মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ব্যস্ততার এ যুগে ইলম অন্বেষণ

অনুবাদ : আব্দুল্লাহ ইউসুফ
সম্পাদনা : মুফতি তারেকুজ্জামান
বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১০৪

যারা নিজেদের ব্যস্ততার অনুযোগ করে থাকেন, তাদের জন্য এ বইটি হবে অতি উত্তম পাথেয়। কেননা, এ বইতে থাকছে ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব বয়ান থেকে শুরু করে সালাফের ইলমের প্রতি আগ্রহের কথা, নিজের পার্থিব ব্যস্ততার ওপর ইলম অর্জনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। আছে সময়ের সঠিক ব্যবহার করে ইলম অর্জনের উপায় বিশ্লেষণ। আছে ইলম অর্জনে সহায়ক পথ-পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইলম অর্জনের সহজ পন্থার বর্ণনা।

পরিমাণ

67.00  96.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - ব্যস্ততার এ যুগে ইলম অন্বেষণ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    সংক্ষিপ্ত কিন্তু উপকারী একটি বই নিঃসন্দেহে। প্রকাশনীকে ধন্যবাদ এমন বই অনুবাদ করায়।

    ব্যস্ততায় কে নেই? সবারই নিজস্ব ব্যস্ততা আছে। তবে কারো ব্যস্ততা যৌক্তিক, কারো বা অযৌক্তিক। কেউ বাধ্য হয়ে ব্যস্ত থাকে, কেউবা জোর করে নিজেকে ব্যস্ততার চাদরে মুড়িয়ে রাখে।

    আজ অনেককেই দেখা যায়, ইলম অর্জনের কথা বললে ব্যস্ততার অনুযোগ করে। অথচ, ইলম অর্জনের কত মর্যাদা। দ্বীনের ইলমই তো মানুষকে সকল প্রানীর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে।ইলম ব্যতিত ইমান আমলের কথা চিন্তা করা যায়না, দ্বীনের প্রসারের জন্যও ইলম আবশ্যক।

    ইমাম নববি (রহ) বলেন, “সালাফগণ একমত হয়েছেন যে, নফল নামাজ, নফল রোজা, তাসবিহ ইত্যাদি নফল আমলে ব্যস্ত না হয়ে ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত হওয়া অধিক উত্তম।” [আল মাজমু, ১/২০]

    রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “দ্বীনি ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।” [ইবনু মাজাহঃ২২৪]
    ব্যস্ততা তো সাহাবীদেরও ছিলো। তাদের ব্যস্ততা তাদের ইলম অর্জনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তারা শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তীতার দ্বারা ইলম অর্জন করেছেন, জীবিকা নির্বাহ করেছেন, সাদাকাও করেছেন।
    বইয়ে সাহাবী ও সালাফগণ কীভাবে ব্যস্ততা সত্ত্বেও সুচারুররুপে ইলম অর্জন করেছেন সেসবের কিছু কাহিনী বর্ণিত আছে। তাঁরা প্রায়োরিটি দিতেন ইলমকেই, দুনিয়াতে অল্প সন্তুষ্ট থাকতেন, ব্যস্ততার মাঝেও তাও সময় বের করে নিতেন সুচারুরূপে।

    অথচ বর্তমানে আমাদের অবস্থা হয়ে গেছে উল্টো। আমাদের অনেক বেশি দুনিয়া লাগবে। দুনিয়ার প্রতি আসক্তি আর ইলম অর্জনে নিরাসক্তির কারণে আমরাই নিজেদের ক্ষতি করছি।

    আমরা কি খুব বেশি ব্যস্ত? কাজের চাপে কি আমরা আড্ডা দেয়া বন্ধ করে দিই? অনেকে তো স্মার্টফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেন, কেউ মোবাইলে গেম খেলেন, কেউ ভিডিও দেখেন, মুভি দেখেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন অনেকেই কাজে লাগান না। যারা চাকরি করেন তারাও বিভিন্ন দিবসে ছুটি পান। কিন্তু প্রথম যে জিনিস আমরা স্যক্রিফাইস করি, তা হচ্ছে ইলম অর্জন।

    অনেকে তো ব্যস্ত না থাকলে আমোদে মত্ত হয়ে যায়। কাজের সময় ব্যস্ততা, ফ্রি টাইমে হ্যাং আউট করা এই তাদের জীবন। আর জিজ্ঞেস করলেই বলে টাইম পাই না।

    পুঁজিবাদী, ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থায় আমাদের চাহিদার শেষ নাই। নিত্যনতুন জিনিস বাজারে বের হয় আর আমরাও দরকার না হলেও তা কিনে নিয়ে আনি। এই সব অদরকারী বস্তুর জন্য টাকা রোজগারের চাপে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করি।

    এই বইয়ে ব্যস্ততার প্রকারভেদ করে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে, কী ধরনের ব্যস্ততা যৌক্তিক আর কোনগুলো অযৌক্তিক তাও বুঝিয়ে বলা হয়েছে। সালাফগণ এসব বিষয় কীভাবে হ্যন্ডল করতেন তাও উদ্ধৃত হয়েছে। সুন্দর কিছু কবিতাও যুক্ত হয়েছে।

    ব্যস্ততার মধ্যেও ইলম অর্জন চালু রাখতেন সালাফরা। আমরা কীভাবে পারবো তার কিছু বাস্তবসম্মত উপায় লেখক বাতলে দিয়েছেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এ যুগে কীভাবে আমরা স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে ইলম অর্জনের কাজে ব্যবহার করতে পারি তার রূপরেখা বলে দিয়েছেন।

    ইচ্ছাশক্তির দৃঢ়তা, খালিস নিয়ত আর সময়ের সদ্ব্যবহার নিয়েও আলোচনা এসেছে। কবি বলেন, “তুমি সফলতা চা, অথচ সফলতার আগমন পথে চলো না। জাহাজ তো কখনো শুকনো জায়গায় চলে না।”

    সময়ের বরকত হাসিল করতে হলে দৃঢ় মনোবল প্রয়োজন। একইভাবে উপকারী ইলম অর্জনের জন্য শুরু করা উচিত গুরুত্বপূর্ণ ইলম দিয়ে। কোন বিষয়গুলোর উপর ইলম অর্জন আগে প্রাধান্য পাবে তা বলতে গিয়ে লেখক তাওহীদ, তাফসীর ও হাদিসকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তারপর আসবে বাকি বিষয়। এমন যেন না হয় আমরা অপ্রয়োজনীয়, বিক্ষিপ্ত, কম গুরুত্ববহ জিনিস নিয়ে পড়ে থাকি।

    ইলমকে লেখক ৫ প্রকারে ভাগ করেছেন। শেষ দুই প্রকারের মধ্যে এক প্রকারকে উনি দ্বীনের জন্য রোগতুল্য বলেছেন। এটি হলো, সারাক্ষণ সালাফদের ইখতিলাফ, বিবাদ নিয়ে পড়ে থাকা। নিঃসন্দেহে এসব কাজে অন্তর শক্ত হয়ে যায়। আরেক প্রকারের ইলম আছে যা দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর। যেমন- ইলমুল কালাম ও ইলমুল ফালসাফা। যুক্তিবিদ্যা আর দর্শন দিয়ে দ্বীন ব্যখ্যা করা আর এসব নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকলে তা ক্ষতিই বয়ে আনবে।

    পক্ষান্তরে সবার আগে দরকার তাওহীদের ইলম। ইলমুল ফিকহ হলো দ্বীনের জন্য ওষুধতুল্য। আর দ্বীনের খোরাক হলো নাসীহাহ ও যিকিরের ইলম।

    অবসর সময়কে আমরা যেন গণিমত রূপে ব্যবহার করি। ইলম অর্জনে পরস্পরকে সহায়তা করি, ঠিক যেমনটি সালাফরা করতেন। অবস্থাশীলরা আহলুল ইলমদেরকে সহায়তা করে তাদেরকে ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগের সুযোগ করে দেই।

    শেষ অংশে লেখক কিছু পাঠপদ্ধতি তুলে ধরেছেন যা আমাদের সবার জন্য উপকারী হবে। একটু একটু করে নিয়মিত শেখা, আয়াত, হাদীস শেখার ক্ষেত্রে কিছু সাজেশন দিয়েছেন।

    যে জিনিসটা ভালো লেগেছে তা হচ্ছে সবার আগে ছোট কিতাব দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে। ব্যস্ত সময়েও অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা অবসর পেয়ে যাই। যেমন- ডাক্তারের চেম্বারে লম্বা ওয়েটিং লিস্টে যখন বসে থাকি তখনো কিন্তু আমরা স্মার্টফোনে কিতাব মুতালাআ করে সময়কে উত্তম কাজে লাগাতে পারি।

    পাঠ প্রতিক্রিয়াতে বলবো, সর্বোপরি বইটি অনেক অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা অনেকে দ্বীনি বিষয়ে সামান্য ব্যস্ত হলেই রিযকের টেনশনে পড়ে যাই। তাদের জন্য এই বই টনিকস্বরুপ।
    বইয়ের অনুবাদ সুন্দর হয়েছে। বইয়ের সাইজ ছোট। পকেট সাইজের বই আমার ভালো লাগে। সহজে পকেটে করে যেকোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় আবার এক দুই বসাতে শেষও করে ফেলা যায়। তবে বইয়ের দাম সামান্য বেশী হয়ে গেছে।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?