মেন্যু
chintaporadh

চিন্তাপরাধ

পৃষ্ঠা - ১৯২ 'যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন... আরো পড়ুন
পরিমাণ

190 

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

34 রিভিউ এবং রেটিং - চিন্তাপরাধ

4.9
Based on 34 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    Rakib Shayekh:

    সারসংক্ষেপ:

    ◾সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল

    সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পক্ষে সবাই সাফাই গায়। লাখ লাখ মানুষের রক্ত বৈধ হয়ে যায় শুধু ‘র‍্যাডিকেল ন্যাশনালিস্ট’-এর নামে। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে পৃথিবীব্যাপী ‘র‍্যাডিকেল মুসলিম’-নিধনে মেতে ওঠাও কোনো পাপ না। পাপ শুধু টুইনটাওয়ার ধ্বংস করা, পেন্টাগনে হামলা করা। 9/11-এর দুই হাজার নয়শ ছিয়ানব্বই (২৯৯৬) জন নিহতের মূল্য আছে, আর গত তিহাত্তর বছরে হত্যা করা দুই কোটি মানুষের কোনো মূল্য নেই! এটাই হল সাম্রাজ্যবাদের নীতি। ওরা মারলে আরাম, আমরা মারলে হারাম। যে মুসলিম আমেরিকার জন্য সুবিধার নয়, সেই র‍্যাডিকেল মুসলিম, অশান্তির মূল। পুরো পৃথিবীকে যারা নিজেদের সাম্রাজ্যভুক্ত করতে চায়, তাদের কাছে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’র অর্থ কী, কারো না বোঝার কথা না।

    ◾ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক

    সর্বত্র এখন ফিরিঙ্গি সভ্যতা, নৈতিকতা, আধুনিকতার জয়জয়কার। পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই সাদা চামড়ার ফিরিঙ্গিরা পৃথিবীবাসীর উপর দয়া করেছে। এই দয়ার প্রতিদানও নিয়েছে কিছুটা। শুধু রক্তে-মাংসে ফিরিঙ্গি বানাতে বাকি রেখেছে। ফলে পশ্চিমা ঔপনিবেশিকতা, সাম্রাজ্যবাদ, পোস্ট কলোনিয়াল কন্ডিশনের সমালোচনাকারীরাও মুসলিমদের বিজয়ের পথ-পন্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে গণতন্ত্র, কল্যাণরাষ্ট্র, ইসলামি জ্ঞানের ‘রেনেসাঁ’ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান খুঁজে পান না। আমাদের চিন্তার কাঠামো ফিরিঙ্গিদের আঁকা রোডম্যাপ ক্রোস করতে পারে না। এসব বিনিয়োগ করেই আমরা জাতে উঠেছি, উঠছি।

    ◾চিন্তার জট

    অঙ্ক সঠিক হয়েছে এজন্য নয় যে, ফলাফল উত্তরপত্রের সাথে মিলে গেছে। বরং এজন্য সঠিক হয়েছে যে, অঙ্কের সূত্র সঠিক হয়েছে। ফলাফলকে কারণ এবং কারণকে ফলাফল হিসেবে দেখে আমরা অভ্যস্ত। চিন্তার এ জটটা কেউ খুলে না দিলে সহজেই আমরা সবকিছু গুলিয়ে ফেলি। কয়েক শতাব্দীর লুটপাট, চুরি, দাঙ্গাবাজি, দখলদারি আমাদের চোখে পড়ে না। চোখে পড়ে লুটপাট-পরবর্তী উন্নয়ন, শিল্পায়ন ইত্যাদি। আমাদের প্রয়োজন ক্রিটিকাল থিংকিঙের; ইসলামকে পশ্চিমা ছাঁচে গড়ার জন্য না, বরং পশ্চিমা ধ্যানধারণার সঠিক বিশ্লেষণের জন্য।

    ◾পূজারি ও পূজিত

    এক ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতা অপর ধর্মের ধর্মদ্রোহিতা। একই রাষ্ট্রে, একই সমাজে একাধিক ধর্মের স্বাধীনতার নামে যে রীতি অনুসরণ করা হবে, সেই অনুসৃত রীতিটিও স্বতন্ত্র একটি ধর্ম বিবেচিত হবে। সেই রীতি (ধর্ম) যেই প্রণয়ন করুক, অধিকাংশ জনগণ কিংবা রাষ্ট্রীয় সংবিধান। সত্যিকার অর্থে কোনো সেকুলার রাষ্ট্রেই পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকতে পারে না। যদি থাকে, তাহলে অবশ্যই কিছু ধর্মীয় অনুশাসনকে পরিত্যাগ করার পর। আর সেকুলার আইনে দেয়া স্বাধীনতার গ্যারান্টি কচুপাতার পানির মতো— অপর সংখ্যাগরিষ্ঠের চাপে যখন-তখন উধাও হয়ে যেতে পারে। যে মুসলমানদের কাছে ইসলামের মতো স্বচ্ছ, স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন, শাশ্বত ব্যবস্থাপত্র আছে, দেড় হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে, তারা এসব ভজঘটমার্কা সিস্টেম মেনে নেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

    ◾গোড়ায় গলদ

    ইউরোপীয় সামাজিক বিজ্ঞানের জন্মই হয়েছে ধর্মীয় প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করার জন্য। একচেটিয়া ধর্মকে ছাটাইকরণের মধ্য দিয়ে এমন কিছু মৌলিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে, যার সঠিক উত্তর দেয়ার সক্ষমতা কেবল ধর্মের আছে। কিন্তু ধর্মকে উপেক্ষা করার ফলে কিছু উদ্ভট উত্তর খুঁজে বের করতে হয়েছে, খোড়া যুক্তি দাঁড় করাতে হয়েছে, বিজ্ঞানের নামে হঠকারিতার সুযোগ নিতে হয়েছে। পশ্চিমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, উন্নতি-উন্নয়ন এবং পথমতকে বাহ্যিক কলুষ মুক্ত করেও ইসলামিকরণ সম্ভব না, যেহেতু এগুলোর ভিতই রচিত হয়েছে খোদাদ্রোহিতার উপর। এই ইসলামিকরণের পেছনে সময় কম নষ্ট হয়নি।

    ◾শুভঙ্করের ফাঁকি

    সবকিছুকে ‘মূল্যায়ন’ করা যায় না বলেই বাংলা ভাষায় ‘অমূল্য’ বলে একটা শব্দ আছে। বনজঙ্গলের গাছপালা কেটে উন্নতির শীর্ষে চড়া যাবে; কিন্তু অতি সামান্য অক্সিজেনের মূল্য কোত্থেকে চুকাবেন? নারীরা ঘরে থাকলে বস্তাবন্দি/বাক্সবন্দি/উন্নয়নের পথে বাধা/সম্ভ্রান্ত পরিবারের বোঝা মনে করে যারা, তারা মূলত একইসাথে কয়েকটা ফাঁদে পা দেয় এবং অন্যদেরকে পা দিতে বলে। সংসারে নারীদের উপস্থিতি ঝিনুকের কোলে মুক্তোদানার মতো। বাহিরে টেনে এনে পশ্চিমা সভ্যতার মোড়লরা নারীসত্তাকে পণ্যসামগ্রীতে রূপান্তর করেছে। তার অপরচুনিটি কোস্টকে দু’আনা মূল্যও দেয়নি। আমরাও যদি এসব শুভঙ্করের ফাঁকি এখনও না বুঝি, তাহলে আমাদের ঘর থেকেও জন্ম নিবে কুখ্যাত যত চরিত্র।

    ◾স্থিতিস্থাপকতা, না-মানুষ ও অন্যান্য

    মাদক-সমস্যার সমাধান কীভাবে? কোন পথে এই নেশাজাত দ্রব্যাদি প্রতিরোধ করা সম্ভব? ধরে ধরে চুনোপুঁটিদের ক্রসফায়ারে মেরে রাঘববোয়ালদের হৃষ্টপুষ্ট করলে? বাজারে যে দ্রব্যের কাটতি আছে, চাহিদা আছে, তার জোগানদাতার অভাব হবে না কখনও। তাহলে সমাধান কি লিগেলাইজে? পশ্চিমারা মদের ক্ষেত্রে যে নীতি অবলম্বন করেছে, তা? আমরা কি পরীক্ষিত প্রমাণিত কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ অনুসরণ করতে পারি না? তাহলে তালে বান দের সেই পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না? তারা এখনও জাতে উঠতে পারেনি বলে? নাকি সমাধানটা ইসলামের দেখানো বলে? মূলত আমরা সমস্যার গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে আগ্রহী নই, ‘প্যারাসিটামল রোজ দুইবেলা’ই আমাদের কাঙ্ক্ষিত।

    ◾ভুল মাপকাঠি

    পশ্চিমা সমাজব্যবস্থায় সবকিছু মাপা হয়— সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার নিক্তিতে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এ দুটো পরিমাপকই পরস্পরবিরোধী। অধিকাংশের মতের ভিত্তিতে যা অবৈধ, ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে যে কেউ সেটাকে বৈধ দাবি করতে পারে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো নীতি অবলম্বন না করলে এ দুই মূলনীতির সংঘর্ষ অনিবার্য। মূলকথা হল, সংখ্যাগরিষ্ঠের মত কিংবা ব্যক্তিস্বাধীনতা কখনও কোনো সংস্কৃতির ভিত্তি হতে পারে না। এর অসারতা বোঝার জন্য সবকিছুকে মেপে দেখাই যথেষ্ট। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক যেমন সৎ না, তদ্রূপ ব্যক্তিস্বাধীনতার অর্থও সিদ্ধান্তের সক্ষমতা না। সুতরাং এগুলো কখনোই ভালো-মন্দের মাপকাঠি নির্ধারণ করতে পারে না। যা পারে, তা একমাত্র আল্লাহর দেয়া বিধান।

    ◾সমকামিতা এজেন্ডা: ব্লু-প্রিন্ট

    কয়েক দশকের ব্যবধানে একটি অন্যয়, বিকৃতি এবং পাপাচার কীভাবে রাষ্ট্রের আইনত বৈধতা পেয়ে যায়— চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে ‘সমকামী এজেন্ডা: ব্লু-প্রিন্ট’ প্রবন্ধটিতে। পঞ্চাশ বছর আগেও যে সমকামিতা যৌনবিকৃতি এবং জঘন্য গর্হিত কাজ হিসেবে পৃথিবীতে ঘৃণ্য ছিল, আজ সেই পৃথিবীর বাইশটি দেশে সমাকামী বিয়ে আইনত বৈধ! আর একশ চব্বিশটি দেশে সমকামিতা স্বীকৃত বৈধ! মাত্র পাঁচ/ছয় দশকের ব্যবধানে যে সমাজব্যবস্থায়, যে রাষ্ট্রব্যবস্থায়, যে বিচারব্যবস্থায় এমন জঘন্য কুকীর্তি বিকৃতি আইনত বৈধতা পেতে পারে, সেসব কুফরি ব্যবস্থায় আমার-আপনার বেঁচে থাকা পৃথিবীর জন্য বিষফোঁড়া প্রমাণিত হওয়াও আশ্চর্যের বিষয় হবে না। পশ্চিমাদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রীতিমতো সমকামিতা সম্পর্কে বিকৃত জ্ঞান দেয়া হয়। পৃথিবীব্যাপী তাদের এই এজেন্ডা যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে জন্মস্বল্পতায় জাতিগত বিলুপ্ত হবার আগে আল্লাহর গজবেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে হবে! একটা মৌলিক দিক হল, তাদের অনুসৃত প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য উন্মত্ততাকেও সমাজের চোখে স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব, যার দৃষ্টান্ত শুধু এক সমকামিতা না, আরও অনেক আছে।

    ◾মরীচিকা

    আমাদের সাথে পশ্চিমা কুফরি ব্যবস্থার সংঘর্ষটা মৌলিক বিষয়ে। আমরা তাদের বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করি এবং তারাও আমাদের আকিদাকে প্রত্যাখ্যান করে। বাহ্যিক কিছু বিষয়ে তাদের সাথে আমাদের সামঞ্জস্য থাকলেও বাস্তবে শুধু মরীচিকা। তাদের যিশু আমাদের ঈসা আ. নয় এবং আমাদের ঈসা আ.-ও তাদের যিশু নন। যতই ইসলামিকরণ করা হোক, মদ হালাল হয়ে যাবে না, পতিতাবৃত্তি বৈধ হয়ে যাবে না, সুদ জায়েয হয়ে যাবে না, গণতন্ত্র সঠিক হয়ে যাবে না। সুতরাং পশ্চিমা মতাদর্শের ইসলামিকরণের ব্যর্থ চেষ্টা করে দিনরাত শুধু নিজেকে, নিজের দীন ও ঈমানকে ধোঁকায় ফেলা যাবে; কিন্তু ‘ইউসফুল ইডিয়ট’ (কুলুর বলদ/নির্বোধ কর্মী) হিসেবে একসময় পশ্চিমা কাফিরদের কাছেই অচ্ছুৎ হতে হবে। কারণ দ্বন্দ্বটা আকিদা/বিশ্বাস নিয়ে।

    ◾বালির বাঁধ

    ‘এটা ঠিক না’ ‘ওটা করা উচিত না’ ‘এমন করা যাবে না’ এসব বিধিনিষেধ কীসের ভিত্তিতে? সামাজিকতা, ঐতিহ্য, প্রাচীন রীতিনীতি, বাপ-দাদার লালিত ধ্যানধারণা ইত্যাদির মতো কিছু ‘বালির বাঁধ’-এর উপর, সামান্য বায়ুঝড়ে যার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। অথচ এই ঠুনকো জিনিসের পরিবর্তে যদি সবকিছুর ভিত্তি শাশ্বত কোনো বিধানের উপর হত? তাহলে সমকামিতার স্বাভাবিকীকরণ, ট্রান্সজেন্ডার মুভমেন্ট ইত্যাদির মতো জঘন্য নৈতিক অবক্ষয়মূলক বিষয়গুলো পরিদৃষ্ট হত? অবশ্যই না। ‘বালির বাঁধ’ উপেক্ষা করে ‘সীসার প্রাচীর’ গড়ে তুলতে হবে আমাদের।

    ◾মানসিক দাসত্ব

    ইসলামের বহুবিবাহ খারাপ আর পশ্চিমা সমকামী বিয়ে ভালো কেন? মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বর্বর আর রাষ্ট্রদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড শাস্তি মানবিক কেন? জাতিসংঘের সমর্থনপ্রাপ্ত দল বিপ্লবী আর ইসলামের জন্য লড়াইকারী জঙ্গি-সন্ত্রাসী কেন? এই প্রশ্নগুলো করার অধিকার প্রত্যেক মুসলমানের আছে। পশ্চিমাপ্রেমীরা যখন ইসলামের অনুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলে, তখন তারা যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করে, আমরা মুসলমানরা আরও শক্তিশালী জায়গা থেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে পারি। তাদের যদি থাকে কয়েকশ বছরের ইতিহাস, তাহলে আমাদের আছে যুগ-যুগান্তরের ঐতিহ্য। আমরা কেন তাদের মনগড়া মানবতা, উন্নতি এবং অগ্রগতির সংজ্ঞা গ্রহণ করব? কিন্তু তবু আমরা তাদের মানসিক দাসত্ব করে যাচ্ছি! ইসলামকে পশ্চিমাদের কাছে উপাদেয় করে প্রকাশ করছি। ইসলামকে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছি। আর এখানেই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়।

    ◾হাউস নিগার

    আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতা, নৈতিকতা এবং দর্শনের যেটা ভালো, তা গ্রহণ করব এবং মন্দটা বর্জন করব। সমস্যা হল, আমরা যে গ্রহণ করব, গ্রহণ করে কোথায় ফিট করব? আমাদের ইসলামে? অথচ ‘ইসলাম পূর্ণাঙ্গ’ বলে কি স্বীকার করে নেইনি? তাহলে কীসের সংযোজন? দ্বিতীয় এবং গুরুতর সমস্যাটা লেখকের ভাষায়— ‘সভ্যতার যেকোনো অংশ পুরোটার সাথে সংযুক্ত।…আলোর সাথেই আসে ছায়ার আঁধার, আর প্রতিটি ‘ভালো’র সাথে আসে তার সাথে সংযুক্ত অথবা তার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ জন্ম নেয়া প্রতিটি ‘মন্দ’। আগুনের আলো নিলে তার জ্বালাও নিতে হয়।’ এখানেই আমাদের বোধবিচ্যুতি ঘটে। আমরা জড়িয়ে যাই থটক্রাইমে। আলো গ্রহণ করি সজ্ঞানে, আর তাপ সহ্য করি অজ্ঞানে।

    ◾সাম্রাজ্যের সমাপ্তি

    পৃথিবীর এ নাট্যমঞ্চে কোনো অভিনেতা-সম্প্রদায়ই চিরঞ্জীব ছিল না এবং থাকবে না। আজকে যারা সুপারপজিশনে আছে, বছর কতেকের ব্যবধানে তারাই ভিক্ষার থলি হাতে দেশদেশান্তর ঘুরে বেড়াবে। তারই পূর্বাভাস স্পষ্ট ভেসে আসছে আজকের সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র আমেরিকার আকাশ-বাতাস থেকে। ইতিহাসের পয়ষট্টিটি সাম্রাজ্যের মধ্যে হয়তো সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে পতন ঘটেছে গ্রেট ব্রিটেন/ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের— সতেরো বছর। আমেরিকার নাহয় ত্রিশ বছরই লাগবে? গবেষকদের মতে সাঁতাশ বছর ইতোমধ্যেই অতিবাহিত হয়ে গেছে। পতনধ্বনিও আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সুতরাং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর গোলামি করতে গিয়ে যারা ‘আমেরিকা আমাদের দেখছে’ বলত, তাদেরও এখন এ অজুহাতের সময় ফুরিয়ে এসেছে।

    ◾অবক্ষয়কাল

    পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটা সাম্রাজ্য এবং সভ্যতার অবক্ষয়কাল সূচনা হয়েছে তখন থেকে, যখন যৌনতার অবাধ প্রসার হয়েছে, অর্থহীন বিলাস-ব্যসন চেপে বসেছে এবং সুখ-সম্ভোগের মত্ততা পেয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস এ কথার জোরালো সমর্থন করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সবার দৃষ্টিতে পশ্চাৎপদ, কট্টর, সংযমী, দরিদ্য, অভাবগ্রস্তরাই যুগে যুগে নয়া সাম্রাজ্যের ভিত গেড়েছে, রচনা করেছে নতুন সভ্যতার রঙিন জগৎ। সুতরাং সবার চোখে যারা শক্তিশালী অধিক যোগ্যতর, ভিতরে ভিতরে তারা কতটা ক্ষয়িষ্ণু, কতটা ভঙ্গুর, তা সময়ই বলে দিবে। অন্তত ইতিহাসের বিচারে আমরা তো একটা সম্ভাব্য ধারণা গ্রহণ করতে পারি। আর পরপর দু’টি পরাশক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনকারীদের দিকেও দৃষ্টি দিতে পারি।

    ◾শ্বেত সন্ত্রাস

    পুরো পশ্চিমাজুড়ে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদিতার ভয়াবহ দুরবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। ঘৃণা-বিদ্বেষ শুধু কালো চামড়ার লোকদের সাথে না, বরং স্পষ্ট করে বলা যায়, কালো চামড়ার চেয়ে এখন এই ঘৃণা-বিদ্বেষ বাদামি চামড়াওয়ালাদের প্রতি বেশি। শ্বেতাঙ্গের সংজ্ঞা হল পশ্চিমে জন্ম নেয়া লিবারেল হওয়া। আর অশ্বেতাঙ্গর পরিচয় হল মুসলিম হওয়া, অভিবাসী হওয়া। উত্তরের মুসলিমদের চেয়ে অধিক হুমকির মুখে এখন পশ্চিমের মুসলিমদের জীবন। ডিলান রুফ থেকে ব্রেন্টন ট্যারেন্ট পর্যন্ত প্রত্যেকেই সময়ের সাথে সাথে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের আদর্শে পরিণত হচ্ছে, যে আদর্শের অনুসরণকে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আবশ্যক মনে করে। তারাও স্বীকার করে নিচ্ছে সশস্ত্র পন্থা ছাড়া নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা মুসলিমরা মার্জিত আচরণের আদিখ্যেতা নিয়েই ব্যস্ত। ইসলাম-বিদ্বেষ যাদের রক্তে-মাংসে মিশে আছে, তারা সভ্য আচরণের ধার ধারে না।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    নাজরান:

    অসাধারণ
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    মো: কায়েছুর রহমান:

    চিন্তাপরাধ পশ্চিমের মুখোশ খুলে দিয়েছে। আমি মজা করে বলি চিন্তাপরাধের প্রত্যেকটা লাইনের ওয়েট দু-চারটা শাহবাগের সমান।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    Amanur Rahman:

    Masha allah…. Ai boi ta aisomoy er pottek muslim er pora uchit .. MUST Read Book 💟
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    সামিয়া আলম:

    অসাধারণ! আসিফ আদনান লেখকের লেখা!
    চিন্তাভাবনার ভ্রান্তি নিরসন করতে বই টা একটা ধাক্কার মত আলহআমদুলিল্লাহ,
    আল্লাহ লেখক কে উত্তম জাযা দান করুক আমিন।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top