মেন্যু
be smart with muhammad

বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ

অনুবাদ: মাসুদ শরীফ পৃষ্ঠা: ১৪৪ কভার: হার্ড কভার জীবনে যারা বিশেষ কিছু হতে চান, এই বইটি তাদের জন্য। বইটির পরতে পরতে ‎রাসূল ‎ﷺ এর জীবনের এমন সব ঘটনা থাকবে, যেগুলো মানুষকে অনুপ্রেরণা দিবে দারুণভাবে।... আরো পড়ুন
পরিমাণ

170  175 (3% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী প্রসাধনী

6 রিভিউ এবং রেটিং - বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ

4.8
Based on 6 reviews
5 star
83%
4 star
16%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    prothomer dik a pore mone hoise boita amr jonno na, but joto samne agailm totoi mone hoilo boita jeno amr jonno likha hoise…

    Allhamdulillah boita shesh koreche… oshadharon legeche…

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ||স্মার্টের স্বরূপে ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (ﷺ)’||

    ছোটবেলায় খাওয়ার সময় যখন কোনরকমে ভাতের লোকমা গোগ্রাসে গিলতে গিয়ে প্লেটের চারপাশে ভাত ছড়িয়ে ফেলতাম, মা মিষ্টি হেসে মাথায় হাত বুলাতেন, ‘স্মার্টলি খাও,বাবা’।

    পথচলতে গিয়ে যখন অসীম আনন্দে লম্ফে-ঝম্ফে পা বাড়াতাম, বাবা কৃত্রিম ক্রোধ আর মিষ্টি ধমকের সুরে হুংকার দিতেন, ‘স্মার্টলি হাঁটো, খুকু’!

    স্কুলে আসার যন্ত্রণা কি অভিমানের জেরে, হয়তবা মনের ভুলে, শার্টের ঠিক বোতামটা ঠিক জায়গায় লাগাতাম না বা মাথার টুপিকে বাঁকা করে পরতাম, শিক্ষক বেত নাচিয়ে শাসনের সুরে বলতেন, ‘ছেলে, স্মার্টলি থাকার চেষ্টা কর’!…….

    বেশ কয়েক বছর পার হয়েছে। বোধ হয় তের কি চৌদ্দ হবে। এখন আমি স্মার্ট। মনের তীব্র বাসনার বশিভূত নির্দেশে চুলগুলোকে জেলের শাসনে উপরের দিকে তুলে স্পাইক করে রাখি— বাবা কলহহাস্যে অফিসের কলিগকে বলেন, ‘আমার ছেলে স্মার্ট হয়েছে’!

    রাস্তায় গুরুজনের সামনে সালাম কি সম্মান দেখানোর গরজ মনে করি না—মা গর্বে বুক ফুলিয়ে প্রতিবেশিনীর কথায় জবাব দেন, ‘খোকা আমার স্মার্ট’!

    টাকনুর নিচে প্যান্টস পরি—শিক্ষক চোখ বড় বড় করে বলে উঠেন, ‘ভালোই তো, ছাত্র আমার স্মার্ট হয়েছে’।

    আমার আইডল মেসি কি রোনালদো অথবা অ্যালেন ওয়াকার কি মার্শমেলো! অমুসলিম বা ধর্মহীন এইসব ভদ্রলোকদের চুলের ছাঁট থেকে পোশাকের ধরন সব আমার ব্যক্তিত্বে পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হয়— বন্ধু জড়িয়ে ধরে লাফিয়ে উঠে, ‘বন্ধু আমার স্মার্ট’।

    অসত্যের পক্ষের অপশক্তিকে আইডল মানতে গিয়ে ও তথাকথিত আধুনিকতার ভ্রান্ত, কিন্তু ছদ্ম মত আর পথকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে কিছু স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ভাবে— মাথার চুলকে অভিকর্ষবিমুখী করা, প্যান্টস কে টাকনুর নিচে ছেড়ে অথবা হাটুর উপরে তোলা, অতিমাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া আর কিছু ভয়ালদর্শন নায়ক নায়িকা ও কিছু শ্রুতিকটু ছবির নাম মুখস্ত করার নামই স্মার্টনেস।

    এটাই কি সত্যিকারের স্মার্টনেস? স্মার্টনেসের সংজ্ঞা আসলে কি?

    আধুনিকতাকে নয়, আঁকড়ে ধরুন মানবতাকে; চরিত্রহীন অপশক্তিকে নয়, আইডল মানুন সত্যের চরিত্রবান সূর্যকে; অতিরিক্ত খেয়ে নয়, স্মার্ট হোন অতিরিক্তকে বিলিয়ে দিয়ে চলুন স্মার্ট হই নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাথে, তার জীবনানুসারে!

    ||বই-কথন||
    নবী (ﷺ) এর জীবন কেমন ছিল? রাতে এসে যখন শুনলেন ঘরে খাবার নেই, তখন তিনি নফল সিয়ামের নিয়ত করে ফেললেন। আমরা হলে কি করতাম??
    প্রথম কয়েকবছর মানুষের কাছ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও কিসের বলে নিরলস দ্বীন প্রচার করে গেছেন? কিভাবে অর্জন করলেন অটল মনোবল?
    কীভাবে রপ্ত করলেন এক অসম্ভব সুন্দর সব মানবীয় গুনাবলি, কেমন ছিল তার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য আর যৌবনের উচ্ছ্বল দিনগুলো?? ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (ﷺ)’ শুধু প্রশ্নগুলোর সাবলিল জবাব দিয়েই থেমে থাকেনি, পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছে এসব গুনাবলি অর্জনের ফর্মুলাও।

    বাবা হারানো চার বছরের শিশুর সামনে পিতৃহীন চারবছরের শিশু মুহাম্মাদ (ﷺ)কে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা, অথবা এতিম পাঁচ বছরের শিশুর সাথে এতিম নবীর তুলনা, কিংবা তারুণ্য কি যৌবন অথবা বৃদ্ধ বয়সের রাসুলের (ﷺ) জীবনের উপমা টেনে আমাদের সাধারন জীবনকে বিচারকরার মূলনীতি লেখক অনন্য নৈপুণ্যে কালো কালিতে লেপেছেন বইটিতে।

    মুহাম্মাদের (ﷺ) শিশুকাল, কৈশোর, যৌবন ও নবুয়ত পরবর্তী জীবনের তার চরিত্র গঠন, জীবনে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও পরিবারের প্রভাবের পাশাপাশি বর্ণিত হয়েছে গুণগুলো অর্জনের কলা-কৌশল।

    ||বইটি কাদের জন্য||
    প্রচলিত অর্থে কোনো সীরাহ বই নয় এটি। কোনো তাত্ত্বিক ঘটনার বিবরণও নয়। বইটিতে যেকোন বয়স ও ধরনের একজন পাঠক খুঁজে পাবেন জীবনভিত্তিক কিছু ব্যাবহারিক জ্ঞান। বইটিতে একজন বাবা খুঁজে পাবেন নিজের আদরের সন্তানকে রাসুলের আদর্শে গড়ে তুলার কলকব্জা! উন্মত্ত টিনেজার খুঁজে পাবে উড়ুউড়ু ভাবকে বাগে আনার সহজ কৌশল। যুবকের জন্য রয়েছে চরিত্রে উত্তম গুণাবলি ও দক্ষতার এক অনন্য সমাহার ঘটানোর উপায়। নবুয়ত পরবর্তী রাসুলকে (ﷺ) নিজের জীবনে ফলানোর প্রয়োজন অনুভব করবেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধ লোকটিও!

    ||পাঠোচ্ছ্বাস||
    আত্ম উন্নয়নমূলক বইয়ের প্রতি অসঙ্গত অনীহা ও পড়তে বসে অতিমাত্রার বিরক্তিতে জর্জরিত হয়ে বইকে বুকসেলফে উঠিয়ে রাখার অভিযোগ আমি হাসিমুখেই মাথাপেতে নিবো। কিন্তু এই বইটি আমার সেই ভ্রান্ত গর্বকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। অনিচ্ছা ও অনীহার সাথে বইটি হাতে তুলে নিলেও অল্পক্ষনেই ডুবে গিয়েছি বইয়ের পাতায়–লেখকের অপরূপ বর্ণনাশৈলীতে!
    রাসুল (ﷺ) কে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপনের প্রয়াস, জীবনচরিতের সাথে দক্ষতাকে করায়ত্ত করার কৌশলের অভাবনীয় দিকনির্দেশনা এবং সর্বোপরি গল্পের সাথে প্রবন্ধমূলক লেখার এক অনন্য মিলবন্ধন বইটিকে করে তুলেছে অসাধারণ!
    বইটি যে পাঠকের হৃদয়কে আলোড়িত করবে, চিনতে সাহায্য করবে এক নতুন নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) কে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়!

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_জুন_২০২০

    যুগে যুগে মহান আল্লাহ তা’আলা নবীরাসূলগনদের পাঠিয়েছেন মানুষের হেদায়েতের জন্য। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর রেখে যাওয়া শিক্ষা এবং আদর্শ বর্তমান বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে এখনো বহাল আছে! আলহামদুলিল্লাহ্। “Be Smart With Muhammad” বইয়ের নামটা শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন- বইটি নবীজীকে নিয়ে।কিভাবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও নবীজীর মতো আদর্শবান ও স্মার্ট হতে পারি,সেটাই এই বইয়ে দেখানো হয়েছে।নবীজীকে নিয়ে রচিত বেশিরভাগ বইয়েই তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির পরের জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধুমাত্র নবুওয়াতের পরের জীবনটা নয়,তার পুরো জীবনটাই আদর্শ।এই বইয়ে তাঁর নবী হওয়ার পূর্ববর্তী জীবন(রাসূলের শিশুকাল,শৈশব,তারুণ্য) কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।দেখানো হয়েছে কিভাবে ছোট থেকেই তিনি নিজের ব্যক্তিত্বকে গড়ে তুলেছিলেন যাতে একজন কিশোর,একজন তরুনও নবীজীর শিশুকাল,কৈশোর, তারুণ্যকে দেখে ছোট থেকেই নিজেকে ব্যক্তিত্ববান,আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন,নিজের চিন্তাভাবনায় এবং সমসাময়িক বয়স থেকে নবীজীকে অনুভব করতে পারেন।

    ∎ বিশ্লেষনঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    এই বইয়ে নবীজীর নবুওয়াতের পূর্ববর্তী জীবনের এমন এমন তথ্য আছে,সেগুলো হয়তো আমরা জানতাম না।এমন বই আমাদের দেশে খুবই কম।তরুন নবীজীর সততা,কর্মে মুগ্ধ হয়ে মক্কাবাসী তাকে “আল আমিন”(বিশ্বস্ত, সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করেন,তখন তিনি নবী ছিলেন না।আল্লাহ তা’আলা বলেন,”রাসূলের মাঝে রয়েছে তোমাদের জন্য ভালো ভালো উদাহরন”। তিনি শিশু ছিলেন,খেলাধুলা করেছেন, মরুভূমিতে দৌড়াদৌড়ি করেছেন-শিশুরা যেনো এটা কল্পনাই করতে পারে না। তিনি কিশোর ছিলেন,সততার সাহায্যে চাচার সাথে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ব্যবসা করেছেন,নিন্দনীয়-খারাপ কাজ থেকে ছেটোথেকেই বিরত ছিলেন,তার পূর্বপুরুষদের মতো সমাজে নিজের কর্মের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ছোটথেকেই স্মার্ট হয়ে ওঠার সুনিপুণ গল্পগুলো লেখক এই বইয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।আর নিশ্চয়ই সবচেয়ে সুন্দর পথ প্রদর্শক,দিক নির্দেশক মহানবী হযরত মুহম্মদ(সঃ)।

    ♦মুহাম্মদ(সঃ) এর শিশুকালঃ
    >শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে প্রথম ৬ বছরেই।নবীজীর বাবার মৃত্যুর পর,মা আমিনা তার পুরোটা সময়ই শিশু নবীজীকে দিয়েছিলেন-আপনিও কাজের মাঝেই সন্তানকে সময় দিন,সেরা সময়গুলো কাটান।
    >ভাষা শিক্ষা,শৃঙ্খলা এবং খেলাধুলা শেখার এই বয়সে নবীজী মরুভূমিতে কাটিয়েছেন এবং শিখেছেন- তাই আপনার সন্তানের বিকাশের এই দিক গুলোতে ছোটো থেকেই যত্ন নিন। আত্মবিশ্বাসী হতে সন্তানকে পাশে থেকে সাহস দিন।

    ♦মুহাম্মদ(সঃ) এর পরিবারঃ
    >বাবা না থাকলেও পরিবারের অন্যদের ভালোবাসা পেয়েছিলেন নবীজী।
    > নবীজী মায়ের কাছ থেকে ত্যাগ,দাদার কাছ থেকে হার না মানা,চাচার কাছ থেকে ব্যবসাশিক্ষা,পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে দানশীলতা, উদারতা,নেতৃত্বগুন পেয়েছিলেন-আপনিও আপনার সন্তানদেরকে পরিবারের অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের সাথে মিশতে দিন,পূর্বপুরুষদের কৃতিত্বের গল্প শোনান।এতে শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়বে,মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত হবে।

    ♦নবীজীর চারপাশঃ
    মক্কার যে পরিবেশে নবীজী বেড়ে উঠছিলেন, সেই সমাজ এবং সমাজের মানুষের সাথে, মিশেছেন,সামাজিক দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করেছেন।কোনো প্রকার লোকঠকানো,অসামাজিক প্রলোভন তাকে স্পর্শ করতে পারেননি।নিজের প্রতিভা,চেষ্টা,দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অনন্য।
    >আপনিও নবীজীর মতো নিজেকে এবং সন্তানদের সমাজের মাঝে মেলে ধরুন। বিবেক এবং চিন্তাশক্তি দিয়ে আপনিও সমাজের অনন্য ব্যক্তিতে পরিনত হোন।

    ♦নবীজীর কৈশোরঃ
    >কৈশোরে নবীজী চাচার কাছে বড় হয়েছেন।ধৈর্যশীলতার কারনে পরিবারের সকলের কাছে সম্মান পেয়েছিলেন। তারা ধারনা করেছিলেন,নবীজী বড় হয়ে বিশেষ কিছু হবেন।তার চাচি, দাদীও তাকে ভালোবাসতেন। কৈশোরে তিনি ব্যবসায়িক ভ্রমন শুরু করেছিলেন,নিজের শরীরের নিয়মিত যত্ন নিতেন,পরিপাটি থাকতেন,বন্ধু নির্বাচনে সচতন ছিলেন এবং সমাজের খারাপ প্রলোভনগুলো বর্জন করেছিলেন।
    >আপনিও বাবা-মা কে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করুন।নিজের যত্ন নিন,উত্তম বন্ধু নির্বাচন করুন,ভ্রমন করে অভিজ্ঞাত অর্জন করুন ।নিজের সন্তানকে গুরুত্ব দিন,তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন,সাহস দিন।

    ♦তরুন নবীজীঃ
    তারুণ্যে সতাতার জন্য “আল-আমীন(বিশ্বস্ত)” উপাধী লাভ করেন।সততায় মুগ্ধ হয়ে খাদিজা(রাঃ) নবীজে বিবাহ করেছিলেন।ব্যবসায় সাফল্য পেয়েছিলেন,দেশ-বিদেশে ভ্রমন করেছিলেন।
    >সামাজিক কাজপ অংশগ্রহণ (হাজরে আসওয়াদ দ্বন্দ্ব নিরসন,তরুনদের জন্য হিলফুল ফুজুল সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন)
    >আপনিও কৈশোরে সৎ থাকুন,বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে নবীজীকে অনুসরন করুন,ভ্রমন করুন, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করুন,নিজের বুদ্বিমত্তায়,কাজপ নিজেকে বাকিদের থেকে আলাদা ভাবে উপস্থাপন করুন।

    ♦চল্লিশের কোঠায় রাসূল (সঃ)-
    >এই বয়সে তিনি সাংসারিক দায়িত্ব পালন করে নিজে একাকী সময় কাটাতেন, চিন্তাভাবনা করতেন।
    >এই সময়টাতে নবীজীর জীবনে পরিবর্তন আসে,জীবরাইল (আঃ) এর আগমন, ওহী আসা শুরু হয়।নবীজী রবের পথে পরিচালিত হন,বাধা বিপত্তির মোকাবিলা করেন।আন্তরিক মুখভঙ্গি, প্রনবন্ত উপস্থাপনে দ্বীনী কাজ শুরু করেন। ৪৩ বছর বয়সে আল-আকরামে দ্বীনি প্রশিক্ষণ শুরু করেন, ৪৭-৫০ বছর বয়সে তিনি মক্কা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মদিনায় পাড়ি জমান।
    >পরিবর্তনে হতাশ না হয়ে,পরিবর্তনকে গায়ে মাখুন,জ্বালা সহ্য করুন।এমন পরিস্থিতিতে নবীজীর জীবন থেকে শিক্ষা নিন,অনুপ্রাণিত হোন।

    ♦পঞ্চাশের কোঠায় রাসূল(সঃ)-
    মদিনায় স্থায়ীভাবে থাকা,নতুন সম্পর্ক স্থাপন,কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা,মদিনার সংবিধান “মদিনা সনদ” প্রতিষ্ঠা করেন,নিরাপত্তা জেরদার করেন।বদর,ওহুদ যুদ্ধে উত্তম নেতৃত্ব প্রদান,কর্মীদের আগে তিনি নিজ হাতে পরিখা খনন কাজ শুরু করেন।অন্যকে ইনফ্লুয়েন্স করার চমৎকার ক্ষমতা ছিলে তার,তাই তো তিনি সফল নেতা, মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্য সাহাবিগনদের নিয়ে হজ্জ করতেও গিয়েছিলেন।
    >আপনি একজন সফল নেতা হতে চাইলে নবীজীকে ফলো করুন,কর্মীর উপরেই সব দায়িত্ব চাপিয়ে না দিয়ে কাজটা নিজে থেকে শুরু করুন,এতে মানুষের আস্থা এবং ভালোবাসা পাবেন।

    ∎ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ-
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মনোমুগ্ধকর দিক হলো নবীজীর জীবনী অনুসরন আমাদের জীবনে কী পরিমাণ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে তা দেখানো হয়েছে।
    ∎ বইটি কাদের জন্যঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    আপনি কি একজন কিশোর? একজন অভিভাবক? একজন বৃদ্ধ বাবা? জীবনে সফল হতে চান,মানুষের মন জয় করতে চান? সফল নেতা হতে চান? – তাহলে বইটি আপনার জন্য।
    ∎ লেখক পরিচিতিঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    লেখক ড. হিশাম আল-আওদির জন্ম কুয়েতে।তার আগ্রহের বিষয় মানুষকে অনুপ্রানিত করা,উদ্দীপ্ত করা।নিজে শেখা,অন্যকে শেখানো। বর্তমানে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ কুয়েতে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
    অনুবাদক মাসুদ শরীফ ২০১১ সাল থেকে প্রাকটিসিং মুসলিম হন।ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চাকরি না করে এখন পুরোদস্তার পাঠক-অনুবাদক-লেখক।অন্য ভাষার ভাবটা কে নিজের মাতৃভাষায় রূপান্তর করেন।

    ∎ মন্তব্যঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ধন্যবাদ অনুবাদক মাসুদ শরীফ ভাইকে, নিজের মাতৃভাষায় এমন একটি বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য,আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক । বইটিকে জ্ঞানমূলক,আত্মউন্নয়নমূলক কিংবা পূর্নাঙ্গ আদর্শিক জীবনের নির্ভেজাল একটি বই হিসেবে বলতে পারেন।
    সকল বয়সের মানুষ বইটি পড়তে পারবেন,নতুন দম্পতিরাও তাদের অনাগত সন্তানকে কিভাবে ছোটোবেলা থেকেই আআদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলবেন তার সুন্দর ফিরিস্তি আছে এখানে।
    তাই আপনি আপনার কিশোর তরুন ভাই,বন্ধু কিংবা নতুন দম্পতি, পরিবারের সদস্য অথবা আপনার বাব-মা কেও বইটি উপহার দিতে পারেন।
    নবীজীর দর্শন,চিন্তাভাবনা ছিলো অন্যদের থেকে আলাদা,তাই তিনি অনন্য। আরব জাতিকে তিনি যেভাবে বদলেছেন,তার রাজনৈতিক কৌশল কিংবা তার বিদায় হজ্বের ভাষন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।
    এটা সত্যি যে,তার মতো ১০০% গুণাবলী যদিও অর্জন করা সম্ভব না হয়,কিন্তু তার জীবনকে অনুসরন করলে মহান আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে আমাদেরও একটা ঠিকানা করেন দিবেন,ইনশাআল্লাহ্।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 4 out of 5

    :

    ড.হিশাম আল আওয়াদির ‘Muhammad: How He Can Make You Extra-Ordinary’ বইয়ের বাংলা অনুবাদ হলো বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ (স)বইটি।এখানে মোহাম্মদ(স)এর সীরাত উপস্থাপন করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে।সচরাচর সীরাত বইগুলোতে আমরা রাসূল(স)নবুওতের জীবন সম্পর্কে ধারণা পাই,নবুওতের পূর্ববর্তী জীবন সম্পর্কে খুব বেশি জানতে পারিনা।এই বইতে রাসূলের নবুওত লাভের পূর্বের জীবনকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে সম্ভ্রমজাগানিয়া রাসূলের(স)পাশাপাশি এক অতিপরিচিত মানুষ রাসূল (স)এর সাথে।

    বইটি সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত।রাসূল(স)এর মরুজীবন,দুধ মা হালিমা ও মা আমেনার কোলে রাসূলের বেড়ে উঠা,শিক্ষা,বর্ধিত পরিবার দাদা-দাদি,চাচা-চাচীদের তাঁর প্রতি করা সুআচরণ,যার ফলে রাসূল (স)মানসিক বিকাশ ও ব্যক্তিত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল ইত্যাদি বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।পাশাপাশি লেখক প্যারেন্টিং বিষয়ে বেশ কিছু টিপস শেয়ার করেছেন যা থেকে শিশু ও সন্তান প্রতিপালনের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।এখানে রাসূলের টিনেজার বয়সের নানা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে,কিভাবে তিনি বন্ধু,পরিবেশ-পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন,প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও স্রোতের বিপরীতে চলার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইত্যাদি লেখক উল্লেখ করে টিনেজারদেরও তেমন আত্মবিশ্বাসী হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।আছে রাসূলের তারুণ্যের জীবন,নেতৃত্ব দানের অপূর্ব যোগ্যতার গল্প,সমাজের ভালো ভালো কাজে তার অগ্রণী ভূমিকা,মানুষের কাছে সৎ ও বিশ্বস্ত হয়ে উঠার কাহিনী যা পাঠে তরুণরাও খুঁজে পাবেন নিজেদের আখলাক গঠন, কর্মপদ্ধতি ও কৌশলের শিক্ষা।রাসূল(স)নবুওতের পর চল্লিশ ও পঞ্চাশ বছর বয়সে কেমন ছিলেন,জীবনের শিক্ষাগুলো পরিণত বয়সে তাকে কতটা সফল ও মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে গড়ে তুলেছে ইত্যাদি লেখক পর্যালোচনা করেছেন অত্যন্ত চমৎকারভাবে যা সাধারণ মানুষদের জন্য সহজেই অনুসরণীয়।

    ভাললাগা ও মন্দলাগাঃ রাসূল(স)কে পাঠকের কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপন লেখক সফলভাবেই করেছেন।তাঁর শৈশব,কৈশোর ও তারুণ্যের জীবনের নানা দিক উন্মোচন করেছেন যা পাঠকের জন্য চিন্তার খোরাক জোগায়।

    মন্দলাগা বলতে অনুবাদের মান সাদামাটা,হৃদয়স্পর্শী মনে হয়নি।রাসূল(স)কে যতটা না বইয়ের মাঝে পেয়েছি তার চেয়ে বেশি রাসূলের পরিবার-পরিজন,চারপাশের মানুষের তাঁর সাথে করা আচরণগুলো তুলে ধরা হয়েছে,যা আমাদের জন্য কতটা আদর্শের বিষয় তা প্রশ্নের দাবি রাখে।নবুওতের পূর্ববর্তী জীবনকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে অথচ রাসূল(স)এর শিশুদের প্রতি,টিনেজারদের প্রতি আচরণ কেমন ছিল,তার সন্তানদের কিভাবে গড়ে তুলেছিলেন,কিশোর-তরুণদের সাথে তার ব্যবহার,তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান ইত্যাদি বিষয়গুলোই মনে হয় বেশি উপকারী হতো।তাছাড়া বইয়ের বেশিরভাগ অংশই লেখকের ধারণাপ্রসূত মনে হয়েছে।আরো কিছু বিষয় আছে যা পাঠকটু লেগেছে।

    বইটি কাদের জন্য?বইটি অবশ্যই শিক্ষণীয়।পিতা-মাতা সহ,টিনেজার,তরুণরাও এতে অনেক বাস্তবধর্মী টিপস পাবেন,যা প্রয়োগ করে একজন সফল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠা যাবে।ইনশাআল্লাহ।

    প্রচ্ছদ,বাঁধাই ৪/৫।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    এই দুনিয়ার সবচাইতে স্মার্ট মানুষ কে? এক কথায় জবাব, মুহাম্মাদ (স)। কারন কি? বের করতে এই বইটা আপনাকে অনেক খানি সাহায্য করবে।

    গতানুগতিক সীরাত গ্রন্থগুলোর মত নয় এই বইটি। এটি মুহাম্মাদ (স) জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার সমকালীন পরিবেশের কথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সাথে সাথে বর্তমান এই যুগে তার জীবনী থেকে কিভাবে শিক্ষা নেয়া যাবে তাও বর্ননা করা হয়েছে। লেখক নিজের মেধা, যুক্তিকে খাটিয়ে বিশ্লেষনধর্মী বর্ননা করেছেন যা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

    নবীর জীবনের বিভিন্ন স্টেজে তিনি কীভাবে এগিয়েছেন; শৈশব, কৈশোর, যৌবন, নবুওয়াত পাবার পর- সেগুলো বর্তমানের দৃষ্টিতে গবেষনা করা হয়েছে।

    মুহাম্মাদ (স) এর শিশুকাল, কৈশোরকালীন নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলার চিত্র ফুটে উঠেছে বইতে। তার পরিবার, পরিবেশ, সমাজব্যবস্থা কিভাবে তাকে একজন পরিপূর্ন মানুষ ও নেতা হিসাবে গটে তুলেছে তা জানা যাবে বইটি থেকে।

    তরুন বয়সে তার চরিত্র ও মানবীয় গুনাবলীর সমাহার ও তার মাধ্যমে সকলের মন জয় করে নেয়ার টেকনিক শেখা যায় যৌক্তিক বিশ্লেষনের মাধ্যমে। তার এই সুন্দর বেড়ে ওঠাই তাকে নবী হিসাবে সফল করেছে এবং পরবর্তি জীবনের ভীত গড়ে দিয়েছে।

    ধারাবাহিকভাবে তার জীবনী বর্ননা করা নয় বরং তার জীবনী থেকে নিজের জন্য শিক্ষা খুজে বের করার কৌশল শেখানোই এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করি। সকল যুগের জন্য যে স্মার্ট আদর্শ তিনি রেখে গেছেন তা মানতে পারলেই আসলে আমরা যুগের বিবেচনায় স্মার্ট হতে পারবো।

    মন্তব্যঃ বইয়ের অসাধারন প্রচ্ছদ ও সুন্দর বাইন্ডিং, ছাপা, কাগজ বইটি হাতে নিয়েই পড়ার আবেদন জাগাবে।

    3 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No