মেন্যু


হিউম্যান বিয়িং শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব

প্রকাশনী : নাশাত

সম্পাদক : মুহাম্মাদ আফসারুদ্দীন
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৬০
বাঁধাই : হার্ডবোড
কাগজ : ৮০ গ্রাম পেপারটেক অফহোয়াইট

পুরো পাশ্চাত্য সভ্যতা যেই দার্শনিক সত্তার উপর দাঁড়িয়ে আছে তাকে বলা হয় হিউম্যান বিয়িং। পশ্চিমা সামাজিক বিজ্ঞান এই নির্দিষ্ট সত্তাকে নিয়েই কাজ করে। সামাজিক বিজ্ঞানের মতো ব্যক্তির এই নির্দিষ্ট ধারণা এবং সংজ্ঞাও এনলাইটেনমেন্টের ফসল। হিউম্যান বিয়িং নিছক কোন মানুষ না। সে এক নির্দিষ্ট চিন্তার, বিশেষ ধরনের মানুষ। হিউম্যান বিয়িং এমন কেউ, যে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বতঃসিদ্ধ সত্য হিসেবে মেনে নেয়। যে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অমুখাপেক্ষী মনে করে। বিভিন্ন জীবনব্যবস্থা ও দর্শনকে সে মূল্যায়ন করে কেবল একটি মাপকাঠি দিয়ে। সেটা হলো মানবিক চাহিদা। মানবিক চাহিদা ও কামনা-বাসনার সীমাহীন পূর্ণতাই এই হিউম্যান বিয়িং-এর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।

হিউম্যান বিয়িং হলো পাশ্চাত্যের ক্রীতদাস। সে পাশ্চাত্যের দাসত্বকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছে। সে নিজেকে সব জায়গায় একজন পশ্চিমা দাস হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। চেতনে কিংবা অবচেতনে সে পুঁজিবাদের গোলামি করে। বিস্তারিত জানতে বইটি পড়ুন।

পরিমাণ

154  220 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

6 রিভিউ এবং রেটিং - হিউম্যান বিয়িং শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    হিউম্যান বিয়িং বইটি প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য পাঠ্য ৷ ইমান এবং কুফরের চলমান সংঘাত কে সহজে বুঝতে এই বইয়ের ঝুড়ি মেলাভার ৷ ইফতেখার সিফাত ভাই ইসলামের সাথে অন্যকোন মতের মিশ্রণ করেন নি ৷ ইসলাম সহজ এবং সরল ৷ তিনি ইসলাম কে সেভাবেই ব্যাখা করেছেন ৷ অপর দিকে কুফর জটিল এবং সহজে বোধগম্য নয় ৷ যদিও মাঝে মাঝে সহজে বুঝে আসে, তবে এর ভেতরের অবস্থান হয় অত্যন্ত নোংরা ৷
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    অসাধারণ একটি বই ! যারা দ্বীনের পথে নতুন ফিরেছেন তাদেরকে বইটি একবারের জন্য হলেও পড়ে দেখতে সাজেস্ট করব।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    ভূমিকার পর প্রথমেই “পরিভাষার চোরাবালি” অধ্যায় দিয়ে শুরু করাতে একটু অবাক হয়েছিলাম। বইয়ের নাম কিংবা উদ্দেশ্যের সাথে এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় নি। কিন্তু বইয়ের সামনে যতই আগালাম, ততই মনে হলো এই অধ্যায়টা প্রথমে না রাখলে অনেক শব্দের ভ্রান্তি মাথায় ঢুকতো না।

    এবার যাই এর পরের অধ্যায়ে- “আধুনিক পশ্চিমের শেকড়” :
    এই অধ্যায়ে গ্রিক, রোমান সভ্যতা থেকে উপনিবেশবাদ হয়ে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পশ্চিমা সভ্যতাগুলোকে আটটি ধাপে ভাগ করে, কোন ধাপ থেকে কি কি গ্রহন করেছে তার আলোচনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বর্তমান সময়ের কিছু সংস্কৃতি, যেগুলোকে আমরা অনেক অত্যাধুনিক মনে করি সেগুলোর আদি উৎস জানতে পারলাম।

    এরপরের অধ্যায় “পাশ্চাত্য সভ্যতার সৃষ্টি ” –
    আগের আলোচিত আটটি ধাপ থেকে বের করে আনা তিনটি মূলনীতি(স্বাধীনতা, সমতা এবং উন্নতি) বনে যায় বর্তমান সভ্যতার মৌলক বিশ্বাস – আকিদা। বাই দ্যা রাস্তা, এগুলোর কিন্তু নিজস্ব ব্যাখাও আছে। যে কেউ এগুলোকে নিজের মতো করে বিশ্লেষণ করতে নিজের ভিতরে ফিট করতে গেলেই চলে আসে আসল ঝামেলা, মানে “পরিভাষার চোরাবালি”-তে পা দেওয়া শেষ। ইসলামের দৃষ্টিতে এই তিনটি কেমন, তার আলোচনাও করা হয়। যদিও প্রথমে আম-ভাবে এই তিনটি শব্দের সাথে ইসলামের আপাত কোনো সংঘর্ষ নেই বলে মনে হয় কিন্তু এই তিনটি শব্দকে নিয়ে পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাস,বর্তমান আর ভবিষ্যৎ সপ্নের দিকে তাকালেই দেখা যাবে, পুরা ১৮০ ডিগ্রী মুখোমুখি অবস্থানে।

    ” পাশ্চাত্যের কিছু মতবাদ” –
    তিনটা পয়েন্ট নিয়ে হাল্কাপাতলা আলোচনা হয়। ফেমিনিজম, ইন্টারফেইথ আর মুক্তচিন্তা। ফেমিনিজম নিয়ে পুরোদোস্তর জানতে ডা. শামসুল আরেফিন শক্তি এর ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-২ সাজেশন দেয়, ইন্টারফেইথ এরজন্য “ইসলাম ও কোয়ান্টাম মেথড” আর মুক্তচিন্তা নিয়ে মুহাম্মাদ আফসারুদ্দিন এর “ইসলাম ও মুক্তচিন্তা” সাজেস্ট করা হয়।

    “হিউম্যানিজমঃ আইন ও অথরিটি” –
    বইয়ের নামের সাথে মিল পাওয়ার জন্য পুরো ৯২ টা পৃষ্ঠা পাড়ি দেয়া লাগলো এবং এখানেই এসে আসল চ্যাপ্টার শুরু। এখানে, এসে একের পর এক আঘাত হানা হয়েছে পশ্চিম সংজ্ঞায়িত “হিউম্যান রাইটস”কে। এই দুটো শব্দের ফ্রেইজকে আমরা নিরপেক্ষ আর মানদণ্ড হিসেবে ধরি। এই নিরপেক্ষতার পিছনের অসারতাকে খুজে পাই না চিন্তারসল্পতার কারনে। উত্তর দেয়া হয়েছে এমন একটি প্রশ্নের যেটা নিয়ে অনেক মুসলিম শব্দের মারপ্যাচে পড়ে যায়( ” আপনি মানুষ নাকি মুসলিম?”)। আলোচনা করা হয়েছে কেন হিউম্যান রাইটস নিরপেক্ষ নয় আর ইসলাম সংজ্ঞায়িত বান্দার হকের সাথে এর পার্থক্য কোথায়।

    “ইসলাম এবং সেকুলারিজম ” –
    এই অধ্যায়ে প্রথমে গনতান্ত্রিক রাস্ট্রের বাস্তবতা বুঝার জন্য General Will এবং Will of All এই দুই শব্দের পার্থক্যকে মাথায় রাখা হয়। অতপর, তাত্ত্বিক আর বাস্তবতা উভয় দিক থেকে এটা প্রমান করেন যে, সেকুলারিজম নিজেই একটি ধর্ম যেটারও ভালো খারাপের নিজস্ব ভিত্তিতে সংজ্ঞা আছে, যদিও আমজনতারা একে উদার মনে করি । ইসলামের সাথে সংঘর্ষ কোথায় তা বলা হয়। ইসলাম কেন সেকুলারিজম টলারেট করে না এ নিয়েও ভালো আলোচনা হয়। শেষে, সেকুলারিজমের ইসলামীকরন করতে গিয়ে বহুল ব্যবহৃত “মদীনার সনদের” কথা এবং আলোচনা করা হয়, মদীনার সনদ কেন ইসলামী রাস্ট্রের ভিত্তি নয়।

    “ল’অফ পিপলস”-
    দার্শনিক John Rawls এর “The Law of People”-বইয়ে মানুষকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করার কথা। লিবারেল, ডিসেন্ট আর আউট ল’ এই তিন ক্যাটাগরি এর এদের সাথে কিভাবে আচরন করবে এই নিয়ে একটু ধারনা আগে থেকে(RAND এর সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম রিপোর্টের ভিত্তিতে) থাকলেও একটা শ্রেনী নিয়ে এদের উদ্দেশ্য নিয়ে ধারনা ছিলো না। কারন, স্বভাবতই পশ্চিমা পলিসি কখনোই প্রোফিট ছাড়া এমন ত্যাগ করার কথা মাথায় আনতে পারেনা। এই বারডেন্ড শ্রেনী যাদের সাথে এনজিও সহ নানান ধরনের সংগঠনের মাধ্যমে এমনভাবে টাকা ঢালা হচ্ছে, যার ফলে এরা লিবারেল আর ডিসেন্ট শ্রেনীতে উন্নতি(!) করতে পারে।
    এরপর, আলোচনা করা হয় RAND কতৃক মুসলিমদের ভাগ করা চারটি ক্যাটাগরি আর এদের সাথে কিভাবে আচরন করা হবে তা নিয়ে। সেগুলো হলো- ফান্ডামেন্টালিস্ট , ট্রাডিশনালিস্ট, মডারেট আর সেকুলারিস্ট।

    এবার লেখক উপসংহারে গিয়ে,এই পশ্চিমা সভ্যতাকে হুমকিতে ফেলতে পারে এমন এক সভ্যতার কথা বলেন এবং এতে মুসলিম সমাজের করনীয় কি তা আলোচনা করেন।

    এবার বইটি নিয়ে দুটি দিক নিয়ে কথা আলোচনা করি, যা করলে বইটি আরো সহজ পাঠ্য হতো –

    ১. অনেক কিছুর উদাহরন প্রয়োজন ছিলো যা লেখক করেন নি। সাধারন পাঠক হিসেবে ধরতে কস্ট হয়েছে। যেমন- রোমান সভ্যাতার মানুষের মাঝে একই সাথে প্রবৃতি দমিয়ে রাখা আর বিলাসিতার মতো দুটো বিপরীতমুখী প্রবনতা কাজ করার ক্ষেত্রের কয়েকটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা বুঝতে সহজ হতো।

    ২. কয়েকটা জায়গায় কিছু ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুর সাল দেয়া দরকার ছিলো। যেমন- মধ্যযুগের ( সময়ের ব্যাপ্তিটা প্রায় হাজার বছর) সেন্ট থমাস একুইনাস কোন সময়ের মুসলিমদের প্রশ্নের জবাব দেন এই বিষয়টা প্রথম পাঠে ক্লিয়ার ধারনা পাওয়া যায় নি।

    উপরে উল্লেখিত দুইটি পয়েন্টই কোনো ভুল কিছু না, এই দুইটি পয়েন্ট উল্লেখ করলে প্রথম রিডিংয়েই ব্যাপারগুলো ধরা যেতো এই।

    আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন,অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এত সুন্দর উপস্থাপনা নিয়ে সামনে নিয়ে আসার জন্যে।

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    খুবই সুন্দর একটি বই!
    বইটি তাদের জন্য খুবই উপকারী হবে, ইনশাআল্লাহ; যারা পরিপূর্ণভাবে ইসলাম মানতে চায়।
    আল্লাহ লেখককে অতি উত্তম প্রতিদান দান করুক।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    ▣ বর্তমান যুগকে আমরা বলে থাকি আধুনিক যুগ,বিজ্ঞানের যুগ কিংবা তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বলা হয়ে থাকে বর্তমানে মানুষের হাতের মুঠোয় রয়েছে পুরো বিশ্ব। আধুনিক চাকচিক্যময় এদুনিয়ায় ধর্মকে আজকাল খুবই সেকেলে মনে করেন অনেকে,বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে।

    বর্তমানে মুসলমানদের মাঝে কুরআন,সুন্নাহর দলিল থাকা সত্ত্বেও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার প্রবনতা দেখা যায়। কুরআন সুন্নাহর দলিলকে যথার্থ মনে না করার প্রবনতা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন।

    ইসলামকে নিয়ে বর্তমান পৃথিবীর অভিযোগের যেন শেষই নেই। ইসলাম কেনো দাসপ্রথা সমর্থন করে,কেনো চার বিয়ের অনুমতি দেয়,পর্দার নামে মেয়েদেরকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হয়ে দেয় না, দাড়ি কেনো রাখতেই হবে,এমন অনেক প্রশ্ন যেনো লেগেই আছে ইসলামের পেছনে।
    পাশ্চাত্য সভ্যতা বিশ্বনেতৃত্বের আসন গ্রহন করার পর থেকে তাদের নিজেদের জন্য সবচেয়ে হুমকিস্বরুপ মনে করছেন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে।

    যেকোনো সভ্যতার বুনিয়াদ হলো আকিদা ও ধর্মবিশ্বাস। মানুষের ভোগ, বিলাস,অবৈধ চাহিদা পালনে পশ্চিমা সভ্যতার যেনো জুড়ি নেই।এই সভ্যতা মানুষকে সর্বোচ্চ স্বেচ্ছাচারিতার অনুমোদন দেয়। তাই ইসলামের মূল বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পাশ্চাত্য সভ্যতা একদমই সাংঘর্ষিক।

    পাশ্চাত্যের পুরো সভ্যতা আর পাশ্চাত্য দর্শন দাড়িয়ে আছে Humanism বা Human Being এর উপর। আজকে যেই বইটি সম্পর্কে আলোচনা করছি এটিও পাশ্চাত্যের দর্শনে Human Being কে কেন্দ্র করে করেই লেখা।

    ▣আসুন ক্লিয়ার করে নেই।
    Humanism বা Human Being এর মতে,মানুষ নিজে স্বাধীন এবং মানুষ এমন এক সত্ত্বা যে নিজেই নিজের ভালোমন্দ এবং যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করার মত ক্ষমতা রাখে।
    এখানেই ইসলামের সাথে অমিল কারন-

    ইসলাম বলে মানুষ আল্লাহর ‘আবদ” বা দাস কিন্তু পশ্চিমা দর্শন বলে মানুষ স্বাধীন। ইসলাম বলে বিধান দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর; কিন্তু পশ্চিমা দর্শন বলে মানুষ নিজের ভালো-মন্দের সিদ্ধান্ত নিজেই নিবে। পশ্চিমা সভ্যতা মানুষকে সংজ্ঞায়িত করেছে বিধিদানকারী হিসেবে, নিজেই নিজের নৈতিকতার স্রষ্টা হিসেবে। আর ইসলাম মানুষকে সংজ্ঞায়িত করেছে বিধি পালনকারী হিসেবে, আল্লাহ প্রদত্ত নৈতিকতার অনুগত হিসেবে।

    নিজেকে প্রশ্ন করুন, কে ‘আমি’?
    আমি কি পশ্চিমের সংজ্ঞার একজন ‘হিউম্যান’ নাকি আল্লাহর একজন ‘আবদ’ বা দাস?

    ▣ পাশ্চাত্য সভ্যতা একটি স্বতন্ত্র বিশ্বাস,স্বতন্ত্র ধর্ম। এটা তার মৌলিকত্ব, ব্যাপকতা,সর্বজনীনতা, মানুষের হৃদয় ও মস্তিষ্ক বশীভূত করার ক্ষেত্রে ইসলামের পর জন্ম নেওয়া সবচেয়ে বড় এবং ভয়ংকর ধর্ম।

    ▣ “ইসলাহ বিন কায়েস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন,
    রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাচ্যের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।তাকে জিজ্ঞেসা করা হলো, পাশ্চাত্যের ফিতনা কেমন হবে?
    নবাজী বলেন,তা তো হবে আরো অধিক ভয়ংকর।” সবচেয়ে ভয়ানক ফিতনা হলো দাজ্জালের ফিতনা।

    বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতাই দাজ্জালের জন্য মঞ্চ প্রস্তুতকারী সেই দাজ্জালি ফিতনা।

    ইহুদীরা হলো বর্তমান আধুনিক সভ্যতার মুকুটহীন সম্রাট,তারা খ্রিস্টানদেরও তাদের কাজে ব্যবহার করছে। বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই করে চলছে পাশ্চাত্য দর্শন।

    বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর ক্ষমতা যাদের হাতে রয়েছে তাদের মগজেও চেপে বসেছে পাশ্চাত্য দর্শন ও সভ্যতা।
    বিশ্বয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতিটি ঘর, পরিবার,স্কুল, কলেজ,ইউনিভার্সিটি, শিল্প -সাহিত্য, ব্যবসা,ধর্মীয় আসনসহ সবকিছুর উপর আগ্রাসী থাবা বিস্তার করেছে এই পাশ্চাত্য সভ্যতা।

    কারো সাথে একান্তে আলাপ করলেও দেখা যাবে তার চিন্তা চেতনায় পাশ্চাত্য সভ্যতার ছাপ রয়েছে।

    ▣পাশ্চাত্য সভ্যতার ভয়াবহতা মুসলিমদের মাঝে এমনভাবে বীজ বপন করেছে যা পুরোপুরি শেষ করা প্রায় অকল্পনীয়। পাশ্চাত্য সভ্যতা আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে – নাস্তিকতা,পর্নগ্রাফী, সুদি কারবার, সমকামিতার মতো ভয়াবহ কিছু মাধ্যম। বর্তমানে মুসলিম তরুনদের মাঝে মুভি,সিরিজ,ভিডিও গেইমিং, টিকটক ভিডিও গুলো যে ভয়াবহ বিস্তার করেছে,এগুলো প্রত্যকটা জিনিসই সেই পাশ্চাত্য সভ্যতারই তৈরী।

    প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার বর্তমান আধুনিক ভার্সন হলো পাশ্চাত্য সভ্যতা ও দর্শন। তারা যুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে ইসলামি,নবী-রাসূল এমনকি আল্লাহকে পর্যন্ত বিচার করতো,নাউজুবিল্লাহ।

    বর্তমানে যারা মুসলিমধর্মের উপর প্রশ্ন তোলে,খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে তাদের মূলে রয়েছে পাশ্চাত্য সভ্যতা ও দর্শন।

    ▣ ইসলামকে জাস্টিফাই করার মাপকাঠি যেমন বাইবেল হতে পারে না,তেমনি পাশ্চাত্য দর্শন ও আদর্শের ভিত্তিতে ইসলামকে জাস্টিফাই করা যাবে না।
    আল্লাহ প্রদত্ত ওহীই দ্বীন ইসলামের মূল সূত্র।যা সকল জ্ঞানের উর্ধ্বে, তাই কোনো মাপকাঠি দিয়ে ইসলামি বিধানের ব্যাপারে ভালো মন্দের সিদ্ধান্ত দেওয়া অবান্তর। বরং ইসলামই পৃথিবীর একমাত্র সঠিক ধর্ম। পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্ম নেই যেটা দিয়ে ইসলামকে বিচার করা যাবে।

    মুসলিম তরুনরা বর্তমানে সভ্যতার সেই লোকদের হাজারো আপত্তিকর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বেড়ায়, এতে হাজারো আপত্তি,সংশয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা যেনো পাশ্চাত্য মাপকাঠিকেই সঠিক মনে করছেন।

    যদি কুরআন-সুন্নাহকে ইসলামি শরীয়াহর একমাত্র মাপকাঠি ধরা হয় এবং অন্য সমস্ত সভ্যতা ও দর্শনকে মূলনীতি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয় তাহলে ইসলামের ব্যাপারে কোনো আপত্তিই থাকবে না।

    মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি নাস্তিকতা নয় বরং পাশ্চাত্য সভ্যতা।তাদের একমাত্র উৎস আল্লাহ ও তার দ্বীনের বিশ্বাস ও বাস্তব ক্ষমতা খর্ব করা।

    নাস্তিকতার চেয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার অনেক বিস্তার। নাস্তিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কিন্তু পাশ্চাত্য সভ্যতায় আকৃষ্ট এমন মুসলিমের সংখ্যাও আমাদের সমাজে কম নয়। এই সভ্যতার কবলে পড়লে ধর্মকর্ম ত্যাগও করতে হয়না,নাস্তিকায় যেমনটা ধর্মকর্ম থেকে দূরে থাকতে হয়।

    ▣ আমাদের মুসলিমদের হেরে যাওয়া মানসিকতার জন্যই পাশ্চাত্য সভ্যতা মাথা জেগে উঠেছে। আমাদেরকেও তাদের মাপকাঠিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হবে,নিজেদের মাপকাঠি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।পাশ্চাত্যের মূল কাঠামো সম্পর্কে আমাদের অবগত হতে হবে এবং সালাফে-সালেহিনের অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

    বর্তমান মুসলিমরা যেনো পাশ্চাত্য সভ্যতার সাথে ইসলামের সাম্যঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, যে জাতি নিজেদের আকিদা ও দর্শন, ভিন্ন দর্শনের সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছে, সেই জাতির মাঝে ধর্মীয় বিশ্বাস,আমল কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি।

    খিলাফাহ,ইমারাহ, শরীয়াহ,দাওয়ার পরিবর্তে যেদিন থেকে আমরা সেক্যুলারিজম,গণতন্ত্র চাওয়া শুরু করেছি। সেদিন থেকেই সমাজে খিলাফাহ, ইমারাহ শব্দগুলো জঙ্গিবাদের সমর্থক শব্দ হয়ে উঠেছে।

    ♦ বইটিতে যা যা রয়েছেঃ

    আধুনিক পাশ্চিমের শেকড় মধ্যযুগ, রেঁনেসা, ও যুক্তিবাদ ব্যক্তি ও সমাজের অবস্থান,ফরাসি বিপ্লব, তুলনামূলক ধর্মপাঠ,উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী উপনিবেশবাদ, পাশ্চাত্য সভ্যতার সৃষ্টি ও কিছু মতবাদ -নারীবাদ, মুক্তচিন্তা, ইন্টারফেইথ
    হিউম্যানিজম, সেকুলারিজম, ফান্ডামেন্টালিস্ট , ট্রাডিশনালিস্ট, মডারেট ও সেক্যুলারিস্ট মুসলিম
    ইত্যাদি,যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। বইয়ে আমরা বিষয়গুলোর বিস্তারিত দেখতে পাবো।
    বইটির বিষয়বস্তু এমন যে, আস্তিক-নাস্তিক সবার জন্য অবশ্য পাঠ্য। বাংলায় এর আগে এমন কোনো বই বের হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

    ♦পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

    প্রথমে কিছু পৃষ্ঠা পড়ে বইটির উপর আমার যে আগ্রহ জন্মেছে,তাতে আমি পুরো বইটা পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। বইটি পড়ে যতটুকু বুঝেছি তাতে মনে হয়েছে পশ্চিমা সভ্যতা ও ইসলামের দন্দ্বের পুরো বিষয়টাই বইতে স্থান পেয়েছে, সাথে সাথে এই
    সমস্যার সমাধানও বলে দিয়েছেন লেখক।
    বইটি পড়তে গিয়ে কিছু বিষয় কঠিন মনে হয়েছে তবে বুঝতে অসুবিধা হয়নি। লেখকের সহজ লেখনিতে বইয়ের বিষসবস্তুগুলো হয়ে উঠেছে সহজবোধ্য।
    বইটি এক কথায় পশ্চিমা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে। বইটিতে লেখক পশ্চিমের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছেন। আমাদের চোখে পশ্চিমের যে লেন্স রয়েছে লেখক তা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।

    এই বইটি আমার কাছে মাস্টারপিচ। এমন বই আমি আমার ২২ বছরের ছোট্ট জীবনে কখনো পড়িনি। লেখক সিফাত ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করতে চাই না। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক!

    ♦লেখক এবং সম্পাদক সম্বন্ধেঃ

    ইফতেখার সিফাত ভাই ‘হিউম্যান বিয়িং: শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব’ বইটি লিখেছেন।
    সম্পাদনায় মুহাম্মদ আফসারুদ্দিন ভাই আর সহ
    সম্পাদনা করেছেন None other than ডা. শামসুল আরেফিন শক্তি ভাই। বইখানার শর্ট পিডিএফ পড়ে পুরো বইটি পড়ার অপেক্ষায় আছি।

    ♦মন্তব্যঃ

    বর্তমানে মুসলিম সমাজে যেভাবে পাশ্চাত্য সভ্যতার চাষাবাদ চলছে,তাতে আমরা দিনকে দিনে ঈমানীশক্তি হারিয়ে ফেলছি। এর থেকে উত্তরন খুবই দরকার।
    উল্লিখিত বইটি আমাদের অনেকের চোখ খুলে দেবে ইনশাআল্লাহ এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার গ্রাস থেকে বাচঁতে সাহায্য করবে। এই বইটি শুধু একটা বই না এটি মুসলিম সমাজের জন্য একটি প্রতিষেধক।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  6. 5 out of 5

    :

    ভূমিকাঃ
    আজকের বস্তুবাদী পাশ্চাত্য সভ্যতা শুধু রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়,আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও পুরো বিশ্বের উপর প্রাধান্য বিস্তার করছে,মুসলিম বিশ্বের উপর যার প্রভাব স্পষ্ট দৃশ্যমান। সাধারণ থেকে শুরু করে আধুনিক শিক্ষিত মুসলিমরা তাই আজ পাশ্চাত্যের লেন্সে ইসলামকে দেখে,তাদের মনে ইসলামের বিধান নিয়ে নানা সংশয়-সন্দেহ। খোদ অনেক সচেতন আলেম-উলামা পর্যন্ত ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্নে পশ্চিমা স্ট্যান্ডার্ডকে ব্যবহার করে আত্নরক্ষার চেষ্টা করছে। অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেন,ইসলামই একমাত্র হক,এতে কোন সন্দেহ নেই,বাকি সবকিছুই বাতিল। তাই আমাদের উচিত ঈমানকে মজবুত করে সকল হীনমন্যতা দূরে সরিয়ে উল্টো পাশ্চাত্য সভ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ করা। এজন্য আমাদের জানা দরকার হিউম্যান বিয়িং তথা মানবসত্ত্বাকেই সৃষ্টিকর্তার আসনে বসানো পাশ্চাত্য সভ্যতার মৌলিক ভিত্তি কি,কোথায় তার আদর্শিক অবস্থান,উৎপত্তিস্থল,তাদের মোকাবেলায় আমাদের করণীয়। এসবের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হয়েছে উস্তাদ ইফতেখার সিফাত ভাইয়ের হিউম্যান বিয়িং বইতে।

    ভেতরে যা থাকছেঃ
    বইয়ের বিষয়বস্তুকে আমরা ৬টি অধ্যায়ে ভাগ করতে পারি। তবে শুরুর দিকে পরিভাষার চোরাবালি অধ্যায়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশটি পড়লে বুঝতে পারা যাবে পরিভাষার ভুল প্রয়োগ করে আমরা কতটা বুদ্ধিবৃত্তিক দৈনতার পরিচয় দিচ্ছি। অন্যান অধ্যায়ে যা থাকছেঃ
    ১.আধুনিক সভ্যতার শেকড়ঃ পাশ্চাত্য সভ্যতার যে মৌলিক ভিত্তি তার গোড়া ও ক্রমবিকাশের স্তর গ্রিক ও রোমান সভ্যতা,রেনেসাঁ,ফরাসি বিপ্লব,উপনিবেশবাদ,বিংশ শতাব্দী ইত্যাদি আলোচনা।
    ২. পাশ্চাত্য সভ্যতার সৃষ্টিঃ নতুন পশ্চিমা সভ্যতা মৌলিকভাবে যে ৩ টি বিশ্বাস বা আকিদার উপর দাড়িয়ে,
    স্বাধীনতা,সমতা ও উন্নতির পশ্চিমা ও ইসলামিক ব্যাখা।
    ৩.পাশ্চাত্যের কিছু মতবাদঃ উপরিউক্ত ৩টি বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা পাশ্চাত্যের ৩টি আন্দোলন নারীবাদ,ইন্টারফেইথ এবং মুক্তচিন্তা নিয়ে আলোচনা।
    ৪.হিউম্যানিজমঃআইন ও অথরেটিঃ নিজেকে আগে মুসলিম হিসেবে দেখব না মানুষ হিসেবে,এ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলে তা এই অধ্যায় পাঠে কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।
    ৫. ইসলাম বনান সেক্যুলারিজমঃ সেক্যুলারিজমের পোষ্টমর্টেম,ইসলামের বয়ানে তার অবস্থান।
    ৬. ল’ অফ পিপলসঃ পশ্চিমাদের শত্রু-মিত্র খোজার একটি ল’র উপর ভিত্তি করে আমেরিকান থিংক ট্যাংক কতৃক মুসলিমিদের মধ্যে আকিদাজনিত শ্রেণীকরণ।

    পর্যালোচনাঃ
    ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব নিয়ে কিছু বই থাকলেও পুরো পাশ্চাত্য সভ্যতার আসল রূপ ও তার গর্ভজাত মতবাদের উপর অপারেশন চালানো বই বাংলাতে সম্ভবত এটাই প্রথম। এই দিক থেকে বইটি অনন্য। পাশ্চাত্যের আকিদা,বিশ্বাস,যে দার্শনিক সত্ত্বার উপর তার ভিত্তি সেই হিউম্যান বিয়িং এর শেকড় থেকে জন্ম নেওয়া বিষয়গুলো ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখা করায় পাঠকের বুঝতে সহজ হবে ঈমানের উপর কতটা সূক্ষ্মভাবে এসব মতবাদ আঘাত আনে। টীকার অংশে কিছু বাংলা বইয়ের নাম থাকায় বিস্তারিত পড়াশোনারও সুযোগ থাকছে। অভিব্যক্তি অংশে জনপ্রিয় লেখক,দাঈ ডা. শামসুল আরেফিনের কথাগুলো যেকোন পাঠককে বইটি পড়তে উৎসাহ যোগাবে। মুসলমানদের মনস্তাত্ত্বিক গোলামির এই দুর্দিনে এমন বই আনাটা সময়েরই দাবী ছিল।

    সবশেষে বলতে চাই,অনেক তো হল শুধু আত্নরক্ষা করে। এবার পালা আক্রমণের। পাশ্চ্যাত মুগ্ধতার যে মূর্তি মুসলিম মানসে গড়ে উঠেছে তাকে আঘাতে আঘাতে ভেংগে ফেলতে হবে। তাই জানতে হবে পাশ্চাত্য সভ্যতার ভেতর-বাহির এবং তাকে নিয়ে ইসলামের অবস্থান। ইন শা আল্লাহ সেই প্রয়োজন পূরণ করবে এই বইটি।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No