মেন্যু


খারেজি (উৎপত্তি, চিন্তাধারা ও ক্রমবিকাশ)

অনুবাদক: কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
পৃষ্ঠা ১৩৬
পেপার : অফহোয়াইট
বাধাই : হার্ডবোর্ড

আলোচ্য গ্রন্থটি মূলত লেখকের ‘আলি বিন আবি তালিব শাখসিয়্যাতুহু ও আসরুহু’ গ্রন্থের চয়িতাংশ নিয়ে রচিত। সিফফিনের যুদ্ধের পর খারেজিরা হজরত আলি, মুআবিয়া ও আমর বিন আস রা.-কে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তী দুজন হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে যেতে সক্ষম হলেও হজরত আলি রা. ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় খারেজি আক্রমণকারীর দ্বারা গুরুতর আহত হন। দুই দিন পর এই অমিত-সাহসী এবং ধর্মপ্রাণ খলিফা শাহাদত বরণ করেন। আলোচ্য ঘটনার পরম্পরায় লেখক তখনকার পরিস্থিতি ও নানাবিদ ফিতনার দৃশ্যপট অঙ্কন করতে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেন। তুলে ধরেন খারেজি ও শিয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস। খণ্ডন করেন তাদের ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস। অসার হিসেবে প্রমাণ করেন তাদের চিন্তাধারা। বিশদ বিবরণে স্পষ্ট করেন তাদের ফিতনার আদ্যোপান্ত। পরে পাঠকচাহিদার প্রেক্ষিতে বিষয়টিকে মূল জীবনী বইয়ের পাশাপাশি পৃথক দুটি গ্রন্থে প্রকাশ করা হয়। তম্মধ্যে একটির নাম ‘ফিকরুল খাওয়ারিজি ওয়াশ শিয়া ফি মিজানি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ’। অপরটির নাম ‘আল খাওয়ারিজ নাশাতুহুম ওয়া সিফাতুহুম ওয়া আকায়িদুহুম ওয়া আফকারুহুম’। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি শেষোক্ত গ্রন্থেরই অনূদিত রূপ।

পরিমাণ

126  180 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

3 রিভিউ এবং রেটিং - খারেজি (উৎপত্তি, চিন্তাধারা ও ক্রমবিকাশ)

4.7
Based on 3 reviews
5 star
66%
4 star
33%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    ইসলাম; সার্বজনীন জীবন বিধান।
    ইসলাম; পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।
    মুসলিম; পরস্পর ভাই ভাই; সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক দুর্লভ পরিচয়; যা জাতীয়তা, সামাজিকতা ও সাম্প্রদায়িকতা_এসবের উর্ধ্বে।

    ওহী, খোদা প্রদত্ত; যা যুক্তিবিদ্যা ও খেয়ালীপনা দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়, তা অবতীর্ণ হয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর; ধীরে ধীরে_তেইশ বছরে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; তিনি রহমাতুল্লিল আলামীন__জগতসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ। যার আদর্শে বিমোহিত এ ধারা। তিনি আসমানী ওহীর জন্য মনোনীত। যার সততা, বিশ্বস্ততা ও ন্যায়- ইনসাফের সাক্ষী রাব্বে কারীম-সৃষ্টিকূল, জিন ও ইনসান।
    তাঁর ন্যায়‌ ও ইনসাফের ওপর কি আপত্তি তোলা সাজে?

    এমনটিই করেছিলো, ‘জুলখুয়াইসারাহ’ নামী হীন এই লোক। যার যুক্তিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বণ্টন নীতি ছিলো অসম, হয়েছিল_বেইনসাফী।

    তাই, সে আপত্তি তুলে বলেছিলো, ‘আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আল্লাহকে ভয় করুন।’

    রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসীর মধ্যে আমি কি অধিক হকদার ন‌ই?’

    উলামায়ে কেরাম-এর মতানুযায়ী_এ ব্যক্তিই প্রথম আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর আপত্তি তুলে হক জামাত হতে বিচ্যুতির পথ বেছে নেয়। [পৃষ্ঠা: ১৯,২০,২১]

    এই বদবখতের মতো যারাই সমসাময়িক হক দলের উপর আপত্তি তুলে বেরিয়ে যায়, তাদের ‘খারেজি’ বলে।
    ‘তবে অকাট্য অর্থে ‘খারেজি’ পরিভাষা শুধু ওইসব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা তাহকিমের ঘটনার কারণে দলছুট হয়ে গিয়েছিল।’ [পৃষ্ঠা:২২]

    এই অভিশপ্তদের নিন্দায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বহু হাদিস রয়েছে_যেগুলোতে খারেজিদের হীনতার কথা স্পষ্টরূপে ফুটে উঠেছে।
    এসব হাদিসের মাধ্যমে তিনি তাদের গুণাবলী বর্ণনা করেছেন। তাদের হত্যা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। এবং হত্যাকারীদের আজর ও ছাওয়াবের কথাও বলেছেন। [পৃষ্ঠা:২৩-৩০]

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাতলানো নির্দেশমতে ভ্রান্ত দল খারেজিদের আবির্ভাব হয়েছে আলি রা.-এর যুগে।
    আবির্ভাবকাল থেকেই তারা মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠে। অনাচার-অত্যাচার ও লুণ্ঠনের কোনো সীমা বাকি রাখে না। একদিকে মুসলমানদের হত্যা করে, অপরদিকে কাফের-মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব করে।

    তারা আবদুল্লাহ ইবন খাব্বাব রা.কে নদীর তীরে গলা কেটে শহীদ করে। তাঁর স্ত্রীকে শহীদ করে দেয়; এই অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি গর্ভে থাকা ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুটিও! [পৃষ্ঠা:৪৯-৫০]

    তখনই আলি রা. এই পাপিষ্ঠদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই শুরু করেন। নাহরাওয়ানের এ যুদ্ধে ১০জনের‌ও কম খারেজি বাঁচতে সক্ষম হয়।
    এতে তাদের অনিষ্টতার বীজ একেবারে নির্মূল যায়নি, ফলে তা আবার ধীরে ধীরে আগাছায় মতো গজাতে থাকে।
    তারা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে আলি রা.কে শহীদ করে_যার আকাঙ্ক্ষা তিনি সবসময়ই করতেন। লোকজনের কাছে গর্বভরে বলে বেড়াতেন। অবশেষে তা পূর্ণ হলো। সার‌ওয়ারে দোআলমের ভবিষ্যতবাণী সত্য হলো।

    আলি রা. শেষ জীবনে অধীনস্থদের গাফিলতি ও অলসতা, খেয়ানত ও গাদ্দারিতে অতিষ্ট হয়ে অনুযোগের সুরে বলতেন,
    ‘তোমরা আমার কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হতে দাওনি। যার দরুন আজ কুরাইশরা বলছে, ”আবু তালিব পুত্র আলি বীর তো বটে, তবে রণকৌশল জানে না।” অথচ তাদের কেউই আমার থেকে অধিক রণকৌশলী নয়। তোমরা আমার মান- সম্মান কিছুই অবশিষ্ট রাখনি।’
    এভাবেই তিনি শতধা বিভক্ত মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেন। কিন্তু…?

    আজ‌ও খারেজিদের এই নিকৃষ্ট দলটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালু রেখেছে। তাদের চিন্তাধারার জাল এমনভাবে বিছিয়ে রেখেছে, যাতে আমাদের অজান্তেই আজ আমরা আটকা পড়ছি।

    বক্ষ্যমাণ এই ব‌ইটিতে দলছুট খারেজিদের উৎপত্তি ও পরিচয়, তাদের সাথে আলি রা.-এর আচরণ, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেপথ্য কারণ, যুগে যুগে তাদের কুকীর্তি; যেমন: ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি, তাকফিরের অব্যবহার-অপব্যবহার, তাদের উত্থান-পতন__তৎপরবর্তী পুনরাত্থানের বিষয়টি সুবিন্যাস্তরূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    ——————এক নজরে——————
    আলোচিত গ্রন্থটি আরবের প্রখ্যাত লেখক, ঐতিহাসিক ড. আলি মুহাম্মাদ আসসাল্লাবি লিখিত ‘আলি রা. বিন আবি তালিব: শাখসিয়্যাতুহু ও আসরুহু গ্রন্থের চয়িতাংশ নিয়ে রচিত।

    ———–গ্রন্থটি মৌলিক দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত_

    প্রথম অধ্যায়ে আটটি পরিচ্ছেদে মৌলিক আলোচনা হলো__
    •খারেজিদের উৎপত্তি ও পরিচয়।
    •তাদের নিন্দায় বর্ণিত হাদিস।
    •ইবন আব্বাস রা.-এর মুনাজারা।
    •নাহরাওয়ান অভিযান।
    •এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফেকহি মাসায়েল।
    •খারেজিদের নিদর্শনাবলি_অতীত ও বর্তমান।

    দ্বিতীয় অধ্যায়ের পাঁচটি পরিচ্ছেদের মৌলিক বিন্যাস নিম্নরূপ–

    •নাহরাওয়ান অভিযানের ফলাফল।
    •আলি রা. অধীনস্থদের জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ।
    •আলি রা.-এর শাহাদাত হতে প্রাপ্ত শিক্ষা ও তাৎপর্য।
    লেখালেখি ও প্রকাশনা শিল্পে একসময় ইসলামি ঘরাণার লোকগুলো অনেক পিছিয়ে ছিলো। দু-একটা যা-ই ছেপে আসতো, সেগুলোও ছিলো মানহীন, ভুলে ভরা। এই দুরাবস্থা দেখে তৎকালীন এক ভদ্রলোক মন্তব্য করেছিলো, ভুলমুক্ত কোনো ইসলামি ব‌ইই নাকি তার চোখে পড়েনি। ওই সময় তার এই কথা সত্য হলেও__এখন তা নয়।
    মানহীন ও ভুলে ভরা প্রকাশনাযুগের অবসান ঘটেছে। শুরু হয়েছে, ভুলমুক্ত উন্নত প্রকাশনাকাল। ইসলামি প্রকাশনিগুলো তাদের উন্নততর প্রকাশনায় নতুন নতুন বিস্ময় তৈরি করছে। আর এতে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বাড়ছে পাঠকপ্রিয়তাও।
    সবকিছুরই উত্থান-পতন আছে। ইসলামি প্রকাশনার এই উত্থানের সময় তারাই শেষ অবধি টিকে থাকবে; যারা তাদের প্রকাশগুলো হবে_সাবলিল‌ ও নির্ভুল, তাত্ত্বিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ———————পাঠ পর্যালোচনা———————-
    আলহামদুলিল্লাহ,
    আমার কাছে গ্রন্থটি তাত্ত্বিক ও তাৎপর্যপূর্ণ‌ই মনে হয়েছে।
    তবে, প্রথম দুটি অধ্যায় পাঠে সাবলীলতা খুঁজে পাইনি।
    পুরো ব‌ইয়ে শব্দচয়ন খুব সুন্দর হলেও কিছু জায়গায় ছিলো দুর্বোধ্য, অশালীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
    (যেমন: ‘হত্যাকরীর’ স্থলে লেখা হয়েছে ‘হন্তারক’, )
    আর নির্ভুলতায়ও বেশ হতাশ হতে হয়েছে।
    সাহাবাদের রা. নামের শেষে “রা.” অধিকাংশ জায়গায় লেখা হলেও বেখায়ালিবশত কোথাও কোথাও বাদ পড়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।
    পাঠসংশ্লিষ্ট ঘটনা, পরিভাষাগুলো টিকা/বন্ধনিতে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ না করার দরুন অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।
    সবশেষে প্রচ্ছদের শেষ পাতায় লিখা হয়েছে, ”Fitnar bozrodhoni by Ali Hasan Osama” নাম ও দাম_উভয়টিতেই ভুল।
    মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, তবে যে শুধরে নেয় সে উত্তম।

    নিবেদন__
    কালান্তর প্রকাশনী তাদের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি শুধরে নিয়ে বিপুল উন্নয়ন সাধনে নবজাগরণের এ পথে বিরাট ভূমিকা পালন করবে__এই আশাবাদ‌ই ব্যাক্ত করছি। 🙂

    আহমাদ আহনাফ

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম।
    সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। তার প্রশংসিত রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বর্ষিত হোক রহমত ও শান্তিধারা।

    বই রিভিউ ঃ খারেজি একটি ভ্রান্ত আকিদার দল। সৃষ্টিকুলের মধ্যে তারা নিকৃষ্ট ও অধম। খারেজি ব্যক্তির প্রকাশ ঘটেছিল রাসুল (সা) এর যুগে। কিন্তু খারেজিদের বিস্তারিত কার্যক্রম প্রকাশ পেয়েছিল হযরত আলী (রা) এর খেলাফাতকালে। ইসলামের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় – আদম(আ) এর যুগ থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর যুগ পর্যন্ত হক ও বাতিলের লড়াইয়ে হকের জয় হয়েছিল এবং বাতিল দূরীভূত হয়েছিল। রাসুল (সা) এর ওফাতের পর চার খলিফার মধ্যে হযরত উসমান (রা) এর হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ফিতনায়ে উলা বা প্রথম ফিতনা শুরু হয়। ফিতনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে আলী (রা) এর খেলাফতকালে। খারেজিরা আলী (রা)কে কাফের হিসেবে ঘোষণা করে। নাহরাওয়ান অভিযানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য খারেজিরা হযরত আলী , মুয়াবিয়া ও আমর বিন আস (রা) হত্যার পরিকল্পনা করে এবং আলী (রা)কে হত্যার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করেছিলো।

    বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি স্কলার, ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি তার গবেষণা ও সুনিপুণ লেখার মাধ্যমে খারেজিদের সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন এই বইয়ে। খারেজি কারা এ সম্পর্কে জানতে হলে এই বইয়ের দুটো অধ্যায় ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। এই বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে খারেজিদের উৎপত্তি ও পরিচয়, তাদের সম্পর্কে রাসুল (সা) এর সহিহ হাদিস, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এর সাথে খারেজিদের মুনাজারা, তাদের সাথে আলী (রা)এর আচরণ, নাহরাওয়ান অভিযান, আলী (রা) এর সাথে খারেজিদের যুদ্ধ এবং যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফেকহি মাসায়িল, খারেজিদের চিহ্নিত করতে বিশেষ নিদর্শনাবলি এবং বর্তমানে তাদের ভ্রান্তি ও বিকৃত চিন্তার কিছু নমুনা বর্ণনা করা হয়েছে।
    দ্বিতীয় অধ্যায়ে নাহরাওয়ান অভিযানের ফলাফল, আলী (রা) যুদ্ধের জন্য নিজ বাহিনীকে উদীপ্তকরণ ও মুয়াবিয়া (রা) এর সাথে সন্ধি, আলী (রা)এর শাহাদাতের তামান্নার জন্য দোয়া, শাহাদাত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা, খারেজি খুনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুলজিম কর্তৃক আলী (রা) কে হত্যা, আলী (রা) এর উপদেশসমূহ এবং খেলাফতকাল বিশেষভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বইয়ের শেষে মুসলিমদের ওপর ভ্রান্ত ও বিকৃত ফেরকার প্রভাব এবং ভ্রান্ত আকিদার হিংসুক খারেজিদের মনে মুমিনদের প্রতি বিদ্বেষমূলক চিন্তাভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রথম অধ্যায় ঃ
    সর্বপ্রথম জুলখুয়াইসারা তামিমি নামক খারেজি ব্যক্তির উদ্ভব হয়েছিল রাসুল (সা)এর যুগে। রাসুল (সা) কর্তৃক স্বর্ণ বন্টনের সময় সেই ব্যক্তি বন্টনের ক্ষেত্রে রাসুলের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেন এবং রাসুলকে বলেছিলেন, “আপনি ইনসাফ করুন “। রাসুল (সা) এই কথার প্রসঙ্গে লোকটির সম্প্রদায় সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করেন। রাসুল (সা) তাদের সম্পর্কে যে হাদিস উল্লেখ করেছিলেন তার মধ্যে কিছু ভবিষ্যতবাণী ঃ “খারেজিদের আমল এরূপ হবে যা দেখে মনে হবে অন্যান্য ব্যক্তিদের আমলসমূহ তাদের থেকে নিম্নমানের। তাদের তেলওয়াত তাদের কন্ঠনালি দিয়ে অতিক্রম করবে না। খারেজিদের মধ্যে ইসলামের নামগন্ধ ও সামান্যতম চিহ্ন থাকবে না। তীর যেমন ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়, তেমনিভাবে তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে”। রাসুল (সা) তাদেরকে আদ ও সামুদ জাতির মতো হত্যা করতে আদেশ দিয়েছিলেন। খারেজিদের চিহ্নিত করার ব্যাপারে রাসুল (সা) এক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছিলেন। সেই ব্যক্তি খারেজিদের মধ্যে ছিল। তার বৈশিষ্ট্য ছিল,” তার এক বাহুতে মহিলাদের স্তনের ন্যায় একটি অতিরিক্ত মাংসপেশি থাকবে এবং থলথল করতে থাকবে”। খারেজিদের সাথে যুদ্ধে বিজয়ের পর সেই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় খুঁজে বের করা হয়েছিলো । খারেজিদের আলী (রা) এর দলে ফেরানোর জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রা) কে তাদের সাথে মুনাজারার উদ্দেশ্য পাঠানো হয়।
    ইবনে আব্বাস(রা) ছিলেন সেই সময়ের কুরআন ও হাদিস বিষয়ের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী । তিনি কুরআনের আয়াত ও হাদিসের প্রমাণের ভিত্তিতে খারেজিদের যুক্তি -খন্ডন করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে দুই হাজার খারেজি আলী (রা) এর দলে ফিরে আসে। ইবনে আব্বাস(রা) এর মুনাজারার পরও আবার আলী (রা) খারেজিদের কাছে গিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেন। খারেজিরা আলী (রা) এর বক্তব্যে পর ফিরে এসেছিলো এই ভেবে যে, খলিফা তাদের মতাদর্শ মেনে নিয়েছে এবং তওবা করে কুফর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। খারেজিদের মতাদর্শ অনুযায়ী “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও হুকুম দেওয়ার অধিকার নেই”। অন্যদিকে আলী (রা) সালিশি ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিলো। ফলে খারেজিদের মতাদর্শ অনুযায়ী আলী (রা) কাফের হয়ে গেছে ।তাদের ধারণা অনুযায়ী আলী (রা) কে কুফরির কথা মেনে নিয়ে তওবা করে মুসলমান হতে হবে। কিন্তু আলী (রা) তাদের সম্পর্কে ন্যায়নিষ্ঠ ও প্রজ্ঞাদীপ্ত নীতির ঘোষণা দেন। তখন খারেজিরা আবার আলী (রা) এর দল থেকে সরে যান এবং তাদের মতাদর্শের উপর অটুট থাকেন। তারপর খারেজিরা নিজেদের মধ্যে আমীর নিযুক্ত করে নিজেরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে এক জায়গায় বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও হুকুম দেওয়ার অধিকার নেই ” এই অর্থের ভুল ব্যাখায় মগ্ন থাকে। তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী আলী (রা) ও তার সঙ্গীরা কাফের। খলিফা ও তার অনুসারীদের হত্যা করা ও সম্পদ খারেজিদের জন্য বৈধ। তখন আলী (রা) কর্তৃক নাহরাওয়ান অভিযান পরিচালিত হয়। এই যুদ্ধে আলী (রা) বিভিন্ন কৌশলে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন এবং খারেজিদের সাথে যুদ্ধ করেন।আলী (রা) যুদ্ধের মধ্যে রাসুল (সা) এর আচরণ প্রকাশ করেছিলেন। যুদ্ধে যারা আহত ও পলায়ন করেছিল তাদের হত্যা করতে আলী (রা) নিষেধ করেছিলেন। যুদ্ধের কোনো সম্পত্তির গ্রহণ না করে নিজ নিজ মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। কারণ এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল মূলত খারেজিদের ভ্রষ্ট চিন্তাধারা দূরীভূত করার উদ্দেশ্য।
    আলী (রা) কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধের মাধ্যমে মাসায়িল স্পষ্ট হয়ে যায় যে আহলে কিবলার বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করতে হবে এবং তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে। । খারেজিরা মূলত দ্বীনের বিষয় সম্পর্কে ছিল অজ্ঞ। তারা মূলত বুদ্ধিপূজা ও চরমপন্থী চিন্তাধারার মাধ্যমে ইসলামের মূলনীতি ও প্রকৃত আকিদার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তারা যেসব ভ্রান্ত চিন্তা ভাবনা লালন করত তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল -ঃ সালিশি -ব্যবস্থাকে কুফরির মতো গুনাহ মনে করা,কবীরা গুনাহগারকে কাফের মনে করা,গুনাহগার মুসলমানদের সম্পদ ও রক্ত বৈধ মনে করা,রাসুল (সা)কে জালিম আখ্যায়িত করা ইত্যাদি। খারেজিরা নিজেদের সহিহ আকিদার বিশ্বাসী মনে করত, অন্যদিকে মুসলিম নেতৃবৃন্ধ, আলেমদের ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট মনে করত। বর্তমান সময়ের খারেজিদের চিন্তাভাবনা আরও বিকৃত।তাদের বিকৃত চিন্তা-ভাবনার কারণ শিক্ষক ছাড়া ইলম শেখা, আলেমগণের ভাষ্য ও বক্তৃতা উল্টো অর্থ বোঝা, আত্নম্ভরিতা ও হিংসা- বিদ্বেষ। তারা মূলত দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন না করেই দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করে থাকে এবং দম্ভের সাথে নিজেকে আত্মপ্রচার করে।

    দ্বিতীয় অধ্যায় ঃ
    হযরত আলী (রা) নাহরাওয়ানে খারেজিদের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করার পর সিদ্ধান্ত নেন যে সিরিয়া তার দখলে নিবেন এবং উম্মতের ঐক্য ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু আলী (রা) এর সামরিক বাহিনী বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধকে ঘৃণা করতে থাকে। আবার খারেজিদের সাথে শিয়া নামক সম্প্রদায়ের একটি ফেরকার আর্বিভাব ঘটে। এই ফিতনা আলী (রা) দূরীভূত করেন। অন্যদিকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে আলী (রা)এর বাহিনী থেকে লোকজন সরে যেতে থাকে, ফলে সামরিক বাহিনী আরও দুর্বল হতে থাকে। এই পরিস্থিতির ফায়দা নিয়ে অন্যান্যা শহরের শাসকরা আলী (রা) এর বিরোধিতা করতে থাকে এবং খারাজ দিতে অস্বীকার করে। অন্যদিকে মুয়াবিয়া (রা) খেলাফতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দেখে বিভিন্ন এলাকা নিজের শাসনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। রাষ্ট্রে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও লোকজনের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য আলী (রা) অধৈর্য না হয়ে পরিপূর্ণ বিচক্ষণতা, যথাযথ প্রমাণ ও সাহিত্যপূর্ণ বক্তব্যে প্রদান করেন। কিন্তু খলিফার হৃদয়দীপ্ত ভাষণের পরও লোকজন তার বাহিনীতে ফিরে আসেনি। আলী (রা) নিরাশ হয়ে মুয়াবিয়া (রা) এর সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হোন এই শর্তে যে খলিফা আলী (রা) ইরাক শাসন করবে, অন্যদিকে মুয়াবিয়া (রা) সিরিয়া শাসন করবে। তাদের মধ্যে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হবে না। আলী (রা) রাষ্ট্রের লোকজনদের বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নিতে পারেননি তাই আল্লাহর কাছে মৃত্যুর জন্য দোয়া করতে থাকেন । গোপনে খারেজিরা গভীর চক্রান্ত করতেছিল এবং
    আব্দুল্লাহ ইবনে মুলজিম ও তার সহযোগীর সাহায্যে আলী (রা) কে হত্যার উদ্দেশ্য আঘাত করে । ৪০হিজরির ১৭ই রমযানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য মাথায় আঘাত করা হলে, ২১ই রমযান আলী (রা) মৃত্যুবরণ করেন।রাসুল (সা) আলী (রা) কে শাহাদাতের সু-সংবাদ দিয়েছিলেন।সেই ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী আলী (রা) খারেজিদের হাতে শহীদ হোন । মৃত্যুর আগে আলী (রা) তার ছেলেদের বিভিন্ন উপদেশমূলক কথা বলেন।তিনি তার আঘাতকারীকে
    তার মৃত্যুর পর হত্যা করতে আদেশ দেন। “আলী (রা) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল স্বভাবের মানুষ। তার খেলাফতকাল ছিল ৪ বছর ৯মাস ৩দিন। ”
    খারেজিরা ইসলামি রাজ্যসমূহে ও মুসলিম সমাজে ভ্রান্ত আকিদার মাধ্যমে সকল মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করেছিলো । তারা আলী (রা) এর যুগেও মুসলিমদের আকিদা ও বিশ্বাস নিয়েও সন্দেহ ও সংশয় পোষণ করেছিল এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে হত্যা ও লুন্ঠন চালিয়েছিল। “এটা মূলত ছিল তাদের মনগড়া মতবাদ ও শয়তানের আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ”। তাই খারেজি নামক সম্প্রদায় থেকে মুসলিম জাতির সতর্ক থাকা আবশ্যক এবং তাদের ভ্রান্ত চিন্তাধারা ও অসার মতাদর্শ খন্ডনে ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামের দাঈয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা আবশ্যক। এর মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা বিশ্বাস সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা হবে ও বেদআত নির্মূল হয়ে মুসলিম সমাজের সভ্যতা ও সমৃদ্ধি আসবে।

    লেখক পরিচিত ঃ

    ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি একজন বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি স্কলার, সুবিজ্ঞ পন্ডিত। তিনি অনেক গবেষণা, নির্মোহ বিশ্লেষণ, সাবলীল ভাষ্যধারায় সীরাতে নববী ও খুলাফায়ে রাশিদিনের জীবনচরিত রচনা করেছেন। তিনি একজন ঐতিহাসিক হিসেবে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। তার রচনার মধ্যে ” খারেজি ঃ উৎপত্তি, চিন্তাধারা ও ক্রমবিকাশ ” বইটি উল্লেখযোগ্য।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    পোস্ট : ০১
    📖 বই : খারেজি : উৎপত্তি, চিন্তাধারা ও ক্রমবিকাশ
    🖊 মূল : ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
    📁 অনুবাদ : কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
    ⏹️ প্রকাশনা : কালান্তর প্রকাশনী

    বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।
    খারেজি। এই সময়ের বহুল চর্চিত একটি পরিভাষা। উপাধিও বলা যায়। পান থেকে চুন খসলেই মিলে যায় খারেজি ট্যাগ। আসলে কি এই খারেজি? কারা খারেজি? কেন খারেজি? এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে পড়তে হবে ড. আলী সাল্লাবি রচিত
    খারেজি : উৎপত্তি, চিন্তাধারা ও ক্রমবিকাশ।
    আলোচ্য গ্রন্থে লেখক অত্যন্ত চমকপ্রদ করে ইতিহাসের অন্যতম অভিশপ্ত এই দলের তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেছেন।

    বইটা ২টো অধ্যায়তে বিভক্ত।

    প্রথম অধ্যায়তে লেখক দেখিয়েছেন খারেজিদের উৎপত্তি, আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমের সাথে খারেজিদের আচরণ, তাদের আচার-আচরণ, তাদের নিজস্ব আক্বিদা কি,ইত্যাদি।

    দ্বিতীয় অধ্যায়তে লেখক দেখিয়েছেন
    আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম, হযরত মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম এবং হযরত আমর বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমের উপরে খারেজিরা কেন এবং কিভাবে হামলা করেছিল, আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমের জীবনের শেষদিন গুলো,উনার খেলাফতকাল,উনার শাহাদাত থেকে আমাদের জন্য কি কি শিক্ষা রয়েছে, ইত্যাদি।
    এই বইয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো বইটার প্রতিটি পাতায় রয়েছে অসংখ্য শিক্ষনীয় এবং চিন্তা-জাগানিয়া বিশ্লেষনী খোরাক। বইয়ের উপদেশনামা গুলো অত্যন্ত ভালো লেগেছে। বইয়ের বানান ভুলও চোখে পড়েনি।

    ইতিহাসের এই নির্মম কালো অধ্যায়কে নির্মোহভাবে তুলে এনেছেন ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি। আর সাবলীল ভাবে অনুবাদ করার জন্য শ্রদ্ধেয় কাজি আবুল কালাম সিদ্দীকের জুড়ি মেলা ভার। একজন পাঠক হিসেবে এটুকুই বলবো “খারেজি” নামক ইসলামের ইতিহাসের একটি বাতিল সম্প্রদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে অনন্য সাধারণ এই বইটি অবশ্যই একবার পড়তে হবে।

    #TheMSYR

    1 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top