মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

হৃদয়ের দিনলিপি

অনুবাদ : শামীম আহমাদ
সম্পাদনায় : আলী হাসান উসামা
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৬০৮
বাঁধাই ধরন : বোর্ড বাঁধাই

ইসলামি জগতে এক বিস্ময়কর ব্যতিক্রম গ্রন্থের নাম- صيد الخاطر
[বাংলা: হৃদয়ের দিনলিপি]। গ্রন্থটি লিখিত হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে লেখকের
তাৎক্ষণিক উদ্ভাসিত কিছু চিন্তা ও ভাবনার মিশ্রণে। বিচিত্র বিষয়। ইলম
ইবাদত মুআমালা মুআশারা তালিম তাযকিয়া ও তাসাউফ- সব মিলেমিশে
একাকার হয়েছে এই গ্রন্থে। এবং এক আলোকময় নির্দেশনা নিয়ে হৃদয়জগতের খোরাক জুগিয়ে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী- এবং এখনো।
যেন হাজার বছরের এক প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ। হিরন্ময় দরদী কথাগুলো আঁধার
হৃদয়কে করে ঝলকিত এবং নির্দেশনা দেয় একটি সুন্দর মত ও পথের
দিকে।
বিশ্বের বহু বিদ্বান ব্যক্তি গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর বিস্ময়কর
প্রভাব উপকারিতা ও উপযোগিতার কথা বলেছেন। এটি আসলে এক
জাগরণমূলক গ্রন্থ। নিজেকে পরিশুদ্ধ এবং পরিপূর্ণ করার গ্রন্থ। জীবনকে
উন্নত ও সমৃদ্ধ করার গ্রন্থ। নিজের জীবনের আচার ও বিশ্বাসকে নতুনভাবে
সাজিয়ে ও গুছিয়ে তোলার গ্রন্থ। কোনো নিদারুণ নিরুত্তাপ উদাসীন
হৃদয়কেও এটি করে তোলে জাগ্রত উন্নত এবং পরিশুদ্ধ। কর্মের প্রতি করে
তোলে উদ্দীপিত। মনের মৃত সাগরেও ডেকে আনে চেতনার উদ্বেল উচ্ছ্বল
ঢেউ। আলহামদুলিল্লাহ এই চমৎকার একটি গ্রন্থ নিয়ে এলো মাকতাবাতুল হাসান।

 

পরিমাণ

468.00  780.00 (40% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - হৃদয়ের দিনলিপি

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    বইটির পরিচয় লেখকের ভাষায় বলি ” আমি যখন চিন্তার দৃষ্টিতে কোনো বিষয় নিয়ে ভাবি, মাথার ভিতরে আশ্চর্য সব ভাবনা ও বিশ্লেষণ এসে ভিড় করে । বোধ, বিশ্বাস ও চেতনার এক বিশাল ভান্ডার যেন আমার সমুখে খুলে যায় । অবশেষে ভেবে দেখলাম, এ বিষয়ে আর অলসতা বা উদাসীনতা দেখানো ঠিক হবে না । হ্রদয়ের কথাগুলো লিখতে শুরু করলাম । পরিশেষে এর নাম রেখে দিলাম- সইদুল খাতির । ভেতরে রক্ষিত কথামালা । হৃদয়ের দিনলিপি । অন্তরের কথা ।”

    এই বইয়ের রিভিউ লিখতে গেলে একটা ছোটখাট পুস্তিকা হবে, কারণ এতে এতো টপিক আনা । আপনার জীবনের প্রতিটি পদে পদে এই বইয়ের টপিক এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন । এক বাক্যে বললে – যারা ন্যায়-ইনসাফের ওপর চলতে চান, জীবনে ভারসাম্য চান, আত্মশুদ্ধি চান বা শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে চান, তাদের জন্য এই বই ।

    রিভিউয়ের জন্য আমার দৃষ্টিতে এই বইটিকে আত্মশুদ্ধি, ইলম অর্জন, নসিহাহ (মোটিভেশন), ইবাদত এই চার ভাগে ভাগ করার চেষ্টা করা যায় । যেহেতু বলা হয়েছে বিক্ষিপ্ত চিন্তার সংকলন, তাই এক নাগাড়ে কোন বিষয় আলোচনা হয় নি । কতক্ষণ ইলম, তারপর আত্মশুদ্ধি আবার ইলম এরকম বিক্ষিপ্তভাবে তাঁর চিন্তাগুলোর সংকলন হয়েছে ।

    উপদেশ গ্রহণে মানুষের বৈচিত্র্যতা” এই শিরোনামে তিনি তাঁর প্রথম পাঠটি শুরু করেছেন, যা দিয়ে আপনাকে তাঁর বাকি পাঠগুলোর জন্য তৈরি করে নিবেন । এই পাঠে লেখক উপদেশ গ্রহণকে চাবুকের আঘাত মতো তুলনা করেছেন, যা যখন শরীরে আঘাত করে তখন যে ব্যাথার তীব্রতা থাকে সময়ের বাকে তা আর তেমন অনুভূত হয় না । আবার কিছু মানুষ আছে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে তিনি এই শ্রেণীর মানুষকে তিনভাগে ভাগ করেছেন ।

    এখন আসি, আত্মশুদ্ধির চাদরে তিনি কি আলোচনা করেছেন । এই চাদরে তিনি অন্তরের যাবতীয় ময়লার কথা এনেছেন সাথে কিভাবে তা ধৌত করতে হবে তা জানিয়ে দিয়েছেন । কয়েক প্রকার ময়লার মাঝে হল – দুনিয়াপ্রীতি, প্রবৃত্তির দাসত্ব, নফসের রোগ, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি ।

    ইলম অর্জন এর চাদরে আমরা দেখেছি তিনি ইলম অর্জনের প্রয়োজনীয়তা, সময়, ধৈর্য, ইলম সংরক্ষণের পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় এনেছেন । তবে তার চেয়ে যে বেশিটি ফুটে এসেছে আলেমদের (জ্ঞানীদের) দুনিয়াপ্রীতি ও দরবারমুখীতা নিয়ে সতর্কতা আর নসিহাত ।

    নসিহাত বলতে তাঁর পুরো বইটি ই বলা যায় । কারণ আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছেন এই রোগের লক্ষণ, প্রতিকার । বিশেষ করে এই পাঠে তিনি জ্ঞান অর্জন, তাকওয়া অর্জন, দুনিয়ার জীবন, বিয়ে, ফিতনা, বন্ধু নির্বাচন, আদর্শ ও যুক্তি, সুখ অর্জন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আপনাকে প্রথমে পদস্খলনের স্বভাব দেখিয়েছে তারপর তিনি সরল ও সহজ পথটি উল্লেখ করে আপনাকে সতর্ক করে দিয়েছেন ।

    ইবাদত পাঠে তিনি ইবাদত ও ঈমান নিয়ে আলোচনা করেছেন । ইবাদত বলতে আল্লাহকে পাওয়ার পথ দেখিয়েছেন, সাথে বিদ’আত পাঠে তিনি এ নিয়ে সতর্কতা দেখিয়েছেন । ঈমান এর বিষয়ে তিনি বুনিয়াদি বিষয়ের পাশাপাশি নাস্তিকতা ও অপযুক্তির বিষয় ও আলোচনা এনেছেন ।

    তিনি বইয়ের সমাপ্তি টেনেছেন, প্রথম পাঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যা একটি আদর্শ বইয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য । শেষ উপদেশ নামে পাঠে অল্প কথায় গভীর কিছু বলেছেন । সেই পাঠ থেকে কিছু লিখে শেষ করছি – স্মরণ রাখা উচিত – সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারাও একটি বড় যোগ্যতার ব্যাপার । পরিমিত খরচ করবে । যাক প্রকাশ করা উচিত নয়, তা গোপন রাখবে । ……

    Was this review helpful to you?