মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ফজর আর করব না কাযা

অনুবাদ- আবু মুসআব ওসমান
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৮৪
বাধাই- হার্ড কাবার

সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রয়োজন পরিবর্তনের।
পরিবর্তন কর্ম ও বিশ্বাসের, চিন্তা ও চিন্তাধারার।
ইসলামী সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর জীবন ও জীবনধারার।
প্রত্যাশিত পরিবর্তনে প্রয়োজন একটি ‘ফজর-প্রজন্ম’ ও ‘প্রভাতী কাফেলা’র!

কারণ ফজর স্রষ্টা-নির্ধারিত পরিবর্তন-ক্ষণ।
যুগে যুগে ফজরকালেই ঘটেছে আসমানী পরিবর্তন।
প্রভাতী কাফেলাই রচনা করেছে প্রতিটি বদলে দেওয়ার দাস্তান।
প্রভাত ও ফজর-প্রজন্মতেই জড়িয়ে আছে আগামী-পৃথিবীর চূড়ান্ত আয়োজন!

যে পরিবর্তনের প্রতীক্ষায় প্রতিটি মুসলমান,
দাজ্জাল ও দাজ্জালী শক্তির পতনে ঈসা মাসীহের আগমন,
গৌরবের আলকুদস হতে সূচিত বিজয়ের কাক্সিক্ষত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ,
তাও তো ফজর-প্রজন্মের মাধ্যমেই! প্রভাত ও ফজর-কালেই তার বাস্তবায়ন!

ফজর নামায মুমিনের এক ঈমানী পরীক্ষা।
বিজয়-প্রজন্মের জন্য রাব্বে কারীমের অমূল্য তোহফা।
প্রভাতকাল ও ফজর নামাযেই আগামীর বিজয়ের বার্তা লেখা।
ফজর নামাযে শিথিলতা করে বিজয়ের স্বপ্ন দেখা এক দিবাস্বপ্ন! ধূসর মরীচিকা!

আসুন, সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই―
আগামীর জীবনে আর কোনদিন ফজর নামায করব না কাযা।
ফজরকে জানতে এবং ফজর নামাযের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করতে আপনার জন্য মাকতাবাতুল হাসানের অনন্য উপহার― ফযর আর করব না কাযা

পরিমাণ

176.00  320.00 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

11 রিভিউ এবং রেটিং - ফজর আর করব না কাযা

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    মাশা আল্লাহ, এই বইটি বলতে গেলে প্রয়োজনীয় একটি বই। আমি খুব বেশি একটা বই পড়িনি। আমি আগে ৪ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। যোহরের সময় ফজর এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নামাজটি কাযা পড়ে নিতাম। এই বইটির উছিলায় আল্লাহর রহমতে যখন জানতে পারলাম যে জীবনে এতোদিন কি মিস দিয়েছি, কতো গুরুত্বপূর্ণ নামাজ কে তার সঠিক দাম দেইনি, সেই দিন থেকে আল্লাহর রহমতে ফযর এর নামাজ কাযা করিনি। আমার মতে প্রত্যেকেরই বইটি একবার পরা উচিত।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    এটা একটা অনুবাদিত বই। অনুবাদ করেছেন আবু মুসআব ওসমান। অনুবাদ পড়তে খারাপ লাগেনি। অনুবাদক যাদের উৎসর্গ করেছেন বইটা, সেই ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে। বলবো না কাদের উৎসর্গ করেছেন। নিজে পড়ে বুঝে নিবেন।

    বইয়ের নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে ফজরের সালাতের গুরুত্ব নিয়ে এই বই লেখা। কেনো গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই লেখক বলেছেন ধারাবাহিক ভাবে। ফজরের সালাত একটি ঈমানী পরীক্ষা। এই সালাত আদায় করা এবং না করার মাধ্যমেই বুঝা যাবে আপনার ঈমানের অবস্থা। মুনাফিকদের জন্য এই সালাত আদায় করা অনেক কষ্টকর হবে। সহজে আদায় করতে পারবে না।

    ফজরের সালাত আদায়ের কিছু কল্পনাতীত ফযিলত আছে। সুন্দর করে ব্যাখ্যা সহ সেটা বুঝিয়েছেন লেখক। কয়েকটি উল্লেখ করতে পারি। যেমন, সমগ্র দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে মূল্যবান দুই রাকাত ফজরের সুন্নত (তাহলে বুঝুন দুই রাকাত ফরযের কি মূল্য), ফজরের সময় বিশেষ একটা সময় ( এই সময় রাতের ও দিনের ফেরেশতারা মিলিত হন), দু’আ কবুলের সময়, ফজরের সালাত আদায় করলে সেদিনের জন্য আল্লাহ্’র তত্ত্বাবধানে চলে যাওয়া, আসমানী বরকত কিভাবে আসে ইত্যাদি।

    বরকতের একটা ঘটনা উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না। এক সাহাবী রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু যখন জানলেন যে ফজরের সময় এত বরকত। তিনি সালাত আদায় করেই তার ব্যবসার কাজ করা শুরু করে দিতেন। এর কিছুদিন পর উনি এতো সম্পদশালী হয়ে উঠেন যে সেই সম্পদ রাখার জায়গা ছিল না।

    কিভাবে ফজরে উঠা যাবে সহজে সেসব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। দুই একটা পয়েন্ট বলি, যেমন,নিয়ত পরিশুদ্ধ করা, গুনাহ পরিহার, সান্ধ্যভোজনে মিতাহার, ঘুমের সঠিক পদ্ধতি ইত্যাদি।

    জাতি গঠনে এই সালাত কিভাবে ভুমিকা রাখতে পারে লেখক সে ব্যাপারেও বর্ননা করেছেন।

    ফজরের সালাত মিস করে ফেলা যে কত বড় ক্ষতিকর, সেটা উপলব্ধি করবেন এই বই পড়ে। আরেকজন সাহাবী রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহুর কথা বলি। তিনি সারা জীবনে মাত্র একবার আউয়াল ওয়াক্তে ফজরের সালাত আদায় করতে পারেননি। তাও সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে করতে সময় পার হয়ে গিয়েছিল। এই জন্য আমৃত্যু তিনি কান্নাকাটি করেছেন। আর আমরা? দিনের পর দিন সালাত আদায়ে যেই গাফলতি করি, তার জন্য কোনো আফসোস তো দুরের কথা, পাত্তাই দেই না। সব শেষে বলবো, নিজেকে আর নিজের পরিবারকে আপগ্রেড করার জন্য এটা একটা মাস্ট রীড বুক।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    প্রথমেই বলি অর্পণের কথা। অর্পণটি সরাসরি বই থেকে তুলে ধরা হলো। যা বিশেষ করে আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনাদেরকেও বিমোহিত করবে। ‎

    “সেই প্রভাতী কাফেলার জন্য‎
    ফজরের জামাতে যারা স্বাগত জানাবে
    ‘শেষ-নবীর উম্মত’ ঈসা মাসীহ আলাইহিস সালাম-কে‎
    হয়তো আমি তাদের দেখা পাব!‎
    হয়তো আমি তাদের-ই একজন হব!‎
    হয়তো তাদের প্রতীক্ষায়-ই এসে যাবে ‘আগামীর ডাক’!”

    ফজর আর করব না কাজা বইটি আরবি ভাষা থেকে অনূদিত। বইটির জন্মকথা থেকে শুরু করে ফজরের নামাজ ‎এক ঈমানি পরীক্ষা তার বিবরণ ও তার সময়মতো আদায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। ‎

    ফজরের নামাজ অনন্য ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এক নামাজ! সম্পূর্ণই ব্যতিক্রমী একটি নামাজ! ফজরের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য সবই ‎অনন্য ও স্বতন্ত্র!‎
    আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উম্মাহদরদি সচেতন ও সতর্ক সংস্কারক। মানবচরিত্রের গতি-প্রকৃতি, মনোবৃত্তির আবেগ-‎আকর্ষণ সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি জানতেন, ফজরের নামাজের ওয়াক্ত তুলনামূলক কঠিন। মুসলমান যদি নফসের অনুগামী হয়ে পড়ে ‎এবং প্রবৃত্তির দাবী অনুযায়ী চলে, তাহলে নফস ও প্রবৃত্তির প্রবঞ্চনায় সে আরামের ঘুমে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে এবং ফরজ নামাজ ছেড়ে দেবে। এ কারণেই ‎নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজের অত্যুচ্চ ফজিলতসমূহ এবং সুনির্ধারিত বৈশিষ্ট্যসমূহ উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন। এসব ‎ব্যতিক্রমী ফজিলত ও গুণ-বৈশিষ্ট্য সামগ্রিকভাবে একজন নিষ্ঠাবান মুমিনকে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করে ফজরের জামাতে যত্নবান হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরিস্থিতি ‎ও প্রতিকূলতার শত বাধার মুখেও যেন এক দিনের ফজরের জামাতও ছুটে না যায়, সেজন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করতে পূর্ণ উদ্দীপ্ত করে।‎

    ফজরের নামাজের অনন্য ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যসমূহ হতে দশটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।‎

    প্রথম অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : ব্যতিক্রমী ও কল্পনাতীত ফজিলত!‎
    দ্বিতীয় অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : ফজরের নামাজ কাযা হওয়া মানে‎
    শুধুই সাওয়াব খোয়ানো নয়!‎
    তৃতীয় অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও মূল্যবান ‎দু’ রাকাত সুন্নাত নামাজ!‎
    চতুর্থ অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : অনুপম স্বাতন্ত্র্য! বিশেষ দোয়া!‎
    পঞ্চম অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : ‎স্মরণীয় ও সবিশেষ সময়!‎
    ষষ্ঠ অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : স্বয়ং আল্লাহর নিরাপত্তা-তত্ত্বাবধান!‎
    সপ্তম অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : ঈমান ও ইলম চর্চার এক সেমিনার!‎
    অষ্টম অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : দৈনিক আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কোর্স!‎
    নবম অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : অর্ধেক জীবনের গুনাহ-মোচক!‎
    ‎দশম অনন্য বৈশিষ্ট্য‎ : প্রতিটি পদক্ষেপে আসমানি বরকত!‎

    উক্ত বইটিতে সালাফ বা পূর্বসূরিদের দৃষ্টিতে ফজরের নামাজের উল্লিখিত বিশেষ ফজিলতসমূহ ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের কারণে এবং বিশেষ করে ফজরের ‎জামাতের অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে সালাফের কাছে ফজরের নামাজের এবং ফজরের জামাতের সবিশেষ গুরুত্ব ছিল। তারা তাদের জীবনের অতি ‎‎গুরুত্বপূর্ণ এই নেক আমলটির মূল্যবান অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এ কারণেই তাদের জীবনে না কখনো ফজরের নামাজ কাজা হয়েছে, না কোন ‎মুসলমানের ফজরের নামাজ কাজা হতে পারে—এই সম্ভাবনা তাদের চিন্তাজগতে উদিত হয়েছে।‎

    বই সম্পর্কে নিজের মন্তব্য :‎
    বইটি এক কথায় অসাধারণ। যা বর্ণনা করলাম তা কেবল নিজের অনুভূতি ও বই থেকে কিয়দাংশ! নির্ভুল বানান ও ভাষার শৈলিতা দেখে আমি বিমোহিত ‎ও মুগ্ধ। বইটি বাঁধাই অসাধারণ। অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এ বইটির বাঁধাই টেকসই ও মজবুত। কাগজের মানও ভালো। দশকথার এককথা চরম একটা ‎বই। বইটি সকলের পড়া উচিত বলে আমি মনে করি। বইটি শেষাংশে পাঠকের সুবিধার্তে এক নজরে বিশেষভাবে ফজরের নামাযেজর পর পাঠ-উপযুক্ত ‎‎দোয়া ও জিকিরসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। যা একজন সাধারণ পাঠক অনেক উপকৃত হবে। ইনশাআল্লাহ।‎

    ‎রেটিং : ১০ মার্কের মধ্যে আমার বিবেচনা আমি ১০/১০ পাব, ইনশাআল্লাহ।‎

    6 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    Al-hamdu-lillah. Very inspiring book. I will recommend this book to all imandar muslim who finds it a struggle to perform Fajr salat in jamat. May Allah SWT show us all the right path (Hidayath) and give us barakat and forgiveness in dunya and akhirath. Ameen
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ছোটবেলায় যখন কেউ আমার নামে নালিশ নিয়ে আসতো আম্মুর কাছে,, আম্মু তখন কড়া শাসন করে বলতো— “আজকে থেকে আর বাইরে যেতে পারবি না । শুধু স্কুল আর বাসা । দরজার বাইরে যেন এক পা-ও না পড়ে” ।
    ব্যস ! সঙ্গে সঙ্গেই ১৪৪ ধারা জারি । মাইরের ভয় ছিলো । কিন্তু কতক্ষণ ? কিভাবে বাইরে যাবো তা নিয়ে নানান ফন্দি ফিকির করতাম । যখন আম্মু দুপুরে ঘুমিয়ে পরতো, তখনই বের হয়ে যেতাম ।
    আব্বু,আম্মু, স্যারদের ফাঁকি দেওয়া কিন্তু খুবই সহজ । কতক্ষণই বা দেখে রাখবে ? দুচোখ আর কতটুকুই বা কাভার করতে পারে ?
    কিন্তু ঐ মহান সত্ত্বাকে কি ফাঁকি দেওয়া সম্ভব ? যিনি আমাদের “রব” । যাকে দৃষ্টিসমূহ আয়ত্ত্ব করতে পারেনা অথচ তিনি সম্যক দ্রষ্টা ।
    এক কথায় উত্তরটা হচ্ছে, “না” ।
    তাহলে আমরা কোন্ স্পর্ধায় তাকে ফাঁকি দেই ? অথচ তিনি আমাদের স্রষ্টা । তিনি খুব ভালো করেই জানেন, কোনগুলো আমাদের সাধ্যের মধ্যে আর কোনগুলো সাধ্যের বাইরে ।
    【”ফজরের সালাতের জন্য নির্ধারিত সময়ে জেগে ওঠা আমার পক্ষে অসম্ভব”】 — বন্ধুমহল থেকে শুরু করে আত্নীয়মহল পর্যন্ত প্রায়ই এই কথাটি শোনা যায় । সত্যিই কি অসম্ভব ?? নাকি ফাঁকিবাজি ? নাকি নিজেকে ধোঁকার সাগরে ডুবিয়ে রাখা ? যদি অসম্ভব হয়, তাহলে কি আল্লাহ্ আমাদের সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন ?? না, আমাদের রব তো আমাদের সাধ্যের বাইরে কিছুই চাপিয়ে দেন না । তিনিই সূরা বাকারাতে বলেছেন, “তিনি কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পন করেন না” ।
    “ফজরের সালাতের জন্য নির্ধারিত সময়ে জেগে ওঠা আমার পক্ষে অসম্ভব”— এই দাবীটা সম্পূর্নই একটি অসাড় দাবী । এ দাবীরই খন্ডায়ন করেছেন, ডক্টর রাগিব সারজানি তাঁর “ফজর আর করব না কাযা” বইয়ে । মিশরের মানুষ তিনি । জন্ম ১৯৬৪ সালে । একজন ‘আলিম, বিদগ্ধ ইতিহাসবিদ’ । তাঁরই কলম, কালি ঝড়িয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায় আর সেগুলো স্থান পেয়েছে আমার মতো গাফেল মানুষগুলোর মনের মণিকোঠায় । অসাধারণ কিছু কথামালায় পূর্ন এই বইটি । শুধু কথামালাই না । কুরআন ও হাদিসের তথ্যসমৃদ্ধ আবেগঘন কথায় পরিপূর্ন এই বইটি । আছে সালাফ ও পূর্বসূরীদের দৃষ্টিতে ফজরের নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা । বইটিতে লেখক এমন ঢঙে এবং এমন সুরে পাঠকের উদ্দেশ্যে কথা বলেছেন, যেভাবে একজন পিতা তার সন্তানদের মাথায় হাত রেখে কথা বলেন ।

    রিভিউ পাঠকদের মধ্যে যদি কেউ ফজরের সালাতের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেন, কিংবা উদাসীন হন, তাহলে বলবো- ভাই, বইটা হাতে নিন । পড়ে ফেলুন, দেখবেন কি নিয়ামত থেকে আপনি নিজেকে বঞ্চিত করছেন প্রতিদিন । ব্যর্থতা কিভাবে আপনার জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখছে প্রতিনিয়ত । যদি বলেন, কেন পড়বো বইটি ? তাহলে আমি বলবো, “কেন পড়বেন না সে ব্যাপারে আগে আমাকে কৈফিয়ত দিন” ।
    পাঠক,, আপনার জন্য করজোরে মিনতি রইলো রবের নিকট, একবার হলেও যেনো মহান রব আপনাকে এই বইটি পড়ার সৌভাগ্য দান করেন ।

    শুধুমাত্র ফজর সালাত নিয়ে আর কোন স্বতন্ত্র বই আছে কিনা বলতে পারবো না । তবে, এ বইটি যে আপনার চাহিদার পূরনে সক্ষম হবে, সেটার নিশ্চয়তা দিতে পারি । এটি একটি অনূদিত বই । অনুবাদ করেছেন, “আবু মুসআব ওসমান” । বইটি পড়লেই বুঝতে পারবেন, অনুবাদক কতটা যত্নের সাথে অনুবাদ করেছেন । বইটির মূল ভাব-অনুভবকে ধরে রাখার যে জোর প্রয়াস চালিয়েছেন, সেটা পাঠকরা পড়লেই বুঝতে পারবে । একদম গোছানো । সাবলীল । যেকোনো শ্রেনির পাঠকদের কাছেই সহজবোধ্য লাগবে ।

    ■—-বইটির জন্মকথা—-■
    “““““““““““““““““““
    ড. রাগিব সারজানি কেন এই বইটা লিখেছিলেন জানেন ? আচ্ছা সংক্ষেপে বলছি—
    সান্ধ্যকালীন সেমিনারে এক বক্তা আলোচনা করছিলেন, মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে, মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনের কারন এবং সেই অবস্থা থেকে উত্তরনের পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে । সেমিনার সমাপ্ত হলো সেদিন । লেখক পরদিন ফজরের সালাতে বক্তাকে খুঁজলেন, কিন্তু পেলেন না । দ্বিতীয় দিনেও একই অবস্থা । মুসল্লীদের কাতারে তাকে দেখতে পেলেন না । লেখক উৎকণ্ঠা অনুভব করলেন । তার সংবাদ জানার জন্য অধীর হয়ে উঠলেন । না-জানি তার কোনো বিপদ হলো কি-না !
    একদিন হঠাৎ খোঁজ করতে করতে গিয়ে তাকে পেয়ে গেলেন । উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাই, কী হয়েছে ?! কোনো সমস্যা ? গত দু-দিনে ফজরের নামাজে না পেয়ে আপনাকে দেখতে এলাম” ।
    তখন কি উত্তর দিয়েছিলেন সেমিনারের সেই বক্তা ?? ভয়ংকর কোনো উত্তর ?? যেই উত্তরের প্রেক্ষিতে একটা গোটা বই লিখে ফেলতে হলো লেখককে ?
    আচ্ছা প্রিয় পাঠক, বাকি ঘটনাটুকু না হয় বই থেকেই জেনে নেয়া যাবে….

    বইয়ের শুরু থেকেই বেশ গুরুত্বপূর্ন এবং হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করা হয়েছে । ফলে পাঠকদের কাছে বইটি পড়ার আগ্রহ দ্বিগুন বেড়ে যাবে । অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর মিলবে এ আলোচনা গুলোতে । যুক্তির নিরিখে, দরদের ভাষায় বিভিন্ন দৃশ্যপটের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন লেখক । ফজরের সালাত যে একটি ঈমানী পরীক্ষা, সেটার আদ্যোপান্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন । খন্ডায়ন করেছেন, অসাড় দাবী সমূহের । জীবনঘনিষ্ঠ সব আলোচনার মেলা বসিয়েছেন বইয়ের পাতায় পাতায় ।

    লেখক বইয়ে ফজরের নামাজের অনন্য ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যসমূহ হতে দশটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন । সেগুলো পড়ার পর আপনি উদ্বুদ্ধ হবেন, ফজরের নামাজের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে । সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা আপনাকে কেবল মুগ্ধই করবে না বরং নিজের ভিতর এক অদ্ভুত পরিবর্তনের বাতাস বইয়ে দেবে । প্রিয় পাঠক, আপনাদের সুবিধার্থে বৈশিষ্ট্যগুলোর শুধু শিরোনাম তুলে ধরলাম নিচেঃ—-
    .
    ❖ প্রথম অনন্য বৈশিষ্ট্য— ব্যতিক্রমী ও কল্পনাতীত ফজিলত !
    ❖ দ্বিতীয় অনন্য বৈশিষ্ট্য— ফজরের নামাজ কাযা হওয়া মানে শুধুই সাওয়াব খোয়ানো নয় !
    ❖ তৃতীয় অনন্য বৈশিষ্ট্য— সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও মূল্যবান দু’ রাকাত সুন্নাত নামাজ !
    ❖ চতুর্থ অনন্য বৈশিষ্ট্য— অনুপম স্বাতন্ত্র্য ! বিশেষ দোয়া !
    ❖ পঞ্চম অনন্য বৈশিষ্ট্য— স্মরণীয় ও সবিশেষ সময় !
    ❖ ষষ্ঠ অনন্য বৈশিষ্ট্য— স্বয়ং আল্লাহর নিরাপত্তা-তত্ত্বাবধান !
    ❖ সপ্তম অনন্য বৈশিষ্ট্য— ঈমান ও ইলম চর্চার এক সেমিনার !
    ❖ অষ্টম অনন্য বৈশিষ্ট্য— দৈনিক আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কোর্স !
    ❖ নবম অনন্য বৈশিষ্ট্য— অর্ধেক জীবনের গুনাহ্ মোচক !
    ❖ দশম অনন্য বৈশিষ্ট্য— প্রতিটি পদক্ষেপে আসমানি বরকত !


    লেখক অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর বিশদ আলোচনা করেই ক্ষান্ত হননি । এরপর তিনি পাঠকদের বাস্তব জীবনে ফজরের প্রতি পূর্ন যত্নশীল হওয়ার ১০ টি উপায় ও মাধ্যম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । মাধ্যম এই দশটিতেই সীমাবদ্ধ নয় এবং সব মাধ্যম সবার জন্য সমান উপযোগীও নয় । তবুও লেখক তাঁর মণিমুক্তো গুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন বইয়ের পাতায় । এই মণিমুক্তোগুলো একজন পাঠককে অবশ্যই ফজরের প্রতি যত্নবান হতে সহায়তা করবে….
    .
    ✦ প্রথম মাধ্যম— ইখলাস ও একনিষ্ঠতা
    ✦ দ্বিতীয় মাধ্যম— দৃঢ় সংকল্প
    ✦ তৃতীয় মাধ্যম— গুনাহ পরিহার
    ✦ চতুর্থ মাধ্যম— দোয়া ও রোনাযারি
    ✦ পঞ্চম মাধ্যম— সৎ সাহচর্য
    ✦ ষষ্ঠ মাধ্যম— জানতে হবে ঘুমের সঠিক পদ্ধতি!
    ✦ সপ্তম মাধ্যম— সান্ধ্যভোজনে হন মিতাহারী !
    ✦ অষ্টম মাধ্যম— ফজরের ফাজায়েল সম্বলিত স্মারক !
    ✦ নবম মাধ্যম— তিনটি সংকেতধ্বনি !
    ✦ দশম মাধ্যম— অন্যকেও দাওয়াত প্রদান !

    দশম মাধ্যমে লেখকের কিছু কথা আমার হৃদয ছুঁয়েছে । সেটা হুবহু তুলে না দিলেই নয়—
    // নিজে ফজরের নামাজ আদায়ে সচেষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্যকেও ফজরের নামাজের জন্য ডাকুন, আহ্বান করুন । এটি নিজে জাগ্রত হওয়ার অতি চমৎকার একটি মাধ্যম । কারণ, যে ব্যক্তি অন্যকে কোন কল্যাণের প্রতি আহ্বান করে, সে নিজে কি করে তা থেকে উদাসীন থাকবে ?!
    আল্লাহ্ যখন দেখবেন, আপনি তার বান্দাদেরকে তার ফরজ বিধানের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, তাদেরকে ফজরের নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ করছেন, তারপর তিনি আপনাকে তা আদায়ে সহায়তা করবেন না, এমনটা হতেই পারে না ! আল্লাহ্ তা’আলা তো পরম দয়াময় সত্তা ! বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহর রাস্তায় আপনার সার্বক্ষণিক কর্মপ্রচেষ্টা আপনাকে আল্লাহর সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্কের নিশ্চয়তা দেবে । //
    .
    “জাতি গঠনে ফজরের নামাজের ভূমিকা” শিরোনামের এই অধ্যায়টি বইয়ের সর্বশেষ আর্টিকেল ।
    হৃদয়গ্রাহী সব আলোচনার পশরা সাজিয়েছেন লেখক এখানে । যখন পড়েছি, কেবল মুগ্ধই হয়েছি । শিখেছি অনেক কিছু । এখানে স্থান পেয়েছে, আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের আলোচনা । আমাদের অতীত এবং ভবিষ্যৎ এর ঘটনাগুলো কিভাবে ফজরের সময়ের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে, সে বিষয়ের আলোচনা পড়ে আমি অভিভূত হয়ে গেছি ।

    সাহাবীদের প্রায়োরিটি, ছিল সালাত । তারা সালাতকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন । তাই আল্লাহও তাদেরকে জমিনে সম্মানিত করেছেন, কর্তৃত্ব দান করেছেন । আর আজ আমাদের প্রায়োরিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে, নতুন বের হওয়া গান-নাটক-মুভি আমাদের প্রায়োরিটি । নবিজী (স.) এর আদর্শকে ছেড়ে দিয়ে হলিউড-বলিউডের হিরোরা আজ আমাদের আদর্শ । তাই আমাদের উপর অপমান আর লাঞ্ছনার জীবন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
    মসজিদে ফজরের সালাতে দুই কাতার মুসল্লী হয়না । যারা আসে তারা অধিকাংশই মধ্যবয়স্ক অথবা বৃদ্ধ । সে উম্মতের উপর আল্লাহর সাহায্য আসবে কীভাবে ? লেখক যেন এ কথা গুলোই বোঝাতে চেয়েছেন বারবার ।

    লেখক এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখেন, এমন একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন, যা শুধু নিজেই দেখেননি । পাঠকদেরকেও দেখিয়েছেন । কি সেই স্বপ্নগুলো ?? জানতে হলে বইয়ের শেষ লেখাগুলোতে ডুব দিতে হবে ।
    স্বপ্নময় সেই কয়েকটি পাতায়….

    পাঠক,, আবারো আপনার জন্য করজোরে মিনতি রইলো রবের নিকট, একবার হলেও যেনো মহান রব আপনাকে এই বইটি পড়ার সৌভাগ্য দান করেন । বইটি পড়াশেষে আপনি আবিষ্কার করবেন একটি সুহাসিনী প্রভাতের ও একটি নতুন সূর্যোদয়ের !

    বাংলা ভাষা-ভাষী পাঠকদের জন্য মূল্যবান এই বইটি নিয়ে এসেছে, প্রকাশনী সংস্থা – “মাকতাবাতুল হাসান” । ফজরকে জানতে এবং ফজর নামাজের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করতে, পাঠকদের জন্য প্রকাশনীর এ এক অনন্য উপহার ।

    খুব কম জায়গায় বানান ভুল পেয়েছি । প্রচ্ছদ এক কথায় অসাধারন । পৃষ্ঠা মান, সাজ-সজ্জা, প্রচ্ছদের ডিজাইন অবশ্যই প্রশংসনীয় । বিশেষ করে বাঁধাইয়ের জন্য প্রকাশনী অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে । বইটাতো হাতে নিয়ে দেখতেই ভালো লাগে ।
    বইয়ে কুরআনের আয়াত ও হাদিস উল্লেখের ক্ষেত্রে আরবি মূল টেক্সট উল্লেখ করা হয়েছে এবং তথ্যসূত্র দেয়া হয়েছে । অনুবাদকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় টীকা সংযুক্ত করা হয়েছে । বইয়ের একদম শেষে আছে, পরিশিষ্ট ১ এবং ২ । এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর উপযুক্ত কিছু নববী দোয়া-ওযিফা । বিশেষভাবে ফজরের নামাযের পরের দোয়াগুলো । দোয়াগুলোর আরবী টেক্সটসহ বাংলা অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে । পাশাপাশি প্রতিটি দোয়ার রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে ।
    খুব বেশি অভিযোগ করার মত কিছু নেই,, তবে হতাশ হয়েছি অল্প কিছু জায়গায় । যেহেতু এটি একটি অনূদিত বই । তাই বইয়ের মূল নামটা উল্লেখ করা জরুরি ছিল । অথচ বইয়ের কোথাও মূল বইটির নাম খুঁজে পেলাম না ।

    বইয়ের অর্পন-পত্র বা উৎসর্গ-পত্রটি চমৎকার হয়েছে । লিখেছেন, অনুবাদক নিজেই । এত সুন্দর আইডিয়া অনুবাদকের মাথায় কিভাবে এলো সেটাই ভাবি ! যদিও অর্পন পত্রটি বইয়ের, শুরুতে ছিল । সেই অর্পন পত্রটি দিয়েই রিভিউটি শেষ করছি….
    পাশাপাশি এই বইয়ের সাথে লেখক থেকে শুরু করে প্রকাশক পর্যন্ত যারাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের সবাইকে আল্লাহ্ হেদায়াতের অমূল্য সম্পদ দান করুন । ইহকালীন এবং পরকালীন জীবনগুলোকে সুন্দর করে দিন, আমিন ।
    2 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  6. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    আমি কত শত শত ওয়াক্ত নামাজ ইচ্ছা করে ছেড়ে দিয়েছি তার কোন হিসেব নেই। অনুশোচনাহীন জীবন কাটিয়েছি দিনের পর দিন।
    কয়েকদিন নামাজ-কালাম পড়ার পর নিজেকে খুব সুইসাব দরবেশ মনে হতো। প্র্যকটিস শুরু করার পরেও আগের জীবনের গুনাহের
    কথা বেমালুম ভুলে যেতাম। অথচ আল্লাহর রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একজন সাহাবির কথা শুনোন।

    ‘তুসতার’ ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি নগরী। মুসলিম বাহিনী দীর্ঘ দেড় বছর অবরোধ করে রাখার পর নগরীটির পতন ঘটে।
    আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলমানরা বিজয় অর্জন করেন। একদিন ফজরের নামাজের নির্ধারিত সময়ের সামান্য পূর্বে তুসতার দূর্গ-দ্বার বিজিত হয়।
    ত্রিশ হাজার মুসলিম মুজাহিদ আর দেড় লক্ষ পারস্য সৈন্যের মধ্যে শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রতিটি মূহুর্ত ছিল অত্যন্ত কঠিন,
    চারদিকে রক্ত আর মৃত্যুর হাতছানি। অনেক প্রাণঘাতি যুদ্ধের পর আল্লাহ্‌ মুসলমানদের বিজয় দান করেন। বিজয় অর্জিত হয় সূর্যোদয়ের কিছুক্ষন পর।
    আচমকা মুসলিম বাহিনী আবিষ্কার করেন যুদ্ধ করতে করতে তাদের ফজরের নামাজ কাযা হয়ে গেছে। হযরত আনাস (রাঃ) সেই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন।
    সারাজীবনে সেই এক ওয়াক্ত নামাজ-ই হযরত আনাস (রাঃ) এর কাযা হয়েছিলো। তাও ইচ্ছাকৃত নয়। সবাই যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে নামাজের কথা ভুলে গিয়েছিলো।
    তারপর থেকে ‘তুসতার’ অভিযানের কথা স্মরণ হলেই হযরত আনাস (রাঃ) অশ্রুসিক্ত হতেন।
    তিনি কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলতেন, “তুসুতার কি?! আমার তো ফজরের নামাজ-ই ছুটে গেছে। আমি এই নামাজের বিনিময়ে আমার জন্য পুরো পৃথীবিকেও পছন্দ করবোনা।”

    চিন্তা করুন, হে আমার ভাইয়েরা। আমরা কত অনায়াসে নামাজ ছেড়ে দেই। একজন সাহাবির উপলব্দীর মধ্যে আর আমাদের উপলব্দীর কত বড় আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

    ‘ফজর আর করব না কাযা’ বইটি থেকে ঘটনাটা নিয়েছি। অসাধারণ সকল উপমা দিয়ে লেখক বইটি সাজিয়েছেন।
    যারা ফজর কাযা করেন অথবা ফজরের গুরুত্ব বুঝেন না তাদের জন্য এ এক অমূল্য পঞ্জিকা।
    অনুবাদের মানও হয়েছে যথেষ্ট ভালো। লেখা পড়ে মনে হচ্ছিলো লেখক মনে হয় বাংলা ভাষা জানেন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  7. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    অসাধারণ একটা বই! ফজর নামাজ যাদের পড়া হয় না অথবা কাজা করা হয় অথবা বাসায় পড়া হয় তাদেরকে এই বইটা পড়তে দিলে অথবা নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়ে শুনালা অবশ্যই তার প্রভাব পড়বে।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  8. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    খুব সুন্দর বই। ফজর নামায ক্বাযা না করার চেষ্টা করি।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  9. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    Al Hamdulillah! Boiti bortoman torun projonmoder jonno ottonto dorkari ! Mobile, computer niye besto thakate Muslim Ummar onekeroi raate ghumute deri hoy, Fazar kaja Hoye Jay! Ja pokrito Muslim Howar pothe baadha .islam niye vaben kintu Fazar er namaz oil Kaza hoiye Jay…somadhan ache ei kitabe.
    Wafi life k Allah uttom ja ja Dan koruk.. khub olpo somoyer moddhe ei osadharon kitab ti haate poche dewar bebosta korar jonno dhonnobad! Allah apnader beboshai borkot din…….
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  10. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    আলহামদুলিল্লাহ। বইটি বর্তমান তরুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত দরকারী। মোবাইল, কম্পিউটার নিয়ে ব্যাস্ত থাকাতে মুসলিম উম্মাহর অনেকেরই রাতে ঘুমাতে দেরি হয়। ফজর ক্বাযা হয়ে যায়! যা প্রকৃত মুসলিম হওয়ার পথে বাধা। ইসলাম নিয়ে ভাবেন কিন্তু ফজরের নামায ক্বাযা হয়ে যায়… সমাধান আছে এই কিতাবে।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  11. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ফজর নামায নিয়ে আর কোন সতন্ত্র বই আছে কিনা আমার জানা নেই। ডঃ রাগিব সারজানি’র নাম শুনেছি কিন্তু তার কোন বই পড়িনি।অনুবাদক যথেস্ট দায়িত্ব নিয়ে বইটি অনুবাদ করেছেন। ফেসবুকে বইটির ছবি ও প্রচ্ছদ দেখে ভাল লাগায় বইটি নিলাম।
    ফজরের জামাআত নিয়ে কোরআন ও হাদিসের তথ্যসমৃদ্ধ আবেগঘন একটি বই।অন্তরে সামান্য পরিমান তেজোদ্দিপ্ত যার ঈমান আছে সেও এই বইটি পড়লে আশা করি ফজরের জামাআত ছাড়ার উদাসীনতা থেকে মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ্‌।আল্লাহ্‌ এই বই সংস্লিস্ট সকলকে উভয় জাহানে উত্তম প্রতিদান দিন।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?