মেন্যু
bishgolaper bon dhormo o kormo bishoyok darshonik onuvabona

বিষগোলাপের বন: ধর্ম ও কর্ম বিষয়ক দার্শনিক অনুভাবনা

বিষয় : বিবিধ বই
পৃষ্ঠা: ৮৮ ধরণ: হার্ড কভার বিষগোলাপের বন পথ দেখানোর দায়িত্ব নেয় না; কেবল চোখ খুলে দেওয়ার কাজটি করে। যেন আপনি নিজেই দেখে নিতে পারেন আপন পথ। বইটি কোনো চিন্তাপুঞ্জের বয়ান নয়; বরং এর... আরো পড়ুন

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - বিষগোলাপের বন: ধর্ম ও কর্ম বিষয়ক দার্শনিক অনুভাবনা

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    আবদুস সবুর রাকিব:

    ‘ বিষগোলাপের বন ‘ মুসা আল হাফিজের দার্শনিক চিন্তা ভাবনার এক অনবদ্য উপস্থাপনা।অল্প কথায় অনেক অর্থ প্রকাশ করার ক্ষমতা লেখকের এক বিশেষ গুণ।তারই প্রকাশ ঘটেছে এই বইয়ের প্রতিটি পাতায়। লেখকের সাথে বিষগোলাপের বনে বিচরণের প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে আপনাকে ভাবতে হবে।জ্ঞান, সংবেদন ও দর্শনের নিবিড় সংযোগে জীবন ও জগতের বিচিত্র অনুভবের রহস্য উন্মোচন করতে করতে আপনি খুঁজে পাবেন জীবনের আসল রূপ।লেখকের এই বইটি ঘুমন্ত চেতনাকে জাগ্রত করতে পাঠককে ঘুরিয়ে আনে ভাবনার রাজ্য থেকে।লেখক বইতে লিখেছেন,”আমার কাছে কিছু স্বপ্ন আছে,তোমরা ঘুমাচ্ছো বলে দেখাতে পারছি না,ঘুম থেকে জাগো, স্বপ্ন দেখাবো।”

    ছোট্ট এই বইটিতে লেখক ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন বিভিন্ন ভঙ্গিতে;উপমা,কবিতা,দার্শনিক প্রবাদ,নীতিকথা কিংবা বিদ্রুপাত্মক আলোচনায়।

    লেখক বইটিকে পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন।প্রতিটি অধ্যায়ে বিচিত্র বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    তিরন্দাজ সংলাপের শুরুতেই বস্তুবাদী ও অবিশ্বাসীদের উপযুক্ত জবাব দেন চমৎকারভাবে।
    যেমন: প্রশ্ন: চারপাশে যা দেখিন,তা আসলে কী?
    উত্তর : যা কিছু দেখি,তা আসলে দলিল এমন কিছুর -যাকে আমরা দেখিনা।

    জীবনবোধ ও সংগ্রামের বর্ণনা করেন নানা ভাবে।
    যেমন:
    *তুমি যে বেঁচে নেই,এর প্রমাণ গতিহীন বেঁচে থাকা।
    *জলাশয়টি যখন তোমার কাছে পৃথিবী,তখন বোঝা উচিত, তুমি জীবন যাপন করছো ঢ়োডা সাপের জীবন।
    *সংগ্রাম জীবনের এক বেলা ভূমি, শান্তি আরেক বেলাভূমি।লোকেরা চায় শান্তির বেলাভূমি থাকুক,সংগ্রামের বেলা ভূমি না থাকুক।কিন্তু ইতিহাস বলে,সংগ্রামের বেলাভূমি না থাকলে শান্তির বেলাভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
    *সুবাতাসকে বললাম, তুমি কোথায় থাকো? সে বললো -তুফানের পরিশেষে।

    লেখক ধর্মান্ধতা ও প্রকৃত ইসলামের স্বরূপ নিয়েও বলেন-
    যেমন:
    *চিকিৎসাশাস্ত্রে যুগান্তকারী অবদানগুলোর সূচনা করেছিল মুসলিমরাই কিন্তু আমরা এখন আমাদের জ্ঞানকে সংকুচিত করেছি।ভাবনার বোধগুলোকে করেছি বিকল।
    *ইসলামকে যারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত সম্পত্তি বানায়, তারা পকেটে স্বর্গ ও নরক নিয়ে হাঁটে!যাকে ইচ্ছা স্বর্গে পাঠায়, যাকে ইচ্ছা নরকে ফেলে দেয়।তাদের স্বর্গ-নরক ইসলামের জান্নাত-জাহান্নাম নয়!
    *প্রকৃত ইসলাম হৃদয়ে শেকড় গাড়ে,কর্মে ফসল ফলায়,উচ্চারণ ও কথামালায় ছড়িয়ে দেয় পরিপক্ব সুঘ্রাণ!

    বিখ্যাত দার্শনিকের সাথে কথোপকথনের অনুগল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন রহস্যময় আলোচনা করেছেন ।পাঠককে ভয় থেকে মুক্ত করাতে লেখক সচেষ্ট ছিলেন।মানুষের ভয়ের মূল কারণ যে মনের ভয় তা বোঝাতে তিনি The Cape Of Strom এর নাম কেন The Cape Of Good Hope হয় তা উল্লেখ করেন।

    ভিনদেশীয় আগ্রাসন ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের বোধকে জাগ্রত করেছেন বিদ্রুপাত্মক লিখনীর মাধ্যমে । লেখক বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের গল্পের নাম দিয়েছেন ‘সুখী সংসার’।

    বিষগোলাপের বনে লেখক দার্শনিক আলোচনায় জীবনের সবদিক তুলে ধরেছেন । লেখক বলেছেন-দার্শনিকের কথা লোকেরা বুঝলে বলে -ওটাতো আমারই মনের কথা।আর না বুঝলে বলে -ওটাতো পাগলের কথা। বইটি দেখার পর সাধারণ পাঠকের নিকট অতি সাধারণই মনে হবে আর চিন্তাশীলরা পাবেন জ্ঞানের সমুদ্র থেকে কুড়িয়ে আনা অনেকগুলো মুক্তো।
    বইটি নিয়ে আমার আলোচনা অতি কিঞ্চিৎ।লেখকের সাথে তাল মিলিয়ে ইতি টানছি- আসুন,সংক্ষিপ্ত হই!বিস্তারিত হওয়ার প্রয়োজনে!

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top