মেন্যু
iqbal ke niye vabna

ইকবালকে নিয়ে ভাবনা

প্রকাশনী : মক্তব প্রকাশন
পৃষ্ঠা : 100, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st Published, 2021
আইএসবিএন : 9789849495148, ভাষা : বাংলা
পরিমাণ

160  200 (20% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - ইকবালকে নিয়ে ভাবনা

4.0
Based on 1 review
5 star
0%
4 star
100%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 4 out of 5

    মো জসিম উদ্দীন:

    আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল গত শতকের শ্রেষ্ঠতম দার্শনিক, চিন্তক, আলেম, রাজনীতিবিদ, কবি ও সাহিত্যিক। ইকবালকে পাঠ করা, পর্যালোচনা করা তার মৃত্যুর শতবর্ষ পরেও সমানভাবে জরুরত বহন করে। আল্লামা ইকবাল মূলত প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি ভারতের শোষিত জমিনে উম্মাহর মুক্তি, পুনর্জাগরণ ও উত্থানের রাস্তা রচনায় ব্যাপৃত ছিলেন। ইকবালের চিন্তাদর্শন ও তার পথ প্রদর্শনী রচনা তাই উম্মাহর এই ক্রান্তিকালে নতুন চোখে পাঠ করা আমাদের নিজেদের ভিত্তি নির্মাণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

    কিতাবটি ৮ খানা অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রতিটি অধ্যায়ই ইকবালের চিন্তার নতুন নতুন দিকের ছবি তুলে ধরেছে। দক্ষ শিল্পীর হাতে ফাহমিদ উর রহমানের রঙতুলিতে এই চিত্রগুলা যথেষ্টই রঙিন হয়ে উঠেছে। নিচে সংক্ষিপ্তাকারে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আলোচনা তুলে ধরা হলোঃ

    • প্রথম অধ্যায়ে ইকবালের ফিকিরের একখানা মূল সূত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইকবাল বরাবরই আত্মজয়, বিজয়ী চেতনা ও আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন। ইকবাল ইসলামকে দেখেছেন জীবনবাদী এক আদর্শবাদ হিসেবে যা কিনা মানুষের উপর এমন এক দায়িত্ব অর্পণ করে যা পাহাড় কর্তৃক অস্বীকৃত।

    • দ্বিতীয় অধ্যায় মূলত ইকবালের ফিকর ও ফালসাফার বিশ্বজনীনতার বন্দনা। ইকবাল বরাবরই মানুষের মাঝে লুকায়িত অমিত সম্ভাবনা ও মানুষের অসীম স্বাধীনতা ও মর্যাদার তফসির করেছেন, তুলে ধরেছেন।

    • তৃতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে মুসলিম জাগরণ ও ইকবালের ভূমিকা সম্বন্ধে। ইকবাল তার অকূলপ্লাবিত মানসিকতা ও তার গভীর অনুসন্ধানী নজরের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন মুসলিম উম্মাহ মূলত পাশ্চাত্যের সর্বগ্রাসী বন্যায় নিজেদের লিগ্যাসি ও ঐতিহ্যকে খুইয়ে ফেলেছি।

    • চতুর্থ অধ্যায়ে ইকবালের ভাববিশ্ব শীর্ষক আলোচনায় বইয়ে বিবৃত হয়েছে ইকবালের চিন্তাসূত্রের মূল কথাগুলো।

    • ইকবালের দার্শনিক বুঝাপড়া অধ্যায়টি(৫ম) মূলত ইকবালের অজরামর ও যুগান্তরী গ্রন্থ “ইসলামে ধর্মীয় চিন্তার পুনর্গঠন” এর একখানা পর্যালোচনা। এখানে লেখক ইকবালের এই মহাগ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

    • ষষ্ঠ অধ্যায় হলো ইকবালের সিয়াসী ফিকরের (রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তা) একখানা রেখাচিত্র। ইকবাল ইসলামের রাজনৈতিক চিন্তায় কেন্দ্রীয় স্থান দিয়েছেন তাওহীদকে। এর কেন্দ্রমুখী করেই তার রাজনৈতিক চিন্তা আবর্তিত হয়েছে। এটি একটি সর্বব্যাপী জীবনব্যবস্থা।

    • সপ্তম অধ্যায়ের আলাপ অসাধারণ। ইকবাল পশ্চিমা সভ্যতাকে কোন চোখে দেখতেন আর একখানা বর্ণনা সন্নিবেশিত হয়েছে এখানে। ইকবালের চোখে পাশ্চাত্য সভ্যতা দৃশ্যমান হয়েছে পরস্বাপহরণকারী, শোষক ও বণিক সভ্যতা হিসেবে। জড়বাদী এ সভ্যতা তাই ইকবালের চোখে মানবকল্যাণমূলক হিসেবে প্রতিভাত হয়নি।

    • পরবর্তী অধ্যায়ে ‘ইকবাল ও বাংলাদেশ’ নিয়ে লেখক তার মূল্যায়ন হাজির করেছেন। ইকবালকে বাংলাদেশে কিভাবে অপ্রাসঙ্গিক করা হয়েছে তা লেখেছেন তিনি।

    সবমিলিয়ে ফাহমিদ উর রহমানের চমৎকার লেখনীতে ইকবালকে নিয়ে মোটামুটি সামগ্রিক একখানা ওভারভিউ পাওয়া যায় এই কিতাবে। ইকবাল জ্ঞানার্থীদের জন্য এই গ্রন্থ তাই বহুত জরুরত রাখে। ইকবাল নিয়ে আলাপকালে বাংলা ভাষায় এই গ্রন্থ তাই অপরিহার্য।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top