মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ইসলামি জীবনব্যবস্থা

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬০
ধরন: হার্ডবাইন্ডিং

 

ইসলামি জীবনব্যবস্থা স্বয়ংসম্পূর্ণ, পূর্ণাঙ্গ ও কল্যাণময় জীবনব্যবস্থা। অনৈসলামি জীবনব্যবস্থা ঠিক তার বিপরীত। ইসলাম ছাড়া যত জীবনব্যবস্থা আছে, সবই অনৈসলামি জীবনব্যবস্থা। ইসলামই একমাত্র জীবনব্যবস্থা, যা শান্তি ও নিরাপত্তা, ইনসাফ ও আদল প্রতিষ্ঠা করে। আর মানবরচিত যত পথ-মত ও মতবাদ আছে, সবই মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করে। মনুষ্যত্বকে পিষে ফেলে। মানবরচিত জীবনব্যবস্থার অসারতা, ইসলামি জীবনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা জানার জন্য ও উপলব্ধি করার জন্য এই কিতাবটি অনেক সহায়ক হবে। ইনশাআল্লাহ।

প্রথম অধ্যায়ে লেখক ইসলামি আকাইদ নিয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা করেন। এখানে তিনি এমন সব আলোচনাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা বর্তমানে সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: আহলুস সুন্নাহর সংক্ষিপ্ত আকিহাদ, তাওহীদের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, নাওয়াকিযুদ তাওহীদ, আলওয়ালা ওয়াল বারাআ ইত্যাদি। ভালো লাগার বিষয় হলো, প্রতিটি বিষয়ে মোটামুটি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যা মনোযোগ দিয়ে পড়লে একজন পাঠক খুব সহজেই পুরো বিষয়ের একটা সুন্দর কাইফিয়ত ধারণ করতে পারবে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে ইসলামি শরিয়াব্যবস্থা নিয়ে আলোকপাত করেন। কিছু অজ্ঞ বা ভ্রান্ত লোকেরা বলে বা ধারণা করে যে, ইসলামে ইবাদত-বন্দেগি ব্যতীত সামগ্রিক জীবনে চলার মত তেমন কোন বিধিবিধান নেই। তাদের এই ভ্রান্তির জবাব রয়েছে এই অধ্যায়ের আলোচনায়, তাছাড়া শরীয়াব্যবস্থার একটা রূপরেখা পাঠকের জানা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

তৃতীয় অধ্যায়ে ইসলামি শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। এই অংশটি বইয়ের বিশেষ সৌন্দর্য। হক কথাগুলোর সুস্পষ্ট উচ্চারণ ও জ্ঞানপাপীদের সৃষ্ট ভ্রান্তিগুলোর সমাধান পেয়ে যাবেন আলোচনার মাঝে।

চতুর্থ অধ্যায়ে ইসলামি সমাজব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইসলাম একটি আদর্শ সমাজের জন্য কী রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, এই সম্পর্কে জানা যাবে উক্ত অধ্যায়ে। তাছাড়া কিছু ফিকহী আলোচনাও স্থান পেয়েছে এই অধ্যায়ে।

পঞ্চম অধ্যায়ে আলোচনা হয়েছে অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে। জীবনব্যবস্থার একটা ইম্পরট্যান্ট দিক হলো, অর্থব্যবস্থা। ইসলামি অর্থব্যবস্থা ও অনৈসলামি অর্থব্যবস্থা কী! কেন! ইত্যাদি বিষয়ে জানা যাবে এই অধ্যায়ে। এই অধ্যায়ে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে– একজন মুসলিম কীভাবে, কোন পদ্ধতির অনুসরণ করে সফলতা ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে! ইসলামের অর্থায়ন ব্যবস্থার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে এই অধ্যায়ে।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে বিভিন্ন মতবাদ ও তার আগ্রাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসলামের সাথে কুফফার গোষ্ঠীর বিশ্বাসগত, বিধানগত, নীতিগত দিক থেকে লড়াই সবসময় চলবে। ইসলামের বিধিবিধান মানবতার কল্যাণের জন্য। কিন্তু ইসলামের সাথে বিদ্বেষ সবসময় এই সংঘাতকে চাঙ্গা রাখছে। এটি এমন এক লড়াই, যা কখনো থেকে যাবার নয়!

পরিমাণ

560.00  800.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

3 রিভিউ এবং রেটিং - ইসলামি জীবনব্যবস্থা

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_এপ্রিল_২০২০
    ইসলামের গণ্ডি অপ্রশস্ত নয়। ইসলাম ক্ষুদ্র ও স্বল্পায়তের নয়। ইসলামের পূর্ণ বিচরণ রয়েছে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ,রাষ্ট্র সর্বত্রই। এটি-ই — অন্যান্য ধর্ম ও ইসলামের মাঝে অন্যতম ফারাক-পার্থক্য । ইসলামকে নিজেদের ইবাদাতের মাঝে কেবল সালাত, সাওম, হজ্ব, যাকাত গুটিকয়েক ইবাদতে আবদ্ধ আমাদের দৃষ্টিতে। ইসলামকে মনে করি মসজিদ-মাদ্রাসাতে পরে থাকা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা। ইসলাম প্রকৃতপক্ষে আমাদের জীবনে চিন্তা-ভাবনায় ভুলভাবে বিচিত্র। ইসলাম আসলে এ গুটিকয়েক ইবাদতে সীমাবদ্ধ-হ্রস্বীকৃত নয়। ইসলাম বাস্তবে মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বাস্থায় পূর্ণ জীবন বিধান। বইটিতে মুসলিম আকিদা নিয়ে প্রথম ধারণা দিয়ে ইমান হাড়া হবার কারণ তুলে ধরেছেন।যেসকল আধুনিক ফিতনায় চিন্তাগত পরাজয় আমাদের,তা নিয়ে আলোচনা আছে। আরও আছে ব্যক্তি জীবনে লেনদেন, বিবাহ চলাফেরা সবকিছু।
    “ইসলামি জীবনব্যবস্থা” অনেক অজানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করে— চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে— ইসলামের ব্যপৃতি-প্রশস্থতা। দাবী অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত হলেও সু-সমৃদ্ধ। বইয়ের লেখক শাইখ তারেকুজ্জামান। তাঁর লেখা মানে সুস্পষ্ট— কেনায়া-অস্পষ্টতার ছাপ নেই।
    তথ্যভান্ডার— অলৌক-বানোয়াট থেকে পূর্ণ সতর্ক।
    কুরআন-সুন্নাহর সমাহার— হাদীসের মান উল্লেখে যত্নশীল।
    বইটি প্রকাশ করেছে পছন্দনীয় মাকতাবাগুলোর মধ্যে অন্যতম রুহামা।
    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    মানুষকে আল্লাহ তায়ালা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই ইচ্ছাশক্তি কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আমানত স্বরুপ। এই আমানতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রদত্ত সব কিছু পালনের মাধ্যমেই তার প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা আল্লাহ প্রদত্ত সেই আমানতের খিয়ানত করে ঝুকে পড়ছি মানব রচিত ব্যবস্থার দিকে। যদিও  মানবরচিত যত পথ-মত ও মতবাদ আছে, সবই মানুষের অকল্যান বয়ে আনে । তবুও মানুষ সেই সব ব্যবস্থার দিকেই বেশি আকর্ষিত হয়।
    ইসলামের সকল বিধিবিধান মানবতার কল্যাণের জন্য।সেই কল্যানময় ইসলামী ব্যবস্থার পথে মানুষকে পুনরায় ইউটার্ন করাতে হলে প্রয়োজন এমন একটি বই যা মানব রচিত জীবন ব্যবস্থার ( যেমন গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি ) অসারতা প্রমানের পাশাপাশি ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে। সেই সাথে ইসলামের মৌলিক অনেক বিষয় আলোচিত হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রচিত একটি অন্যতম বই হলো ” ইসলামী জীবনব্যবস্থা “। বইটির লেখক মুফতি তারেকুজ্জামান। বইটিতে ছয়টি অধ্যায়ে ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে।
    অধ্যায়গুলো হলো-
    ১. ইসলামি আকায়িদ’
    ২. ইসলামি শরিয়াব্যবস্থা
    ৩. ইসলামি শাসনব্যবস্থা
    ৪. ইসলামি সমাজব্যবস্থা
    ৫. ইসলামিক অর্থায়নব্যবস্থা
    ৬. বিভিন্ন মতবাদ ও তার অগ্রাসন

    আমার অনুভূতি:-
    বইতে সংক্ষেপে ইসলামের অনেক মৌলিক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা স্থান পেয়েছে। সেই সাথে বইটিকে সহজ, সাবলীল, ও বোধগম্য করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে বই লিখতে এত বিপুল পরিমানে তথ্য, প্রমান, ও রেফারেন্স দিয়ে লিখা মনে হয় মুফতি তারেকুজ্জামানের  পক্ষেই সম্ভব। বইটি পাঠ করে যেকোনো পাঠক উপকৃত হবেন এবং ইসলামের সবগুলো মৌলিক বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা হবে ইনশাআল্লাহ। তাই সকলের জন্য বইটি একবার হলেও পড়া উচিৎ।

    সমালোচনা:-
    বইটি এত সুন্দর ভাবে সাজানো গোছানো যে সমালোচনার মত তেমন কিছুই নেই। তবে–
    (১) কিছু কিছু জায়গায় টাইপিং মিসটেক জনিত ভুল রয়েছে। এতবড় বিশাল বই ও প্রথম সংস্করন হিসেবে যা খুব বেশি কিছু নয়।
    (২) ইসলামী অর্থায়নব্যবস্থা অধ্যায়ে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ থাকলে বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী খুব বালো হতো।
    (৩) শিরক সম্পর্কে কিছু আলোচনা থাকলেও বিদআত সম্পর্কে কোন আলোচনা নেই। যা জরুরী ছিলো।

    শেষ কথাঃ-
    পরিশেষে বলতে হয় বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এত সুন্দর একটি বই লেখার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বইয়ের লেখক, প্রকাশক, পাঠক সহ  সবাইকে কবুল করুন। দোয়া করি আল্লাহ লেখকের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে নেক হায়াত দান করে দ্বীনের পথে কবুল করুক।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    মানুষকে আল্লাহ তায়ালা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই ইচ্ছাশক্তি কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আমানত স্বরুপ। এই আমানতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রদত্ত সব কিছু পালনের মাধ্যমেই তার প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা আল্লাহ প্রদত্ত সেই আমানতের খিয়ানত করে ঝুকে পড়ছি মানব রচিত ব্যবস্থার দিকে। যদিও  মানবরচিত যত পথ-মত ও মতবাদ আছে, সবই মানুষের অকল্যান বয়ে আনে । তবুও মানুষ সেই সব ব্যবস্থার দিকেই বেশি আকর্ষিত হয়।
    ইসলামের সকল বিধিবিধান মানবতার কল্যাণের জন্য।সেই কল্যানময় ইসলামী ব্যবস্থার পথে মানুষকে পুনরায় ইউটার্ন করাতে হলে প্রয়োজন এমন একটি বই যা মানব রচিত জীবন ব্যবস্থার ( যেমন গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি ) অসারতা প্রমানের পাশাপাশি ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে। সেই সাথে ইসলামের মৌলিক অনেক বিষয় আলোচিত হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রচিত একটি অন্যতম বই হলো ” ইসলামী জীবনব্যবস্থা “। বইটির লেখক মুফতি তারেকুজ্জামান। বইটিতে ছয়টি অধ্যায়ে ইসলামী জীবনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। এখন আমি অধ্যায় গুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ্

    ১. প্রথম অধ্যায়ঃ ‘ইসলামি আকায়িদ’
    বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে লেখক ইমান, আকিদা ও তাওহীদের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন মানুষের আকিদা ঠিক না হলে সে তাওহীদ ও শিরকের মাঝে কোন পার্থক্য করতে পারে না।
    আকিদা সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় জানা যাবে যা আমাদের পারিপার্শ্বিক সমাজে সেরকমভাবে আলোচনা হয় না বা আলেমগন সেভাবে  আলোচনা করেন না। বিভিন্ন পরিচ্ছেদে উঠে এসেছে আল্লাহ, তার রাসূল, ফেরেশতাগন, জান্নাত জাহান্নাম ইত্যাদি সম্পর্কিত আকিদা।
    এই অধ্যায়ে আরো যে দুটি ফলপ্রসূ বিষয়ে আলোচনা এসেছে তা হলো রাষ্ট্রীয় শিরক ও ইমান ভঙ্গের কারন।
    মুসলমান ও কাফিরের মধ্যকার সম্পর্কের শরীয়ত নির্ধারিত সীমারেখাও সকলের জানা একান্ত প্রয়োজন।

    ২. ইসলামি শরিয়াব্যবস্থা :  কিছু মানুষ মনে করে ইসলাম মনে হয় নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাতের মত কিছু নির্দিষ্ট ইবাদতের নাম। কিন্তু ইসলাম তো শুধু কেবলমাত্র কিছু ইবাদতের সমষ্টিই নয়। ইসলাম হলো একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ইসলাম নির্ধারিত সীমারেখা।
    এখানে লেখক দেখিয়েছেন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামী হুকুমত অনুযায়ী চলার কোন বিকল্প নেই। একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন ব্যবস্থা হলো ইসলাম। যা সর্বযুগে ও সর্বাবস্থায় মানব সভ্যতার জন্যে উপযোগী। ইসলামী শরিয়াব্যবস্থা  ব্যাপক  ও সর্বক্ষেত্রে বিস্তৃত হওয়ায় এর কোন সংস্কারের প্রয়োজন হয় না।
    এই অধ্যায়ে আরো আলোচিত হয়েছে আল্লাহর উপর ভরসা করা, দেহ ও রুহের মাঝে সম্পর্ক, মানসিক রোগ প্রভৃতি সম্পর্কে।

    ৩. ইসলামি শাসনব্যবস্থা:-
    বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় ইসলামি শাসনব্যবস্থা। এটি বইয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখানে ইসলামী শাসনের অধীনে কোন দেশ পরিচালিত হলে তা কিভাবে চলবে তার শরিয়ত নির্ধারিত রুপরেখা দেয়া হয়েছে। মানব রচিত শাসনব্যবস্থা যেসব দেশে পরিচালিত আছে সেসব দেশে দেখা যাচ্ছে অশান্তি, দুর্নীতি, ধর্ষণ, গুম, খুন, অরাজকতা  লেগেই আছে। এসব নির্মূল করতে তো পরিকল্পনা, নিত্যনতুন আইন, তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই এগুলো কমছে না। বরং ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। অথচ পূর্ণাঙ্গ ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হলে সেসব দেশে কতইনা শান্তি বিরাজ করতো !!
    ইসলামি শাসনব্যবস্থায় শাসক নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি কার্যকর পর্যন্ত সকল কিছু পরিচালিত হবে পবিত্র কুরআন ও হাদীস থেকে প্রাপ্ত তথ্য, উপাত্ত, ও দলিলের ভিত্তিতে।

    ৪. ইসলামি সমাজব্যবস্থা :-
    বর্তমান সমাজ পারিবারিক অশান্তি, পিতা মাতার প্রতি অবহেলা, স্বামী স্ত্রীর অমিল, তালাক সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। মুসলিম সমাজে কোন ঐক্য নেই।  আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো সুদৃঢ় অবস্থানে নেই। এই সকল সমস্যাগুলোর দিকেই নজর দেয়া হয়েছে ইসলামী সমাজব্যবস্থা অধ্যায়ে। কেননা ইসলাম তো বলে এক আদর্শ সমাজের কথা। যে সমাজ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। এছাড়াও ব্যক্তির সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক,  আত্মহত্যার ভয়াবহ পরিনাম, মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।

    ৫. ইসলামিক অর্থায়নব্যবস্থা :-
    এই অংশে লেখক ইসলামী অর্থায়নব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। জানা যাবে ইসলামী অর্থায়নব্যবস্থা ও অনৈসলামিক অর্থায়নব্যবস্থার মাঝে পার্থক্য।
    সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, হারাম ব্যবসা ইত্যাদি মানব রচিত অর্থায়ন ব্যবস্থার বিপরীতে ইসলামী অর্থায়নব্যবস্থা কত শক্তিশালী তা খুব সহজেই প্রতীয়মান হয়। ইসলামে রয়েছে শরিয়ত নির্দেশিত সীমারেখা অনুযায়ী হালাল ব্যবসা, সম্পত্তি, চাকরি, যৌথ ব্যবসা, মিরাশ বন্টন ও সম্পদ রক্ষনাবেক্ষনের নীতিমালা। ইসলাম একমাত্র জীবনবিধান যেখানে দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তার জন্য যাকাতের মত অর্থায়নব্যবস্থা প্রচলন করেছে।
    মোটকথা ইসলামী  অর্থায়নব্যবস্থা যে কত যুগোপযোগী ও তার পরিপূর্ণ, চিত্র পাওয়া যাবে এই  অধ্যায়ে।

    ৬. বিভিন্ন মতবাদ ও তার অগ্রাসন:-
    এটি বইয়ের সর্বশেষ অধ্যায়। সৃষ্টির শুরু থেকেই হক ও বাতিলের লড়াই চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায়  জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গনতন্ত্র, পুজিবাদ সহ আরো অনেক ভ্রান্ত মতবাদ বর্তমান সমাজের প্রচলিত রয়েছে। এগুলোর আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কিন্তু এগুলোর কোনটাই মানব সভ্যতাকে শান্তি ও স্বস্তি দিতে পারছে না। বইতে এসব ভ্রান্ত মতবাদের স্বরুপ উন্মোচনের পাশাপাশি ইসলামী ব্যবস্থার আলোকে মতবাদ গুলোর অসারতা প্রমাণ ও খন্ডন করা হয়েছে।
    পরিশেষে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ গুলোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা  করা হয়েছে । এছাড়াও রয়েছে বর্তমান ক্রুসেড সম্পর্কে ফলপ্রসূ আলোচনা।

    **ব্যক্তিগত অনুভূতি:-**
    বইটির কভার, প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং, ও ভিতরের পাতা মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর।ব্যক্তিগত অনূভুতি যদি বলতে হয় তাহলে বলবো বইটি এককথায় অসাধারন। সহজ, সাবলীল, ও বোধগম্য ভাষায় রচিত।
    বইয়ের প্রতিটি পাতায় রয়েছে লেখকের কঠোর পরিশ্রমের ছোয়া। ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে বই লিখতে এত বিপুল পরিমানে তথ্য, প্রমান, ও রেফারেন্স দিয়ে লিখা মনে হয় মুফতি তারেকুজ্জামানের  পক্ষেই সম্ভব। বইটি পাঠ করে যেকোনো পাঠক উপকৃত হবেন এবং ইসলামের সবগুলো মৌলিক বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা হবে ইনশাআল্লাহ। তাই ইসলামী মনোভাবাপন্ন সকলের জন্য বইটি একবার হলেও পড়া উচিৎ।

    **সমালোচনা:-**
    বইটি এত সুন্দর ভাবে সাজানো গোছানো যে সমালোচনার মত তেমন কিছুই নেই। তবে–
    (১) কিছু কিছু জায়গায় টাইপিং মিসটেক জনিত ভুল রয়েছে। এতবড় বিশাল বই ও প্রথম সংস্করন হিসেবে যা খুব বেশি কিছু নয়।
    (২) ইসলামী অর্থায়নব্যবস্থা অধ্যায়ে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ থাকলে বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী খুব বালো হতো।
    (৩) শিরক সম্পর্কে কিছু আলোচনা থাকলেও বিদআত সম্পর্কে কোন আলোচনা নেই। যা জরুরী ছিলো।

    **শেষ কথা:-**
    পরিশেষে বলতে হয় বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এত সুন্দর একটি বই লেখার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বইয়ের লেখক, প্রকাশক, পাঠক সহ  সবাইকে কবুল করুন। দোয়া করি আল্লাহ লেখকের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে নেক হায়াত দান করে দ্বীনের পথে কবুল করুন।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?