মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ফেরা ২

ভাষান্তর: সাদিকা সুলতানা সাকী
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১২০

জাগতিক নিয়মে, সব পাখি নীড়ে ফেরে। ফুল ফোটে, বৃষ্টি নামে এবং নদী তার আপন পথে বাঁক নেয়। কিন্তু, ফেরে না কেবল মানুষ। অহংকার আর অহমিকার দহনে তার বুকের ভেতরে জিইয়ে রাখে পাহাড়সম আগুন। সেই আগুনে ঝলসে যায় সে নিজে এবং ঝলসে দিতে চায় তার চারপাশ। মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ আর বেপরোয়া। সে তার অস্তিত্বের কার্যকারণ ডিঙিয়ে নিজেকে আমিত্বের আসনে দেখতে চায়। নিজের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতি চূড়ান্ত ভাবলেশহীন হয়ে সে নিজেকে অনন্ত-অসীমে কল্পনা করে বসে। ফলে সে বিচ্যুত হয়। পদস্খলন ঘটে তার। যুগে যুগে যাদের ধ্বংসের পদধ্বনি আমরা শুনতে পাই, তাদের সকলের যেন একই গল্প, একই চিত্রনাট্য—ঔদ্ধত্য, অহংকার আর অনাচার। এক মহাসত্যকে পাশ কাটিয়ে, নিজেকে নিয়ন্ত্রকের আসনে যখনই সে আসীন করতে গেছে, তখনই ধ্বংস অনিবার্য হয়ে নিপতিত হয়েছে তার ওপর।

তবু, কারও কারও গল্পটা অন্যরকম। তবু, কেউ কেউ ফিরে আসে। খুঁজে পায় পথ। খুঁজে নেয় অন্তিম অবসরের অনন্ত আবাসস্থল। ফিরে আসা এমন দুটো পবিত্র আত্মার যাপিত-জীবনের রং-তুলিতে নির্মিত আমাদের ফেরা-২।

গল্পের ভেতরেও গল্প থাকে, পরিচ্ছেদের ভেতরেও থাকে উপ-পরিচ্ছেদ। আমাদের গল্পটা ভিন্ন। এই গল্পটা একেবারে ডুবে যাওয়ার গল্প নয়, বরং ডুবতে ডুবতে হঠাৎ মাঝ-সাগরে জাহাজের মাস্তুল পেয়ে যাবার মতোই। এই গল্পটি হারিয়ে যাবার গল্প নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পাবার উপাখ্যান। তাই, এই গল্পটি একটু অন্যরকম।

দুজন হিন্দু বোন, যারা আশৈশব দেব-দেবীর পূজো-অর্চনা করেছে, মণ্ডপে যারা নিবেদন করেছে গভীর অনুরাগের নৈবেদ্য, তারা কোন জাদুকরী মন্ত্রে খুঁজে পেল ইসলাম? মন্দিরের ঘণ্টার শব্দ, পূজো-পার্বনের কীর্তনের সুর যাদের রক্তে মেশা, তারা কেনই-বা মগ্ন হলো মিনার থেকে ধেয়ে আসা আযানের ধ্বনিতে? ‘ফেরা-২’ এমনই এক যাপিত-জীবনের উপাখ্যান, কিংবা মহাকাব্যের চেয়েও বেশি কিছু।

মূল বইটি উর্দু ভাষায় রচিত। লেখিকা বিনতু আদিলের জন্য আমাদের অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর দুআ রইল। আর জীবনের নতুন অনুচ্ছেদ যারা শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের জীবন রঙিন এবং সুখময় হবে, অনন্ত আখিরাতে রহমানের আরশের সুশীতল ছায়ায় আশ্রিত হয়ে ধন্য হবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা। সাথে, এই বইটি এমন হাজারো পথহারা পথিকের জন্য পথ খুঁজে পাওয়ার দিশা হবে, ঘুম ভাঙানোর কারণ হবে, এই কামনা।

পরিমাণ

120.00  172.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

5 রিভিউ এবং রেটিং - ফেরা ২

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    #ওয়াইফিলাইফ_পাঠকের_ভালোলাগা_জুন_২০২০

    নীড় হারা আর কতকাল কেটে যাবে ? আর কতকাল ভবখুরে হয়ে কেটে যাবে আটপৌরে জীবনের অনাগত স্নিগ্ধ ভোর ? এই ঝাঁঝালো দুপুর, প্রসন্ন বিকেল ধূসর গোধূলি, নিথর সন্ধ্যা, নির্জন রাত __আর কতদিন কেটে যাবে ভীষণ অন্ধকারে ? সব পাখি নীড়ে ফেরে , সব নদী বয়ে যায় আপন ঠিকানায় ;ফেরে না কেবল মানুষ ! তবু কেউ কেউ ফিরে আসে ৷ফেলে আসে একজীবনের সমস্ত সম্মোহনা ৷

    ____________________­________________

    ★★★[বিষয়বস্তু ও রিভিউ]
    মনিকা ও নীলম একটি হিন্দু পরিবারে তাদের বেড়ে ওঠা অর্থাৎ জন্ম সূত্রে তারা হিন্দু ৷ আর সেই পরিবার থেকেই একজন হয়ে উঠে মনিকা থেকে আয়িশা এবং নীলম থেকে মারইয়াম ৷ আমাদের মতো তারা ইসলাম নামক সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানোর সৌভাগ্য তাদের হয় নি ৷ তারা ছিল ইমান ও ইসলাম থেকে লক্ষ যোজন মাইল দূরের অন্ধকার জগতের বাসিন্দা ৷ সময়ের সাথে বন্ধুর পথে হাটতে গিয়ে তারা খুজেঁ পায় সত্যের সন্ধান ৷ যা তাদেরকে সত্যের পানে নির্নিমিখ ছুটে চলার সাহস দিয়েছিলো ৷ পৈত্রিক ধর্ম ,পরিবারের সাথে বিচ্ছেদ সে সকল কিছু তুচ্ছঞ্জান করে চিরাচরিত এক মহাসত্যের দিকে ধাবমান হতে গিয়ে তারা কি খুজেঁ পেয়েছিলো সিরাতুল মুসতাকিমের সন্ধান ? হ্যাঁ পেয়েছিলো ৷ আর সেই পথের দিকে যাত্রা করার সময় তাদেরকে হতে হয়েছে অপমান-অপদস্ত, মুখোমুখি হতে হয়েছে শতশত প্রতিকূলতার ,তীব্র থেক তীব্রতর কষ্টের ধকল তারা হাসি মুখে সহ্য করেছিলো, তবুও তারা সত্যের এই পথে অটল থাকার চেষ্টা করছিলো ৷ বন্ধুর এই পথে হাটতে গিয়ে তারা মুখোমুখি হয়েছিলো কন্টকাপূর্ণ এক রাস্তার , যে রাস্তা পারি দিতে পারলেই তারা পান করতে পারতো সত্যের অমৃত সুধা ৷ তারা কি পেরেছিলো এই রাস্তা পারি দিতো ? তারপর কি হয়েছিলো আয়িশা ও মারইয়ামের শেষ পরিণতি ? নাকি তারা কি ফিরে গিয়েছিলো তাদের পরিবারের কাছে ? জানতে হলে বইটা আপনাকে পড়তে হবে ৷

    ____________________­________________

    [ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ]
    নীড়ে ফেরার পবিত্রতম আত্মাগুলো গল্প পড়তে গিয়ে বারবার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছি কি করেছি আমার নিজের ধর্মের জন্য আদতে কি কিছু করতে পারবো ? একটা সময় ছিলো যখন অন্ধভক্ত ছিলাম বাংলাদেশের তারকা প্লেয়ার সাকিব আল হাসানের , তার এমন কোনো ছবি ছিলো না যা আমার সংগ্রহে ছিলো না , একনিমিষে সেই ছবিগুলো মুছে গিয়েছিলাম ৷ যা ছিলো আমার দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংগ্রহ ৷ কিন্তু তাদের গল্পগুলো পড়ার পর মনে হয়েছে কিছু একটা করা দরকার আমার ধর্মের জন্য আমার নিজের জন্য যা হয়তো আমাকে মারইয়াম আর আয়েশা তৈরি করতে না পারলেও পরকালের জন্য কিছুটা হলেও আরশের নিচে ছায়া মেলাতে সাহায্য করবে ৷ প্রত্যাবর্তনের উপাখ্যান নিয়ে এখান থেকেই যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো ৷

    ____________________­________________

    [ ভালোলাগা — মন্দলাগা ]
    প্রথমে ভেবেছিলাম বইটা পড়বো কোনে এক অবসর সময়ের পরম আয়েশে ৷ কিন্তু বইটির সাদা-মাটা প্রচ্ছদ বইটিকে ফুটিয়ে তুলেছিলো দারুণভাবে ৷
    তবে শেষ পর্যন্ত একটি অপূর্ণতা বা রহস্য রয়েই গেলো কি হয়েছিলো শেষ পর্যন্ত মারইয়ামের ?

    সবশেষে বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে সহায়ক ৷ পড়ে নিরাশ হবেন না ইন-শা-আল্লাহ ৷ ____________________­________________

    বইয়ের নামঃ ফেরা ২
    লেখিকাঃ বিনতু আদিল
    অনুবাদঃ সাদিকা
    সুলতানা সাকী
    প্রকাশকঃ সমকালীন প্রকাশন
    জনরাঃ ইসলামী সাহিত্য, গল্প-উপন্যাস এবং সফরনামা, ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা ৷
    পৃষ্ঠাঃ ১১৯
    মুদ্রিত মূল্যঃ ১৭২ টাকা

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভালো_লাগা_মে_২০২০

    #বইয়ের নাম-ফেরা ২
    #মূল লেখিকা-বিনতু আদিল
    অনুবাদ- সাদিকা সুলতানা সাকী
    সম্পাদনা-আকরাম হোসাইন
    প্রচ্ছদ-সমকালীন গ্রাফিক্স টিম
    প্রথম প্রকাশ-একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    মূল্য-১৭২ টাকা
    রেটিং-৪/৫

    পরের রাতে ঠিক শেষ প্রহরে ঘুম ভেঙ্গে গেল আমার।বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে এসে দাড়ালাম।অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম মসজিদের মিনারের দিকে।একসময় ফযরের আযান হলো।হৃদয়ভরা ভালোবাসা নিয়ে আযান শুনলাম।হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করলাম প্রতিটি শব্দ।-ফেরা ২ থেকে।

    বই সম্পর্কে_আলহামদুলিল্লাহ, অসংখ্যা নিয়ামতে ভরা এক বই।দুই বোন মনিকা আর নীলম।যাদের স্থান হয়েছিলো ইসলামের ছায়াতলে।আল্লাহ যাদের কবুল করে নিয়েছেন।যারা ইসলামের ছায়াতলে এসে হয়ে উঠেছিলো আয়িশা আর মারঈয়াম।পরিবারের শত আপত্তি,শত নির্যাতন সহ্য করে ও ছিলো ইসলামের পথে অবিচল।দুজনে হয়ে উঠলো আয়েশা আর মারইয়াম।শুরু হলো তাদের নতুন পথচলা।পরিবারের সবার থেকে লুকিয়ে নামাজ পড়া,একবোন পাহারায় থেকে অন্যজন নামাজ পড়া।গর্ভধারিণী মায়ের কাছে কারনে অকারণে মার খাওয়া।আর একদিন সহ্যের সীমার বাইরে গিয়ে এক ভাইয়ের হাত ধরে চলে যায় মহিলা মাদরাসায়।সেখানে আপন বোনের মতো মেয়েরা,আর মায়ের মতো পরিচারিকার সংস্পর্শে আসে।সেখানে গিয়ে ও পড়তে ও হয় কোর্ট এর ঝামেলায়।তবুও তারা ছিলো আল্লাহর পথে অবিচল।আল্লাহর উপর ভরষা রেখেই শুরু হয় তাদের নতুন পথচলা,রক্তের সম্পর্কের চাইতে ও বড় হয়ে উঠে আলাহর সাথের সম্পর্ক।আর এই দুই বোনের জীবন যুদ্ধে তাদের ছিলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল আর অকৃত্রিম বিশ্বাস।।আলহামদুলিল্লাহ।।

    বই থেকে – নীড়হারা আর কতকাল কেটে যাবে?আর কতকাল ভবঘুরে হয়ে,ভীষণ উদাসীনতায় কেটে যাবে আআটপৌরে জীবনের অনাগত স্নিগ্ধ ভোর?এই ঝাঁঝালো দুপুর,প্রসন্ন বিকেল,ধূসর গোধূলি,নিথর সন্ধ্যা,নির্জন রাত-আর কত দিন কেটে যাবে ভীষন অন্ধকারে?সব পাখি নীড়ে ফেরে,সব নদী বয়ে যায় আপন ঠিকানায়,ফেরে না কেবল মানুষ!তবু কেউ কেউ ফিরে আসে।ফেলে আসা একজীবনেরএকজীবনের সমস্ত সম্মোহন।সেই ফেলে আসা,ছেড়ে আসা,রেখে আসা দুঃসাহসী দু বোনের সত্যের পানে নির্নিমিখ ছুটে চলার উপাখ্যান দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘ফেরা ২’

    প্রচ্ছদ-একটা বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে সামান্য হলে ও বোঝা যায় বইটার মমার্থ।প্রচ্ছদ এর মধ্যে একটা কাক যে তার বাসার দিকে ফিরে যাচ্ছে,যে তার আসল নীড়ে ফেরে যাচ্ছে।যেমনটা গিয়েছিলো আয়িশা আর মারঈয়াম তাদের নিজেদের ঠিকানায়,তাদের নিজেদের আপন নীড়ে।

    ভালো লাগার লাইন-বোন আমার,, বিচ্ছেদের এই দিনগুলো একটু ঠোট কামড়ে সহ্য কর।ইনশাআল্লাহ একদিন আমাদের সাথে বাবা,মা,দিদি,ভাইয়া সবার দেখা হবে।আল্লাহর কাছে নিরাশ হওয়া যাবে না।তিনি আমাদের ব্যাপারে সবকিছু জানেন।আমরা যে প্রদীপ জ্বালিয়েছি,তার আলো আমাদের ঘর হয়ে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়বে আজ হয়তো আমরা আদালতে যাচ্ছি বিচ্ছেদের জন্য।কিন্তু এই বিচ্ছেদ চিরকালের মিলনের জন্য।এতে অপ্রাপ্তির চাইতে প্রাপ্তি ঢের বেশি।

    পাঠ প্রতিক্রিয়া-আলহামদুলিল্লাহ,প্রতি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় রহমতে ভরা।যত পড়েছি তত মুগ্ধ হয়েছি।কই আমরা ও তো মুসলিম জন্ম থেকেই,কিন্তু কখনো কি তাদের মতো করে ভেবেছি ইসলাম নিয়ে,কখনো এত গভীর ভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি।আলহামদুলিল্লাহ বইটি নতুন করে ভাবতে শিখায়।নতুন করে পথ চলার শিক্ষা দেয়।পরিচয় করিয়ে দেয় সে পথের যে পথ সত্য সুন্দরের।বইটি দুই বোনের কাহিনী যারা ইসলামের জন্য নিজেদের ঘর ত্যাগ করেছে,এটি ত্যাগের গল্প।এটি আল্লাহর কাছে আসার গল্প।আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের গল্প।নিজ নীড়ে ফেরার গল্প।আলহামদুলিল্লাহ এ বইটি পড়ে নতুন এক পথ উন্মোচিত হয়ে চোখের সামনে।।।
    আলহামদুলিল্লাহ।।

    Was this review helpful to you?
  3. 3 out of 5
    Rated 3 out of 5

    :

    The two sisters… had to bear so much.. May Allah help them and fulfill their good, heartfelt duaas in the best possible way.
    Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_মার্চ_২০২০
    .
    বইঃ– “ফেরা-২”
    ••••••••••••••••••••••••••
    প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসে আজানের সুমধুর ধ্বনি । অথচ সেই ধ্বনি আমাদের জন্মসূত্রে মুসলিম হওয়াদের অন্তরকে আন্দোলিত করেনা । অথচ সেই একই মিনার থেকে ভেসে আসা ধ্বনিই পাল্টে দেয় কোনো কোনো অমুসলিমদের জীবন । হৃদয় গহীনে খুঁজে পায় তারা প্রশান্তির ছায়া আর মহান রবের পরিচয় । সেই তাদেরই সত্যিকার ঘটনা নিয়ে সাজানো “ফেরা-১” এরপর এবার পাঠকের হাতে এসেছে “ফেরা-২” ।
    .
    ❒ বইটি সম্পর্কে—
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    দুজন হিন্দু বোনের সত্যের পানে নির্নিমিখ ছুটে চলার উপাখ্যান দিয়ে সাজানো হয়েছে “ফেরা-২” । মনিকা থেকে আয়িশা আর নীলম থেকে মারইয়াম হয়ে ওঠার এক অশ্রুসজল উপাখ্যান । দু-বোনের অপরিসীম ত্যাগ, বিসর্জন ও অবিশ্বাসী ঈমানি শক্তির খন্ডিত অংশ নিয়ে বইটি মলাটবদ্ধ হযেছে । মূল বইটি উর্দু ভাষায় রচিত । লেখিকা- বিনতু আদিল । প্রকাশিত হয়েছে “সমকালীন প্রকাশন” থেকে । পৃষ্ঠা সংখ্যা–১২০ । প্রচ্ছদ মূল্য–১৭২ টাকা ।
    .
    ❒ বইটি কাদের জন্য—
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    আমার মতে বইটি ৩ শ্রেনির মানুষের জন্য ।
    ১) যারা ফেরা-১ পড়ে নিজেদের লাইফস্টাইলে ঝাঁকি খেয়েছিলেন, তাদের জন্য ।
    ২) আপনার যেসব মুসলিম বন্ধু/বান্ধবী দ্বীনকে ভুলে বসে আছে ।
    ৩) ক্লাসের হিন্দু বন্ধু/বান্ধবীদের জন্য ।
    .
    ❒ ভাল লাগা–
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইটি অনুবাদ করেছে, সাদিকা সুলতানা সাকী । বইয়ের অনুবাদ এককথায় অসাধারন হয়েছে । যেন সাহিত্যের ফল্গুধারা বইয়ে গেছে । অনেক নতুন নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হয়েছি । বইয়ে আয়িশার দুআগুলো অন্তরের প্রভাব ফেলার মতো । সে দুআগুলো থেকে একজন পাঠক খুঁজে পাবে ঈমান বৃদ্ধির উপকরন আর তাওয়াক্কুলের শিক্ষা ।
    খারাপ লাগার মতো কিছু চোখে পড়েনি । তবে একটা অপূর্নতা রয়ে গিয়েছে মনে হয়েছে । সেটা হচ্ছে, আয়িশার বিয়ের পর মারইয়ামের কি হয়েছিল সেটা বইয়ে আসেনি । সে কি দ্বীনের উপর অটল ছিল নাকি বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিল ?

    বইয়ের প্রচ্ছদও খুব ভাল লেগেছে । বোঝাই গেছে ফেরা-১ এর সাথে মিল রেখে প্রচ্ছদটি করা হয়েছে । পৃষ্ঠাসজ্জা,পৃষ্ঠামান সবকিছুই প্রশংসনীয় । বইয়ের ঘটনাগুলো পয়েন্ট আকারে শিরোনামসহ উল্লেখ করা হয়েছে, যেকারনে পড়তে খুবই ভাল লেগেছে । সুখপাঠ্য মনে হয়েছে ।
    .
    ❒ শেষ কথা–
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    প্রিয় পাঠক, আমন্ত্রন রইল দু-বোনের এই দুঃসাহসী যাত্রার সাক্ষী হওয়ার জন্য । নিজেদের জীবন নিয়ে আরেকবার ভেবে উঠতে সাহায্য করবে বইটি । বইটিতে রয়েছে ঈমানকে মজবুত করার যথেষ্ট খোরাক । আশা করি বইটি আপনাকে হতাশ করবে না ।
    Was this review helpful to you?
  5. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_মার্চ_২০২০

    জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের বাঁধা বিপত্তির কারণ হয় কিছু বস্তু। সেই বস্তু থেকে রক্ষা পেতে কত কিছুই না করতে হয়।

    আমরা মুসলিম হয়েও অমুসলিমদের মত আচরণ করি, কেননা আমরা তো জন্ম থেকেই মুসলিম। তাই ভেবেই নিয়েছি যে একদিন না একদিন জান্নাতে যাবো, অথবা কোনো উসিলায় চলে যাবো জান্নাতে। বস্তুত আদৌ সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহর প্রতি তাকওয়া অর্জন করা ছাড়া জান্নাত অসম্ভব। যারা নওমুসলিম, তাদের তাকওয়া এতো মজবুত যে টা একজন জন্মগত মুসলিম এর তাকওয়া কেও হার মানায়। কারণ নওমুসলিম রা জেনে বুঝেই ইসলাম কে গ্রহণ করে নিয়েছে। আর আমরা মুসলমানেরা জেনেও জানিনা এমন একটা ভাব।

    তাই প্রত্যেক নওমুসলিম ভাই বোনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, আল্লাহ্ আপনাদের সবাইকে কবুল করুক। আমিন। সাথে আমাদের মত সাধারণ মুসলিমদের কেও পরিপূর্ণ তাকওয়া অর্জন করার তৌফিক দান করুক। আল্লাহ্ মহান। তিনি চাইলেই আমাদের জীবনে অনেক কিছু দান করতে পারেন। আপনি যাই চান না কেনো, আপনাদের সাধ্যের মধ্যেই সবটুকু সুখ দিয়ে দিবেন মহান রাব্বুল আলামিন। শুধু চাই একটু মাত্র ভরসা। আল্লাহ্ এর উপরে একটু ভরসা করেই দেখুন। সব দুশ্চিন্তার হাত থেকে আপনি মুক্ত পাবেনই ইনশাআল্লাহ।

    #ফেরা_২ বইটিও তেমনই ঈমান জাগানিয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। আশা করবো সবাই এই বইটি পড়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
    #MRHR

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?