মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

আমরা আবরাহার যুগে নই

অনুবাদ : মাহদি হাসান
সম্পাদনা : আবদুল্লাহ আল মাসউদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮০
বাঁধাই ধরন : পেপার ব্যাক

মুসলিম উম্মাহর আজকের যে দুর্দশা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতি, এর থেকে উত্তরণের উপায় কী? উম্মাহর মূলোৎপাটনে আগ্রাসী অমুসলিম শক্তিগুলোকে মোকাবিলায় আমাদের করণীয় কী? আমরা শুধুই উপরের দিকে দু’চোখ তুলে তাকিয়ে থাকব আসমানি কোন সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার জন্য, নাকি নিজেদেরও করার কিছু আছে? অতীতের জাতিসমূহের বেলায় যেমন শত্রুর দমনে নেমে আসত গায়েবি মদদ; তাদের নিজেদের কিছুই করতে হতো না, আমাদের বেলাতেও কি সেরকম নীতি প্রযোজ্য? নাকি চিরাচরিত সেই নিয়মের ভেতরে এসেছে নতুন কেন পরিবর্তন? এই বইতে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সুলেখক ড. রাগিব সারজানি।

আরবের এই অনুসন্ধিৎসু লেখক তাঁর বিচক্ষণ দৃষ্টিতে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন উম্মাহর মুক্তির পথ। এর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপগুলোও তিনি হৃদয়ের আকুতি মিশিয়ে অত্যন্ত দরদি ভাষায় খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে পেশ করেছেন পাঠকের সামনে। যেন তা সহজেই প্রতিজন পাঠকের ভেতরে নাড়া দেয়, খুলে দেয় বোধের বদ্ধ দুয়ার।

পরিমাণ

72.00  120.00 (40% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

4 রিভিউ এবং রেটিং - আমরা আবরাহার যুগে নই

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভালোলাগা_এপ্রিল_২০
    সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার। আমরা তার প্রশংসা করি। তার কাছেই সাহায্য চাই। তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। তার কাছেই সুপথ কামনা করি।

    বই সম্পর্কে কিছু কথাঃ-
    বইয়ের শুরুতে অনুবাদকের কথায় আপনি জানতে পারবেন বইয়ের মূল সারাংশ। বইটি পড়া শুরু করলেই পারবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের পঞ্চাশদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া আসহাবুল ফিলের ঘটনা। এর মাধ্যমে সাহায্যের পদ্ধতিতে পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই পরিবর্তনের মূলকথা বলে দিয়েছেন কুরআনুল কারীমের –
    “তোমরা যদি আল্লাহ(তাআলার দ্বীন)এর সাহায্য করো, তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।” [সুরা মুহাম্মদ:৭]

    লেখক এ বিষয়টি দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে,মূমিনদের সাহায্য আল্লাহ তাআ’লা অবশ্যই করবেন। আমাদের বুঝতে হবে আমরা আবরাহা আল আশরামের যুগে নই।বা তার পূর্বের যুগেও নই।বরং আমরা মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে।যেই যুগের সত্যপন্থীদের সাহায্য করার জন্য আল্লাহ তাআ’লা নির্ধারন করেছেন এক ভিন্ন পদ্ধতি।

    ‘আমরা আবরাহার যুগে নই’ বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র আশি।কিন্তু তার গভিরতা অনেক বেশি। আপনাকে এই বই নতুন করে ভাবতে শেখাবে যদি ভালোভাবে পড়েন। বইটি আপনাকে শেখাবে, মহান আল্লাহ তালার রীতি তথা সুন্নাতুল্লাহ কখনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু রীতিনীতি, অভ্যাস, সংস্কৃতি’র বাস্তবায়নের পদ্ধতিও রূপরেখা পরিবর্তন হয়।

    হযরত নুহ আলাইহিস সালামের যুগে- হজযরত নুহ আলাইহিস সালামের জাতি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি অনুধাবন করলেন যে, তাদের ঈমান গ্রহনের আর কোনো আশা অবশিষ্ট নেই। তখন তিনি আল্লাহহুর কাছে প্রার্থনায় রত হলেন।

    হজরত লুত আলাইহিস সালামের যুগে- তাকে তার গোত্র অস্বিকার করলে তিনি বলেন,, হে আমার পালন কর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবার বর্গকে তারা যা করে তা থেকে রক্ষা কর।

    হযরত মুসা আলাইহিস সালামের যুগে-ফেরআউন ও তার জাতি ঈমান আনয়নের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে তিনি বললেন,, হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন- সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কঠোর করে দাও যাতে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ বেদনাদায়ক আজাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।
    আরো কিছু ঘটনার উল্লেখ তাকে….
    -বদরের যুদ্ধ
    -খন্দকের যুদ্ধ
    -উম্মাহ আজ যে সকল চিন্তা- চেতনার মুখাপেক্ষী
    -পরিবর্তনের ধারা থেকে সতর্ক হোন
    -আমার দ্বীনি ভাই বোনেরা
    -সাহায্য আমদানি কারার মতো জিনিস নয়
    -মুসলমান জনগণের কি করারা উচিত

    মুসলিম উম্মাহর আজকের যে দুর্দশা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতি, এর থেকে উত্তরণের উপায় কী? উম্মাহর মূলোৎপাটনে আগ্রাসী অমুসলিম শক্তিগুলোকে মোকাবিলায় আমাদের করণীয় কী? আমরা শুধুই উপরের দিকে দু’চোখ তুলে তাকিয়ে থাকব আসমানি কোন সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার জন্য, নাকি নিজেদেরও করার কিছু আছে? অতীতের জাতিসমূহের বেলায় যেমন শত্রুর দমনে নেমে আসত গায়েবি মদদ; তাদের নিজেদের কিছুই করতে হতো না, আমাদের বেলাতেও কি সেরকম নীতি প্রযোজ্য? নাকি চিরাচরিত সেই নিয়মের ভেতরে এসেছে নতুন কেন পরিবর্তন? এই বইতে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সুলেখক ড. রাগিব সারজানি।আরবের এই অনুসন্ধিৎসু লেখক তাঁর বিচক্ষণ দৃষ্টিতে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন উম্মাহর মুক্তির পথ। এর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপগুলোও তিনি হৃদয়ের আকুতি মিশিয়ে অত্যন্ত দরদি ভাষায় খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে পেশ করেছেন পাঠকের সামনে। যেন তা সহজেই প্রতিজন পাঠকের ভেতরে নাড়া দেয়, খুলে দেয় বোধের বদ্ধ দুয়ার

    বইয়ের শেষের দিকে লেখকের দশটি চিন্তাচেতনার কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর প্রতি মুসলিম উম্মাহ মুখাপেক্ষী। যেই চিন্তার বাস্তবায়নে মুসলিম উম্মাহ আজকের দুর্দশাগ্রস্ত ইতিহাস বদলাতে সক্ষম হবে। সব ধরনের হীনম্মন্যতার বাধ ভেঙ্গে শির উচু করে শ্লোগান দিতে পারবে ‘ দ্বীন-ইসলাম জিন্দাবাদ ‘।

    ১| চিন্তা-ব্যক্তি,সমাজ এবং শাসককেন্দ্রিক শরিয়ত বাস্তবায়ন। নিজ নিজ স্থান,পদবি থেকে যথাসাধ্য চেষ্টায় শরিয়ত বাস্তবায়ন করা।
    ২| মুসলিম হিসেবে তৃপ্ত হওয়া এবং কখনো ধ্বংস হবেনা, এ বিশ্বাস লালন করা। হীনম্মন্যতা পরিহার করা।
    ৩| কাফেরদের পতনে নিশ্চিত, বিশ্বাসী হওয়া।বাহ্যিকভাবে তারা যতোই সফল হোক ধংষ তাদের অনিবার্য।
    ৪| ঝগড়া বিবাধ ও মতানৈক্য পরিহার করা ইত্তিহাদ-ইত্তিফাকের রাস্তা অবলম্বন করা।
    ৫| নিজের কাজ নিজে করা।অন্যের সাহায্যের আশায় বুক বেধে বসে না থাকা।
    ৬| সসচেতন ও সদাজাগ্রত থাকা।
    ৭| অমুসলিমদের মিত্র বানিয়ে তাদের থেকে উদাসীন না হওয়া।
    ৮| মুসলিম জাতিই বিশ্বের কর্ণধার হবে, এ বিশ্বাস রাখা। নিজেদের অক্ষম না ভাবা। এ ক্ষেত্রে সবজায়গায় ইসলামি পরিবেশ, অমুসলিমদের পণ্য বর্জন,শিক্ষা দিক্ষ,আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে লক্ষ রাখা
    ৯| নিজে চেষ্টা করা।সাধ্যমতো অন্যের উপর দায় না চাপিয়ে নিজে চেষ্টা করা।আমৃত্যু সাধনা করা।
    ১০| বিলম্বতা পরিহার করা।কোন কাজে অলসতা বা খামখেয়ালি না করা।দিনের কাজ দিনেই শেষ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

    শেষ কথাঃ-
    আপনাকে এই বই পড়ার অনুরোধ করছি,ঠকবেন না। ইনাশা আল্লাহ। ছোট, সুন্দর এ বইটি সবাইকে পড়তে দিবেন, নিজের পড়া শেষ হলে । আশা করা যায়, উম্মাহর চিন্তা সংশোধনে এ বইটি সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

    বই: আমরা আবরাহার যুগে নই
    লেখক : ড. রাগেব সারজানী
    প্রকাশনী : মাকতাবাতুল হাসান
    বিষয় : ফিকাহ ও ফতওয়া, বিবিধ বই, ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
    অনুবাদ : মাহদি হাসান
    সম্পাদনা : আবদুল্লাহ আল মাসউদ
    পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০
    মূল্য: ১২০

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া
    __________________
    বইয়ের মৌলিক কথা দুইটি-
    এক-শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আল্লাহর তরফ থেকে খোদায়ী নুসরত আসার নীতি পরিবর্তন।

    দুই-গায়েবী নুসরতের জন্য উম্মাহর করণীয়। পূর্বেকার উম্মতের মতো নুসরতের জন্য আমাদের অবশ্য পালনীয় কাজ।

    আমরা আবরাহার যুগে নই বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ দেখেই যেকোন পাঠক বইটি পড়তে আগ্রহী হওয়া কথা। নামটা আকর্ষণীয়। নিজের দিকে চরম আকর্ষণে পাঠককে টেনে নেয়। ভিতরের আশি পৃষ্ঠার মেসেজটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উম্মাহর বর্তমান বিপর্যয়ে এই বইয়ের বার্তা জনে জনে প্রচার করা উচিৎ বলে মনে হচ্ছে। বিপর্যস্ত জাতির বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে বইতে যে চিন্তা চেতনার কথা বলা হয়েছে, নিঃসন্দেহে সেগুলো অবশ্য পালনীয়। তাছাড়া ব্যক্তি,সমাজ, রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে শরীয়াহর বাস্তবায়নের বিষয়গুলোর অপরিহার্যতা স্পষ্ট।

    বইয়ের সামগ্রিক বিষয়বস্তু অসাধারণ লেগেছে। প্রয়োজনীয় এবং উপকারী মনে হয়েছে।

    অনুবাদ বেশ ভালো। মৌলিক রচনার স্বাদে পড়ে ফেলেছি এক নিঃস্বাসে, তবে ধীরেধীরে বুঝেশুনে। ঝরঝরে এবং সাবলীল ভাষার অনুবাদ। সুখপাঠ্য লেগেছে খুব। তবে দুয়েক জায়গার অসংগতি চোখে পড়েছে।

    প্রচ্ছদ, পৃষ্ঠা, ফন্ট বেশ সুন্দর। প্রচ্ছদের ডিজাইন ভালো লেগেছে সবচেয়ে বেশী।

    ➤ বইটি কেনো পড়তে বলবো
    ____________________

    ছোট বইয়ের বার্তাটা অনেক বড়। খুব গভীর। মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারলে চিন্তার পরিবর্তন হবে। বিপর্যস্ততার কিনারা থেকে বাঁচা যাবে। উম্মাহর দুর্দশার সময়ে বইয়ে বর্ণিত দিকনির্দেশনাগুলো যুগোপযোগী। আর চিন্তার অসারতার কারণে আমাদের হীনম্মন্যতার দোষ তো আছেই। তাই ঘুড়ে দাড়ানো দরকার। চিন্তার অসারতায় আমূল পরিবর্তন হওয়া দরকার। এই বইতে এর সবকিছুই লেখক বলে দিয়েছেন কুরআনের আলোকে, দরদী বয়ানে।

    তাই হতাশায় ডুবে থাকা উম্মাহর জাগরণে, হৃদয়ের বদ্ধ দুয়ার খুলতে, বোধের দুয়ারে কড়া নাড়তে এই বই হবে এক অসাধারণ উপহার। চিন্তাশীলদের জন্য খোরাকে ভরপুর বইটি তাই সকলের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

    বইয়ের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব হিসেবে প্রকাশনী বা অনুবাদকের পক্ষ থেকে চোখে তেমন প্রচারনা চোখে পড়েনি। ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো -তূলনামূলক বইয়ের মেসেজ অন্য অনেক বই থেকে গুরত্বপূর্ণ। তাই সব শ্রেণীর কাছে ‘আমরা আবরাহার যুগে নই ‘পৌছানো উচিৎ। তাই প্রচারণাও বেশী হওয়া চাই। এরজন্য সকলের সম্মিলিত চেষ্টা ফলদায়ক। তবে অনুবাদক ও প্রকাশনীর প্রচার সবচেয়ে বেশী ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হচ্ছে। আল্লাহ সকলের চেষ্টা সফল করে দিন।

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ইসলাম নিয়ে দুইটা দিক মূলত আলোচনা করা যায়। একটা হলো এটি পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যেখানে একজন মানুষকে দুনিয়ার মানুষ হিসেবে কখন কি করতে হবে এবং কতটুকু করতে হবে, তার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি বলা হয়েছে।
    আরেকটি হলো, এটি বিজয়ী ধর্ম। অর্থাৎ এই ধর্মই শেষ পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে টিকে থাকবে গর্বের সাথে। কিন্তু বর্তমানে দুনিয়ার সার্বিক অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, দুনিয়ার বুকে ইসলাম পালনকারীরা সবচেয়ে দূর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত। এই অবস্থা কেন সৃষ্টি হলো এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় কি, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা।

    বইয়ের নামটা দেখেই অনেকের কাছে বিষয়টা বোঝা মুশকিল। সেজন্য লেখক শুরুতেই নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের মাত্র মাস খানেক আগের মক্কায় ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক হস্তীবাহিনীর পরিচালক আবরাহার উপর আল্লাহ পাকের থেকে পতিত গজবের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। কিভাবে আল্লাহ পাক অহংকারী আবরাহার হস্তীবাহিনীকে সামান্য ক্ষুদ্র এক ঝাঁক পাখির মাধ্যমে নিঃশেষ করে দিয়েছেন। এরপর পূর্ববর্তী নবী আলাইহি সালামদের সময়ে অত্যাচারী জাতিদের ধ্বংস করার ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

    এরপরেই আল্লাহ পাক নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের পর থেকে আল্লাহ পাক তার নিয়মকে বদলে ফেলেন। কুরআনে আল্লাহ পাকের সূরা মুহাম্মাদে উল্লেখ করেন, “তোমরা যদি আল্লাহ(তাআলার দ্বীন)-এর সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।”

    লেখক নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের যুদ্ধগুলোর প্রেক্ষাপট টেনে এনে বোঝালেন আমাদের এই সময় আল্লাহ পাকের সাহায্য পেতে হলে আমাদেরই প্রথম এগিয়ে আসতে হবে, নয়তো তিনি আমাদের সাহায্য করবেন না। তাই তো বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় তাদের দূরাবস্থা। অথচ মুসলমানরা চুপ করে শুধু দুআ করে যাচ্ছে আর ভাবতেছে আকাশ থেকে কখন এক ঝাঁক পাখি এসে সব শত্রুদের ধ্বংস করবে। অথচ কুরআন আমাদের এই শিক্ষা দেয় না।

    পরবর্তীতে লেখক এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্যে আশারাতুন কামিলা” ১০টি সুন্দর নসিহত করেছেন, কিভাবে আমরা আল্লাহ পাকের সাহায্য পেতে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি।

    বইটা সময়োপযোগী জরুরী একটি বই। প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের এই রকম বিষয় নিয়ে জানা উচিত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

    Was this review helpful to you?
  4. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তুঃ আগেকার নবিদের সময়ে তাদের উম্মত আক্রান্ত হলে আল্লাহতালা গায়েবি সাহায্য পাঠিয়ে জালিমদের ধ্বংস করে দিতেন। কিন্তু, শেষনবি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আগমনের পর এ সুন্নতের পরিবর্তন হয়। আল্লাহতালা নতুন এক ধারা প্রবর্তন করেন। আর তা হচ্ছে আল্লাহতালা তখনই সাহায্য পাঠাবেন যখন মুসলিমগণ অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করবে। তাহলেই আল্লাহ মুমিনদের হাতে জালিমদের শায়েস্তা করবেন।
    সংক্ষিপ্ত পাঠসূচিঃ বইয়ের শুরুতে নূহ, লুত ও মুসা আলাইহিমুস সালামদের উম্মতের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত সাহায্যের বিবরণ দেয়া হয়েছে। তারপর এসেছে নবীজির যুগের বিবরণ। আল্লাহর রীতির পরিবর্তনের ফিরিস্তি দিতে এ অংশে বদর, ওহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের কাহিনী বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ থেকে পাঠক ধারণা পাবেন কতটুকু চেষ্টার পর আল্লাহর সাহায্য এসেছিল। এছাড়া বইতে এমন দশটি চিন্তা চেতনার সংশোধনের চেষ্টা করা হয়েছে যা উম্মাহর জন্য অতি প্রয়োজনীয়।

    যেসব জিনিস ভাল লেগেছেঃ বইয়ে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা বর্তমান মুসলিম উম্মাহ যে মহামারিতে আক্রান্ত তার উপশম হিসেবে কাজ করতে পারে। উম্মাহ আজ শতধাবিভক্ত। মুসলিম দেশগুলো বহিঃশত্রুর আক্রমণে পতনের দ্বারপ্রান্তে। তবু আমরা প্রতীক্ষা করি যে, আল্লাহ গায়েবি পদ্ধতিতে জালিমদেরকে বিনাশ করে দিবেন। কিন্তু তা আল্লাহর রীতির বিপরীত। গায়েবি সাহায্য তো তখন আসবে যখন আমরা সে সাহায্যের যোগ্য হব। কীভাবে তা হতে পারি সে দিকনির্দেশনা এ বইতে দেয়া হয়েছে।
    লেখক আমেরিকাসহ পশ্চিমা শক্তির সাহসী সমালোচনা করেছেন। উম্মাহর চিন্তার সংস্কার সাধনের চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে শরীয়তি জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অবস্থা নিজেকেই পরিবর্তন করার নাসীহাহ দিয়েছেন। উম্মাহর জন্য করণীয় কী তাও বলে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। বইটি কলেবরে ছোট ও উপকারী। সম্পূর্ণ বইয়ের আলোচনাই দরকারি মনে হয়েছে।

    অনুবাদ ও গুণগত মানঃ বইটির অনুবাদ ঝরঝরে ও সুখপাঠ্য। লেখার ফন্ট, কাগজ ও অন্যান্য সবকিছুও উন্নত মানের। বানানবিচ্যুতিও নিতান্তই কম।

    বইয়ের যেসব জিনিস ভাল লাগেনিঃ ‘মুসলমান জনগণের কী করা উচিত’ – এ অধ্যায়ে দিকনির্দেশনা আরো বিশদ হলে ভাল হত। কলেবর ছোট হওয়ায় হয়ত এ অধ্যায়ের আলোচনায় মন ভরে নি। কারণ, করণীয় বলে দেয়ার পাশাপাশি কীভাবে এসব কাজ করা যেতে পারে ও তা করতে গেলে কী কী বাঁধা আসতে পারে তাও বলে দেয়া সমীচিন ছিল।

    উপসংহারঃ ছোট, সুন্দর এ বইটি সবাইকে পড়তে দেয়া যায়। আশা করা যায়, উম্মাহর চিন্তা সংশোধনে এ বইটি সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

    Was this review helpful to you?