মেন্যু
chintaporadh

চিন্তাপরাধ

পৃষ্ঠা - ১৯২ 'যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন... আরো পড়ুন

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

35 রিভিউ এবং রেটিং - চিন্তাপরাধ

4.9
Based on 35 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    Adnan Abdullah:

    █▒▒▒ বই রিভিউ : ❝চিন্তাপরাধ❞ ▒▒▒█
    █▒ ❝ঘটুক চিন্তার রাজ্যে আলোড়ন❞ ▒█
    ▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰

    বইয়ের নাম : চিন্তাপরাধ
    লেখক : আসিফ আদনান
    প্রকাশনী : ইলমহাউস পাবলিকেশন

    ক্যাটাগরি : নন-ফিকশন, তাত্ত্বিক আলোচনা
    লেখা : মৌলিক, আংশিক অনুবাদ-সংকলন
    বিষয়বস্তু : বিশ্বরাজনীতি, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, পাশ্চাত্যবাদ ও ইসলাম।

    পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৯২ (ধরন : পেপারব্যাক)
    মূল্য : ১৯০ টাকা (নির্ধারিত)

    ▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰

    [এক]

    শুরুতেই দুটি কথা :

    ১. চিন্তাপরাধ একটি তাত্ত্বিক আলোচনার নন-ফিকশন’ বই, তাই নন-ফিকশন’ বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে একে রসকসহীন, কাঠখোট্টা বই লাগবে স্বাভাবিকভাবেই। নতুন কিছু জানার, নতুন কিছু বোঝার আগ্রহ থাকলেই তবে শুধু মজা পাবেন এখানে।

    ২. ‘ইসলামী চিন্তাচর্চা’ ক্যাটাগরির মধ্যে প্রথম সারির শ্রেষ্ঠ একটা বই বলা যায় এটিকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই টানা পড়ে গেলে ভেতরের অনেক কিছুই বুঝতে পারবেন না, সামান্য বিরতি দিয়ে দিয়ে পড়া লাগবে। ভিতরের আলোচনার তথ্যগত গভীরতা বা ডেপথ’ অনেক বেশি, তাই কিছু কিছু জায়গায় দুবার করে পড়তে হবে।

    [দুই]

    বইয়ের লেখক ‘আসিফ আদনান’ নিজে একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও নিয়মিত লেখক। বইটিতে মূলত লেখকের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষিপ্ত অ্যানালিটিক্যাল প্রবন্ধগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে। চারটি অধ্যায় এখানে মৌলিকভাবে লেখকের লেখা নয়; লেখকের করা অনুবাদ ও সম্পাদিত প্রবন্ধ। তবে সবগুলো অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর সাপেক্ষে মৌলিক বিবেচনায় নাম দেওয়া হয়েছে— ❝চিন্তাপরাধ❞!

    অর্থাৎ চিন্তাগত অপরাধ! যে অপরাধ কেবল চিন্তা করায়!

    Thought Crime!

    ❝বইটি মৌলিকভাবে বৈশ্বিক মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হলেও গতানুগতিক ইসলামী বই নয়।❞ আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে ভোগা এক মুসলিম চিন্তক– যে নিজ দ্বীন-দর্শনের উপযুক্ততা, সত্যতা, বা বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান– নিজ আদর্শ ও বা দর্শন নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগেন– বর্তমান বিশ্বে ইসলামের চেয়ে নানাবিধ সব ওয়েস্টার্ন আইডিওলজিকেই শ্রেষ্ঠতর বলে মনে হয়, মানবজীবনের জন্য অধিক উপযোগী বলে মনে হয়– এমন পরাজিত মানসিকতাধারী হীনমন্যতায় ভোগা মুসলিমদের জন্য বইটি হবে এসব থেকে উদ্ধারের মারাত্মক ডোজের ঔষধ।

    বাস্তবে বর্তমান সময়ের প্রায় প্রত্যেক মুসলিমই কোনো না কোনো মাত্রায় জাতিগত হীনম্মন্যতাবোধ, পরাজিত মানসিকতা, চিন্তাগত বিভ্রান্তি, আর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বা আত্মপরিচয়ের সংকটে ভোগেন! আর লেখক সরাসরি এগুলো নিয়ে আলোচনা না করলেও মূলত এগুলোর উৎসবমূল, কারণ, বাস্তব জীবনে এগুলোর অবস্থান, এগুলো থেকে উত্তরণের উপায়— ইত্যাদি পরোক্ষভাবে তুলে এনেছেন বইতে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা।

    খিলাফতের পতন পরবর্তী সময় থেকে ধরে গত একশত বছর যাবত মুসলিম বিশ্ব হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম পরাজিত জাতি। বুদ্ধিভিত্তিক লড়াইয়ের অঙ্গনেও, সশস্ত্র যুদ্ধের ক্ষেত্রেও। আর ❝বিজয়ী জাতির দর্শন যেহেতু সর্বদাই পরাজিত ও অবদমিত জাতির দর্শনে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে, তাই স্বাভাবিকভাবেই গত একশত বছরে মুসলিম মননে নিজেদের দ্বীন ও উম্মাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরমভাবে বাসা বেধেছে সংশয়-সন্দেহ, ও চিন্তাগত বিভ্রাট।❞

    চিন্তাপরাধের প্রবন্ধগুলোতে এই সমস্যার সমাধানে একটু একটু করে ঔষধ দেওয়া হয়েছে চমৎকারভাবে।

    [তিন]

    প্রবন্ধের নাম’ভিত্তিক বইয়ের প্রসঙ্গ’গুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি—

    【১】 ❝সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল❞ ❝ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক❞

    বিশ্বব্যাপী নব্য-অ্যামেরিকান কর্তৃত্ববাদের সশস্ত্র, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক উপনিবেশ এবং গত শতকগুলোতে কথিত তৃতীয় বিশ্বে পশ্চিমা বিশ্বের ঔপনিবেশিক লুটপাটের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই অধ্যায়ে; সাথে মুসলিমদের ইউরোসেন্ট্রিক চেতনার ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে শেষাংশে।

    【২】 ❝পূজারী ও পূজিত❞

    ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রহসন ও পশ্চিমা সেক্যুলারিজমের বস্তাপচাঁ মুখস্ত সংজ্ঞার সাথে বাস্তবতার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে এই অধ্যায়ে।

    【৩】 ❝চিন্তার জট❞

    বিজ্ঞান-গবেষণা-প্রযুক্তির খাতে মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পশ্চাৎপদতার বাস্তবতা ও এর কারণ খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে এখানে; সাথে অপনোদন করা হয়েছে এর থেকে ‘উত্তরণের পথ’ নিয়ে আমাদের ভুল ধারণাকেও।

    【৪】 ❝স্থিতিস্থাপকতা, না-মানুষ ও অন্যান্য❞

    মাদক সমস্যা নিরসনে সেক্যুলার পদ্ধতিতে প্রচেষ্টার ব্যর্থতা দেখিয়ে এর সাপেক্ষে অপরাধ নিরসনে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও ইসলামি শরীয়াহ আইনের সক্ষমতা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন এখানে।

    【৫】 ❝গোড়ায় গলদ❞ ❝মরীচিকা❞ ❝হাউস নিগার❞

    ‘মডারেট ইসলাম’ বা মডার্নিস্টদের প্রচারিত পশ্চিমবান্ধব ইসলাম ও মূল ফান্ডামেন্টাল ইসলামের পার্থক্য তুলে ধরে পশ্চিমা আইডিওলজিসমূহ যেমন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ– ইত্যাদির ইসলামীকরণের ভ্রান্তপথের ব্যবচ্ছেদ করেছেন এই অধ্যায়ে। ইসলাম ও পশ্চিমা দর্শনের চিরন্তন সংঘাত স্পষ্ট করে তোলার মাধ্যমে পশ্চিমপন্থী মডারেট মুসলিমদের ইসলামকে পশ্চিমবান্ধব করে তোলার বৃথাচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

    【৬】 ❝ভুল মাপকাঠি❞ ❝বালির বাঁধ❞

    এই প্রবন্ধে পেডোফিলিয়া, শিশুকামিতা বা অ্যান্ড্রোজিনির মতো অন্যান্য যৌনবিকৃতির বৈধতা প্রদানে লিবারেল নৈতিকতার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। নারী-পুরুষের সংজ্ঞাকে ঘোলাটে করে দেওয়া অ্যান্ড্রোজিনির কনসেপ্ট নিয়েও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন আলোচনা উঠে এসেছে৷ মূলত নৈতিকতার মানদন্ড নির্ধারণে পশ্চিমা বিশ্বের ভুল মাপকাঠি গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন লেখক।

    【৭】 ❝সমকামী এজেন্ডা : ব্লু-প্রিন্ট❞

    বিশ্বব্যাপী চলমান সমকামী আন্দোলন, বৈশ্বিক এলজিবিটি মুভমেন্টের ব্লু-প্রিন্ট ও তাদের কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন এই অধ্যায়ে। পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশে সমকামী আন্দোলন কিভাবে শিকড় গেড়ে বসেছে, ও দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে— তা তুলে ধরেছেন এদের সম্ভাব্য গতিপথ সহ।

    【৮】 ❝শুভঙ্করের ফাঁকি❞ ❝মানসিক দাসত্ব❞

    বৈশ্বিক উন্নতি-প্রগতির সূচক হিসেবে জিডিপি এর সার্থকতা-ব্যর্থতা বর্ণনা করা হয়েছে অ্যাকাডেমিকদের রেফারেন্স থেকে; সে আলোচনার সূত্র ধরেই আমাদের সমাজে পশ্চিমা নারীবাদের বিষাক্ত প্রভাব ও এই নারীবাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকাঠামোর ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে প্রথম প্রবন্ধে।

    【৯】 ❝সাম্রাজ্যের সমাপ্তি❞ ❝অবক্ষয়কাল❞

    প্রথমটি মূলত অনুবাদ ও সম্পাদনা। এতে বর্তমান পশ্চিমা সাম্রাজ্যের সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল নিরূপণ করে দেখানো হয়েছে, ব্যাখ্যা করা হয়েছে এর ভঙ্গুর অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক অবকাঠামোকে, শীঘ্রই যার পতন তাত্ত্বিকভাবে অনিবার্য। আর ‘অবক্ষয়কাল’ প্রবন্ধে সভ্যতা ও যৌনতার সম্পর্ক পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সে একই টোন থেকে উপনিবেশবাদী পশ্চিমা সভ্যতার চলমান অবক্ষয়কাল নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক।

    【১০】 ❝শ্বেত সন্ত্রাস❞

    সংক্ষেপে বললে বইয়ের এই অংশটি ‘বর্তমান সময়ে চলমান ক্রুসেড’ নিয়ে লেখা! গত এক যুগে উম্মাহের বুকে শ্বেত সন্ত্রাসবাদের ভয়াল থাবা ও ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ কেন্দ্রিক সঙ্গবদ্ধ ও বিক্ষিপ্ত সশস্ত্র আগ্রাসনের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে এই অংশের প্রথম কয়েকটি প্রবন্ধে। ❝পশ্চিমাবিশ্বে ইসলামফোবিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণ, এর সম্ভাব্য ফলাফল ও আমাদের করণীয় এর দিকে ইঙ্গিত দিয়েই শেষ করা হয়েছে বইটি।❞

    বইটিতে লেখকের শব্দচয়ন বেশ গুছানো। আদর্শভিত্তিক বিশ্বরাজনীতি, চলমান ‘সভ্যতার সংঘাত’ এর কনসেপ্ট সহ আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাব-টপিক নিয়ে বিক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা পাবেন পুরো বইতে।

    ❝যেসব পাঠক কোনো একটা বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে জানেন, ভাবতে পছন্দ করেন, পুরো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চিন্তার সাগরে ডুব দিয়ে থাকতে ভালোবাসেন— নিজেকে মুক্তচিন্তক, চিন্তাশীল বা সত্যসন্ধানী মনে করেন— তাদের জন্য এই বইটি হবে বহুদিনের চিন্তার টনিক।❞

    [চার]

    ❝চিন্তাপরাধ❞ বইটির অন্যতম বিষয়বস্তু হচ্ছে ❝পাশ্চাত্যবাদ❞ – যা কিছু না কিছু মাত্রায় প্রতিটি প্রবন্ধতেই স্পষ্ট।

    বইটিতে সেক্যুলারিজম, লিবারেলিজম, পুঁজিবাদ, নারীবাদ, সেক্যুলার হিউম্যান রাইটস– ইত্যাদির দৃষ্টিকোণ থেকে হওয়া ইসলামের প্রতি আক্রমণ, আপত্তি বা প্রশ্নসমূহের শাখাগত উত্তর না দিয়ে বরং এসমস্ত আইডিওলজির মূল নৈতিক অবকাঠামোর ভিত্তিতেই আঘাত করা হয়েছে। যেমন নাস্তিকতাবাদ ইসলামের দিকে যেসব প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়– সেগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ‘নাস্তিকতাবাদ’ যে আদর্শ, দর্শন বা নৈতিকতাবোধের ধারনার উপর ভিত্তি করে চলে– সেগুলোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বইতে!

    অর্থাৎ, যারা গতানুগতিক ‘নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর’ বা ‘ইসলামবিদ্বেষীদের আপত্তির জবাব’ টাইপ বই পড়েছেন আগে, তারা এই বইতে দেখবেন সম্পূর্ণ উল্টোটা।

    শান্তি, প্রগতি, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারনৈতিকতা, ক্ষমতায়ন, সমতা, বিশ্বায়ন, মুক্তচিন্তা, সুশীলতা— ইত্যাদি পশ্চিমা পরিভাষাকে ইসলাম দিয়ে জাস্টিফাই না করে লেখক আলোচনা করেছেন এসব পরিভাষার মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের কি গিলাচ্ছে– বাস্তবে কি দিতে চাচ্ছে– আর মানবসভ্যতার জন্য বাস্তবেই এগুলো কতটুকু গ্রহণযোগ্য— তা নিয়ে! সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিভিন্ন সোর্স থেকে হিসেব মিলিয়ে দেখিয়েছেন এসব পরিভাষাগুলোর অন্তর্গত অসারতা।

    খিলাফত বা ইসলামী সাম্রাজ্যবাদের পতনের পর গত এক শতাব্দীব্যাপী চলতে থাকা ইসলামী বিশ্বের উপর পশ্চিমাদের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সশস্ত্র আগ্রাসন কিভাবে মুসলিম মননের মানচিত্র পাল্টে দিচ্ছে— কিভাবে উম্মাহকে বুদ্ধিবৃত্তিক পরাধীনতার শেকল পরিয়ে দিয়েছে— আমাদের ভূমি, আমাদের শরীরগুলো ঔপনিবেশিকতার শিকল থেকে মুক্তি পেলেও সেই শিকলে কিভাবে আজও আটকে আছে আমাদের মস্তিষ্ক— তার একটা রূপরেখা পাবেন বইয়ের প্রথম অধ্যায় থেকেই। কথিত সেক্যুলার, লিবারেল বা সংশয়ী মুসলিমদের জন্য তাই আমার মতে শ্রেষ্ঠ হাদিয়া হবে এই বইটি।

    শতাব্দিকাল ধরে সারা বিশ্বে আগ্রাসনবিরোধী, স্বাধীনতাকামী বা ইসলামপন্থী প্রতিরোধযোদ্ধারা পশ্চিমাদের মাধ্যমে মিডিয়া ও জনমনে চিহ্নিত হয়েছে সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থী বা জঙ্গিগোষ্ঠী হিসেবে— আর তাদের দমনের নামে কোটি কোটি নিরীহ মানুষের রক্ত, লাখো ইজ্জতভ্রষ্ট নারীর সম্ভ্রম, আর গুয়ানতানামো বে-তে ধীরে ধীরে কষ্টে মৃত্যুবরণ করা হাজারো নিরপরাধের রক্ত হালাল হয়েছে নানা পরিভাষার মাধ্যমে! আর অন্ধত্বের দরুন আমরাও নির্যাতিত-নিষ্পেষিতদের চিনেছি অসভ্য, বর্বর, পিছিয়ে পড়া পশ্চাৎপদ জাতি হিসেবে, বিপরীতে আগ্রাসী পশ্চিমা সভ্যতাকে মেনে নিয়েছি শান্তি-প্রগতি-উন্নতির নিঃশর্ত অগ্রদূত হিসেবে।

    তবে হ্যাঁ, ❝সভ্যতার চলমান দ্বন্দ্বে শীঘ্রই এই সমীকরণ পাল্টাতে যাচ্ছে❞। এই পাল্টানোর মেসেজটুকু আমাদের মননে ঢুকিয়ে নেওয়ার জন্যই ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি দরকার।

    আমাদের আদর্শিক স্বচ্ছতা স্পষ্ট করতে ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের ময়দানে উম্মাহের পরাজিত অবস্থান থেকে উত্তরণে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রত্যেক বাঙালি মুসলিমের বইটি পড়ে দেখা উচিত।

    [পাঁচ]

    বইটি রেস্ট্রিক্টেড অডিয়েন্সের (১৮+) জন্য লেখা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত নয়।

    বইয়ের তাত্ত্বিক আলোচনা বেশ ওজনদার হওয়ায় প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের বোধগম্য হবেনা অনেকাংশে। তাছাড়া বইয়ের কয়েকটি প্রবন্ধের আলোচ্য প্রসঙ্গ’সমূহ নিয়ে অগ্রিম কিছু জানা না থাকলে বইটা যে কারো জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর লাগতে পারে।

    © রিভিউ লেখক : Adnan Abdullah.

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Mohammad:

    বইটি আপনাকে চিন্তায় বড় করবে। গ্যারান্টেড ইনশা আল্লাহ।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    Md. Hasan Al Mamun:

    রাতের বেলায় পড়তে শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম পড়ে ঘুমিয়ে যাবো। পড়তে পড়তে চোখ থেকে ঘুম উধাও। একটু পর পর বইয়ের সামনের দিকে লেখা লেখকের নাম দেখছিলাম আর ভাবছিলাম কে এই লেখক? একটার পর একটা চ্যাপ্টার পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিলো একটার পর একটা রহস্যের স্বরুপ উন্মোচিত হচ্ছে। কিছু বই পড়ার পরে মানুষ আর আগের মানুষটা থাকে না, এটা তেমন একটা বই। প্রতিটি মুসলিমের অবশ্যপাঠ্য একটি বই এটি।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    Arafat:

    Vai khub valo laglo boita
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    mamun.msp:

    এক কথায় চিন্তাশীলদের জন্য মাস্টারক্লাশ একটা বই।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top