মেন্যু
ikhlas

ইখলাস

আমলের মূলপ্রাণ ইখলাস। যে আমলে ইখলাস নেই সে আমল প্রাণহীন শরীরের মত। প্রাণহীন শরীর যেমন ওই ব্যক্তির কোনো কাজে আসে না; কেউ তাকে আক্রমণ করলে প্রতিহত করে পারে না—ইখলাসবিহীন আমলও... আরো পড়ুন
পরিমাণ

58  80 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

- ৫৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি আমল চেকলিষ্ট।

- ৮৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি বই।

6 রিভিউ এবং রেটিং - ইখলাস

5.0
Based on 6 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    মোছাঃ আতিকা সুলতানা:

    বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
    সমস্ত প্রশংসা আল্লহ তাআ’লার। দরূদ ও সালাম মানবতার মুক্তির দূত রসূল (সঃ) এর জন্য।

    📗একনজরে বইটিঃ

    বই : ইখলাস
    মূল : শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
    অনুবাদ : জোজন আরিফ
    সম্পাদনা : মুফতি রেজাউল কারীম আবরার
    প্রচ্ছদ : কাজী সফওয়ান
    পৃষ্ঠা : ৫৫
    মুদ্রিত মূল্য : ৮০ টাকা মাত্র
    প্রকাশকাল : এপ্রিল ২০১৮
    প্রকাশনায় : কালান্তর প্রকাশনী
    ধরন: ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা

    📗সংক্ষিপ্ত আলোচনাঃ
    ইখলাস ইবাদতের প্রাণ। তাই এটি সম্পর্কে জানা প্রতিটি ইবাদতগুজার মুসলিমের কর্তব্য। এ বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ। তিনি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বইটিতে তুলে ধরেছেন ইখলাসের পরিচয়। আল্লহ তাআ’লা শায়েখকে উত্তম যাজা দান করুন।
    ৫৫ পৃষ্ঠার এই বইটি সাজানো হয়েছে ১২ টি বিষয় দিয়ে। ইখলাস কাকে বলে, কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইখলাস কি, ইখলাস প্রসঙ্গে সালাফদের বক্তব্য কি, আল্লহ তাআ’লা লোক দেখানো বা রিয়া আমল পছন্দ করেন না, ইখলাসের পুরস্কার কি, ইখলাস না থাকার পরিণতি কি, ইখলাস ও সালাফদের অবস্থান কেমন, ইখলাসের আলামত কি, ইখলাস সম্পর্কিত কতিপয় বিষয়সমূহ, রিয়ার আশঙ্কায় আমল ছেড়ে দেওয়া যাবে না, পরিশিষ্ট এবং অনুশীলনি।
    “ইখলাস” শব্দটি আরবি “আখলাস” শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হল পবিত্র করা এবং অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত না করা। আল্লহ তাআ’লা ইখলাস বিষয়টিকে অনেক পছন্দ করেন । এজন্য তিনি কুরআনে কারীমে সূরা ইখলাস নামে পরিপূর্ণ একটি সূরাই নাযিল করেছেন।
    দুধ আর গোবর মিশ্রিত হলে যেমন দুধের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায় তেমনি ইখলাসপূর্ণ, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল ছাড়া লোক দেখানো তথা রিয়াযুক্ত আমল করলে ইবাদত পরিপূর্ণ হয় না, নষ্ট হওয়ার শামিল।
    তাই একজন মোখলেস বান্দা-বান্দী হতে হলে প্রত্যেক মুসলিমের ইখলাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে যাতে আমলগুলো বরবাদ না হয়ে যায়। আর সম্মানিত শায়েখ “ইখলাস” নামক এই বইটিতে ইখলাস বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দর, সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন যা পড়ে প্রতিটি পাঠকহৃদয় অনুপ্রাণিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

    📗বইটি কেন পড়ব
    মূলত অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট তবে তা হতে হবে ইখলাসে পরিপূর্ণ। ইখলাসবিহীন অনেক আমল করার চেয়ে ইখলাসের সহিত অল্প আমল করলেই ফায়দাযুক্ত, আল্লহর সন্তুষ্টি অর্জনে অধিক সহায়ক। জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হল ইখলাসপূর্ণ আমল। আর “ইখলাস ” নামক এই বইটিতে তা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বইটি পড়লে আল্লাহর দরবারে কবুল যোগ্য, ইখলাসপূর্ণ আমল করা সকলের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ইংশা আল্লহ তাআ’লা।

    📗 ভালোলাগাঃ
    ১. বইটিতে কুরআন, হাদিসের অনেক দলিল থাকায় সহজে বোধগম্য একটি বই।
    ২. বইটির ভাষাশৈলী সহজ, সরল, প্রান্জল।
    ৩. বইটি কভার পেজ থেকে শুরু করে প্রতিটি পাতা অনেক সুন্দর, প্রিন্টিং, বাইন্ডিং অনেক সুন্দর।
    এককথায় বলতে গেলে প্রতিটি পাঠক পড়লেই বুঝতে পারবেন এই বইয়ের গুরুত্ব কতখানি।

    📗উপসংহারঃ
    কালান্তর প্রকাশনীর প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এমন একটি বই উপহার দেওয়ার জন্য। বইটি প্রকাশের জন্য যারা অর্থ, মেধা, শ্রম দিয়ে সাহায্য করেছেন তার বিনিময়ে আল্লহ তাআ’লা উত্তম বিনিময় দান করুন। আমরা সবাই যেন ইখলাসপূর্ণ, কবুলযোগ্য আমল করতে পারি মহান রবের কাছে সেই তৌফিক চাই।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    নোমান মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ:

    বইঃ ইখলাস
    মূলঃশায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
    ভাষান্তরঃ জোজন আরিফ
    সম্পাদনাঃ মুফতি রেজাউল কারীম আবরার
    ধরনঃ ইমান,আকিদা
    প্রচ্ছদঃ কাজী সফওয়ান
    অনলাইন পরিবেশকঃ রকমারি,নিয়ামাহ,বইপার্ক,
    প্রকাশকালঃ এপ্রিল ২০১৮
    প্রকাশকঃ কালান্তর প্রকাশনী
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৬
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৮০
    পঠিত বইয়ের ধরনঃ হার্ডকপি(প্রথম সংস্করণ)
    পার্সোনাল রেটিংঃ ৫/৫

    বি’ইসমিহি তায়ালা
    “ইখলাস”(الإخلاص) অর্থ হলো পবিত্র করা,বাছাই করা।
    প্রশ্ন আসতে পারে কি বাছাই করবো? কিসের থেকে পবিত্র করবো? কেন করবো? কার জন্য করবো? করলে কিভাবে উপকৃত হবো? আর না করলে কি আছে কোনো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার দুঃসংবাদ?
    প্রিয় পাঠকবন্ধু,
    ইমান আনয়নের পর একজন মুসলিম ব্যক্তির করণীয় হলো “নেক আমল”। আর এই নেক আমল সমুহকে বাছাই করে, নিফাকত থেকে পবিত্র করে,কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে, সওয়াবের আশায়,আল্লাহর জন্য করাটাকেই বলা হয় ইখলাস।
    “ইখলাস” হলো সকল নেক আমলের মূলভিত্তি।
    কেমন মূলভিত্তি?
    চলুন তা জেনে নিবো দুটি হাদিস থেকে
    ১)রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা ঘরে ও বাজারে (একাকী) আদায় করা অপেক্ষা পঁচিশ গুণ বেশি সওয়াব।কেননা, তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অজু করে এবং কেবল নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়,তখন মসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার প্রতি কদমে আল্লাহ একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন ও একটি গোনাহ মাফ করে দেন। আর মসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে তথায় অবস্থান করে, ততক্ষণ তাকে নামাজের মধ্যে শামিল ধরা হয় এবং যতক্ষণ সে অজু অবস্থায় নামাজের জায়গায় অবস্থান করে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে,” হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন,হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন।” তোমাদের যে কেউ যতক্ষণ (মসজিদে) নামাজের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ তাকে নামাজের মধ্যে আছে বলে গণ্য করা হয়।’
    -সহিহ বুখারি : ২/৬১৮
    দেখুন,এই ব্যক্তি জামাআতে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে কেবল মসজিদে গমন করেছে এবং অজুর সাথে মসজিদে অবস্থান করেছে। কিন্তু তাতে “ইখলাস” থাকার ফলে সে কতবড় প্রতিদান পেয়েছে।
    ২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং (উটের) রশি ব্যতীত আর কিছুর নিয়ত করলো না, সে যা নিয়ত করলো তাই তার প্রাপ্য হবে।’
    – সুনানু নাসাই : ৩/৩১৪০
    আর দেখুন এই ব্যক্তি জিহাদের ময়দানে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়েছে।কিন্তু গনিমত লাভের নিয়ত করার কারনে তথা “ইখলাস” না থাকার কারনে সে প্রতিদানে কেবল কেবল ঐ সামান্য উটের রশিই পাবে। আখিরাতে আর কোনো প্রতিদান তার পাওনা রইলোনা।

    উল্লেখিত দুইজনের কৃতকাজ দুটি নিঃসন্দেহে প্রথম সারির নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রথমোক্ত ব্যক্তির আমল অল্প তবে ইখলাস পূর্ণ হওয়ায় তার ফলাফল বেড়ে গেছে অনেক গুণে…
    আর দ্বিতীয় জনের আমল অনেক বড়,কিন্তু তাতে ইখলাস না থাকায় ফলাফল হলো শুন্য।
    সুতরাং বুঝা-ই যায় যে,সকল নেক আমলের মূলভিত্তি হলো ইখলাস। ইখলাস এর উপর ভিত্তি করেই নেক আমলের প্রতিদান নির্ধারিত হবে।
    এই ইখলাস সম্পর্কে লিখা শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ হাফিজাহুল্লাহ এর প্রামাণ্য গ্রন্থ “ইখলাস” যাতে রয়েছে ইখলাসের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়,ইখলাস সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের বক্তব্য,সালাফদের বক্তব্য, ইখলাসের উপকারিতা, ইখলাস না থাকার পরিণতি, ইখলাস অর্জনের উপায় সহ ইখলাস সম্পর্কিত আরো নানা বিষয়ে স্বল্প পরিসরে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বইটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলা ভাষা-ভাষী পাঠক সমাজের জন্য অনুবাদ করেছেন তরুণ লেখক ও অনুবাদক জোজন আরিফ।
    আশা করি বইটি পাঠক বন্ধুদের নিকট সুখপাঠ্য বলে বিবেচিত হবে।
    পরিশেষে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার মুখলিস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমিন ইয়া রাব্বে কারিম…
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    Fabiha binte kashem:

    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালাতু ওয়াসসালামু আ’লা রাসূলুল্লাহি।
    ‘তোমার ইমান খাঁটি করো, অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।’ (বায়হাকি, শুআবুল ইমান, হা. ৬৪৪৩)
    প্রতিদিন কতশত ইবাদাত করে আমরা উল্টে ফেলছি।আমাদের অন্তরে যদি ইখলাস ই না থাকে,তবে এইসব ইবাদাতের কি মূল্য? ইখলাসবিহীন আমল-ইবাদাত প্রাণহীন শরীরের মত। রাসূলুল্লাহ (সা) এর হাদিসটি আমাদের কে সেদিকেই ইঙ্গিত করে।
    🌱 আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন ইরশাদ করেছেন –
    ‘খালেস আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। ‘
    এর অর্থ দাঁড়ায় অন্য কোন বৈধ বা অবৈধ কারণে কোন আমল বা ইবাদাত করলে কিংবা লোক দেখানোর নিয়্যাতে আমল করলে তা মুখলিস আমল হবে না। আমল- ইবাদাত হতে হবে কেবলই মহান আল্লাহর জন্য। ইখলাসবিহীন আমল সংখ্যাতীত হলেও তা আপনাকে জাহান্নামের দিকেই ধাবিত করবে।রাসূলের হাদীস অনুযায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপকৃত প্রথম মাখলুক হবে,কুরআন তিলাওয়াতকারী,দান-সাদকাকারী এবং আল্লাহর রাস্তায় লড়াইকারী মুজাহিদগণ। কারণ,তাদের আমলে ইখলাসের অভাব ছিলো এবং তারা রিয়া তথা লোক দেখানো আমল করতো। লোকের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য করা আমল হলো রিয়ার বহিঃপ্রকাশ।কিন্তু রিয়ার আশংকায় কোন আমল ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। বরং আমাদের উচিত ইখলাস অর্জনের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।আবার,কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমল প্রকাশ করা সুন্নাত। কিছু আমল প্রকাশ্যে বা গোপনে দুইভাবেই করা যায়। তবে প্রকাশ্যে আমল করে কেউ যদি রিয়ার আশংকা করে,সেক্ষেত্রে আমল গোপনেই করা উত্তম। বক্ষ্যমান বই “ইখলাস” এ পাঠককে শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ উপহার দিচ্ছেন ইখলাসের তথ্যবহুল জ্ঞানভান্ডার।
    🌱 কেন বইটি পড়বেন : বইটিতে ইখলাসের খুটিনাটি সব তথ্য চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই বই পড়লে পাঠক যা জানবেন –
    – ইখলাস পরিচয়
    – কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে ইখলাসের গুরুত্ব
    – মুখলিস আমলকারী এবং ইখলাসবিহীন আমলকারীদের পরিণতি
    – ইখলাসের আলামত
    – আল্লাহর কাছে ইখলাসবিহীন আমলের অবস্থান
    – সালাফদের জীবনে ইখলাসের অবস্থান ইত্যাদি।

    🌱 সমালোচনা : সকল উত্তম কাজই গঠনমূলক সমালোচনার দাবীদার। একজন পাঠক ও দ্বীনি ইলমের জ্ঞান পিয়াসী হিসেবে আমি সেটাই মনে করি। বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে ছোট পরিসরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সব আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। শায়খ মুনাজ্জিদ অত্যন্ত সহজ সাবলীল ভাষায় ইখলাস সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বক্ষ্যমান বইটিতে বিশ্লেষণ করেছেন। সাথে যোগ করেছেন এমন কিছু উদাহরণ যা আমরা দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। আর জোজন আরিফের প্রাঞ্জল অনুবাদ দক্ষতা বইটিকে আরও সহজবোধ্য করে তুলেছে। যা বইটিকে সকল শ্রেণী ও বয়সের পাঠকদের কাছে সমপরিমাণ সমাদৃত করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস।
    🌱 ভালো লাগা কিছু কথা :
    ১) কোনো রকম খুঁত বা অপবিত্রতা থেকে কলবকে পবিত্র করার নামই ইখলাস।
    ২) ইখলাস হলো সকল ইবাদাতের অন্তঃসার ও উদ্দীপনা। এর উপর ভিত্তি করেই আমল কবুল করা হয় অথবা প্রত্যাখ্যাত হয়।
    ৩) দেহের অঙ্গ – প্রত্যঙ্গসমূহের চেয়ে অন্তরের আমলসমূহের জন্য অধিক সচেতনতা ও মুজাহাদা প্রয়োজন।
    ৪) ইখলাস থাকার কারণে কোনও ব্যক্তি আমল করতে অক্ষম হলেও তারা সওয়াব লাভের সৌভাগ্য অর্জন করে।

    বক্ষ্যমান বইটির পেছনে শায়খ মুনাজ্জিদ,জোজন আরিফ এবং রেজাউল কারীম আবরারের যে নেক নিয়্যাত ও পরিশ্রম ,আল্লাহ তাআলা তা যেন কবুল করেন এবং তাদের জাযায়ে খাইর নাসীব করেন।

    বই : ইখলাস
    মূল : শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
    অনুবাদ : জোজন আরিফ
    সম্পাদনা : মুফতি রেজাউল কারীম আবরার
    প্রচ্ছদ : কাজী সফওয়ান
    পৃষ্ঠা : ৫৫
    মূল্য : ৮০ টাকা মাত্র
    প্রকাশকাল : এপ্রিল ২০১৮
    প্রকাশনায় : কালান্তর প্রকাশনী

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    Md. Shakil hossain:

    ❀ সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর। তাঁর প্রশংসিত রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বর্ষিত হোক রহমত ও শান্তির ধারা। আর আমি আমার অন্তরের এবং কর্ম রাশির অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহার চাচ্ছি।

    বইয়ের আলোচ্য বিষয়ঃ—
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ❀ ইখলাস হচ্ছে সকল আমলের মূল। শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদের ছোট এ বইটি ইখলাস নিয়ে রচিত অসাধারণ এক সংকলন। ইখলাস এর সংজ্ঞা, সালাফদের ইখলাসের ঘটনা, ইখলাসের পুরস্কার, ইখলাস না থাকার পরিণতি, ইখলাসের আলামত ইত্যাদি বিষয়গুলো পয়েন্ট আকারে দলিল ভিত্তিক আলোচনা হয়েছে এই বইতে। এছাড়া বইতে রিয়া নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

    ❀ ইখলাসের পুরস্কারসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমল কবুল হওয়া, জান্নাত লাভ করা, ফিতনা থেকে বাঁচা, শয়তানের ওসওয়াসা থেকে পরিত্রান পাওয়া ইত্যাদি। ইখলাস থাকলে অল্প আমল করেও অনেক সময় বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, অথচ ইখলাস বিনা বেশি আমলেও সওয়াব কম হতে পারে, একেবারে ইখলাস না থাকলে তো সওয়াবই হবে না। আরেকটি পুরস্কার হচ্ছে নিয়তের কারণে সওয়াব লিপিবদ্ধ হবে, যদিওবা সে আমল করা হয় নি। শর্ত হল নিয়তে ইখলাস থাকতে হবে। ইখলাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিয়ে নিবেন।

    ❀ ইখলাসের বেশ কিছু আলামত নিয়ে বইতে বলা হয়েছে যেগুলো দেখে বুঝতে পারবেন আপনার আমলে ইখলাস আছে কিনা। যার আমলে ইখলাস থাকবে তিনি আমলের প্রতিদান মানুষের কাছে চাইবেন না, আমল করে প্রশংসা পাওয়ার ইচ্ছা তার জাগবে না। তিনি গোপনে অধিক নেক আমল করবেন আর তা করবেন সুন্দরভাবে, পরিপাটিরুপে।

    ❀ কখন আমলে রিয়া হবে? রিয়ার আশংকায় কি আমল ত্যাগ করা যাবে? আমলের শুরুতে যদি নিয়ত সহীহ থাকে, তারপর রিয়া ঢুকে যায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যক্তি কী করবে- ইত্যাদি প্রশ্নের জবাবও বইতে দেয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে লেখক কয়েকটি ধাপে প্রত্যেক প্রশ্নকে বিশ্লেষণ করে একাধিক দৃশ্যকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন যাতে পাঠকের কাছে জবাব পরিষ্কার হয়ে যায়। এছাড়া সালাফদের ইখলাসের অনবদ্য কাহিনী ও ইখলাস নিয়ে তাদের উক্তিগুলোর সংকলনও করা হয়েছে এ বইটিতে।

    কেন পড়বেনঃ—
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ❀ কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় ইখলাসের কথা এসেছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমার আমলকে ইখলাসপূর্ণ তথা খাঁটি করো। অল্প আমলই পরকালে তোমার মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে।’ এই বইটি পড়লে পাঠক জানতে পারবেন কীভাবে রিয়া তথা লৌকিকতামুক্ত ইবাদত করতে হবে, কীভাবে ইবাদত করলে আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে।

    ভালো লাগাঃ—
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ❀ বইটিতে সাবলীল অনুবাদ ও ভাষার সাহিত্যগুণ। প্রতিটি বিষয়ের সাথে টিকা ও নিচে রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে। যা বইয়ের মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাছাড়া বইয়ের পৃষ্টাসজ্জা, পৃষ্ঠামান এবং বানান শুদ্ধতা বেশ প্রশংসনীয়। প্রতিটা শব্দ, বাক্য ই হৃদয় ছুয়ে গেছে।

    মন্তব্যঃ—
    ▔▔▔▔▔▔
    ❀ আমাদের কালিমার সাক্ষ্যতে যত ইখলাস থাকলে কিয়ামদের দিন ওজনের পাল্লায় তা তত ভারী হবে। ইখলাসপূর্ণ কালিমার সাক্ষ্য আর সবকিছু থেকে ভারী হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের যেন তাওফিক দেন। কালান্তর প্রকাশনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, এমন একটি মূল্যবান বই উপহার দেওয়ার জন্য। হে আমার রব! লেখক, অনুবাদক, প্রকাশনী ও বইটির সাথে জড়িত সকলের পরিশ্রমকে ইসলামের জন্য কবুল করে নিন। আমীন।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    mr.tahmid:

    ইখলাস হচ্ছে সকল আমলের মূল। শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদের ছোট এ বইটি ইখলাস নিয়ে রচিত অসাধারণ এক সংকলন। ইখলাস এর সংজ্ঞা, সালাফদের ইখলাসের ঘটনা, ইখলাসের পুরস্কার, ইখলাস না থাকার পরিণতি, ইখলাসের আলামত ইত্যাদি বিষয়গুলো পয়েন্ট আকারে দালিলিকভাবে আলোচনা হয়েছে বইতে। এছাড়া বইতে রিয়া নিয়েও আলোচনা এসেছে।

    ইখলাসের পুরস্কারসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমল কবুল হওয়া, জান্নাত লাভ করা, ফিতনা থেকে বাঁচা, শয়তানের ওসওয়াসা থেকে পরিত্রান পাওয়া ইত্যাদি। ইখলাস থাকলে অল্প আমল করেও অনেক সময় বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, অথচ ইখলাস বিনা বেশি আমলেও সওয়াব কম হতে পারে, একেবারে ইখলাস না থাকলে তো সওয়াবই হবে না। আরেকটি পুরস্কার হচ্ছে নিয়তের কারণে সওয়াব লিপিবদ্ধ হবে, যদিওবা সে আমল করা হয় নি। শর্ত হল নিয়তে ইখলাস থাকতে হবে। ইখলাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিয়ে নিবেন, আর কী চাই?;

    ইখলাস না থাকার পরিণতিতে আমল কবুল হয়না, ফিরিয়ে দেয়া হয়, জাহান্নামের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

    ইখলাসের বেশ কিছু আলামত নিয়ে বইতে বলা হয়েছে যেগুলো দেখে বুঝতে পারবেন আপনার আমলে ইখলাস আছে কিনা। যার আমলে ইখলাস থাকবে তিনি আমলের প্রতিদান মানুষের কাছে চাইবেন না, আমল করে প্রশংসা পাওয়ার ইচ্ছা তার জাগবে না। তিনি গোপনে অধিক নেক আমল করবেন আর তা করবেন সুন্দরভাবে, পরিপাটিরুপে।

    কখন আমলে রিয়া হবে? রিয়ার আশংকায় কি আমল ত্যাগ করা যাবে? আমলের শুরুতে যদি নিয়ত সহীহ থাকে, তারপর রিয়া ঢুকে যায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যক্তি কী করবে- ইত্যাদি প্রশ্নের জবাবও বইতে দেয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে লেখক কয়েকটি প্রত্যেক প্রশ্নকে বিশ্লেষণ করে একাধিক দৃশ্যকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন যাতে পাঠকের কাছে জবাব পরিষ্কার হয়ে যায়। যেমন- কেউ আমলের শুরুতে নিয়ত ভাল রাখল, কিন্তু পরে রিয়া ঢুকল আর সে তাতে খুশী হয়ে অপরকে খুশী করানোর জন্য আমল করলে আমল বাতিল। কিন্তু কেউ যদি অন্তরে রিয়ার খেয়াল আসার পর সে খেয়াল প্রতিহত করে আল্লাহর জন্য আমল করার চেষ্টা করে তাহলে সে ডাবল সওয়াব পাবে। কারণ, ১/ সে শুরুতে শুধু আল্লাহর জন্য আমলের নিয়ত করেছিল ২/ অন্তরে রিয়ার খেয়াল আসার পর সে তা প্রতিহত করার চেস্টা করেছে, আমল ছেড়ে দেয় নি। এভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এসব ব্যাপারগুলো বইতে বুঝানো হয়েছে, যা ভাল লেগেছে। এছাড়া সালাফদের ইখলাসের অনবদ্য কাহিনী ও ইখলাস নিয়ে তাদের উক্তিগুলোর সংকলনও করা হয়েছে এ বইতে।

    ভালো লাগাঃ
    ১।বইর সাবলীল অনুবাদ ও ভাষার সাহিত্যগুণ।
    ২।আধুনিক বানানরীতি
    ৩।লেখকের আলোচনাগুলো বরাবরের মতই অসাধারণ, ইলমসমৃদ্ধ ও দালিলিক।
    ৪। বইয়ের কোয়ালিটি, পেজ সেটআপ, বানান সবকিছুই যথার্থ ছিল।
    বইর সবকিছুই ভাল লেগেছে, খারাপ লাগার মত কিচ্ছু নেই।

    শেষ কথাঃ আমাদের কালিমার সাক্ষ্যতে যত ইখলাস থাকলে কিয়ামদের দিন ওজনের পাল্লায় তা তত ভারী হবে। ইখলাসপূর্ণ কালিমার সাক্ষ্য আর সবকিছু থেকে ভারী হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের যেন তাউফিক দেন।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top