মেন্যু


জীবনের ওপারে

অনুবাদক: মুফতি তারেকুজ্জামান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৮
ধরণ: হার্ড বাইন্ডিং

জীবনের স্রোতে ভাসতে ভাসতে আমরা ভুলে যাই মরণের কথা । কবর পথের যাত্রী হয়েও আমাদের যাবতীয় চিন্তা ও কর্ম আবর্তিত হয় এই তুচ্ছ দুনিয়াকে ঘিরে । সর্বাঙ্গে গাফিলতির চাদর জড়িয়ে আমরা জীবনের প্রকৃত বাস্তবতার ব্যাপারে কেমন যেন নির্বিকার হয়ে থাকি । আল্লাহ না করুন, এই অপ্রস্তুত অবস্থায়ই যদি চলে আসে মৃত্যুর ডাক—কী করুণ পরিণতিই না হবে আমাদের !

প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমাম ইশবিলি রহ. রচিত বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য এক অমূল্য উপহার । শাইখ এখানে পরম মমতায় পাঠককে মৃত্যু ও মৃত্যুপরবর্তী জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন । তাঁর অনুপম ভাষাভঙ্গী ও সাবলিল উপস্থাপনা যে কারও হৃদয় ছুঁয়ে যাবে । বইটি পড়তে পড়তে মনের অজান্তেই পাঠকের হৃদয়ে জেগে উঠবে মৃত্যুর হিমশীতল অন্ধকারের কথা, কবরের অসীম নির্জনতার কথা, কিয়ামত ও হাশরের ভয়াবহ দৃশ্যগুলোর কথা, মিজান ও পুলসিরাতের অকল্পনীয় আশঙ্কার কথা—যা তাকে আখিরাতের প্রতি মনোযোগী করে তুলবে আর মৃত্যুর প্রতি তার গতানুগতিক বিশ্বাসকে করে তুলবে সত্যিকারের কর্মোদ্দীপক উপলব্ধি।

পরিমাণ

374  534 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

7 রিভিউ এবং রেটিং - জীবনের ওপারে

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_সেপ্টেম্বর_২০২০

    মৃত্যু–এক অমোঘ সত্য। জীবনের স্বাদ -বিস্বাদকারী এই সত্য সম্পর্কে আজ আমরা অধিকাংশই গাফেল। মৃত্যু যে প্রতিনিয়ত আমাদের দরজাই কড়া নাড়ছে, আমাদেরকে সতর্ক করছে তা যেন আমরা দেখেও দেখছি না। মৃত্যুর পরের জীবনটা যে চিরস্থায়ী জীবন, আমাদের জন্য যে এক মহাদিবস অপেক্ষা করছে, জান্নাত-জাহান্নাম নামের দুটি বাসস্থান যে আমাদের ফিরে আসার অপেক্ষার প্রহর গুনছে তা জেনেও আমরা উপলব্ধি করছি না। সর্বাঙ্গেই গাফিলতির চাদর জড়িয়ে আছি। সর্বাঙ্গে গাফিলতির চাদর জড়িয়ে আমরা যে গভীর ঘুমে নিমগ্ন তা থেকে আমাদের কে জাগিয়ে তুলতে, সিরাত্বল মুস্তাকীমের পথে হাটতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে “জীবনের ওপারে” বইটি।

    মৃত্যুর পরের জীবন থেকে কিয়ামত, কিয়ামত দিবসের ভয়াবুহতা, হিসাব দিবস ইত্যাদি সম্পর্কে সবিস্তার বর্ণনা করা হয়েছে এই বইটিতে। বইটির ভাষাভঙ্গী, সাবলিল উপস্থাপনা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বইটি পড়া উচিত কারণ, বইটি আমাদেরকে আমাদের গন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। আমাদের জন্য রিমাইন্ডার হিসেবে কাজ করবে।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    #বইটি_কেন_পড়বেন
    উত্তম মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং পরকাল সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখতে৷ আমাদের পরকালের ধারণা থাকলেও তা খন্ড খন্ড এবং অস্পষ্ট, ত্রুটিযুক্ত, ঝাপসা। লেখক এখানে একত্র ও পরিপূর্ণ করেছেন।

    #পাঠ_অনূভুতি
    অনূভুতি কেমন হবে আপনিই বলুন? যখন জানবেন এই বইটি লেখা হয়েছে এখন থেকে প্রায় ৯০০ বছর পূর্বে। লেখকের জন্ম যে স্থানে সেখানে একদিন ইসলাম ছিলো, আজ বিলুপ্তপ্রায়। স্পেন…. পশ্চিমে ইসলামের সর্বোচ্চ বিস্তার যে পর্যন্ত। আর আমি কিনা পাঠক যার জন্ম বাংলাদেশে….পূর্বে ইসলামের সর্বোচ্চ বিস্তার বলা যেতে পারে (ভূমিভিত্তিক)। বই পড়তে গিয়ে সদকায়ে জারিয়াকে কার্যকরীভাবে উপলব্ধি হয়েছে। বাংলাভাষাতে অনুবাদ দুএকমাস আগে।
    জীবনের ওপারে বইয়ের লেখক আজ নিজেই জীবনের ওপারে।

    #আলোচ্য_বিষয়
    নাম শুনলেই বুঝা যায় কি নিয়ে আলোচনা। হ্যা ঠিক ধরেছেন তবে এই জীবনের ওপারের (রুহ দেহ থেকে বের হবার পর) আলোচনা রয়েছে বইয়ের শেষ অর্ধাংশে। এক্ষেত্রে লেখক আলোচনাকে কবর কিয়ামত পুলসিরাত জান্নাত ইত্যাদি ভাগে ভাগ করে সেগুলোকে আরো ছোট ছোট ঘটনাতে ভাগ করেছেন। তারপর সেগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে তিনি –
    *প্রথমে সহিহ আলোচনা করেছেন, যেন আপনি জীবিত অবস্থাতেই সেখানে উপস্থিত। তারপর
    *পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু নসিয়ত করেছেন৷
    প্রথম অর্ধাংশে তাহলে কি ছিলো? এটাকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগে –
    *মৃত্যুর স্মরণের দিক দিয়ে মানুষকে ছয়ভাগে ভাগ করেছে ও তাদের আলোচনা করেছেন।
    *বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন মৃত্যু সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ যা মৃত্যু নিয়ে ফিকিরে উৎসাহ দেবে,
    সালাফে সালেহীনের মৃত্যুর স্মরণ ও বিভিন্ন কথা,
    বিভিন্ন বদকার লোকের কথা যা মৃত্যুর সময় তাদের মুখ থেকে বের হয়েছিলো।
    *’দীর্ঘ আশা’ – এই নিয়ে ৮০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ আলোচনা যেখানে স্থান পেয়েছে কুরআন, হাদিস,   সাহাবা-তাবেঈ-আলেমদের বিভিন্ন কথা, নসিয়ত, ঘটনা।
    দ্বিতীয় ভাগের আলোচনাতে এসেছে মৃত্যুর সময় ও মৃত্যুর পরে জীবিত ব্যক্তিদের করনীয়সমূহ নিয়ে সহিহ আলোচনা৷ এখানে আছে ১১ টি অধ্যায়। 

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    :

    ‘‘আকাশে ঝমঝম ঝমঝম..
    খুব ভোরে আঙিনায় হাঁটু পানি
    চোখ খরার জমি সব পানি নামিয়ে নিয়েছে;
    আমার পানিতে আমি ডুবি আর ভাসি
    খুব ভোরে সূর্য ওঠে নি—হৃদয়ে উঠেছিল ঘুর্ণিঝড়
    আমার কবর হবে কোথায় জিজ্ঞেস করেছিল’’

    সাধের পৃথিবীর জন্য আমাদের কতইনা আয়োজন। সব আয়োজনে পানি ঢেলে দেয় বেরসিক মৃত্যু। অন্তিম এ যাত্রা অবশ্যম্ভাবী কিন্তু তবুও মন বুনে চলে নশ্বর পৃথিবীর কবিতা। ভুলে যায় পরকালের যাত্রার টিকিট যে সবার জন্য জন্মের সাথে সাথেই কাটা হয়ে গিয়েছে।

    পার্থিব সমস্যা, বিপদ সংকুল পথ সবকিছুই তুচ্ছ মনে হত যদি অধরা মৃত্যুটাকে অন্তরে গেঁথে দেয়া যেত। মৃত্যুর চেয়ে বড় নসীহাহ আর কিই বা হতে পারে। আলোচ্য বই জীবনের ওপারে আলোচনা করে এ বিষয়টা নিয়ে। ক্যারিয়ারের চিন্তায় বিভোর যুবক কিংবা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যাবস্থার যাঁতাকলে নিষ্পেষিত সমাজ সবার জন্য যদিও মৃত্যু ঠায় দাঁড়িয়ে তবুও কেন যেন আমরা তা একেবারেই আমলে নেই না। মৃত্যুকে যে জীবনের প্রেষণা হিসেবে লালন করতে পারে সে পার্থিব ও পরকাল, দুই জীবনেই সফলতার ছোঁয়া পায়।
    তাই তো মহানবী (সাঃ) প্রতিদিন ৭০ বার স্মরণ করতেন মৃত্যুকে। বাহ্যিক সোনালি রুপে রাঙা সমাজটা সুখময় মনে হলেও আদতে তা পুরোটাই ফাঁপা। আল্লাহর ইবাদাত আর মৃত্যুর স্মরণ আমাদের ইয়াদ করিয়ে দেয় পরকালের অনিবার্য সত্যের কথা। এভাবেই কেবল সেই ফাঁপা স্থান পূরণ করা সম্ভব। তাই মরণের চিন্তা হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত হয়ে থাকলেই কেবল দুই জীবনেই শান্তি লাভ করা সম্ভবপর হবে।

    থোকায় থোকায় জোনাক পোকা

    আমাবস্যার নিকষ কালো আঁধারে সহস্র আলোকবর্ষ দূরের তারকার মত উজ্জ্বল আলোকচ্ছ্বটা বিচ্ছুরণ করে জোনাকির দল। ‘জীবনের ওপারে’ গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ও পানসে জীবনের আসল লক্ষ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে নিমিষেই। আমরা জানি ক্রমবর্ধমান বয়সের ঢেউয়ের সাথে পরাজিত হয়ে একদিন সবাইকে পাড়ি জমাতে হবে সাড়ে তিন হাত মৃত্তিকা গৃহে। তবুও আমরা বেখবর।
    আলোচ্য বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এমনভাবে ঢেলে সাজানো যেন তা বর্ষাস্নাত বৃক্ষের ডালে থোকায় থোকায় জোনাক পোকার সাথে সাদৃশ্যতা দেখায়। তীর হারিয়ে গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যেতে নিলে সজোরে ধাক্কা দিইয়ে হুঁশ ফিরিয়ে দেয় বইয়ের প্রতিটি লাইন।
    ৪০৪ পৃষ্ঠার এ সুদীর্ঘ বইটি বাইশটি অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত। ‘জীবনের ওপারে মৃত্যু-কবর-হাশর-জান্নাত-জাহান্নাম’। বইয়ের দীর্ঘ শিরোনাম নিজেই নিজের ভেতরকার বিষয়াদি সম্পর্কে নিশ্ছিদ্র তাবেদারি করে।
    সমকালীন ইসলামি জ্ঞানের তীর্থস্থান আন্দালুস জন্ম নেয়া প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল ইশবিলে রহ. রচিত এ বই বর্ণনা করে মৃত্যু ও তৎপরবর্তী জীবন সম্পর্কে। প্রায় শত পৃষ্ঠাব্যাপী ভূমিকার পর প্রতিটি অধ্যায় এত নিগূঢ় আলোচনায় সজ্জিত যেন মহাকাব্যের চেয়ে কোন অংশে কম যায় না। মন চায় পুরো বই হৃদয়ের সাথে সেঁটে নেই। কয়েকটি অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করলে ধারণা পাওয়াটা সহজসাধ্য হবে।
    শুরুতেই সালফে সালেহীন এবং লেখকের নিজের সময়ের কিছু মৃত্যুর দৃশ্য উঠে এসেছে ‘কতিপয় মৃত্যুর দৃশ্য’ অধ্যায়ে।
    মৃত্যুর সময় করণীয়, জানাজার ফজিলত, মৃতের প্রতি আচরণ, মুমূর্ষু মানুষের পাশে করণীয় ইত্যাদি গুরুত্ত্বপূর্ণ আলোচনা এসেছে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ অধ্যায়ে। দাফন-কাফন, আজাব, রূহ, হাশর, হাওজে কাওসার, সুপারিশ, সুওয়াল জবাব, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় আলোচিত হয়েছে অন্যান্য অধ্যায়ে এক বা একাধিক উপশিরোনামে। অষ্টাদশ অধ্যায়ে দীর্ঘ ও গুরুত্ত্বপূর্ণ আলোচনা এসেছে সুওয়াল জবাব, আমলনামা, পুলসিরাত ইত্যাদি নিয়ে।

    খুব ডুব

    ডুবুরিরা সাগরের তলদেশ হতে যেভাবে মুক্তা আহরণ করে সেভাবে বই থেকে কিছু আলাপ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
    বইটির সবচেয় আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, অপ্রাসংগিক খেজুরে আলাপ পরিহার করে টপিকের সাথে মিলিয়ে সাহাবী, সালফে সালেহীন ও লেখকের সময়ের হাজারো ঘটনাবলী তুলে আনা হয়েছে বইতে। বই পাঠের সময় তাই পাঠকের সামনে সহজেই বিষয়গুলো দৃশ্যমান হয়। এত ঘটনাবহুল বই খুব একটা দেখা যায় না।

    মৃত্যু যন্ত্রণার অধ্যায়ে ইবরাহিম আ. এর একটা ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে,

    ইবরাহিম (আ) যখন মৃত্যুবরণ করলেন, আল্লাহ তা’লা জিজ্ঞেস করলেন, মৃত্যুকে তোমার কেমন মনে হলো? তিনি বললেন, ‘যেন একটি লোহার শিকিকে আগুনে লাল করা হলো, তারপর ভেজা পশমে ঢুকানো হলো, তারপর টেনে বের করা হলো।’ আল্লাহ তা’লা বললেন, ‘ আমি তোমার জন্য মৃত্যুকে সহজ করেছি হে ইবরাহিম।’

    এরকম ঘটনাবলী যখন পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হয় তখন মৃত্যুর স্মরণ মনে গেঁথে যায় আর পরবর্তীতে সহজে তা নজরান্দাজ করা যায় না।
    জানাজার অধ্যায়ে এসে সালফে সালেহীনদের আদর্শ মনে করিয়ে দেয়ে হয় এভাবে,

    আমাশ রাহি. বলেন, যখন আমি জানাজায় উপস্থিত হতাম তখন ক্রন্দনরত লোকের আধিক্যের কারণে বুঝতে পারতাম না কাকে রেখে কাকে সান্ত্বনা দেব।

    এভাবে মুহূর্তে মুহূর্তে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় সালাফদের আদর্শ। জানাজা, মুমূর্ষু রোগীর শিয়রে তারা কেমন আচরণ করেছিলেন তা জানানো হয়েছে ঘটনাপ্রবাহের আদলে। মৃত্যুর প্রতি সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি, মাইয়িতের প্রতি তাদের আচরণ সবকিছুই আলোচনা করা হয়েছে বইয়ের পরতে পরতে। এভাবে যখন মৃত্যু ও পরবর্তী জীবনের আলোচনা আমাদের জন্য উপস্থাপন করা হয় তখন বলাই বাহুল্য যে তা উপকারী ইলম হিসেবেই ধরা দেয়।

    যা কিছু মনোহর:

    সব বইয়ের ক্ষেত্রেই কিছু ভাল লাগা কাজ করে। জীবনের ওপারে বইয়ের ভালো লাগাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
    অসাধারণ প্রচ্ছদের সাথে বইয়ের বাধাইয়ের মান একশতে একশ। পাতার কোয়ালিটি এবং বানান ভুল কোনোটা নিয়েই অভিযোগ নেই। ইতিহাসবিখ্যাত ফকিহ এর রচনাটা বাংলায় বেশ দক্ষ হাতেই উপস্থাপন করেছেন মুফতি তারেকুজ্জামান।
    সাহাবী ও সালফে সালেহীনরা আমাদের আদর্শ। মূলত প্রতিটা অধ্যায় আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের ঘটনাগুলোকেই আনা হয়েছে। মৃত্যু নিয়ে সালাফদের যে চিন্তাধারা তা যখন এভাবে আমাদের সামনে ঢেলে সাজানো হয়েছে, তা দ্বারা উপকৃত না হতে পারাটাই বরং বোকামির পরিচায়ক। গুরুত্ত্বপূর্ণ অংশগুলোতে রেফারেন্স দেয়ায় কোন অবাঞ্চছিত তথ্যের সন্নিবেশ হয় নি বলেই মনে হয়। বইয়ে আলোচিত প্রতিটি বিষয় আমাদের বাস্তবে জানা অতীব জরুরি। তাই এরকম একটা বই যা মৃত্যু, কবর, হাশর, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে তা সকলেরই পড়া জরুরি। লেখকের ভাষায়ই বলতে চাই,
    ‘তুমি দুনিয়ার ঘরসমূহ আবাদ করেছ, কিন্তু আখিরাতের ঘর বিরান করে দিয়েছ। আর এহন্যই ত দুনিয়ার নির্মিত ঘর ছেড়ে আখিরাতের বিরান ঘরে ফিরতে চাইছ না। ‘
    এরকম সতর্কবার্তায় ভরপুর এ বই। যা আমাদের চিন্তের জগৎকে প্রভাবিত করে, অধরা মৃত্যু নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। জীবনটাকে আল্লাহর শানে জান্নাত লাভের আশায় ঢেলে সাজাতে ইচ্ছা করে তখন। ফাঁপা চাকচিক্যের জীবন ফেলে বাহ্যিকভাবে হাস্যকর কিন্তু চূড়ান্ত সফলতার জীবন হয় আমাদের নিজেদের জীবন।

    যাদের তরে মহাযজ্ঞ:

    প্রতিটি বইয়ের সুনির্দিষ্ট পাঠকদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়। এ বিষয়ে নতুন করে বলার দরকার পড়ে না যে মৃত্যু ও পরবর্তী জীবন নিয়ে রচিত বই জীবনের ওপারে নির্বিচারে সকলেরই পড়া উচিত। এমন কোন ফিকহি আলোচনার বই এটা নয় যে বোঝার জন্য পূর্বশর্ত অনুযায়ী কিছু জানার প্রয়োজন রয়েছে। সহজবোধ্য বইটি সাদামাটা কিন্তু প্রভাবিত করে এমনভাবেই রচিত হয়েছে। আর বইয়ের টপিক যেহেতু মৃত্যু নিয়ে তাই ছেলে বুড়ো সকলেরই অবশ্যপাঠ্য এ বই। এখনই যদি এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকে তাহলে স্রোতে গা ভাসিয়ে পাপ পঙ্কিলতায় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। বাংলা পড়তে পারে এমন যে কেউ এ বই দ্বারা উপকৃত হতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

    খুঁটিনাটি আলাপসালাপ:

    পরকাল ও মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক আলোচানা করায় বইতে অগণিত কাহিনী ও ঘটনা চলে এসেছে। যদিও বেশিরভাগ ঘটনার সোর্স ফুটনোটে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষত্রে তা করা হয় নি। তাই কিছুটা অস্বস্তি লেগেছে সে জায়গাগুল পড়ার সময়। যেহেতু বইয়ে হাজারো কাহিনী চলে এসেছে তাই সবগুলোর উৎস উল্লেখ করা কষ্টসাধ্য বটে।

    হতাশা আর ডিপ্রেশান যেন আজ আমাদের ফ্যাশানের বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুব সমাজের ধ্বংসের এই কারিগর মাথা চাড়া দিইয়ে ওঠার মূল কারণ হল সকলেই নিজেদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে বেখবর। জীবনের আসল লক্ষ্য যে পার্থিব সুখশান্তি লাভা না, আখিরাত জান্নাত লাভ, তা যেন মুসলমানেরা ভুলতে বসেছে। জীবনের ওপারে বইটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সে সম্পর্কে।

    পৃথিবী ঘিরে আমাদের সোনালি স্বপ্নকে সমূলে উৎপাটন করে সেটাকে আখিরাত কেন্দিক বানাতে সাহায্য করবে এ বই। তাহলে দেরি কীসের, সংগ্রহ করে ঝাঁপিয়ে পড়ুন অসাধারণ নসীহাহসমৃদ্ধ এ বইয়ের উপর।

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন নিশ্চই প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ উপভোগ করতে হবে। তবে এই মৃত্যুই শেষ নয়। মানুষের দুনিয়াবী মৃত্যুর পরেই শুরু হবে অনন্তকালব্যাপী পরকালীন জীবন। তবে বর্তমান সমাজব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষ আজ মৃত্য সম্পর্কে উদাসীন। তারা বুঝতেও পারছে না আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (স:) প্রদর্শিত ইসলামি বিধান অনুযায়ী না চলতে পারলে কি ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে।
    আর তাইতো সমাজের মানুষগুলোকে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে রুহামা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে প্রখ্যাত লেখক ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল হক আল ইশবিলি রহ. এর “জীবনের ওপারে” বইটি।

    সার-সংক্ষেপঃ-
    বইটিকে লেখক ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল হক আল ইশবিলি রহ. ২২টি অধ্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন।
    বইয়ের প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে মৃত্যুর স্বরুপ ও মানবপ্রকৃতি, কতিপয় মৃত্যুর দৃশ্য, মৃত্যুর সময় করণীয়, জানাযায় অংশগ্রহণের ফজিলত এবং দাফন পরবর্তী করণীয় ইত্যাদি সম্পর্কে।
    এরপর বইতে একে একে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে কবর ও রুহ সম্পর্কে বর্ণনা, কেয়ামত দিবস, শিঙ্গায় ফুৎকার, হাশর, হাউজে কাউসার, বিচার দিবসে দুনিয়ার জীবনের হিসাব নিকাশ, পুলসিরাত, রাসূল (স:) এর শাফায়াত, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা ইত্যাদি।
    সবশেষে জান্নাতি ও জাহান্নামিদের চিরস্থায়ী অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে বইটির গুরুত্বঃ-
    মানুষকে যেহেতু মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। সেটা হয়তো আজ বা কিছু পরেই। মৃত্যু কখন হবে তার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে আমরা কেউই অবগত নই। তাই মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে জানতে এবং সেই অনুযায়ী দুনিয়ার জীবনকে কল্যাণময় করে তুলতে হলে রেফারেন্স সমৃদ্ধ “জীবনের ওপারে” সকলের পড়া উচিত।

    ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ-
    বইটি পড়ার পর মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছি। বইয়ের অনুবাদও বেশ সাবলীল হয়েছে।  বইয়ের পরকালীন জীবন সম্পর্কে সহজ সরল বর্ণনা পড়ে যেকোনো পাঠক মুগ্ধ হবেন বলে আমার বিশ্বাস। তাই যারা পরকাল জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তারা এই বইটি একবার হলেও পড়ুন। কেননা মরণ একদিন আসবেই এই কথা টি আমাদের সকলেরই মনে রাখতে হবে। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ বইটি জানার এবং মানার নিয়তে পড়ুন তাহলেই জীবন সঠিক পথে পরিচালিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    রিভিউ-

    আল্লাহ ইরশাদ করেন,
    “নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও
    মৃত্যু হবে।”
    সূরা আজ-জুমার: ৩০

    মানুষ মৃত্যুর খুব কাছে। মূলত মৃত্যু নিশ্চিত। নিশ্বাস বন্ধ হলেই আমরা চলে যাই ‘জীবনের ওপারে’। হ্যাঁ, কবরে; অতঃপর, অনন্তজীবন।

    গ্রন্থ ও লেখক সম্পর্কে:

    ‘রুহামা পাবলিকেশন’ থেকে প্রকাশিত হওয়া ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইশবিলি রহিমাহুল্লাহ রচিত ‘আল আকিবাহ ফি জিকরিল মাওত’ গ্রন্থের অনুবাদ ‘জীবনের ওপারে’। ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক আল ইশবিলী একজন প্রতিভাবান আলিম, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ইবনুল খাররাত নামেও পরিচিত।

    অনুবাদ ও অনুবাদের মান:

    ‘আল আকিবাহ ফি জিকরিল মাওত’ গ্রন্থের সাবলীল অনুবাদ পাঠকদের উপহার দিয়েছেন মুফতি তারেকুজ্জামান হাফি.। অনুবাদ বেশ ভালো। চমৎকার।

    গ্রন্থটি কী নিয়ে?

    উক্ত গ্রন্থ মোট বাইশটি অধ্যায়ে সাজানো। মৃত্যু ও কবরের এপাশ-ওপাশ, কিয়ামতের ভয়াবহতা, হাশর-মিযানের বর্ণনা, শাফায়াতের চিত্র, জান্নাত-জাহান্নামের পাঠ, ইত্যাদি নিয়ে হাজির হয়েছেন লেখক। মূলত, দুনিয়ার ক্ষণ-অবস্থা, মৃত্যু ও তৎপরবর্তী জীবন, জান্নাত-জাহান্নামের বর্ণনা করেছেন ইসলামের অথেনটিক সোর্সের আলোকে।

    আমার ভালো লাগা:

    ১. ঝকঝকে প্রচ্ছদ
    ২. সাবলীল অনুবাদ
    ৩. কুরআন-হাদিসের চমৎকার উপস্থাপন
    ৪. মজবুত বাঁধাই

    গ্রন্থটি কারা, কেন পড়বেন?

    গ্রন্থটি সবার জন্য। ছোট, বড় সকলের পড়া উচিত। আশাকরি গ্রন্থটি পাঠে মগ্ন হলে পরকাল বুঝা সহজতর হবে। তাছাড়া যে সমূহ কারণে পড়া উচিত:
    ★ মৃত্যু ও তৎপরবর্তী জীবন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে।
    ★ খবরের এদিক-সেদিক অবগত হতে।
    ★ কিয়ামতের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে।
    ★ দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের অসারতা প্রতীয়মান হতে।
    ★ আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সহযোগিতা পেতে এবং উৎসাহ পেতে।

    গ্রন্থটিতে একনজর:

    বই : জীবনের ওপারে
    মূল : আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইশবিলি
    অনুবাদ : মুফতি তারেকুজ্জামান
    প্রকাশনী : রুহামা পাবলিকেশন
    মূল্য : ৫৩৪
    পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৪০৮

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  6. 5 out of 5

    :

    বইয়ের নামঃ জীবনের ওপারে
    লেখকঃ ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল হক আল ইশবিলি রহ.
    অনুবাদ ও সম্পাদনা : মুফতি তারেকুজ্জামান
    প্রকাশনী : রুহামা পাবলিকেশন
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪০৮
    গায়ের মূল্যঃ ৫৩৪

    বইটি কেন পড়বেন?
    দুনিয়ার এই ভয়াবহ ব্যস্ততায় সবচাইতে সত্য বিষয়টাকে অনেক সময়ই ভুলে থাকি আমরা। কিন্তু সেই সত্যের মুখোমুখি সবাইকেই হতে হয়। এই অনিবার্য পরিনতি সবারই বরন করা লাগে। তা হলো মৃত্যু!!! এটা মনের মধ্যে সদা জাগ্রত রাখতে এই বইটি অত্যন্ত কার্যকর। বইয়ের প্রতিটি পাতা আপনাকে মনে করিয়ে দিবে মৃত্যুর হিমশীতল পরশ, চরম বাস্তবতার আলিঙ্গন, একান্ত শুনশান নিরবতা ও একাকীত্বের নির্মম অনুভূতি। গাফিলতির সাগরে ডুবে থাকে, বিনোদনে মত্ত থাকা আপনাকে অসাধারন এই বইটি নিয়ে যাবে প্রশান্তিকর এক পরিবেশে, ভাবতে শেখাবে পরিনতির কথা, চুড়ান্ত গন্তব্যে পাড়ি দেয়ার পাথেয় সংগ্রহ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

    বইয়ের আকর্ষনীয় দিকগুলোঃ
    # বেশ আবেগ নিয়ে লেখা হয়েছে প্রতিটি লাইন, বন্ধুর মত, একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ডাক্তারের মত দুনিয়া রোগ থেকে সারিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে।
    # প্রাসঙ্গিক আয়াত, হাদীস দিয়ে ঐশী বানী শুনিয়ে হৃদয়কে কোমল, স্নিগ্ধ করে উপদেশ শোনার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। এরপর সালাফদের সুন্দর সুন্দর কাহিনী সেই আবেগ ও অনুভূতির পালে আরো হাওয়া লাগিয়ে দিয়েছে।
    # বাস্তবতা ও পারিপার্শিক অবস্থার বিবেচনায় অনেক উপদেশ দেয়া হয়েছে যা আসলেই খুব কার্যকর। বার বার মনে হয়েছে আমল করা দরকার, পাথেয় সংগ্রহ করা দরকার অনন্ত জীবনের জন্য।
    # মৃত্যুর পূর্ববর্তি ও পরবর্তি নানা দিক ও ঘটনা সাজানো হয়েছে অসাধারন এক মালায় যা সুগন্ধি ছড়িয়েছে পুরা বইয়ে।
    # বই পড়ে মনে হবে, ইস, নিজে যেমন এই বই পড়ে উপকৃত হচ্ছি, অন্যদেরও যদি পড়াতে পারতাম! তাদের জীবন ও আমাদের আশেপাশের পরিবেশটাই পরিবর্তিত হয়ে যেত। থাকতো না এত হিংসা, চাকচিক্য, ভুলে থাকা, অবিচার ইত্যাদি।

    বইয়ের উপযোগিতাঃ
    * সব ধরনের পাঠকের জন্য এই বইটি উপকারী কারন মৃত্যু সবাইকেই স্পর্শ করবে।এই ধরা ছেড়ে, সকল মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে চলে যেতে হবে। মৃত্যুর যেহেতু কোন সিরিয়াল বা আগাম বার্তা নাই তাই সব বয়সী মানুষের জন্য এটি উপকারী।
    * প্রতিটি বাড়িতে এই বইটি রাখা প্রয়োজন কারন এর বাসিন্দাদের মধ্যে আগে পরে সবাই ই একই পরিনতি ভোগ করবে। এই বই উপকার দিতে থাকবে সবাইকে। এক জনের পর আরেকজন উত্তরাধিকার হবে এই বইয়ের
    * উপহার হিসাবে এই বইটি অসাধারন। যেকোন উপলক্ষ্যে, যে কাউকে এই বইটি উপহার দেয়া যায়।

    ভাললাগা মন্তব্যঃ
    এমন বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরার লোভ সংবরন করা কঠিন। জীবনের সবচেয়ে সত্য সম্পর্কে ভালভাবে জানার আগ্রহ অনেক গুন বাড়িয়ে দিয়েছে বইয়ের অসাধারন হীরায় খচিত প্রতিটি অক্ষর, সোনায় মোড়া প্রতিটি পাতা। প্রানভরে দোয়া এসেছে এর লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, প্রকাশকসহ এই বই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি।

    রেটিং ৯/১০

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  7. 5 out of 5

    :

    জীবনের ওপার। শব্দদুটো দেখলে, পড়লে বা শুনলে মুমিনের হৃদয়ে একটু হলেও নাড়া দেয়। মুমিনকে একটুক্ষণের জন্য হলেও ভাবায়। মুমিন বুঝতে পারে এখানে আসলে কোন জীবনের কথা বলা হচ্ছে। মুমিন বান্দা তখন চোখটা বন্ধ করে ভাবে ‘আচ্ছা, ওপারের যাওয়ার জন্য এপার থেকে কি নিয়ে যাচ্ছি?’
    .
    তবে এটা মানতে কারো আপত্তি থাকার কথা না যে, বেশিরভাগ মুমিন বান্দাই জীবনের ওপার নিয়ে ভাবতে অপছন্দ করে। মৃত্যুর আলোচনা এলে সে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্ট করে। মৃত্যু নিয়ে চিন্তাভাবনা কর‍তে সে নারাজ।
    .
    তো, এর কারণ কী তাহলে? কেনো মানুষ জীবনের ওপারকে নিয়ে চিন্তা করতে চায়না? কেনো সে ওপারের চিন্তাভাবনা মাথা থেকে দূরে সড়িয়ে রাখতে চায়?
    .
    আমার যতটুকু মনে হয়, এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো – জীবনের ওপার সম্পর্কে অজ্ঞতা। জীবনের ওপারে তার সাথে কি হতে চলেছে সে সম্পর্কে সে ভালোভাবে জানেনা বলেই সে ওপারের জীবনকে গুরুত্ব দেয়না। তার যদি ওপারের জীবনের হাকীকাত নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞান থাকতো তাহলে অবশ্যই ওপারের জীবন নিয়ে কথাগুলো তাকে ভাবিয়ে তুলতো।
    .
    আচ্ছা, তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে যে, আমরা তাহলে কিভাব ওপারের জীবন নিয়ে বিস্তারিত জানবো?
    .
    তাদের জন্য সুখবর এই যে, রুহামা পাবলিকেশন বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য নিয়ে এসেছে প্রখ্যাত ফক্বীহ ও মুহাদ্দিস ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান আল-ইশবিলি রাহিমাহুল্লাহ এর রচিত কালজয়ী গ্রন্থ ‘আল-‘আকিবাহ ফি জিকরিল মাওত’ এর অনুবাদ, ‘জীবনের ওপারে’। গ্রন্থটিকে বাংলা ভাষায় রুপদান করেছেন, আমাদের সকলের প্রিয় উস্তায, মুফতি তারেকুজ্জামান তারেক হাফিযাহুল্লাহ।

    • বইয়ের বিষয়বস্তু:

    বইটিতে রয়েছে মোট বাইশটি অধ্যায়। বইটির শুরুতেই ইমাম ইশবিলি রাহিমাহুল্লাহ সুন্দর একটি ভূমিকা লিখেছেন। এরপর তিনি আলোচনা করেছেন মৃত্যুর স্বরুপ, মৃত্যু নিয়ে মানুষের এপ্রোচ, দুনিয়াকে ঘিরে আমাদের যে এত এত আশা সেগুলোর অসারতা নিয়ে। এরপর প্রথম অধ্যায় শুরু।

    প্রথম অধ্যায়ে শায়খ রাহিমাহুল্লাহ পাঠককে দেখিয়েছেন, কতিপয় মৃত্যুর দৃশ্য। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা এসেছে, উত্তম মৃত্যু, তালকীন ও মৃত্যুর সময় কি করণীয় সেটা নিয়ে। তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন, জানাযায় অংশগ্রহণের ফজিলত নিয়ে। চতুর্থ অধ্যায়ে আলোচনা এসেছে, মৃতের সুনাম ও বদনাম করা নিয়ে। পঞ্চম অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন, মুমূর্ষু মানুষের পাশে কি করণীয় সেটা নিয়ে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে, শেষ পরিণতি মন্দ হওয়ার ব্যাপারে পাঠককে সতর্ক করেছেন। সপ্তম অধ্যায়ে, দাফন পরবর্তী সময়ে করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন। অষ্টম এবং নবম অধ্যায়ে এনেছেন, কবর ও কবর জিয়ারত সম্পর্কে আলোচনা। দশম এবং একাদশ অধ্যায়ে, নেককারদের স্বপ্নের বিবরণ ও আজাব ও শাস্তির স্বপ্নসমূহ নিয়ে আলোচনা এসেছে। দ্বাদশ অধ্যায়ে এসেছে সবচেয়ে ‘এক্সাইটিং টপিক’ সেটা হলো, রুহের আলোচনা; রুহ কোথায় যায় যায়? ত্রয়োদশ অধ্যায়ে লেখক আলাপ করেছেন, কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা নিয়ে। চতুর্থদশ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে, শিঙ্গায় প্রথম ও দ্বিতীয় ফুৎকারের কথা। পঞ্চদশ ও ষোড়শ অধ্যায়দ্বয়ে এসেছে, হাশর ও হাউজে কাউসারের বিস্তারিত বর্ণনা। সপ্তদশ অধ্যায়ে, শাফায়াত নিয়ে আলোচনা এসেছে। অষ্টাদশ অধ্যায়ে, অনেকগুলো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, হিসাব-নিকাশ, মিজান ও আমলনামা, দাবি-দাওয়ার ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে। উনবিংশ অধ্যায়ে আলোচনা এসেছে দ্বিতীয় শাফায়াত, বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ ও জান্নাতিদের প্রথম খাবার নিয়ে। বিংশ ও একবিংশ অধ্যায়ে আলাপ হয়েছে, জান্নাত ও জাহান্নামের বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে৷ আর শেষ অধ্যায়ে, জান্নাত ও জাহান্নামিদের চিরস্থায়ী অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে লেখক বইটির সমাপ্তি টেনেছেন।

    • পাঠানুভূতি:

    বইটির ব্যাপারে সর্বপ্রথম ভালো লাগার দিকটি হলো, শাইখ ইশবিলি রাহিমাহুল্লাহ এই বইতে খুবই মমতার সাথে এর পাঠককে ওপারের জীবন নিয়ে ভাবাতে চেয়েছেন। অনুপম ভাষাভঙ্গি আর সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পাঠককে ওপারের জীবন নিয়ে ভাবার আহবান জানিয়েছেন। পাঠক বইটি পড়তে পড়তে মৃত্যুর সময়কার কষ্ট, কবরের অন্ধকারে অসীম নির্জনতা, কিয়ামাত দিনের ভয়াবহ দৃশ্য, মিজান ও পুলসিরাতের আশংকাজনক অবস্থা সম্পর্কে ভীত হওয়ার পাশাপাশি মনোযোগী হয়ে উঠবে। বইটি পাঠককে করে তুলবে আখিরাতমূখী। যার ফলে ওপারের জীবনের ব্যাপারে তার আর সেই আগের মতো ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাবটা থাকবেনা ইনশআল্লাহ।
    .
    পরিশেষে, মেহেরবান রবের কাছে আরজ, তিনি যেনো বইটির লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক, পাঠকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ভালো কাজগুলোকে কবুল করে নেন আর সকলকে এপারে থাকতেই ‘জীবনের ওপারে’র সম্বল অর্জন করার তৌফিক দেন। আমীন।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No