিলাসের অনুৎসাহ, অল্পে তুষ্টতা ও সদাচরণের মিষ্টতা, মৃত্যু চিন্তা ও পারলৌকিক ভাবনা ইত্যাদি সহ ইসলামের মূল ও মৌলিক বিষয়াবলী নিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ প্রায় সকল উত্তম উপদেশের এক অপুর্ব সম্মিলন এই বইটি।

    পাঠক পড়ামাত্রই আত্নশুদ্ধি ও আত্নোন্নয়নের মহান ব্রতে নিজেকে উন্নীত করার মহান এক শিক্ষা পাবেন। তারই ধারাবাহিতায় মাত্র একটি উপদেশ বই থেকে উদ্ধৃত করছি। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,” হে আদম সন্তান,তুমি তোমার ভাইয়ের চোখে সামান্য ময়লা থাকলেও তা দেখতে পাও, কিন্তু নিজের দুই চোখে গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকলেও দেখতে পাও না।”

    ○ বইটির ভালোলাগা অংশঃ

    ফিতনার স্রোতে নিমজ্জিত মুসলিমদের জন্য এধরনের কিতাবের প্রয়োজন যে কত বেশি, তা ফিতনায় কবলিত প্রতিটি মানুষই উপলব্ধি করার কথা। সম্পুর্ন বইটির আলাদা ভালোলাগা অংশ বেছে নেওয়া খুবই কঠিন। তবুও কিছু জিনিস উল্লেখ না করলেই নয়। প্রত্যেকটি হাদিসের তথ্যসুত্র সুস্পষ্টভাবে বইটিতে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি হাদিস সমূহের তাহকিক সম্বলিত ছোট্ট ছোট্ট ব্যাখ্যা পাঠকের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।

    ○ বইটি কাদের জন্যঃ

    ঈমানের সামান্য ছিটেফোঁটাও যাদের হৃদয়ে লালিত হয় তাদের প্রত্যেকের জন্য বইটি হাইলি রিকোমেন্ডেড। সহজ ভাষায় বললে, ঈমান আছে বলে দাবী করে এমন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য বইটি পড়া প্রচণ্ডভাবে জরুরি।

    ○ লেখক সম্পর্কেঃ

    “মুমিনের পাথেয়” বইটির লেখক যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকিহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রহিমাহুল্লাহ।বইয়ের শুরুতে প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে পাঠক লেখকের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন। তার সময়কালে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের হাদিসের জ্ঞান এবং বর্ণনা সম্পর্কে কেউ যদি সন্দেহ প্রকাশ করতো তাহলে তার ইলমি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরিস বলেছেন,”আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক যে হাদিস জানেন না, ওটা জেনে আমাদের কোন কাজ নেই।” নুমান ইবনু মুহাম্মদ বলেছেন, “আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,আমার বাবা আমাকে বললেন,আমি যদি তোমার বই পুস্তক দেখি সেগুলো আগুনে জ্বালিয়ে দেব।আমি বললাম, তাতে আমার কোন দুঃখ হবে না,সেগুলো আমার বুকের মধ্যেই আছে।”

    পার্থিব ও ধর্মীয় বিদ্যার নানা শাখায় পারদর্শিতার পাশাপাশি ইবনুল মুবারাক একজন দক্ষ কবি। সামাজিক নানা বিষয়ে (ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি) তিনি উপদেশের ভঙ্গিতে কবিতা লিখতেন । এর কয়েকটির ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়-

    “দ্বীন ছেড়ে সুখী হবে ভেবেছিল যারা

    দুনিয়া নিয়ে সুখে নেই তারা

    দ্বীন নিয়ে খুশি থাকো,দুনিয়া ছেড়ে দাও রাজাদের হাতে

    যেভাবে তারা দুনিয়া আঁকড়ে দ্বীন ছেড়েছে তোমাদের পাতে”

    ○ পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ

    পাঠ্যানুভুতি কাগজের পাতায় কলমের আচড় কেটে অল্প কথায় বুঝানো অসম্ভব। তারপরও কিছু কথা না বললেই নয়। একটি বই সুখপাঠ্য হয়ে পাঠকের হৃদয়কে আলোড়িত করতে কয়েকটি বিষয় ধর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।

    ● লেখকের পরিচয়

    ● বিশ্বস্ত প্রকাশনী

    ● আলোচ্য বিষয়বস্তু

    ● দৃষ্টিনন্দন পৃষ্ঠাসজ্জা ও বাইন্ডিং

    ● সামঞ্জস্যপূর্ণ মলাট ।

    উক্ত বিষয়গুলো সর্বসাকুল্যে বইটিকে পাঠক হিসেবে আমার কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলেছে ।বইটির প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং এবং মলাট খুবই ভাল লেগেছে। সবকিছু মিলিয়ে স্বল্পকথায়, বইটি দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য মুমিন হিসেবে যথেষ্ট পাথেয়’র সঞ্চার করেছে।

    ○ অনুবাদ সম্পর্কেঃ

    বইটির সম্পুর্ন অনুবাদ কর্মটি মেদ চর্বিহীন এক অতুলনীয় সংস্কার। বানানরীতি ও প্রতিটি বর্ণায়নের সাথে ব্যাকরণসিদ্ধতা, প্রয়োগযোগ্যতা ও প্রয়োগ বাহুল্য এসব গুনের অধিকারী ছিলেন গ্রন্থটির অনুবাদক। যথেষ্ট দক্ষতা ও সতর্ক দৃষ্টির সাথে অনুবাদ টি আঞ্জাম দিয়েছেন। তাই গ্রন্থটি সুখপাঠ্য হবে বলেই আশা করছি।

    ○ বইটি থেকে পছন্দের একটি উক্তিঃ

    “জমিনের লবণকে নষ্ট করো না; কোন বস্তু পচে গেলে লবণ দিয়ে তার পচন রোধ করা যায়। কিন্তু লবণ নষ্ট হয়ে গেলে তার কোন ওষুধ নেই।জেনে রাখো, তোমাদের মধ্যে দু’টি মূর্খতাসুলভ খাসলত রয়েছে, “কোন কারণ ছাড়াই হাসা এবং রাত্রি না জাগরণ সত্ত্বেও সকালে ঘুমিয়ে থাকা।”

    পরিশেষে,চেতনার দরজা উন্মুক্ত করে ঘুম ভেংগে জাগ্রত হয়ে নিজেদের অন্তিম যাত্রার পাথেয় সঞ্চয়ে আত্নশুদ্ধির মহান সাধনায় আরো তৎপর হওয়ার প্রত্যয়ে “মুমিনের পাথেয়” বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে শেষ করছি।

    1 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No