মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

চিন্তাপরাধ

প্রকাশনী : Ilmhouse Publication
Quick Overview

পৃষ্ঠা – ১৯২

'যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন করা যাবে না কাঠামো নিয়ে, বিশ্বব্যবস্থা আর সাম্রাজ্য নিয়ে। প্রশ্ন করা যাবে না হুবালের কর্তৃত্ব নিয়ে। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের যুগে এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। অপরাধী বলে বিবেচিত হবার জন্য কিছু করার, এমনকি বলারও প্রয়োজন নেই, সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোনো চিন্তা থাকাই যথেষ্ট। এসব চিন্তা অবৈধ, এসব চিন্তা অপরাধ। যে শরীয়াহর অনুসরণ কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ মানবজাতির ওপর ফরয করেছেন, যুগের হুবালের বিরুদ্ধে গিয়ে অ্যামেরিকান বিশ্বব্যবস্থার মোকাবেলায় সেই শরীয়াহ বাস্তবায়ন হোক এটা চাওয়া–কিছু করাও না, কিছু বলাও না–শুধু এটা চাওয়া অপরাধ। কিছু করার দরকার নেই, বলার দরকার নেই, চিন্তাটাই অপরাধ। থটক্রাইম। চিন্তাপরাধ।

Out of stock

2 reviews for চিন্তাপরাধ

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    চিন্তাপরাধঃ Not Just an Ordinary Book. It’s an Intellectual Atom Bomb

    .
    বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম। দীর্ঘ এ পাঠ প্রতিক্রিয়া শুরু করছি ছোট্ট দুটি আলাপচারিতা দিয়ে।

    .
    আলাপচারিতা-১ঃ
    ঈদের পর সিলেটে এক প্রিয় ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা। কথায় কথায় সে জিজ্ঞাসা করলো ‘চিন্তাপরাধ’ পড়েছি কি না। আমি বললাম, “এখন পড়ছি”। সে তখন বইটির বেশ প্রশংসা করলো। বললো, “আমার পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির উপর কিছু বই পড়ার ইচ্ছে ছিলো। নোয়াম চমস্কি, হান্টিংটন সহ অন্য কিছু লেখকের বই লিস্ট আউট করে রেখেছিলাম। কিন্তু ‘চিন্তাপরাধ’ পড়ে মনে হচ্ছে সেগুলো পড়ার আর প্রয়োজন নেই। আমার যা জানার বা বোঝার ছিলো সে প্রয়োজন মিটে গিয়েছে।” আমি মনে মনে বললাম, “সুবহান’আল্লাহ!”

    .
    আলাপচারীতা-২ঃ
    অফিসে নিজের ডেস্কে বসেছিলাম। হঠাৎ প্রিয় এক জুনিয়র কলিগ এসে হাজির। আমার ডেস্কে প্রায় সময়ই কোন না কোন বই থাকে। তখন ছিলো ‘চিন্তাপরাধ’। বইটি নাড়া চাড়া করতে করতে সে বলে উঠলো, “ভাইয়া, আমরা তো বইটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলছি। কিন্তু এর একটি পাতা লিখতে গিয়ে লেখককে কতই না স্টাডি করতে হয়েছে। একটি পৃষ্টা লিখতে গিয়ে হয়তো তাকে পুরো ২/৩-টি বইই পড়ে ফেলতে হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা ডকুমেন্টারী দেখতে হয়েছে।” আমি এর কোন জবাব দিতে পারলাম না। শুধু বললাম, “আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতে লেখক ভাইয়ের শ্রমের উত্তম প্রতিদান দিন।”

    .
    ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি নিয়ে এ হলো আমার পরিচিত দুইজন পাঠকের লাইভ প্রতিক্রিয়া। তারা দু’জনেই বেশ সিরিয়াস ধারার পাঠক। আমার মতো হেজিপেজি কেউ না।

    .
    সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যখন প্রথম জানলাম যে, প্রিয় একজন মানুষ আসিফ আদনান ভাইয়ের প্রথম বই প্রকাশ হতে যাচ্ছে, তখন আমি অত্যন্ত ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম। আমার চিন্তা-চেতনার পরিবর্তনে ভাইয়ের গবেষনাধর্মী লেখার বিশাল এক ভূমিকা রয়েছে। তাই তার লেখার প্রতি আমি বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবেই এক প্রকার ঋণী। লেখকের লেখাগুলোকে এক মলাটে পাওয়া তাই আমার জন্য এক বাড়তি পাওনা।

    .
    বইয়ের কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনার আগে এর নামকরণ নিয়ে কিছু বলা যাক। ‘চিন্তাপরাধ’ নামটি বেশ ভাবনার খোরাক জোগায়।

    .
    বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে আমাদের মুসলিমদের চিন্তা-চেতনার অবস্হান আজ কোথায়? এক সময় অর্ধ জাহান শাসন করা মুসলিমদের চিন্তা-চেতনা আজ কোন সে কারাগারে বন্দী? ব্যক্তিগত, সমাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা রাজনৈতিক চর্চায় আমরা এখন কাদের মতবাদ বা চিন্তা-চেতনাকে অনুসরণ করছি?

    .
    ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিমদের যেখানে রয়েছে নিজস্ব ধ্যান-ধারণা, একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, সেখানে আজ আমরা সেগুলোকে ভুলে অনুসরণ করছি মানুষের তৈরী কিছু ভ্রান্ত জীবন ব্যবস্হার। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আউড়ে চলেছি অন্যের শেখানো বুলি, যেন আমরা সিনেমার কোন রোল প্লে করছি। স্ক্রিপ্টের বাইরে চিন্তা করার কোন স্বাধীনতা আমাদের নেই। আমরা মুসলিমরা যেন কোন পাপেট শো এর দড়ি বাঁধা পুতুল। পশ্চিমা মোড়লেরা আমাদের যেভাবে নিয়ন্ত্রন করবে আমরা সেভাবেই পরিচালিত হবো। আমরা যেন সেই রোবট যার রিমেট কন্ট্রোল রয়েছে অন্যের হাতে। রোবটের যেমন নিজস্ব কোন চিন্তাশক্তি নেই, আমাদের মুসলিমদেরও তেমনি নিজস্ব কোন চিন্তাধিকার নেই।

    .
    এখানে কেউ ভিন্ন চিন্তা করলেই সে অপরাধী। আমরা মুসলিমরা যেন বাস করছি জর্জ অরওয়েলের 1984 এর সেই ডিসটোপিয়ান বিশ্বে। যেখানে War is Peace, Freedom is Slavery, Ignorance is Strength। যেখানে যুদ্ধই শান্তি, মুক্তিই দাসত্ব এবং অজ্ঞতাই হচ্ছে শক্তির মূল। আমাদের মুসলিমদের আজ কোন চিন্তার স্বাধীনতা নেই। কোথাও চিন্তার স্বাধীনতা থাকলেও তা প্রকাশের অধিকার নেই। পশ্চিমা সভ্যতার আগ্রাসনে আজ আমরা নিজ মস্তিস্কের কোটরেই বন্দী জীবন যাপন করছি।

    .
    সংবিধানের একালে আজ শরিয়াহ আইনের কথা বলা দোষনীয় অপরাধ। নারী স্বাধীনতার এ সময়ে হিজাব-পর্দার থিওরী আজ হাস্যকর। বিজ্ঞানের এ যুগে কুরআন-সুন্নাহর চর্চা আজ বিলুপ্ত। ব্যাংক ও কালোটাকার এ ব্যবস্হায় ইসলামী বায়তুল মালের কথা বলা রীতিমতো আজ অপরাধ। ভ্যাট-ট্যাক্সের এ অন্ধকারে যাকাতের আলোর অন্বেষন আজ অবহেলিত। গণতন্ত্রের এ যুগে খিলাফতের তত্ত্ব আজ থার্ড ডিগ্রী মার্ডার কেইস। ধর্মীয় সম্প্রীতির এ ধূসর সময়ে জিহাদের ডাক দেয়া হচ্ছে সন্ত্রাস ও জন্গিবাদ।

    .
    কারণ, আমরা আজ আমাদের চিন্তা-চেতনাকে বন্দক দিয়ে রেখেছি আমাদের পশ্চিমা প্রভুদের কাছে। পশ্চিমা গুরুরা ইসলামের যে ভার্সন আমাদের চর্চা করতে বলে, তার বাইরে কোন কিছু চর্চা করা তাদের চোখে অপরাধ। তারা আমাদের যেভাবে চিন্তা করতে বলে, তার ব্যতিক্রম হলেই আমরা অপরাধী।

    .
    আর ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি আমাদের সেভাবেই চিন্তা করতে শেখায়, যা পশ্চিমাদের চোখে অপরাধ। এ বই আমাদের মননে এমন চিন্তার উদ্ভব ঘটায়, যা প্রশ্ন করে বসে পশ্চিমা সকল ধ্যান-ধারণার ভিত্তিকে। সেক্যুলারিজম থেকে শুরু করে বাক-স্বাধীনতা, নারী অধিকার থেকে শুরু করে সমকামি বা ট্রান্সজেন্ডার মুভমেন্ট- বইটি সব কিছুর বুদ্ধিবৃত্তিক ডাইসেক্টিং করে দেখিয়ে দেয় পশ্চিমা সমাজের ভন্ডামী ও অসারতা। মানসিক দাসত্বের যুগে এ বই তাই ‘চিন্তাপরাধ’।

    .
    বইয়ের কাভার উল্টোলেই উৎসর্গ পত্রে গিয়ে পাঠক কিছুটা ধাক্কা খাবেন নিশ্চিত। উৎসর্গঃ ৩৩:২৩। প্রথমে ধাঁধার মতোই মনে হয়। এমন সৃজনশীল ও অভাবনীয় উৎসর্গপত্র আমি আমার পাঠক জীবনে কখনও পাইনি। লেখক আল-কুরআনের ৩৩ নাম্বার সূরা সূরাতুল আহযাবের ২৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তা’আলা যাদের কথা বলেছেন তাঁদেরকেই তার বইটি উৎসর্গ করেছেন। একবার দেখে নিই তাঁরা কারা-
    “মু’মিনদের মধ্যে কতক লোক আল্লাহর সঙ্গে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কতক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে (শাহাদাত বরণ) করেছে আর তাদের কতক অপেক্ষায় আছে। তারা (তাদের সংকল্প) কখনো তিল পরিমাণ পরিবর্তন করেনি।”

    .
    সুবহান’আল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা লেখকের কাজকে কবুল করুন ও তাকেও এই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন।

    .
    বইটি সব মিলিয়ে ১৬ টি প্রবন্ধের সংকলন। প্রায় প্রতিটি প্রবন্ধেই লেখক কোন না কোন পশ্চিমা ধ্যান-ধারণার অসারতা প্রমান করতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিংবা এটাই প্রমান করতে চেয়েছেন যে, সৃষ্টির আদিকাল থেকেই একটা গোষ্ঠী ইসলামের বিরোধীতা করে আসছে, মুসলিমদের শত্রু মনে করে আসছে, তার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। ইহুদী, মুশরিক সহ পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মুখে যতোই সম্প্রীতির কথা বলুক না কেন, তলে তলে তারা ক্রুসেডের ধারাবাহিকতাই বহন করে চলেছে। একাদশ শতকে পোপ দ্বিতীয় আরবান ইসলামের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের সূচনা করেছিলো, পশ্চিমারা আজও সেই লিগ্যাসি বজায় রেখেছে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যড়যন্ত্র করে চলেছে। লেখক খুব সফল ভাবে, পশ্চিমা বিভিন্ন লেখকের রেফারেন্সের মাধ্যমে তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমান করেছেন।

    .
    যুদ্ধংদেহী অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ উন্মোচনকারী প্রথম প্রবন্ধ ‘সহস্র সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল’ থেকে কিছু অংশ পড়ে নেয়া যাক-

    “অ্যামেরিকান ঐতিহাসিক জন লুই গ্যাডিস দেখিয়েছেন ২০০২ সালের বুশ ডকট্রিনের সাথে অ্যামেরিকার ষষ্ট প্রেসিডেন্ট জন কুইন্সি এ্যাডামসের ১৮১৮ সালের ‘সম্প্রসারণেই নিরাপত্তা’ (expansion is the path to security) তত্ত্বের মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। দুটোর মূল বক্তব্য একই। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের সম্ভাব্য কোন প্রতিদ্বন্ধী উদয় হবার আগেই তাকে আক্রমন করা। আগাম যুদ্ধের এ দর্শন অনুযায়ী দুই শতাব্দীর বেশী সময় ধরে ঘরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছে অ্যামেরিকা। আণবিক গণহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া ট্রুম্যান থেকে শুরু করে শুধু ২০১৬-তেই মুসলিম বিশ্বের উপর ২৬০০০ এর বেশী বোমা ফেলা আর ড্রোন হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রেসিডেনশিয়াল ‘ক্রসফায়ার’ চালানো শান্তিতে নোবেল বিজয়ী শান্তিকামী যুদ্ধাপরাধী বারাক ওবামা পর্যন্ত, মেরিলিন মনরোর প্রেমিক ও ভিয়েতনামের কসাই নিপাট ভদ্রলোক জন এফ. কেনেডি থেকে শুরু করে পর্ন অভিনেত্রী আর পতিতাপ্রেমিক গোঁয়ারগোবিন্দ ট্রাম্প পর্যন্ত- একই সাম্রাজ্যবাদী নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেক অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট। নাম বদলেছে, মুখ বদলেছে, বদলেছে শ্লোগান; কিন্তু বদলায়নি অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ঠান্ডা মাথায় ধ্বংসযজ্ঞের পলিসি।”

    .
    পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কালে কালে তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তারে যাকেই শত্রু গন্য করেছে তাকেই আক্রমন করে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। আর এভাবেই পশ্চিমারা সামরিক আগ্রাসনে মাধ্যমেই বিশ্ব কতৃত্ব দখল করে নিয়েছে। আর মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে দীর্ঘকালীন এক চিন্তার দাসত্ব।

    .
    তৃতীয় প্রবন্ধ ‘চিন্তার জট’-এ লেখক এদিকেই দৃষ্টিপাত করেছেন। সাধারণ দৃষ্টিতে পশ্চিমাদের দুনিয়াবী সাফল্যের পেছনে যে ফলাফল সেটাকেই আমরা দেখি কারন হিসেবে। যেমন, আমরা বলি পশ্চিমাদের উত্থানের পেছনে রয়েছে এ্যানলাইটেনমেন্ট, শিল্প বিপ্লব, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগতি, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন এগুলো। আদতে এসব কিছুই হলো ফলাফল। পশ্চিমাদের সাফল্যের পেছনর মূল কারন হচ্ছে ঔপনিবেশিক লুটপাট, সামরিক শক্তি ও কূটনীতি। একবার ভাবুন, আর আমরা মুসলিমরা মাথা খুড়ে মরে গিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করছি, ইসলাম শান্তির ধর্ম। পশ্চিমা বাপদের খুশী করার জন্য আমরা চিৎকার করে গেয়ে চলেছি, ‘গাহি সাম্যের গান’।

    .
    এভাবে সকল প্রবন্ধেই পশ্চিমা কোন না কোন মতবাদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর দেখিয়ে দেয়া হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে সেগুলো কত নিম্নস্তরের প্রডাক্ট।

    .
    ‘পূজারি ও পূজিত’, ‘গোঁড়ায় গলদ’ ও ‘ভুল মাপকাঠি’ -তে আলোচনা করা হয়েছে সেক্যুলারিজম নিয়ে। সেক্যুলারিজমের বক্তব্য যে কতটুকু অযৌক্তিক ও পরস্পরবিরোধী এবং কিভাবে মানুষের স্বাভাবিক ফিতরাত (স্বভাব) বিরোধী এবং কিভাবে তা মানুষ ও সমাজে জন্য ক্ষতিকর তা প্রমান করে দেয়া হয়েছে সুনিপুন যুক্তিতে ও উপযুক্ত রেফারেন্সের মাধ্যমে।

    .
    ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ -তে আলোচনা করা হয়েছে নারী শ্রম নিয়ে। নারী শ্রমের Opportunity Cost নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং দেখিয়ে দেয়া হয়েছে পরিবার ও সমাজের জন্য তা কতটা ক্ষতিকর। নারী শ্রমের পক্ষে পশ্চিমাদের দেয়া যুক্তিগুলোকে খন্ডানো হয়েছে অপূর্ব দক্ষতায়।

    .
    ‘সমকামী এজেন্ডাঃ ব্লু-প্রিন্ট’ ও ‘বালির বাঁধ’ প্রবন্ধদ্বয়ে আলেচনা করা হয়েছে সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে। পশ্চিমারা কিভাবে কওমে লুতের ঘৃণিত সেই পাপে লিপ্ত এবং কিভাবে তারা মানুষের সহজাত ফিতরাত বিরোধী অপকর্মকে সমাজে বৈধতা দিতে চাচ্ছে এবং মানুষের ভেতর স্বাভাবিক করে তুলতে চাচ্ছে তার পেছনের পুরো।পরিকল্পনাকে খুব বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এ প্রবন্ধ দুটিতে।

    .
    ‘মানসিক দাসত্ব’ ও ‘হাউস নিগার’ প্রবন্ধদ্বয়ে আলোচনা করা হয়েছে মুসলিমদের দাসত্ব নিয়ে। কিভাবে মানসিক পঙ্গুত্ববরন করে আমরা পশ্চিমাদের দাসে পরিণত হয়েছি এবং পরিণামে আমরা কি পেয়েছি তার প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে লেখকের স্বভাবজাত লেখনীতে।

    .
    সবশেষে আলোচনা করা হয়েছে পশ্চিমা সভ্যতার বিদায় ডঙ্কার উপর। প্রতিটি সভ্যতারই উত্থান ও পতনের কিছু স্বাভাবিক সিম্পটম রয়েছে। ঐতিহাসিকরা এ ব্যাপারে বিস্তর গবেষনা করেছেন। সেসব রেফারেন্সের মাধ্যমে লেখক তার ‘সাম্রাজ্যের সমাপ্তি’ ও ‘অবক্ষয়কাল’ প্রবন্ধে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌছেছে।

    .
    আর এসব মিলিয়েই বইটি হয়ে উঠেছে ‘চিন্তাপরাধ’। হয়ে উঠেছে প্রথাবিরোধী এক আকর গ্রন্হ। পরিণত হয়েছে পশ্চিমা বিভিন্ন অসারতাকে আমূল প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার তাত্ত্বিক রিসোর্সে।

    .
    পরিচিত অনেকের কাছে বইটির প্রচ্ছদ তেমন ভালো না লাগলেও, আমার কাছে খারাপ লাগেনি। ছবিটি যেন আমাদের মন ও মগজের বন্দীত্বের রূপক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। চিন্তার দাসত্বের প্রতিরূপ হিসেবে অঙ্কিত হয়েছে।

    .
    বইটিতে বেশ কিছু মূদ্রন ত্রুটি লক্ষণীয়। যা আশা করি পরবর্তী সংস্করণে উত্তম এডিটিংয়ের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা যাবে ইনশা’আল্লাহ। তবে নেগেটিভ সবকিছুই কর্পূরের মতো বিলীন হয়ে গিয়েছে লেখকের চিন্তা ও লেখনীর বরাতে। লেখকের লেখনী যে কত শক্তিশালী তা তিনি অনলাইনেই প্রমান করেছেন। বই প্রকাশের মাধ্যমে এবার তিনি তা নেট জগতের বাইরেও তা প্রমান করলেন।

    .
    আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে বোঝার তাওফিক দিন। ‘চিন্তাপরাধ’ বইটি থেকে আমাদের সকলকে উপকৃত হবার তাওফিক দান করুন। বইটির নেপথ্যের সকলকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।

    .
    দীর্ঘ এ লেখা শেষ করছি নিজের কিছু কথা দিয়ে। পশ্চিমা চিন্তার শেকলে আবদ্ধ অবস্হায় মুক্তির স্বপ্ন দেখা বিশ্ব মুসলিমদের জন্য অনেকটা উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর মতোই। বৃথা চেষ্টা। আপনি যার খাবেন তার বিরুদ্ধে তো নেমকহারামী করতে পারবেন না। তাই মুক্তির প্রথম পর্যায়েই আমাদের এই চিন্তার শেকলকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে হবে। পশ্চিমে চর্চিত এসব চিন্তা ও মতবাদ যে মানুষ ও সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর সেটা নিয়ে আমাদের গবেষনা করতে হবে। মানুষের মাঝে এ সকল মতবাদের অসারত্বকে প্রকাশ করতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা ত্যাগ করে ইসলামী আইন-কানুনের চর্চা শুরু করতে হবে। চোখ থেকে পশ্চিমা চশমাটি খুলে আমাদের সমাজ ও দুনিয়াকে দেখতে হবে ইসলামী চিন্তা-চেতনার ভিত্তিতে। এছাড়া পশ্চিমা কু-আগ্রাসন থেকে বাঁচার দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই।

    .
    আমাদের মুসলিমদের চিন্তাপরাধী হিসেবেই গড়ে উঠতে হবে। আমাদের শিশুদের মগজে পুঁতে দিতে হবে চিন্তাপরাধের বীজ। আমাদের মা-বোনদের অন্তরে রোপন করতে হবে চিন্তাপরাধের চারা। পশ্চিমা সমাজের ভিত্তিমূলকে কাঁপিয়ে দিতে হবে সুনিপুন যুক্তির মাধ্যমে। ফাঁটিয়ে দিতে হবে একের পর এক চিন্তাপরাধের এটম বোমা। কারণ, আদতেই ‘চিন্তাপরাধ’ সাধারণ কোন বই নয়। এটা রীতিমতো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক এটম বোমা।

  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    রিভিও লেখার অভ্যাস নাই বললেই চলে, @sami.meadad ভাইয়ের রিভিওটাই যথেষ্ট এই বই সম্পর্কে বলতে গেলে ❤️❤️

আপনার মন্তব্য লিখুন