মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ক্রুসেড (খ্রিষ্টানদের হিংস্র যুদ্ধের ইতিহাস)

অনুবাদ : আবদুন নুর সিরাজি
সম্পাদনা: মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ
বানান সমন্ব: মুহাম্মদ পাবলিকেশন সম্পাদনা পর্ষদ
পৃষ্ঠা: ৬৪০

ক্রসেড—ইসলামকে ভূপৃষ্ঠ থেকে নিশ্চিহ্ন করার এক ভয়ংকর খেলা। সমগ্র খ্রিষ্টজগৎ নিজেদের মধ্যকার সব ভেদাভেদ ভুলে একজোট হয়ে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হওয়ার এক লোমহর্ষক আলেখ্য। সালাহুদ্দিন আইয়ুবির হাত ধরে তাদের এসব আস্ফালনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া এবং সম্মিলিত ইউরোপিয়ান শক্তিকে নাকানিচুবানি খাওয়ানো ও প্রথম কেবলা বাইতুল মুকাদ্দাসকে তাদের অপবিত্র হাত থেকে উদ্ধার করার এক রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস।

ক্রুসেড নিয়ে যুগে যুগে কলম ধরেছেন বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকারেরা। ইতিহাসের পাতা মন্থন করে এর ভাষ্যকে নিত্য-নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন পাঠকের সামনে। কোনো কালেই ক্রুসেডের ইতিবৃত্তের আবেদন ফিকে হয়নি। তাই সব যুগেই এই বিষয়ে রচনা ছিল চলমান প্রক্রিয়া।

এই চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হয়েই ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আরব বিশ্বের অন্যতম কালজয়ী ও প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. রাগিব সারজানির অনবদ্য রচনা- ক্রসেড : খ্রিষ্টানদের হিংস্র যুদ্ধের ইতিহাস।

পরিমাণ

540.00  740.00 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

3 রিভিউ এবং রেটিং - ক্রুসেড (খ্রিষ্টানদের হিংস্র যুদ্ধের ইতিহাস)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    *প্রাককথন*
    ক্রুসেড এর অর্থ হচ্ছে ধর্মযুদ্ধ। অর্থাৎ ক্রুসেড শব্দটি দ্বারা ধর্মযুদ্ধ বুঝায়। আবার ধর্মযুদ্ধ নিয়ে যদি বলতে চাই তাহলে ধর্মযুদ্ধ বলতে বুঝায় কোনো একটি অঞ্চলে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের আধিপত্য বিস্তারের জন্য অপর কোনো ধর্মের লোকদের উপর অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া। এখন ধর্মযুদ্ধ কি কারণে ঘটলো। পবিত্রভূমি জেলুজালেমের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইউরোপের খ্রিষ্ট্রান এবং প্রাচ্যের মুসলমানদের মধ্যকার এক ভয়াবহ যুদ্ধ বাধে। এই যুদ্ধ এগারো শতকে শুরু হয়ে তেরো শতকে গিয়ে শেষ হয়। অর্থাৎ এই যুদ্ধের ব্যাপ্তিকাল হচ্ছে (1096-1292খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত)।এ সময় দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের(☪ ☨) মধ্যে সংগঠিত এ যুদ্ধ মধ্যযুগীয় ইউরোপ ও এশিয়ার ইতিহাসে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ।ইউরোপিয় খ্রিষ্টানগণ তাঁদের ধর্মীয় নেতা পোপের নির্দেশে বুকে ক্রুস চিহ্ন(☨) নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং ক্রুসকেই যুদ্ধের পতাকা হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলেও এ যুদ্ধ ইতিহাসে ক্রুসেড নামে পরিচিত।

    তবে মুসলমান গবেষকগণ Grousset সহ অধিকাংশ ইউরোপীয় ঐতিহাসিক ও লেখক কতৃক মুসলিম জাতির সাথে খ্রিষ্টানদের প্রতিটি সংঘর্ষকে ক্রুসেড নামে আখ্যায়িৎ করার সমালোচনা করেছেন ।এশিয়ার মুসলমান এবং ইউরোপের খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিরাজিত সুদীর্ঘকালের ঘৃণা,বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব কলহের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই ক্রুসেড বা ধর্ম যুদ্ধে ।তাই এই ক্রুসেডের কারণ ছিল যেমন বহুবিদ তেমনি এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ।

    ✪✪ক্রুসেডের প্রেক্ষাপটঃ ✪✪

    ক্রুসেডের প্রেক্ষাপট ভালোবভাবে জানতে হলে এর পিছনের কাহিনী জানতে হবে। ৬৩৬ সালে মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আস জেরুজালেম অবরুদ্ধ করেন। সে সময় খলিফা ছিলেন হজরত উমর (রা.)।

    চারমাস অবরোধের পর জেরুজালেমের প্রধান ধর্ম যাজক সেফ্রোনিয়াস, খলিফা উমর (রা.) স্বয়ং জেরুজালেম উপিস্থিত হয়ে চুক্তিপত্রে সাক্ষর করলে জেরুজালেম মুসলমানদের হাতে অর্পিত হয়।

    খলিফার মহানুভবতায় জেরুজালেম বাসী আত্মসমর্পন করে। তারা স্বাধীনভাবে ধর্মকার্জ সম্পাদনের অধিকারের জন্য এক সন্ধিপত্রে খলিফাকে দিয়ে সাক্ষর করিয়ে নেয়।

    ১০৮৭ সালে পোপ তৃতীয় ভিক্টরের মৃত্যু হলে দ্বিতীয় উর্বান পোপ হন।

    ১০৯৫ সালে পূর্ব রোম সম্রাট এলেক্সিয়াস (Alexius) এর আহ্বানে খ্রীষ্টান সন্যাসী পিটারের (Peter the Harmit) পরামর্শে মুসলমানদের নাগপাশ হতে পবিত্র শহর জেরুজালেম উদ্ধারের জন্য দক্ষিন ফ্রান্সের ক্লেয়মেন্ট নামক জায়গায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় পোপের মোটিভেশনাল বক্তৃতায় উত্তেজিত হয়ে ফ্রান্স, লরেন, ইটালী, সিসিলি থেকে প্রায় দেড় লক্ষ খ্রীষ্টান জেরুজালেম যাত্রা করে।

    খ্রীষ্টান সন্যাসী পিটারের চল্লিশ হাজার ধর্মযোদ্ধা এশিয়া মাইনর আক্রমণ করলে প্রথম ক্রুসেড আরম্ভ হয় (১০৯৬)।

    এই সময়ে মুসলিম জগত অভ্যন্তরীন কোন্দলে জর্জরিত ছিলো। বাগদাদের সিংহাসন নিয়ে সেলজুকী সুলতান মালিক শাহের পুত্রদের এবং দামেস্ক ও আলেপ্পোর আধিপত্য নিয়ে মালিক শাহের ভ্রাতুস্পুত্র রেজওয়ান ও দুদাকের মধ্যে বিবাদ চলছিলো। স্পেনের আরবরা পরস্পর গৃহযুদ্ধ ও প্রতিবেশী খ্রীষ্টানদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। মিশরের খলিফা ছিলেন হীনবল এবং বিলাশ স্রোতে ভাসমান। সুতরাং এশিয়া মাইনর ও সিরিয়ার মুসলিম জনসাধারণ এই যুদ্ধে কোন সাহায্য পেল না।

    ইকনিয়ামের সেলজুকী সৈন্যের আক্রমণে এবং রসদাদির অভাবে পিটারের পরিচালিত সমস্ত খ্রীষ্টান বাহিনী এশিয়া মাইনরে বিনষ্ট হয়। বলা হয়েছে, ‘‘They belived it to be unneccesary to take money or food, that God would supply His warriors.- All these perished on the way.’’

    ১০৯৭ সালে গডফ্রের (Godfrey of Bouillon) নেতৃত্বে পরিচালিত সাত লক্ষ খ্রীষ্টান ধর্মযোদ্ধা কন্সটান্টিনপোলের পথে এশিয়া মাইনর আক্রমণ করেন। ইকনিয়ামের সেলজুকী সুলতান কিলিজ আর্সালান দাউদ খ্রীষ্টান বাহিনীর গতিরোধ করতে গিয়ে পরাজিত হন। খ্রীষ্টানগণ পথের মাঝে যে সমস্থ নগর ও গ্রামাদি পেয়েছে সমস্থ পুড়িয়ে ফেলে ও অধিবাসীদের হত্যা করে। যেহেতু যুদ্ধ, তাই হত্যা গুলো হয়েছে নির্দয় ভাবেই। এরপর খ্রীষ্টানগণ এন্টিয়ক নগর আবরোধ করে ২১ অক্টোবর।

    নয় মাস অবরোধের পর খ্রীষ্টান ক্রুসেডারগণ এন্টিয়ক নগর অধিকার করে ১০৯৮ সালের ৩রা জুন। নগরের অধিবাসীদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা এবং ভক্ষন করে। কারন খ্রীষ্টান ধর্মজাজকগণ প্রচার করেছিলো যে, যারা মুসলমানের মাংস ভক্ষন করবে তারা নিস্পাপ অবস্থায় স্বর্গে আরোহন করতে পারবে। খ্রীষ্টান দলপতি বোহিমন্ড এন্টিয়কের রাজা ঘোষিত হন।

    জানুয়ারী, ১০৯৯ সালে ফরাসী কাউন্ট রেমন্ড (Raymond of Toulouse) এর নেতৃত্বে পরিচালিত খ্রষ্টান যোদ্ধাগণ সিরিয়ার মেরাতুন্নোমান নগর ভস্মিভূত ও এর এক লক্ষ অধিবাসীকে হত্যা করে।

    ক্রুসেডার দলপতি গডফ্রে মিসরের ফাতেমিয় খলিফা মোস্তা আলী বিল্লার সেনাপতি ইফতেখার উদ্দৌলাকে পরাজিত করে জেরুজালেম নগর দখল করে। এবং সেখানকার প্রায় সত্তর হাজার অধিবাসিকে হত্যা করে (জুলাই, ১০৯৯)।

    গডফ্রে জেরুজালেমের রাজা বলে ঘোষিত হন। তার আদেশে জেরুজালেমের প্রসিদ্ধ মসজিদ (Mosque of Omar) গির্জায় পরিনত হয়। এ খবর শুনে বাগদাদের খলিফা মোস্তাজহের কোন মৌখিক সহনুভূতি প্রকাশ করলেন মাত্র। কিন্তু সেলজুকী সুলতান মদ্যপায়ী বর্কইয়ারুকের মুখে সহানুভূতির বাক্যও উচ্চারিত হল না।

    জেরুজালেম পতনের সংবাদ শুনে মিশরের ফাতেমিয়া খলিফা পুনঃ একদল সৈন্য প্রেরণ করেন। কিন্তু ঐ সৈন্যদল আস্কালন নগরের কাছেই খ্রীষ্টানদের হাতে পরাজিত হয়।

    খ্রীষ্টান ধর্মযোদ্ধাগণ সিরিয়ার সুমদ্র উপকূলবর্তি হাইফা জাফ্‌ফা, কাইসারিইয়া, আক্কা, তারসুস প্রভৃতি নগর দখল পুর্বক নগরসমুহের মুসলমান ও ইহুদী আধিবাসীগণকে হত্যা করে। অন্যদিকে জেরুজালেমের রাজা গডফ্রের মৃত্যু হয়। তার ভাই বল্ডউইন (Boldwin) রাজপদে অধিষ্ঠিত হন (১১০০)।
    এন্টয়াক রাজ বোহিমন্ড সেলজুক সেনাপতি গোমিস্তিগিন কতৃক পরাজিত ও বন্দি হন। ক্রুসেডার দলপতি রেমন্ড সিরিয়ার ত্রিপোলী বন্দর অবরোধ করেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দলপতির নেতৃত্বে পরিচালিত চার লক্ষাধিক খ্রীষ্টান যোদ্ধা এশিয়া মাইনরের আনাতোলিয়া প্রদেশে খাদ্যাভাব, মহামারী ও তুর্কি সৈন্যদের হাতে প্রাণ বিসর্জন করে। মিসরের ফাতেমিয় খলিফা মোস্তা আ’লীর মৃত্যু হয়। তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান আমীর বি-আহকামেল্লাহ্ রাজ্য লাভ করে ১১০১ সালে।
    এ্যকুইটাইনের ডিউক উইলিয়াম সসৈন্য জেরুজালেমের পথে কন্সটান্টিনোপলের নিকট নহত হন।
    বাগদাদের সেলজুকী সুলতান বর্কইয়ারুকের মৃত্যুর পরে তার ভাই মুহাম্মদ শাহ সিংহাসনে বসেন।
    এর মধ্যে ১১০৯ সালের জুলাই মাসে অনেক সময় অবরোধের পর খ্রীষ্টান ধর্মযোদ্ধাগণ সিরিয়ার ত্রিপোলী বন্দর অধিকার করে অধিবাসিদের হত্যা করে খ্রীষ্টান ক্রুসেডারদের ত্রিপোলী ও আলেপ্পা নগর ধ্বংসের খবরে বাগদাদের খলিফা মোস্তাজহির বিল্লা জামে মসজিদে প্রার্থনা করেই চুপ থাকলেন। সেলজুকী সুলাতান মুহাম্মদ শাহও কিছু করা থেকে বিরত থাকেন। সেই শহরে বিশ্ব বিখ্যাত গ্রন্থাগার খ্রীষ্টান ধর্মযোদ্ধারা পুড়িয়ে ফেলে। ঐ গ্রন্থাগারে ত্রিশ লক্ষ বই ছিলো। নগর দখলের পর রেমন্ডের আদেশে এই গ্রন্থাগারের কি গতি করা যায় এর সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কাউন্ট সেন্ট জিন্ নামক প্রবীন পাদ্রী গ্রন্থাগার পরিদর্শণ করেন। পাদ্রী মশায় প্রথম রুমে প্রবেশ করেন, সেখানে কুরানের অনুলিপি সাজানো ছিলো। তিনি ক্রমে বিশটি বই খুলে দেখেন সবগুলোই কুরান। তিনি তক্ষুনি ঘোষনা করলেন- এই গ্রন্থাগারের সমস্থ বই খ্রীষ্টধর্মের বিরুদ্ধে। তার আদেশে ঐ গ্রন্থাগার পুড়ানো হল।
    মৌস্পল ও দামেশকের সেলজুকী শাসকর্তাদের দ্বারা খ্রীষ্টান ক্রুসেডারদণ তিবরিয়া হ্রদের (Sea of Gallilee) তীরে পরাভূত হয় (১১১৩)।
    এই সময়ের মাঝে পোপ ছিলেন জিলেসিয়াস, দ্বিতীয় কেলিটাস্, হনোরিয়াস, দ্বিতীয় ইনোসেন্ট, দ্বিতীয় চেলেস্টাইন(১০??-১১৩০ সাল)
    খ্রীষ্টান ক্রুসেডাররা সিরিয়ার বিভিন্ন যুদ্ধে তুর্কিদের কাছে পরাজিত হয়। মুসলমানদের করুন পরিনতি দেখে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ তুমরাই নামক জৈনক তাপস পশ্চিম আফ্রিকায় নিজেকে প্রতিশ্রুত ইমাম মেহেদী বলে ঘোষনা করে। যাযাবর আরব বেদুইনরা তার সাথে যোগ দেয় (১১২০ সাল)।
    এই যখন অবস্থা ১১৩৭ সালে ক্রুসেড বিজয়ী মহাবীর সুলতান সালাহ্‌উদ্দিন ইবনে আইয়ূব (Saladin) ইরাক প্রদেশের তাকরিৎ নামক স্থানে জন্মগ্রহন করেন।
    মৌসলের স্বাধীন আমীর আতাবুক ইমাদউদ্দিন জঙ্গী ক্রুসেডার ডিউক জসেলিনকে পরাজিত করে সিরিয়ার এডেসা দখল করেন।
    জার্মান সম্রাট তৃতীয় কনরোড (Conrod III) ও ফ্রান্সরাজ সপ্তম লুঁই (Louis VII) নেতৃত্বে নয় লক্ষ খ্রীষ্টান ক্রুসেডার সিরিয়া আক্রমন করে। ফরাসী রানী ইলিয়ানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হজার হজার নারীও এই যুদ্ধে যোগ দেন। এই বিরাট বাহিনী সিরিয়ায় উপস্থিত হলে দ্বিতীয় ক্রুসেড আরাম্ভ হয় (১১৪৭ সাল)। খ্রীষ্টান ক্রুসেডারগণ এন্টিয়ক নগর পুনঃদখল করে।
    আলেপ্পার আমীর নুরউদ্দিন জঙ্গী ও তার ভাই মৌসলপতি সয়ফউদ্দিন জঙ্গী ছাড়া অন্য কোন মুসলিম রাজশক্তি ঐ দুর্দিনে সিরিয়াবাসীর সাহায্যে আসে নাই। দামেস্ক নগরের নিকট ক্রুসেডারগণ জঙ্গী ভাতৃদ্বয়ের কাছে পরাজিত হয়। আলেপ্পা রাজ নুরউদ্দিন জঙ্গীর সাথে এডেসার ডিউক দ্বিতীয় জোসেলিনের বিবাদ শুরু হয়। নুরউদ্দিন জোসেলিনকে বন্দি করেন। জেরুজালেম রাজা তৃতীয় বল্ডউইন মিসরীয় বাহীনিকে পরাজিত করে ভুমধ্যসাগরের উপকূলবর্তি আস্কালন বন্দর দখল করেন (১১৫১-১১৫৩)।
    ১১৫৯ সালে ভীষন ভুমিকম্পে সিরিয়া বধ্বস্ত হলে খ্রীষ্টানগণ সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে।
    মরক্কোর সুলতান আব্দুল মো’মেন খ্রীষ্টানদেরকে পরাভূত করে সমগ্র ত্রিপোলী স্বরাজ্যভুক্ত করেন।
    আলেপ্পার আমীর নুরউদ্দিন জঙ্গী ক্রুসেডের খ্রীষ্টান যোদ্ধাগণকে হারিম শহরের নিকটবর্তি কোন এক স্থানে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধে অধিকাংশ খ্রীষ্টান নেতা, এন্টিয়ক রাজা তৃতীয় বোহিমন্ড ও ত্রিপোলীর ডিউক তৃতীয় রেমন্ড নিহত অথবা বন্দি হন।
    *** *** ***
    এবার একটু মিসরে দিকে আসি, কারণ ক্রুসেড যুদ্ধ বিজয়ের অন্যতম দাবিদার মিশর। খ্রীষ্টপূর্ব ৩১সালে মিসর রোম সম্রাজ্য ভুক্ত হওয়ার পর ৬১৮ সালে পারসিকরা মিসর আক্রমন করে, এবং মিসর দখল করে। যদিও ৬২২ ও ৬২৭ সালে রোমকরা আবার পারসিকদের কাছ থেকে মিসর পুণরুদ্ধান করে। ৬৪১ খ্রীষ্টাব্দে মুসলিম সেনাপতি যুবাইর ইবনে আওয়াম কতৃক আরবদের মিশর জয় হয়। পরবর্তিতে খলিফা শাসন ব্যবস্থা প্রধান প্রধান মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন উমাইয়া বংশীয় খলিফা শাসন, ফাতেমিয়া বংশীয় খলিফা শাসন, আব্বাসীয়া খলিফা শাসন ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে মিশরে ক্রুসেড চলাকালীন সময়ে ১২৬১ সালের আগ পর্যন্ত ফাতেমিয়া খলিফারা শাসন করত। তদানীন্তন ফাতেমিয়া খলিফাগণ প্রধান মন্ত্রীর হাতে রাজ্যভার আর্পন করে অন্তঃপুরে সময় কাটাত। রাজপ্রাসাদের নিকটবর্তি আল আজহার মসজিদে শুধু শুক্রবার উপস্থিত হয়ে জুম’আর নামাজ পরতেন। খলীফার প্রাসাদে চার হাজার কক্ষ ছিলো। ঐ সকল কক্ষগুলো স্বর্ণ, রৌপ, মণি-মাণিক্য খচিত দ্রব্যাদিতে পরিপূর্ণ ছিলো। খলিফার দাস-দাসী ও ভৃত্যগণের সংখ্যা আঠারো হাজার থেকে ত্রিশ হাজার ছিলো। ফলতঃ তখন প্রধান মন্ত্রীই ছিলেন রাজ্যের সর্বময় কর্তা। সতরাং রাজ্যে তো অরাজকতা বিরাজ করবেই।
    ১১৬৯ সালে মিসরের ফাতেমিয়া বংশীয় শেষ খলিফা আল আজিদের বিদ্রোহী সেনাপতি দিরগামকে দমন করতে অসমর্থ হলে প্রধান মন্ত্রি শাবের আল সা’দী আলেপ্পার-রাজ নুরুদ্দিনের সেনাপতি ‘শেরকুহ’ মিশরে উপস্থিত হন এবং বিলবেজ নামক স্থানে বিদ্রহী সেনাপতি দিরগামকে নিহত করেন। শাবের আলেপ্পো ফিরে যান। এদিকে মিসর-মন্ত্রী শাবের জেরুজালেমের খ্রীষ্টান রাজা এমালরিকের সঙ্গে নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নুরউদ্দিন এ কথা শুনে শেরকুহ ও তার ভাতিজা সালাহ্উদ্দিন ইবনে আইয়ূবকে মিশর আক্রমনে পাঠান। জেরুজালেম রাজ এমেলরিকও মন্ত্রীর সাহায্যার্থে মিশরে উপনীত হন। রাজধানী কায়রোর নিকটবর্তি বাবেইন নামক স্থানের যুদ্ধে মন্ত্রী শাবের ও জেরুজালেম রাজের সম্মিলিত সেনাদল পরাভূত হয়। মন্ত্রী শাবের নিহত হন। শেরকুহ রাজধানী কায়রো ও সালাউদ্দিন অ্যালেক্সজেন্ড্রা বন্দর অধিকার করেন। ফাতেমিয়া খলিফা আল আজিদ শেরকুহকে মন্ত্রীপদে নিযুক্ত করেন। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই শেরকুহর মৃত্যু হলে সালাহ্‌উদ্দিন মিসরের মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। এরই মধ্যে আল্ আজিদ দিনিল্লার মৃত্যু হয় ১১৭১ সালে। প্রধান মন্ত্রী মৃত খলিফার পরিবারবর্গকে প্রচুর বৃত্তি প্রদান করে স্বয়ং সিংহাসনে আরোহন করেন। ইনিই সুলাতান সালহ্‌উদ্দিন। এর পর থেকে যা যা ঘটতে থাকে তাকে ক্রুসেড ড্রামার ইন্টারভাল বলা চলে।

    বইটির বৈশিষ্ট্য:
    1. বইটিতে আলোচনা এসেছে ক্রুসেডের প্রাথমিক পর্যায় থেকে সুলতান ইমামুদ্দিন জিনকি পর্যন্ত।
    2. বইটিতে বিভিন্ন স্থানের মানচিত্র সুন্দর করে হাতে এঁকে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ইতিহাস প্রেমীরা সহজে বইয়ের বিষয়বস্তু বুঝতে পারবেন।
    3. বইটি কলেবরে একখন্ডে আনা হয়েছে। আমার মত ইতিহাসপ্রেমীরা যেন সহজে বইটি সংগ্রহ করতে পারে।
    4. বইটির বাধাঁই আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। হার্ডকভার বাইন্ডিং , সহজে মেলা যায়। পড়তে কোনো প্রকার অসুবিধা হয়নি। পৃষ্ঠায় কোনোপ্রকার ভাঁজ পড়ে থাকে না।
    5. প্রচ্ছদটি আমার কাছে অসাধারন লেগেছে।
    6. আমার কাছে বইটির সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে দিকটি তা হলো বইয়ের ভিতরের লেআউট।
    7. বইটি পড়তে গিয়ে আমার কাছে মনে হলো বইটি অনুবাদ করতে গিয়ে অনুবাদক তার সর্বাত্নক চেষ্টা করেছেন।
    8. ভাষা খুবই সহজ -সাবলীল। তবে দুই একটি বাক্য আমার কাছে জটিল মনে হয়েছে।

    আর ওয়াফি লাইফে অন্যান্য অনলাইন বুক শপের চেয়ে এই বইয়ের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    পরিশেষে
    বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি।
    ______________

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    বইয়ের নাম “ক্রুসেড: খ্রিস্টানদের হিংস্রযুদ্ধের ইতিহাস”। এই ক্রুসেড যুদ্ধের  শুরুটা হয়েছিল মুসলিমদের পৃথিবী থেকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র নিয়ে। তবে তৎকালীন কিছু মুসলিম বীরদের দূঃসাহসিক নেতৃত্বের ফলে তাদের এই ষড়যন্ত্র ধীরে ধীরে নস্যাৎ হয়ে যায়। তখন মুসলিম বীর মুজাহিদগণ তাদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ  করে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষে করেছিলেন। মোকাবেলা করলেও ক্রুসেডারদের ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। অতীতে ঘটে যাওয়া সেই ক্রুসেড সমূহ নিয়ে ড. রাগিব সারজানি বইটি লিখেছেন “ক্রুসেড: খ্রিস্টানদের হিংস্রযুদ্ধের ইতিহাস” বইটি। বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন আবদুন নূর সিরাজী।
    .
    ➤ সার-সংক্ষেপঃ-
    মুসলিম ও ক্রুসেডারদের মাঝে চলমান ক্রুসেড সমূহ প্রায় ২০০ বছর যাবৎ স্থায়ী ছিল। যার ব্যাপ্তি ছিল ১০৯৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই বইতে লেখক তুলে এনেছেন ক্রুসেড যুদ্ধের সূচনা থেকে ইমামুদ্দীন জিনকীর সময়কাল পর্যন্ত ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস। অসংখ্য অধ্যায় ও অনুচ্ছেদের মাধ্যমে বইটি সাজানো হয়েছে।
    বইয়ের শুরুতে লেখক খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মাঝে সংঘাত, ক্রুসেড যুদ্ধের পূর্বেকার মুসলিম বিশ্ব এবং ক্রুসেড যুদ্ধপূর্ব বিশ্বপরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। এরপর লেখক একে একে তুলে এনেছেন প্রথম ক্রুসেড যুদ্ধের সামরিক প্রস্তুতি, রোমান ও সেলজুকদের সাথে সংঘর্ষ, এন্টিয়ক অবরোধ, হিরাক্লিয়াসের দুটি যুদ্ধ সহ বেশকিছু যুদ্ধ ও সংঘর্ষের বিস্তারিত আলোচনা।
    মুসলমানদের ক্রুসেড জয়ের অন্যতম বীর ছিলেন ইমামুদ্দিন জিনকি। তার বেড়ে ওঠা, এডিসা বিজয়, দামেস্ক অবরোধ থেকে তার জীবনাবসান পর্যন্ত আলোচনা উঠে এসেছে।
    এছাড়াও বইয়ের শেষে লেখক ক্রুসেড যুদ্ধ থেকে মুসলিমদের জন্য ৯ টি শিক্ষা ও উপদেশ তুলে ধরেছেন। যা বইটিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।
    .
    ➤ বইটি কেন পড়বেনঃ-
    ড. রাগিব সারজানির লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ ও নানামুখী কারণ অনুসন্ধান।
    সুতরাং ক্রুসেড সম্পর্কে বাস্তবধর্মী লেখা পড়তে এবং মুসলিম বীরদের ক্রুসেডারদের বিরূদ্ধে সাহসীকতার কাহিনী জানতে হলে বইটি সকলের পড়া উচিত।
    .
    ➤ ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ-
    এর আগে ক্রুসেড সম্পর্কে তেমন কোন বই পড়া হয়নি। তাই এই বইতে ক্রুসেড যুদ্ধগুলো সম্পর্কে জেনে বেশ পুলকিত অনূভব করছি। পড়ে মনে হয়েছে বইয়ের প্রতিটি পাতায় যেন লেখক মিশিয়ে রেখেছেন তার কঠোর পরিশ্রমের ছোয়া। সঠিক শব্দচয়ন, উপযুক্ত রেফারেন্স ও পাকাপোক্ত শব্দের গাঁথুনি বইটিকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বইয়ের অনুবাদও বেশ চমৎকার হয়েছে।
    বইটি পড়ে পাঠক নিজের অজান্তেই হারিয়ে যাবেন ক্রুসেড যুদ্ধের অজানা অধ্যায়ে। কল্পনায় ভেসে উঠবে সেই সময়ের মুসলিম বীরদের ঈমানদীপ্ত মূহুর্তগুলো। সব মিলিয়ে বইটিকে এ বিষয়ে অসাধারন গ্রন্থ বলা যেতে পারে এবং সকলের জন্য বইটি পড়া উচিত।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 4 out of 5

    :

    অসাধারণ ততথ্যবহুল বই। পরের ভলিউমগুলো খুব দ্রুত পাব আশা করি।
    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?