মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

জীবন ও কর্ম আবু বকর আস-সিদ্দীক রাযি (২ খণ্ড)

ইসলাম গ্রহণ করার দিন থেকে আমৃত্যু আবু বকর রা. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য সকল সাহাবী থেকে অগ্রগামী ছিলেন। রাসূল সা.-এর জীবদ্দশায় যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ সৈনিক; আর রাসূল সা.-এর মৃত্যুর পরও তিনি একইভাবে ইসলামের উপর দৃঢ় থাকেন এবং আল্লাহর অনুগ্রহে মুসলিম জাতিকে একতাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন। তাকে অন্যান্য সাহাবীরা যেখানে উসামা রা.-এর সৈন্যদলকে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছিলেন, সেখানে তিনি সঠিক ও দ্ব্যর্থহীনভাবে রাসূল সা.-এর ইচ্ছাকে অনুসরণ করে সেটা অব্যাহত রাখেন। যখন মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল এবং যখন ভ- নবীরা পুরো মুসলিম জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াল, আবু বকর রা. তখন খুবই দৃঢ়তার পরিচয় দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চরম আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরকম আরও অসংখ্য প্রাপ্তিতে সমৃদ্ধ ছিল আবু বকর রা.-এর জীবন। আমি সেগুলোকে পরিষ্কার এবং ক্রমানুসারে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। তবে আমার মূল চেষ্টা ছিল এটা বর্ণনা করা যে, একজন মুসলমান এবং শাসক হিসেবে আবু বকর রা.-এর কর্তৃক গৃহীত নীতিসমূহ কিভাবে একটি শক্তিশালী, দৃঢ় এবং উন্নয়নশীল দেশ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে – যা মদীনা থেকে উপত্যকা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বিস্তার লাভ করে।’

– ড. আলী মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী
.
হার্ড বাইন্ডিং, নতুন সংস্করণ 

Clear
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - জীবন ও কর্ম আবু বকর আস-সিদ্দীক রাযি (২ খণ্ড)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ইসলামী জ্ঞানের মূল উৎস হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহ। এর পরেই রয়েছে সীরাত, নবীজি (ﷺ)-এর জীবনী। এবং, তারপরে হচ্ছে খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনী। সঠিক দিশাপ্রাপ্ত চার খলীফাদের জীবনী নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জানতে পারলে ইসলামের স্বর্ণযুগের ইতিহাস অনেক ভালোভাবে জানা হয়ে যায়। ইসলামী ইতিহাস রচনায় ড. আলী মুহাম্মাদ আস সাল্লাবীর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর বইগুলো অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে, প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার।

    বক্ষ্যমান গ্রন্থটি প্রথম খলীফা আবু বকর আস সিদ্দিক (রা) এর জীবনী। তিনি ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে নাম্বার ওয়ান, অদ্বিতীয়। প্রথম স্বাধীন পুরুষ হিসেবে ইসলাম গ্রহণকারী এই সাহাবী ছিলেন পুরুষদের মধ্যে নবীজির সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে ঘনিষ্ট সহচর, হিজরতের সাথী। বলা হয়ে থাকে, আবু বকরের ঈমান এক পাল্লায় আর সমগ্র উম্মতের ঈমান অপর পাল্লায় রাখলেও আবু বকরের পাল্লাই ভারী হবে।

    আমি পড়েছি মাকতাবাতুল ফুরকান থেকে অনূদিত কপি, অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ আদম আলী। অনূদিত বইটি দুই খণ্ডে বিভক্ত।

    প্রথম খণ্ড
    আবু বকর (রা) এর পরিচয়, উপনাম, বংশ ইত্যাদি বর্ণনার দ্বারা বইটি শুরু হয়। প্রথম খণ্ডে আরো আলোচিত হয় আবু বকরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বের অবস্থা, ইসলাম কবুলের কাহিনী, নবীজির মাক্কী ও মাদানী জীবনের অবদানের কারনামা। এ অংশ পড়ে যেন মনে হচ্ছিল আবার নবীজির সীরাতই পড়ছি, কারণ নবীজির নবুওয়াতি জীবনের সাথে যে আবু বকরের আষ্টেপৃষ্টে সংযুক্তি ছিল, তিনি ছিলেন প্রিয়নবীর যোগ্য সহচর।

    হিজরতের ঘটনা বইতে অতি উত্তমরুপে বর্ণনা করা হয়েছে যা আরেকবার পাঠককে কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে বরকতময় সে অভিযানে। এছাড়া প্রথম খণ্ডে আবু বকরের খিলাফতের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করে শিয়া বিরুদ্ধবাদীদের ভ্রান্ত সমালোচনার অপনোদনও করেছেন লেখক উচ্চ পাণ্ডিত্যের সাথে।
    প্রথম খণ্ডে আরো আলোচিত হয়েছে আবু বকর (রা) এর জীবনের অনবদ্য সব ঘটনা। শুধু ঘটনা নয়, ঘটনাগুলোর পেছনের হিকমত ও শিক্ষা বর্ণনা করে লেখক বইকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। শেষাংশে উসামাাতেই (রা) এর বাহিনী প্রেরণের কাহিনীও সবিস্তারে উঠে এসেছে।

    ২য় খণ্ড
    এ অংশে রাষ্ট্রনায়ক আবু বকরের রূপ ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে। খলীফা হওয়ার সাথে সাথে সমগ্র আরবে বেজে উঠে ভাঙ্গনের সুর। দলে দলে লোক ইসলাম ত্যাগ করে। দৃশ্যকল্পে হাজির হয় ভণ্ড নবী ও মুরতাদেরা। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে আবু বকর যেভাবে উম্মতকে আসন্ন বিপদের মুখে সামলেছিলেন এবং মুরতাদদের সাথে বিজয় অর্জন করেছিলেন সেসব বিজয়ের বিস্তারিত বিবরণ ও বিজয়ের প্রকৃত কারণ খুঁজার চেষ্টা করেছেন লেখক।

    ২য় খণ্ড অর্থাৎ, আবু বকর (রা) এর খিলাফতের সময়টা প্রায় পুরোটাতেই ছিল যুদ্ধের দামামা। মুরতাদদের থেকে আরবকে মুক্ত করেই মুসলিম সেনাবাহিনী পারস্য ও রোমান সুপারপাওয়ারদের সাথে প্রায় একই সময় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সেইসব বরকতময় জিহাদের বিবরণ বইয়ের ২য় খণ্ডকে আর শুধুমাত্র আবু বকরের জীবনীতে সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি। বইটি হয়ে পড়েছে সেই আমলের মরণবিজয়ী সাহাবীদের কাহিনী। খালিদ, আবু উবাইদাহ, আমর আর মুসান্না রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমদের বীরত্বের কাহিনী।

    সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এসব ইতিহাস পড়লে আরো পরিষ্কারভাবে আবু বকরের পররাষ্ট্রনীতি ও সমরনীতি ফুটে উঠে। ধন্যবাদ লেখককে; তিনি এসব বিষয় এত সুন্দরভাবে ব্যখ্যা করেছেন যে এ বইটি অনন্য দলিলে পরিণত হয়েছে।
    বইতে আবু বকরের ওফাত, উমরের খলীফা হিসেবে নিয়োগলাভের কাহিনী ও সবশেষে সম্পূর্ণ বইয়ের সারকথা পয়েন্ট আকারে বর্ণনার মাধ্যমে বইটির শেষ খণ্ডের সমাপ্তি হয়েছে। শেষাংশে আবু বকরের মৃত্যুর পর আলি (রা) এর বক্তৃতা অশ্রুসজল করে দিয়েছে অধমের আঁখিযুগলকে। আল্লাহ আবু বকরের প্রতি রহম করুন।

    অনুবাদঃ অনুবাদের মান মাঝারি ছিল। কিছু অংশ খুব ভাল হয়েছে, আর কিছু কিছু জায়গা আরো ভাল হতে পারত। বানানের ব্যাপারেও একই কথা। তবে বইয়ের পেজ সেটআপ, কোয়ালিটি ও গুণগত মান অনেক ভাল ছিল।

    বইটি কেন পড়ব?
    নবুওয়াতের ২৩টি বছর নবীজি(ﷺ)-কে নিজের জান, মাল ও সবকিছু দিয়ে সহায়তা করে গেছেন আবু বকর (রা) । শুধু কি তাই? নবীজি(ﷺ)-এর ওফাতের পর ইসলাম নামক চারাগাছটাকে সকল ঝড়ঝাপ্টা আগলে সযতনে নিরাপদ রেখেছেন যোগ্য অভিভাবকের মত। মুরতাদদ্বীনের ফিতনা থেকে রক্ষা করেছেন, সূচনা করেছেন ইরাক ও শামদেশের বিজয়ের। আসলেই আবু বকর হচ্ছেন নবীদের পরে সর্বোত্তম মুসলিম। আর তাঁর জীবনী তো ইসলামের সোনালি ইতিহাসেরই বিচ্ছুরণ। সেই জীবনী নিয়ে রচিত অসাধারণ একটি বই হচ্ছে এই বইটি। তাই এই বই কেনইবা পড়বেন না?

    শেষ কথাঃ
    এই মহান লোকটির অসাধারণ জীবনীটি পড়ে যেন তাকে আরো গভীরভাবে জানলাম। বইটি তথ্যবহুল ও প্রাঞ্জল ছিল। ধন্যবাদ ড. সাল্লাবী। ধন্যবাদ মাকতাবাতুল ফুরকান।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?