মেন্যু


কী পড়বেন কীভাবে পড়বেন

প্রকাশনী : হুদহুদ প্রকাশন

আমরা যারা বই পড়ি তারা পাঠপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকি না। ফলে আমাদের বইপাঠ যতোটা ফলপ্রসূ হতে পারতো তা হয় না। তাছাড়া একটা বই কেনার সময় অনেকগুলো বিষয় খেয়াল করতে হয়, বই নির্বাচনে সচেষ্ট হতে হয়, বই পাঠের সময় কিছু কাজ করতে হয়, বইয়ের যত্ন নেওয়া জানতে হয়। এসব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই বইতে।

আবার যারা বই পড়তে চাইলেও পারেন না, আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বা বিরক্তি ভাব এসে যায় তাদের জন্যও এতে আছে সুন্দর সব পরামর্শ। এতে কারণগুলো চিহ্নিত করে তারপর প্রতিকার বাতলে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে আছে যাদের পড়ার গতি খুব ধীর। তারা কীভাবে পড়ার গতি বাড়াবেন, আর কারো পড়ার গতি ধীর কাতারে পড়ে কিনা সেটা কীভাবে নির্ণয় করবেন সেসব কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে এতে।

পরিমাণ

132  240 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
জিলহজ্জ স্পেশাল গ্যাজেটস
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

4 রিভিউ এবং রেটিং - কী পড়বেন কীভাবে পড়বেন

4.0
Based on 4 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    ইসলামি বইয়ের বিপ্লবের সময়েও প্রকৃত পাঠকের সংখ্যা যৎসামান্য। চটকদার নাম আর প্রচ্ছদ দেখে পাঠকরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কিন্তু কার্যকর পাঠক বা অধ্যয়নকারীর সংখ্যা হাতেগুণা। আরবের প্রসিদ্ধ আলেমে-দ্বীন শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফিযাহুল্লাহ্ একটি চমৎকার কিতাব রচনা করেছেন—যাতে পাঠকদের জন্য পড়া-সংক্রান্ত যাবতীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেটির বাংলা অনুবাদ হলো ‘কী পড়বেন? কীভাবে পড়বেন?’
    .
    বই-পরিচিতি:
    বইয়ের শুরুতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বই সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে এবং বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। অতিমাত্রায় অনলাইননির্ভর বর্তমান প্রজন্ম বই পড়তে চায় না। লেখক তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ খুঁজেছেন এবং এই অনীহার প্রতিকার কীভাবে করতে হবে, সে সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। সঠিকভাবে বই পড়তে শুরু করার পদ্ধতি তুলে ধরেছেন তিনি। এই আলোচনাটিই বইয়ের মূল অংশ। অসাধারণ লিখেছেন এই টপিকে। এতে দ্বীনি কিতাবাদি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বের ক্রম অনুসরণ করা ও অগ্রাধিকার সেট করার প্রতি ফোকাস করেছেন। বিভিন্ন শাস্ত্রের উপর প্রাথমিক লেভেলের বইগুলো পড়তে সাজেস্ট করেছেন। এছাড়া সেল্ফ-স্টাডির মাধ্যমে নিজের ‘ইলমকে সমৃদ্ধ করার জন্য আকিদা, তাফসির, উলূমুল হাদিস, ফিকহ্, সিরাত, অভিধান, আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি বই সংগ্রহ ও ক্রয়ের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পাঠাগার তৈরি ও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুন্দর আলোচনা করেছেন।
    .
    বইটি কেন সংগ্রহ করবেন?
    ১। বইটি পড়ার মাধ্যমে অধ্যয়নের ব্যাপারে নতুন করে ভাবনার খোরাক পাবেন।
    ২। অধ্যয়নকেন্দ্রিক যত ধরনের সমস্যা আপনি ফেইস করছেন, তার প্রায় সবগুলোর সমাধান পাবেন।
    ৩। পড়ার ব্যাপারে সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাঁদের জ্ঞানসাধনা, অধ্যবসায়, তাঁদের পড়ার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনা জানতে পারবেন।
    ৪। অসংখ্য বইয়ের ভীড়ে কোন্ বইগুলো পড়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিবেন এবং কোন্ ধরনের বইয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন, সে ব্যাপারে সুন্দর পরামর্শ পাবেন।
    ৫। পড়ার ক্ষেত্রে অনীহা এবং অমনোযোগ দূর করার জন্য অনেকগুলো ফলপ্রসু উপায় খুঁজে পাবেন ইনশাআল্লাহ্।
    .
    বইটির শ্রেষ্ঠ দিক:
    শুধু সমস্যাগুলো বলেই লেখক থেমে যাননি, সমস্যার পেছনের কারণ এবং এর সমাধান তুলে ধরেছেন।
    .
    বইটির নেতিবাচক কিছু দিক:
    ১। বইটির ভেতরের অতিরিক্ত কালারিং এবং পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় ছবি বেশ বিরক্তি আনে। যেন বাচ্চাদের জন্য বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
    ২। বইটিকে টেনে টেনে বড় করার একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে, যা কাম্য নয়।
    ৩। অনেক ভুল বানান পরিলক্ষিত হয়েছে। সম্ভবত কোনো সম্পাদনা হয়নি। সর্বশেষ সংস্করণে সংশোধন এসেছে কীনা জানা নেই।
    .
    তবে, সম্মানিত অনুবাদক আবদুল্লাহ্ আল মাস‘ঊদ ভাই অনুবাদে সুপরিচিত। তিনি অনুবাদ খুব ভালো করেছেন। বেশ গুছিয়ে, পয়েন্ট আকারে বইটি সাজানো হয়েছে। কাগজের মান খুব ভালো। প্রচ্ছদও বেশ। গুরুত্বের বিচারে এমন একটি বই প্রত্যেক পাঠকের সংগ্রহে থাকা উচিত।
    7 out of 7 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    পড়া, শিক্ষিত হওয়া এবং সেই শিক্ষাকে জীবনে কাজে লাগানো, একমাত্র মানুষের স্বভাব। এই বৈশিষ্ট্য মানুষকে অন্যান্য সৃষ্টি থেকে আলাদা করে। মানুষ মাত্রই জ্ঞান অর্জন করে, তার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তার জীবন ও আশেপাশের পরিবেশকে উন্নত করবে। আল্লাহ এই উম্মতকে প্রথম ওহীতে পড়ার নির্দেশ দিয়েই পাঠিয়েছিলেন। কুরআনও কিতাব আকারে আমাদের মাঝে এখনো বিদ্যমান। আবার কুরআনকে সবচেয়ে পঠিত কিতাব বলা হয়। এখানে সমস্ত উপাকরি জ্ঞানকে সারাংশ করে রাখা হয়েছে। নবী মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সারাংশকে ব্যাখ্যা করে হাতে কলমে আমাদের শিখিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার ওয়ারিশ আলেমদের ব্যাখ্যা করার পথও দেখিয়েছেন। এই গ্রন্থখানা পড়ার সংক্রান্ত অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
    মূল লেখক শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ বর্তমান আরব বিশ্বের একজন জনপ্রিয় দাঈ আলেম। দাওয়াতের ময়দানে তিনি বেশ তৎপর। নানান বিষয়ের উপর বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। বইটা লেখকের রচিত ‘কাইফা তাকরাউ কিতাবান’ বিখ্যাত গন্থের অনুবাদ।
    বইটির অনুবাদক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ সাহেবও ইতোপূর্বে বেশ কিছু গ্রন্থ অনুবাদ করে পাঠক সমাজে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।

    শুরুতেই লেখক বই পড়ার গুরুত্ব আলোকপাত করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহ. কে বলা হলো, “হে আবু আব্দুর রহমান! কেন তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে বের হয়ে তাদের সঙ্গে বসো না?” তিনি বললেন, “আমি যখন ঘরে থাকি তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথীদের সঙ্গেই থাকি।” অর্থাৎ তাদের বই-পুস্তক পড়ি।
    এভাবে বেশ কিছু ইলম সাধকদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে পাঠকদের মনে বই পড়ার গুরুত্বকে উৎসাহিত করে। এরপর বই-পুস্তকের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত সেসব আলোচনা উঠে এসেছে।
    এরপরের অধ্যায়ে বই পাঠের লাভ তুলে ধরা হয়েছে। কেউ বইকে শিক্ষক আবার অনেকে বইকে নির্ভেজাল সঙ্গী উল্লেখ করেছেন। এরপর যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এসেছে, সেটি হলো “পড়ার প্রতি অনীহা” এর প্রতিকার। অনেকে বই কেনা পছন্দ করে কিন্তু বই পাঠে মনোযোগ আনতে পারে না। এখানে আগ্রহী হওয়ার কিছু কৌশল উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বইয়ের যত্ন নেয়া, বই সংগ্রহ ও ব্যক্তিগত পাঠাগার তৈরীর গুরুত্ব ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
    সূচীপত্রের কিছু শিরোনাম দেয়া হলোঃ
    *মুসলিম মনীষীদের কাছে বই পড়ার গুরুত্ব
    *বই-পুস্তকের বৈশিষ্ট্য
    *আমরা কেন বই পড়বো?
    *কীভাবে আমাদের অধ্যয়ন শঙ্কামুক্ত হবে?
    *বই পড়ার প্রতি অনীহার প্রতিকার
    *বই ধার দেয়ার আদবসমূহ

    বইটাতে পড়া সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা যা সাধারণ পাঠক বা যারা এখনো সুস্থ পাঠক হয়ে ওঠে নি, তাদের উভয় শ্রেণীর জন্য সবচেয়ে কার্যকারী একটি পথ নির্দেশকিা হয়ে কাজ করবে আশা করি। তবে আরবি কিতাব পাঠকদের জন্য আলাদা কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। যা আরবি কিতাব পাঠকদের পাঠকালে সহায়ক হবে। বইটার অনুবাদ বেশ সাবলীল হয়েছে। তবে বই পৃষ্ঠাসজ্জায় অতিরিক্ত ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যেটা হয়তো নিয়মিত পাঠকদের বিরক্তি আসতে পারে। বইটি পড়ে নিয়মিত পাঠকরা সুন্দর পাঠ নির্দেশনা, পুরাতনরা নতুন করে উৎসাহ ও যারা এখনো পাঠক হয়ে ওঠে নি, তারা অবশ্যই আগ্রহী হবে, ইন শা আল্লাহ।

    1 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    সুন্দর বই মাশা-আল্লাহ
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 2 out of 5

    :

    এই বইটার প্রকাশ পদ্ধতি সম্পর্কিত একটা সমস্যা হল, অযথা ছবি দিয়ে পৃষ্ঠা সংখ্যা দ্বিগুন করা হয়েছে। বইয়ে কালারফুল ছবি থাকতেই পারে। তবে সেটা কোন শ্রেনীর পাঠকের বই সেই বিবেচনা প্রকাশকের করতে হবে। এই বইতে ওনারা ৫-৬টা ছবিকে বারবার রিপিট করেছেন। যা অত্যন্ত বিরক্তিকর। এই বইটা হাতে নিয়ে পৃষ্ঠা নাড়াচাড়া করলেই মনে হবে একটা শিশুতোষ বই। যদি বইয়ের বিষয়বস্তু শিশুতোষ না।
    9 out of 10 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top