মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ফিরে এসো নীড়ে

বিখ্যাত আরব লেখিকা ও দাঈয়া সাইয়্যিদ ফাতিমা বিনতে খলীল। ‘ফিরে এসো নীড়ে’ মূলত উনার বিখ্যাত বই ‘দাওরুল মারআতিল মুসলিমাহ বাইনাল আসালাহ ওয়াল মুআসারাহ’ কিতাবের বাংলা অনুবাদ।
.
বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, নারীদের বিষয়ে একজন নারীরই লেখা। যেন প্রিয় বোনের প্রতি প্রিয় বোনের উপদেশ এবং প্রিয় বোনের পক্ষে প্রিয় বোনের ওকালতি— যে তাদের মন বোঝে, প্রয়োজন বোঝে। যার অকৃত্রিম আন্তরিক উপদেশে নারী পাবেন একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মা, সমাজের একটি অংশের যোগ্য প্রতিনিধি এবং অপর অংশের সফল কারিগর; সর্বোপরি দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ দাঈয়া হিসেবে একটি নতুন জীবন শুরু করার প্রেরণা।

পরিমাণ

264.00  440.00 (40% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - ফিরে এসো নীড়ে

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    নারীদের নিয়ে অনেক মনীষীদের সুন্দর সুন্দর উক্তি আছে। সালমান আল আউদাহ হাফি.-এর ভাষায়,
    “নারী হলো জগতের হৃৎপিণ্ড আর পুরুষ হলো জগতের মস্তিষ্ক। যদি এ দুটির মাঝে বিচ্ছেদ তৈরি হয় তবে হয়তো মৃত্যু কিংবা অপ্রকৃতিস্থতা যেকোনো একটি অবধারিত।”
    একটি আদর্শ সমাজ গঠনে নারীই মূল ভিত্তি। সমাজের সফলতা ব্যর্থতা যেমন নারীদের ওপর নির্ভর করে তেমনি পরিবারের সফলতা ব্যর্থতাও নারীদের ওপর নির্ভর করে। এমনকি আদর্শ সন্তান গঠনে নারীর ভূমিকাই সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ। নারী চাইলে আগামী প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে পারে, চাইলে অযোগ্যের কারখানা বানাতে পারে। কেননা নারী একসাথে মা, বোন, স্ত্রী, শিক্ষিকা …
    নেপোলিয়ন ঠিকই বলেছেন, আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব।

    একজন নারী আদর্শ নারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের জন্য তার সামনেও থাকতে হবে কোনো না কোনো আদর্শ। কীভাবে সে নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেটা আগে জানতে হবে। তারপর নিজেকে আদর্শ নারী হিসেবে গড়তে হবে। তার সামনে যদি কোনো আদর্শ না থাকে তাহলে সে কীভাবে নিজেকে আদর্শবান করে গড়ে তুলবে। নারীদের দিকনির্দেশনামূলক খুঁটিনাটি-সহ সব বিষয় নিয়েবই লিখেছেন প্রখ্যাত আরবলেখিকা ও দাঈয়া সাইয়্যিদা ফাতিমা বিনতে খলীল মুহাম্মদ মুহসিন। আরবিতে লিখিত তার কালজ্বয়ী এই বইয়ের বাংলা অনুবাদ ‘ফিরে এসো নীড়ে’। একজন নারী কীভাবে নিজেকে আদর্শ নারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, এই বইয়ে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। অনুবাদকের ভাষায়, “বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, নারীদের বিষয়ে একজন নারীর লেখা। যেন প্রিয় বোনের প্রতি প্রিয় বোনের ওকালতি– যে তাদের মন বোঝে, প্রয়োজন বোঝে। যার অকৃত্রিম আন্তরিক উপদেশে নারী পাবেন একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মা, সমাজের একটি অংশের যোগ্য প্রতিনিধি এবং অপর অংশের সফল কারিগর; সর্বোপরি দীনের একজন একনিষ্ঠ দাঈয়া হিসেবে একটি নতুন জীবন শুরু করার প্রেরণা।”

    অনুবাদক যা লিখেছেন বইটা তাই-ই। এই বই ১২টি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায়ে ‘ইতিহাসে নারী : মর্যাদা ও অবস্থান’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতায় নারীদের মর্যাদা কেমন ছিল ইতহাসের পাতা থেকে তা তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় অধ্যায়ে ইসলামে নারী মর্যাদা ও অবস্থান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তৃতীয় অধ্যায়ে ইতিহাসে মুসলিম নারীদের অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। চতুর্থ অধ্যায়ে ‘নর ও নারী : একে অপরের পরিপূরক’ শিরোনামে বিবাহব্যবস্থা, বিবাহের বিবাহের বিধান, বিবাহপূর্ব প্রেম-প্রীতি ও (অবৈধ) ভালবাসা ও তা থেকে বিরত থাকার পন্থা, হিজাব ও পর্দাসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পঞ্চম অধ্যায়ে দাম্পত্যজীবনে নারীর কর্তব্য কী তা বর্ণনা করেছেন। ষষ্ঠ অধ্যায়ে দামপত্যজীবনে নারীর অধিকার কী তা তুলে ধরেছেন। সপ্তম অধ্যায়ে একজন আদর্শ মা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সপ্তম অধ্যায়ে শিশুর লালনপালন ও লালনপালনের সব দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। নবম অধ্যায়ে সন্তান লালনপালনের কিছু সফল পদ্ধতি তুলে ধরেছেন। দশম অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধি ও তারুণ্যে সন্তানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। একাদশ অধ্যায়ে মিডিয়া ও আমাদের সন্তান আর দ্বাদশ অধ্যায়ে দাওয়াতের ময়দানের নারীদের কর্মপন্থা আলোচনা করেছেন।

    বইটা কেমন হবে তা বিষয়বস্তু থেকেই ধারণা করতে পারছেন। আলাদাভাবে বইটা নিয়ে বলার কিছু নেই। তাছাড়া একজন নারী যখন অন্য নারীদের উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, তখন সহজেই বুঝে আসে এখানে নারীদের এমন অনেক বিষয় উঠে এসে যা পুরুষ কেউ লেখলে সেসবের কথাও চিন্তায়ও আসত না। সমাধান তো দূরের কথা। সে যাইহোক, বইটা যখন বের হয়, ২০১৭ সালেই বইটা পড়েছিলাম। অনুবাদ এতটা ভালো লেগেছিল যে, ৩৫২ পৃষ্ঠার বই কয়েক দিনে পড়ে ফেলেছিলাম। অথচ তখন একাডেমিক পড়ার প্রচুর চাপ ছিল। অনুবাদ করেছেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম। এটা ছাড়াও তার আরও কয়েকটা বই বের হয়েছে। কিন্তু এটা আমার কাছে সবচে’ বেশি ভালো লেগেছে। প্রত্যেক মুসলমান নারীরই বইটা পড়া দরকার। ছেলেরাও পড়তে পারেন। ছেলেদের জন্যেও এই বইয়ে জানার, শেখার অনেক বিষয় আছে। বিশেষ করে আপনার স্ত্রীর মর্যাদা ইসলাম কতটুকু দিয়েছে, ইসলামে নারীদের কী কী অবদান আছে, সেইসাথে সন্তান লালনপালনে নারীর পাশাপাশি নিজেও অবদান রাখতে এই বই আপনাকে গাইডের কাজ দেবে।
    Was this review helpful to you?