মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

আমাদের সোনালি অতীত

অনুবাদক : আবদুন নুর সিরাজি
সম্পাদক : সালমান মোহাম্মদ
পৃষ্ঠা : ১৬০

রাসুল ﷺ-এর ইনতেকালের পর সারা পৃথিবীতে যারা ইসলামের আদর্শ ও আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন, যাদের রক্ত, ঘাম, শ্রম ও বিপুল ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, তারাই হলেন রাসুলের প্রিয় সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর তাদের জীবনে ও কর্মে ইসলামের প্রায়োগিক রূপ মূর্ত হয়ে উঠেছিল। তাই ইসলামকে বুঝতে ও জানতে হলে সাহাবিগণের জীবনাদর্শ, তাদের জীবনের গল্প ও নসিহতের কোনো বিকল্প নেই।
এ গ্রন্থে আরবের পাঠকনন্দিত লেখক ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফি গল্পের ভাষায় সাহাবি ও তাবেয়ি-জীবনের নানান চিত্র তুলে ধরেছেন। ছোট ছোট গল্পঘটনার মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন সোনালি মানুষের দিনযাপন। সাহাবিদের জীবনের চিত্তাকর্ষক হীরাখণ্ডগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন এই বইয়ের পাতায় পাতায়। জীবনের পরতে পরতে বিশুদ্ধতার ছোঁয়া পৌঁছে দেবার এবং জীবন বদলে দেওয়ার গল্পভাষ্যই হলো-আমাদের সোনালি অতীত।

পরিমাণ

165.00  220.00 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - আমাদের সোনালি অতীত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    মানুষ হিসেবে আমরা গল্পপ্রিয়। গল্প পড়তে ভালোবাসি। কিন্তু পড়ার সময় খেয়াল করিনা যে গল্প আমি পড়লাম তার থেকে কি বুঝলাম বা শিক্ষনীয় কি। কিন্তু এর বিপরীতে আমরা যদি আমাদের সোনালী যুগের ঘটনাগুলো গল্পের মাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে পড়তে পারতাম তাহলে কতইনা উত্তম হতো?
    কেননা এগুলোতে অনর্থক কিচ্ছা-কাহিনী ও অশ্লীলতা থাকে না। সেই সাথে  এসব গল্প পড়লে ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান সম্পর্কে জানা যায়। এবং সাহিত্যের প্রকৃত স্বাদও আস্বাদন করা যায়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রখ্যাত লেখক আব্দুর রহমান আরেফি লিখেছেন এক অনন্য কিতাব। যার নাম “কিসাসুল আরিফি”। বিজ্ঞ অনুবাদক আবদুন নূর সিরাজী কতৃক বাংলায় অনুবাদের পর নাম দেয়া হয়েছে “আমাদের সোনালি অতীত”। এটি এমন একটি বই যার নামের মধ্যেই সুপ্ত আগ্রহবোধ লুকিয়ে রয়েছে।
    .
    ▶ সার-সংক্ষেপঃ-
    বইটির ১৫৭ পৃষ্টাজুড়ে রয়েছে সোনালি অতীতের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদযুক্ত  ৫৩ টি শিরোনামের গল্প। তার সাথে প্রত্যেকটা গল্পের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্লট এবং কাহিনীচিত্র । যার মধ্যে কিছু গল্পের কথা যেন আলাদা করে বলতেই হয়। কারণ প্রতিটি গল্প নিয়ে লিখতে গেলে রিভিউ অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই এখানে আমি কয়েকটি গল্প সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ-

    বইয়ের প্রথম গল্প “রাসূলের প্রতি জমিনের ভালোবাসা” শিরোনামে উঠে এসেছে খ্রিস্টান থেকে ইসলাম গ্রহণকারী এক ব্যক্তির গল্প। সে একসময় রাসূল (স:) এর ওহী লেখকের দায়িত্ব পালন করতো।  পরবর্তীতে সে আবার খ্রিস্টান হয়ে রাসূল (স:) এর নামে বিভিন্ন অপবাদ দিতে শুরু করে। এর ফলে রাসূল (স:) তাকে বদ দোয়া করেন। এতে সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর বার বার কবর দেয়া হলেও জমিন তাকে বাইরে ফেলে দিত।

    দ্বিতীয় গল্পের নাম “বনু নজিরের গাদ্দারি”। এখানে ফুটে উঠেছে ইহুদি গোত্র বনু নজিরের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের কথা। তাদের এই গাদ্দারির কারনে একপর্যায়ে তাদের অবরোধ করে রাখা হয় এবং মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    “আবু হোরায়রার মা” গল্প পড়ে বোঝা যাবে রাসূল (স:) এর দোয়ার ফলে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রা:) এর মায়ের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা।

    আকিদা যে শুধুমাত্র মুখে আওড়ানো বা লিখে হেফাজত করার মত জিনিস নয় বরং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এ কথাই বুঝানো হয়েছে “সুন্দর চরিত্র” গল্পে।

    রাসূল (সা:) এর নিকট যখন প্রথম ওহী অবতরণ হয় তখন তিনি খুব ভীত হয়ে পড়েন। এরপর খাদিজা (রা:) তাকে নিয়ে ওয়ারাকা বিন নওফেল এর কাছে জান। ওয়ারাকা বিন নওফেল তাকে সর্বশেষ নবী হওয়ার সুসংবাদ দেন। এসবকিছু জানা যাবে “উম্মুল মোমেনিন খাদিজার গল্প শিরোনামে।

    বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল (সা:) এর জন্য মাত্র একটি বকরির গোশত ও সামান্য রুটি তৈরি করে খাবারের আয়োজন করলেন। সেইটুকু খাবারে রাসূল (সা:) এর দোয়ার বরকতে এক হাজার পরিখা খননকারী সাহাবী তৃপ্তি সহকারে খেলেন। এমন তথ্যই জানতে পারবেন “এত খাবার” গল্পে।

    “পূর্বসূরিদের রমজান” শিরোনামে বর্ণিত হয়েছে অন্তরে গেথে যাওয়ার মত কিছু তথ্য । এটা পড়ে পাঠক বুঝতে পারবেন পূর্বসূরিগণ রোজার প্রতি কি পরিমাণ যত্নবান থাকতেন এবং এটাকেই জান্নাতের পাথেয় বানাতেন।

    হযরত হাবিব বিন জায়েদ (রা:)। যাকে রাসূল (স:) ভন্ডনবী মুসায়লামাতুল কাজ্জাব এর নিকট চিঠি দিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভন্ডনবী মুসায়লামা তাকে বন্দি করে। শত নির্যাতন করে একসময় হাবিব বিন জায়েদ (রা:) তাকে হত্যা করলেও মুসায়লামা তার কাছ থেকে নিজের স্বীকৃতি আদায় করতে পারেনি। এমন তথ্যই জানা যাবে “মুসায়লামাতুল কাজ্জাব” গল্পে।

    বইয়ের সর্বশেষ গল্প “কা’নাবির তাওবা” । এখানে উঠে এসেছে বিশিষ্ট ইমাম ও মুহাদ্দিস কা’নাবি (রহ:) এর ঘটনা। একসময় যিনি মদ, গল্পগুজব সহ বিভিন্ন হারাম কাজে লিপ্ত ছিলেন। একসময় তিনি মালেক বিন আনাসের সান্নিধ্যে এসে তার কাছ থেকে হাদিস হিফজ শুরু করেন এবং একজন বড় আলেম হিসেবে গণ্য হন।

    এছাড়া বইতে আরো রয়েছে চিরস্থায়ী সৌভাগ্য, রোগের শিফা, বিনোদন ছাড়ুন, এত দুধ, নীরব নিবেদক, হায় মিসকিন! ইত্যাদি সহ অসাধারন শিরোনামের সব গল্প।
    .
    ▶ ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ-
    ব্যক্তিগত অনূভুতি যদি বলতে হয় তাহলে বলবো বইটি এককথায় অসাধারন। দামের দিক থেকেও সাশ্রয়ী। প্রতিটি পাতায় রয়েছে লেখকের কঠোর পরিশ্রমের ছোয়া। বই এর বিষয়সমূহের ধারা বর্ণনা ও ভাষাশৈলী দেখে মনে হয় না এটা কোন অনুবাদ গ্রন্থ। বরং একজন দক্ষ সাহিত্যিকের লেখা বলেই মনে হয়েছে । সুখপাঠ্য গদ্য ও অভিনব উপস্থাপন কৌশল পাঠককে আকৃষ্ট করে রাখবে বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
    সবগুলো গল্প মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত এবং শান্তির সঞ্চারক। প্রত্যেকটি গল্পই আলাদা বৈশিষ্ট্য ও ভিন্ন মাত্রার স্বাদে ভরপুর। এসব গল্পে ছোটগল্পের মত কোন শেষে কোন টুইস্ট নেই।কিন্তু প্রতিটি গল্পেই রয়েছে শিক্ষণীয় উপাদান।
    বইটি পড়ে আপনি সোনালী অতীতের বেশকিছু ঘটনা গল্পের মাধ্যমে পারবেন। যা আপনাকে আরো গভীরভাবে ইসলামের প্রতি আনুগত্য করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। কিছু কিছু বিষয় নতুনভাবে উপলদ্ধি করতে শেখাবে। অন্তরে এনে দেবে অনাবিল প্রশান্তি।
    সব মিলিয়ে বইটি খুবই ভালো এবং উপকারী। তাই বাংলাভাষী সকলের প্রতি  অনুরোধ ” আমাদের সোনালী অতীত” বইটি একবার হলেও পড়ুন সেই সাথে নিজের প্রিয় মানুষটিকেও পড়তে দিন। সোনালি অতীতের সেসব কল্যাণময় গল্প থেকে বাস্তব জীবনে শিক্ষাগ্রহণ করুন। ছোট বাচ্চাদের মানহীন ও রুপকথার সব অসত্য গল্প না শুনিয়ে এসব গল্প শোনানোর চেষ্টা করুন। এতে ছোট অবস্থাতেই তার নৈতিকতা ভিত্তি মজবুত হবে। দেখবেন দুনিয়ার জীবনে আপনিই হবেন সবচেয়ে সুন্দর ও সুখময় জীবনের অধিকারী, ইনশাআল্লাহ।

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    বইটি গত কাল থেকে পড়ছি। ভালই লাগছে।
    Was this review helpful to you?