মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

আরজ আলী সমীপে

আরজ আলী মাতুব্বর। জন্মেছেন বরিশালে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা তার ছিলনা। তবে স্বশিক্ষিত ছিলেন। লোকমুখে শুনা যায় ধর্মের প্রতি একধরনের বিতৃষ্ণা থেকে উনি কলম ধরেছিলেন। বিজ্ঞানমনস্কতার নামে আরজ আলীরা যে ভূলটা করেন তা হলো ধর্ম, বিজ্ঞান,এবং দর্শনকে একই ক্যাটাগরিতে নিয়ে আসা। অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেনেরর কম্বিনেশনে পানি সৃষ্টি হয়- তা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। চুরি করলে হাত কর্তন করা অথবা যিনা করলে পাথর মেরে হত্যা করা অথবা কাউকে হত্যার বিনিময়ে হত্যা করা ধর্মের আলোচ্য বিষয়। দর্শনে এ সমন্ধে কিছু বলা থাকলেও বিজ্ঞানে কিছুই নেই। এমতাবস্থায়, ভিন্ন ভিন্ন আলোচ্য বিষয়কে যদি একই বাটখারায় ওজন করাটা নিতান্ত বোকামি। হাস্যকর ব্যাপার হলো আজ্ঞেয়বাদী, নাস্তিক, স্যেকুলার’রা বিজ্ঞানমনস্কতার নামে তিনটি আলাদা টপিক কে একই বাটখারায় ওজন করে।
.
আরজ আলী সাহেব সমাজে প্রচলিত কিছু কুসংস্কার কে মূল ইসলামভেবে প্রশ্ন করেছেন। অথচ অধিকাংশ প্রচলিত কুসংস্কারের সাথে কুরআন হাদিসের কোনো সম্পর্ক নেই। আরজ আলী সাহেব কী ভুল করেছেন, উনার প্রশ্নের সোর্স কতটুকু সত্য? উনি কি আদতে সত্যের সন্ধান করেছেন? তার পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তর মিলবে ” আরজ আলী সমীপে’ বইটি থেকে।

পরিমাণ

182.00  250.00 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

7 রিভিউ এবং রেটিং - আরজ আলী সমীপে

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    অারজ অালী মাতুব্বর। জন্ম বরিশালে। প্রতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করেন নি। নিজে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন।অর্থাৎ স্বশিক্ষিত। অার ইসলামের জ্ঞান অর্জন করেছেন গ্রামের মানুষের মুখের কথা থেকে। সমস্যাটা এখানেই। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কুসংস্কারাচ্ছন্ন। ফলে তিনি ইসলাম অার কুসংস্কারের কনসেপ্টটা গুলিয়ে ফেলেছেন। তিনি যে বইটি লিখেছেন (সত্যের সন্ধানে) তাতে কোন কথা সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে নেন নি। লেখাগুলো খেয়াল করে পড়লেই দেখা যায় সবগুলো লেখাতেই বলেছেন, “কেহ কেহ বলেন/ কোন কোন ধর্মযাজক বলেন/ শোনা যায়” ইত্যাদি। তার কথা থেকে নিশ্চিন্তে বোঝা যায় কথাগুলো কুরঅান-হাদিস থকে নেয়া নয়, যা খুবই অাপত্তিকর। এগুলো প্রায়ই গ্রামের কুসংস্কার এবং হিন্দুদের প্রথা থেকে নেয়া। অথচ দেখা যায় অনেক শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা এগুলো পড়ে নাস্তিক হয়।

    #বইয়ের_বিষয়বস্তুঃ
    সময়ের তরুন লেখক ও দাঈ (যিনি অাল্লাহর পথে দাওয়াত দেন) অারিফ অাজাদ। লেখক খুব অল্প পরিসরে অারজ অালীর প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন এবং অসারতা তুলে ধরেছেন। অাসলে বইটা পড়লে বুঝা যাবে অারজ অালী মাতুব্বর যে ইসলামের কথা বলেছেন সেটি অাল্লাহ ও তার রাসুলের দেখানো ইসলাম না। এর মধ্যে অনেক তফাৎ অাছে। তবু্ও অামরা না জানার কারনে সংশয়ে ভুগি।

    #আমার_ভাবনাঃ
    বইটা অামাদের প্রত্যেক তরুনদের পড়া উচিত সংশয় কাটানোর জন্য। যাদের সংশয় নেই তাদেরও পড়া উচিত সঠিক ইসলামকে অারো ভালোভাবে জানার জন্য এবং কুসংস্কার ও ইসলামের পার্থক্য জানার জন্য

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    অারজ অালী মাতুব্বর। জন্ম বরিশালে। প্রতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করেন নেই । নিজে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন।অর্থাৎ স্বশিক্ষিত। অার ইসলামের জ্ঞান অর্জন করেছেন গ্রামের মানুষের মুখের কথা থেকে। সমস্যাটা এখানেই। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কুসংস্কারাচ্ছন্ন। ফলে তিনি ইসলাম অার কুসংস্কারের কনসেপ্টটা গুলিয়ে ফেলেছেন। তিনি যে বইটি লিখেছেন (সত্যের সন্ধানে) তাতে কোন কথা সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে নেন নি। লেখাগুলো খেয়াল করে পড়লেই দেখা যায় সবগুলো লেখাতেই বলেছেন, “কেহ কেহ বলেন/ কোন কোন ধর্মযাজক বলেন/ শোনা যায়” ইত্যাদি। তার কথা থেকে নিশ্চিন্তে বোঝা যায় কথাগুলো কুরঅান-হাদিস থকে নেয়া নয়, যা খুবই অাপত্তিকর। এগুলো প্রায়ই গ্রামের কুসংস্কার এবং হিন্দুদের প্রথা থেকে নেয়া। অথচ দেখা যায় অনেক শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা এগুলো পড়ে নাস্তিক হয়।

    #বইয়ের_বিষয়বস্তুঃ
    সময়ের তরুন লেখক ও দাঈ (যিনি অাল্লাহর পথে দাওয়াত দেন) অারিফ অাজাদ। লেখক খুব অল্প পরিসরে অারজ অালীর প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন এবং অসারতা তুলে ধরেছেন। অাসলে বইটা পড়লে বুঝা যাবে অারজ অালী মাতুব্বর যে ইসলামের কথা বলেছেন সেটি অাল্লাহ ও তার রাসুলের দেখানো ইসলাম না। এর মধ্যে অনেক তফাৎ অাছে। তবু্ও অামরা না জানার কারনে সংশয়ে ভুগি।

    #আমার_ভাবনাঃ
    বইটা অামাদের প্রত্যেক তরুনদের পড়া উচিত সংশয় কাটানোর জন্য। যাদের সংশয় নেই তাদেরও পড়া উচিত সঠিক ইসলামকে অারো ভালোভাবে জানার জন্য এবং কুসংস্কার ও ইসলামের পার্থক্য জানার জন্য

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    জগতে আলো-অন্ধকারের মতো, সত্য-মিথ্যার একটা লড়াই বিরাজমান ছিল, আছে, এবং শেষ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। জাহিলিয়াতের দ্বন্দ্বগুলো শেষ হয়ে যায়নি এবং যাবেও না। এগুলো নানান সময়ে নানান রূপে আমাদের সামনে এসে ধরা দেবে।

    ❛ওটা মিথ্যা❜
    ❛ওটা অযৌক্তিক❜
    ❛ওটা অবিশ্বাস্য❜
    ❛ওটা অবৈজ্ঞানিক❜
    ❛ওটা কেবল অন্ধবিশ্বাস❜

    এরকম নানান প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়েছে তারা।তাদের মিথ্যাচার, যুক্তির অসাড়তা, অবিশ্বাসের দর্শন, পক্ষপাতী বিজ্ঞান পাঠ এবং বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের বিপরীতে ‘আরজ আলী সমীপে’ বিশ্বাসী মহলে এক অনন্য সংযোজন!
    ….
    [বই-বিষয়বস্তু]
    জগতে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব সেই সূচনালগ্ন থেকেই। মানুষ এসেছে, পৃথিবীতে বিচরণ করেছে, নিয়ামত ভোগ করেছে, অতঃপর নাফরমানী করেছে। মানুষের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য থেকে বেরুতে পারে নি বাঙালি ভদ্রলোক—আরজ আলীও।

    কথিত আছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেলে স্বশিক্ষিত হয়েছেন নিজ প্রচেষ্টায়। সেই শ্রম বিফলে নিয়ে গেলেন ভ্রান্ত বিশ্বাসের উপর বই লিখে— ‘সত্যের সন্ধানে’। বার্ট্রান্ড রাসেল, স্টিফেন হকিং, হুমায়ুন আজাদের পথে হেটে এই ভদ্রলোকও জোর গলায় বললেন স্রষ্টা নামে কোন বস্তু নেই।
    আরজ আলী কে জবাব দিচ্ছেন আরিফ আজাদ আরজ আলী সমীপের হাত ধরে!

    আরজ আলী মহোদয় নিজের বইতে প্রতিপক্ষ হিসেবে টেনেছেন ইসলাম নয়, বরং কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিছু মুসলিমের মতাদর্শকে। সহযোগিতা নিয়েছেন সামান্য কিছু বিজ্ঞান আর অধিকাংশই ছদ্মবিজ্ঞানের। করেছেন ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়ানক কিছু অভিযোগ, দেখিয়েছেন ভ্রান্ত কিছু যুক্তি। তথাপিও পথ ভ্রষ্ট করতে পেরেছেন কিছু স্বল্পবুদ্ধির প্রানীকে! পেয়েছেন কিছু মুরিদ।
    আরিফ আজাদ তার প্রতিটা ভ্রান্ত অভিযোগ, ভঙ্গুর যুক্তির জবাব দিয়েছেন অনন্য সাধারণ নৈপুণ্যে!
    ….
    [পাঠোচ্ছ্বাস]
    বইটি পড়ে প্রকৃত পক্ষেই উচ্ছ্বসিত হয়েছি। বেশ কয়েক বছর ধরে নিরব থাকা মুসলিমের পক্ষে বিশ্বাসের দৃঢ়প্রত্যয়ীর পদচারণায় মন থেকে উচ্ছ্বাস মনের অলক্ষ্যেই প্রকাশিত হয়ে পড়ে। বইটির লিখনশৈলী চমৎকার, বর্ণনা গঠনমূলক এবং তথ্যবহুল, কুরআন হাদিসের পর্যাপ্ত রেফারেন্স লক্ষ্যনীয়। অসাধারণ প্রচ্ছদ, উন্নত পেইজ, দৃষ্টিনন্দন ফন্ট বইটিকে করে তুলেছে অনন্যসাধারণ!

    বইটি দেখলেই মনে হবে—আহা একটু হাতে নেই! হাতে নিলেই মনে হবে একটুখানি পড়ি, তারপর?তারপর কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হবে, আপনার নাওয়া-খাওয়া শিকেয় উঠবে, গোধুলিবেলায় এসে মনে হবে, এইতো আর এক পৃষ্ঠা! এরপর বই শেষ!
    বই শেষ করে মনে হবে আবার হাতে তুলে নেই!!
    ….
    [লেখক-সম্পর্কে]
    অন্যকোন বই হলে লেখক সম্পর্কে বলার মনোস্কামনা থাকত না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার বৈপরীত্য বিস্ময় জাগানিয়া কোন বস্তু নয় বটে কারণটা পাঠকও খুব সম্ভবত জানেন।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঠাস করে লেখালেখির জগতে চলে আসা পাঠক-নন্দিত লেখক আরিফ আজাদ। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে আগ্রহী এই সম্মানিত লেখক তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিকাল সাজিদ’ দিয়ে পাঠক মহলে বেশ প্রশংসা কুড়ান।এরপরই আসতে থাকে তার অসাধারণ সব কর্ম— ‘আরজ আলী সমীপে’, ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘মা মা মা ও বাবা’, ‘বেলা ফুরাবার আগে’…….!

    Was this review helpful to you?
  4. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    বইয়ের নাম: আরজ আলী সমীপে
    লেখক: আরিফ আজাদ
    মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা
    পৃষ্ঠা সংখ্যা:
    প্রকাশনী: সমকালীন প্রকাশনী

    আরজ আলী মাতুব্বর। বাংলাদেশে নাস্তিকতা জগতের একটি পরম শ্রদ্ধেয় নাম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও স্বশিক্ষিত ছিলেন বলে জানা যায়।

    ধর্মকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে না পারায় একসময় ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে পরেন এবং কলম ধরেন ধর্ম, বিশেষকরে ইসলামের বিরুদ্ধে। কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করেন, ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু আফসোস, উনি যেটাকে ইসলাম বলে বুঝেছিলেন, তা যে প্রকৃত ইসলাম ছিল না। ছিল ইসলামের নামে বিদআত।
    শ্রদ্ধেয় আরিফ আজাদ ভাই আরজ আলী মাতুব্বরের এই ভ্রান্তির বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন “আরজ আলী সমীপে” বইয়ে। তিনি দেখিয়েছেন ইসলামের বিরুদ্ধে আরজ আলী মাতুব্বরের করা বেশিরভাগ প্রশ্নই ভুল। সেসকল বিষয়ে তিনি ইসলামের সঠিক আকিদা ও বিশ্বাস তুলে ধরেছেন এবং আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। যা নাস্তিকদের কোমর ভাঙতে অনেকটাই সাহায্য করেছে।

    পাঠপ্রতিক্রিয়া:
    বাংলাদেশের নাস্তিক্যবাদী মহলের বিরুদ্ধে প্রথম কে কলম ধরেছেন, আমার জানা নেই।
    তবে সফলভাবে যিনি নাস্তিকদের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে পেরেছেন, তিনি হলেন শ্রদ্ধেয় আরিফ আজদ ভাই।
    “প্যারাডক্সিকেল সাজিদ” লিখে যার শুরু করেছিলেন, “আরজ আলী সমীপে” তার দ্বিতীয় থাবা। এ বইয়ে একেবারে নাস্তিকদের ভাব গুরুর উপর হামলা। তা’ও আবার তাঁর শিক্ষা-দীক্ষার উপর প্রশ্ন তুলে এবং তাঁর প্রশ্নের মান ও রেফারেন্স এর বিষয়ে হাস্য-পরিহাস করে।
    এ বইয়ে লেখক আরজ আলী মাতুব্বর এর ভ্রান্ত প্রশ্নসমূহের যেমন উত্তর দিয়েছেন, তেমনি উল্টো নাস্তিকদের প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। যার উত্তর নাস্তিক সম্প্রদায় আজো দিতে সক্ষম হয়নি।
    লেখার বিবিধ অংশে লেখক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। বিবর্তনবাদ বলে আমরা যে বিষয়টিকে জানি, তা-যে একটা জগাখিচুরি মার্কা কল্পনা ব্যতীত কিছুই নয়, লেখক তা দলিল প্রমান দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

    বইটি পড়ে আমি অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। বইটি আমার জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছে। বইটি আমাদের মতো ছাত্রদের জন্য খুবই উপকারী, যারা নাস্তিকদের তৈরি শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ালেখা করি এবং সঠিকটা খুব বেশি জানতে পারি না।
    আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দিন।
    আমিন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    বাংলাদেশের নাস্তিকতা-জগতে একটি পরম শ্রদ্ধেয়, উচ্চারিত এবং বহুলপ্রচারিত নাম আরজ আলী মাতুব্বর।জন্মেছেন বরিশালে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজে নিজে স্বশিক্ষিত হয়েছেন বলে জানা যায়।
    ধর্মের প্রতি একধরনের বিতৃষ্ণা থেকে উনি কলম ধরেছিলেন ধর্মের বিরুদ্ধে। এই বিতৃষ্ণা থেকে উনি ধর্ম নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি, প্রশ্ন এবং সন্দেহ উত্থাপন করেছিলেন, যেগুলো নাস্তিকসমাজেও বহুল ভাবে ব্যবহৃত হয়; উনি প্রশ্ন করেছেন ধর্ম নিয়ে, ঈশ্বর নিয়ে, আত্মা, পরকাল, প্রকৃতি নিয়ে। ধর্মের সাথে দর্শন আর বিজ্ঞানের অসামঞ্জস্য নিয়েও করেছেন বিস্তর আলোচনা। বাংলা নাস্তিকসমাজের পুরোধা এই লোকের লিখিত বইয়ের জবাব হিসেবে কোনো বই বাংলা ভাষায় ইতিপূর্বে লিখিত হয়নি।
    “আরজ আলী সমীপে” বইটিতে লেখক আরিফ আজাদ আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্নগুলোর জবাব তো দিয়েছেনই, সাথে ছুড়ে দিয়েছেন পাল্টা প্রশ্নও।

    আরজ আলীর বইতে দেখা যায়, তিনি এমন সব বিষয়কে ইসলামের সাথে ‘ইসলাম’ বলে জুড়ে দিয়েছেন, যা আদতে ইসলাম নয়, বিকৃত কিছু ধর্মচর্চাকে তিনি ইসলাম বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এটা এজন্যই যে, ইসলাম সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিলো অতি সামান্য। তিনি ইসলাম সম্পর্কে যাই জেনেছেন মোটামুটি সবই লোকমুখে শোনা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিষয়, তার দাবির পক্ষে তিনি কোনো রেফারেন্সও তুলে ধরেননি। আর সেগুলোকেই তিনি ইসলাম বলে চালিয়ে দিয়ে ইসলামকে আক্রমণের চেষ্টা করেছেন। অথচ যে কোনো বিষয়ের সমালোচনা করার জন্যও যে আগে সে বিষয়ে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন, সেই কমন সেন্সের পরিচয়টুকুও আরজ আলী দেন নি। আসলে তিনি কোনটা ধর্ম আর কোনটা কুসংস্কার, চিনতে না পেরে সব একাকার করে ফেলেছেন।
    তার প্রশ্নগুলো আমার কাছে মনে হয়েছে নিতান্তই অসাড়, শিশুসুলভ আর বিকৃতমস্তিষ্ক প্রসূত; জুগিয়েছে হাসির খোরাক। আবার যে বিজ্ঞানকে ঈশ্বর জ্ঞান করে তিনি ইসলামকে আক্রমণ করতে নেমেছেন, সেই বিজ্ঞান বিষয়েও তার জ্ঞান অতি নিম্ন পর্যায়ের। তার প্রশ্ন পড়ে আপনাআপনি মনে প্রশ্ন চলে আসে, “এই লোককে কিভাবে স্বশিক্ষিত বলা হয়? এত অসাড় যুক্তি নিয়ে সে নাস্তিকদের গুরুই হয় কিভাবে? এত নিম্নপর্যায়ের জ্ঞান নিয়ে কোনো পাগলেও কি ইসলামকে আক্রমণ করতে আসে?”

    এই বইয়ের ‘বিবিধ’ অংশটা লেখক আরিফ আজাদ অতি যত্নসহকারে লিখেছেন। বিবর্তনবাদ নিয়ে যে কেউ পড়াশুনা করতে গেলে এই অধ্যায়টা তার জন্য বেশ কাজে দেবে। কত ভুলভাল জল্পনা-কল্পনা আর জগাখিচুরির মিশেলে যে বিজ্ঞানীরা বিবর্তনবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন, আর করে যাচ্ছেন; আর কত অসৎ উপায় যে অবলম্বন করে চলেছেন – ব্যাপারগুলো সত্যি শিউরে ওঠার মতো।

    লেখক আরিফ আজাদ আসলে অতি ভদ্র ভাষায় ধবলধোলাই করেছেন আরজ আলীকে। নাস্তিকতার বিপক্ষে, আস্তিকতার পক্ষে বইটি একটি শক্তিশালী দলিল হিসেবেই কাজ করবে।

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  6. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    নাস্তিকতা একটা রোগ, অন্তরের রোগ। আলো- অন্ধকারের মতো, সত্য- মিথ্যার একটা লড়াই ছিল, আছে, এবং শেষ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। জাহিলিয়াতের দ্বন্ধগুলো শেষ হয়ে যায়নি এবং যাবেও না। নানান সময়ে নানান রুপে এগুলো আমাদের সামনে এসে ধরা দেবে। “এটা মিথ্যা”, “ওটা অবৈজ্ঞানিক”, “ওটা কেবল অন্ধবিশ্বাস” – এভাবেই তো ওরা ইসলামের দিকে আঙ্গুল তোলে। যুগে যুগে মানুষ বদলায়, কিন্তু ইসলামের সাথে জাহিলিয়াতের দ্বন্ধগুলো আজীবন চলতেই থাকে।

    বাংলাদেশে তরুন প্রজন্মের মধ্যে নাস্তিকতার ব্যাপারটা কেমন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফেসবুকে, ব্লগে এসব নিয়ে তুমুল তর্কাতর্কি হচ্ছে। শত শত মুসলিম তরুন এসবের মধ্য পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের মনের মধ্যে নানারকম প্রশ্ন, সন্দেহ ঢুকিয়ে দিচ্ছে নাস্তিকরা।

    বাংলাদেশে নাস্তিকতা জগতের গুরু যারা, আরজ আলী মাতুব্বর তাদের মধ্যে একজন। বরিশালে জন্মেছেন, নিজে নিজে স্বশিক্ষিত হয়েছেন। ধর্মের প্রতি একধরনের বিতৃষ্ণা থেকে উনি কলম ধরেছিলেন বলে জানা যায়। এই বিতৃষ্ণা থেকেই উনি ধর্মের বিরুদ্ধে, বিশেষত ইসলাম ধর্ম নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন, আপত্তি ও সন্দেহ নিয়ে “সত্যের সন্ধানে” নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ের প্রশ্নগুলো নাস্তিক সমাজে বহুল প্রচারিত। বইটি কত যে মুসলিম তরুনের মনের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ বুনে দিয়েছে, ইসলাম থেকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে। এই বইয়ের বিপরীতে উনার যুক্তি, প্রশ্নের উত্তর দিয়ে লেখা হয়েছে “আরজ আলী সমীপে” বই। বইটিতে লেখক আরজ আলী সাহেবের প্রশ্নের জবাব তো দিয়েছেনই, সেইসাথে আবার পাল্টা প্রশ্নও ছুড়েছেন।

    সঠিক প্রশ্ন নিয়ে কেউ যদি ভুল মানুষের কাছে যায়, তাহলে সে ভুল উত্তর পাবে, এবং ভুল জানবে। কিন্তু, ভুল প্রশ্ন নিয়ে কেউ যদি সঠিক মানুষের কাছে যায়, তবুও সে সঠিক উত্তর পাবে। কারণ, সঠিক মানুষটা প্রথমে তার প্রশ্নটাই শুধরে দিবে। তারপর সেই প্রশ্নের উত্তর দিবে। শুধু প্রশ্ন করতে পারাটাই বাহাদুরি নয়, বরং প্রশ্নের উত্তরের জন্য কোথায় আর কার কাছে যাওয়া হচ্ছে সেটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

    আরজ আলী সাহেবের ক্ষেত্রেও ঠিক এটাই হয়েছে। উনি যে বিশেষ আ্যঙ্গেল থেকে ধর্ম, বিশেষ করে ইসলামধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন, সেটা আসলে মূল ইসলাম না। দুঃখজনকভাবে, উনি উনার এসব ভুল প্রশ্ন নিয়ে কোন আলিমের কাছে যাননি, যিনি তাকে সত্যের সন্ধানদিতে পারেন। তার বেশিররভাগ কথা শুরুই হয়েছে এভাবে- “মুসলিম ধর্মযাজকদের নিকট শোনা যায়….. “। ইসলাম সম্পর্কে তার জ্ঞান শোনা কথার উপর নির্ভরশীল। উনার যুক্তিগুলোও তাই খুবই হাস্যকর। এ বইয়ের বেশিরভাগ প্রশ্ন খুবই শিশুসুলভ। এসবের সাথে কুরআন- হাদিসের কোনই মিল নেই।

    আরও দুঃখজনক ব্যাপার হল, উনার এসব ভুল প্রশ্ন, ভ্রান্ত যুক্তি নিয়ে উনি “সত্যের সন্ধানে” নামে একটা বই লিখে ফেলেছেন। যে মানুষ কখনও কোন অথেনটিক সোর্স থেকে ইসলাম সম্পর্কে কোন পড়াশুনা করেননি, তিনি এসেছে ধর্মের ব্যাপারে জ্ঞান বিতরণ করতে! এমন মানুষ কি কাউকে কখনও সত্যের সন্ধান দিতে পারবে?
    ব্যাপারটা অনেকটা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের মত- যে প্রশাসন, মিডিয়া, সবকিছুকে নিজের আয়ত্বে রেখে জনগণের উদ্যেশ্যে ঘোষনা দেয়- “আসো, আজ আমি তোমাদের শেখাব নির্বাচন কাকে বলে?” আরজ আলী সাহেবের অবস্থাও তেমনই নয় কি?

    আরজ আলী সাহেব মারা গেছেন অনেক আগে। উনাকে নিয়ে আমাদের আর কিছুই করার নেই। মৃত্যুর পর উনি কেমন আছেন তা জানার কোন উপায় নেই। কিন্তু, উনি একগাদা উত্তরসুরীকে রেখে গেছেন, যারা উনার হয়ে “নাস্তিকতা ধর্ম” প্রচার করছে। তাদের কারণে শত শত মুসলিম তরুন অন্তরে নাস্তিকতাকে ধারণ করছে। এই বই তাদের জন্যই। এই বইতে আরজ আলী সাহেবের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া হয়েছে, আগ্রহী পাঠক না হয় বইয়ের পাতা থেকেই দেখে নিবেন।

    এই বই কাদের জন্য?
    ১. ইসলাম নিয়ে যাদের মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে- যারা ইসলামের বেসিক বিষয় নিয়ে সন্দেহে ভুগছেন।
    ২. যারা নাস্তিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করেন, কিন্তু উত্তর খুঁজে পান না- তারা এই বই থেকে খুঁজে নিতে পারেন আপনার উত্তর
    ৩.যারা নাস্তিক অলরেডি হয়ে গেছেন- বিশ্বাসকে নতুন করে আকড়ে ধরতে চাইলে এই বইটা পড়ুন।
    ৪.যারা নাস্তিকতার প্রচারক
    ৫.আপনি যদি বিধর্মী হয়ে থাকেন- আপনিও পড়তে পারেন এই বইটি। এতে আপনার জন্যও চিন্তার খোরাক আছে।

    এই বইটি কেন পড়বেন?
    এই বইতে নাস্তিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং যুক্তি দেয়া হয়েছে, আপনার আশেপাশে কোন সংশয়বাদী/ নাস্তিক থাকলে তার প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর দিয়ে তাকে সঠিক পথে ফিরে আসতে সাহায্য করবেন।

    বইটির বিবিধ অংশটি খুবই মজার। “বিবিধ” অংশে বিবর্তনবাদ নিয়ে লেখাগুলো, বিশেষ করে “কিছু ধাপ্পাবাজির গল্প” শিরোনামে যে ঘটনাগুলো আছে, এগুলো যে কারও চোখ খুলে দেয়ার মত।

    বইটির প্রচ্ছদ খুবই সুন্দর হয়েছে। প্রচ্ছদে আরজ আলী সাহেবের উদ্দেশ্যে একটা চিঠি আছে। চিঠির শেষ লাইনের প্রশ্নটা খুবই চমৎকার। প্রশ্নটা ছিল- “পরিশেষে, কেমন আছেন আপনি? জানার কোন উপায় আছে কি?”

    6 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  7. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    Boi tir price aktu beshi mone hosse
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?