মেন্যু
Allahor sontustir shondhane

আল্লাহ‌র সন্তুষ্টির সন্ধানে

অনুবাদ: আশিকুর রহমান পৃষ্ঠা: ২৩০ (পেপার ব্যাক) “আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে” বইটি “মীসাকুল আমালিল ইসলামি” (ইসলামি কাজের রূপরেখা) গ্রন্থের অনুবাদ। এর লেখক তিনজন আলেম : ডক্টর নাজীহ ইবরাহীম, আসিম আবদুল মাজিদ এবং ইসামুদ্দীন... আরো পড়ুন
পরিমাণ

274  370 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী প্রসাধনী

4 রিভিউ এবং রেটিং - আল্লাহ‌র সন্তুষ্টির সন্ধানে

5.0
Based on 4 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    প্রিয় মানুষের কাছে প্রিয় হতে, তার ভালোবাসা পেতে মানুষ কত কিছুই না করে! আমাদের সবচাইতে যিনি ভালবাসেন, গোটা ভালবাসার বিরাট অংশ যিনি আমাদের জন্য রেখে বাকিটুকু আমাদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছেন সেই আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য তথা সন্তুষ্টি পেতে হলে তার মন রক্ষা করে চলাটাই মূল কথা। সেই পথেরই সন্ধান পেতে ডুবে যেতে হবে এই বইয়ের গভীরে, তুলে আনতে হবে মুক্তো।

    কেন পড়বেন বইটি?
    ++++++++++++++
    মানুষের জীবনের চুড়ান্ত সফলতা হলো স্রষ্টার সন্তুষ্টি। এটি অর্জন যে একেবারে সহজ কোন কাজ তা নয় আবার খুব কঠিন এমনও নয়। সঠিক পথে চলে নিয়মিতভাবে আল্লাহর জন্য কাজ করে সত্যের সাথে পথচলাতেই সাফল্য। বাজারে অনেক মোটিভেশনাল বই পাওয়া যায়, কীভাবে সাফল্য অর্জন করবেন, কীভাবে কম সময়ে ধনী হবেন। সফল হবার ১০১ টি উপায় ইত্যাদি। এগুলো সবই দুনিয়াবী ক্ষনস্থায়ী সাফল্যের দিক নির্দেশনা দেয়। আর এই বইটি চিরস্থায়ী সাফল্যের পথ নির্দেশ দিয়ে আপনাকে মঞ্জিলে পৌছে দিবে ইনশা আল্লাহ।

    বইয়ে যা যা আছেঃ
    ++++++++++++++
    আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রথমেই তাকে ভালভাবে জানতে হবে। এই বিষয়কেই আমাদের মূল লক্ষ্য হিসাবে স্থির করে সে অনুযায়ী নিজের সকল কাজকে আবর্তিত করতে হবে। দুনিয়া আমাদের বিভিন্ন দিকে ডাক দিবে, প্রলোভন দেখাবে নানা চাকচিক্য, বিনোদন এর কিন্তু আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর দেয়া জান্নাতে গিয়ে তার সন্তোষ অর্জন। এজন্য নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে, আকীদা, বিশ্বাস ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

    আল্লাহর প্রিয় হওয়া যেমন কাঙ্খিত তেমনি তার অপ্রিয় হয়ে ওঠাও খুবই মারাত্মক বিষয়। কি করলে আল্লাহর বিরাগভাজন হতে হয় তা জানা রাখা সকলের দায়িত্ব ও সেই পথ না মাড়ানোটাই জ্ঞানীর কাজ। লক্ষ্য স্থির করে সেই পানে তীব্র গতিতে সত্যের মশাল নিয়ে ছুটে চলা, সেই সুমহান বৈশিষ্ট্য ও নীতির ভিত্তিতেই মিত্রতা, বন্ধন, একতাবদ্ধতা তৈরি করে মঞ্জিলে পৌছা আমাদের লক্ষ্য। এই পথে সামনে আসতে পারে শত্রু, আসতে পারে বাঁধা কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিতে একতাবদ্ধ থেকে সেই বাঁধা অতিক্রম করে সোনালী বিজয় আনতে পারার মাধ্যমে দুনিয়াবী সাফল্য ও আল্লাহর সন্তষ্টি নিহিত, যার ফলাফল পাওয়া যাবে আখিরাতে, জান্নাতের বাগানে, ইনশা আল্লাহ।

    উপলব্ধিঃ
    +++++++
    প্রতিটি পরিবারে, ঘরে ঘরে যদি বইটি পৌছানো যেত তাহলে আমরা একটি সফল জাতি, উম্মাহ পেতাম। সেই দিন ইনশা আল্লাহ দূরে নয়। এই বই আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠুক। সকলেই পরাক সাফল্যের মুকুট এই প্রত্যাশা।

    বইয়ের গঠন সম্পর্কেঃ
    ++++++++++++++
    মনকাড়া, নজরকাড়া প্রচ্ছদ বইটিকে হাতে নিয়ে পড়ার প্রতি আগ্রহকে বাড়িয়ে দেয়। বিষয়বস্তু ও নামকরনের আকর্ষন তো সাথে রয়েছেই। এমন একটি সময়োপযোগী বই বের করে পাঠকদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য প্রকাশনীসহ সকলের জন্য মনের গভীর থেকে দোয়া, চোখের পানির সাথে মিশে থাকবেন তারা ইনশা আল্লাহ।

    বই : আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে
    লেখক : ড. নাজীহ ইবরাহীম,
    আসিম আবদুল মাজিদ, ইসামুদ্দীন দারবালাহ
    অনুবাদক : আশিকুর রহমান
    প্রকাশনীঃ নুসুস পাবলিকেশন
    মুল্যঃ ৩৭০ টাকা

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ◉ বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

    আমরা রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠি। দৈনন্দিন কাজগুলো করি। আবার রাতে ঘুমাতে যাই। রোজই আমাদের আশেপাশে কতো ঘটনা ঘটে যায়। আমরা সমাজে বসবাসকারী মানুষগুলো একে অপরের সুখ, দুঃখ অন্যের সাথে ভাগ করি। আমাদের প্রতিবেশী অনেকেই আজ পৃথিবীতে নেই। আমরাও যে আগামীকাল সকাল অবধি বাঁচবো এর কোন গ্যারান্টি কি কেউ দিতে পারবে? পৃথিবীর কোনো ডাক্তার,জ্যোতিষী কেউই এই গ্যারান্টি দিতে পারবে না। মৃত্যু মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং নির্মম সত্য। একবার চোখটা বন্ধ করুন, ভাবুন- আমি কে? আমি কোথায়? আমাকে কে পাঠিয়েছে এই দুনিয়ায়? আমি কেনো এসেছি? আমরা কি অমর নাকি আমার মৃত্যু আছে? আমার জীবনের উদ্দ্যেশ্য কি! ভাবিন,মনের গভীর থেকে কথাগুলো অনুভব করুন,দেখবেন শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাবে।

    ◉আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্যই হলো-
    মহান আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং নবীজীর সুন্নাহ মেনে চলা।

    ❝আর সবচেয়ে বড় হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাই হলো বিরাট সাফল্য ❞
    (সূরা আত-তাওবা ৯ঃ৭২)

    আমরা সর্বদাই মানুষের মন জুগিয়ে মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করি। কিন্তু যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদেরকে হায়াত ও রিযিক দান করেছেন, আমরা কয়জন সেই মহান রব আল্লাহ তা’আলা কে সন্তুষ্টি করার চেষ্টা করি। একটু ভেবে দেখেছেন কি?

    প্রিয় নবীজী(সঃ) আমাদের শিখিয়েছেন যে,আমাদের রব মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

    ◉ আজকে যে বইটি নিয়ে আমরা আলেচনা করছি,বইটির নাম –
    ❝ আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে ❞
    শিরোনাম দেখেই বইটি সম্পর্কে সকলেই কিছু ধারনা করতে পারবেন। চলুন আরো কিছু জানা যাক।

    ♦বইটিতে যা যা রয়েছেঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    বইটির মূল উদ্দেশ্যই হলো কিভাবে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে আখিরাতের পাথেয় অর্জন করতে পারবো। একমাত্র আল্লাহর জন্যই নিজেদেরকে বিশুদ্ধভাবে তাঁর নিকট সমর্পন করা। এছাড়াও বইটিতে যা যা জানা যাবে-

    আমাদের জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য,আমরা যা বিশ্বাস করি,আমাদের আকিদা,আমরা যেভাবে বিশ্বাস করি,আমাদের লক্ষ্য, আমাদের পথ,আমাদের পাথেয়,আমাদের শত্রুতা/মিত্রতা,আমাদের সংঘবদ্ধ।
    মোটকথা,আল্লাহকে কিভাবে আমরা সন্তুষ্ট করতে পারি এবং নবীজীর সুন্নাহ কিভাবে যথাযথভাবে পালন করতে পারি,সেটা এই বইয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ♦লেখক পরিচিতিঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    ❛আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে❜ বইটি ❛মীসাকুল আমালিল ইসলামি❜ (ইসলামি কাজের রূপরেখা) গ্রন্থের অনুবাদ।
    এর লেখক তিনজন আলেম : ডক্টর নাজীহ ইবরাহীম, আসিম আবদুল মাজিদ এবং ইসামুদ্দীন দারবালাহ। অনুবাদক : আশিকুর রহমান।
    মিশরের ❛লিমান তুররাহ❜ কারাগারের ভেতর থেকে ১৯৮৪ ঈসায়ি সনের ফেব্রুয়ারি মাসে এই বইটি প্রকাশিত হয়। বইটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডক্টর শাইখ উমার আব্দুর রহমান, যিনি কেবলমাত্র হক কথা বলার অপরাধে আমেরিকার কারাগারে দীর্ঘ তেইশ বছর কাটিয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

    ♦পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    এবারের অনুভূতি একদমই অন্যরকম। বইটি পড়ে আমি মহান রবকে সন্তুষ্ট করার অনেক উপায় জেনে ফেললাম। আমাদের সকলের জীবনের উদ্দেশ্য মহান রব আল্লাহকে খুশি করা,ইখলাসের সাথে তারই ইবাদাত করা এবং নবীজীর সুন্নাহ অনুসরন করা। আল্লাহ আমাদের বিজয়,সাফল্য, গৌরব সবকিছু দান করার ওয়াদা করেছেন।
    সব রকম অনুগত্য থেকে বের হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের অনুগত্যে আবদ্ধ হতে হবে আমাদের।

    ❝ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করেন,যারা আল্লাহকে সাহায্য করে। ❞
    (সূরা আল-হাজ্জ,২২ঃ৪০)

    আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ী। এছাড়াও রাসূল(সঃ) এর সাহাবিগন ও অনুসারীদের হুবহু অনুসরন করার কোনো বিকল্প নেই।ধৈর্য্যের সাথে সুন্নাহ অনুসরন করতে হবে।

    মুগীরা ইবনু শু‘বা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘“রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার তাহাজ্জুদ সালাতে) এতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন যে তাঁর দুই পায়ের পাতা ফেটে গিয়ে রক্ত বের হলো। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল!আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। (তবুও কেন এমনটা করেন?) জবাবে তিনি বললেন,আমি কিআল্লাহর একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’”
    (সুনানে আন-নাসায়ী:১৬৪৪)

    সালাফগন যা বলেছেন তা আঁকড়ে ধরতে হবে।নাজাতের একমাত্র পথ সুন্নাহর প্রকৃত অনুসরন। আমাদের পাথেয় হবে তাকওয়া ও ইলম, ইয়াকীন ও রবের প্রতি তাওয়াক্কুল, শোকর ও সবর, দুনিয়ার উপর আখিরাতের প্রাধান্য। আর আমাদের আকিদা হবে সালাফ সালেহিনদের আকিদার মতো।
    আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার সবকিছুই এই বইটিতে বিস্তারিত এবং সহজবোধ্য ভাবে উপস্থাপন করা আছে। মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি ঘরে ঘরে এমন বই থাকা উচিত। আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ❛ নুসুস পাবলিকেসন্স ❜ কে, এতো সুন্দর একটা বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য,আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুক।

    ♦বইটি কেন পড়বেনঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

    আজ মুসলিমানদের মধ্যে অদ্ভুত সব বিশ্বাস,মতবাদ,তন্ত্র-মন্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে যা আমাদের দ্বীন ইসলামকে কলুষিত করছে।
    মুসলমান যুবকদের মাঝেও তৈরী হয়েছে সংশয়।
    এই বইটি বারবার আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্যকে মনে করিয়ে দিবে এবং বলবো কিভাবে আমরা মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবো। বইটি আমাদের ভুল-ভ্রান্তি শুধরে নিয়ে ইসলামের সোনালী যুগের সালফে-সালেহীনদের মত-পথ অনুসরণের রাস্তা দেখাবে। এছাড়াও আমরা এখনো যারা ইসলামি রাষ্ট্র ব্যাবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, ইসলামি আন্দোলোন,দাওয়াহ সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানি না।তারা অবশ্যই বইটি পড়বেন।
    ❛নুসুস পাবলিকেসন্স ❜ এর এই বইটি হয়ে পারে আপনার আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যম।

    ♦মন্তব্যঃ
    ▔▔▔▔
    আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্যই হলো আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন।আল্লাহর সন্তুষ্টি যে পেলো,সে সবকিছুই তো পেয়ে গেলো।আর যে হারালে,সে সবকিছুই হারালো।
    যারা মনে প্রানে আল্লাহর সন্তুষ্টি সন্ধান করে,অনুসরন করে-আল্লাহ ত’আলা তাদেরকে তা দান করেন। সত্যিই তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন।
    ❛ আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু কি করে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে?!! ❜

    ♦এক নজরে বইটি সম্পর্কেঃ
    বইঃ আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে
    লেখকঃ ড. নাজীহ ইবরাহীম,
    শাইখ আসিম আব্দুল মাজিদ,
    শাইখ ইসামুদ্দীন দারবালাহ
    তত্ত্বাবধানেঃ ড. শাইখ উমার আব্দুর রহমান রহিমাহুল্লাহ
    অনুবাদকঃ আশিকুর রহমান
    প্রকাশনীঃ নুসুস পাবলিকেশন
    পৃষ্ঠা: ২৩০ (পেপার ব্যাক)
    মূল্যঃ ২৫৮ টাকা(৩০% ছাড়)

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    বর্তমান বিশ্বের যেদিকে চোখ যায় আমরা দেখি পাশ্চাত্য সভ্যতার জয়জয়কার। রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক কিংবা আদর্শিক সবক্ষেত্রেই তারা নেতৃত্বের আসনে। নীতি-নৈতিকা বহির্ভূত,ধর্মহীন এক কুফফার জাতিই আজ পৃথিবীর বুকে সর্বেসর্বা। বিপরীতে যদি আমরা মুসলিম জাতির দিকে তাকায় তবে কি দেখি?

    কাফিরদের ষড়যন্ত্র,মুনাফিরদের বেইমানি,মুসলিমদের নৈতিক অধঃপতনের কারণে খিলাফত ব্যবস্থা ভেংগে গিয়ে সৃষ্টি হল কতগুলা জাতি রাষ্ট্রের। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব রাজ্যে চলছে কুফফারদের অনুগত কিছু মুনাফিকদের শাসন,যারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইনকে বাস্তবায়ন না করে কুফফারদেরই তৈরি আইন দিয়ে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

    কাফিররা শুধু খিলাফত ব্যবস্থা ধব্বংস করেই ক্ষান্ত হইনি,তারা শুরু করলো বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রুসেড। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানে তারা বুঝতে পারলো মুসলিমদের দৃঢ় আকিদা-বিশ্বাসে যতদিন পর্যন্ত চীড় ধরানো যাবে না,ভেজাল মিশ্রিত করা যাবে না,ততদিন পর্যন্ত তাদের পরাজিত করা যাবে না। তাই তারা মিডিয়ায় মাধ্যমের শুরু করলো নানা ধরণের প্রপাগাণ্ডা। তার ফলাফল হিসেবে আজ আমরা শুনতে গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্লোগান। সমাজতন্ত্র,সেক্যুলারিজম,উদারবাদ নামক বিভিন্ন কুফরী তন্ত্রমন্ত্রকে আজ আমরা ভেবে বসি মানবজাতির যাবতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। আল্লাহর দেওয়া আইন,শরীয়াহ এগুলোকে মনে হয় সেকেলে,ক্রটিপূর্ণ। ইসলামের মাঝে আজ আমরা সম্মান খুঁজে বেড়ায় না!

    আচ্ছা,চিন্তা করুন তো,ইসলামের সোনালি সময়ের সেই শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের কথা। চিন্তা করুন সেই সব মানুষদের কথা যাদের প্রতি আল্লাহ,তার রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট ছিলেন। যাদেরকে দেওয়া হয়েছিল দুনিয়ার বুকে রাজত্ব। তাদের প্রতিটি ঘটনায় ঈমানের আলোকচ্ছটা ঠিকরে বের হয়। তাদের দিকে তাকালে চোখ ধাধিয়ে যায়। যে কেউ ভাবতে বাধ্য হয়,”কোন জিনিস তাদের এত দ্রুত অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে গেল? কিসে তাদের শ্রেষ্ঠতম প্রজন্ম বানালো?”

    হ্যাঁ,ইসলাম। দ্বীন ইসলামই তাদের শ্রেষ্ঠত্বের চাবিকাঠি,আল্লাহর দিকে পরিপূর্ণ আত্নসমর্পণই তাদের সাফল্যের নিগূঢ় রহস্য। তাই,আমরাও যদি আজ দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান,মহাসাফল্য পেতে চাই, তাহলে আমাদের কেও পুরোপুরি ভাবে ইসলামের দিকে ফিরে যেতে হবে। সেই ইসলামের কাছেই ফিরে যেতে হবে যেই ইসলামের উপর ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম,তাবেঈন,তাবে-তাবেঈনসহ উম্মাহর জমহুর উলামায়ে কেরাম।যদি কখনো ঘুম থেকে উঠে পরিপূর্ণ দ্বীনে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় আর শত্রুদের মোকাবেলা করার ইচ্ছা জাগে তবে ঐ পথেই হাঁটতে হবে যে পথে হেটে সাফল্য পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের মহীরুহরা। তাদের মত করেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে,জিহাদ করতে হবে। শিখতে হবে তাদের সেই তাকওয়া,সবর,জিহাদ। শিখতে হবে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচেষ্টা,কর্মপদ্ধতি।

    এ লক্ষেই নুসুস পাবলিকেশন প্রকাশ করেছে এই বইটি-আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে। যাতে প্রতিটি ইসলামি আন্দোলনের কর্মী তাদের আন্দোলনে শরীয়তের মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপস্থিত নিশ্চিত করতে পারে। বইটি মূলত মীসাকুল আমালিল ইসলামী (ইসলামী কাজের রূপরেখা) গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ। লিখেছেন মিশরের তুররাহ কারাগারে বন্ধী তিনজন আলেম। কারাবন্দী আলেমদের লেখনীতে উঠে এসেছে আজকের ইসলামী আন্দোলনের রুপরেখা।’আকিদা থেকে দাওয়াত,জিহাদ থেকে খিলাফা,তাকওয়া থেকে সবর-এই সবকিছু কিভাবে প্রতিটি মুসলিমের জীবনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে একসাথে কাজ করে, তা দেখানো হয়েছে’। উম্মাহর এই দুঃসময়ে কিভাবে দাওয়াতী কাজ করতে হবে,মানুষকে হকের পথে কিভাবে ডাকতে হবে,কিভাবে খিলাফা প্রতিষ্ঠায় আত্ননিয়োগ করতে হবে তার জন্য একটি সার্বিক দিকনির্দেশনা হিসেবে বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আজকের ইসলামি আন্দোলনে যুক্ত কর্মীদের জন্য এই বইটির দিকনির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা যথেষ্ট ফলদায়ক হবে বলে আশা করি।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    দুনিয়ায় আল্লাহর প্রতিনিধি মানুষের সব কাজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন। এ বিষয়ে সব সময় মানুষকে সতর্ক থাকতে হয়।যে কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন তার পেছনে ছুটতে হবে, যে কাজ করলে তিনি অসন্তুষ্ট হবেন তা বর্জন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অনেক মাধ্যম রয়েছে। দয়াময় আল্লাহর ওলি-বন্ধুদের একটি মহান মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার প্রতি সন্তুষ্টি। একটি একটি উচ্চতর স্তর, যা দয়াময় আল্লাহর করুণাসিক্ত তৌফিকপ্রাপ্ত বান্দারা বাস্তবায়ন করেন। আল্লাহতে সন্তুষ্টির অর্থ, বান্দাকে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তা করা আর যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তা বর্জনে সন্তোষ এবং সুখ-দুঃখ যেভাবেই থাকুক না কেন, তা হাসিমুখে বরণ করে নেয়া। ফুজাইল বিন ইয়াজকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কে আল্লাহ তায়ালার প্রতি সন্তুষ্ট? তিনি বলেছিলেন, ‘তাকে যে অবস্থায় রাখা হয়েছে তার ভিন্ন অবস্থায় থাকতে যে পছন্দ করে না। আর এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর নেক বান্দার জন্য শুধু তাই পছন্দ করেন, যা তার জন্য কল্যাণকর। ‘তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।’ (সূরা বাকারা : ২১৬)।
    আমলের প্রতিদান হয় তারই অনুরূপ। সুতরাং যে আল্লাহতে সন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহও তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। আর জান্নাত ও তার সব নেয়ামত থেকে সেরা নেয়ামত বান্দার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি।
    সংক্ষিপ্ত পিডিএফ আলোচনাঃ
    “আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে” বইটি “মীসাকুল আমালিল ইসলামি” (ইসলামি কাজের রূপরেখা) গ্রন্থের অনুবাদ। এর লেখক তিনজন আলেম : ডক্টর নাজীহ ইবরাহীম, আসিম আবদুল মাজিদ এবং ইসামুদ্দীন দারবালাহ। ১৯৮৪ ঈসায়ি সনের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি প্রকাশিত হয়। বইটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডক্টর শাইখ উমার আব্দুর রহমান।
    বইটির আলোচ্য বিষয় সমূহঃ
    বইটিতে মুখবন্ধ ও ভূমিকাসহ ১২ টি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে
    • মুখবন্ধ
    • ভূমিকা
    • আমাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য
    • যা বিশ্বাস করি
    • এই আমাদের আকীদা
    • যেভাবে বিশ্বাস করি
    • আমাদের লক্ষ্য
    • আমাদের পথ
    • আমাদের পাথেয়
    • আমাদের ওয়ালা (মিত্রতা)
    • আমাদের ‘আদা (শত্রুতা)
    • আমাদের সংঘবদ্ধতা
    কেন বইটি সংগ্রহে রাখবো ও পাঠ করবোঃ
    বর্তমান যুগে ইসলামি সংস্কার কেমন হতে হবে, তার একটি পরিপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরেছেন লেখকগণ। আকীদা থেকে দাওয়াত, তাকওয়া থেকে সবর—এই সবকিছু কীভাবে প্রতিটি মুসলিমের জীবনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে একসাথে কাজ করে, তা দেখানো হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে আজকের মুসলিমদের সার্বিক অবস্থার একটি বাস্তব চিত্র। খুব শীঘ্রই নুসুস পাবলিকেশন থেকে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। আশাকরি বইটি প্রকাশ হওয়ার সাথে পাঠকগণ বইটি সংগ্রহে রাখবে । আমি বইখানার মঙ্গল কামনা ও বইটি যেন পাঠক প্রিয় বইয়ে সমাদৃত হয় , আমি সেই আশা ব্যক্ত করছি ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top