মেন্যু
fiqhus sirah

ফিকহুস সিরাহ (১ম ও ২য় খণ্ড)

অনুবাদক : ইবনু আফির, উবায়দুল্লাহ তাসনিম, মুসা আমান
পৃষ্ঠা : 848, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st Published, 2021
ভাষা : বাংলা

অনন্ত অসীম পরকালের যাত্রায় দুনিয়া হলো এক অন্ধকার, পিচ্ছিল ও বন্ধুর পথ। এই পথ নিরাপদে অতিক্রম করতে প্রয়োজন উপযুক্ত বাহন ও আলোর মশাল। ‘ফিকহুস সিরাহ’ মূলত আখিরাতের যাত্রাপথে আমাদের সেই বাহন ও আলোর মশালের মতোই।
আমাদেরকে সহজ ও সরল পথ দেখানোর জন্য এখানে বর্ণিত হয়েছে নবীজির আলোকিত জীবন, নবীজীবন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও নির্দেশনা। যা একজন মুসলিমকে শুধু আখিরাতের পথ-নির্দেশই নয়, দুনিয়ার জীবনের যাবতীয় সফলতা কীভাবে স্পর্শ করবে, তারও পথ বাতলে দেয়।
এই বই আমাকে, আপনাকে এবং আমাদের সকলকে আলোকিত করবে, উজ্জীবিত করবে এবং আখিরাতের অনন্তর যাত্রায় আমাদের মুখে হাসি ফোটাবে, এমনই প্রত্যাশা।

সাথে ১টি পকেট জায়নামাজ ফ্রি! (প্রতি অর্ডারে সর্বোচ্চ ১টি)

পরিমাণ

577  888 (35% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ৪৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি প্রিমিয়াম বুকমার্ক ফ্রি!

- ৬৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি একটি আমল চেকলিস্ট ফ্রি!

- ৮৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি বই ফ্রি!

- ১,১৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি আতর ফ্রি!

- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী

13 রিভিউ এবং রেটিং - ফিকহুস সিরাহ (১ম ও ২য় খণ্ড)

4.9
Based on 13 reviews
5 star
92%
4 star
7%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    ড. শাইখ মুহাম্মাদ সায়িদ রামাদান আল বুতি । মধ্যপ্রাচ্যের প্রখ্যাত আলিম ও ফকিহ । জন্ম ১৯২৯ সালে তুরস্কের সিরনাক প্রদেশের বুতান দ্বীপে । মাত্র চার বছর বয়সে পিতার সাথে সিরিয়া হিজরত করেন এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে কুরআনে কারীম হিফজ করেন । এরপর প্রাথমিক লেখাপড়া শেষ করে ১৯৫৩ সালে মিসরের আল আজহারে ভর্তি হন এবং এখান ১৯৫৫ সালে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন।দ্বীনি শিক্ষা ও দাওয়াতের স্বার্থে আমৃত্যু বসবাস করেছেন সিরিয়ার দিমাশক শহরে ।

    ১৯৬০ সালে দিমাশক বিশ্ববিদ্যালয়ে কুল্লিয়ায়ে শরিয়ার ডিন নির্বাচিত হন । এছাড়াও তিনি ছিলেন মসজিদে বনু উমাইয়ায় সম্মানিত খতিব ।
    তার রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ৬০ টি । তবে ফিকহুস সিরাহ রচনার মাধ্যমে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় সমাসীন করেন ।এটি আরববিশ্বে সর্বাধিক আলোচিত , পঠিত ও সমাদৃত সিরাতের কিতাব ।

    ২১ মার্চ ২০১৩ । তিনি মসজিদে বনু উমাইয়ায় দরস দিচ্ছিলেন। এমন সময় মসজিদ বোমা হামলায় শাহাদাতের সৌভাগ্য লাভ করেন।

    সীরাতে নবী অধ্যায়ন ও উপলব্ধির উদ্দেশ্য স্রেফ ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা বলে জানা , ইতিহাসের কিছু চমকপ্রদ কাহিনী সম্পর্কে অবগত হওয়া , এবং এসবের খুঁটিনাটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নয় , বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে —— একজন মুসলিম সীরাতে রাসুল এর মাধ্যমে এর মূল নীতি ও বিধি বিধান মাথায় রেখে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম জীবন চরিত্রে ইসলামের বাস্তব রূপ তার মূল আকৃতিতে খুঁজে নেবে ।

    একরাশ আবেগ নিয়ে বইটা পড়া শুরু করলাম। নবী করিম (সা.) এর পবিত্র জীবনের অসাধারণ কিছু ঘটনা ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করেছেন শাইখ ড. মুহাম্মদ সায়িদ রামাদান বুতি। বেশিরভাগ সীরাহ পড়ার সময় অনেক কিছু জানা হলেও, শিক্ষনীয় বিষয়গুলো আমরা বাস্তব জীবনের সাথে মিলাতে ভুলে যাই। সেই জিনিসটাই সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন শাইখ.. ।
    আল্লাহ তাদেরকে জাযা খায়ের দান করুক। আমীন

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 4 out of 5

    :

    সীরাত হচ্ছে নববী জীবনের ক্যানভাস। মনের মাধুরি মিশিয়ে সেখানে আঁকা হয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনচিত্র। যুগে যুগে সীরাত সাধনার কথা বিশ্বে অমুসলিম মনীষীরাও অকুণ্ঠভাবে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। মারগোলিয়াথের মত ইসলাম-বিদ্বেষী প্রাচ্যবিদ বলতে বাধ্য হয়েছে, ‘মুহাম্মদের জীবনীকারদের দীর্ঘ ফিরিস্তি রয়েছে। এটা গুণে শেষ করা অসম্ভব। তবে ফিরিস্তিতে নিজের স্থান করে নেয়া গৌরবের ব্যাপার’।
    .
    সীরাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হচ্ছে কুরআনুল কারীমের জীবন্ত ব্যাখ্যা। সালাফে-সালেহীনদের প্রাথমিক জীবন থেকে কুরআনের সাথে সীরাত পড়ার অভ্যাস ছিল।কারণ পূর্ববর্তী লোকেরা সীরাত পড়ত তা থেকে আমল করার জন্য, সুন্দর চারিত্রিক এবং সফল জীবনের পাথেয় নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন আমরা অলস জাতি সীরাত বলতে কেবল কিছু ঘটনার বর্ণনাকে ধরে নিয়েছি। পড়ার সময় তো অভিভূত হই, লোম খাঁড়া হয়ে যায়, চোখ অশ্রুসিক্ত হয়, হৃদয় আন্দোলিত হয়ে উঠে। কিন্তু পড়া শেষে এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। ঘটনাপ্রবাহে আমরা মুগ্ধ তো হচ্ছি কিন্তু এতবছর পর বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে এর উপকারিতা কী, বাস্তবিক প্রয়োগের রূপরেখাই-বা কেমন হবে—তা অনেকেই ভেবে পাইনা। ফলে এতে নিহিত শিক্ষা চাপা পড়ে যায়। তাছাড়া সকলের জন্য নবিজীবনের সুরভিত বাগান হতে শিক্ষা-আদর্শের ফুল আহরণ করা সম্ভবও হয় না।
    .
    তাই কেবল ইতিহাসনির্ভর জীবনী নয়, দরকার সেই জীবনীর বর্তমানের বাস্তবিক প্রয়োগের দিক-নির্দেশনা। সেই উদ্দেশ্যকে আঞ্জাম দিতে শাইখ ‘ড. সায়িদ রামাদান বুতি’ রচনা করেছেন “ফিকহুস সিরাহ”; যার বঙ্গানুবাদ আসছে ‘তাজকিয়া পাবলিকেশনের’ হাত ধরে।
    .
    প্রকাশনী কর্তৃক উন্মুক্ত শর্ট পিডিএফ পড়ে বুঝলাম—এটি গতানুগতিক সীরাতের মতো নয় যেখানে নবিজীবনের সবগুলো ঘটনা ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে। বরং লেখক এখানে নবিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ নিংড়ে আমাদের জন্য এনেছেন এসবে নিহিত শিক্ষা ও উপদেশের মণিমুক্তা। গ্রন্থটির অনুবাদ আসছে মোট দুটি খণ্ডে। প্রথম খণ্ডে এসেছে ইসলামে সিরাহর গুরুত্ব, অধ্যয়নের ক্রমবিকাশ ও পদ্ধতি, পূর্ববর্তী নবিদের সাথে নবিজির দাওয়াতের মিল-অমিল, জাহেলি সমাজে জন্ম থেকে নিয়ে উহুদ যুদ্ধ ও বনু নাজিরের দেশান্তর পর্যন্ত আলোচনা। নবিজির ওফাত পর্যন্ত অবশিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের আলোচনা আছে দ্বিতীয় খণ্ডে। বোনাস হিসেবে থাকছে খোলাফায়ে রাশেদার খিলাফতকালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও প্রাপ্ত শিক্ষা। প্রথমে ঘটনার বর্ণনা, অতঃপর প্রতিটি ঘটনাকে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করে সেগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা মেলে ধরেছেন। প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যবিদের ধূর্ততা পাঠককে চিনিয়ে দিয়ে সেগুলোর খণ্ডন করেছেন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে।
    .
    ||ভালোলাগা||
    লেখকের পরবর্তী জীবনের কিছু ভিন্ন ইজতিহাদি ইলমি অবস্থানের কারণে বইটিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেওয়া যায় না— ‘প্রকাশকের কথা’ অংশে স্বীকারোক্তির দ্বারা পাঠকের সংশয় নিরসনের এপ্রোচটা ভালো লেগেছে। বইটিকে পাঠকবান্ধব করার লক্ষ্যে আলোচনাকে পয়েন্টাকারে মেলে ধরা হয়েছে। অসংখ্য টিকা-টিপ্পনী সংযুক্তির মাধ্যমে বইটিকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে; যাতে আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা বুঝতে বিভিন্ন ভৌগলিক স্থান, ব্যক্তি ও বিষয়ের পরিচয় জানতে পাঠকের সুবিধা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে ইসলামিক স্কলারদের পাশাপাশি অমুসলিদেরও উদ্ধৃতি টেনেছেন। অনুবাদের প্রাঞ্জলতা আর দক্ষ হাতের সম্পাদনা বইটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া বাংলায় অনুদিত ‘ফিকহুস সিরাহ’ সংক্রান্ত হাতেগোনা যে কয়টি বই আছে; সেগুলোর সবই কলেবরে ছোট। তাই বৃহদাকারে নবিজীবনের ঘটনাগুলোর পর্যালোচনা জানতে বক্ষ্যমাণ বইটি ইফেক্টিভ হবে বলে আশা করি।
    .
    .
    ||সীরাত থাকতে ফিকহুস সিরাহ কেন?||
    এই প্রশ্নের উত্তর আমরা জানবো শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাযালি(ইনি কিন্তু ইমাম গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহ নয়) মুখে। তিনি বলেছেন অনেকটা এরকম, “অনেক ঐতিহাসিক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনী লিখেছেন। তারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ‘ফিকহুস সিরাহ’র উদ্দেশ্য হলো কোনো কিছু কোন উদ্দেশ্যে ঘটেছিল তার বর্ণনা থাকে; যাতে সেগুলোকে বর্তমানের প্রেক্ষিতে বাস্তবে আমরাও প্রয়োগ করতে পারি। এটা যেন প্রাচীন ইতিহাসের জীবন্ত ও আধুনিক ব্যাখ্যার সমন্বয় ও সমসাময়িক প্রায়োগিক দিক। এটি করার উদ্দেশ্য হলো বর্তমানে ঈমানকে জীবন্ত রাখা, চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখা, আধুনিক সমস্যাগুলোকে মোকাবিলা করা ও ঈমানের প্রতি দৃঢ় থাকা।”
    .
    আচ্ছা, কেমন হতো যদি আমাদের হৃদাকাশকে নববী আদর্শে রাঙিয়ে দেয়া যেতাে? গােটা হৃদাকাশটাই যদি জীবন্ত কুরআনের শামিয়ানা হয়ে ওঠতাে; যা তরঙ্গের মতো হৃদয়-তন্ত্রীতে বেজে ওঠবে, ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হবে একান্ত অন্তরঙ্গ মূর্ছনায়! এই লক্ষ্যে নবিজীবনকে এক ভিন্ন আঙ্গিকে দেখতে বইটি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদী।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    নাহমাদুল্লাহাল আলিয়্যিল আযীম, ওয়াস সালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসুলিহিল আমীন!

    জীবনযাত্রার পদে পদে আমাদেরকে কত রকম পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়। কত সমস্যার সমাধান করে, কত বিপত্তির প্রাচীর ডিঙিয়ে, কত ঈমানগ্রাহী ফিতনার জাল পেরিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হয় মানযিল পাণে। যুগের জাহিলিয়্যাতের আধার পেরিয়ে জীবনতরীকে ‘ফাউয বিসাআ’দাতিদ দারায়ন’ এর তীরে ভেড়াতে আমাদের প্রয়োজন এক পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা, প্রয়োজন এক মহান আদর্শ। আমাদের রাব্বুল আলামীনের অফুরান দয়ার এক অনুপম দৃষ্টান্ত হলো – কুরআন। জীবন সাফল্য অর্জনের এক পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। কুফরের ঘন আঁধারে নিপতিত জাতির আলোর মশাল। মুমিনের আত্মীক পরিশুদ্ধির এক অমৃত সুধা। আর এই মহা ঐশি গ্রন্থের আদর্শিক উপমা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুরভিত জীবন, যে জীবনের সান্নিধ্যে জাহিলিয়্যাতের নিকৃষ্ট মানবগুলো রুপান্তরিত হয়েছিলো ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিতে।

    দুই খন্ডে প্রকাশিত ‘ফিকহুস সীরাহ’ গ্রন্থটি সে মহামানবের আলোকিত জীবনালেখ্য নিয়ে। পরিভাষায় যাকে বলা হয় সীরাহ। সীরারাতুন নাবী হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠন, সমাজ গঠন এবং উম্মাহর মাঝে উর্ধ্বজাগতিক মহাশক্তির বিশ্বাস উৎপাদন এবং আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম উপমা। ইতিহাসের অন্যান্য নীতি-নির্ধারকদের নীতি-নৈতিকতা তাদের জীবনে সামান্যতম প্রতিফলিত হইনি, কিন্তু রাসুলুল্লাহর গোটা জীবনটাই ছিল কুরআনময়। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন – তাঁর চরিত্র হলো কুরআন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদর্শ একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে, একজন সফল সেনানায়ক হিসেবে, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক রুপে, একজন জীবনসঙ্গী হিসেবে, একজন বাবা হিসেবে, একজন শিক্ষক ও সংস্কারক হিসেবে, সর্বপরি তিনি আমাদের জন্য চিরন্তন আদর্শ একজন সেরা মানব ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে।
    আলোচ্য গ্রন্থটি তাঁর আদর্শ হবার গল্পগুলো নিয়ে এবং তা থেকে পাওয়া শিক্ষা সম্বলিত চমৎকার এক রচনা। এতে রাসুলুল্লাহর জীবনালেখ্যের পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে সিরাত চর্চার গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি নিয়ে। তাঁর হাতে গড়া খুলাফায়ে রাশেদীনের সামান্য আলোচনাও সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি বিষয়ের আলোচনা শেষে ‘আমাদের শিক্ষা উপদেশ’ শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ পাঠকের জন্য সিরাহ পাঠের মূল লক্ষ্য তথা শিক্ষাগ্রহণ এবং বাস্তবজীবনে এর প্রয়োগকরণ হয়েছে অতি সহজ।

    ইসলামপূর্ব আরবের দূরাবস্থা এবং রাসুলুল্লাহর মাধ্যমে এর পরিবর্তিত রুপ নিয়ে বিশ্লেষণ আলোচনায় আমাদের জন্য রয়েছে অনুপম শিক্ষা। এতে রয়েছে সময়ের জাহিলিয়্যাতের আঁধার চিরে এক নতুন সূর্যোদয়ের প্রেরণা। এতে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর জীবন শিক্ষার খোরাক, শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মানযিল পাণে ছুটে যাবার অবলম্বন। সফলতা-ব্যর্থতা, উত্থান-পতন এবং সংগ্রাম সাধনার গল্পগুলোতে আমাদের জন্য রয়েছে বিপুল শিক্ষার সমাহার।

    আজ আমাদের আকাশ আঁধারে ছেয়ে আছে। সভ্যতার চাদরে অসভ্যতা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আজ আমাদেরকে পথ দেখাবার জন্য কোনো রাসুল নেই। আল্লাহর পথে রাহবারি করার জন্য আমাদের নিকট কোনো নবী আসবেন না। তবে আমাদের সামনে আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান আদর্শ। এর যথাযথ অনুসরণই আমাদেরকে মুক্তির পথ দেখাবে। চির শান্তির পথে এগিয়ে নিবে। সে আদর্শ আমরা খোঁজে পাব দুই মলাটের ভেতর আবদ্ধ সিরাতের পাতায় পাতায়।

    পরিশেষে , যাদের দিনের পর দিনের শ্রমের ফসল এই চমৎকার গ্রন্থটি, সকলকে যেন আল্লাহ কবুল করেন। আর আমরা যেন এই সুরভিত জীবনী পাঠে নিজেদের জীবন সৌরভে ভরে তুলতে পারি। আমীন!

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No