মেন্যু


ইমাম গাজালি (রাহ.)

পৃষ্ঠা : 128, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1rst edition

অনুবাদক : আবু আব্দুল্লাহ আহমদ
সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ

আমাদের দেশে ইসলামের প্রসার ও প্রচারে তাসাওউফপন্থি ধর্মীয় ব্যক্তিগণের ভূমিকা অনেক। সে সুবাদে আকাবির-আসলাফের মধ্যে যাঁরা সুফিতত্ত্বের চর্চা করেছেন, তাঁরাই এতদঞ্চলে বেশি চর্চিত ও আদৃত হয়েছেন। দ্বাদশ শতকের বিখ্যাত মনীষী হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ গাজালি রাহ. সম্ভবত এ কারণেই বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। মুসলিম দার্শনিক হিসেবে পরিচিতি ও স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে ধর্মীয় বলয়ের বাইরেও তিনি সুপরিচিত।

গ্রন্থটিতে ইমাম গাজালির জন্মবৃত্তান্ত থেকে শুরু করে জ্ঞান অর্জনে তাঁর চেষ্টা ও অধ্যবসায়, বাগদাদের নিজামিয়ায় অধ্যাপক হিসেবে যোগদান, তাঁর উন্নতি ও খ্যাতি লাভের কারণসমূহ, তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া বিপ্লব, শিক্ষকতা জীবনে প্রত্যাবর্তন, সময়কাল হিসেবে তাঁর রচনাবলির বিবরণ, বাতিনি শিয়াদের ব্যাপারে তাঁর মনোভাব, দর্শন, দার্শনিক, কালামশাস্ত্র ও তাসাওউফ সম্পর্কে তাঁর অবস্থান, তাঁর সংস্কারনীতি এবং সামাজিক ব্যাধি নিরাময়ের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ ছাড়াও তাঁর সংস্কার কর্মসূচির অঙ্গনসমূহ, শিক্ষা ও তারবিয়াতের জন্য তাঁর প্রণীত পাঠ্যক্রম, ইসলামি আকিদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রচেষ্টা, আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা, অত্যাচারী শাসকের সমালোচনা, সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দাওয়াত, বিকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবণতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম ইত্যাদি বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি চিন্তার শুদ্ধিকরণে তাঁর ভূমিকা, অন্ধ অনুকরণের বিরোধিতা, কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর প্রতি আহ্বান এবং সালাফের মানহাজ আঁকড়ে ধরার দাওয়াত নিয়ে তিনি যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তারও বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। ক্রুসেড সম্পর্কে তাঁর অবস্থান কী ছিল, তা নিয়েও বিস্তর আলোচনা আছে গ্রন্থটিতে।

 

পরিমাণ

126  180 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

3 রিভিউ এবং রেটিং - ইমাম গাজালি (রাহ.)

5.0
Based on 3 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    পৃথিবীর ইতিহাসে ইমাম গাজালি নিজ গুণে পরিচিত অনন্য এক মানুষ৷ ইরানের তুসে তাঁর জন্ম ৪৫০ হিজরি সনে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন দরিদ্র ও নেককার লোক। তিনি একাধারে প্রখর মেধাবী, বিচক্ষন, বিস্ময়কর বোধশক্তির অধিকারী ও দূরদর্শী ছিলেন। অল্প বয়সেই তিনি নিজামিয়া মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সেই সময়ে নিজামিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্তি ছিল আলিমদের কাছে চরম কাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। কিন্তু তিনি এই অধ্যাপনার মূল উদ্দেশ্য বুঝার চেষ্টা করেন এবং তা পরকালের পথে কল্যাণ বয়ে আনছে না বলে এর থেকে দূরে সরে যান। দীর্ঘ ১০ বছর জগৎসংসার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবারও অধ্যাপনার জগতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি সেলজুক আমলে সুন্নি মতবাদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন এবং আব্বাসি খিলাফতকে সুসংহত এবং ক্রমবর্ধমান বাতিনি ফিতনাকে প্রতিরোধের লক্ষ্যে তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ চালিয়ে যান। তিনি উম্মার শিক্ষাদীক্ষা এবং তাদের আশু বিপদ থেকে সতর্ক করার পেছনে সময় ব্যয় করেছেন। ইমাম গাজালি ৫০৫ হিজরি ইনতিকাল করেন। ইমাম গাজালির স্বরণে প্রসিদ্ধ কবি আবিওয়ারদি একটি মর্মস্পর্শী কবিতায় নিচের কথাগুলো লিখেছিলেন-
    “আমাকে ব্যথার সাগরে ভাসিয়ে বিদায় হলো এক মনীষীর
    যাঁর নেই কোনো স্থলাভিষিক্ত, যিনি বে-নজির।”

    শ্রেষ্ঠ আলিম ও কীর্তিমান মনিষী ইমাম গাজালি’র কর্ম ও জীবন নিয়ে ইতিহাসবিদ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি অতুলনীয় একটি বই রচনা করেন। যা তাঁর সেলজুক সাম্রাজ্য নিয়ে লিখা বইয়ের একটি অংশবিশেষ। কালান্তর প্রকাশনী থেকে বইটি “ইমাম গাজালি রহ. জীবন ও কর্ম” নামে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। লেখক বইটিকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করে ধারাবাহিক আলোচনা করে গেছেন। প্ৰথমেই ইমাম গাজালির পারিবারিক পরিচয় ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। যেখানে ইমাম গাজালির ব্যক্তি জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। সেই সময়ের সবচেয়ে বড় ফিতনা বাতিনি মতবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম, দর্শন ও দার্শনিকদের ব্যাপারে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে লিখক খুব ভালোভাবে তুলে ধরেছেন। সংস্কার ও ইসলামি পুনর্জাগরণে গাজালির অবদান ছিল ব্যাপক। লেখক পর্যায়ক্রমে গাজালির- সংস্কার পদ্ধতি, সংস্কারের বৈশিষ্ট্য, ইসলামি সমাজের ব্যাধি শনাক্ত করে প্রতিষেধক ব্যবস্থা করা ইত্যাদি আলোচনা করেন। গাজালি কিভাবে আলিমগণের কার্যকলাপ ও নৈতিক অবনতি, অত্যাচারী শাসক, সমাজের প্রচলিত সব বিদআত ও কুসংস্কারের সমালোচনা করতেন এসম্পর্কে বইটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ক্রুসেডার আগ্রাসনের ব্যাপারে গাজালির অবস্থান ও তাঁর গ্রন্থ নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা আছে তাও সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে এই বইটিতে। সর্বপরি বইটি এমনভাবে সাজানো যে এর থেকে সকল পাঠক গাজালি সম্পর্কে অনেক অজানা সত্য তথ্য জানতে পারবেন।

    বইটি পড়া কেন প্রয়োজন-
    ◆ সমাজ-রাষ্ট্রের সংস্কারে ইমাম গাজালি যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমরা আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রে প্রয়োগ করতে পারি।
    ◆ কিভাবে তিনি অন্যায়ের সমালোচনা করতেন তা শেখার জন্য বইটি অনেক সহায়ক হবে।
    ◆ তিনি তৎকালীন কিছু আলিমদের সমালোচনা করেছিলেন যা এখনো আমাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ থেকে শিক্ষা নেয়া যেতে পারে।
    ◆ “দুনিয়ার সম্পদেই সাফল্য নয়”। বইটি পড়লে তা খুব ভাল ভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন।

    ভাল-মন্দ কিছু দিক-
    বইটি “সেলজুক সাম্রাজ্যের ইতিহাস” বইয়ের অংশবিশেষ। কালান্তর বইটি আলাদাভাবে প্রকাশ করেছিল। এখন “সেলজুক সাম্রাজ্যের ইতিহাস” বইটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কালান্তর “ইমাম গাজালি” বইটির এই অংশ আবারও “সেলজুক সাম্রাজ্যের ইতিহাস” বইটির সাথে যুক্ত না করায় যারা আগেই বইটি কিনেছিল তাদের জন্য ভাল হয়েছে। তবে আমি মনে করি আগে প্রকাশ না করে একসাথেই প্রকাশ করাটাই ভাল হত। কিন্তু ভাল দিকটি হল যারা আগে বইটি সংগ্রহ করেনি তারা “সেলজুক সাম্রাজ্যের ইতিহাস” বইটির সাথে এই বইটি বিশেষ মূল্য ছাড়ে পাবে, ফলে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হচ্ছেনা। প্রকাশনীর এই সিদ্ধান্তটা আমার কাছে ভাল মনে হয়েছে।

    বইয়ের নাম: ইমাম গাজালি রহ. জীবন ও কর্ম
    লেখক: ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
    ভাষান্তর: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ
    সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ
    প্রকাশনী: কালান্তর প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্য: ১৮০৳
    প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২০
    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফি_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    রিভিউ ২

    আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালী!এই নামের সাথে ছোট থেকে কেউ পরিচিত না হলেও ইমাম গাজ্জালী রহ্ এর নাম শুনেনি এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল _এই উপমহাদেশে।ইমাম গাজ্জালীর জ্ঞান গভীরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার __যৌবনেই! একে একে রচনা করেছেন বহু পুস্তক।এক গবেষণায় বের হয়েছে ইমাম গাজ্জালীর মোট পুস্তকের সংখ্যা পাঁচশতের অধিক যা দিয়ে একটা আস্ত নিজস্ব বড় আকারের পাঠাগার হয়ে যাবে।
    ইলমি জগতে ইমাম গাজ্জালীর শ্রেষ্ঠত্নের সাক্ষর হিসেবে তার নামের আগে যুক্ত হয়েছে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম(ইসলামের দলিল).তার দর্শন মুসলিম অমুসলিম সকলের জীবনে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

    ইমাম গাজ্জালী রহ্ ছিলেন এক অকুতোভয়,সংগ্রামী জ্ঞানী_ইমাম এবং বহু হৃদয় এর প্রেরণা। আমরা তাঁকে নিয়ে মুখে প্রচলিত কিছু কথা ছাড়া তেমন বেশী জানি না।তবে আমাদের এ বিষয়ে অনীহাও আছে বটে-এর একটা ঘাটতিও ছিল যা ড. আলি মোহাম্মদ সাল্লাবি’র ‘আল ইমাম আল গাজালি’ বইয়ের অনুবাদে অনেক পুর্ণতা পেয়েছে।এই শতাধিক পৃষ্ঠার বইয়ের প্রতিটি কালো অক্ষর, চরণ- সাক্ষ্য দিচ্ছে হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল-গাজ্জালি রাহ্ এর জীবনের সংগ্রামী,দ্বীনের পথে ব্রত সময়গুলোর।যে গুলো আবদ্ধ হয়েছে ড.আলি মোহাম্মদ সাল্লাবির এই গ্রন্থে_জীবনিতিহাস সার্বিকভাবে তুলে ধরলেও সাথে মিশেছে লেখকের অনুধাবনকৃত জ্ঞান এর পাণ্ডিত্য _।
    ইমাম গাজ্জালী রাহ্ চলে গলেও যায়নি তার অমূল্য গ্রন্থ গুলো যা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি কিছুটা পরিচয় করিয়ে দিবে এই বই!যা আমাদের প্রেরণা জুগাবে দ্বীনের পথে ইন শা আল্লাহ।

    আমাদের উচিত এই মহান মানুষ সম্পর্কে পড়া_তার দর্শন পড়া। তাঁর জীবন পড়া। আমরা পশ্চিমা দের দর্শনে বিমোহীত হয়, পশ্চিমা মনীষীদের জীবনীতে ডুব দিয়ে ভাবি আহা্ আমি যদি এমন হতাম….!তবে ইসলামের এই ইমাম কে নিয়ে নেই তেমন আলোচনা এ্যাকাডেমিক পর্যায়ে! আমাদের সকলের উচিত নতুনভাবে আমাদের পুর্বপুরুষ’দের সম্পর্কে জানা নয়তো আমরা হারিয়ে ফেলব আমাদের স্বর্ণালী ইতিহাসগুলো -যার প্রেরণা বর্তমানকে আলোকিত করে নিয়ে যাবে আবারও সেই স্বর্ণালী যুগে …ইন শা আল্লাহ।
    __________
    বইয়ের নাম: ইমাম গাজ্জালি রাহ্
    মুল:ড.আলি মোহাম্মদ সাল্লাবি
    অনুবাদ:আবু আব্দুল্লাহ্ আহমদ
    সম্পাদক:আবুল কালাম আজাদ
    মুদ্রিত মুল্য :১৮০৳
    রেটিং :৪.৯/৫

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    বই : ইমাম গাজালি রহঃ জীবন ও কর্ম
    লেখক : ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
    অনুবাদক : আবু আবদুল্লাহ আহমদ
    সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ
    প্রকাশক : কালান্তর প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্য : ৳ ১৮০

    লেখক পরিচিতি :
    ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি ১৯৬৩ সালে লিবিয়ার বেনগাযি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। গাদ্দাফীর প্রহসনের স্বীকার হয়ে তিনি আট বছর কুখ্যাত আবু সালিম কারাগারে আটক ছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সৌদি আরব এবং সুদানে
    ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন, ১৯৯৯ সালে সুদানের
    ওমদুরমান ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে। তার রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু বিশ্বখ্যাত ফকিহ ও রাজনীতিক ড. ইউসুফ আল কারজাবি। ড. আলি সাল্লাবি সিরাত, ইতিহাস, ফিকহ এবং উলুমুল কুরআনের ওপর আশির অধিক কিতাব রচনা করেছেন। ইসলামি ইতিহাসের তাত্ত্বিক রচনা তাকে পুরো মুসলিমবিশ্বে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করিয়েছে। ইমাম গাজালি রহঃ জীবন ও কর্ম বইটিও তার অন্যতম এক কীর্তি। এ মহা মনীষীর জীবনীকে তিনি তার দক্ষ ঐতিহাসিক মেধাকে কাজে লাগিয়ে সহজভাবে তুলে ধরেছেন পাঠকের সামনে। কালান্তর প্রকাশনী তাঁর সিরাত গ্রন্থ সহ খলীফাগণ এবং ইসলামি সাম্রাজ্যের বইগুলো বাংলায় অনুবাদ করে ইতোমধ্যে প্রকাশিত করেছে।

    একনজরে বইটির প্রয়োজনীয়তা :

    ইমাম গাজালি রহঃ ৪৫০ হিজরি সনে ইরানে তুস নগরে জন্মগ্রহণ করেন। ৫০৫ হিজরিতে এই হুজ্জাতুল ইসলাম নিজ নগরীতেই ইনতিকাল করেন। পঞ্চান্ন বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন এ ধরনীতে। অথচ তাঁর বিশাল কর্মযজ্ঞ জীবন আমাদেরকে বিস্ময় হতে বাধ্য করে। সমকালীন নানান ফেতনার মোকাবিলায় তার অটল ও বীরত্ব ইতিহাস আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। ইমাম গাজালি রহঃ এর জীবন ও কর্ম বইটির প্রয়োজনীয়তা এখানেই। বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর ভেতর চলমান নানান সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর জীবনের মুজাদ্দিদমূলক কাজগুলোতে। সুতরাং বলা যায় বইটি আপনাকে আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। ইমাম গাজালি রহঃ জীবনীকে আমি চারটি শিরোনামে ভাগ করেছি।

    ১. আত্মশুদ্ধি
    ২. ফেতনা মোকাবিলায় দূরদৃষ্টি হওয়া
    ৩. যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা
    ৪. দরদী ও যোগ্য আলেম তৈরি করা
    এ চারটি পয়েন্টের উপর আমি সংক্ষিপ্তভাবে কিছু কথা পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম।

    ১. আত্মশুদ্ধি :
    ইমাম গাজালি রহঃ খুব অল্প বয়সেই তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম দীনি বিদ্যাপীঠ বাগদাদের নিজামিয়া মাদরাসায় অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এক পর্যায় তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বাগদাদসহ এর বাহিরেও। সম্মান ও প্রসিদ্ধির আসনে আরোহন করেন তিনি। তাঁর প্রখর মেধাশক্তি সকলকে আকৃষ্ট করতো। খুব প্রসিদ্ধ ডাকাতের ঘটনার পর তিনি তাঁর নিকট থাকা সমস্ত ইলমি কিতাব ও নোট মাত্র তিন বছরে মুখস্থ করেছিলেন। তাঁর ইলমি গভীরতার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। কিন্তু এতকিছুর পরেও অন্তরে কিছু একটার শূন্যতা অনুভব করতেন তিনি। যা তাকে দীর্ঘ ছয় মাস অস্থিরতায় ফেলে রেখেছিল। কী ছিল সে অস্থিরতা? তিনি এত শান-শওকতের মাঝেও আল্লাহর কৃপায় অনুভব করতে পেরেছিলেন নিয়তের গাফলতি। দুনিয়াবি যশ-খ্যাতি তাঁর অন্তরে বাসা বেঁধেছে। অন্তর ছিল নানান নফসের রোগে আক্রান্ত। তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর এই দীনি খেদমতই ধীরে ধীরে তাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত তিনি অন্তরে সৃষ্টি করতে পারেননি৷ পরবর্তীতে তিনি সবকিছু ছেড়ে দীর্ঘ এগারো বছর আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন হলেন। সবকিছু ফেলে চলে গেলেন সকলের চোখের আড়ালে। ডুব দিলেন নিমগ্নতায়। তিনি বিশ্বাস করতেন আধ্যাত্মিক শক্তিবিহীন কোনোকিছুই সাফল্য নিয়ে আসে না৷ নিয়তের বিশুদ্ধতা, ইখলাস অর্জন করে বস্তুজগতের সবকিছুর মোহ থেকে নিজেকে মুক্তি করে আল্লাহর ধ্যানে নিজেকে বিলীন করাই মূল সফলতা৷ তিনিই সেটাই করলেন। সূফিবাদকে তিনি আঁকড়ে ধরেছিলেন। তবে সমালোচনা করেছেন বিকৃতি সুফিদের। এ জিনিসেরই বর্তমানে আমাদের অভাব। দীনি কাজ অনেক করছি কিন্তু নিজের পরিশুদ্ধির ব্যাপারে আমরা গাফেল। ইমাম গাজালি রহঃ নিজের আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে যে আকুলতা সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে বর্তমান দাঈদের জন্য রয়েছে অন্যন্য পাথেয়। কারণ অহংকার, কিবির, হিংসা, লোভ এগুলো সকল নেকিকে ধ্বংস করে দেয়। এমন ব্যক্তির দীনি কাজও তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। নিজের শুদ্ধতাকে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন ইমাম গাজালি রহঃ।

    ফেতনা মোকাবিলায় দূরদৃষ্টি রাখা :
    ইমাম গাজালি রহঃ এর জীবনী পড়লে আমরা দেখবো তিনি গ্রীক দর্শন, শিয়া ইসমাইলি বাতিনি মতবাদকে কতটা শক্ত হাতে দমন করেছেন। এসব ফিতনা মোকাবিলায় তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তৎকালীন সকলের থেকে আলাদা। অন্যান্য উলামায়ে কেরাম গ্রীক দর্শন ও দার্শনিকদের ইসলামের ব্যাপারে যেসব আপত্তিকর প্রশ্ন আসতো, সেগুলোকে জবাব দেওয়া বা প্রতিরোধ করাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। এর গভীরে আঘাত করার মতো শক্তি সামর্থ্য তাদের ছিল না। ধর্মবিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার ছিল তারা ততটুকুই করতেন। কিন্তু তখনকার দার্শনিকরা ছিলেন যথেষ্ট প্রখর। তারা ধীরে ধীরে বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণ শুরু করলো।
    ইমাম গাজালি বলেন,
    ” দর্শনশাস্ত্রের খুঁটির জোর পেয়েছে মানুষের দুটি মারাত্মক মন্দ স্বভাবের কারণে। তার একটি হলো, দর্শনশাস্ত্রকে পূর্ণরূপে অস্বীকার করে ইসলাম প্রতিরক্ষার কাজে প্রবৃত্ত হওয়া একদল অতি আবেগী গোষ্ঠীর অজ্ঞতা ও অপরিপক্কতা।”
    ( পড়ুন বইয়ের ৪৭ নং পৃষ্ঠা )

    তিনি গভীরভাবে গ্রীকদর্শনকে আদ্যোপান্ত পাঠ করেন। এবং তাদের চিন্তা দর্শন দিয়ে তাদেরকেই উল্টো আঘাত করেন। তিনি দার্শনিক পরিভাষা, তথ্য-উপাত্ত, মূলনীতিগুলো নিয়ে সাবলীল ভাষায় রচনার জন্য কলম তুলে নেন। তাঁর দূরদর্শিতাপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রীক দর্শনের কোমর ভেঙে দেয়। তবে তিনি ওইসব বিষয়েরই সমালোচনা করেন যেগুলো ইসলামি আকীদা বা ইসলামের হুকুম আহকামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো তিনি দর্শনের পুরো দিকটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন নি। শুধু তাদের যুক্তির অসারতাকে বিদ্রূপের সহিত জবাব দিয়েছেন। যা তাঁর গভীর মেধার সাক্ষী। ঠিক একইভাবে তাঁর জীবনীতে দেখতে পাবো যে, তিনি শিয়া ইসমাইলি মতবাদকে কতটা সূক্ষ্মভাবে প্রতিহত করেছেন৷ রচনা করেছেন অসংখ্য কিতাব। এর পাশাপাশি তিনি সেখানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সুন্নতি আশআরি সুন্নি মতাদর্শকে। আজ আমরা যেসব কিছুকে ইসলামের জন্য ফিতনা হিসেবে চিহ্নিত করছি, সে বিষয়ে আমরা কতটুকু পারদর্শী? সেই ব্যাপারে কী আমরা চূড়ান্ত গবেষণা করেছি? নাকি উরাধুরা ফতোয়া প্রকাশের ব্যতিব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছি। ইমাম গাজালি রহঃ জীবন আমাদের সেই পথ চিনতে ও পাথেয় নিতে শেখাবে।

    ৩. যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা :
    ইমাম গাজালি রহঃ মনে করতেন শরয়ি জ্ঞানের পাশাপাশি শরিয়ত-বহির্ভূত জ্ঞানও শিক্ষা করা জরুরি। তাঁর চিন্তার গভীরতা উপলব্ধি করা যায় এই পয়েন্ট থেকেই। তৎকালীন অন্যান্য উলামায়ে কেরাম যখন গ্রীক দর্শন বর্জনের নামে চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতিষবিদ্যা, গণিত সহ অন্যান্য বিষয়গুলোকেও পূর্ণভাবে বাদ দিয়েছেন। তখন ইমাম গাজালি তাঁর প্রণীত শিক্ষা ব্যবস্থায় এগুলোকে স্থান দিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, “(সকল) শরয়ি জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়াহ। কোনো শহরে যদি এ জ্ঞানের চর্চা না থাকে, তাহলে সে শহর দ্রুত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।” (পড়ুন বইটির ৮৮ নং পৃষ্ঠা) তিনি শরয়ি জ্ঞান, ফিকহি গবেষণার পাশাপাশি চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত, প্রশাসনিক শিক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে তিনি সকল ছাত্রদের আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করতেন। অন্তর পরিশুদ্ধকরণ মেহনত শাগরিদদের ওপর প্রয়োগ করতেন। যাতে তাদের সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়। আমল আখলাকে পরিপূর্ণতা পায়। অন্তর যাবতীয় কলুষতা থেকে পরিষ্কার থাকে। আমাদের দেশে দীনি শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকালে হতাশ না হয়ে উপায় নেই। ইমাম গাজালি রহঃ এর চিন্তা চেতনা আমাদেরকে আজও স্পর্শ করেনি। তবে ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন শুরু হয়েছে। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালি রহঃ এর পদাংক অনুসরণ করেছিলেন বিংশ শতাব্দীর আরেক ইমাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহঃ। তিনি নদওয়াতুল উলামা (যেটা পূর্ব থেকে দীনি শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।) এর পৃষ্ঠপোষকতায় সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর নিকট এই চিন্তা ও রূপরেখা নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। যা আসলে ইমাম গাজালি রহঃ এর প্রতিবিম্ব ছিল। তাঁর জীবনীতে শিক্ষা ব্যবস্থার চমৎকার পাঠ্যক্রমের দৃশ্যগুলো পাঠকের ভাবনার সীমানাকে আরো প্রশস্ত করবে, তাকে প্রভাবিত করবে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে। যা বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

    ৪. দরদী আলেম তৈরি করা :
    সমাজ ও রাষ্ট্রের অধঃপতনের জন্য ইমাম গাজালি রহঃ আলেমদেরকেই প্রথম দোষারোপ করেছেন। কারণ আলেমরা সঠিকভাবে এ রোগকে চিহ্নিত করতে পারে না বলেই পরবর্তীতে তা চিকিৎসা প্রয়োগেও ত্রুটি ধরা পড়ে। তিনি তর্কবিদ্যা, কালামশাস্ত্র, বাহাসকে আলেমদের জন্য খুব অপছন্দ করতেন। তিনি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা “ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন” গ্রন্থটিতে রচনা করেছেন পার্থিব সকল কিছু থেকে মুক্ত হয়ে আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার এক সিলেবাস হিসেবে। তিনি তাতে নিজের ভেতরের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে সংশোধন করার নির্দেশনাও দিয়েছেন। আর এই কাজগুলো করতে হবে আলেমদের। অথচ তারাই অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। তিনি আলেমদের মাজহাব গোঁড়ামি, ফিকহের খুঁটিনাটি-ছোটোখাটো মতভেদপূর্ণ মাসআলায় সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকাকে পছন্দ করতেন না। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখার মেহনতে আলেমরা অনুপস্থিত। এদের এক অংশ দুনিয়াকে চেপে ধরে শাসকদের সামনে পদমর্যাদার পেছনে ঘুরছে। অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথার বলার মনমানসিকতা এদের লোপ পেয়েছে। এসবের কারণে সমাজে নানান বিদআত ও কুসংস্কারের জন্ম হচ্ছে। ইমাম গাজালি রহঃ জীবন ও কর্ম বইটিতে আমরা দেখবো তিনি তৎকালীন শাসকদের সামনে তাদেরই সমালোচনা কীভাবে করতেন, এমনকি সাক্ষাতের সুযোগ না হলেও তিনি চিঠি প্রেরণ করতেন। তাদেরকে দীন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিতেন। তিনি মনে করেন এসবের জন্য দরকার একদল দরদী আলেম জামাত। যারা সাধারণ মুসলমান থেকে শুরু শাসকদেরকেও হেদায়েতের পথে আনার মেহনত করবেন। যা হবে কেবলমাত্র আখেরাতের মুক্তির আশায়। তিনি হাতে কলমে আমাদের দেখিয়ে গেছেন এর কর্মপদ্ধতি। রেখে গেছেন দৃষ্টান্ত বা নমুনা।

    উপরোক্ত চারটি বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনার দ্বারা বুঝে আসে যে ইমাম গাজালি রহঃ এর জীবনী পড়া আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া আরো বেশকিছু বিষয়ে বইটিতে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। এর ভেতর অন্যতম হলো ক্রুসেডার আগ্রাসনের ব্যাপারে ইমাম গাজালি এর অবস্থান কেমন ছিল? হাদীসের ব্যাপারে তাঁর মেহনত কতটুকু ছিল?

    বর্তমান সময়ে আমরা যারা দীনি কাজ করছি, আমি মনে করি এ বইটি তাদের জন্য গাইডবুক। ইমাম গাজালি রহঃ শুধু একজন সুফিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ-রাষ্ট্রের সফল সংস্কারক। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য দীনের নামে বা দীনের ভেতর আগত সকল ফেতনাকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করেছেন। তাঁর সেই পদ্ধতি ও মেহনতের ফসলই ছিলেন নূরুদ্দিন জিনকি এবং সালাহুদ্দিন আইয়ুবির আমলের উম্মাহর জাগরণ।

    সুতরাং উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে দরদি দিল নিয়ে কেউ যদি এই মহা মনীষীর জীবনী পাঠ করে, আমি নিশ্চিত আল্লাহপাক তাঁর অন্তরের উম্মতের কল্যাণের ফিকির পয়দা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। হোক সেটা পরিমাণে সামান্য। কালান্তর প্রকাশনী পথ চলার শুরু থেকেই পাঠকের পছন্দ ও বিশ্বাস ধরে রেখে আসছে। বইটির মজবুত বাইন্ডিং এবং ঝরঝরে সরল অনুবাদ পাঠককে আকর্ষণ করবে। কালান্তর প্রকাশনী সবসময়ই পাঠকের পছন্দ ও আস্থাকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। তার প্রমাণ তাদের প্রকাশিত বইগুলো৷

    রেটিং : ৫/৫

    মুহাম্মাদ রাশেদ আহমাদ

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top