মেন্যু
  • You cannot add "উল্টো নির্ণয়" to the cart because the product is out of stock.
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

মেঘ কেটে যায়

ভাষান্তর : আব্দুল্লাহ মজুমদার
সম্পাদনা : ড. শামসুল আরেফিন শাকতি এবং উস্তায আকরাম হোসাইন

মেঘগুলো কেমন যেন! দলবেঁধে এসে ছেঁয়ে ফেলে আকাশটাকে। মেঘের আড়ালে ফিকে হয়ে যায় আকশের নীল। মেঘেরা তৈরি করে এক বিদঘুটে পরিবেশ। নীল আকাশ ছেঁয়ে যায় এক গুমোট আবহাওয়ায়। থমথমে। নীরব। নিস্তব্ধ। হঠাৎ কোথা থেকে যেন এক টুকরো আলোক রশ্মি এসে মূহুর্তেই পাল্টে দেয় সব। কেটে যায় মেঘ। ফিকে হয়ে যাওয়া নীল ফিরে পায় তার রঙ। আলোতে আলোতে আবার ভরে উঠে আকাশ।

আমাদের হৃদয়টাও নীল আকাশের মতোন। আর, সন্দেহগুলো হলো কালো মেঘের প্রতিচ্ছবি। সেই প্রতিচ্ছবিগুলো যখন হৃদয়ের আকাশে এসে জমাট বাঁধতে শুরু করে, তখন হৃদয়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে অশান্ত। তাতে ভর করে অবিশ্বাস। সন্দেহ আর অবিশ্বাসের দোটানায় ভাসতে থাকা হৃদয়, আস্তে আস্তে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

এরপর? এরপর একদিন তাতে এক টুকরো আলো এসে পড়ে আর মূহুর্তেই কেটে যায় হৃদয়ের সকল অন্ধকার। সেই আলোতে পরিশুদ্ধ হয়ে আমাদের হৃদয় আবার বিশ্বাসের পথে চলতে শুরু করে। সকল সন্দেহ, অবিশ্বাস আর জড়তার বন্ধন ছিন্ন করে হৃদয়ের গহীন থেকে কেবল বিশ্বাসের সুর প্রতিধ্বনিত হয়।

হৃদয়ের মেঘ কেটে যাওয়ার সেই উপাখ্যান দিয়েই সাজানো হয়েছে ‘মেঘ কেটে যায়’।

পরিমাণ

214.00  268.00 (20% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - মেঘ কেটে যায়

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    | প্রাক-কথন |
    .
    বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীর দ্বন্দ্ব চলছে। আলোচনা জুড়ে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির সয়লাব। একসময় অবিশ্বাসী জন পিছু হটে যায়। বিশ্বাসী জন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে। ভাবে ‘সত্য সে তো জয়ী হবারই।’ অথচ এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত সত্য আসার পর থেকেই চলমান। আজ অবধি৷ এর শেষ হয়নি,হচ্ছে না এবং হক্ব যতদিন থাকবে বাতিলের সাথে এই বিবাদের শেষ হবে না। অবিশ্বাসীরা পরাজিত হবে,খোঁড়া যুক্তির আগা ভাঙা তীরের তূনীর তুলে ছুট্ লাগাবে অন্য কোন বিশ্বাসী হৃদয়ে আঘাত হানার লক্ষ্যে। কারণ?  “নিশ্চয় যারা অস্বীকার করে,তাদের আপনি সাবধান করুন আর না করুন—তারা স্বীকার করবে না।”* তারা তো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেই যে তাদের সামনে যত প্রমাণ,যত দলিলই আসুক—তারা সত্যকে মেনে নিবে না। অস্বীকার করবেই করবে।
    কিন্তু এমন যদি হয় যে একজন সংশয়বাদী,নাস্তিকতা সম্পর্কে যে দৃঢ় বিশ্বাসী অথচ সে জানে সত্য অন্যকিছু,অন্য কোথাও। সুশোভিত মিথ্যা তাকে বারংবার ধোঁকায় ফেলে সত্য অবধি পৌঁছাতে দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় একজন কেউ তার হাত ধরলো,ধৈর্য ধরে,শান্ত-বিনয়ী কোমল সুরে হক্ব এবং বাতিলের মধ্যেকার সুস্পষ্ট পার্থক্যকে তুলে ধরলে সে নিশ্চয়ই সত্য যে পথ তা চিনে নিবে,নিবেই। কেননা সে তো বিশ্বাস করার জন্যেই উন্মুখ হয়ে আছে। তার অন্তরের বদ্ধ জানালা সে খুলে দিয়েছে৷ গোঁড়ামি,অহংকার সত্য সামনে আসলেও নিজের বিশ্বাসের প্রতি অটল থাকার অন্ধত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করেছে।
    এই হাত ধরার কাজটাই করার জন্য আলোচ্য গ্রন্থ ‘মেঘ কেটে যায়’।
    .
    | গ্রন্থ পর্যালোচনা |
    .
    ফিলিস্তিন।
    আল কুদসের ভূমি ফিলিস্তিন।
    এই পূণ্য ভূমির এক আদম সন্তান ‘আবুল হাকাম।’ যিনি তাঁর শেকড় থেকে চলে গেছেন দূরে আর শিখর থেকে এসেছেন নেমে। অবিশ্বাস,আত্ন দ্বন্দ্বের শিকার,দ্বিধা-সংশয় আর সন্দেহের ভারে নুব্জ্য এক বিশ্বাসী আত্না। সত্যের সন্ধানে ‘মুন্তাদা-আত তাওহিদ’ নামক অনলাইন ফোরামে রাব্বুল আলামীনের পরিচয় চেয়ে,ইসলামকে জানতে চেয়ে,আত্নপরিচয় চিনতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন। উত্তর নিয়ে আসেন প্রাজ্ঞবান,ধৈর্যশীল এক বিশ্বাসী ‘ড. হুসামুদ্দীন হামিদ’। দিলের সব দরদ ঢেলে একের পর এক উত্তর দিতে থাকেন ‘আবুল হাকামের’ প্রশ্নের।
    .
    ‘তিনিই আল্লাহ’,
    ‘রাসূল ও রিসালাত’,
    ‘জ্ঞান ও ক্ষমতা’,
    ‘কঠিন চুক্তি’,
    ‘আরেক দফা চুক্তি’,
    ‘রাসূলদের পথ’,
    ইত্যাদি শিরোনামে বইটিতে সাজানো হয়েছে ‘আবুল হাকামের’ প্রশ্নের উত্তরে ‘ড. হুসামুদ্দীনের’ ছয়টি জবাব। বইটি কেন পড়া উচিত যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায় এর প্রতিটা অধ্যায় এতটাই জ্ঞানপূর্ণ যে একজন অবিশ্বাসীকে যেমন নাড়া দিয়ে যাবে,তেমনি নাড়া দিবে একজন বিশ্বাসীকে। ঈমানওয়ালাদের হৃদয় ঈমানের সুগন্ধিতে পূর্ণ করে দেওয়ার খোরাক আছে বক্ষ্যমাণ বইটিতে। ‘রাসূলদের পথ’ শিরোনামে যে জবাবটি গ্রন্থিত হয়েছে এই একটি জবাবই এমন বিস্ময়কর ক্ষমতাসম্পন্ন যে যেকোন অবিশ্বাসীকে একবার অন্তত ভাবাবে,তার বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিবে আর বিশ্বাসী হৃদয়ে এনে দিবে শ্বাশত সৌন্দর্যের আরও একটি দৃষ্টান্ত।
    .
    মোদ্দাকথা প্রতিটা জবাবের এমন শক্তি যে,যিনি নিজের দোদুল্যমান অন্তর নিয়ে সন্দিহান হয়ে বলছেন,’আমি সর্বান্তকরণে একজন স্রষ্টার উপস্থিতি অনুভব করি; কিন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে আমি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছি না। তাকে স্রষ্টা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।’ সেই তিনি সত্যের পথে যাত্রা শুরু করে ঈমানদীপ্ত ঘোষণা দিলেন,’যে মহান স্রষ্টা কোনো স্তম্ভ ব্যতীতই মহাকাশকে সমুন্নত করে রেখেছেন আমি তাঁর শপথ করে বলছি,”ঈমানে স্বাদ অপার্থিব।” ‘
    .

    | বৈশিষ্ট্য |
    .
    বেশ ঝরঝরে,প্রাণবন্ত,গতিময় অনুবাদ। প্রায় মূলানুগ। একেবারেই মনে হয়নি অনুবাদ পড়ছি। এর আগে অনুবাদক ‘আব্দুল্লাহ মজুমদারের’ অনুদিত ‘সবর’ বইটির অনুবাদের মানও ভালো ছিল।
    .
    বইয়ের পৃষ্ঠা সজ্জা বেশ দৃষ্টিনন্দন। কুরআনুল কারীম থেকে নেওয়া আয়াত,হাদীস শরীফ,সালাফদের বিভিন্ন উক্তি দৃষ্টি আকর্ষিত করার মতো কোট করে দেওয়া ছিল। ফন্টের আকার,ধরণ,মান সবই ভালোই।
    .
    প্রতি পৃষ্টার টিকা পৃষ্টার নিচেই সংযোজন করা হয়েছে। পাঠকদের জন্য সুবিধাজনক বটে।
    .
    | অভিযোগ |
    .
    পুরো বইটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যিনি,যার অন্তর ছোঁয়া কথামালা অবিশ্বাসী হৃদয়ে ঝড় তুলছে,বিশ্বাসীদের বিশ্বাসকে পোক্ত করে ঈমান বৃদ্ধি করছে সে ‘ড. হুসামুদ্দীন হামিদ’ সম্পর্কে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। ঈমানের মৌলিক বিষয়াদি তাঁর আলোচনায় এসেছে,অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনাকারীই অন্ধকারে রয়ে গেছে। তাঁর আকিদা,ইলম,মানহাজ সম্পর্কে পাঠককে আলাদা করে ধারণা দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তা বইয়ে অনুপস্থিত।
    .
    অনুদিত বইয়ে অনুবাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রেও অনুবাদক যে মন-প্রাণ ঢেলে কাজটি সম্পন্ন করেছেন তা পড়তে গিয়ে কেবলই মনে হচ্ছিল। অথচ প্রচ্ছদে অনুবাদকের নাম সংযোজন করা হয়নি। বই হাতে নিয়ে মলাটে বই এবং লেখকের নাম দেখে এক মুহুর্তের জন্য ভ্রম হয়েছিল এ বুঝি মৌলিক বই।
    .
    | বই সংশ্লিষ্টদের একটুখানি পরিচিত |
    .
    অনুবাদ জগতে মোটামুটি নিজের একটা অবস্থান গড়ে নিয়েছেন ‘আব্দুল্লাহ মজুমদার’। সমকালীন প্রকাশন থেকে অনুবাদকের প্রকাশিত আরও কিছু আলোচিত বই যথাক্রমে ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লার ‘সবর’, শায়খ ড. আব্দুল করীমের ‘জীবন পথে সফল হতে’,শায়খ ইবরাহীম আস সাকরান রচিত ‘কুরআনের সাথে হৃদয়ের কথা’ ইত্যাদি। এছাড়াও এই বিশের বছরে প্রকাশিত হয়েছে ড. হানান লাশিন রচিত ‘জীবন যদি হতো নারী সাহাবীদের মতো।’ এছাড়া সম্পাদকদ্বয়ও ইসলামী অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ডা. শামসুল আরেফিন স্বনামধন্য,অসাধারণ জ্ঞান-গুণ সম্পন্ন লেখক।
    .
    রেটিংঃ ৮/১০

    *সূরা আল বাকারা,আয়াতঃ৬

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    এই বইটা পড়ে আর যাইহোক নাস্তিকতার উপর অটল থাকার কোনো মানেই হয় না,, যদিনা আল্লাহ্ অন্তরে মোহর মেরে না দেন । বইটা গতানুগতিক ধারার নাস্তিকতা টাইপের বইগুলোর মতো না । একেবারেই অন্যরকম । অনেক নতুন নতুন বিষয় উঠে এসেছে বইয়ে । চিন্তার জগতে ঝড় বইয়ে দিয়েছে । দাগ কেটে গেছে মনের অলিতে-গলিতে । লেখক তাঁর দরদ মাখা কথার একঝুড়ি পশরা সাজিয়েছেন বইয়ের পাতায়-পাতায় । অনুবাদও চমৎকার হয়েছে । অনুবাদ করেছে, “আবদুল্লাহ্ মজুমদার” ভাই ।
    বইটা কেবল সংশয়বাদীদের জন্যই না । যাদের ঈমান দূর্বল, তাদের অন্তত একবার হলেও বইটা পড়া উচিত । বইটা পড়া শেষে অন্তরে অন্যরকম একটা তৃপ্তি অনুভূত হবে ।
    বইটি সম্পাদনা করছেন আরেকজন প্রিয় লেখক “ডা. শামসুল আরেফীন” ভাই ।
    বইটি পড়ার পর আপনি অন্তরে ঈমানের এক অন্যরকম স্বাদ পাবেন, মিন্ট ফ্লেভারের । মনে হবে, হৃৎপিণ্ড কেউ মেনথল দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে । যদিও মূল বিষয়বস্তু একজন মুমিন ও একজন সংশয়ীর কথোপকথন, কিন্তু সংশয়ীর খোরাকের চেয়ে ঈমানওয়ালাদের খোরাক এই বইয়ে বেশি । অবশ্য সংশয়ী যদি তার্কিক না হয়ে ভাবুক হয়, তবে এ বই তাকে হয়তো শুরু থেকে আরেকবার ভাবাবে ।

    সংশয়বাদী পক্ষ, বিশ্বাসী পক্ষ, রাসূল ও রিসালাত, তিনিই আল্লাহ, জ্ঞান ও ক্ষমতা, কঠিন চুক্তি, আরেক দফা চুক্তি, রাসূলদের পথ, সত্যের পথে যাত্রা – শিরোনামে চমৎকার সব আলোচনা,যুক্তিতর্ক,প্রশ্নোত্তরের মেলা বসেছে বইয়ের পাতায় । হৃদয়ের মেঘ কেটে যাওয়ার এই উপাখ্যান দিয়েই সাজানো হয়েছে— “মেঘ কেটে যায়” ।
    মূলত বিশ্বাসের সাথে সংশয়ের যে দ্বন্দ্ব, তার তুলনামূলক আলোচনা নিয়েই রচিত এই বই ।

    একজন সংশয়বাদী বিক্ষিপ্ত মনে একটি অনলাইন ফোরামে এসেছিলেন । নিজ মনের অভিব্যক্তি তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন । তার মনে উদয় হওয়া নানান প্রশ্ন তিনি করেছিলেন সেখানে । এই বইয়ের লেখক “হুসামুদ্দীন হামিদ” তার সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া শুরু করেন । হাত ধরে তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেন সত্যের দিকে । কিন্তু সে কি সত্যের পথ পেয়েছিলো ? নাকি উল্টো পথে ফিরে গিয়েছিলো ? জানতে হলে পড়ে ফেলুন পুরো বইটি ।

    কিছু বই একবার পড়ে ফেলে রাখতে নেই, বার বার পড়তে হয় । এই বইটি আমাদের সপ্তাহে একবার করে পড়া উচিত বলে মনে হয়েছে । সেই সাথে প্রতিদিন কিছু সময় বইয়ের কথাগুলো আরেকজনের কাছে আওড়ানো দরকার, যাতে কথাগুলো একেবারে ভেতরে বসে যায়, সত্তার সাথে মিশে যায় । আল্লাহর সিফাত ও রিসালাতের সত্যতা যেভাবে খুলে খুলে বিস্তারিত উঠে এসেছে বইয়ে, তাতে আপনার ঈমানের স্তর আরো কয়েকধাপ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, ইন শা আল্লাহ্ ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?