মেন্যু


লায়ন অব দ্য ডেজার্ট

অনুবাদ: আইনুল হক কাসেমী

উসমানি খিলাফতের প্রাণ তখন ওষ্ঠাগত প্রায়। তখনই সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা শকুনগোষ্ঠীর লোভাতুর চোখ গিয়ে পড়ে খেলাফতের অধীনস্থ আফ্রিকার মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর ওপর। তারা এসব ভূখণ্ডকে রাজাবিহীন রাজ্য হিসেবে ধরে নেয়। ইতালি ঝাঁপিয়ে পড়ে লিবিয়ায়। ১৯১১ সালে লিবিয়ার সমুদ্র উপকূলে নোঙর করে ইতালিয়ান রণতরীগুলো। পিঁপড়ের মতো বেরিয়ে আসে হাজার হাজার ইতালিয়ান সৈন্য।
সিংহ যেমন আস্তানা ছেড়ে গর্জন করতে করতে বনের খোলা মাঠে বেরিয়ে আসে, তেমনি জাবালে আখজারের আল-কুসুর খানকাহ থেকে রণহুংকারে সদলবলে ময়দানে বেরিয়ে আসেন উমর মুখতার। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সানুসি সুফি আন্দোলনের আধ্যাত্মিক জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। রাতের সাধক আর দিনের অশ্বারূঢ়। দাড়ি, টুপি আর আলখাল্লা পরিহিত দরবেশ। কুরআন-হাদিসের মশালধারী একজন জবরদস্ত আলেম।
ঔদ্ধত সিংহের ন্যায় মৃত্যুর প্রতি একেবারে উদাসীন কতজন সাথিকে সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন দখলদার ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে। ১৯১১ থেকে নিয়ে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত এই ২০টি বছর প্রায় ২৬৩ রণক্ষেত্রে অত্যন্ত বীরদর্পে লড়াই করে যান। প্রতিটি যুদ্ধে চোখে শর্ষেফুল দেখতে থাকে ইতালিয়ান বাহিনী।ইতালি সরকার তার সাথে বারবার সমঝোতা করতে চেয়েছে; কিন্তু প্রতিবারই তিনি এককথা বলেছেন; যা ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করে রেখেছে—‘আমরা আত্মসমর্পণ করি না; আমরা হয় জিতি, না হয় মরি।’
সেই মরুসিংহ উমর মুখতারের জীবন ও কীর্তি নিয়ে রচিত এই বইটি।

পরিমাণ

150  214 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

9 রিভিউ এবং রেটিং - লায়ন অব দ্য ডেজার্ট

4.8
Based on 9 reviews
5 star
77%
4 star
22%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    বিংশ শতাব্দীর শুরুরভাগ।সর্বশেষ খিলাফাতের ধারক ওসমানী সম্রাজ্যের ক্রান্তিলগ্ন চলছে। ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিকদের লোলুপ দৃষ্টি পড়তে লাগলো মুসলিম ভূখণ্ড গুলোতে। সেই চোখে ছিলো একরাশ ঘৃণা, ক্রুসেড নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা। সর্বশক্তি দিয়ে ধারালো দাঁতের মরণ কামড় বসালো মুসলিম ভূখন্ড সমূহে,জানোয়ারের মতো ছিন্নভিন্ন করতে লাগলো।

    কিন্তু উম্মাহর সকল সন্তান কি তখনো ঘুমিয়ে ছিলো?
    ইতালীয় ঔপনিবেশিকদের সেই ধারালো দাঁত লিবিয়ায় পৌঁছানো মাত্রই জান্নাতের সবুজ পাখি হওয়ার প্রত্যাশায় সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো উম্মাহর শ্রেষ্ঠ যুবকেরা।যাদের প্রেরণার কেন্দ্র ছিলো লিবিয়ার মহান সানুসি আন্দোলনের মাদ্রাসাগুলো।
    আর সে যুবকদের নেতৃত্বে ছিলেন মরুসিংহ খ্যাত উমর মুখতার (রহ)।
    ইতিহাস সচেতন মুসলিমরা যার নাম আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
    তাঁর জীবনী নিয়েই লিখিত বই
    “লায়ন অব দ্য ডেজার্ট”। তবে বইটাতে উমর মুখতার (রহ) এর জীবনীর পাশাপাশি তাঁর সহযোদ্ধা সিংহপুরুষদের কিছু ঘটনাও সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা হয়েছে।

    লেখক বইটিকে ৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন।

    প্রথম অধ্যায়ঃ
    উমর মুখতার (রহ) এর বাল্যকাল,তার গুনাবলি ও একজন আলেম হয়ে ওঠার গল্প বর্ণনা করেছেন।পাশাপাশি একজন মুজাহিদ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা,স্থানীয় গোত্রসমূহকে একত্রিত করা ও তাদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে ইসলামী চেতনায় উজ্জীবিত করেছেন এবং গুটিকয়েক মুজাহিদ নিয়ে বিশাল ও সুসজ্জিত আগ্রাসী ইতালীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও বীরত্বের পারাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন এবং তাদের পরাজিত করেছেন।

    দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ
    বিশাল বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বারবার পরাজিত হচ্ছিল ইতালীয়রা। তখন তারা বেছে নেয় তাদের পুরোনো নিকৃষ্ট স্বভাব। শান্তিচুক্তির করে সুযোগমতো সেটা ভংগ করে। এছাড়া বিমানযোগে বোমা হামলা চালিয়ে লোকালয়ের পর লোকালয় ধ্বংস করে দেয়। দখলকৃত স্থানে মহিলাদের ওপর পশুর মতো ঝাপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।ইতালীয়দের নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে কলম হাতে তুলে নেন শাকিব আরসালান এবং উমর মুখতারের সাথে গড়ে তোলেন ভ্রাতৃভাব।

    তৃতীয় অধ্যায়ঃ
    সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছিলেন মুজাহিদরা।একপর্যায়ে ইতালীয়দের হাতে আহত অবস্থায় বন্দী হন উমর মুখতার।বন্দী হওয়ার পরও তাঁর শির ছিলো উন্নত। ফাসিতে ঝুলিয়ে শহিদ করা হয় মুসলিম জাতির অন্যতম সেরা একজন বীরকে।যিনি শত প্রলোভন সত্ত্বেও তাওহীদের পথে অটল থেকেছেন এবং বেছে নিয়েছিলেন বন্ধুর পথ,প্রাধান্য দিয়েছিলেন আখিরাতকে।

    উমর মুখতার(রহ) এর শাহাদাতের পর সানুসি আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল হামিদ আব্বারকে লেখক সচক্ষে দেখেছেন ।এছাড়া লেখকের দাদি ছিলেন প্রসিদ্ধ বারাকাহ গোত্রের মহিলা, সে সূত্রে তিনি ততকালীন লিবিয়ার অবস্থা তুলে ধরেছেন।

    বইঃ লায়ন অব দ্য ডেজার্ট
    লেখকঃ ড.আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
    অনুবাদঃ আইনুল হক কাসিমী
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৬০

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    বিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি কর্তৃক রচিত ‘লায়ন অব দ‍্য ডিজার্ট’ বইটিতে উমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহর লিবিয়ার কিংবদন্তি মুজাহিদ হয়ে উঠার কাহিনী লেখা হয়েছে। বইটিতে লিবিয়ার বিখ্যাত এই মুজাহিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট‍্যাবলি, তৎকালীন সমাজে তাঁর প্রভাব, ফ্রান্স ও ইতালির সাথে জিহাদ ও ইতালি কর্তৃক লিবিয়ার মুসলমানদের উপর চালানো চরম বর্বরতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে‌।

    উমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহর সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে বইটি শুরু হয়েছে। ‘আমরা বর্তমানের ব‍্যাপারে কৃপণতা করি না; আবার হারিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য আফসোস করি না।'[1] সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাসী উমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহর করা এই উক্তিটিই তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনের প্রতিচ্ছবি। তাঁর নেতৃত্ব গুণাবলী ও দ্বীনদারিতার জন্য তিনি তৎকালীন সময়ে সকলের আদর্শ ও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিলেন। তিনি শত্রুশিবিরের মধ‍্যেও ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁর মাঝে ইলম, আমল, আল্লাহভীরুতা ও দুনিয়াবিমুখতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। শত্রু বাহিনীর প্রধান জেনারেল গ্ৰাজিয়ানিও এগুলো অকপটে স্বীকার করেছেন।

    উমর মুখতার বাল‍্যকাল থেকেই মেধা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দাঈ ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর সমসাময়িক সকলের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। আর সমস্যায় জর্জরিত আল-কুসুর খানকার দায়িত্ব সফলভাবে পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর মাঝে নেতৃত্ব গুণাবলীর বিকাশ ঘটে। এখানে দায়িত্ব পালনকালীনই সর্বপ্রথম তিনি দখলদার ফ্রান্সের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। এই জিহাদ আফ্রিকার চাদে সংঘটিত হয়। কমান্ডার হিসেবে যোগ‍্য নেতৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি চাদে দ্বীনী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে উমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। এরপর ১৯১১ সালে লিবিয়া-ইতালির মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। উমর মুখতার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে বীরত্বের সাথে ইতালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান। এ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ২৬৩টি যুদ্ধ পরিচালিত হয়। সর্বশেষ যুদ্ধে ছোট্ট একটি ভুলের কারণে তিনি ইতালি বাহিনীর হাতে আটক হন। পরবর্তীতে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯৩১ সালে তাঁর মৃত্যুর মাত্র এক বছরের মাথায় যুদ্ধে লিবিয়ার পরাজয় ঘটে।

    ইতালির সাথে যুদ্ধ যেমন জন্ম দিয়েছে উমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহর মতো মহান বীরের, তেমনি ইতিহাসের নানা কলঙ্গময় অধ‍্যায়ের। উমর মুখতার ছিলেন ইতালিয়ান শিবিরের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ইতালি বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমে নানা সময়ে তাঁর কাছে প্রচুর লোভনীয় প্রস্তাব পেশ করে, যেন উমর মুখতার যুদ্ধ থেকে সরে দাড়ান। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সেই প্রস্তাব গুলো দৃঢ়তার সাথে ফিরিয়ে দিয়েছেন। উমর মুখতার নিজেও জানতেন যে, যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয় তবুও তিনি ও তাঁর সাথীরা শুধু একটি কারণে কুড়ি বছর যাবৎ যুদ্ধ চালিয়ে যান। সেটি হলো দ্বীনের জন্য; কেননা দখলদারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ফরজ। তিনি সবসময় একটি কথা বলতেন, ‘আমরা হয় বিজয় অর্জন করব অথবা শাহদতের মর্যাদা লাভ করব। এই দুটো পথ ছাড়া আমাদের সামনে তৃতীয় কোনো পথ খোলা নেই।'[2] আল্লাহ তাঁর জন্য শাহদতের মৃত্যুই নির্ধারণ করেছিলেন।

    প্রথমদিকে লিবিয়া বাহিনী সামগ্ৰিকভাবে এগিয়ে থাকলেও ইতালি বাহিনীর দায়িত্ব জেনারেল গ্ৰাজিয়ানির হাতে সদর্পের পর প্রেক্ষাপট দ্রুতই পরিবর্তিত হতে থাকে। মুসলিমদের নানা ত‍্যাগ, বীরত্বের পাশাপাশি ইতালিয়ানদের হীনতা, কাপুরুষতা, ধোঁকাবাজির ও নির্মমতার কালো অধ‍্যায় রচিত হতে থাকে। মূলত জেনারেল গ্ৰাজিয়ানি দায়িত্ব গ্ৰহণের পরই নানা কূটকৌশল অবলম্বন ও বর্বরতার মাধ্যমে জনমনে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে সফলতা পেতে থাকেন। শিশু, নারী, বৃদ্ধদের নির্বিচারে হত্যা, নানা পৈশাচিক কায়দায় যেমন, বেড়িতে শৃঙ্খলিত অবস্থায় পানিতে নিক্ষেপ করে হত্যা, হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করে হত্যা, বন্দিদের অনাহারে মেরে ফেলা, জোরপূর্বক শিশুদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিতকরণ ইত্যাদি। ইতালির লিবিয়াবাসীর প্রতি নির্মম বর্বরতা, নির্যাতন ও অত‍্যাচারের মাত্রা কি পরিমাণ ছিল, সেটা বুঝতে আব্দুর রহমান আজ্জামের বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে করা উক্তিটিই যথেষ্ট। তিনি বলেন, ‘মানুষ আন্দালুসের দুঃখগাঁথা সংবাদ খুঁজে বেড়ায়। জানতে চায় স্পেনিশরা কীভাবে আন্দালুসীয় মুসলমানদের ওপর অত্যাচার করেছে! ….কিন্তু তাদের চোখের সামনেই তো ত্রিপলি। ….সেখানে যেসব অত‍্যাচার চলছে, তা কোনো অংশে আন্দালুসে ঘটিত অত‍্যাচার-নির্যাতনের চেয়ে মোটেও কম নয়!'[3]

    পাঠক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেগেছে বইটির উপস্থাপন ভঙ্গি। বইটিতে উমর মুখতার রাহিমাহুল্লাহর নানা কাজ ও কথার কুরআন ও হাদীসভিত্তিক নানা দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। যেন যেকোনো মুসলিম নিশ্চিন্তে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপের গুরুত্ব উপলদ্ধি করতে ও প্রয়োজনে তাঁর কাজ থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করতে পারে। এটা নিঃসন্দেহে পাঠকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। এছাড়াও অন‍্যান‍্য প্রতিটি তথ্যের দলিলসহ উপস্থাপনা বইয়ের গ্ৰহণযোগ‍্যতা বৃদ্ধি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় টীকা পাঠকদের উক্ত বিষয় বুঝতে সাহায্য করবে।

    বইটির কলেবর সংক্ষিপ্ত, সেক্ষেত্রে কিছু কিছু স্থানে পাঠকমন অতৃপ্ত রয়ে যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই যেকোনো বানোয়াট কল্পকাহিনী পড়ার চেয়ে উত্তম। শুধু সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ‍্যগুলো আমাদের কাছে তুলে ধরার জন্য ‘কালান্তর প্রকাশনীর’ প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যেতেই পারে। তবে একটা বিষয়ে প্রকাশনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, বইটিতে বেশ কিছু সহজ বানান ভুল রয়েছে, যা পড়ার সময় দৃষ্টিকটূ লাগে। আশা করছি, পরবর্তী সংস্করণে এই ভুলগুলো শুধরে ফেলা হবে।

    সবশেষে ভবিষ্যতের পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলব, আপনি যদি আধুনিককালের একজন প্রকৃত মুজাহিদ সম্পর্কে জানতে চান এবং প্রকৃত জিহাদের বই পড়তে আগ্ৰহী হন, তাহলে অবশ্যই ‘লায়ন অব দ‍্য ডেজার্ট’ বইটি পছন্দ করবেন।

    ……………………………………
    1. উমর আল মুখতার: ৩২, উস্তাদ তায়্যিব আশহাব।
    2. আত তারিক ইলাল ইসলাম: ৪৬৩, মুহম্মদ আসাদ।
    3. আসসানুসিয়্যাহ দীনুন ওয়া দাওলাহ: ৩৪৬, মুহম্মদ ফুআদ শুকরি।
    ……………………………………

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    শহীদ উমর আল মুখতার। মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাসের এক স্বরণীয় নাম। তিনি ছিলেন একাধারে একজন দেশপ্রেমিক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী বিপ্লবী বীরপুরুষ। যিনি দীর্ঘ ২০ বছর পর্যন্ত ইতালির আগ্রাসী দখলের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লিবিয়া রক্ষার প্রতিরোধ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিশ্বব্যাপী তাকে সবাই ‘মরুভূমির সিংহ’ নামেই বেশি চেনেন।
    আর সেই বিশ্বব্যাপী সাড়াজাগানো ব্যক্তিত্ব ওমর আল মুখতার এর জীবনবৃত্তান্ত ও বীরত্বগাথা নিয়েই ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী রচনা করেছেন “লায়ন অব দ্য ডেজার্ট” বইটি। বইটি অনুবাদ করেছেন অভিজ্ঞ অনুবাদক আইনুল হক কাসিমী। 
    .
    ➤ মূল আলোচনাঃ-
    বইটিকে লেখক ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন। যথা-

    ° ১। প্রথম অধ্যায়:-
    এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে ওমর মুখতারের জন্ম, কর্ম, গুণাবলী, বীরত্ব ও বদান্যতা, ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ,বিরে আল গাবির যুদ্ধ, উম্মুশ শাফাতির যুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে।

    ° ২। দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ-
    এ অধ্যায়ে ওমর মুখতারের অব্যহত আক্রমন ও শান্তি আলোচনায় প্রবেশ, ইতালি সরকার কতৃক অঙ্গীকার ভঙ্গ করে মুজাহিদদের সাথে সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, ইতালি বাহিনী দ্বারা মুজা_হিদদের বিচ্ছিন্ন ও গোত্রসমূহকে সামরিক বন্দিশিবিরে আটককরণের বর্ণনা এবং ইসলামি সংবাদপত্রের অবদান ও শাকিব আরসালানের প্রতি ওমর মুখতারের প্রেরিত চিঠি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    ° ৩। তৃতীয় অধ্যায়ঃ-
    এ অধ্যায়ের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-
    ওমর মুখতারের জীবনের শেষ লগ্ন, গ্রেফতার ও ফাসি।
    কারা অভ্যন্তরে ওমর মুখতারের সম্মানজনক অবস্থান।
    ওমর মুখতারের শোকপ্রকাশে আবৃত্তিকৃত কিছু কাব্যপঙক্তি।
    ওমর মুখতারের ফাসির পর ইতালির সুযোগগ্রহণের চেষ্টা।
    লিবীয় জাতির উপর নির্যাতন ও নিপীড়ন ইত্যাদি সহ আরো বেশকিছু আলোচনা।
    .
    ➤ বইটি কেন পড়বেনঃ-
    ১। আপনি যদি কোন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে শহীদ উমর মুখতারের জীবনবৃত্তান্ত, ক্ষমতা, বীরত্ব, রণকৌশল ও  নেতৃত্বগুন সম্পর্কে জানতে চান তবে বইটি আপনার জন্যই।

    ২। বইটি লিখেছেন সময়ের সেরা ইতিহাসবিদ ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা,  গ্রহণযোগ্যতা, জটিল-কঠিন বিষয়ের সাবলীল উপস্থাপনা ও ইতিহাসের সঙ্গে সমকালীন শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ তুলে আনা ইত্যাদি দিক থেকে ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি অতুলনীয়।
    .
    ➤ ব্যক্তিগত অনুভূতিঃ-
    বইটির কভার, প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং, ও ভিতরের পাতা অনেক সুন্দর লেগেছে।  ব্যক্তিগত অনূভুতি যদি বলতে হয় তাহলে বলবো বইটি এককথায় অসাধারন। লেখক ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি ওমর মুখতারের পুরো জীবনী নির্ভরযোগ্য তত্ত্ব ও তথ্যের আলোকে সুনিপুনভাবে সাজিয়েছেন। অনুবাদ ও সম্পাদনাও খুবই চমৎকার হয়েছে। লেখা পড়তে গিয়ে একবারের জন্যও মনে হয়নি যে অনুবাদ পড়ছি। বরং যথেষ্ট সহজ ও সাবলীল, ও বোধগম্য ভাষায় রচিত রচিত বলে মনে হয়েছে। উমর মুখতারের সংগ্রাম মুখর জীবন, ইতিহাস, ও কর্মপন্থার কথাই বর্ণিত হয়েছে বই জুড়ে। যেসব পাঠকের মুসলিম সমাজের গৌরবময়  ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই তাদের জানার ক্ষেত্রে বইটি খুবই ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করি।
    তাই এ জাতীয় গ্রন্থ ইসলামী মনোভাবাপন্ন ও অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য একবার হলেও পড়া উচিৎ।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 4 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    মরুসিংহ শহীদ উমর মুখতার (রহঃ)এর জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত এ বইটি।লিবিয়ায় ইতালির খৃষ্টান বাহিনীর আগ্রাসনের প্রতিরোধ যোদ্ধা এ বীরের যুদ্ধ এবং কর্মকৌশল,সাহস এ বইয়ের মূল আলোচ্য বিষয়। বইটা পড়ে আমি অবাক হয়েছি এ সিংহের সাহস সম্পর্কে জানতে পেরে।তার সাহস কেমন একটু ঝলক দেখুন”..আমরা দুশমনের যুদ্ধবিমান,কামান,ট্যাঙ্ক,ইতালিয়ান ও আফ্রিকান সেনা এবং অন্যান্য ভাড়াটে সেনাদের মোটেও ভয় করি না।এমনকি আমরা ওই প্রাণনাশক বিস্ফোরকও ভয় করি না;যা তারা কূপ ও শস্যক্ষেত্রসমূহে রাখে।আমরা আল্লাহর সৈনিক।আর আল্লাহর সৈনিকেরাই বিজয়ী হয়।..”পৃঃ২২।কী সাহসী উচ্চারণ!তাছাড়াও যুদ্ধ ক্ষেত্রে তার ভূমিকা, দক্ষতা আমাদেরকেও অনুপ্রেরণা দেয়।তার দেশপ্রেম, আপোষহীন মনোভাব শত্রুর মুখ থেকেও স্বীকৃত। তার চরম দুশমন জালেম গ্রাজিয়ানি এ ব্যাপারে বলেছে ‘..মাতৃভূমির স্বাধীনতার প্রশ্নে উমর মুখতার সত্যিকার একজন আরব সরদারের ভূমিকা পালন করে গেছেন।.. ‘পৃঃ১১৯।এখানে আর বিস্তারিত কিছু লিখলাম না।বইটি পড়লেই জানতে পারবেন তার সম্পর্কে।অত্যন্ত চমৎকার একটি বই। সুতরাং শীঘ্রই আপনিও কিনে ফেলুন এ বইটি। এবং জানুন এ মরুসিংহের কীর্তিগাথা।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top