মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

মোহভঙ্গ (দুনিয়াসক্তি কাটাবেন যেভাবে)

প্রকাশনী : ইলহাম ILHAM

অনুবাদ: শাহরিয়ান নাজিম শিহাব
পৃষ্ঠা ৮০
হার্ড কভার 

বোধ হবার পর থেকে মানুষ একটা ঘোরের টানে ছোটে৷ বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ—কেউ এর বাইরে নয়৷ যেন তারা স্বপ্ন দেখছে৷ স্বপ্নের মধ্যে ছুটে চলছে নিরন্তর৷ এই হাসছে, এই কাঁদছে, এই উড়ছে, এই পড়ে যাচ্ছে—এলোমেলো সেই স্বপ্নের নেই কোনো মাথা নেই কোনো মুণ্ডু৷ তারপর হঠাৎ যখন মৃত্যুঘণ্টা বাজে, যেন অ্যালার্মের কড়কড় শব্দে আচমকা ঘুম ভাঙে সবার৷ জেগে দেখে সময় শেষ—দুয়ারে দাঁড়িয়ে মৃত্যুদূত৷

একটু সচেতন থাকলে সময় থাকতেই জেগে ওঠা সম্ভব৷ দুনিয়ার যে-মোহে আমরা এত বিভোর, তা কাটানোর উপায় বলা থাকছে এই বইতে৷

পরিমাণ

100.00  140.00 (29% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - মোহভঙ্গ (দুনিয়াসক্তি কাটাবেন যেভাবে)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    ••• দুনিয়ার প্রতি আমাদের একটা প্রবল মোহ কাজ করে। এই মোহের কারণেই আমরা ভুলে যাই মৃত্যুকে। ভুলে যাই আমাদের আসল গন্তব্যের কথা। অথচ হাদীসে নববীতে আমাদের বলা হয়েছে, দুনিয়াতে মুসাফিরের মতো থাকতে। বেশি বেশি স্মরণ করতে বলা হয়েছে মৃত্যুকে।

    দুনিয়ার প্রতি আমাদের মোহের কারণ হলো, দুনিয়ার জীবন নিয়ে আমাদের অনেক বেশি আশা-আকাঙ্ক্ষা আর মৃত্যুর বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা।

    আর আমাদের সামনে দুনিয়া নিয়ে এত বেশি আকাঙ্ক্ষার অসারতা এবং মৃত্যুর বাস্তবতা তুলে ধরতে হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ইমাম ইবনু কুদামা মাকদিসি রাহিমাহুল্লাহ রচনা করেছেন তার ‘জিকরুল মাওত ওয়ামা বা’দুহু’ নামক গ্রন্থটি। যেটা বাংলায় ভাষান্তর করেছেন – শাহরিয়ান নাজিম শিহাব। অনূদিত বইটির নাম দেওয়া হয়েছে – মোহভঙ্গ (দুনিয়াসক্তি কাটাবেন যেভাবে)। বইটি প্রকাশ পেয়েছে ‘ইলহাম’ নামক প্রকাশনী থেকে।

    • বইটির বিষয়বস্তু:

    বইটিতে রয়েছে ছোট আকারের মোট উনিশটি অধ্যায়। মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে ‘আভাস’ নামক প্রারম্ভিক আলোচনায় মৃত্যুশয্যার এতো সুন্দর একটা দৃশ্যপট উঠে এসেছে যা পাঠকের মনে বইটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পড়ে ফেলার ক্ষুধা জাগিয়ে দিবে। এরপর প্রথম অধ্যায়ের শুরু থেকে তৃতীয় অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে মৃত্যু-স্মরণ, মৃত্যুচিন্তার মাহাত্ম্য এবং দুনিয়াতে বেশি আকাঙ্ক্ষা করার অসারতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে। চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে, মৃত্যু নিয়ে দুনিয়াকামী মানুষের গাফিলতি ও মৃত্যুর সময়কার যন্ত্রণা বিষয়ক আলোচনা। এরপর নবিজির সা. মৃত্যু, চার খলিফার মৃত্যুসহ আরো কিছু সাহাবীর মৃত্যুর সময়কার কিছু ঘটনা আলোচিত হয়েছে ষষ্ঠ অধ্যায় থেকে একাদশ অধ্যায় পর্যন্ত। এরপরের অধ্যায়গুলোতে ধাপে ধাপে এসেছে, মৃত্যুর আসল রুপ, কবর, কবর জিয়ারত, কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থান, জান্নাত-জাহান্নাম এবং আল্লাহর অপার দয়া নিয়ে হৃদয়স্পর্শী আলোচনা। সবশেষে, ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহি. এর দেওয়া জান্নাতের বর্ণনার অনুবাদে দেখানো হয়েছে ‘জান্নাতের এক টুকরো ছবি’।

    • পাঠানুভূতি: বইটি আমাকে মৃত্যু নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। একেবারে ‘কানে ধরিয়ে’ দেখিয়ে দেখিয়েছে দুনিয়ার জীবনের আসল চিত্র। প্রতিটি অধ্যায়ের আলোচনাই মন ছুয়ে গেছে একেবারে।

    • বইটির ভালো দিক:

    বইটির ভাষাশৈলী এক কথায় অসাধারণ লেগেছে। এতো ঝরঝরে আর সাবলীল অনুবাদ খুব কম বইয়েই পেয়েছি। ভাষাগত দিক থেকে অনুবাদক ও সম্পাদক সাহেবেরা যে চমৎকার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। প্রচ্ছদ আর পৃষ্ঠাসজ্জাও মাশাআল্লাহ দারুন লেগেছে।

    • সমালোচনা:

    বইটিতে সালাফদের নামের শেষে ‘রাহিমাহুল্লাহ’ বা এ জাতীয় কোনো শব্দ আনা হয়নি। তথ্যসূত্রগুলো দেওয়া হয়েছে একেবারে বইয়ের শেষে যার কারণে সূত্রগুলো দেখতে একটু বেগ পেতে হয়। সামগ্রিক দিক বিচারে বইটির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রাখা হয়েছে। বইটিতে কিছু অগ্রহণযোগ্য হাদীস এসেছে, যেগুলো প্রান্তটীকায় উল্লেখ করে দেয়া আছে। আর সালাফদের কিছু বাণী এসেছে যেগুলোর কোনো সূত্র দেয়া হয়নি।

    পরিশেষে বলবো, পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার “খাও-দাও ফুর্তি করো, লাইফটা মস্ত বড়” টাইপের বাক্যের অসারতা অনুধাবন করতে এবং নিজের ভেতরে সবসময় ‘অন্তীম গন্তব্যে’র চিন্তা জাগরুক রাখতে বইটি অবশ্যপাঠ্য।

    Was this review helpful to you?
  2. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_জুন_২০২০

    বই: মোহভঙ্গ: দুনিয়াসক্তি কাটাবেন যেভাবে
    মূল: ইবনু কুদামা মাকদিসি (রাহিমাহুল্লাহ)
    অনুবাদ: শাহরিয়ান নাজিম শিহাব
    সম্পাদনা: মাসুদ শরীফ
    প্রকাশনী: ইলহাম
    পৃষ্ঠসংখ্যা: ৭৯

    প্রাক-কথন_______________
    কোন একটা সুন্দর জায়গায় ঘুরতে গেলে মানুষ যেমন আকর্ষণ বোধ করে এবং ঐ জায়গা থেকে ফিরতে হবে- এ চিন্তাটি ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যায়, ঠিক তেমনি মানুষ এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় অতি অল্প সময়ের জন্যই আসে। আর আবর্তনসঙ্কুল অথচ বিবর্তনহীন আগমন-প্রস্থানের এক নিদারুণ চক্রে পড়েও মানুষ বেমালুম ভুল মেনে থাকে তার আসল অবস্থা ও ঠিকানায় ফেরত যাওয়ার কথাটি। অতঃপর একদিন মৃত্যুর মাধ্যমে চূড়ান্ত মোহমুক্তি ঘটে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই দুনিয়ার মোহ-মায়া থেকে মুক্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। আর এমন বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের জন্যই একটি কার্যকর টোটকা হতে পারে “মোহভঙ্গ” বইটি।

    দুনিয়ার প্রতি আসক্তি মানুষমাত্রই সহজাত; অর্থাৎ জন্ম থেকেই মানুষ এই দুনিয়া এবং এতে যা আছে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। একটা ছোট্ট শিশুর কথাই ধরা যাক, তার হাতের রঙচঙে খেলনাটির প্রতি সে মোহাবিষ্ট। আর ঠিক সে কারণেই কেউ তার হাতের খেলনাটি নিতে চাইলে সে কেঁদে ওঠে। ছোট্ট একটা শিশুর দুনিয়াসক্তি যদি এমন হয়, তাহলে পরিণত বয়সী ও বিষয়ী মানুষ যারা- দুনিয়ার প্রতি তাদের আকর্ষণ যে কোন পর্যায়ে হতে পারে তা তো বলাই বাহুল্য।

    বেলায়াতের পথে অগ্রসর হতে প্রধানতম বাধা হলো এই দুনিয়াসক্তি। আজ পর্যন্ত যাঁরাই বেলায়াতের পথে কামিয়াব হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই দুনিয়াকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন; দুনিয়ার প্রতি হয়েছেন আসক্তিহীন, উদাসীন। এই নিরাসক্তিকেই বলা হয় দুনিয়াবিমুখতা বা ‘যুহদ’। আলোচ্য “মোহভঙ্গ” বইটি এই যুহদ শ্রেণিভুক্ত।

    বই কথন_______________
    যুহদ সম্পর্কে যারা প্রাথমিক ধারণা পেতে চান তাদের জন্য এ বইটি উপকারী হবে ইনশা-আল্লাহ। বইটিতে মোট ১৯ টি অধ্যায়ে ভাগ করে বিভিন্ন আঙ্গিকে যুহদ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে।

    প্রথম ৫ টি অধ্যায়ে দুনিয়াসক্তি কাটানোর প্রাথমিক ব্যাপারগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে এবং একইসাথে দুনিয়াকামী মানুষেরা কী ধরণের হয়, তাদের দুনিয়াসক্তি রোগ কেন হয় তার স্বরূপ উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

    ৬ষ্ঠ থেকে ১১শ অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ, ইসলামের প্রথম চার মহান খলিফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) এবং কয়েকজন সাহাবীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) মৃত্যুকালীন অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।

    অতঃপর ১২শ থেকে ১৯শ অধ্যায়ে মৃত্যু পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে আলোকপাত করে দুনিয়াসক্তি কাটানোর জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা করা হয়েছে।

    অধ্যায়ভিত্তিক আলোচনা শেষে “জান্নাতের এক টুকরো ছবি” শিরোনামে ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-র কিছু মূল্যবান কথা উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিশেষে মূল রচয়িতা ইবনু কুদামা মাকদিসি (রাহিমাহুল্লাহ)-র জীবনী ও প্রান্তটীকার মাধ্যমে বইটির পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

    ভালো লাগা-মন্দ লাগা_______________
    বইটি কলেবরে খুবই সংক্ষিপ্ত এবং প্রায় পকেট সাইজের বলে যেকোন জায়গায় বহনযোগ্য। প্রচ্ছদ, মুদ্রণ-বাঁধাই, অনুবাদের মান ইত্যাদি সন্তোষজনক। নতুন প্রকাশনী হওয়া সত্ত্বেও ইলহামের অন্যান্য বইয়ের মতো “মোহভঙ্গ” বইটির প্রচ্ছদও ব্যতিক্রমী। আর এর প্রচ্ছদে একটা চমৎকার প্রতীকী ব্যাপারও আছে। তা হলো দুটি নাটাইবিহীন ঘুড়ি যা বন্ধনহীন, মুক্ত; প্রকারান্তরে তা মোহভঙ্গ বা মোহমুক্তিকেই নির্দেশ করে।

    তবে “মোহভঙ্গ” বইটির যে অসঙ্গতিগুলো সমালোচনার চশমায় ধরা পড়েছে তা হলো-
    ১. “মোহভঙ্গ” বইটি কোন বইয়ের অনুবাদ তা কোথাও উল্লেখ নেই।
    ২. অনুবাদক অথবা সম্পাদক কারো কোন বক্তব্যই বইতে নেই। থাকলে অনূদিত এ বইটি আরেকটু পূর্ণতা পেতো।
    ৩. প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বইটির অধিকাংশ স্থানেই তাবেঈনগণের নামের শেষে “রাহিমাহুল্লাহ” কথাটি লেখা নেই। এমনকি অধ্যায়গুলোর শিরোনামে রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর নামের শেষে দুরূদ এবং অন্যান্য সাহাবীগণের নামের শেষে “রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু” কথাটি অনুপস্থিত- যা সচেতন পাঠকের দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে না।
    ৪. পুরো বইতে আরবি এবারত চোখে পড়েছে মাত্র একটি। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারতো। তাতে এ বইটি পূর্ণতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে থাকতো।

    শেষকথা_______________
    দুনিয়াবিমুখতা বা যুহদ সংক্রান্ত জ্ঞানার্জনে যারা উৎসুক, তাদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্য হিসেবে পর্যায়ভিত্তিক আলোচনাসমৃদ্ধ, কলেবরে সংক্ষিপ্ত ও সুখপাঠ্য এ বইটি যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ইনশা-আল্লাহ।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?