মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

কষ্টিপাথর

প্রকাশনী : শুদ্ধি

বুক রিভিউ
(লেখক: আরিফুল ইসলাম)

বইটিতে লেখক বিজ্ঞানকে ঘষেছেন সুন্নাতের কষ্টিপাথর দ্বারা। আরবীতে একটা প্রবাদ আছে,
كل شيء يرجع إلى أصل
“প্রত্যেক বস্তুই তার মূলের দিকে ফিরে”

বিজ্ঞানের এতো সাধনা, এতো পরিশ্রমের ফাইন্ডিংস আজ সুন্নাতের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছে। অথম মুসলমানরা সেই ১৪০০ বছর আগ থেকে এই সুন্নাত অনুসরণ করে আসছে, যা বিজ্ঞান আজ এসে প্রমাণ করলো এগুলো মানুষের জন্য কল্যাণকর। কিন্ত মুসলমানরা এরকম লাভ ক্ষতির আশায় এই সুন্নাতগুলো মেনে আসছেনা, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলো করেছেন, এগুলো করার জন্য বলেছেন' স্রেফ এটাই মেনে চলার জন্য যথেষ্ট। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করার জন্য বলেছেন তার মধ্যে অবশ্যই কল্যাণ আছে। কি কল্যাণ আছে? বিজ্ঞান আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বিজ্ঞান আনমনে বের করে এনেছে সুন্নাতের কল্যাণকর দিকগুলো।

লেখক বইটিতে বিজ্ঞানের সেইসব তথ্যগুলো দিয়েছেন যেগুলোর কল্যাণকর দিক না জেনেও মুসলমানরা তা অনুসরণ করে আসছে। জানার পর অন্তত এই বোধটা জাগ্রত হতে পারে, তাইতো আসলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ। দুনিয়াতেও কল্যাণ, আখেরাতেও কল্যাণ।

পরিমাণ

155.00  200.00 (22% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - কষ্টিপাথর

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    এই বইয়ে মূলত সুন্নাতকে কষ্টিপাথর হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিজ্ঞানকে এই পাথরে ঘষা হয়েছে। পাতায় পাতায় দেখানো হয়েছে, সুন্নাত পালনের মধ্যে ইহলৌকিক কত উপকারিতা বিদ্যমান রয়েছে। বিজ্ঞান আজ যা আবিষ্কার করছে, মুসলমানরা বিগত চৌদ্দশ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবেই তা পালন করে আসছে। সুন্নাত বিজ্ঞানের ওপর এতটাই অগ্রসর। আর এমনটা কেনই বা হবে না, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র মাধ্যমে হয়ে এর মূল উৎস তো খোদ মহান রাব্বুল আলামিন স্রষ্টা, সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের যিনি সৃষ্টিকর্তা, যার কাছে অতীত-বর্তমান বলে কোনো কথা নেই, যার ইলম সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে।

    সু্ন্নাত মানে অনুসৃত পথ। দীনের অনুসৃত পথকে সুন্নাত বলা হয়। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে কুরআন এবং সুন্নাহ রেখে বিদায় গ্রহণ করেছেন। তিঁনি বলে গেছেন, যতকাল আমরা এই দুই শক্ত হাতলকে ধরে রাখবো, ততকাল কিছুতেই পথহারা হবো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র জীবনাদর্শই হলো সুন্নাহ। এই বিচারে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব, নফল ইত্যাদি যা-কিছু আছে, সবই সুন্নাহ।
    প্রতিটি সুন্নাতের মধ্যে লুকায়িত আছে ইহলৌকিক এবং পরলৌকিক বহুবিধ উপকারিতা।

    আমরা না দেখেই আল্লাহকে বিশ্বাস করি। তাঁর পাঠানো রাসূলকে বিশ্বাস করি। রাসূলের দেয়া প্রতিটি খবরকে বিশ্বাস করি। শত শত খবরের সত্যতা আজ বিজ্ঞান আমাদের সামনে আনছে, শত শত জিনিস কাকতালীয় হতে পারে না। ৪০ বছর পর্যন্ত যে সত্তার গায়ে কোন দাগ নেই, মিথ্যা বলার রেকর্ড নেই, আল-আমিন নামে যাকে শহরের সবাই ৪০ টি বছর ডেকেছে, ‘শএু’ আবু সাফিয়ান বাইজান্টাইন সম্রাটের কাছে যাঁর নামে অপবাদ দিতে পারেনি, সব কাফিরের সামনেও তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে পারেনি; তিঁনি কোনভাবেই পরের ২৩ বছর মিথ্যা বলতে পারেন না।
    নবীজীর দেয়া সব খবর আমরা বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করি, আমরা মুমিন। এটার নামই ঈমান। আর ইন্দ্রিয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহের নাম ‘বিজ্ঞান’, অবজারভেশন।

    আমার বুঝে আসুক বা না আসুক, সুন্নাতের মধ্যেই কল্যাণ, এটাই আমাদের ঈমান। বইটি থেকে যা জানবো তা হলো ইন্দ্রিয়জাত বিজ্ঞান যা আমাদের বিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করে, অন্তরে প্রশান্তি দান করে। স্রেফ এটুকুই। স্বাস্থ্যগত ফায়দা মনে করে করে সুন্নাত মানলে, আখিরাতে বদলা নেই। নিয়তের ওপর বিচার হবে আমলের। মুমিন আমল করবে আখিরাতের জন্য, এটা ঈমানের দাবি। দুনিয়াবি কাজেও লক্ষ্য থাকবে আখিরাত। আখিরাতের লাভ মনে করে করে সুন্নাতের ওপর চলতে হবে। বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে দুনিয়ায় পাবেন স্বাস্থ্যময় ফুরফুরে জীবন।

    বইটি মূলত সুন্নাত নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে, সেই সাথে দেখানো হয়েছে এই সুন্নাত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য কতটা উপকারী। যা আজ চৌদ্দশত বছর পর বিজ্ঞান প্রমান করছে।

    📖 বইটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন – – –

    🌺 বসার আদব,

    🌺 খাওয়ার আদব,

    🌺 ঘুমানোর পদ্ধতি,

    🌺 অসুস্থ হলে করণীয় কি,

    🌺 দাড়ি রাখার ফজিলত,

    🌺 দান করার ফলাফল,

    🌺 রাগ প্রতিরোধের উপায়,

    🌺 নামাযের উপকারীতা,

    🌺 মাটির উপকারীতা সহ আরোও অসংখ্য সুন্নাত পদ্ধতি জানতে পারবেন।

    বইটি পড়ে আমি সবচেয়ে অবাক ও নতুন করে জেনেছি পানি সম্পর্কে। জি, হ্যা পানি সম্পর্কে। বইটিতে “জীবনের অপর নাম পানি” অধ্যায়টি পড়ে অজানা অনেক কিছুই আমি জানতে পেরেছি। পবিএ কুরআন তিলওয়াতে পানির ওপর যে প্রভাব নিয়ে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে, তা পড়ে সত্যিই আমি অভিভূত।

    বইটি থেকে কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করছি যেন পাঠকরা বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহী হন—

    নামায একটা দারুণ ব্যাপার। এক্সারসাইজ বলে বেয়াদবি করবো না, আর এটা এক্সারসাইজ না। এটা স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সংযোগ প্রক্রিয়া। তবে এটা সেক্যুলার ইউরোপীয় দৃষ্টিতে দেখলে একটা কমপ্লিট শারীরিক ও মানসিক এক্সারসাইজ। এখানে প্রতিটি পেশী কাজ করে। তবে শর্ত হল, নামাযের প্রতিটি অংশের পুরো সুন্নাত মুস্তাহাব সহ পড়তে হবে। আলিমদের থেকে নামায সহীহ করে নিতে হবে। নিজের অজান্তেই হাজার বছর ধরে সবগুলো পেশী সঞ্চালনের এক আশ্চর্য ব্যায়াম করে আসছে মুসলিম সম্প্রদায়।
    দেখি চলুন :

    💎 তাকবীরের সময় হাত-কাঁধের Biceps-Deltoid এবং ওপর পিঠের Trapezius-Rhomboid-Levator scapuli.
    💎 তিলওয়াতের সময় Temporalis-Masseter-মুখমন্ডলের ও গলার পেশীগুলো এমনকি Epicranius ও Platysma পর্যন্ত কাজ করে। আর সঠিকভাবে আরবি উচ্চারণের সময় Larynx ও Pharynx-এর সব পেশী।
    💎 সঠিকভাবে রুকু করলে Triceps- পায়ের পিছন দিকের সব পেশী এবং Latissimus dorsi-সহ পিঠের নিচের দিকে সব পেশী। হাঁটু ধরলে হাতের সব পেশী।
    💎 সিজদায় যাবার সময় উরু-পায়ের সামনের সব পেশী। পায়ের তালুর সব পেশী।
    💎 সিজদায় পেটের সব পেশী, Glutials-Biceps-Deltoid.
    💎 সিজদা থেকে উঠার সময় Pectoralis-সহ বুকের পেশীগুলো।
    💎 সালাম ফিরানোর সময় Sternocleidomastoid-সহ ঘাড়ের সব পেশী।
    💎 নিঃশ্বাস তো বন্ধ নাই, Intercostals-Diaphragm তো কাজ করছেই।

    সাঁতারকে আমরা বলি আদর্শ এক্সারসাইজ। কেননা এখানে সব পেশী সঞ্চালন হয়। নামায কিন্তু এক্সারসাইজ না। এক্সারসাইজ মনে করে পড়লে নামাযই হবে না। কিন্তু আশ্চর্য না বিষয়টা, ডাক্তার সাহেব? আর কতবার আশ্চর্য হলে আমরা প্র্যাক্টিসিং হব? আর কতবার আশ্চর্য হলে আমরা ফিরে আসব আমাদের দ্বীনে?

    আর মনের ব্যায়াম হল মনোযোগ। যোগব্যায়াম বুঝে আসে মুসলমানের সন্তানের, নামায বুঝে আসে না। যার মনোযোগ যত বেশি, তার মন তত প্রশান্তি খুঁজে পায়। ইয়োগা-টিয়োগার তো মূল থিওরিই এটা। নামায তো পুরোটাই মনোসংযোগ, কনসেন্ট্রেশন। সুবহানাল্লাহ।
    নিশ্চিয় এই নামাযের বিধান এমন এক সত্তার কাছ থেকে এসেছে যিনি সব বানিয়েছেন, নিজের বানানো জিনিসের সব জানেন। আমরাই কুলাঙ্গার, তিনি পবিএ। আমাদের ভালো রাখার, খুশি রাখার সব কিছু তিনি বলে দিয়েছেন। তাঁর ভালোবাসায় কোন খাদ নেই, নির্দেশনায় ভুল নেই। আমরাই অবাধ্য।

    বইটার প্রচ্ছদ, ডিজাইন, বাইন্ডিং সব কিছুই চমতকার ।

    আমার কিছু কথা :
    🍂 বইটা কেনা থেকে পড়া শেষ করা অবধি আমার বইটার প্রতি একটা আকর্ষণ কাজ করছিলো। বইটা যখন পড়তে শুরু করলাম তখন খেয়াল করলাম যে, আমি কত কিছু জানতাম না, আবার যেটুকু জানতাম তার উপকারিতা জানতাম না। বইটা পড়ছিলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম। বইটা পড়া শুরু করার পর থেকে শেষ পর্যন্ত এত কিছু জেনেছি যা আগে জানতামই না। দৈনন্দিন সুন্নাত গুলির মাঝে যে এত উপকারিতা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু রেখে দিয়েছেন বইটা না পড়লে হয়তো জানাই হতো না। বইটার প্রতিটি পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে অজস্র মহা- মূল্যবান মণি, মুক্তা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বইটা এত চমৎকার যে আমার মতে সবারই অবশ্যই পড়া উচিত। অনেক অজানা কিছু জানতে পারবেন বইটা অধ্যায়ন করে ইনশা’আল্লাহ।

    💦⏳💦 পরিশেষে,
    দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কাজের মাঝে সুন্নাত রয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ভালোবেসে আমাদের সকলের উচিত সুন্নাত গুলো মেনে চলা। এতে করে আমরা দুনিয়া ও আখিরাত দু’জাহানেই ফায়দা লাভ করবো।

    👑 পবিএ কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
    “(হে নবী) আপনি বলে দেন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুকরণ কোরো। তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ মাফ করে দেবেন। আর আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।“

    🧷 বইটার রেটিং : ৯.৫ / ১০

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    সংক্ষিপ্ত কথা:
    ____________________
    কেউ স্বীকার করুক বা নাই করুক— আমাদের জীবনে সুন্নাতের অনেক প্রভাব রয়েছে। প্রকৃত মুসলিমরা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করে যে, সুন্নাহর অনুসরণে ইহ-পারলৌকিক উভয় জীবনেই রয়েছে অফুরন্ত উপকার। ওপারে তো বটেই— এপারেও সুন্নাহর অনুসরণে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। সেসব উপকার ও কল্যাণের কিছুটা আমরা জানতে পেরেছি, বেশিরভাগই এখনও জানতে পারিনি।
    সুন্নাহর উপকারের অনেকটাই আমরা জানতে পেরেছি বিজ্ঞানের বদৌলতে। মানবজীবনের কল্যাণে এই বিজ্ঞান উদ্ঘাটন করেছে নানান ধরনের সুবিধা ও কল্যাণের পথ। অনেক কাফের বিজ্ঞানী নিজের অজান্তেই উন্মোচন করেছে সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক রূপরেখা। চৌদ্দশ বছর আগ থেকে যে সুন্নাহর অনুসরণ করে আসছে মুসলিমরা, সেগুলোই আজ বিজ্ঞানের কাছে চির সত্য, চির শাশ্বত, চির পবিত্র হয়ে ধরা দিচ্ছে।
    ইসলামবিদ্বেষী কিছু জাতে মাতালরা সুন্নাহকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে;ল অথচ বিজ্ঞানকে করে পুজো। আজ বিজ্ঞানই তাদের ঠাট্টার জবাব দেবে, সুন্নাহর পাশে দাঁড়িয়ে, হাতে হাত রেখে। উপহাসের জবাব হবে এবার বিজ্ঞান দিয়ে।
    ডা. শামসুল আরেফীন সাহেব বিজ্ঞানের আলোকে সুন্নাহর ব্যাখ্যা বিষয়ক ত্রিশটিরও বেশি লেখা দিয়ে দাঁড় করিয়েছেন তাঁর ‘কষ্টিপাথর’ বইটি। তুলে ধরেছেন সুন্নাহ মেনে চলার স্বাস্থ্যগত উপকার ও বৈজ্ঞানিক সত্যতা। প্রতিটি প্রবন্ধে যুক্ত করে দিয়েছেন বৈজ্ঞানিক রিসার্চ পেপার এবং প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট লিংক। আর কুরআন-সুন্নাহর রেফারেন্স তো অবশ্যই আছে।
    .
    লেখক পরিচিতি:
    ____________________
    দুঃখজনক ব্যাপার হল, বইটাতে লেখক পরিচিতি নেই। ফলে অনেক পাঠকই জানতে পারছেন না শামসুল আরেফীন সাহেব কে বা কী!
    লেখক শামসুল আরেফীন সাহেব একজন এমবিবিএস, বিসিএস ডাক্তার। ডাক্তারি করেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। থাকেন ঢাকায়।
    যেহেতু ডাক্তারি করেন, তাই আমরা ধরেই নিতে পারি, তিনি মেডিকেল কলেজে পড়েছেন। একসময় রাজনীতিও করেছেন। যেই সেই রাজনীতি না; পুরোদস্তুর ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন তিনি! এমন একজন মানুষ সুন্নাহর জন্য লেখালেখি করবেন, কেবল ইসলামকে তুলে ধরার জন্য দুই দুইটা বই লিখে ফেলবেন— ভাবা যায়!
    আসলে পরিবর্তনটা এসেছিল তাবলিগের মাধ্যমে। তাবলিগে সময় লাগিয়ে একসময় পাঞ্জাবি-টুপি-দাড়ি— পুরোদস্তুর আল্লাহওয়ালা। এখন কেউ তাঁকে দেখলে আলেম ছাড়া বলবে না। (যদিও আমিও এখনো তাঁকে দেখিনি।)
    তাঁর বর্তমান লেখালেখির প্রায় পুরোটাই ইসলামের জন্যে, ইসলামের কল্যাণে। প্রথম বই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ এর মাধ্যমেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন এই ডাক্তার-লেখক। হয়ে গেছেন অনেকেরই প্রিয় লেখক। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কবুল করুন।
    .
    বিস্তারিত রিভিউ:
    ____________________
    উপস্থাপনা-সূচনা থেকে নিয়ে উপসংহার পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় চুয়াল্লিশটি লেখা দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘কষ্টিপাথর’ বইটি। এছাড়া শুরুতে আছে লেখকের ভূমিকা, সম্পাদকের পর্যালোচনা এবং শরয়ি সম্পাদকের মূল্যায়ন।
    ভূমিকাতে লেখক বইটা কীভাবে লিখেছেন, কোন কোন সোর্স থেকে সাহায্য নিয়েছেন, কোন ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন— ইত্যাদি বিষয় খোলাসা করেছেন। সম্পাদক তাঁর পর্যালোচনায় বই এবং লেখকের প্রশংসা করেছেন। এরপর শরয়ি সম্পাদক তাঁর মূল্যায়নে বইটির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
    মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে ভূমিকা ধরনেরই আরো দুইটা লেখা রয়েছে। প্রথমটা ‘কেন লিখলাম’ শিরোনামে। এতে লেখক বইটা লেখার কারণ তুলে ধরেছেন; সুন্নাহর যৌক্তিকতা ও বৈজ্ঞানিকত্ব নিয়ে অনেক বই থাকা সত্ত্বেও কেন এটা লিখতে হল— তাও স্পষ্ট করেছেন। দ্বিতীয় প্রবন্ধ ‘কেন পড়বেন’ শিরোনামে। এখানেও বইটার গুরুত্ব এবং এযুগে সুন্নাহর বৈজ্ঞানিকত্ব জানার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বইটা কেন পড়া দরকার, তা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধে।
    ‘দূর্গের বাইরে পরিখা’ শিরোনামে প্রথম প্রবন্ধ দিয়ে শুরু হল মূল আলোচনা। প্রথম প্রবন্ধটিতে দাড়ি রাখার দুনিয়াবি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও অধিক তাপ থেকে যে ক্যান্সার কোষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেটাকে রুখে দেয় আমাদের নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ দাড়ি। এছাড়া বেশকিছু জরিপের ফলাফলে দেখানো হয়েছে যে, দাড়িবিশিষ্ট লোকেরাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়, কমনীয় ও পৌরুষত্বের অধিকারী।
    ইসলামে পাঁচটা বিষয়কে ফিতরাত বা স্বভাবজাত বলা হয়েছে, এগুলো আবার সুন্নাতও। তন্মধ্যে তিনটা হল যৌনকেশ মুণ্ডানো, গোঁফ ছোট করা ও বগলের চুল উপড়ানো। পরবর্তী দুই প্রবন্ধে এই তিন সুন্নাত নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে যে, এগুলো বড় রাখলে আমাদের অনেক অসুখবিসুখ হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা পেতে হলে এগুলো সবসময়ই কেটে-ছেঁটে-মুণ্ডিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
    নিম্নস্তরের কোনো কাজ ছাড়া ইসলামে ডানহাত ব্যবহার করতে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ভালো কাজে এবং নরমালি অন্যান্য কাজে। কেবল শৌচকার্য বা এধরনের নিম্ন পর্যায়ের কাজে বাঁহাত ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ডানহাত বাঁহাতেরও আবার কারিশমা আছে নাকি? যদি কেউ বাঁহাতি হয়, তবে সমস্যা কী? হ্যাঁ, অবশ্যই সমস্যা আছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছেন, বাঁহাতিদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, মনোরোগ বা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা হতে পারে। স্পষ্টতই প্রমাণ হয়ে যায়, ইসলামে ডান হাত ব্যবহারের গুরুত্ব দেওয়াটা অবশ্যই বৈজ্ঞানিক এবং এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগত অনেক উপকার। এ ব্যাপারটাকেই লেফট-রাইট প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। টয়লেটে বাঁ পায়ে ঢোকার কথা বলা হয়েছে। এর যৌক্তিকতা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে ‘বামপন্থা’ শিরোনামের প্রবন্ধে।
    আমরা জানি, নামাজের জন্য অজু লাগে। কিন্তু ঘুমানোর জন্যও অজু লাগে? এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর আগে অজু করতে বলেছেন! ব্যাপারটা অদ্ভুত না? ঘুম তো নামাজ না, তাহলে অজু লাগবে কেন? তাছাড়া ঘুমিয়ে পড়লে তো অজুই ভেঙে যায়। এমতাবস্থায় এই অজুটা অনর্থক না? ঘুমানোর আগে অজু করার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়েই পরের প্রবন্ধ And Miles to Go Before I Sleep. দুঃস্বপ্ন থেকে বাঁচার জন্য, শান্তিতে ঘুমানোর জন্য এবং এর মাধ্যমে হৃদরোগ, হার্টফেল, হার্টঅ্যাটাক, এলোমেলো হার্টবিট, প্রেশার, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক এবং মুটিয়ে যাওয়াসহ নানান রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকার জন্য উত্তম একটা প্রতিষেধক হল ঘুমানোর পূর্বে অজু। এই সুন্নাহ ইনশাআল্লাহ আপনাকে এতসব রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
    অজু করে ঘুমানোর কথা যে হাদিসে আছে, সেই হাদিসেই ডান কাতে ঘুমানোর কথাও আছে। আচ্ছা, ডান কাতে ঘুমানোর সুবিধা বা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা কী? ডান কাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েই পরের প্রবন্ধটি। কিছু ওয়েব আর্টিকেলে বাম কাতে ঘুমানোর উপকারিতা বলা হচ্ছে! তাহলে কি রাসুলের থিওরি আমাদের জন্য ক্ষতিকর? (নাউযুবিল্লাহ) ‘বপু-তনু’ প্রবন্ধে এই বিষয়টা চিত্র সহকারে প্রমাণ করা হয়েছে যে, ডান কাতে ঘুমানোই বেশি উপকারী এবং রাসুলের কথাটাই সঠিক ও আমাদের জন্য কল্যাণকর।
    প্যাকেট ভালো না থাকলে পটেটো-চানাচুর ভালো থাকবে না- এটাই স্বাভাবিক। আবার প্যাকেট ঠিক তো চানাচুর মচমচে। হ্যাঁ, আমাদের পোশাককে প্যাকেটের সাথে তুলনা করা যায়। ইসলামে ঢিলেঢালা, সাদা, ফুলহাতা, লম্বা ও দুই স্তরের পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে টাইট, রঙচঙে, হাফহাতা পোশাক নানান অসুখবিসুখের কারণ হতে পারে। সেসব বিষয় নিয়ে চিত্র ও প্রমাণ সহকারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ‘প্যাকেট’, ‘দুনিয়া ঠাণ্ডা’ ও ‘বাড়িয়ে দিন কাপড়ের দাম’ শিরোনামের প্রবন্ধগুলোতে। এসব প্রবন্ধে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আলোচনা করে প্রমাণ সহকারে সুন্নাতি পোশাকের উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।
    টুপি অবশ্য ইউরোপ-আমেরিকানরাও পরে। কেবল একশ্রেণির মুসলিমরাই টুপি পরতে দ্বিধাবোধ করে। কারণ, কী জানি বিদআত হয়ে যায় কি না! হাদিসে নাকি টুপির কথা নেই! তাই মোল্লারা যে টুপি পরে, ওটা বিদআত— এমন কথা হাদিসের অনুসারী হওয়ার দাবিদারদেরই অনেকের মুখে শোনা যায়। হাদিসে টুপির কথা আছে কি নেই, সেটা পড়ে ফেলা যাবে মাসিক আল-কাউসারের নভেম্বর ২০১৩ সংখ্যায়। ‘হেডকোয়ার্টারের জলছাদ’ প্রবন্ধে লেখক এই সুন্নাতকেই বিজ্ঞানের আলোকে প্রমাণ করেছেন, সাথে তুলে ধরেছেন এই সুন্নাতের উপকারিতা।
    ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটা সুন্নাত মিসওয়াক করা। এই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আর রকেটের যুগে যারা গাছের ডাল দিয়ে দাঁত মাজে, তাদেরকে ‘প্রাগৈতিহাসিক’ বলাটা অযৌক্তিক নয়। এই প্রবন্ধের শুরুতেই মজার একটা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, যে ঘটনায় এমন প্রাগৈতিহাসিক হওয়ার উপকারিতা ফুটে ওঠেছে। মিসওয়াকের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা আজ অনেকেই বলতে পারে। ‘প্রাগৈতিহাসিক’ প্রবন্ধে মিসওয়াকের স্বাস্থ্যগত উপকারিতার সাথে সাথে ব্রাশ ও মিসওয়াকের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেটাও করা হয়েছে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে।
    মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রধান বিষয় হল খাবার। খাবার ছাড়া কোনো প্রাণীই বাঁচতে পারে না। তবে ইসলামে খাবার গ্রহণের জন্যও রয়েছে উত্তম নির্দেশনা। আজকাল দাঁড়িয়ে খাওয়া, বাঁ হাতে খাওয়া ইত্যাদি যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আর অনেক মুসলমান যদিও দাঁড়িয়ে বা বাঁ হাতে খায় না, কিন্তু চেয়ার-টেবিলে ঠিকই খায়; আজকাল চেয়ার-টেবিল ছাড়া খুব কম ঘরই পাওয়া যাবে। ‘গবাদিকরণ’, সমতলাধিকার’ ও ‘আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে’ এই তিন প্রবন্ধে খাবার গ্রহণের কিছু আদব এবং নীতিমালা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই দাঁড়িয়ে খাওয়ার অপকারিতা এবং সমতল জায়গায় বসে একসাথে মিলেমিশে খাওয়ার উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধগুলোতে।
    দীর্ঘ তিনটা প্রবন্ধে খাওয়ার আলোচনা। কেবল খেলেই হবে? মাঝেমধ্যে না খেয়েও থাকেন! হ্যাঁ, ১৭ নম্বর প্রবন্ধ— ‘আজ চুলা বন্ধ’। অনেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতি ও সোমবারে রোজা রাখতেন। এছাড়া প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখেও রোজা রাখতেন। এরও কি স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আছে? সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বায়োলজিস্ট Valter Longo সাহেব গবেষণা করে মাঝেমধ্যে উপবাসের উপকারিতার প্রমাণ পেলেন এবং বললেন, “আমরা এই অভ্যাসটা ভুলে গেছি, আমাদের উচিত এটা আবার ফিরিয়ে আনা।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সেই অবৈজ্ঞানিক যুগে যেটা আমল করে গেছেন, সেটাকেই আজকের বিজ্ঞান পুনর্জীবিত করার কথা বলছে!
    ‘তাহনিক’ ব্যাপারটা আমরা কেবল বইয়েই পড়ি। আমাদের মুসলিম সমাজেও এটার ওপর আমল নেই। সন্তান জন্ম হলেই সর্বপ্রথম মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে— বিশ্বাস করেন, আলেমদের পরিবারে পর্যন্ত এমনটা হয়ে থাকে! অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তাহনিক করতেন। তাহনিক মানে হল মিষ্টি কিছু যেমন, খেজুর বা মধু নবজাতকের মুখে দেওয়া। বিজ্ঞান বলছে, তাহনিক করলে অপরিণত শিশুরা ব্রেন ড্যামেজ হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। সন্তান জন্মের আনন্দে আপনি মিষ্টি খাচ্ছেন, পাড়া-প্রতিবেশি সবাইকেই খাওয়াচ্ছেন; কিন্তু নবজাতক হওয়ার অপরাধে (?) কেবল তাকেই বঞ্চিত রাখছেন! “কার হগদায় খাওগো বান্দি, ঠাকুর চিনো না!” যাইহোক, তাহনিকের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে কষ্টিপাথর বইয়ের পরবর্তী প্রবন্ধ ‘কুছ মিঠা হো জায়ে’।
    মাছি খাবারে পড়লে সেটাকে আরও ডুবিয়ে দিতে হবে— এমন ‘অবৈজ্ঞানিক’ কথা পড়ার পর হাদিসের ছাত্রদেরও মাথা ঘোরে! আরে, মাছি একটা জীবাণুবাহী নোংরা প্রাণী। এটা যদি খাবারে পড়েও যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেটা তুলে ফেলাটাই তো উচিত। তা না করে হাদিসে উল্টো আরও ডুবিয়ে দেওয়ার কথা বলা হল কেন? হাদিসে অবশ্য কারণও বলা হয়েছে— মাছির এক ডানায় থাকে জীবাণু, অন্য ডানায় অ্যান্টিবায়োটিক! এই হাদিসটা নিয়েও ওপাড়া আমাদেরকে কত ট্রল করেছে, তামাশা করেছে। আমরাও করব ইনশাআল্লাহ। আজ বিজ্ঞানও আবিষ্কার করেছে যে, মাছির ডানায় অ্যান্টিবায়োটিক আছে। তাই তার এক ডানা থেকে খাবারে যে জীবাণু ছড়িয়েছে, সেটাকে ধ্বংস করার জন্যই অন্য ডানাটাও খাবারে ডুবিয়ে দেওয়া দরকার। এই বিষয়টাই ‘মাছিমারা কেরানি’ প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে।
    আজকের যুগের ইসলাম-বিদ্বেষীরা তো বটেই, ওই যুগের কাফেররাও ইসলামের কিছু বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করত! তাদের ঠাট্টার একটা বিষয় ছিল টয়লেটের আদব। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতই ‘সস্তা’ রাসুল যে, পায়খানা সংক্রান্ত নিয়মকানুনও শিক্ষা দেন— তাদের বক্তব্য অনেকটা এমনই। কিন্তু বেওকুবগুলোকে কে বোঝাবে যে, ইসলাম কেবল আচারসর্বস্ব ধর্ম নয়; এটা পূর্ণ এক জীবনবিধান। মানব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ইসলামের সুন্দর সমাধান আছে, আছে সুচারু নীতিমালা, আর সেগুলোর আছে নানাবিধ উপকার। কেউ যদি মুসলিম নাও হয়, কিন্তু জীবনযাপনে ইসলামের নীতিমালা মেনে চলে, তাহলে সে স্বাস্থ্যগত বেনিফিটটা ঠিকই পেয়ে যাবে। ‘ভোগে নয়, ত্যাগেই। তবে…’, ‘আবারও বাম’, ‘মুতাতহহিরীন’ ও ‘যাহ! সব মাটি’— এই প্রবন্ধগুলোতে টয়লেট-ইস্তেঞ্জা ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামের নীতিমালা এবং বিজ্ঞানের স্বীকারোক্তি তুলে ধরা হয়েছে। হাই কমোডে বসে মলত্যাগ করবেন, নাকি প্যানে বসে, সেটারও উত্তম সমাধান ইসলামে আছে। আর হুবহু একই বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানের। ‘আবারও বাম’! এর আগে ‘বামপন্থা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছিল, নিম্ন স্তরের কাজ বাঁ দিক থেকে শুরু করা। এখানে পায়খানা করার ব্যাপারটাও সে পর্যায়ের কাজ। তাই হাদিসে বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে পায়খানা করতে বলা হয়েছে। এর স্বাস্থ্যগত বেনিফিটটা চিত্র ও ব্যাখ্যাসহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    বিশেষত তাবলিগের একটা কাজকে অনেকেই নাক সিঁটকায়। সেটা হল ঢিলাকুলুপ নিয়ে হাঁটাহাঁটি করা। এটা অবশ্য ঠিক যে, মানুষের সামনে এভাবে হাঁটাহাঁটি করাটা অনুচিত। কিন্তু ঢিলাকুলুপ ব্যবহার করা তো সুন্নাত এবং ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব। তাই সম্পূর্ণ ব্যাপারটাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাছাড়া যারা ইস্তেঞ্জা করে ঢিলা এবং পানি উভয়টাই ব্যবহার করে, আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাঁদের প্রশংসা করেছেন। এরও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। ‘মুতাতহহিরীন’ প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
    কুকুরে কোনো পাত্রে মুখ দিলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সেটা সাতবার ধুতে হবে, তন্মধ্যে একবার মাটি দিয়ে ঘষে ধুতে হবে! বিষয়টা নিয়ে ইমামদের মধ্যেই কত ইখতিলাফ! তবে আমাদের আলোচনা হাদিস নিয়ে, সুন্নাহ নিয়ে। হাদিসে এমন নির্দেশ কেন দেওয়া হল? কারণ, মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো নিজেদের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত তৈরি করে চলেছে শক্তিশালী সব অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টিক্যান্সার। ফলে এই মাটি যে কোনো জীবাণুুর বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম। এজন্যই আজ ইউনিসেফ-সহ স্বাস্থ্য এনজিওগুলো পায়খানা করার পর সাবান, ছাই বা মাটি দিয়ে হাত ধোয়ার কথা বলছে। আর চৌদ্দশ বছর আগেই প্রস্রাব-পায়খানা ও তায়াম্মুমে মাটি ব্যবহার করে দেখিয়ে গেছেন আমাদের চিরবিজ্ঞানী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
    আধুনিক এই যুগে হাত ধোয়ার জন্যও দিবস লাগে! কারণ, আধুনিক কুকুরগুলো যে হাত ধুতে জানে না; চামচ দিয়ে খায়, হাতে কিছু লাগলে টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলে! কিন্তু মুসলিমরা চৌদ্দশ বছর ধরে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার হাত-পা-মুখ ধুয়ে আসছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কেবল হাত ধোয়ারই অনেক উপকারিতা বেরিয়ে এসেছে। আর মুসলমানরা করছে পুরোপুরি অজু। হাতও ধোয়া হচ্ছে, পা এবং মুখও ধোয়া হচ্ছে। ইসলামে কেবল নামাজের জন্যই না; ঘুমানোর আগে, রাগ হলে, সহবাসের পর এবং আরো অনেক ক্ষেত্রেই অজু করার কথা বলা হয়েছে। এতে করে পাওয়া যাবে নানাবিধ দুনিয়াবি সুবিধা। ২৪তম প্রবন্ধে এই বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে। বায়ু বের হলে অজু করার যৌক্তিকতাও প্রমাণ করা হয়েছে এই প্রবন্ধে।
    আমরা জানতাম, পানির অপর নাম জীবন। লেখক একটু ঘুরিয়ে বলছেন, ‘জীবনের অপর নাম পানি’। মানুষের শরীরের কমপক্ষে ৬০%-ই পানি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, পানি ঠিক তো শরীর ঠিক। জাপানি বিজ্ঞানী ড. মাসারু ইমোতো একজন অলটারনেটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। অলটারনেটিভ মেডিসিনকে যদিও অনেকে ‘অপচিকিৎসা’ বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান, কিন্তু তাঁর গবেষণা বর্তমানে বিজ্ঞানজগতেও স্বীকৃত, সমাদৃত। তিনি বিশাল একটা গবেষণা করেছেন পানির ওপর। আওয়াজ ও পরিবেশের কারণে পানির আকার-অবস্থা পরিবর্তন হয়— এমনটাই বেরিয়ে এসেছে তাঁর গবেষণায়। তিনি বিভিন্ন পানি থেকে ক্রিস্টাল তৈরি করা তার ছবি নিয়েছেন। সেগুলোর মধ্য থেকে বেশকিছু ছবি এই প্রবন্ধে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে, এক পানির ক্রিস্টাল অন্য পানির ক্রিস্টালের মতো নয়। পানির সামনে ইতিবাচক কথা বললে ক্রিস্টাল হয় সুন্দর, নেতিবাচক বললে হয়ে যায় কুৎসিত। সুন্দর ও নিঁখুত ক্রিস্টাল পানির স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থাকে নির্দেশ করে।
    তাঁর এক মুসলিম কলিগ তাঁকে জমজমের পানি দেয়। তিনি জমজমের পানিকে ক্রিস্টাল বানিয়ে আশ্চর্য হয়ে যান! জমজমের পানি ডাবল ক্রিস্টাল তৈরি করেছে, এ পানি অন্য পানির মতো নয়! এ পানির গুণগত বিশুদ্ধতা পৃথিবীর অন্য যে কোনো পানি থেকে অনেক অনেক বেশি। আমরা মুসলিমরা জানি, জমজমের পানি অন্য সব.পানি থেকে আলাদা। কারণ, এটার মূল উৎস আমাদের এই ভূ-ভাগে নয়। আজ বিজ্ঞানও স্বীকার করছে যে, জমজমের পানি সবচে বিশুদ্ধ, সবচে শক্তিশালী। এজন্যই তো কেবল জমজমের পানি একাধারে পানিও, আবার খাবারও!
    ড. মাসারু ইমোতো কুরআন তিলাওয়াত বাজিয়েও পানিকে ক্রিস্টাল তৈরি করেন। এতে দেখা যায়, এটা হয়েছে সবচেয়ে নিঁখুত ষড়ভুজাকারের ক্রিস্টাল। পানি নিয়ে তাঁর এমন আশ্চর্য গবেষণা তিনি বিভিন্ন বইয়ে লিখে গেছেন।
    মুসলমানরা উঠতে-বসতে শুধু দোয়া ও যিকির পড়ে কেন, সদকা করে কেন, ভালো কাজ করে কেন, কুরআন পড়ে ফুঁ দিলে রোগী কেন ভালো হয়ে যায়— এসব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যারা বুঝতে চান, তারা ‘জীবনের অপর নাম পানি’ প্রবন্ধটা পড়তে পারেন।
    আগের প্রবন্ধগুলোর সারমর্ম এবং সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর উপকারের বর্ণনা নিয়ে পরবর্তী প্রবন্ধসিরিজ ‘সুন্নাত : প্রিভেনটিভ মেডিসিন’। এখানে আছে মোট ছয়টি প্রবন্ধ। বর্তমান সময়ে কত মানুষেরই ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার-সহ ভয়াবহ রোগ হচ্ছে। এসবের জন্য অবশ্যই কিছু কারণ দায়ী। এখানে একটা চার্ট আকারে রোগগুলোর কারণগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে, ইসলাম মেনে চললে, পুরোপুরি সুন্নাহভিত্তিক জীবনযাপন করলে এসব ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
    এর আগেও খাবার গ্রহণের সুন্নাত ও আদব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে খাবারের ক্ষেত্রে সুন্নাত মেনে চললে যে ভয়াবহ রোগ থেকে বাঁচা যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে।
    এসব ভয়ঙ্কর রোগের একটা কারণ অ্যালকোহল। ইসলামে অ্যালকোহল হারাম। এসব বড় রোগ হওয়ার আরেকটা কারণ কায়িক পরিশ্রম না থাকা। মুসলিমরা আর কোনো কাজ না করলেও নামাজের মাধ্যমে এই কায়িক পরিশ্রম হয়ে যাচ্ছে। এখানে নামাজের কোন অবস্থায় কোন অঙ্গের পরিশ্রম হচ্ছে, তাও ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
    ওসব নিরাময়হীন ভয়াবহ রোগগুলো হওয়ার পেছনে একটা কারণ হল Dietary Fibre বা আঁশযুক্ত খাবার না খাওয়া। আঁশযুক্ত খাবার খেলে মলে প্রচুর পানি থাকবে, মল হবে নরম, পাইলস-অর্শ-গেজ-ভগন্দর ইত্যাদি রোগ থেকে বাঁচা যাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঁশযুক্ত যবের রুটি খেতেন। ফলে তাঁর ওসব ভয়ঙ্কর রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তাই আমরাও যদি তাঁর অনুসরণ করি, তবে ইনশাআল্লাহ আমাদেরও এমন ভয়ঙ্কর রোগ হবে না।
    ওসব ভয়াবহ রোগ হওয়ার পেছনে আরেকটা কারণ হল Type-A personality মনোভাব। এধরনের লোকেরা তাড়াহুড়ো, প্রতিযোগিতা, অধৈর্য মনোভাব, পেরেশানি, রেগে যাওয়া, দুর্ব্যবহার ইত্যাদি করে থাকে। এধরনের লোকের ওসব রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে। কিন্তু কেউ যদি পুরোপুরি ইসলাম মেনে চলে, অল্পে তুষ্টি, দুনিয়া বিমুখতা ইত্যাদি গুণ গ্রহণ করে নেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ তার ওসব রোগ হবে না।
    এই হল সুন্নাহভিত্তিক চলার উপকারিতা নিয়ে প্রধান ৩০টি আলোচনা। এরপর উপসংহার-সহ আরও আছে পাঁচটা লেখা।
    আল্লাহ রোগ দেন কেন? রোগের ফজিলত কী? রোগী অবস্থায় আপনার করণীয় কী? এ সংক্রান্ত কয়েকটা হাদিস নিয়ে পরবর্তী লেখা ‘আপনি যখন রোগী’। রোগী দেখারও সোয়াব আছে, ভালো ডাক্তারেরও সোয়াব হয়। ডাক্তার ও শুশ্রূষাকারীদের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী লেখা ‘ডাক্তার সাহেব ও রোগীর সেবাদানকারীদের জন্য’।
    আপনি যতই কুরআন-হাদিসের বৈজ্ঞানিকত্বের কথা বলুন না কেন, ইসলামবিদ্বেষীরা ‘কাকতালীয়’ বলে সব উড়িয়ে দেবে। চৌদ্দশ বছর আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলে গেছেন বা করেছেন, সেগুলো যখন আজকের বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তখনো কিছু অতি বিজ্ঞানীরা তা মানতে চায় না; কাকতালীয় বলে ইসলামের শাশ্বত চিরন্তনত্ব থেকে দূরে থাকতে চায়। লেখক বইটা প্রধানত হাদিস ও সুন্নাহর আলোকেই লিখেছেন। এখানে কুরআনের বৈজ্ঞানিকত্ব প্রমাণ করা উদ্দেশ্য না। তবে মূল আলোচনা থেকে অবসর হয়ে এবার কুরআনের চৌদ্দটা বৈজ্ঞানিক আয়াত উল্লেখ করেছেন, যেগুলো এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানের কাছে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। (আস্তে আস্তে আরও অনেক আয়াত-হাদিসের বৈজ্ঞানিকত্ব প্রমাণিত হবে ইনশাআল্লাহ।)
    ছয়টা উপশিরোনাম সহকারে কষ্টিপাথর বইয়ের বড় আকারের একটা প্রবন্ধ ‘প্রলাপ’। এই প্রবন্ধটা একমাত্র মুসলিমদের উদ্দেশ্যেই লেখা। আমরা যারা সুন্নাতের অনুসারী হওয়ার দাবিদার, যারা আশেকে রাসুল বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি, আমাদেরকে টার্গেট করেই রচিত হয়েছে এই বড় প্রবন্ধটি। এই প্রবন্ধে প্রথমে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, জায়েজ ইত্যাদি বিধিবিধানের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এরপর আমরা কীভাবে সুন্নাহ ছেড়ে দিয়ে জায়েজ খুঁজতে থাকি, কীভাবে রাসুলের অনুসরণের চেয়ে কাফেরদের অনুসরণকে প্রাধান্য দেই, আমাদের দাবি ও বাস্তবতার পার্থক্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড় সুন্নাত-ছোট সুন্নাত নিয়েও ঝগড়া! কেউ কেউ এক সুন্নাত পালন করতে পারেন না বলে অন্যটাও ছেড়ে দিতে চান! আহারে সুন্নাতের প্রতি ভালোবাসা! নিজের সাড়ে তিন হাত শরীরেই যারা সুন্নাত বাস্তবায়ন করতে পারিনি, তাদের পুরো রাষ্ট্রে সুন্নাত কায়েম করার স্বপ্নটা কি দিবাস্বপ্ন না? এই প্রবন্ধের শেষ দুইটা উপশিরোনাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটা হল ‘সুন্নাত ও বিজ্ঞানের পার্থক্য’। এতে মুসলিম জীবনে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং সুন্নাহর চিরন্তনত্বের পার্থক্যটা বেশ ভালোভাবেই বুঝানো হয়েছে। পরের উপশিরোনাম ‘সুন্নাতের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু আয়াত ও হাদিস’। আমরা কেন সুন্নাত পালন করব? সুন্নাত আমাদের জীবনে কতটুকু প্রয়োজন? এই উপশিরোনামের অধীনে এ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসগুলা তুলে ধরা হয়েছে।
    ‘বিদায়বেলা’— বইটির উপসংহার। উপসংহারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুধমা হালিমা সাদিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা যে রাসুলকে দুগ্ধপোষ্য শিশু হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ঘটনাটা বর্ণনা করা হয়েছে। নিয়ে যাওয়ার পথে কী কী অলৌকিক ব্যাপার ঘটল, হালিমার ভাগ্যের চাকা কীভাবে ঘুরে গেল, রাসুলকে গ্রহণ করলে কত বরকত— এসব আলোচনা করা হয়েছে। শেষে মুসলমানদেরকে আহবান জানানো হয়েছে, হালিমার মতো আমরাও রাসুলকে আপন জীবনে স্থান দিতে রাজি আছি কি না?
    .
    পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
    ____________________
    পাঠক! রিভিউ বেশি লম্বা হয়ে যাওয়ায় ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু কী করা, অনেক চেষ্টা করেও লেখা থামাতে পারিনি; ছেড়ে দিয়েছি আপন গতিতে। অনেকদিন পর রিভিউ লিখতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেললাম, নাকি অনেক ভালো একটা বইয়ের রিভিউ লিখতে গিয়ে আবেগে নিজেই হারিয়ে গেলাম! যাইহোক, আশা করি, রিভিউয়ের দ্বারাই আমার পাঠ-প্রতিক্রিয়া অনেকটা বুঝা গেছে। আর সমালোচনা করার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি।
    সুন্নাত ও বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই আরও দুয়েকটা আছে। তবে কেবল ডাক্তারি দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ মেনে চলার শারীরিক উপকারিতা সংক্রান্ত বই বোধহয় এটাই প্রথম। এককথায় অসাধারণ-চমৎকার একটা বই।
    একটা ব্যাপার বেশ ভালো লেগেছে— বইয়ের জায়গায় জায়গায় সতর্ক করা হয়েছে যে, আমরা সুন্নাত মানব রাসুলের ভালোবাসায়। তবে সুন্নাহর শারীরিক উপকারিতা জেনে নিলে দোষ নেই; বরং অনেক ক্ষেত্রে সুন্নাহ পালনে আগ্রহ তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ। কেবল ব্যায়াম হিসেবে নামাজ পড়লে নামাজই হবে না। কিন্তু আমরা যদি আল্লাহকে খুশি করার জন্য নামাজ পড়ি, তবে নামাজও হবে এবং শারীরিক উপকারটাও পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
    লেখকের বুঝানোর ক্ষমতাও মা শা আল্লাহ বেশ ভালো। আমরা যারা বিজ্ঞান জানি না; সুন্নাহ কিছুটা জানি এবং যারা সুন্নাহ তেমন জানি না; বিজ্ঞান কিছুটা জানি, উভয় শ্রেণির জন্যই বোধগম্য করে লিখেছেন এ বই। সেটা সম্পাদকও তাঁর ভূমিকায় বলেছেন। অনেক সময় বুঝানোর সুবিধার্থে হাস্যরসাত্মক বা চটুল শব্দ/বাক্য ব্যবহার করেছেন। অনেক সময় কিছুটা ব্যঙ্গও করেছেন। মোটকথা, সব দিক দিয়েই পারফেক্ট একটা বই।
    আমরা তো আমলে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য অনেক ফাজায়েলের কিতাব পড়ি। এ হিসেবে ‘কষ্টিপাথর’ বইটাকে ‘বৈজ্ঞানিক ফাজায়েলে আমাল’ বলা যেতে পারে। তাই সুন্নাহর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বা বৈজ্ঞানিক ফজিলত সম্পর্কে জানতে বইটি পড়তে পারেন আপনিও।
    .
    রেটিং:
    ____________________
    মূল কনসেপ্ট: ৯.৫
    কাগজ: ৯.৫
    প্রচ্ছদ: ৮.৫
    বাঁধাই: ৮.৫
    সামগ্রিক বিবেচনায়: ৯/১০.
    .
    কষ্ট করে রিভিউটা পড়ায় জাযাকুমুল্লাহ। আপনাদের নেক দোয়ায় অধমকে ভুলবেন না।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?