মেন্যু


ফেরা ২

ভাষান্তর: সাদিকা সুলতানা সাকী
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১২০

জাগতিক নিয়মে, সব পাখি নীড়ে ফেরে। ফুল ফোটে, বৃষ্টি নামে এবং নদী তার আপন পথে বাঁক নেয়। কিন্তু, ফেরে না কেবল মানুষ। অহংকার আর অহমিকার দহনে তার বুকের ভেতরে জিইয়ে রাখে পাহাড়সম আগুন। সেই আগুনে ঝলসে যায় সে নিজে এবং ঝলসে দিতে চায় তার চারপাশ। মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ আর বেপরোয়া। সে তার অস্তিত্বের কার্যকারণ ডিঙিয়ে নিজেকে আমিত্বের আসনে দেখতে চায়। নিজের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতি চূড়ান্ত ভাবলেশহীন হয়ে সে নিজেকে অনন্ত-অসীমে কল্পনা করে বসে। ফলে সে বিচ্যুত হয়। পদস্খলন ঘটে তার। যুগে যুগে যাদের ধ্বংসের পদধ্বনি আমরা শুনতে পাই, তাদের সকলের যেন একই গল্প, একই চিত্রনাট্য—ঔদ্ধত্য, অহংকার আর অনাচার। এক মহাসত্যকে পাশ কাটিয়ে, নিজেকে নিয়ন্ত্রকের আসনে যখনই সে আসীন করতে গেছে, তখনই ধ্বংস অনিবার্য হয়ে নিপতিত হয়েছে তার ওপর।

তবু, কারও কারও গল্পটা অন্যরকম। তবু, কেউ কেউ ফিরে আসে। খুঁজে পায় পথ। খুঁজে নেয় অন্তিম অবসরের অনন্ত আবাসস্থল। ফিরে আসা এমন দুটো পবিত্র আত্মার যাপিত-জীবনের রং-তুলিতে নির্মিত আমাদের ফেরা-২।

গল্পের ভেতরেও গল্প থাকে, পরিচ্ছেদের ভেতরেও থাকে উপ-পরিচ্ছেদ। আমাদের গল্পটা ভিন্ন। এই গল্পটা একেবারে ডুবে যাওয়ার গল্প নয়, বরং ডুবতে ডুবতে হঠাৎ মাঝ-সাগরে জাহাজের মাস্তুল পেয়ে যাবার মতোই। এই গল্পটি হারিয়ে যাবার গল্প নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পাবার উপাখ্যান। তাই, এই গল্পটি একটু অন্যরকম।

দুজন হিন্দু বোন, যারা আশৈশব দেব-দেবীর পূজো-অর্চনা করেছে, মণ্ডপে যারা নিবেদন করেছে গভীর অনুরাগের নৈবেদ্য, তারা কোন জাদুকরী মন্ত্রে খুঁজে পেল ইসলাম? মন্দিরের ঘণ্টার শব্দ, পূজো-পার্বনের কীর্তনের সুর যাদের রক্তে মেশা, তারা কেনই-বা মগ্ন হলো মিনার থেকে ধেয়ে আসা আযানের ধ্বনিতে? ‘ফেরা-২’ এমনই এক যাপিত-জীবনের উপাখ্যান, কিংবা মহাকাব্যের চেয়েও বেশি কিছু।

মূল বইটি উর্দু ভাষায় রচিত। লেখিকা বিনতু আদিলের জন্য আমাদের অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর দুআ রইল। আর জীবনের নতুন অনুচ্ছেদ যারা শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের জীবন রঙিন এবং সুখময় হবে, অনন্ত আখিরাতে রহমানের আরশের সুশীতল ছায়ায় আশ্রিত হয়ে ধন্য হবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা। সাথে, এই বইটি এমন হাজারো পথহারা পথিকের জন্য পথ খুঁজে পাওয়ার দিশা হবে, ঘুম ভাঙানোর কারণ হবে, এই কামনা।

পরিমাণ

120  172 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

9 রিভিউ এবং রেটিং - ফেরা ২

4.6
Based on 9 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    বইটি মূলত উর্দু ভাষায় রচিত একটি ইসলামিক বই। বইটির পাতায় পাতায় রয়েছে ঈমানকে আরো মজবুত করে তোলার খোরাক।

    প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুমধুর ধ্বনি। অথচ সেই ধ্বনি আমাদের জন্মসূত্রে মুসলিম হওয়া অন্তকে আন্দোলিত করে না পাল্টে দেয় কোন কোন অমুসলিমদের জীবন, খুঁজে পাই হৃদয় গহীনে মনের মাঝে এক প্রশান্তির বাতাস, সত্যির আলো। সত্যিকার ঘটনা নিয়ে ফেরা -১ এরপর এবার পাঠকের হাতে এসেছে ফেরা -২।

    বইটি অমুসলিমদের সাথে আমাদের মতো মুসলিদের কাছে ও এক বড় অনুপ্রেরণা।

    পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের একটি অমুসলিম পরিবারে জন্ম দুই বোন নীলম আর মনিকার। মা হিন্দু, বাবা মুসলিম, মেজো বোন খ্রিস্টান ধর্মে আগ্রহী, আর ভাইয়েরা কখনো হিন্দু আবার কখনো ইসলাম ধর্ম মানার চেষ্টা করেন।কিন্তু মায়ের ধর্মপ্রীতির কারনে অন্য সব ধর্ম পালনের উপায় ছিলো না। একদিন মনিকার বাসায় আসে তার এক মুসলিম বান্ধবী। সে তাদের ঘরে মূর্তি দেখে মনিকা কে বলে,”মূর্তিগুলো মানুষের হাতের তৈরি।তাহলে তো এসব পরনির্ভলশীল। মানুষ এগুলো মাটি আর খড় দিয়ে তৈরি করে।এরপর ও তোমরা এসবের উপাসনা করো?
    ব্যাস!!! এক প্রশ্নেই মনিকার মনে সংশয় শুরু হয়। আস্তে আস্তে সে ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

    এই বইটিতে অমুসলিম দুই বোনের ইসলাম গ্রহণের এক দুঃসাহসী সত্য ঘটনা উঠে এসেছে।মনিকা আর নীলম সেই দুই সহদোরা বোন। অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার আর সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন।এরপর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঈমানের আলোয় আলোকিত হওয়া থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত এর হৃদয়বিদারক উপাখ্যান নিয়ে রচিত হয়েছে বইটি।

    বইটিতে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা যারা জন্ম থেকে ইসলাম ধর্মের অনুসারী, তারা নিয়মিত নামাজ,রোজা সহ ইসলামে যাবতীয় কাজ নির্ভয়ে করতে পারি,কিন্তু আমরা অনেকে আছি যে নিয়মিত নামাজ কালাম,রোজা পালন করি না। কিন্তু অমুসলিম দুই বোন আল্লাহ তায়ালা কে ভালোবেসে পারিবারিক শত বাধা,অত্যাচার উপাখ্যান করে তাঁর দরবারে সেজদাহ দিতে ভুলতো না।আর আমরা কতোটা পাপি হলে মুসলিম হয়েও তাঁকে ভুলে থাকি। কতোটা অভাগা হলে রবের শুকরিয়া আদায় করতে সময় পাই না। নফল নামাজ তো দুরের কথা। ফরজ নামাজ ও ঠিক মতো আদায় করি না। এদিকে আমরা সচেতন হবো।

    এই বইটি এমন হাজারো পথহারা পথিকের জন্য পথ খুঁজে পাওয়ার দিশা হবে, ঘুম ভাঙানোর কারন হবে,এই কামনা।

    পৃষ্ঠাসজ্জা, পৃষ্ঠামান সবকিছু প্রশংসনীয়।

    আল্লাহ দুই বোনদের উওম প্রতিদান দান করুক।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    বাংলায় গ্রামাঞ্চলে একটা প্রচলিত প্রবাদ বাক্য আছেঃ ” পাওয়া জিনিসের কদর নাই”। আর এই প্রবাদের জলজ্যান্ত প্রমান হচ্ছি আমরা জন্মসূত্রে মুসলিমরা। কোন রকম ত্যাগ-তিতিক্ষা ছাড়াই পেয়েছি রবের খাস নিয়ামত। না চাইতেই পেয়েছি ঈমানী পরিবেশ। তবুও আমরা গাফেল, দুনিয়ামুখী ও নফসের হিতাকাঙ্ক্ষী! কেনই বা আমাদের এমন অবস্থা? কখনো ভেবেছি?

    আমাদের পূর্বসূরিরা কিভাবে ইসলামকে ধারন করতেন? আমাদের স্বর্ণযুগে নবীজীর সহচর আমাদের উত্তম আদর্শ সাহাবিদের অধিকাংশ কিভাবে দ্বীনকে আকড়ে ধরতেন? নিশ্চয়ই এসব ঘটনায় রয়েছে ঈমানিদ্বীপ্ত শিক্ষা। আমরা নিজ যামানায় হয়তো কল্পনা করেতেও আতকে উঠি। কিন্তু না, সেই স্বর্ণযুগের শিক্ষাটা আজও বিলুপ্ত হয় নি। নিজের পরিবার ত্যাগ করা, নিজের বাপ-দাদার ধর্ম-কর্ম ছেড়ে দেয়া, হত্যার হুমকি, ইবাদতে বাধাগ্রস্ত ইত্যাদি জুলুম নিপীড়িন ছিলো তাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ। সব কিছুর মূলে একটাই কারন তা হলো “একমাত্র রবের ইবাদত ও সত্য দ্বীনের দিকে ফিরে আসা” সত্যকে অন্বেষণ করার দ্বায়ে দিতে হয়েছে প্রাণ।

    আজও সেই ধারা বিদ্যমান। আল্লাহর ইচ্ছায় নিজের চেষ্টায় মানুষ সত্যকে খুজে নিতে আজও মরিয়া।চারিদিকে তাকালে এমন অহরহ ঘটনা ভেসে উঠে দিবালোকের ন্যায়। অন্যান্য নিছক ও বানানো ধর্মকে ত্যাগ করে ইসলামের আনুগত্যতায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে। এতো পরিমান ত্যাগের বিনিময়ে ঈমানকে ছাড়ছেনা। পরিবেশের মরণ থাবাকে পরোয়া না করে সত্যের পথ দাত কামড়ে ধরেছে। তবুও আমাদের জন্মসূত্রে পাওয়া সত্যকে ধারন করতে সুদীর্ঘকাল কেটে যায়,এক পর্যায়ে মৃত্যুর সম্মুখীন, তারপর শেষ।

    “নওমুসলিম”- শব্দটা শুনলে ভিতরে কেমন যেন আনন্দের অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়। কেন এমন হয়? তার ব্যাখ্যা হয়তো জানাও হবেনা হয়তোবা চেষ্টা করা যেতে পারে কিন্তু মূলে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব, কেননা এই খুশির উদ্দীপনা সৃষ্টির মালিক নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বান্দার অন্তরে ভিন্নস্বাদের প্রলেপ লাগিয়ে দিয়েছেন।

    আলহামদুলিল্লাহ, আমরা জন্মসূত্রে মুসলিম।এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে শেষ করা অসম্ভব। নির্দিষ্ট বয়সে গিয়ে কেউবা হয়তো নাস্তিকতা কিংবা সেকুলারিজমের দিকে পা বাড়ায়। অনেকেতো ঠিক মতো সালাত কিংবা পর্দার বিষয়টি গুরুত্বই দেয় না। মুসলিম পরিবেশে ইবাদতের অবাধ সুযোগ থাকে,কেউ তাকে বাধাগ্রস্ত করার থাকেনা,তারপরেও সে থাকে গাফেল। অন্তরের খাহিশাতের অনুসরণ করে নিজেকে ঠেলে দেয় রবের বিরুদ্ধে! এভাবেই শেষ হয় লক্ষ-উদ্দ্যেশ্যহীন জীবন।

    আজকের যুগে ঠিক স্বর্ণযুগের অনুসরন করে সালাফদের ত্যাগ তিতিক্ষার পথ অবলম্বন করে আল্লাহর খাস রহমতে ইসলামের ছায়াতলে আসা দুই নওমুসলিম বোনের জীবন থেকে নেয়া নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেয়ার মতো ঈমানী শক্তিবর্ধক ঘটনা নিয়ে লিখা হয়েছে এই ফেরা-২ বইটি। আমাদের সকলের অন্তরকে নাড়া দিতে এই বইখানা যথেষ্ট ইন শা আল্লাহ।

    আচ্ছা ভাবুনতো জন্মগত ভাবে হিন্দু সংস্কৃতি ধারনকৃত দুইটি বোন সম্পূর্ণ রক্ষনশীল হিন্দু পরিবারে বেড়ে ওঠা মেয়েদের অন্তরে কতটা ঈমানী শক্তি থাকলে শুধুই মাত্র ইসলামের সৌন্দর্য্যের কারনে তাঁর রবের হুকুম পালন করতে নিজের আত্মার সাথে লেপ্টে থাকা পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে, প্রশাসনিক ঝামেলা ঝঞ্জাট কাধে নিয়ে, দিনকে দিন পরিবারে অসহ্য অত্যাচার ও হুমকিকে পরোয়া না করে নিজেদের পূর্ব পরিচয় ম্লান করে, রাঙ্গিয়ে নিয়েছে তাদের একমাত্র সত্য রবের রঙ্গিন আলোতে।

    দেখুন আমরা দিনকে দিন সালাত আদায় করছিনা,হারামকে ত্যাগ করছিনা অথচ তারা এক ওয়াক্ত সালাত করার জন্যে কতযে লুকোচুরি খেলেছে, কত রোজা না খেয়ে থেকেছে তার সেই বিভীষিকাময় দিন গুলো নিশ্চয়ই আমাদের জন্য শিক্ষা। আর এইসব শিক্ষা আমাদেরকে দ্বীনের প্রতি আনুগত্য করতে উৎসাহ দিবে ইন শা আল্লাহ।

    পাঠক কেন পড়বেন এই বই?

    নিজেদের ঈমানীশক্তিকে ঝালাই করতে,গাফেল অন্তরকে জাগ্রত করতে আপনিও পড়তে পারেন ফেরা-২ বইটি ইন শা আল্লাহ ভাল লাগবে

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভালোলাগা_জুলাই_২০২০

    বই: ফেরা-২,
    লেখক : বিনতু আদিল,
    প্রকাশনী : সমকালীন প্রকাশন।

    ★বইটির সারসংক্ষেপঃ
    বইটি দুই বোনের দ্বীনের পথে ফিরে আসা নিয়ে লেখা। দুই বোন হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিল। তারা থাকত ভারতে। ইসলাম ও মুসলিমদের পাশে থাকার পড়েও ইসলাম নিয়ে তেমন জানাশোনা ছিল না। তবুও একদিন এক মুসলিম বান্ধবী বড় বোনের মনে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। এটাই তাকে সত্য ধর্ম সম্পর্কে জানায় আগ্রহী করে তোলে। এভাবে সত্যের দেখা পায়। এরপর তাদের কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিতে হয়। পড়তে হয় নানা সমস্যায়। পারিবারিক, সমাজিক বিভিন্নভাবে চরম মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। তাদের সত্যের লড়াইয়ের গল্প নিয়েই বইটি লেখা।

    ★কারা পড়বেন?
    মুসলিমদের মধ্যে যারা নিজেদের ধর্ম সম্বন্ধে উদাসীন, ইসলাম নিয়ে সংশয়ে ভুগেন তাদের পড়া উচিত। বইটি পড়ে একজন মুসলিম নিজ ধর্মের কদর বুঝতে পারবেন। বুঝতে পারবেন আপনাকে আল্লাহ কত বড় নিয়ামতে ধন্য করেছেন। সত্যিই এই বিষয়টা আমরা বুঝতে পারি না। অন্যের সত্য পথে আসার লড়াইয়ের কাহিনী পড়লে হয়তো আমাদের বোধদয় হবে। অমুসলিমদের জন্যও বইটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। অমুসলিমরা নিজেদের ধর্মের অসারতা জানতে পারবেন। বইটি তাদেরকে বিন্দু পরিমাণ হলেও ভাবাবে।

    ★কেন পড়বেন?
    নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার জন্য হলেও বইটি পড়া উচিত। বইটি পড়লে ইসলামের বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতা, সত্য ধর্মের মর্যাদা সম্পর্কে জানা যাবে। কথায় আছে ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝে না।’ তেমনি ইসলামের মত সত্য দ্বীনে থেকে ইসলামের গুরুত্ব বুঝি না। বইটি এই গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

    ★আমার মন্তব্যঃ
    বইটির কাহিনী আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। সত্যের পথে আসার জন্য এই যুগেও মানুষ এতটা কষ্ট স্বীকার করতে পারে তা আগে জানা ছিল না। বইটি আমাদের ঈমানকে তাজা করতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_জুলাই_২০২০

    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

    বই : ফেরা ২
    মূল লেখিকা : বিনতু আদিল
    অনুবাদ : সাদিকা সুলতানা সাকী
    প্রকাশন : সমকালীন প্রকাশন

    আসসালামু আলাইকুম।

    “ফেরা ২ ” মূলত উর্দু ভাষায় রচিত একটি ইসলামিক ছোট গল্পের বই । বইটিতে অমুসলিম দু-বোনের ইসলাম গ্রহণের এক দু:সাহসী সত্য ঘটনা লেখিকা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন । প্রকাশ করেছেন কিভাবে তারা অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার ও সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে ঈমানের আলোয় নিজেদের আলোকিত করেছে, আলহামদুলিল্লাহ্।

    কাহিনী সংক্ষেপ :

    পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের একদম সীমান্তঘেঁষা
    জেলা মিরপুরখাসের একটি অমুসলিম পরিবারে জন্ম মনিকা এবং নীলমের। বাবা – মা আর সাতভাই বোনের সংসারে মিশ্র ধর্মীয় সংস্কৃতির বহি:প্রকাশ। মা ধর্মপ্রাণহিন্দু মহিলা, বাবা মুসলিম, মেজ বোন খ্রিষ্টান ধর্মে আগ্রহী আর ভাইয়েরা কখনো হিন্দু ধর্ম আবার কখনো ইসলাম ধর্ম মানারর চেষ্টা করে। কিন্তু মায়ের ধর্মপ্রীতির কাছে অন্য সব ধর্মের চর্চার কোন উপায়ই ছিল না পরিবারে। হঠাৎ করেই ধর্মে উদাসীন মনিকা ইসলামকে ভালবাসতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে সঙ্গী হিসেবে পায় ছোটবোন নীলমকে। সমবয়সী মুসলিম বান্ধবী সাহায্যে ইসলাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পরিবারকে লুকিয়ে দ্বীনের পথে যাএা।মনিকা থেকে হন আয়িশা এবং নীলম থেকে মারইয়ম। একসময় পরিবারের হাতে ধরা পড়ার ফলে শুরু হয় নানা শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতনের স্বীকার। তবুও হাল না ছেড়ে দিয়ে দুইবোন এগিয়ে চলতে থাকে দ্বীনের পথে। নিজেদেরকে আলোকিত করার বদ্ধপ্রতিশ্রুতিই তাদের সাহায্য করে ঘর থেকে বেরিয়ে মাদ্রাসায় যুক্ত হতে। এরপরও মুসলিম পরিবারে বিবাহের আগ পর্যন্ত পরিবারের দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবুও দুবোন ছিল দ্বীনের পথে অবিচল, অটল। দ্বীনের পথে মনিকা আর নীলমের ফেরাটা সহজ ছিল না, আর সেই সকল স্মৃতির স্ববিস্তরে বর্ণনা নিয়েই -“ফেরা ২ ” বইটি।

    ব্যক্তিগত অনুভূতি :

    গল্পটি থেকে আমাদের শেখার আছে অনেক কিছু। দুজন অসমুসলিম বোন মহান আল্লাহ তাআলাকে ভালবেসে পারিবারিক শত অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েও তাঁর দরবারে সেজদা দিতে ভুলে যেত না, আর আমরা অনেকেই কতটা পাপী হলে মুসলিম হয়েও তাকে ভুলে থাকি। পবিএ কুরআন থেকে, তার যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখি । ঠিক কতটা অভাগা হলে রবের শুকরিয়া আদায় করতে সময় পাই না। নফল ত দূরের কথা ফরয সালাতটুকুও পড়ায় অবহেলা করি। মহান আল্লাহ আমাদের যখন কারো উপর রেগে যান তখন তাকে রিজিক থেকে বঞ্চিত করেন না, শুধু তার সেজদা দেয়ার অধিকার ছিনিয়ে নেন, ইন্নালিল্লাহ্। পবিএ কুরআনে মহান আল্লাহ্ বলেছেন, তাকে ইখলাসের সাথে ডাকলে আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দিবেন, আর তার ওয়াদা যে সত্য তা তিনি প্রমাণ করেছেন বোন দুজনকে প্রতিমুহূর্তের কঠিন কঠিন সব বিপদ থেকে রক্ষা করে,সুবহানাল্লাহ্।

    ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। পবিএ কুরআনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ সকল বিষয়ের সকল সমাধান পরির্পূণ ভাবে দিয়ে রেখেছেন। শুধু চোখ খুলে তা দেখার অপেক্ষা, অনুধাবনের অপেক্ষা। যে ব্যক্তি কুরআনকে, নবীর সুন্নাহ্কে আকঁড়ে ধরেছে সেই প্রকৃত সুখ, সম্মান,ভালবাসা লাভ করেছে। এখনো যারা আল্লাহ এর নেয়ামত থেকে নিজেদের বঞ্চিত রাখছি আশা করি বইটি তাদের রবের দরবারে পুনরায় “ফিরে ” আসতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ্।এখনো সময় আছে, নিজেকে অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে এনে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার। মহান আল্লাহ সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No