মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

চিন্তাপরাধ

প্রকাশনী : Ilmhouse Publication

পৃষ্ঠা – ১৯২

‘যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন করা যাবে না কাঠামো নিয়ে, বিশ্বব্যবস্থা আর সাম্রাজ্য নিয়ে। প্রশ্ন করা যাবে না হুবালের কর্তৃত্ব নিয়ে। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের যুগে এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। অপরাধী বলে বিবেচিত হবার জন্য কিছু করার, এমনকি বলারও প্রয়োজন নেই, সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোনো চিন্তা থাকাই যথেষ্ট। এসব চিন্তা অবৈধ, এসব চিন্তা অপরাধ। যে শরীয়াহর অনুসরণ কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ মানবজাতির ওপর ফরয করেছেন, যুগের হুবালের বিরুদ্ধে গিয়ে অ্যামেরিকান বিশ্বব্যবস্থার মোকাবেলায় সেই শরীয়াহ বাস্তবায়ন হোক এটা চাওয়া–কিছু করাও না, কিছু বলাও না–শুধু এটা চাওয়া অপরাধ। কিছু করার দরকার নেই, বলার দরকার নেই, চিন্তাটাই অপরাধ। থটক্রাইম। চিন্তাপরাধ।

পরিমাণ

190.00 

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

12 রিভিউ এবং রেটিং - চিন্তাপরাধ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    এককথায় অসাধারণ বই। আমি মনে করি, মডারেট-পশ্চিমমনা মুসলিমদের জন্য অবশ্য পাঠ্য একটি বই। তারা দেখতে পারবে সত্যিকারঅর্থে তাদের পশ্চিমা সংস্কৃতি কতটুকু সভ্য। আমার পড়া সেরা বইগুলোর মাঝে অন্যতম একটি হচ্ছে ‘চিন্তাপরাধ’। আসিফ আদনান ভাই সেরা। জাযাকাল্লাহু খাইর, তাকাব্বাল আল্লাহ।
    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

    “Thought crime” অর্থাৎ “চিন্তা-অপরাধ” সুন্দর করে বললে “চিন্তাপরাধ”। শব্দটার সাথে পরিচিত হই বেশিদিন না এই বছরখানেক হবে। আমি এই বইয়ের রিভিউ লেখার ন্যূনতম যোগ্যতা রাখি না। এই বইয়ের রিভিউ না লিখে আমি যদি পারতাম সবাইকে এই বই পড়তে ‘বাধ্য’ করতাম। আমার জীবনের কেনা বইয়ের ২য় বইটা হচ্ছে এই ” চিন্তাপরাধ”। আর আমার অনলাইন জগতে চেনা ২য় লেখকও হচ্ছেন আসিফ ভাই। ভাইয়ের লেখা পড়ার পর মস্তিষ্কের দরজায়ও যে করাঘাত হয় তা ‘পারফেক্টলি’ বুঝেছি।এখন এই বই আমার নোটবুকের মতো। আর বইটা পড়ার পর থেকেই আমি “Thought Criminal” শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে “চিন্তাপরাধী”! 

    কেন পড়বেনঃ চিন্তার দরজা প্রসারিত করার জন্য। চিন্তাপরাধী হওয়ার জন্য। কারণ “….মিথ্যের বসত ভাঙার প্রথম হাতিয়ার;চিন্তাপরাধ”

    এবার আসি বইয়ের প্রচ্ছদে…….
    প্রচ্ছদ টা মাশাআল্লাহ আকর্ষণ করার মতো।
     
    উৎসর্গঃ
    ” ৩৩:২৩” অসম্ভব সুন্দর একখানা আয়াত। আল্লাহু আকবার। জানেন আয়াত টা কি?
    مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ رِجَا لٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللّٰهَ عَلَيْهِ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ قَضٰى نَحْبَهٗ ۙ وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّنْتَظِرُ ۖ وَمَا بَدَّلُوْا تَبْدِيْلًا ۙ 
    “মু’মিনদের মধ্যে কতক লোক আল্লাহর সঙ্গে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কতক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে (শাহাদাত বরণ) করেছে আর তাদের কতক অপেক্ষায় আছে। তারা (তাদের সংকল্প) কখনো তিল পরিমাণ পরিবর্তন করেনি।”
    এই আয়াতের মর্মার্থ যাদের বুঝে আসে তারা নিঃসন্দেহে সফলকাম। আল্লাহ ভাইকে উত্তম জাযা দিন। বইয়ের প্রতিটা পৃষ্ঠায় এমনভাবে ভাই আপনাকে চিন্তা করতে বাধ্য করছেন যে আপনি চিন্তা করবেনই।

    এখন আমরা একদম বইয়ের ভেতরে ঢুকে যাবো যেহেতু আমি বইয়ের সব বিষয় রিভিউয়ে আনতে পারবো না তবে চেষ্টা করবো ভালো কিছু কথা আনার ইনশাআল্লাহ।

    পূর্বকথাঃ
    এই জায়গায় ভাইয়ের শুধু একটা কথা হাইলাইট করতে চাই, “চিন্তাপরাধ কোনো ইসলামী বই না, তবে মুসলিমদের জন্য লেখা বই।” কতটা সূক্ষ্ম আর চিন্তাশীল মানুষের কথা তা এই একটি মাত্র কথা দ্বারাই বুঝা যায়।

    সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বলঃ
    ভাইরেভাই এই অধ্যায় টা খালি সাম্রাজ্যবাদীদের করা হত্যাযজ্ঞের পরিসংখ্যান। এই অধ্যায় পড়ার পর বুঝবেন “মানবাধিকার”,” মানবতাবাদ” আর “শান্তি” নামক “মরীচিকা” টা কি?  আর ‘যায়োনিস্ট’দের ডিকশনারিতে “সন্ত্রাসবাদ” আর “শান্তি”র অর্থ টা কি!
    “সিস্টেম” নামক জিনিস টা কি? আর ” সিস্টেমের পূজারী” ও “সিস্টেমের বিরোধীতাকারী” কারা?  

    ফিরিংগিসেন্ট্রিকঃ
    এই অধ্যায়ে পাবেন “সাদা চামড়াধারী” “কলুষিত মানুষের” কর্মের বিবরণ। কীভাবে এই “সাদা চামড়াধারী” মানুষগুলোর ‘দাস’ হিসেবে আমরা এখনো “গোলামী” করছি!কীভাবে এই “দাসত্ব’ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তারও ‘সমাধান’।

    চিন্তার জটঃ
    মানুষের বর্তমান “চিন্তার মাপকাঠি” কি? এ বিষয়ক বিশদ বিশ্লেষণ। আমাদের “সাধারণ চিন্তা” নামক চিন্তায় জট টা কোথায়?  তথাকথিত “ক্রিটিক্যাল থিংকিং” এর নামে আসলে হচ্ছেটা কি? এই অধ্যায়ের শেষে একটা খুব সুন্দর উক্তি করেছেন ভাই। উক্তিটি
    “বিজিত সবসময় বিজয়ীর অনুসরণ করে।অনুসরণ করে বিজয়ী হওয়া যায় না। ”

    পূজারি ও পূজিতঃ
    আল্লাহ মনোনীত দ্বীন ব্যতীত বর্তমান প্রচলিত “সেক্যুলারিযম” আর “স্যাটানিজমের” একজন যে আরেকজনের পরিপূর্ণতা দানকারী তার ব্যাখ্যা এখানে উঠে আসছে।

    গোড়ায় গলদঃ
    এখানে হাইলাইট করা হইছে “বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের পার্থক্য”, “পশ্চিমা সামাজিক বিজ্ঞানের শিকড়”, “সেক্যুলার চিন্তা যে কয়টি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে তা”।

    শুভংকরের ফাঁকিঃ
    এই অধ্যায়ে খুব শর্টলি বললে মূলত ” নারীবাদ” বা “Feminism” নামক ‘-ism’ এর যে মরীচিকা আছে তা ‘দৃশ্যমান’ করছেন ভাই। এছাড়াও “অর্থনীতি” নামক “নীতি” এর সাথে সম্পৃক্ত ভুল কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা করেছেন আলহামদুলিল্লাহ।

    স্থিতিস্থাপকতা, না-মানুষ ও অন্যান্যঃ
    “পৃথিবীতে লাভজনক ব্যবসা ৩টি -মানুষ,মাদক ও অস্ত্র।আর তিনটার মধ্যে সস্তা হলো মানুষ। ” এখানে মূলত এই ব্যবসাগুলোর প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে আর এর পেছনের ” রহস্য” ও এর “সমাধান” দেয়ার চেষ্টা করেছেন ভাই।

    ভুল মাপকাঠিঃ
    বর্তমানে মানুষ চিন্তার যে মাপকাঠি(গণতন্ত্র,সেক্যুলারিযম ইত্যাদি) গ্রহণ করেছে তার সাথে “ইসলামি শারীয়াহ” এর পার্থক্যকে এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আসিফ ভাই।

    সমকামী এজেন্ডা:ব্লু-প্রিন্টঃ
    অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ‘ফিতনা’ নিয়ে এখানে প্রিয় ভাই আলোচনা করেছেন। পশ্চিমে কীভাবে এই এজেন্ডা সফল হয়েছে বাংলাদেশে কিভাবে এই কুলাংগারেরা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করছে তা নিয়েই এই অধ্যায়।

    মরীচিকাঃ
    “মানবধর্ম”, “ব্যক্তিস্বাধীনতা”, “চিন্তার স্বাধীনতা”, “নারীর অধিকার” ইত্যাদি অধিকারের পশ্চিমা ব্যাখ্যা ও ইসলামী ব্যাখ্যার তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

    বালির বাঁধঃ
    চিন্তার মানদন্ড হিসেবে আমরা যে পশ্চিমাদের অনুসরণ করি তাদের বক্তব্যগুলোর অসারতা এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    মানসিক দাসত্বঃ
    “বিজ্ঞান”,”যুক্তি” ইত্যাদি ইত্যাদিকে যে আমাদের সেক্যুলাংগার দাদারা/দিদিরা মানদন্ড হিসেবে উপস্থাপন করেন  তাদের এই অপব্যাখ্যার অসারতা লেখক এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন। ইহা যে কতবড় বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় তা বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।

    হাউস নিগারঃ
    আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে একটা টুইস্ট আছে সো এই বিষয় বই থেকে পড়ে নেয়া প্রয়োজন।

    সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ
    খুব তাড়াতাড়ি যে “যুগের হুবাল” খ্যাত “আমেরিকা” এর পতন ঘটছে লেখক এখানে ইতিহাসের ও ইতিহাসবিদদের আলোকে পর্যালোচনা করেছেন।

    অবক্ষয়কালঃ
    এখানে লেখক কেন একটি “সাম্রাজ্য” ধ্বংস হয়? এবং আরেকটা “সাম্রাজ্যের উত্থান” হয় কীভাবে?  কোন সাম্রাজ্য অধিক “টেকে” তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এখানে একটা কথা এড করতে চাই,
    “হয় হেরে যেতে হবে নয়তো আরেকটা সাম্রাজ্য(ইসলামি খিলাফাহ) গড়তে হবে।”

    শ্বেত সন্ত্রাসঃ
    বিভিন্ন সময় “সাদা চামড়াধারী” -দের দ্বারা মানবজাতির উপর হওয়া কিছু আক্রমণের পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    বইয়ের নামঃ চিন্তাপরাধ
    লেখকঃ আসিফ আদনান
    প্রকাশকঃ ইলমহাউস পাবলিকেশন
    মুদ্রিত মূল্যঃ ১৯০/-

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5

    :

    মাশাআল্লাহ। বর্তমান সময়ে মুসলিম দের দুরবসথা থেকে উত্তরণের জন্য এই বই টি সবার পড়া দরকার। আল্লাহ আমাদের সকলকে উম্মার ঐক্য ও শান্তির জন্যে কাজ করার সুযোগ দান করুন আমীন।
    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5

    :

    বইঃ চিন্তাপরাধ
    লেখকঃ আসিফ আদনান (Asif Adnan)
    প্রকাশকঃ Ilmhouse Publication
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯১
    নির্ধারিত মূল্যঃ ১৯০ টাকা
    বাইন্ডিংঃ পেপারব্যাক

    শুরুতেই চমক! উৎসর্গ তে লেখা ৩৩:২৩ । পড়ে আসুন আল কুরআনের ৩৩ তম সূরা আল আহযাবের ২৩ নং আয়াত

    পূর্বকথা হলো লেখকের কথা। এখানে বইয়ের শুরুতে তিনি এই বইয়ের মূল কথা বলেছেন। এটি মুসলিমদের জন্য লেখা বই। তাদের চিন্তার জট খুলতে ও চিন্তার জগতকে নাড়া দিতে চেষ্টা করেছেন তিনি। অবশ্যই সফলও হয়েছেন।

    মোট ১৬ টি টপিকে মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা, পশ্চিমা আগ্রাসন, ষড়যন্ত্র, তাদের অসারতা ইত্যাদি প্রকাশ করে দিয়েছেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে অলংকারিক ভাষার মাধ্যমে, গবেষণার ফলাফল হিসাবে।

    প্রথম টপিক ‘সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল’ এ মূলত আমেরিকান সম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন এর কথা উঠে এসেছে। ইউরোপের কিছু আগ্রাসী মনোভাব তুলে ধরা হয়েছে ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক অধ্যায়ে। চিন্তার জট প্রবন্ধে লেখক পশ্চিমা ধ্যান ধারনা ও আমাদের চিন্তার মূলে গিয়ে চিন্তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমাদের চিন্তার দাসত্বের বিষয়টি তুলে এনেছেন নিপূন দক্ষতায়।

    ‘পূজারি ও পূজিত’, ‘গোঁড়ায় গলদ’ দুটিতে সেকুলার দর্শনের অসারতা প্রমান করে তাদের দৈন্যতাকে হাতে কলমে ধরিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ চ্যাপ্টারে নারীবাদ ও ফেমিনিজম সম্পর্কে তীব্র যুক্তি প্রমান ও খন্ডন করা হয়েছে। বক্তব্যের পিছনের লুকায়িত রহস্য বের করতে লেখকের পারদর্শিতার প্রশংসা করতেই হয়।
    স্থিতিস্থাপকতা অধ্যায়ে ড্রাগ এর ভয়াবহতা ও এর পিছনে বিরাট শক্তির ইন্ধন চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভুল মাপকাঠিতে আমাদের চিন্তার দৈণ্যতার কথাটা বার বার মনে হয়েছে। ‘সমকামী এজেন্ডাঃ ব্লু-প্রিন্ট এ সমকামীতার ভয়াবহতা এসেছে ভয়াল রূপে। ‘মরীচিকা’য় আবার পাশ্চাত্য সভ্যতার পিছনে ছুটে চলার কাহিনী শেষ হতেই ‘বালির বাধ’ অধ্যায়ে সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু।

    মানসিক দাসত্ব টপিক আপনাকে ভাবাবে, চিন্তা করতে শেখাবে। প্রশ্ন করতে উৎসাহী করবে। ‘হাউস নিগার’ এ মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। সম্রাজ্যের সমাপ্তি অধ্যায়টা বেশ ভাল লেগেছে। একটি সম্রাজ্যের উত্থান, পতনের চিত্র, পরিনতি ও ভবিষ্যতবানী বেশ আকর্ষনীয় লেগেছে। অবক্ষয়কাল অধ্যায়টি সভ্যতার সাথে যৌনতার সম্পর্কে বিশ্লেষন করা হয়েছে বেশ যুক্তি ও রেফারেন্সসহ।

    শেষ অধ্যায় শ্বেত সন্ত্রাসে সাদা চামড়ার মানুষদের সন্ত্রাসের আদ্যোপান্ত বিশ্নেষনের প্রয়াস পেয়েছেন লেখক। তাদের মূলনীতি, কারন, এর ফলাফল ইত্যাদি অনেক গভীরভাবে বিশ্লেষন করা হয়েছে এখানে।

    বেশিরভাগ অধ্যায়েই লেখক পশ্চিমা সভ্যতার অসারতা প্রমান করেছেন, আগ্রাসান সম্পর্কে বলেছেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় আমাদের করনীয় সম্পর্কে খুব বেশি বলেন নি। হয়তো তিনি আমাদের চিন্তার সুযোগ দিয়েছেন। শেষে এসে ইসলামের মূলে ফিরে যেতে তিনি আহবান জানিয়েছেন। পশ্চিমা লাইনে চিন্তা করে ইসলামকে তাঁর আদলে না সাজিয়ে ইসলামের মূল স্পিরিট অনুযায়ী তাকে মানার ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করার দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

    মূল কথা হলো এই বইটি চিন্তার খোরাক হিসাবে অনন্য। যারা একটু গভীর ও দার্শনিক চিন্তার মাল মশলা সমৃদ্ধ বই চান তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই।

    রেটিং ৯/১০।

    6 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5

    :

    “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”

    বইয়ের নাম:চিন্তাপরাধ
    লেখক:আসিফ আদনান
    প্রকাশক:ইলমহাউস পাবলিকেশন
    প‍রিবেশক:দারূন-নাহদা
    মূল‍্য:১৯০ টাকা (নির্ধারিত)
    পৃষ্ঠা সংখ‍্যা:১৯২
    প্রকাশকাল:মে,২০১৯

    “মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।”
    [ সুরা আল-আহযাব ৩৩, আয়াত ২৩ ]

    বই প‍রিচিতি:
    পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুর ভাগ থেকে একবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় পুরো পৃথিবী ছিল পশ্চিমাদের ঔপনিবেশিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত।কথিত সভ‍্য জাতি ইউরোপীয়রা সভ‍্যতা শিখানোর অযুহাতে পুরো পৃথিবীতে চালায় তাদের হত‍্যা,লুণ্ঠন,জুলুমের রাজত্ব।সভ‍্যবেশি এসব শেতাঙ্গ জালিমদের বিরুদ্ধে একসময় উপনিবেশগুলো গর্জে ওঠে এবং স্বাধীনতা লাভ করে।
    কিন্তু স্থানীক ঔপনিবেশিকতা থেকে স্বাধীনতা অর্জন করলেও পশ্চিমাদের আদর্শিক এবং সাংস্কৃতিক উপনিবেশ এখনো রয়েই গেছে।এমনকি মুসলিমরাও পশ্চিমাদের আদর্শিক ঔপনিবেশিকতা মেনে নিয়েছে!একসময় সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা এক জাতি মুসলিমরা আজ নানান দেশের পরিচয়ে খন্ড বিখন্ড।কেউ বলছে আমি আরবি,কেউ বলছে আমি তুর্কি,কেউ বলছে আমি পাকিস্তানি আবার কেউ বলছে আমি বাংলাদেশি ইত্যাদি।
    সর্বত্র মিডিয়ার প্রপাগন্ডা,প্রথাগত প্রথাবিরুদ্ধতা,সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং আদর্শিক ঔপনিবেশিকতার এই কালে মুসলমানদের চিন্তার জট খুলতে,সত্যকে উপলব্ধি করতেই লেখক শ্রদ্ধেয় আসিফ আদনান ভাই রচনা করেছেন চিন্তাপরাধ বইটি।
    বইটিতে লেখক অন্য কয়েকজন লেখকের লেখার অনুবাদ যেমন এনেছেন,তেমনি কিছু অনুবাদের সাথে নিজের চিন্তাও যোগ করেছেন।পাশাপাশি নিজের কিছু লেখাও তুলে ধরেছেন।

    লেখক ষোলটি অনুচ্ছেদে ভাগ অতীত এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বইটি রচনা করেছেন।নিচে পাঠকদের সুবিধার্থে অনুচ্ছেদগুলির নাম তুলে ধরা হলো:
    ১.সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল
    ২.ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক
    ৩.চিন্তার জট
    ৪.পূজারি ও পূজিত
    ৫.গোড়ায় গলদ
    ৬.শুভঙ্করের ফাঁকি
    ৭.স্থিতিস্থাপকতা,না-মানুষ ও অন‍্যান‍্য
    ৮.ভুল মাপকাঠি
    ৯.সমকামী এজেন্ডা:ব্লু-প্রিন্ট
    ১০.মরীচিকা
    ১১.বালির বাঁধ
    ১২.মানসিক দাসত্ব
    ১৩.হাউস নিগার
    ১৪.সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
    ১৫.অবক্ষয়কাল
    ১৬.শ্বেত সন্ত্রাস

    পাঠ প্রতিক্রিয়া:
    পৃথিবীর দিকে দিকে চলছে আজ মানবতা ধ্বংসের অপ-মহড়া।আর এই অপ-মহড়া চালাচ্ছে সভ‍্য নামধারী,ভুয়া শান্তিবাদের পতাকাধারী সেক‍্যুলারিজম নামক ধর্মহীনতায় আক্রান্ত পশ্চিমা বিশ্ব।অথচ তারাই নিজেদের মানবতার ধ্বজাধারী বলে চেচাচ্ছে।নিজেদের মিডিয়া শক্তি আর পেশি শক্তির দ্বারা তারা মানুষকে এই মিথ‍্যা বুঝাতেও সক্ষম হচ্ছে।অথচ সাধারণ মানুষ তাদের এই অপপ্রচার ধরতে না পেরে অন্ধের মতো বিশ্বাস করছে।
    এমনকি মুসলমানরাও এই রোগে আক্রান্ত।উপরন্তু মুসলিম সমাজে এমন অনেক ব‍্যক্তিরও আবির্ভাব হয়ে গেছে যারা পশ্চিমা সভ‍্যতাকে মাপকাঠি মেনে শাশ্বত বিধান ইসলামে পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছে।মুসলিমদের এই অধঃপতনের সময়ে উম্মাহর জন‍্য দরদী কিছু ব‍্যক্তি উম্মাহকে সঠিক ইসলাম বুঝানোর,তা মেনে চলার এবং সেক‍্যুলার পশ্চিমাদের ভ্রান্ত প্রচার-প্রচারণা পরিহার করার জন‍্য কাজ করছেন।এমনই একজন ব‍্যক্তি শ্রদ্ধেয় আসিফ আদনান ভাই তার দাওয়াহর অংশস্বরুপ রচনা করেছেন “চিন্তাপরাধ”‌।

    বইটি পাঠ করছি আর অভিভূত হচ্ছি।মনে হচ্ছে একটা টপিক বার বার পড়ি।বইটির পাঠ যেমন আমাকে পশ্চিমাদের বিভ্রান্তি আর ভ্রান্ত প্রচারণা সম্পর্কে জানাচ্ছে তেমনি মুসলমানদের অধঃপতন আর তা থেকে উত্তরণের পথ সম্পর্কেও অবহিত করছে।

    বইটির প্রচ্ছদ,পৃষ্ঠার মান,বানান মাশাআল্লাহ সবকিছুই চিত্তাকর্ষক।আর ভিতরে যা আছে তা সম্পর্কে মতো ভাষা আমার জানা নেই।আশা করি মুসলিমদের চিন্তার জট খুলতে বইটি দারুনভাবে সাহায‍্য করবে ইনশাআল্লাহ।

    বইটি কাদের পড়া উচিত এবং কেন পড়া উচিত:
    “চিন্তাপরাধ” বইটি ধনী-দরিদ্র,শিক্ষক-ছাত্র,মুসলিম-সেক‍্যুলার,সাদা-কালো,উচ্চ শিক্ষিত-স্বল্প শিক্ষিত সকলের জন‍্যই পড়া উচিত।
    কারণ,বইটি সকলের জন‍্যই লেখা এবং সকলের জন‍্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    বইটি মুসলমানদের চিন্তার জট খুলে দিয়ে,সঠিকভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করবে।পশ্চিমকে মাপকাঠি না মেনে ইসলামকে মাপকাঠি মেনে ভাবতে সাহায্য করবে এই বইটি।বইটি আমাদের চিন্তার দুয়ার খুলে দিবে এবং ভ্রান্তদের ভ্রান্তি সম্পর্কে অবহিত করবে।

    পশ্চিমাদের অপপ্রচারের এই সময়ে “চিন্তাপরাধ”-এর মতো একটা বই খুবই প্রয়োজন ছিল।আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তাআলা তা আমাদের দিয়েছেন।
    তাই আর দেরি না করে আমাদের সকলেরই উচিত বইটি অধ‍্যয়ন করা আর তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা।

    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের জন‍্য কবুল করুন।আমিন।

    লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
    শ্রদ্ধেয় আসিফ আদনান ভাই ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।ঢাকায় বেড়ে ওঠেন এবং পড়াশোনাও এখানেই সম্পন্ন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে অর্থনীতিতে অনার্স-মাস্টার্স করেন ।

    তিনি এখন লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন।
    “চিন্তাপরাধ” উনার প্রথম রচনা।এছাড়াও সম্পাদনা করেছেন পাঠক নন্দিত সত‍্যকথন,মুক্ত বাতাসের খোঁজে,ইসলামি ব‍্যাংক:ভুল প্রশ্নের ভুল উত্তর বইতিনটি।

    আল্লাহ উনাকে দ্বীনের পথে অটল রাখুন এবং হায়াতে বারাকাহ দান করুন‌‌।আমিন।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  6. 5 out of 5

    :

    অসাধারণ একটি বই। মা শা আল্লাহ, বারাক’আল্লাহ। আল্লাহ রাব্বাল আলামীন লেখকের ইলমে এবং কলমে বারাকাহ দান করুন, আমীন।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  7. 5 out of 5

    :

    বইটা আমাদের মতো ভোগবাদী মুসলিমদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি।
    8 out of 8 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  8. 5 out of 5

    :

    একটি ভালো বইয়ের সংজ্ঞা একেকসময় একেক রকম হতে পারে। তবে আমার কাছে একটি ‘খুব ভালো’ বইয়ের সংজ্ঞা খুব সরল ও সাদামাটা। এধরনের বই পড়া শুরু করলে তা শেষ না করে অন্য বই পড়া যায় না। এমন বই পড়ার সময় মোহ লেগে যায়, বারবার সবাইকে জানাতে ইচ্ছা করে বইটির ব্যাপারে। সেরকম একটি বইয়ের কথাই আজ লিখছি।

    ক)বই পরিচিতিঃ
    ‘চিন্তাপরাধ’ বইটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে বিশ্বরাজনীতি ও ইসলাম। লেখকের ভাষায় এটি কোন ইসলামি বই নয়, তবে মুসলিমদের জন্য লেখা একটি বই। সে অর্থে বিশ্বরাজনীতির বইও বলা চলে না। বরং বলা উচিত, আমাদের সময়ের দুনিয়াকে একজন মুসলমান কি ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখবে, নানা বিজাতীয় তত্ত্বকে বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতায় আক্রান্ত বর্তমান মুসলিম প্রজন্ম কীভাবে মোকাবেলা করবে- সে বিষয়েই যথাসাধ্য আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে এ বইয়ে।

    বইতে মোট ১৬টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে লেখক ক্রিস হেজেস, আসাদ যামান, গাই ইটন ও শাইখ জাফর ইদ্রিসের চারটি প্রবন্ধ থেকে সহায়তা নিয়েছেন। অমুসলিম ফিলোসফার বা জিও-পলিটিসিয়ানদের লেখাকে অবলম্বন হিসেবে নিলেও লেখক সেগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত ও ফ্যাক্টস তুলে এনে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন একজন বিশ্বাসী মুসলিমদের ওয়ার্ল্ডভিউ বা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

    খ) বিস্তারিত রিভিউঃ
    বইয়ে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছেঃ

    ১। #সাম্রাজ্যবাদ (imperialism)- বিশেষ করে আমাদের সময়ের বাঘা বাঘা কিছু সাম্রাজ্যের উত্থান পতন নিয়ে সুন্দর তুলনামূলক আলোচনা করে পশ্চিমাদের ঔপনিবেশিক আমল থেকে চালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্বরুপ উন্মোচন করে দেয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা যেসব অপকর্ম ও মোক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে সেগুলো তো তুলে ধরা হয়েছেই, উপরন্তু এখনো যে তারা নানা ধরনের ছল চাতুরি আর তত্ত্বকথার ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে তাদের বিকৃত আদর্শ সমগ্র বিশ্বে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে স্থাপন করে নিয়েছে সেগুলোরও অপনোদন করা হয়েছে।

    মিডিয়া, তথ্যসন্ত্রাস কিংবা হলিউড – প্রত্যেকটি অস্ত্র ব্যাবহার করে তারা নিজেদের অপকর্ম ঢেকে রাখে আর নিজেদের স্বার্থে সমগ্র বিশ্বে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। কিন্তু এই পশ্চিমারা কিভাবে এত ক্ষমতাধর হল আর কিভাবেই বা তারা অচিরেই ভূপাতিত হতে যাচ্ছে তারও একটি প্রেডিকশান দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ২। #পূজিবাদ #ভোগবাদ ও #ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সহ পশ্চিমা আধুনিক সমাজের অধিকাংশ কনসেপ্টের মূলে এই বই যেন বজ্রাঘাত হেনেছে। কখনো তাদেরই ব্যবহৃত যুক্তি দিয়ে তাদেরকে ঘায়েল করা হয়েছে আবার কখনোবা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে তাদেরই যুক্তির অসারতা।

    ৩।আমাদের সমাজে প্রসিদ্ধ ও বর্তমান পৃথিবীতে অনেক দেশেই বৈধতা পেয়ে যাওয়া যৌন-বিকৃতি গুলো নিয়েও আলোচনা এসেছে। সমকামিতা #উভকামিতা (Bisexualism) বা ট্রান্স-জেন্ডার আন্দোলনগুলো পশ্চিমে এবং ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বে বৈধতা পাচ্ছে। অথচ কত অদ্ভূত সব যুক্তি দিয়ে এগুলোকে হালাল করা হচ্ছে। যে যুক্তি দিয়ে সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাওয়া হয় ঠিক এর বিপরীত যুক্তি দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলনকে বেগবান করা হচ্ছে। কী অদ্ভূত প্রবঞ্চনা!

    ৪। ফিরিঙ্গিসেন্ট্রিক আর চিন্তার জট সহ আরো কিছু লেখায় আমাদের চিন্তার জট যেন খুলে দেয়ার চেস্টা করা হয়েছে। পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার দ্বারা কীভাবে সত্য দ্বীন হাতের কাছে থাকার পরেও আমরা কীভাবে পশ্চিমা কুফরি মতবাদগুলো গ্রহণ করে নিচ্ছি, বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে কীভাবে আমরা সঠিক পথ খুজে নিতে পারবো তা-ই যেন দেখিয়ে দেয়া হয়েছে।

    ৫। এ বইতে এমন কিছু কাজ হয়েছে যা সচরাচর বাংলা ইসলামি বইগুলোতে তো নয়ই, কোন ধরনের বইতেই দেখা যায় না। ফেমিনিযম, সেকুলারিজম, সিলেক্টিভ হিউমেনিজম সহ অসুস্থ পশ্চিমা সংস্কৃতির বড় বড় ক্যান্সার চিনিয়ে দেয়ার চেস্টা করেছে এ বই, যাতে করে ক্যান্সার আক্রান্ত উম্মাহ ব্যাধিগ্রস্ত কোষগুলো ধ্বংস করে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে পায়। সবচেয়ে বড় কথা মানসিক দাসত্ব ও চিন্তার অসারতা কাটাতে এই বই অনেক সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস।

    ৬। সেকুলারিজমকে সবচেয়ে বেশি এটাক করা হয়েছে তাদেরই ব্যবহার করা যুক্তিতে তাদের কুপোকাত করার মাধ্যমে। বিশেষ করে পূজারী ও পূজিত আর্টিকেলটি আমার কাছে পিউর গোল্ড মনে হয়েছে।

    ৭। গোঁড়ায় গলদ নামক প্রবন্ধে তো বিজ্ঞান আর সামাজিক বিজ্ঞানের পার্থক্য উল্লেখ করার মাধ্যমে আমাদের সময়ের অনেক হাইপোথেসিসের আসল সমস্যা নিরুপণ করা হয়েছে। যেসব কনসেপ্ট আজ অনেক মডারেট মুসলমান নিঃসংকোচে মেনে নেয় সেসব অনেক কনসেপ্টের সূচনাই হয়েছে কুফরি বিশ্বাসের ভিত্তিমূলের উপরে। সামাজিক বিজ্ঞানকে আমরা অমোঘ সত্য বলে ধরে নেই অথচ আদতে সেগুলো তা নয়, এমনকি বৈজ্ঞানিকভাবেও সামাজিক বিজ্ঞানের সব কনসেপ্ট যায় না। এগুলো তো সমাজবিজ্ঞানী আর পন্ডিতদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান মাত্র। আর মানুষের দৃষ্টি সংকীর্ণ। ঐশী বাণীর চেয়ে জ্ঞানমণ্ডিত বা হিতকর কোন কিছু এই ধরার মানুষ তার সংকীর্ণ ও সীমিত মেধা দিয়ে কখনোই উদ্ভাবনে সমর্থ হবে না।

    ৮। ফেমিনিযম ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে পশ্চিমা বয়ানের অপনোদন কিংবা মাদক নির্মূলে পশ্চিমা রাঘব বোয়ালদের পলিসি ফেইলিয়রের ভরাডুবি নিয়ে লেখাগুলো পড়লে অনেক তথাকথিত প্রগতিশীলেরও চোখ খুলে যাবে (যদি তারা নিজেদের সাথে সৎ থাকেন)।

    ৯। সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘ভুল মাপকাঠি’ নামক লেখাটি। এই লেখাটি যেন সেকুলার পশ্চিমা জীবনব্যবস্থার দিকে নিক্ষিপ্ত একটি রকেট লাঞ্চার। বস্তুবাদি, ধর্ম নিরপেক্ষ আধুনিক পশ্চিমা জীবন ব্যবস্থার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ও নৈতিকতার ধারণা গড়ে উঠেছে দুইটি মূলনীতিকে কেন্দ্র করে। ১। সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ২। ব্যক্তিস্বাধীনতা।

    এ দুই মাপকাঠির স্বাপেক্ষেই আজকের দুনিয়ার ভালোমন্দ মাপা হয়। অথচ উভয় কনসেপ্টই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। মুসলিমরা নিজের নফসকে নিজের ইলাহ মানে না। আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে না সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের কোন দাম আছে না নিজের ব্যক্তিগত মত এর। উপরন্তু, সেকুলার সমাজের এ দুই মাপকাঠি একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক। কীভাবে? জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।

    ১০। সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে এত সুন্দর লেখা আমি আর কোন বইয়ে ইতিপূর্বে পড়ি নি। কীভাবে স্লো পয়জনিং এর মাধ্যমে একটি কট্রর, ধর্মভীরু সমাজে ধীরে ধীরে যৌন বিকৃতি, সমকামিতা, শিশুকামিতা ইত্যাদি অবক্ষয় ঢুকানো হয় তাই দেখিয়ে দেয়া হয়েছে এখানে।

    ১১। মানসিক দাসত্ব নামক প্রবন্ধটি ছোট কিন্তু এর প্রভাব বিস্তর। ইসলামবিদ্বেষীদের ধরা বাধা ফ্রেমওয়ার্কের ভেতর থেকে আমরা যখন ইসলামকে ব্যাখ্যা করতে যাব তখন স্বভাবতই আমাদের কিছু সেক্রিফাইসের পথে যেতে হয়। অথচ আমাদের উচিত ছিল তাদের অবিসংবাদিত ফ্রেমওয়ার্কটাকেই চ্যালেঞ্জ করা। কারণ তাদেরই এসব কাঠামোর এমনকি সুস্থির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পর্যন্ত নেই।

    ১২। এই মহাশক্তিধর পশ্চিমা সাম্রাজ্যও সমাপ্তির প্রহর গুনছে। অতীতের রাজত্বগুলোর মত তারাও একগুয়েমি আর অহংকারের বশবর্তী হয়ে নিজেদের পতন ডেকে আনছে। সামরিক আর অর্থনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত আর হঠকারি ঔদ্ধতা তাদের পতনকে তরান্বিত করছে। বস্তুত, তাদের সমাজ ব্যবস্থাও চিরভংগুর। মুসলিমরা কি পারবে এই সুযোগে আগামীতে বিশ্ব নেতৃত্বের আসন দখল করতে? তা করতে হলে কী করতে হবে? কোরআন-সুন্নাহতে প্রত্যাবর্তন নাকি বিজাতীয়দের অন্ধ অনুকরণ?

    ১৩। #শ্বেত-শ্রেষ্ঠত্ববাদ (White Supremacy) নিয়ে লেখা এ বইয়ের সর্বশেষ প্রবন্ধটি বইয়ের সবচেয়ে দীর্ঘতম প্রবন্ধ। শ্বেত সন্ত্রাসের পেছনের মূল শক্তি আর বিশ্বে তার ভবিষ্যত প্রভাব সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। যারা পশ্চিমা বিশ্বে স্থায়ী হবার স্বপ্নে বেসাতে গাড়ছেন, তারা একটিবার হলেও পড়ে দেখবেন এই প্রবন্ধটি। যে প্সহচিমকে স্থায়ী নিবাস বানাতে চাচ্ছেন সেই মেরিকান ড্রিমের ব্যাপারে কিছু বেসিক ধারণা জন্মাবে।

    গ) বইয়ের যেসব বিষয় ভাল লেগেছেঃ

    বইয়ের মূল কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে লেখক আসিফ আদনান ভাইকে দেয়া যায় না। কারণ বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখতে অনেক জায়গায় অন্য লেখার ছায়া অবলম্বন বা আংশিক ভাবানুবাদ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় অমুসলিমদের লেখা থেকে তথ্য সিঞ্চন করে তা একজন মুসলিমের পারস্পেক্টিভ থেকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনও ছিল বৈকি। তবুও এ বইয়ের মূল কৃতিত্ব আসিফ ভাইয়েরই, আলহামদুলিল্লাহ।

    এমন কঠিন সব বিষয়ে ঘাটাঘাটি করে এত সুন্দর লেখা দাঁড় করানো, প্রায় প্রত্যেকটি ক্লেইমের পেছনে অসংখ্য রেফারেন্স হাজির করা এবং সহজ সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করার এ অসাধ্য কাজ সাধন করায় আসিফ ভাইকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- এমন একটি কাজের বড্ড প্রয়োজন ছিল।

    বইয়ের নামকরণ যথার্থ ছিল। এমন কিছু ব্যাপারে বইটি আপনার চিন্তার জগতে নাড়া দিয়ে যাবে যেসব বিষয়ে আজকের বিশ্বব্যবস্থায় চিন্তাকরাকেও অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। বইয়ের প্রচ্ছদও যথার্থ হয়েছে।

    আরেকটি ভালো লাগার বিষয়বস্তু হচ্ছে বইয়ের লেখার ধরন ও সাহিত্যগুণ। বইটি এত ডিপ বিষয়ভবস্তু নিয়ে লেখা হয়েছে যে, আশংকা ছিল সাহিত্যগুণ কতটুকু বজায় থাকবে। এমনিতেও আসিফ ভাইয়ের লেখা ফেসবুকে পড়তে মাঝে মাঝে কষ্ট হয়ে যায়, যেহেতু ভাই কঠিন সব টপিক নিয়ে লেখেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এ বইয়ের লেখা পড়ে মনেই হয়নি যে বই পড়া একটি কঠিন কাজ। মাঝে মাঝে তো মনে হচ্ছে থ্রিলার কোন গল্পের বই পড়ছি। বইয়ের সাহিত্যগুণ নিঃসন্দেহে অনেক উন্নতমানের ছিল। মুদ্রণপ্রমাদ খুব সামান্য চোখে পড়েছে।

    ঘ) বইয়ের একটি খারাপ দিকঃ
    যেহেতু পেপারব্যাক বই, তাই ফ্ল্যাপ কাভার ব্যবহার করলে কাভারটি শক্ত থাকত, কিন্তু বইয়ে ফ্ল্যাপ কভার দেয়া হয় নি। বইটির বাইন্ডিং আরো ভাল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে হয়েছে। কারণ, এ বই যেই হাতে নিবে সে তন্ময় হয়ে পড়তে থাকবে – শুয়ে পড়বে, বসে পড়বে। আমার মত পাঠক হলে এক পড়াতেই বইয়ের অর্ধেক জীবনী হ্রাস পেয়ে যেতে পারে। এটি ছাড়া এ বইয়ের সবকিছুই আমার অসম্ভব ভাল লেগেছে।

    ঙ) শেষ কথাঃ

    আমার পড়া এ বছরের সেরা দুই বইয়ের মধ্যে সম্ভবত এটি থাকবে। এধরনের বই আরো বেশি বেশি লেখা উচিত। এটি এমন এক বই যা অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করে মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। হয়ত কন্টেন্ট এর সংবেদনশীলতার জন্যে এ বই বেস্টসেলার বই হবেনা, হটকেকের মত সেল হবেনা; তবে অভিজ্ঞ পাঠকেরা ঠিকই বুঝে নিবে যে বছরের সেরা একটি বই এটিই ছিল।

    জয়তু চিন্তাপরাধ!

    রেটিংঃ ৫ এ ৫ দিবো।

    15 out of 15 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  9. 5 out of 5

    :

    রিভিউ লেখা হয় না, কিন্তু এক কথায় বলব অন্যরকম একটি বই।
    5 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  10. 5 out of 5

    :

    রিভিউ লেখা হয় না, কিন্তু এক কথায় বলব অন্যরকম একটি বই। আসিফ আদনান এর প্রতি শুভ কামনা রইলো।
    6 out of 8 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  11. 5 out of 5

    :

    রিভিও লেখার অভ্যাস নাই বললেই চলে, @sami.meadad ভাইয়ের রিভিওটাই যথেষ্ট এই বই সম্পর্কে বলতে গেলে ❤️❤️
    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  12. 5 out of 5

    :

    চিন্তাপরাধঃ Not Just an Ordinary Book. It’s an Intellectual Atom Bomb

    .
    বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম। দীর্ঘ এ পাঠ প্রতিক্রিয়া শুরু করছি ছোট্ট দুটি আলাপচারিতা দিয়ে।

    .
    আলাপচারিতা-১ঃ
    ঈদের পর সিলেটে এক প্রিয় ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা। কথায় কথায় সে জিজ্ঞাসা করলো ‘চিন্তাপরাধ’ পড়েছি কি না। আমি বললাম, “এখন পড়ছি”। সে তখন বইটির বেশ প্রশংসা করলো। বললো, “আমার পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির উপর কিছু বই পড়ার ইচ্ছে ছিলো। নোয়াম চমস্কি, হান্টিংটন সহ অন্য কিছু লেখকের বই লিস্ট আউট করে রেখেছিলাম। কিন্তু ‘চিন্তাপরাধ’ পড়ে মনে হচ্ছে সেগুলো পড়ার আর প্রয়োজন নেই। আমার যা জানার বা বোঝার ছিলো সে প্রয়োজন মিটে গিয়েছে।” আমি মনে মনে বললাম, “সুবহান’আল্লাহ!”

    .
    আলাপচারীতা-২ঃ
    অফিসে নিজের ডেস্কে বসেছিলাম। হঠাৎ প্রিয় এক জুনিয়র কলিগ এসে হাজির। আমার ডেস্কে প্রায় সময়ই কোন না কোন বই থাকে। তখন ছিলো ‘চিন্তাপরাধ’। বইটি নাড়া চাড়া করতে করতে সে বলে উঠলো, “ভাইয়া, আমরা তো বইটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলছি। কিন্তু এর একটি পাতা লিখতে গিয়ে লেখককে কতই না স্টাডি করতে হয়েছে। একটি পৃষ্টা লিখতে গিয়ে হয়তো তাকে পুরো ২/৩-টি বইই পড়ে ফেলতে হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা ডকুমেন্টারী দেখতে হয়েছে।” আমি এর কোন জবাব দিতে পারলাম না। শুধু বললাম, “আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতে লেখক ভাইয়ের শ্রমের উত্তম প্রতিদান দিন।”

    .
    ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি নিয়ে এ হলো আমার পরিচিত দুইজন পাঠকের লাইভ প্রতিক্রিয়া। তারা দু’জনেই বেশ সিরিয়াস ধারার পাঠক। আমার মতো হেজিপেজি কেউ না।

    .
    সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যখন প্রথম জানলাম যে, প্রিয় একজন মানুষ আসিফ আদনান ভাইয়ের প্রথম বই প্রকাশ হতে যাচ্ছে, তখন আমি অত্যন্ত ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম। আমার চিন্তা-চেতনার পরিবর্তনে ভাইয়ের গবেষনাধর্মী লেখার বিশাল এক ভূমিকা রয়েছে। তাই তার লেখার প্রতি আমি বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবেই এক প্রকার ঋণী। লেখকের লেখাগুলোকে এক মলাটে পাওয়া তাই আমার জন্য এক বাড়তি পাওনা।

    .
    বইয়ের কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনার আগে এর নামকরণ নিয়ে কিছু বলা যাক। ‘চিন্তাপরাধ’ নামটি বেশ ভাবনার খোরাক জোগায়।

    .
    বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে আমাদের মুসলিমদের চিন্তা-চেতনার অবস্হান আজ কোথায়? এক সময় অর্ধ জাহান শাসন করা মুসলিমদের চিন্তা-চেতনা আজ কোন সে কারাগারে বন্দী? ব্যক্তিগত, সমাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা রাজনৈতিক চর্চায় আমরা এখন কাদের মতবাদ বা চিন্তা-চেতনাকে অনুসরণ করছি?

    .
    ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিমদের যেখানে রয়েছে নিজস্ব ধ্যান-ধারণা, একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, সেখানে আজ আমরা সেগুলোকে ভুলে অনুসরণ করছি মানুষের তৈরী কিছু ভ্রান্ত জীবন ব্যবস্হার। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আউড়ে চলেছি অন্যের শেখানো বুলি, যেন আমরা সিনেমার কোন রোল প্লে করছি। স্ক্রিপ্টের বাইরে চিন্তা করার কোন স্বাধীনতা আমাদের নেই। আমরা মুসলিমরা যেন কোন পাপেট শো এর দড়ি বাঁধা পুতুল। পশ্চিমা মোড়লেরা আমাদের যেভাবে নিয়ন্ত্রন করবে আমরা সেভাবেই পরিচালিত হবো। আমরা যেন সেই রোবট যার রিমেট কন্ট্রোল রয়েছে অন্যের হাতে। রোবটের যেমন নিজস্ব কোন চিন্তাশক্তি নেই, আমাদের মুসলিমদেরও তেমনি নিজস্ব কোন চিন্তাধিকার নেই।

    .
    এখানে কেউ ভিন্ন চিন্তা করলেই সে অপরাধী। আমরা মুসলিমরা যেন বাস করছি জর্জ অরওয়েলের 1984 এর সেই ডিসটোপিয়ান বিশ্বে। যেখানে War is Peace, Freedom is Slavery, Ignorance is Strength। যেখানে যুদ্ধই শান্তি, মুক্তিই দাসত্ব এবং অজ্ঞতাই হচ্ছে শক্তির মূল। আমাদের মুসলিমদের আজ কোন চিন্তার স্বাধীনতা নেই। কোথাও চিন্তার স্বাধীনতা থাকলেও তা প্রকাশের অধিকার নেই। পশ্চিমা সভ্যতার আগ্রাসনে আজ আমরা নিজ মস্তিস্কের কোটরেই বন্দী জীবন যাপন করছি।

    .
    সংবিধানের একালে আজ শরিয়াহ আইনের কথা বলা দোষনীয় অপরাধ। নারী স্বাধীনতার এ সময়ে হিজাব-পর্দার থিওরী আজ হাস্যকর। বিজ্ঞানের এ যুগে কুরআন-সুন্নাহর চর্চা আজ বিলুপ্ত। ব্যাংক ও কালোটাকার এ ব্যবস্হায় ইসলামী বায়তুল মালের কথা বলা রীতিমতো আজ অপরাধ। ভ্যাট-ট্যাক্সের এ অন্ধকারে যাকাতের আলোর অন্বেষন আজ অবহেলিত। গণতন্ত্রের এ যুগে খিলাফতের তত্ত্ব আজ থার্ড ডিগ্রী মার্ডার কেইস। ধর্মীয় সম্প্রীতির এ ধূসর সময়ে জিহাদের ডাক দেয়া হচ্ছে সন্ত্রাস ও জন্গিবাদ।

    .
    কারণ, আমরা আজ আমাদের চিন্তা-চেতনাকে বন্দক দিয়ে রেখেছি আমাদের পশ্চিমা প্রভুদের কাছে। পশ্চিমা গুরুরা ইসলামের যে ভার্সন আমাদের চর্চা করতে বলে, তার বাইরে কোন কিছু চর্চা করা তাদের চোখে অপরাধ। তারা আমাদের যেভাবে চিন্তা করতে বলে, তার ব্যতিক্রম হলেই আমরা অপরাধী।

    .
    আর ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি আমাদের সেভাবেই চিন্তা করতে শেখায়, যা পশ্চিমাদের চোখে অপরাধ। এ বই আমাদের মননে এমন চিন্তার উদ্ভব ঘটায়, যা প্রশ্ন করে বসে পশ্চিমা সকল ধ্যান-ধারণার ভিত্তিকে। সেক্যুলারিজম থেকে শুরু করে বাক-স্বাধীনতা, নারী অধিকার থেকে শুরু করে সমকামি বা ট্রান্সজেন্ডার মুভমেন্ট- বইটি সব কিছুর বুদ্ধিবৃত্তিক ডাইসেক্টিং করে দেখিয়ে দেয় পশ্চিমা সমাজের ভন্ডামী ও অসারতা। মানসিক দাসত্বের যুগে এ বই তাই ‘চিন্তাপরাধ’।

    .
    বইয়ের কাভার উল্টোলেই উৎসর্গ পত্রে গিয়ে পাঠক কিছুটা ধাক্কা খাবেন নিশ্চিত। উৎসর্গঃ ৩৩:২৩। প্রথমে ধাঁধার মতোই মনে হয়। এমন সৃজনশীল ও অভাবনীয় উৎসর্গপত্র আমি আমার পাঠক জীবনে কখনও পাইনি। লেখক আল-কুরআনের ৩৩ নাম্বার সূরা সূরাতুল আহযাবের ২৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তা’আলা যাদের কথা বলেছেন তাঁদেরকেই তার বইটি উৎসর্গ করেছেন। একবার দেখে নিই তাঁরা কারা-
    “মু’মিনদের মধ্যে কতক লোক আল্লাহর সঙ্গে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কতক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে (শাহাদাত বরণ) করেছে আর তাদের কতক অপেক্ষায় আছে। তারা (তাদের সংকল্প) কখনো তিল পরিমাণ পরিবর্তন করেনি।”

    .
    সুবহান’আল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা লেখকের কাজকে কবুল করুন ও তাকেও এই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন।

    .
    বইটি সব মিলিয়ে ১৬ টি প্রবন্ধের সংকলন। প্রায় প্রতিটি প্রবন্ধেই লেখক কোন না কোন পশ্চিমা ধ্যান-ধারণার অসারতা প্রমান করতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিংবা এটাই প্রমান করতে চেয়েছেন যে, সৃষ্টির আদিকাল থেকেই একটা গোষ্ঠী ইসলামের বিরোধীতা করে আসছে, মুসলিমদের শত্রু মনে করে আসছে, তার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। ইহুদী, মুশরিক সহ পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মুখে যতোই সম্প্রীতির কথা বলুক না কেন, তলে তলে তারা ক্রুসেডের ধারাবাহিকতাই বহন করে চলেছে। একাদশ শতকে পোপ দ্বিতীয় আরবান ইসলামের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের সূচনা করেছিলো, পশ্চিমারা আজও সেই লিগ্যাসি বজায় রেখেছে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যড়যন্ত্র করে চলেছে। লেখক খুব সফল ভাবে, পশ্চিমা বিভিন্ন লেখকের রেফারেন্সের মাধ্যমে তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমান করেছেন।

    .
    যুদ্ধংদেহী অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ উন্মোচনকারী প্রথম প্রবন্ধ ‘সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল’ থেকে কিছু অংশ পড়ে নেয়া যাক-

    “অ্যামেরিকান ঐতিহাসিক জন লুই গ্যাডিস দেখিয়েছেন ২০০২ সালের বুশ ডকট্রিনের সাথে অ্যামেরিকার ষষ্ট প্রেসিডেন্ট জন কুইন্সি এ্যাডামসের ১৮১৮ সালের ‘সম্প্রসারণেই নিরাপত্তা’ (expansion is the path to security) তত্ত্বের মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। দুটোর মূল বক্তব্য একই। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের সম্ভাব্য কোন প্রতিদ্বন্ধী উদয় হবার আগেই তাকে আক্রমন করা। আগাম যুদ্ধের এ দর্শন অনুযায়ী দুই শতাব্দীর বেশী সময় ধরে ঘরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছে অ্যামেরিকা। আণবিক গণহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া ট্রুম্যান থেকে শুরু করে শুধু ২০১৬-তেই মুসলিম বিশ্বের উপর ২৬০০০ এর বেশী বোমা ফেলা আর ড্রোন হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রেসিডেনশিয়াল ‘ক্রসফায়ার’ চালানো শান্তিতে নোবেল বিজয়ী শান্তিকামী যুদ্ধাপরাধী বারাক ওবামা পর্যন্ত, মেরিলিন মনরোর প্রেমিক ও ভিয়েতনামের কসাই নিপাট ভদ্রলোক জন এফ. কেনেডি থেকে শুরু করে পর্ন অভিনেত্রী আর পতিতাপ্রেমিক গোঁয়ারগোবিন্দ ট্রাম্প পর্যন্ত- একই সাম্রাজ্যবাদী নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেক অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট। নাম বদলেছে, মুখ বদলেছে, বদলেছে শ্লোগান; কিন্তু বদলায়নি অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ঠান্ডা মাথায় ধ্বংসযজ্ঞের পলিসি।”

    .
    পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কালে কালে তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তারে যাকেই শত্রু গন্য করেছে তাকেই আক্রমন করে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। আর এভাবেই পশ্চিমারা সামরিক আগ্রাসনে মাধ্যমেই বিশ্ব কতৃত্ব দখল করে নিয়েছে। আর মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে দীর্ঘকালীন এক চিন্তার দাসত্ব।

    .
    তৃতীয় প্রবন্ধ ‘চিন্তার জট’-এ লেখক এদিকেই দৃষ্টিপাত করেছেন। সাধারণ দৃষ্টিতে পশ্চিমাদের দুনিয়াবী সাফল্যের পেছনে যে ফলাফল সেটাকেই আমরা দেখি কারন হিসেবে। যেমন, আমরা বলি পশ্চিমাদের উত্থানের পেছনে রয়েছে এ্যানলাইটেনমেন্ট, শিল্প বিপ্লব, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগতি, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন এগুলো। আদতে এসব কিছুই হলো ফলাফল। পশ্চিমাদের সাফল্যের পেছনর মূল কারন হচ্ছে ঔপনিবেশিক লুটপাট, সামরিক শক্তি ও কূটনীতি। একবার ভাবুন, আর আমরা মুসলিমরা মাথা খুড়ে মরে গিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করছি, ইসলাম শান্তির ধর্ম। পশ্চিমা বাপদের খুশী করার জন্য আমরা চিৎকার করে গেয়ে চলেছি, ‘গাহি সাম্যের গান’।

    .
    এভাবে সকল প্রবন্ধেই পশ্চিমা কোন না কোন মতবাদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর দেখিয়ে দেয়া হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে সেগুলো কত নিম্নস্তরের প্রডাক্ট।

    .
    ‘পূজারি ও পূজিত’, ‘গোঁড়ায় গলদ’ ও ‘ভুল মাপকাঠি’ -তে আলোচনা করা হয়েছে সেক্যুলারিজম নিয়ে। সেক্যুলারিজমের বক্তব্য যে কতটুকু অযৌক্তিক ও পরস্পরবিরোধী এবং কিভাবে মানুষের স্বাভাবিক ফিতরাত (স্বভাব) বিরোধী এবং কিভাবে তা মানুষ ও সমাজে জন্য ক্ষতিকর তা প্রমান করে দেয়া হয়েছে সুনিপুন যুক্তিতে ও উপযুক্ত রেফারেন্সের মাধ্যমে।

    .
    ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ -তে আলোচনা করা হয়েছে নারী শ্রম নিয়ে। নারী শ্রমের Opportunity Cost নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং দেখিয়ে দেয়া হয়েছে পরিবার ও সমাজের জন্য তা কতটা ক্ষতিকর। নারী শ্রমের পক্ষে পশ্চিমাদের দেয়া যুক্তিগুলোকে খন্ডানো হয়েছে অপূর্ব দক্ষতায়।

    .
    ‘সমকামী এজেন্ডাঃ ব্লু-প্রিন্ট’ ও ‘বালির বাঁধ’ প্রবন্ধদ্বয়ে আলেচনা করা হয়েছে সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে। পশ্চিমারা কিভাবে কওমে লুতের ঘৃণিত সেই পাপে লিপ্ত এবং কিভাবে তারা মানুষের সহজাত ফিতরাত বিরোধী অপকর্মকে সমাজে বৈধতা দিতে চাচ্ছে এবং মানুষের ভেতর স্বাভাবিক করে তুলতে চাচ্ছে তার পেছনের পুরো।পরিকল্পনাকে খুব বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এ প্রবন্ধ দুটিতে।

    .
    ‘মানসিক দাসত্ব’ ও ‘হাউস নিগার’ প্রবন্ধদ্বয়ে আলোচনা করা হয়েছে মুসলিমদের দাসত্ব নিয়ে। কিভাবে মানসিক পঙ্গুত্ববরন করে আমরা পশ্চিমাদের দাসে পরিণত হয়েছি এবং পরিণামে আমরা কি পেয়েছি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে লেখকের স্বভাবজাত লেখনীতে।

    .
    সবশেষে আলোচনা করা হয়েছে পশ্চিমা সভ্যতার বিদায় ডঙ্কার উপর। প্রতিটি সভ্যতারই উত্থান ও পতনের কিছু স্বাভাবিক সিম্পটম রয়েছে। ঐতিহাসিকরা এ ব্যাপারে বিস্তর গবেষনা করেছেন। সেসব রেফারেন্সের মাধ্যমে লেখক তার ‘সাম্রাজ্যের সমাপ্তি’ ও ‘অবক্ষয়কাল’ প্রবন্ধে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌছেছে।

    .
    আর এসব মিলিয়েই বইটি হয়ে উঠেছে ‘চিন্তাপরাধ’। হয়ে উঠেছে প্রথাবিরোধী এক আকর গ্রন্হ। পরিণত হয়েছে পশ্চিমা বিভিন্ন অসারতাকে আমূল প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার তাত্ত্বিক রিসোর্সে।

    .
    পরিচিত অনেকের কাছে বইটির প্রচ্ছদ তেমন ভালো না লাগলেও, আমার কাছে খারাপ লাগেনি। ছবিটি যেন আমাদের মন ও মগজের বন্দীত্বের রূপক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। চিন্তার দাসত্বের প্রতিরূপ হিসেবে অঙ্কিত হয়েছে।

    .
    বইটিতে বেশ কিছু মূদ্রন ত্রুটি লক্ষণীয়। যা আশা করি পরবর্তী সংস্করণে উত্তম এডিটিংয়ের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা যাবে ইনশা’আল্লাহ। তবে নেগেটিভ সবকিছুই কর্পূরের মতো বিলীন হয়ে গিয়েছে লেখকের চিন্তা ও লেখনীর বরাতে। লেখকের লেখনী যে কত শক্তিশালী তা তিনি অনলাইনেই প্রমান করেছেন। বই প্রকাশের মাধ্যমে এবার তিনি তা নেট জগতের বাইরেও তা প্রমান করলেন।

    .
    আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে বোঝার তাওফিক দিন। ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি থেকে আমাদের সকলকে উপকৃত হবার তাওফিক দান করুন। বইটির নেপথ্যের সকলকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।

    .
    দীর্ঘ এ লেখা শেষ করছি নিজের কিছু কথা দিয়ে। পশ্চিমা চিন্তার শেকলে আবদ্ধ অবস্হায় মুক্তির স্বপ্ন দেখা বিশ্ব মুসলিমদের জন্য অনেকটা উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর মতোই। বৃথা চেষ্টা। আপনি যার খাবেন তার বিরুদ্ধে তো নেমকহারামী করতে পারবেন না। তাই মুক্তির প্রথম পর্যায়েই আমাদের এই চিন্তার শেকলকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে হবে। পশ্চিমে চর্চিত এসব চিন্তা ও মতবাদ যে মানুষ ও সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর সেটা নিয়ে আমাদের গবেষনা করতে হবে। মানুষের মাঝে এ সকল মতবাদের অসারত্বকে প্রকাশ করতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা ত্যাগ করে ইসলামী আইন-কানুনের চর্চা শুরু করতে হবে। চোখ থেকে পশ্চিমা চশমাটি খুলে আমাদের সমাজ ও দুনিয়াকে দেখতে হবে ইসলামী চিন্তা-চেতনার ভিত্তিতে। এছাড়া পশ্চিমা কু-আগ্রাসন থেকে বাঁচার দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই।

    .
    আমাদের মুসলিমদের চিন্তাপরাধী হিসেবেই গড়ে উঠতে হবে। আমাদের শিশুদের মগজে পুঁতে দিতে হবে চিন্তাপরাধের বীজ। আমাদের মা-বোনদের অন্তরে রোপন করতে হবে চিন্তাপরাধের চারা। পশ্চিমা সমাজের ভিত্তিমূলকে কাঁপিয়ে দিতে হবে সুনিপুন যুক্তির মাধ্যমে। ফাঁটিয়ে দিতে হবে একের পর এক চিন্তাপরাধের এটম বোমা। কারণ, আদতেই ‘চিন্তাপরাধ’ সাধারণ কোন বই নয়। এটা রীতিমতো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক এটম বোমা।

    8 out of 8 people found this helpful. Was this review helpful to you?