মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

মুমিনের পাথেয় (কিতাবুয যুহদের অনুবাদ) (দুই খণ্ড)

অনুবাদক : আবদুস সাত্তার আইনী  
তাহকিক : শায়খ আহমাদ ফরিদ
সম্পাদক : মাকতাবাতুল বায়ান সম্পাদনা পরিষদ
পৃষ্ঠা : ৫০৪
কভার: হার্ড কভার
বক্স ফ্রি ! 

ধরুন আপনি ওয়েটিং রুমে বসে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। কোনো কারণে ট্রেন আসতে দেরি হচ্ছে। বসে থাকতে থাকতে আপনি দেখতে পেলেন, ওয়েটিং রুমটা বেশ জরাজীর্ণ। মাকড়সা জাল বিস্তার করে রেখেছে চতুর্দিকে। জানালাগুলোও ভাঙা। এই দৃশ্য দেখে আপনি শ্রমিক খবর দিলেন। শ্রমিকদের দিয়ে ওয়েটিং রুমটা মেরামত করানোর কাজে লেগে গেলেন। কিন্তু এসব করতে করতে গন্তব্যে যাওয়ার একমাত্র ট্রেনটা মিস করলেন আপনি।

বলুন তো, এটা কি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে? এবার একটু চোখটা বন্ধ করুন। ভাবুন। এই দুনিয়াটা কি ওয়েটিং রুমের মতো নয়? আমরা তো এখানে এসেছি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার জন্যে। মৃতুর ট্রেন ধরে আমরা চলে যাব পরপারে। ওখানে গিয়েই যাত্রাবিরতি দেব। এরপর পৌঁছে যাব পরম সুখের মঞ্জিলে। তবে কীসের আশায় এই দুনিয়ার পেছনে লেগে গেলাম? কেন দুনিয়াবি চাকচিক্যের মোহে পড়ে মঞ্জিলের কথা ভুলে গেলাম? কেন পরপারের পাথেয় অর্জন না করে দুনিয়ার পেছনে দিবানিশি ছুটে চললাম? এখনও কি বোঝার সময় হয়নি? পাথেয় সংগ্রহ করার দিকে মনোযোগ দেবার সময় কি এখনও হয়নি?

প্রিয় ভাই, প্রিয় বোন। আসুন, মঞ্জিলে পৌঁছোবার প্রস্তুতি নিই। নিশ্বাস ফুরোবার আগেই সফরের পাথেয় জোগাড় করি। আপনার সফরের পাথেয় অর্জনে সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্যে মাকতাবাতুল বায়ান নিয়ে আসছে “মুমিনের পাথেয়”। আজ থেকে প্রায় ১৩০০ বছর পূর্বে ইমাম ইবনুল মুবারাক রহিমাহুল্লাহ রচিত এই মহামূল্যবান কিতাবটি হতে পারে আপনার জন্যে সর্বোত্তম সহায়ক। সবকিছু একদিন মিলিয়ে যাবে। মিটে যাব সূর্যের আলো, রঙধনুর সাত রঙ, নীল আকাশ। মিলিয়ে যাবে স্তরে স্তরে সাজানো সপ্তাকাশ। একদিন সবকিছু তুলোর মতো ওড়ে যাবে। পাহাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। জমিন তার সবকিছু বের করে দেবে।

মুসলিম পরিবারে জন্ম-নেওয়া প্রতিটি ব্যক্তিই বোধহয় এই কথাগুলো জানে। কারণ, মুসলিমমাত্রই পরকালকে বিশ্বাস করে। দুনিয়া যে চিরস্থায়ী কোনো আবাস সেটাও বিশ্বাস করে। পাশাপাশি এটাও বিশ্বাস করে যে, মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নতুন এক জীবনের সূচনা হবে। আর ওই জীবনটাই চিরস্থায়ী। যেটার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। ওটাই আমাদের গন্তব্য। ওখানে পৌঁছানোর জন্যেই দুনিয়ায় এসেছি আমরা। সেই চিরস্থায়ী জীবনের মুক্তি পাওয়ার জন্যে, জান্নাতের অনাবিল প্রশান্তির মধ্যে একটুকু ঠাঁই পাওয়ার জন্যে আমরা কি পাথেয় সংগ্রহ করব না? আমাদের সামনে তো বিশাল সফর। দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তির পর শুরু হবে সেইটা। তো, সেই জীবনের জন্যে কিছুই নিয়ে যাব না আমরা? প্রস্তুতি নেব না সেখানকার সফর শেষ করে চিরশান্তির মঞ্জিলে পৌঁছোনোর? আজ থেকে ১৩০০ বছর পূর্বে লিখিত এই বইটি আপনাকে সেই দিকেই পথ দেখিয়ে দেবে।

নতুন বই উপলক্ষে থাকছে অতিরিক্ত ৫% ছাড় এবং সাথে ৭৫ টাকার ১০টি দুআ স্টিকার একদম ফ্রি!

পরিমাণ

475.00  730.00 (35% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - মুমিনের পাথেয় (কিতাবুয যুহদের অনুবাদ) (দুই খণ্ড)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    ♤ নদী বয়ে চলার কোন নিয়ম থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু আপাত চোখে দেখলে মনে হয় সে আপনমনে নিজের খেয়াল মত বয়েই চলছে।এই বয়ে চলার ব্যাপারটা সম্পুর্ন তার নিজের,এর জন্য কারো কাছে তার জবাবদিহিতার ভয় নেই, নেই কারো কাছে থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন। হয়ত নদী জানেও না কেন, কোন্ পথ ধরে আর কোন্ উদ্দ্যেশ্যে তার যাত্রা।

    একজন মুমিনের জীবনপথ মোটেও এমন উদ্দ্যেশ্যহীন নয়,প্রতিপদে তার জবাবদিহিতার ভয় আছে। এই উৎকন্ঠা-ই প্রতিটা মুহুর্ত তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। কোন্ কোন্ আকুতি কখন কিভাবে কোন্ পথ ধরে তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সে সম্পর্কে তাকে সম্পুর্ন সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। অবাধে মুক্ত-স্বাধীন জীবনযাপন তার জন্য শুভনীয় নয়। নফস আর শয়তানের চক্রান্তের সাথে সব সময় লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।আর এ লড়াইয়ে তার বড় অস্ত্র স্বচ্ছ ঈমানের বল।

    মানুষের ঈমান কিছু উপায়ে বাড়ে আবার এর উল্টো উপায়ে কমতেও শুরু করে। বান্দা যখন দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে তার প্রকৃত উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যায়, আল্লাহর যিকির থেকে গাফেল হয়ে যায়,সুখ আর ভোগের উন্মত্ত নেশা যখন অন্তরে চেপে বসে তখন ঈমানী শক্তিও কমতে শুরু করে ধিরে ধিরে।এই ঈমানী শক্তি পুনর্জাগরণের অন্যতম উপায় “উত্তম নাসীহাহ”। আত্নশুদ্ধিমুলক ঈমান জাগানিয়া উত্তম উপদেশ সম্বলিত ‘কিতাবুয যুহদ’ গ্রন্থের অনুবাদ মাকতাবাতুল বায়ান কর্তৃক প্রকাশিত “মুমিনের পাথেয়” বইটি।

    ○ বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত নির্মোহ বিশ্লেষণঃ

    “মুমিনের পাথেয়” বইটি এগারোটি অধ্যায়ের সুদীর্ঘ সমষ্টি। ব্যক্তিজীবিনের প্রায়োগিক প্রায় সকল দিক সম্পর্কেই উত্তম আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষমার আশ্বাস ও পাপের ভয়াবহতা, বিনয়ের ভূষণ ও নম্রতা,আল্লাহর প্রতি অঘাত বিশ্বাস ও ভীতি, ইখলাসের মাহাত্ত্ব ও এক্বিন, সংযত জবান ও অসংলগ্নতার পরিনতি ,রিয়ার নিন্দা ও ভোগবিলাসের অনুৎসাহ, অল্পে তুষ্টতা ও সদাচরণের মিষ্টতা, মৃত্যু চিন্তা ও পারলৌকিক ভাবনা ইত্যাদি সহ ইসলামের মূল ও মৌলিক বিষয়াবলী নিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ প্রায় সকল উত্তম উপদেশের এক অপুর্ব সম্মিলন এই বইটি।

    পাঠক পড়ামাত্রই আত্নশুদ্ধি ও আত্নোন্নয়নের মহান ব্রতে নিজেকে উন্নীত করার মহান এক শিক্ষা পাবেন। তারই ধারাবাহিতায় মাত্র একটি উপদেশ বই থেকে উদ্ধৃত করছি। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,” হে আদম সন্তান,তুমি তোমার ভাইয়ের চোখে সামান্য ময়লা থাকলেও তা দেখতে পাও, কিন্তু নিজের দুই চোখে গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকলেও দেখতে পাও না।”

    ○ বইটির ভালোলাগা অংশঃ

    ফিতনার স্রোতে নিমজ্জিত মুসলিমদের জন্য এধরনের কিতাবের প্রয়োজন যে কত বেশি, তা ফিতনায় কবলিত প্রতিটি মানুষই উপলব্ধি করার কথা। সম্পুর্ন বইটির আলাদা ভালোলাগা অংশ বেছে নেওয়া খুবই কঠিন। তবুও কিছু জিনিস উল্লেখ না করলেই নয়। প্রত্যেকটি হাদিসের তথ্যসুত্র সুস্পষ্টভাবে বইটিতে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি হাদিস সমূহের তাহকিক সম্বলিত ছোট্ট ছোট্ট ব্যাখ্যা পাঠকের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।

    ○ বইটি কাদের জন্যঃ

    ঈমানের সামান্য ছিটেফোঁটাও যাদের হৃদয়ে লালিত হয় তাদের প্রত্যেকের জন্য বইটি হাইলি রিকোমেন্ডেড। সহজ ভাষায় বললে, ঈমান আছে বলে দাবী করে এমন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য বইটি পড়া প্রচণ্ডভাবে জরুরি।

    ○ লেখক সম্পর্কেঃ

    “মুমিনের পাথেয়” বইটির লেখক যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকিহ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক রহিমাহুল্লাহ।বইয়ের শুরুতে প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে পাঠক লেখকের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন। তার সময়কালে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের হাদিসের জ্ঞান এবং বর্ণনা সম্পর্কে কেউ যদি সন্দেহ প্রকাশ করতো তাহলে তার ইলমি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরিস বলেছেন,”আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক যে হাদিস জানেন না, ওটা জেনে আমাদের কোন কাজ নেই।” নুমান ইবনু মুহাম্মদ বলেছেন, “আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,আমার বাবা আমাকে বললেন,আমি যদি তোমার বই পুস্তক দেখি সেগুলো আগুনে জ্বালিয়ে দেব।আমি বললাম, তাতে আমার কোন দুঃখ হবে না,সেগুলো আমার বুকের মধ্যেই আছে।”

    পার্থিব ও ধর্মীয় বিদ্যার নানা শাখায় পারদর্শিতার পাশাপাশি ইবনুল মুবারাক একজন দক্ষ কবি। সামাজিক নানা বিষয়ে (ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি) তিনি উপদেশের ভঙ্গিতে কবিতা লিখতেন । এর কয়েকটির ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়-

    “দ্বীন ছেড়ে সুখী হবে ভেবেছিল যারা

    দুনিয়া নিয়ে সুখে নেই তারা

    দ্বীন নিয়ে খুশি থাকো,দুনিয়া ছেড়ে দাও রাজাদের হাতে

    যেভাবে তারা দুনিয়া আঁকড়ে দ্বীন ছেড়েছে তোমাদের পাতে”

    ○ পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ

    পাঠ্যানুভুতি কাগজের পাতায় কলমের আচড় কেটে অল্প কথায় বুঝানো অসম্ভব। তারপরও কিছু কথা না বললেই নয়। একটি বই সুখপাঠ্য হয়ে পাঠকের হৃদয়কে আলোড়িত করতে কয়েকটি বিষয় ধর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।

    ● লেখকের পরিচয়

    ● বিশ্বস্ত প্রকাশনী

    ● আলোচ্য বিষয়বস্তু

    ● দৃষ্টিনন্দন পৃষ্ঠাসজ্জা ও বাইন্ডিং

    ● সামঞ্জস্যপূর্ণ মলাট ।

    উক্ত বিষয়গুলো সর্বসাকুল্যে বইটিকে পাঠক হিসেবে আমার কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলেছে ।বইটির প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং এবং মলাট খুবই ভাল লেগেছে। সবকিছু মিলিয়ে স্বল্পকথায়, বইটি দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য মুমিন হিসেবে যথেষ্ট পাথেয়’র সঞ্চার করেছে।

    ○ অনুবাদ সম্পর্কেঃ

    বইটির সম্পুর্ন অনুবাদ কর্মটি মেদ চর্বিহীন এক অতুলনীয় সংস্কার। বানানরীতি ও প্রতিটি বর্ণায়নের সাথে ব্যাকরণসিদ্ধতা, প্রয়োগযোগ্যতা ও প্রয়োগ বাহুল্য এসব গুনের অধিকারী ছিলেন গ্রন্থটির অনুবাদক। যথেষ্ট দক্ষতা ও সতর্ক দৃষ্টির সাথে অনুবাদ টি আঞ্জাম দিয়েছেন। তাই গ্রন্থটি সুখপাঠ্য হবে বলেই আশা করছি।

    ○ বইটি থেকে পছন্দের একটি উক্তিঃ

    “জমিনের লবণকে নষ্ট করো না; কোন বস্তু পচে গেলে লবণ দিয়ে তার পচন রোধ করা যায়। কিন্তু লবণ নষ্ট হয়ে গেলে তার কোন ওষুধ নেই।জেনে রাখো, তোমাদের মধ্যে দু’টি মূর্খতাসুলভ খাসলত রয়েছে, “কোন কারণ ছাড়াই হাসা এবং রাত্রি না জাগরণ সত্ত্বেও সকালে ঘুমিয়ে থাকা।”

    পরিশেষে,চেতনার দরজা উন্মুক্ত করে ঘুম ভেংগে জাগ্রত হয়ে নিজেদের অন্তিম যাত্রার পাথেয় সঞ্চয়ে আত্নশুদ্ধির মহান সাধনায় আরো তৎপর হওয়ার প্রত্যয়ে “মুমিনের পাথেয়” বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে শেষ করছি।

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?