মেন্যু


বাইতুল্লাহর মুসাফির

প্রকাশনী : দারুল কলম

মূলত হজের সফরনামা হলেও কত ধরনের কত শিক্ষা যে রয়েছে!
ইখলাস, লিল্লাহিয়্যাত, রূহানিয়্যাত হলো এ বইয়ের প্রাণ! পাশাপাশি আদাবে মুআশারা-মুআমালা ও আদাবে ইনসানিয়াতেরও অপূর্ব সমাহার ঘটেছে এতে। তাহযীবুল আখলাক ওয়াল আফকার ওয়াল লিসান (ভাষা, চিন্তা ও আচরণের সংশোধন)-এর জন্যও অত্যন্ত উপকারী এ বই আদাবুল ইলম ও আদাবুল মুতাআল্লিমীন বিষয়েও যথেষ্ট খোরাক রয়েছে।
.
হজ পালন তো সহজ। কিন্তু আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়া? আগে তো মানুষ হজ করতো ‘হাজী’ উপাধি গ্রহণের জন্য। এখন হজ করে সেলফি তোলার জন্য। হজের সময় কলবের কাইফিয়্যাত কেমন হওয়া উচিত তা তো মানুষ জানেই না, হবে কিভাবে! আমার প্রবল ধারণা, হজ কবুল হওয়ার জন্য হৃদয়ের অবস্থা তেমন হওয়া জরুরি, যেমনটা আদীব হুযুর এ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। কেননা খুশু-খুযু ও রূহানিয়্যাতই হলো প্রতিটি ইবাদতের প্রাণ।
.
আদীব হুযুর কত উঁচু স্তরের বুযুর্গ, তা এ বই পড়লেই স্পষ্ট হয়।
হজের সময় তাঁর অন্তরের হালত যেমন ছিল, তিনি ঠিক তেমন বর্ণনা দিয়েছেন। বরং অনেক ক্ষেত্রে কলমের সংযমও করেছেন।
তাছাড়া পুরো বইই ইলহামের মতো, যা তাঁর ভূমিকা পড়ে বোঝা যায়।
.
আমার মতে, প্রত্যেকের জন্য এ বই পাঠ করা আবশ্যক। যাদের এখনো হজের সৌভাগ্য হয়নি, তাদের জন্য উত্তম সান্ত্বনা এ বই। তাদের মনে বাইতুল্লাহর মুসাফির হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তীব্র করে ‍তুলবে এ বই। আর আকাঙ্ক্ষা ও ব্যাকুলতা তীব্র হলেই তো উপর থেকে ডাক আসে। বাইতুল্লাহর মুসাফির হওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়, তাদের জন্য সফরে যাওয়ার আগে একবার হলেও এ বই পাঠ করা উচিত। হজ পালনের সময় অন্তরের কাইফিয়্যাত কেমন হতে হবে, তা জানার জন্য। কেবল হজযাত্রীদের জন্যই নয়, বাইতুল্লাহর প্রেমিক সকল মুসলিমদের জন্য এতে রয়েছে আত্মার খোরক।

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

6 রিভিউ এবং রেটিং - বাইতুল্লাহর মুসাফির

5.0
Based on 6 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    “চাই না ধনসম্পদ, চাই না খ্যাতি ও সম্মান
    তোমার ঘরের ছায়া মাওলা শুধু করো দান…”

    পৃথিবীর সব মানুষেরই কোন না কোন স্বপ্ন থাকে,স্বপ্ন দেখেই মানুষ বেঁচে থাকে। স্বপ্নই মানুষের জীবন এবং স্বপ্নই অবলম্বন। মানুষের জীবন যেমন বিচিত্র তেমনই বিচিত্র তার জীবনের স্বপ্ন, কিন্তু মু’মিনের সারাজিবনের স্বপ্ন শুধু একটি, দীদারে বাইতুল্লাহ এবং যিয়ারাতে মাদীনাহ। মু’মিন স্বপ্ন দেখে কালো গিলাফের এবং সবুজ গম্ভুজের। একদিন সে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে এবং নবীজীর রওযায় সালামের নযরানা পেশ করবে-এই সুমধুর স্বপ্ন দেখেই মু’মিন বেঁচে থাকে,দিনাতিপাত করে। এ স্বপ্নই মুমিনের জীবন, তার জীবনে বেঁচে থাকার অবলম্বন।সেজন্য বাংলার কবি লিখেছেন- “বক্ষে আমার কাবার ছবি,নয়নে মুহাম্মদ রাসুল…”

    ○ বইটির বিষয়বস্তু ও প্রধান আকর্ষণঃ “বায়তুল্লাহর মুসাফির” বইটি লেখকের যিয়ারাতে বায়তুল্লাহর আবেগ মিশ্রিত যথাপযুক্ত বর্ণনার বহিঃপ্রকাশ। সাথে আছে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়কালের মুসলিম বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দেশ গুলোর ভৌগলিক নান্দনিকতার বিবরণ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সুচিন্তনীয় মতামত এবং অকপটে দিয়ে গেছেন দেশবাসীর জন্য মুক্তোঝরা উপদেশাবলি। এ সফরনামায় লেখক সউদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত করেছেন, মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনের সুচিন্তনীয় মতামত দিয়েছেন এবং প্রেস্ক্রাইব করেছেন অমূল্য দিকনির্দেশনাসমুহ ।

    ○ আমার অনুভূতিঃ
    বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে আমি যেন ভ্রমন করছি লেখকের সাথে সেই সুদূরবিস্তৃত মক্কা এবং মদীনার প্রশস্ত রাস্তাধরে। লেখক লিখেছেন কেবল নিজেকে নিয়ে নয় বরং প্রত্যেক পাঠককে সাথে নিয়েছেন তার যাত্রাপথের বিভিন্ন প্রান্তরে। লেখকের ভ্রমন বিস্তর, পাঠক হিসেবে পেয়েছি বিস্তর বর্ণনার দক্ষ প্রকাশভঙ্গী। অন্তর দুলেছে ইশকে ইলাহির তরঙ্গদোলায়। বায়তুল্লাহ যিয়ারাতের তামান্না অন্তরে কষাঘাত করেছে প্রতিমুহূর্তে। বইটির পাঠক সৌভাগ্যবানদের তালিকায় আপনাকে স্বাগতম।

    ○ বইটির কিছু বিশেষত্বঃ
    ০১. চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি ও নির্মোহ বিশ্লেষণ।
    ০২. বাইতুল্লাহর প্রতি অপরিসীম আবেগের পরিস্ফুটন।
    ০৩.শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদদের সাথে মতবিনিময়।
    ০৪. পাঠকের প্রতি নসিহাহ ও বায়তুল্লাহ যিয়ারাতের কিছু সতর্কবাণী।
    ০৫. অকপটতা এবং আদবের শিক্ষণ।
    ০৬. টুকরো-টুকরো ইতিহাসের পাতায় সাময়িক বিচরণ।
    ০৭. বায়তুল্লাহ সফরকারীর প্রতি উপদেশ ও দিকনির্দেশনা।
    ০৮.অনবদ্য লেখনী এবং উক্তির প্রয়োগযোগ্যতা।

    ○ বইটি কাদের জন্যঃ
    এ পয়েন্টে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে,বইটি কাদের জন্য নয়? সমৃদ্ধ শব্দসম্ভারের নান্দনিকতাপ্রিয় সকল বইপ্রেমি এবং সুন্দর শব্দগঠনপদ্ধতির প্রিয়সী সকল বয়সী মানুষের জন্য এই বইটি পড়া উচিত। বিশেষ করে বায়তুল্লাহ যিয়ারাতের আবেগের ফুল্কি যাদের হৃদয়ে পরিস্ফুটিত হয় তাদের জন্য বইটি পড়া অবশ্য বাঞ্চনীয়। বইটি তাদের জন্য, যারা এবার বায়তুল্লাহর মুসাফিরদের কাতারে শামিল হবেন।আশা করা যায়, এর মাধ্যেম তাদের দিলে ইশক ও মোহাব্বত আরো উদ্দীপ্ত হবে। তাদের অন্তরে প্রেম ও ভালবাসার প্রদীপ নতুন করে প্রজ্জ্বলিত হবে। নতুন নতুন অনুভব-অনুভূতির তরঙ্গদোলায় তাদের হৃদয় আরো আন্দোলিত হবে।

    ○ বইটির ভাল দিক সম্বলিত অংশঃ
    বইটির প্রত্যেকটি অংশে খুব সুন্দর হেডলাইনের অধীনে যথোপযুক্ত বর্ণনার পাশাপাশি বিভিন্ন আরবি,ফারসি কবিতার ছন্দ প্রয়োগ করা হয়েছে।লেখক তার লেখনীতে বাঙালি কবিদের ধর্মীয় ছন্দগুলোরও যথা প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বর্ণনাচ্ছলে কুরআনের আয়াত এবং হাদিস থেকে বিভিন্ন শিক্ষামুলক ঘটনার অবতারণা করেছেন নিপুণতার সাথে।
    বইটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, স্বল্পমূল্য। ৪৩১ পৃষ্ঠার বৃহৎ বইটির ক্রয়মূল্য মাত্র দুইশত টাকা।

    ○ লেখক সম্পর্কেঃ
    সাহিত্যের গুনগত মানে সমৃদ্ধ “বায়তুল্লাহর মুসাফির” বইটির লেখক “আবু তাহের মিসবাহ”। তার লিখিত কোনো বই যারা পড়েছেন, অকপটেই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন তার লিখার সাহিত্যিক মনন, শব্দচয়নের যৌক্তিকতা, বানানের ব্যাকরণসিদ্ধতা, উক্তির প্রয়োগযোগ্যতা এককথায় অনন্য আর অনবদ্য। তথ্যবহুল বর্ণনার পাশাপাশি আবেগের এক অপূর্ব মিশ্রন কোন বইয়ের পাতায় কোনো লেখক যদি লিখে থাকেন,তাহলে তাদের কাতারে নিঃসন্দেহে প্রথম দিকের অবস্থান এই বইটির লেখকের।

    ○ বইটি থেকে পছন্দের একটি উক্তিঃ
    “দুনিয়াতে সন্তানের জন্য মা হলেন আল্লাহর রহমতের ‘আঁচল’। তুমি যত বড় হও, কিংবা যত ছোট; তুমি যত ভালো হও কিংবা যত মন্দ, মা শুধু জানেন তোমার মাথার উপর মমতার আঁচল ধরে রাখতে। দুর্ভাগা সন্তান অনেক সময় নিজের হাতে মাথার উপরের এই মমতার আঁচল ছিন্ন করে ফেলে।তারপরো মমতাময়ী মা সেই ছিন্ন আঁচলটুকু ধরে রাখেন সন্তানের মাথার উপর ।

    প্রিয় পাঠক, তুমি যদি বিশ্বাস করো যে, আমি তোমার কল্যাণকামী তাহলে একটি উপদেশ শোনো, সারা জীবন মায়ের আঁচলের নীচে থাকার চেষ্টা করো । যতদিন তিনি বেঁচে আছেন চোখের পানি দিয়ে তাঁর পায়ের পাতা ভিজিয়ে রেখো, আর মৃত্যুর পর ভিজিয়ে রেখো তাঁর কবরের মাটি ! তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে চিরকাল সিক্ত করে রাখবেন তাঁর করুণার শিশিরে।”

    ○ শেষ কথাঃ
    পরিশেষে, ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে শেষ করছি। প্রত্যেক মুমিনের অন্তরের লুক্কায়িত আজন্ম লালিত স্বপ্ন “বায়তুল্লাহ যিয়ারাত ও যিয়ারাতে মাদিনাহ” বাস্তবায়ন করে হজ্জে মাকবুল ও মাবরুর নসীব করে সৌভাগ্যবানদের তালিকা আরো সম্প্রসারিত করুন মহান আল্লাহ তা’য়ালা, আমাকে এবং আপনাকে দিয়ে।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No