মেন্যু
fiqhus sirah

ফিকহুস সিরাহ (১ম ও ২য় খণ্ড)

পৃষ্ঠা : 848, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st Published, 2021
অনন্ত অসীম পরকালের যাত্রায় দুনিয়া হলো এক অন্ধকার, পিচ্ছিল ও বন্ধুর পথ। এই পথ নিরাপদে অতিক্রম করতে প্রয়োজন উপযুক্ত বাহন ও আলোর মশাল। ‘ফিকহুস সিরাহ’ মূলত আখিরাতের যাত্রাপথে আমাদের সেই... আরো পড়ুন
পরিমাণ

648  888 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

45 রিভিউ এবং রেটিং - ফিকহুস সিরাহ (১ম ও ২য় খণ্ড)

4.8
Based on 45 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    Tahmina Akter:

    🔹একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয়েছে কার, এ–বিষয়ক কোনো জরিপ কখনো হয়েছে কি? হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নাম ওপরেই থাকবে। গত দেড় হাজার বছরে দেশ–বর্ণ–ধর্মনির্বিশেষে অজস্র সাহিত্যিক, সমাজনেতা, শিক্ষাবিদ, সমরবিদ, গবেষক, রাষ্ট্রনায়ক, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধবাদীরাও তাঁকে নিয়ে বিপুল প্রশস্তি বর্ণনা করেছেন। তাঁর প্রচারিত ধর্ম গ্রহণ না করেও তাঁকে মহামানবের স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্বের ঘোর দুর্দিনে তাঁর মতো নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একেবারে আটপৌরে জীবনীগ্রন্থ থেকে বিশেষায়িত গবেষণাগ্রন্থ লিখেছেন তাঁরা অসংখ্য।
    আর তেমনই একটি বই হচ্ছে তাজকিয়া পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত ড.শাইখ মুহাম্মদ সায়িদ রামাদান আল-বুতি এর লেখা ফিকহুস সিরাহ বইটি।

    ◾বইটিতে নবি করিম (স.) এর জীবনী কে সুন্দর আর সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।সেসময়কার আরবের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে বর্ননা করা হয়েছে। বইটির যে জিনিসটি বেশি ভালো লেগেছে তা হলো প্রতিটি অধ্যায়ে নবিজী (স.) এর জীবনী সম্পর্কে বর্ননা করার পর এর থেকে মানুষ কি উপদেশ গ্রহন করতে পারবে আর এর কি শিক্ষা নিতে পারবে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।আর সেটাই বইয়ের অন্যতম একটি বিশেষত্ব।

    🔹সংক্ষিপ্ত পিডিএফ পড়ে বইটিকে ভালোই মনে হয়েছে।আশা করি পাঠকসমাজে বইটি যথেষ্ট প্রশংসা কুড়াবে…..

    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    মুহাম্মদ রুবেল মিয়া:

    আমাদের যাত্রা অনেক দীর্ঘ। পথও কন্টকাকীর্ণ, বন্ধুর ও অন্ধকার। আমাদের গন্তব্য জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছানো যতোটা কঠিন ততোটাই কঠিনতর। সেই কঠিন এবং কঠিনতর পথ সহজেই পার হওয়া সম্ভব, যদি আমাদের কাছে থাকে সে পথ পার হওয়ার মতো সঠিক পথপ্রদর্শক।
    রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সেই পথপ্রদর্শক। নবুওয়ত প্রাপ্তি থেকে মৃত্যু অবধি তিনি শুধু উম্মতের চিন্তাই করেছেন। কিভাবে এই উম্মত মুক্তি পেতে পারে জাহান্নাম থেকে, কিভাবে এই উম্মত পেতে পারে তাদের কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। শুধু তা-ই নয়, দেখিয়ে দিয়ে গেছেন জাহান্নাম থেকে মুক্তির এবং জান্নাত প্রাপ্তির সঠিক পথ ও পন্থা। তাঁর পুরো জীবনটাই যে আমাদের জন্য দিকনির্দেশনা।
    এজন্যই প্রয়োজন বেশি বেশি আমাদের প্রিয় রাসুলের জীবনী পাঠ করা। তাঁর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ ঘটানো, যেনো আমরা সহজে এবং নিরাপদে পৌঁছে যেতে পারি আমাদের গন্তব্য জান্নাতে।

    রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাতের উপর এ পর্যন্ত রচিত হয়েছে হাজার হাজার পুস্তক। এর একটি থেকে অন্যটির ধরন এবং বিষয়বস্তু ভিন্ন। অনেক ধরনের এবং বিষয়বস্তুর উপর লিখিত সিরাতের গ্রন্থই হয়তো আপনি পড়েছেন। কিন্তু তাজকিয়া প্রকাশন এবার যে সিরাত গ্রন্থটি আমাদের কাছে নিয়ে আসছে, বিষয়বস্তুর বিবেচনায় বইটি অনন্য। আরবের বিখ্যাত আলিম শাইখ ড. মুহাম্মাদ সায়িদ রামাদান আল-বুতি রচিত “ফিকহুস সিরাহ” আরব বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি সিরাতগ্রন্থ। এর অন্যতম কারণ হলো বইটির বিষয়বস্তুর বিশেষত্ব, সিারতের আধুনিক গবেষণা এবং এর উচ্চতর সাহিত্যমান।

    “ফিকহুস সিরাহ” গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় দুই খন্ডে বাজারে আসবে। এর প্রথম খন্ডে পাঁচটি অধ্যায়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম ও বংশপরিচয় থেকে শুরু করে মদিনায় ইয়াহুদি গোত্র বনু নাযির এর দেশান্তর পর্যন্ত আলোচনা করা হয়েছে। এবং দ্বিতীয় খন্ডে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃত্বাধীনে সংগঠিত যাতুর-রিকা যুদ্ধ থেকে ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি রাযি. এর খিলাফতকাল পর্যন্ত আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এর মধ্যে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর ইসলামের প্রথম চার খলিফার শাসনকাল নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

    বইটির বিশেষত্ব হলো, বইটিতে সিরাহ অধ্যয়নের গুরুত্ব, সিরাহ অধ্যয়ন করার লাভ, সিরাহ থেকে আমরা কি শিখতে পারি, ইসলাম সিরাহ অধ্যয়নকে কেনো এতো গুরুত্ব দিয়েছে, ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে সিরাহ অধ্যয়নের আবশ্যিকতা, আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলের সুন্নাহ অর্থাৎ সিরাহ একে অপরের পরিপূরক ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রত্যেকটি কর্মে আমাদের জন্য শিক্ষনীয় বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

    বইটি পাঠ করে পাঠক যেমন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাহ জানতে পারবেন তেমনি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিরাহ থেকে শিখতে পারবেন আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক জীবনে সফলতার পন্থা।
    জানতে পারবেন দুনিয়া ও আখিরাতের মহাসাফল্যের পথ ও পদ্ধতি।
    শুধু রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনীর আলোকেই নয়, তাঁর সাহাবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ চারজন তাদের শাসনকালে কিভাবে সিরাহের শিক্ষার বাস্তবায়ন করেছেন তা-ও বইটিতেই পেয়ে যাবেন।

    শর্ট পিডিএফ-এ যতটুকু পড়লাম ভালোই লেগেছে। অনুবাদ মাশাআল্লাহ, প্রচ্ছদটা খুবই পছন্দ হয়েছে। আশা করি পৃষ্ঠা এবং বাঁধাইও ভালো হবে এবং টাইপিং মিস্টেক থাকবে না।
    সর্বশেষ বলতে হয়, সিরাতের উপর অসাধারণ একটি বই হবে এটি ইনশাআল্লাহ।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    Tahmina Akter:

    🔹একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয়েছে কার, এ–বিষয়ক কোনো জরিপ কখনো হয়েছে কি? হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নাম ওপরেই থাকবে। গত দেড় হাজার বছরে দেশ–বর্ণ–ধর্মনির্বিশেষে অজস্র সাহিত্যিক, সমাজনেতা, শিক্ষাবিদ, সমরবিদ, গবেষক, রাষ্ট্রনায়ক, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধবাদীরাও তাঁকে নিয়ে বিপুল প্রশস্তি বর্ণনা করেছেন। তাঁর প্রচারিত ধর্ম গ্রহণ না করেও তাঁকে মহামানবের স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্বের ঘোর দুর্দিনে তাঁর মতো নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একেবারে আটপৌরে জীবনীগ্রন্থ থেকে বিশেষায়িত গবেষণাগ্রন্থ লিখেছেন তাঁরা অসংখ্য।
    আর তেমনই একটি বই হচ্ছে তাজকিয়া পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত ড.শাইখ মুহাম্মদ সায়িদ রামাদান আল-বুতি এর লেখা ফিকহুস সিরাহ বইটি।

    ◾বইটিতে নবি করিম (স.) এর জীবনী কে সুন্দর আর সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।সেসময়কার আরবের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে বর্ননা করা হয়েছে। বইটির যে জিনিসটি বেশি ভালো লেগেছে তা হলো প্রতিটি অধ্যায়ে নবিজী (স.) এর জীবনী সম্পর্কে বর্ননা করার পর এর থেকে মানুষ কি উপদেশ গ্রহন করতে পারবে আর এর কি শিক্ষা নিতে পারবে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।আর সেটাই বইয়ের অন্যতম একটি বিশেষত্ব।

    🔹সংক্ষিপ্ত পিডিএফ পড়ে বইটিকে ভালোই মনে হয়েছে।আশা করি পাঠকসমাজে বইটি যথেষ্ট প্রশংসা কুড়াবে…..

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    zawadmunshi04:

    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

    وَ کُلًّا نَّقُصُّ عَلَیۡکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهٖ فُؤَادَکَ ۚ وَ
    جَآءَکَ فِیۡ هٰذِهِ الۡحَقُّ وَ مَوۡعِظَۃٌ وَّ ذِکۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
    “আর রাসূলদের ঐ সব বৃত্তান্ত আমরা আপনার কাছে বর্ণনা করেছি , যা দ্বারা আমরা আপনার চিত্তকে দৃঢ় করি, এর মাধ্যমে আপনার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের কাছে এসেছে উপদেশ ও স্মরণ।” (সূরা হুদ আয়াত ১২০)
    এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন, কুরআনে(বিশেষত এই সূরায়) তিনি পূর্ববর্তী নবীদের বিভিন্ন কাহিনী উল্লেখ করে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং মুমিনদের অন্তর শক্ত করেছেন, অর্থাৎ তিনি বর্ণনা করেছেন কিভাবে পূর্ববর্তী নবীদের অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে সত্যের প্রচারে, তাও তারাই শেষে বিজয়ী হয়েছেন ও আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন।

    আচ্ছা, পূর্ববর্তী নবীদের জীবনী যদি আমাদের জন্য থাকে উপদেশ, তাহলে সব নবীদের সরদার, সায়্যিদুল আম্বিয়া, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জীবনে কি আদর্শে ভরপুর নয়?

    জি, তার জীবনের শিক্ষা ও আদর্শ হলো সর্বোত্তম আদর্শ। সাইয়েদ রামাদান আল বুতির(রহিমাহুল্লাহ) মতে-
    “তার জীবনে রয়েছে একজন উত্তম যুবক, উত্তম শাসক, উত্তম দায়ী, উত্তম স্বামী ও পিতা এবং আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দার সর্বোত্তম নমুনা”

    মণি মুক্তার চেয়েও মূল্যবান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর কথা ও কাজ থেকে প্রাপ্ত উপদেশ জানার জন্য সিরাত পাঠ অপরিহার্য, সিরাত রচনার মহৎ সিলসিলা এরই একটি সংযোজন তাজকিয়া পাবলিকেশন এর অনুবাদকৃত ও আরব বিশ্বে ব্যাপক খ্যাতিপ্রাপ্ত সিরাত বই “ফিকহুস সিরাহ”।

    🟢বইটির যেসব দিক বইটির পাঠ কে সার্থক করবে বলে মনে করছি:

    ১. নবী জীবনের ছোট বড় প্রায় ৫০ টি ঘটনার(রাসূল সা: এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত) গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ঘটনাগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা, উপদেশ, ছোটখাটো ফিকহি মাসআলা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

    ২. বইটি আপনাকে অনর্গল তথ্যের সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবে না। বরং লেখক সর্বস্তরের পাঠকের জন্য সাবলীল ভাবেই সব কিছু উপস্থাপন করেছেন।

    ৩. বর্ণনাগত বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে শতভাগ মনোযোগ দেয়া হয়েছে।

    ৪. সিরাত গবেষণায় “অবজেক্টিভ গবেষক/ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি” এর নামে রাসূলের নবুয়াত, মেরাজ ও মুজিযা অস্বীকারকারীদের(এইচ এ আর গিবস,হুসাইন হাইকাল,ফরিদ ওয়াজদি) সাইয়িদ রামাদান আল বুতী (রহিমাহুল্লাহ) খন্ডন করেছেন।

    ৫. রাসূল সাললাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কেনো আরব ভূমিতে আরবদের জন্যই প্রেরণ করা হলো, তার পিছনের হিকমাহ রুলে ধরেছেন তিনি(যদিও প্রকৃত উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তাআলা ই জানেন)

    🔵বইটির নজর কাড়া কিছু বিষয়:

    ১. তৎকালীন গ্রীকদের দার্শনিক আলাপকে “অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক কথা বার্তা” বলে আখ্যা দিয়েছেন লেখক

    ২. ফুরুঈ (শাখাগত) মাসআলা তে ইখতিলাফ এর স্বীকৃতি প্রদান করেছেন এবং বাড়াবাড়ি পরিত্যাগ করার উপদেশ দিয়েছেন। (যেটা উম্মাহর বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়)

    ৩. “নবীজীকে উসিলা (মাধ্যম ও অবলম্বন) বানানো জায়িজ আছে” এই মর্মে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তিনি(যেটা অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য মনে হবে, তবে পাঠক হিসেবে সেটাকে এড়িয়ে গিয়ে বইয়ের অন্যান্য অংশের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত বলে মনে করছি)

    ৪. এইচ আর গিবস কর্তৃক শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভির(রহিমাহুল্লাহ) উক্তি ভুলভাবে উপস্থাপন করা ধরিয়ে দিয়েছেন।

    বইটির আরো অনেক দিক রয়েছে যা লেখকের বিশ্লেষণী চিন্তা, ব্যাপক গবেষণা ও আল্লাহ প্রদত্ত গভীর প্রজ্ঞাকে তুলে ধরবে, সে জন্য আমাদের বইটি পুরো পড়তে হবে।

    বইটিতে কিছু দিক রয়েছে যা পরিমার্জনের বা পুনঃ নিরীক্ষণের দাবি রাখে। এখন না হলেও পরের সংস্করণ এ তা পরিবর্তন করে নেয়া উচিত হবে:

    ১. প্রথম অধ্যায়ের প্রথম ২টি পরিচ্ছেদ(অর্থাৎ হেডিং) এর অনুবাদ বেশ দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। আরো সাবলীল হওয়া উচিত ছিল। এছাড়া বইয়ের বাকি অংশের অনুবাদ মোটামুটি সহজবোধ্য হয়েছে।
    ২.এইচ এ আর গিবস এর উক্তি আরবী তে দেয়া নিষ্প্রয়োজন মনে করছি।
    ৩.পৃষ্ঠা ১০৫ এ যেই দুআ টি রয়েছে, সেটার বাংলা অনুবাদ এবং আরবী(জের জবর পেশ সহ) অনুপস্থিত, সেটা দেয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
    ৪. কিছু বানানে ত্রুটি দেখতে পেয়েছি: পৃষ্ঠা ৬৭ এ আখলাখ(আখলাক), আহব্বান (আহ্বান)
    পৃষ্ঠা ৭১ এ কুআন(কুরআন), পৃষ্ঠা ৭৪ এ মানবমন্ডলি(মানবমন্ডলী), পৃষ্ঠা ৯১ এ সংঘঠিত(সংঘটিত)।

    আপনাদের এই মহৎ কাজের তুলনায় এই সামান্য ভুল কিছুই না, তবে পাঠকদের হাতে তুলে দেয়া এই বই যত নির্ভুল ও সহজপাঠ্য হবে, ততই ভালো।

    বর্তমান যুবসমাজ তাদের আদর্শ ও মনন-বিকাশের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। এর ফলে দিন দিন আমাদের ইয়াং জেনারেশন হচ্ছে দ্বীনবিমুখ ও আত্মপরিচয়হীন।

    যদি এখনই বিশ্ব মানবতার প্রকৃত মুক্তির আহ্বায়ক রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মহৎ আদর্শের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে তাদের অশুভ পরিণতির দায়ভার আমাদেরও নিতে হবে।

    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    মুসা আমান:

    নবীজির সিরাহ কি শুধু পড়লে আর জানলেই যথেষ্ট? না। দিন-তারিখ আর ধারাবাহিক ঘটনা জানার চেয়ে বেশি প্রয়োজন এগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কী, তা জানা। কারণ, নবীজিকে আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করেছেন আমাদের শিক্ষক হিসেবে। তার প্রতিটি কর্ম, আচরণ ও আমল থেকে আমাদের কী শেখার আছে, আমাদের কী আদর্শ আছে, নবীজির জীবনী জানার সাথে সাথে সেগুলো জানার জন্যই এই বই ‘ফিকহুস সিরাহ’।
    .
    এই বই আপনাকে শেখাবে কীভাবে আমরা যাপন করব আমাদের জীবন; কীভাবে আমাদের জীবনকে আমরা সাজাব নববি-আদর্শে। ও হ্যাঁ, নবী-জীবনীর বিভিন্ন অংশে প্রাচ্যবিদদের অপপ্রচারের জবাবও দেবে এই বই। তাই, এই বই আপনাকে পড়তেই হবে।
    নবীজির জীবনী বিষয়ক শ্রেষ্ঠ একটি বই : ফিকহুস সিরাহ
    8 out of 8 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top