মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

বিয়ে স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর

বিয়ের মতো অনবদ্য একটি আশীর্বাদ দুঃসহ অভিশাপে পরিণত হতে পারে যদি বিয়ের আগের ও পরের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হয়। কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সাজানো দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী-স্ত্রী উপরই নয় বরং গোটা সমাজের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ বয়ে আনে। বিয়েকে পার্থিব জীবনের সুখ ও পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে প্রধান বিষয়গুলো এই বইয়ে আলোচিত হয়েছে। একজন আন্তরিক পাঠক বইটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনে সক্ষম হবেন, ইন-শা আল্লাহ।

পরিমাণ

94.00  135.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

13 রিভিউ এবং রেটিং - বিয়ে স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    ❀বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম!

    ❝ আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। ❞
    (সূরা রুম : আয়াত ২১)

    বিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নেয়ামতের নাম। নবীজী(সঃ) এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। বিয়ে যুবক-যুবতীর চরিত্র গঠনের অন্যতম উপাদান। আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ হচ্ছে বিয়ে, যা প্রত্যেক মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা।কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সাজানো দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী-স্ত্রী উপরই নয় বরং গোটা সমাজের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ বয়ে আনে।

    বিয়ের মতো অনবদ্য একটি আশীর্বাদ দুঃসহ অভিশাপে পরিণত হতে পারে যদি বিয়ের আগের ও পরের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হয়।
    পরিবারের বাঁধগুলো যে আজ ভাঙতে বসেছে,তা মেরামতের উদ্যোগ না নিলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে যেমন শান্তি হারিয়ে যাবে,ভবিষ্যৎ প্রজন্মও বিপদের মুখে পড়বে।

    বিয়ে এবং বিয়ে পরবর্তী দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ে করনীয়, বর্জনীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোনের সুবিধা এবং অসুবিধা বিয়ে পরিচ্ছন্নভাবে জানাতে
    সিয়ান পাবলিকেশন্স এবং অনুবাদক শরীফ আবু হায়াত অপু আমাদের জন্য বাংলা ভাষায় আয়োজন করেছেন মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের লেখা
    ❝ বিয়ে-স্বপ্ব থেকে অষ্টপ্রহর ❞ বইটি। আমাদের আজকের আলোচনা এই বইটিকে ঘিরেই।

    ♦বইটিতে যা যা রয়েছে সংক্ষেপেঃ

    মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের ❝ Marriage: Making and living of it ❞ বইয়ের বাংলা অনুবাদ হলো
    ❝ বিয়ে-স্বপ্ব থেকে অষ্টপ্রহর ❞ বইটি।

    এখানে জানা যাবে,বিয়ে সম্পর্কে ইসলাম কি বলে,সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে কোন কোন বিষয়গুলো অবলম্বন করা বেশি জরুরি,এছাড়া রাসূল(সঃ) বিয়ের বিষয়ে যে ৪ টি জিনিস দেখতে বলেছেন,লেখক আলাদা করে বিয়ের বিষয়ে ছয়টি পরামর্শও দিয়েছেন। এছাড়াও দাম্পত্য জীবনে কিভাবে সুন্দর করা যায়,সঠিক পাত্র-পাত্রী নির্বাচন,সংসারে স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য, দাম্পত্য জীবনে ধনসম্পদ, সন্তানলাভ,শ্বশুর শাশুড়ির অনুপ্রবেশ কতোটা ফলপ্রসূ এমন সমসাময়িক ২০ টি প্রশ্নের মাশাআল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ উত্তর রয়েছে,যা একজন বিবাহিত,অবিবাহিত সকলের জন্য জানা জরুরি।
    একজন আন্তরিক পাঠক বইটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনে সক্ষম হবেন, ইন-শা আল্লাহ।

    ♦আমার অনুভূতিঃ

    আলহামদুলিল্লাহ! বাংলা ভাষায় বিয়ে বিষয়ক এমন ইসলামিক,সামাজিক এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দাম্পত্য সমস্যাগুলো নিরসনে এমন বই দ্বিতীয়টি আছে কিনা আমার জানা নেই। এক কথায় আধুনিক দাম্পত্য জীবনের গাইডলাইন বলা যেতে পারে বইটিকে । কি নেই এখানে, আধুনিক যুগে দাম্পত্য জীবনের সকল সমাধানের জন্য এর চেয়ে উত্তম বই আর হতেই পারে না।

    নবীজী(সঃ) বলেন,
    ❝ এ পৃথিবীর সর্বোত্তম নিয়ামত হলো পূন্যবান স্ত্রী। ❞

    বইটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে, এমন কাউকে বিয়ে করুন যাকে দেখে অনুকরন করতে ইচ্ছে করে,যার থেকে ক্ষমা শেখা যায়।সর্বদা ভালো স্মৃতিগুলোকে মনে রাখুন,খারাপ স্মৃতিগুলোকে অপসারন করুন,জীবনসঙ্গীকে উপহার দিয়ে চমকে দিন। মনে রাখবেন, বিয়ে নবীজীর সুন্নাহ।এমনভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক শুরু
    করুন যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায়,আল্লাহর রহমত এবং নিয়ামত অর্জন করা যায়।তাই আমি বলবো, ❝ বিয়ে-স্বপ্ব থেকে অষ্টপ্রহর ❞ সকলের জন্য মাস্টরিড একটি বই।

    ♦বইটি পড়া কেনো জরুরিঃ

    দিনকে দিন বৈবাহিত জীবনে কলোহ বিবাদ যেনো বেড়েই চলেছে,নাগরিক জীবন যেনো এই বিষয়টিতে বড্ড হতাশ, যা হুমকিস্বরূপ পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও। আমার ধারনা তাদের মনে একটু হলেও আশার আলো এবং স্বস্তি জাগাবে এই বইটি।

    বিয়ের জন্য বর কনে নির্বাচন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে একজোড়া মুসলিম দম্পতির করনীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের ❝ Marriage: Making and living of it ❞ বইয়ের বাংলা অনুবাদ ❝ বিয়ে-স্বপ্ব থেকে অষ্টপ্রহর ❞ বইটি সকল যুবক ভাইয়েরা এবং বিবাহিত ভাইয়েরা জীবনে একবার হলেও পড়ুন। বিবাহিতদের জন্য তো বটেই, অবিবাহিত দের জন্যও বইটি সমানভাবে ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করছি ইনশাআল্লাহ। বইটির সাথে জড়িত সকলকে মহান রব্বুল আলামীন কবুল করুক,আমিন।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 4 out of 5

    :

    অনেক সুন্দর একটা বই। বিবাহিত অবিবাহিত সবারই বইটা পড়া উচিত। এক একটা বাক্য যেন সারাংশ। প্রতিটি বাক্য নিয়ে ভাববার মত। সংক্্ষিপ্ত কথায় অনেক দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি সবাই কম বেশি উপক্রত হবেন ইনশাআল্লাহ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5

    :

    “দেশে গত ৭ বছরে ডিভোর্সের হার বেড়েছে প্রায় ৩৫%।ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় ১ তালাক।”

    ___আঁতকে ওঠার মতো একটা খবর তাই না? অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে এই বিচ্ছেদের কারন পরকীয়া, স্ত্রীর স্বাবলম্বিতায় বাধা,মনোমালিন্য, ‘তাকে আর ভাল্লাগে না’, ‘কোন স্বাধীনতা নাই’ __এ-ই কারন।আসলেই কি তাই?আমার মত এর কারন ইসলাম থেকে দূরে যাওয়া,সঠিক পাত্র-পাত্রী নির্বাচন না করা,বস্তুত বিবাহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ না করা।এই যে বিচ্ছেদের হার আশংকাজনকভাবে বাড়ছে,এর প্রভাব কি শুধুই ব্যক্তিজীবনে পরে?মোটেই না, এর সুদূর প্রভাব ব্যক্তিজীবনকে ছাপিয়ে সমাজের অলিগলিতে ছড়িয়ে পরে,ফলাফল ___মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ভবিষ্যত প্রজন্ম।

    #আলোচ্য_বিষয়★

    বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর….
    নামটাই কেমন যেন রোমান্টিক, তাই না?
    মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ রচিত বইটিতে মূলত আলোচনা করা হয়েছে বিবাহ ও এর উদ্দেশ্য, বিয়ের হুকুম-আহকাম,দাম্পত্য জীবনের গুরুত্ব, পারিবারিক জটিলতা, সমস্যা ও এর সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।বিবাহিত তো বটেই অবিবাহিতদের জন্য ও বইটি অতীব জরুরি।

    #যা_আছে_বইটিতে

    মোট ৪ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঢালাওভাবে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে।

    #১_ইসলামে বিয়েঃ অধ্যায়ের নাম শুনেই বোঝা যায় এ অধ্যায়ে বিয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং হুকুম -আহকাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিয়ে ইসলামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একজন নারী ও পুরুষের মধ্যকার জীবনঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। বিয়ের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো সুকুন তথা শান্তি।এর পরে যথাক্রমে মাওয়াদ্দাহ (ভালোবাসা) এবং রাহমাহ(দয়া,মমতা)।একটু খেয়াল করলে বোঝা যাবে নবদম্পতি গন বিয়ের পর প্রথম প্রথম একে অপরের ভালোবাসায় বাঁধা পরে।ছোট্ট ছোট্ট পাগলামি, অগোছালো স্বভাব,দোষ-ত্রুটি গুলোও যেন ভালো লাগে।সময় গড়ায়,নব প্রেমের ফোটা ফুল আস্তে আস্তে শুকিয়ে আসে।এখন সময়মতো হাতের কাছে তোয়ালেটা না পেলে বিরক্ত লাগে,খাবারে লবনের তারতম্য ও যেন মেনে নেয়া যায় না।তারপরও একে অন্যকে ছেড়ে থাকা যায় না_এটা রাহমাহ।বিধাতার হাতে গড়া কি আশ্চর্য বাঁধন! আল্লাহ তায়ালা বলেন___

    “তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এই যে,তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন।যাতে তোমরা তাদের পেয়ে পরিতৃপ্ত হও।তিনি তোমাদের মধ্যে পারষ্পরিক প্রেম-ভালবাসা ও মমত্ববোধ সৃষ্টি করেছেন।এর মধ্যে চিন্তাশীল লোকদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। ”

    #২_বিয়ের_জন্য_প্রয়োজনীয়_বিষয়ঃ বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের জন্য লেখক এ অধ্যায়ে জীবন সঙ্গী নির্বাচন করার কিছু টিপস দিয়েছেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য লেখকের পরামর্শ বিয়ের ক্ষেত্রে মূলত ৬টি বিষয় আবশ্যিকভাবে যাচাই করা।এগুলো হলো__১.ইসলাম(দ্বীন,চরিত্র ইত্যাদি),২.হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন,৩.আচার-আচরণ, ৪.কথোপোকথন,৫.দুজনের জীবনের অভিন্ন লক্ষ্য, ৬.পরিবার।

    #৩_বিবাহিত জীবন সুখী করার উপায়ঃ এটি এই বইয়ের সবচেয়ে জরুরি অধ্যায় বলে আমি মনে করি।এখানে লেখক সুখী জীবন-যাপনের জন্য করনীয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।এছাড়াও অধ্যায়ের একাংশ জুড়ে প্যারেন্টিং এর উপর জোরালো বক্তব্য রেখেছেন।লেখকের মতে সুন্দর দাম্পত্য জীবনের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে___সত্য বলা,যত্ন নেয়া ও পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।খেয়াল করুন!লেখক একবারও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেননি।কারন যেখানে এই তিন গুনের উল্লেখ আছে সেখানেই ভালোবাসা আছে কারন ভালোবাসা সৃষ্টিই হয় এই তিনের সমন্বয়ে।লেখকের ভাষায়___

    “দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তি কেবল স্বামী-স্ত্রীর মন মানসিকতা এবং আচরনের উপর নির্ভর করে।তারা যদি সত্যিই সুখী হতে চায় তাহলে কেউ তাদের রোধ করতে পারবে না।আর তারা অশান্তি করলে কেউই তাদের শান্তি এনে দিতে পারবে না।”

    পরের অংশে সুখী দাম্পত্য জীবনে স্বামী -স্ত্রীর ও পরিবারের ভূমিকা, বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষতিকারক দিক,সন্তানের ভূমিকা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।পাশাপাশি অসুখী দম্পতিদের সুখ ফিরিয়ে আনতে কিছু ফলপ্রসূ উপায় ও বাতলেছেন।এখানে লেখক পিতা মাতা হিসেবে তাদের দায়িত্বের কথা স্মরন করে দিয়েছেন।এছাড়াও সন্তান লালন-পালনের কিছু সফল পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন।

    #৪_বিয়ের খুতবাঃ এটি এই বইয়ের সর্বশেষ আলোচনা। মূলত পুরো বইয়ের আলোচনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারনা দেয়া আছে এ পর্ব তে।

    বিয়ের মতো অনবদ্য একটি আশীর্বাদ দুঃসহ বেদনায় পরিনত হবে যদি বিয়ের আগের ও পরের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না হয়।সুন্দর দাম্পত্য জীবনের কল্যানের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবন ছাড়িয়ে সমাজেও ছড়িয়ে পরে।তাই লেখকের প্রত্যাশা___একজন আন্তরিক পাঠক যেন বইটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বাস্তবে প্রয়োগ করে সুখী হতে পারে।

    #কেন_পড়বেন_বইটি?

    _আপনি কি দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চান?
    _ আদর্শ জীবনসঙ্গী পেতে চান?
    _বিবাহের হুকুম আহকাম সম্পর্কে জানা আছে কি?
    _হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান কিন্তু পারছেন না?
    _দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানা আছে কি?অধিকার সম্পর্কে সচেতন তো?
    _সন্তান লালন-পালনে অনেক পিতামাতাই ব্যর্থ হন,সন্তান লালন-পালনের কৌশল সম্পর্কে জানতে চান?

    তাহলে বইটি পড়তে হবে আপনাকে….

    #ভালো_লাগা,মন্দ লাগা

    যা ভালো লেগেছে,
    _নজরকাড়া প্রচ্ছদ
    _সাবলীল ভাষা
    _আলোচনার বিষয়বস্তু
    _বিবাহ ভীতি দূর হলো

    যা মন্দ লেগেছে,
    বইটি এককথায় অসাধারণ মন্দ লাগার মতো কিছুই নেই।

    #লেখক_সম্পর্কে_দু_লাইন

    লেখক মির্জা ইয়াওয়ার বেগের জন্ম প্রাচ্যে।জীবনের বড় একটা অংশ প্রাচ্যে কাটিয়েছেন তিনি।কর্পোরেট জগতের বহু ডাকাবুকোর গুরু তিনি।আলোকিত মানুষটি যেন এক ভিন্ন চোখে দুনিয়াকে দেখেন

    #শেষ_কথা

    বিয়ে তো প্রায় সবাই করে।কেউ স্বামী হয়,কেউবা স্ত্রী?।
    কিন্তু প্রিয়জন?প্রিয়জন পাওয়া কি এতোই সহজ? অথবা চাইলেই কি কারো প্রিয়জন হওয়া যায়?
    আমাদের পরিবর্তন করতে হবে নিজেকে।ছাড় দেয়া নয় মানিয়ে নিতে হবে নিজেকে।কখনো সময়ের সাথে,কখনো বা পরিস্থিতির খাতিরে অথবা কখনো বা প্রিয়জনের জন্য___আর এই মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বইটি অসীম সহযোগিতার দাবি রাখে।
    বইটি বিবাহিত -অবিবাহিত এমনকি যাদের আমার মতো বিবাহ ভীতি রয়েছে তাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

    পরিশেষে সবাইকে অনুরোধ, বইটি আপনি নিজে পড়ুন এবং অপরকে পড়ার উৎসাহ দিন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বইটি পড়ার এবং এর অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার তৌফিক দান করুন।

    সকলকে জাঝাকুমুল্লাহ খাইরান।

    [আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে ]

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5

    :

    MashaAllah! Ek kothay oshadharon. Emn ekti boi ja bar bar porte mon chay. Each and Everyone should read this book.
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_মে_২০২০

    ব‌ই:বিয়ে স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর
    লেখক : মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ
    প্রকাশনী : সিয়ান পাবলিকেশন
    বিষয় : পরিবার ও সামাজিক জীবন
    মূল্য:১৩৫ টাকা

    বিয়ের মতো অনবদ্য একটি আশীর্বাদ দুঃসহ অভিশাপে পরিণত হতে পারে যদি বিয়ের আগের ও পরের কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হয়। কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সাজানো দাম্পত্য জীবন শুধু স্বামী-স্ত্রীর উপরই নয় বরং গোটা সমাজের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ বয়ে আনে।

    ব‌ইটির সারকথা:
    ***************
    একটি সুস্থ সুন্দর সমাজের ভিত্তি হলো পরিবার ব্যবস্থা। আর পারিবারিক জীবনের ভিত্তি হলো একটি সুস্থ সুন্দর দাম্পত্য জীবন অথচ পবিত্র দাম্পত্য জীবনে যেন আজ হানা দিয়েছে ভাঙ্গড়ের মহামারী।পরিণতিতে সমাজ জীবনে তৈরি হয়েছে ভয়ানক দায়িত্ববোধহীনতা। আবু হুরায়রা(র:) বর্ণনা করেছেন নবী (সাঃ) বলেছেন চারটি জিনিস দেখে একজন নারীকে বিয়ে করা হয়, তার সম্পদ ,বংশমর্যাদা ,রুপ সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারী।তোমরা বিয়ের সময় দ্বীনদার নারীদের অগ্রাধিকার দাও।
    মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে শুধু রূপ সুন্দর্য,আর ছেলে দেখার ক্ষেত্রে শুধু পদমর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি দেখে বিয়ে দিলে বাকি জীবন অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়।আর না হয় বিচ্ছেদ।দ্বীনদারীতা প্রাধান্য দিলে দাম্পত্য জীবনে সুখী হ‌ওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, বাকি টুকু আল্লাহ পাকের ইচ্ছা।
    দাম্পত্য সুন্দর জীবনের বৈশিষ্ট্য:
    সত্য কথা বলা, যত্ন নেওয়া ,পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ এই তিনটি গুণ কে সুখী দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গণ্য করা যায়। খেয়াল করুন এখানে ভালোবাসা শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি,কারণ ভালোবাসা মূলত সৃষ্টি হয় এই তিনটি বিষয় থেকে সম্মান ছাড়া কখনোই ভালোবাসা জন্ম নিতে পারে না।

    এমন কাউকে বিয়ে করুন যাকে দেখে অনুকরণ করতে ইচ্ছা হয় যাকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং যার থেকে কাছ থেকে ক্ষমা করা শেখা যায়।
    অসুখী দাম্পত্যজীবনের সূত্র হলো এমন কাউকে বিয়ে করা যাকে আপনি বদলে ফেলতে পারবেন চিন্তা করে বিয়ে করেন, মানুষ নিজে থেকে পরিবর্তন না হলে অন্য কেউ তাকে কখনোই পরিবর্তন করতে পারে না।এক সময় ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিতে হয়, ফলে সুখের হয় না বিবাহিত জীবন।
    ****#বিবাহিত_জীবন_সুখের_জন্য_কিছু_প্রশ্নের_উত্তর_খুঁজতে_হবে
    ১. দাম্পত্য জীবনকে কিভাবে সফল করা?
    ২.অসুখী দাম্পত্য জীবনে কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সুখ?
    ৩.আপনি কি সত্যিই চান আপনার দাম্পত্য জীবন সুখের হোক?
    ৪.মনের মানুষ বলতে কিছু আছে আপনার?

    সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়,আপনা-আপনি সৃষ্টি হয় না, একটু একটু করে গরে তুলতে হয় কখনো কখনো এজন্য অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
    দাম্পত্য জীবনকে সুখী করার পেছনে মূল দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রীর। সুন্দর সংসার সবার‌ই স্বপ্ন,এই স্বপ্নকে সত্যি করতে হলে আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
    এই ব‌ইটি বিবাহিত-অবিবাহিত, নারী-পুরুষ উভয়েরই পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ন।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  6. 5 out of 5

    :

    ◾ আলোচ্য বিষয়: কিছু কিছু বই আছে, যা পড়া হয়ে গেলে মনে হয়, “এত দ্রুত শেষ হয়ে গেলো কেনো! ” এটি এমনই এক ধরনের বই। ছোট্ট একটি বই। অথচ দাম্পত্য জীবন সুখী করার জন্যে এত এত টিপস দেওয়া হয়েছে এতে, যা সত্যিই অতুলনীয়।

    ◾ বিস্তারিত আলোচনা:  বইটির শুরুতেই ‘ইসলামে বিয়ে’ শিরোনামে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব কতখানি, তা খুব চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিবাহিত জীবন সুখী করারও কার্যকরী কিছু কৌশল আলোচিত হয়েছে এখানে।  যেমন:
    * পরস্পরকে সম্মান করতে হবে।
    * ভালো গুণগুলো মূল্যায়ন করতে হবে।
    * ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে।
    * সুন্দর স্মৃতিগুলো মনে রাখতে হবে।
    * মন্দ বিষয়গুলো ভুলে যেতে হবে। ইত্যাদি।

         ‘বিবাহিত জীবন সুখী করার উপায়’ শিরোনামে লেখক এ সম্পর্কিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যা এক কথায় অসাধারণ।  দাম্পত্যজীবন সুখী করার উপায় হিসেবে লেখক বিস্তারিত যে আলোচনা করেছেন, তার সারসংক্ষেপ এমন:
    * জীবনসঙ্গীকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়া।
    * সঙ্গীর কাছ থেকে যা আশা করা হয়, তা আগে নিজে করা।
    * জীবনের সবকিছু ভাগাভাগি করা।
    * সাংসারিক কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করা।
    * স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং ধন্যবাদ দেওয়া। ইত্যাদি।

    ◾ কেনো পড়বেন বইটি :

    আপনার সংসার জীবনকে সুখী করতে চান? সুখী করার মন্ত্র জানতে চান? তবে বইটি আপনাকে পড়তেই হবে। বিয়েকে পার্থিব জীবনের সুখ ও পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলো জানতে পড়তে হবে বইটি। একজন আন্তরিক পাঠক বইটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে সুখী-সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনে সক্ষম হবেন ইনশাআল্লাহ।

    ◾ মন্তব্য: বরাবরের মতোই সিয়ানের এ বইটির প্রচ্ছদ-পৃষ্ঠাসজ্জা সমালোচনার উর্ধ্বে। বইটি সম্পর্কে কী মন্তব্য করবো, ভেবে পাচ্ছি না।কেবল বলি, বিবাহিত-অবিবাহিত, সবাই বইটি পড়ুন। বইটি আমাকে যে উপহার দিয়েছে, তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    Was this review helpful to you?
  7. 5 out of 5

    :

    Mashallah. eto valo ato oshadharon boi!! na porle bujte partam na .
    1 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  8. 5 out of 5

    :

    ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, ‘একে অন্যকে ভালোবাসে এমন দুজনের জন্য বিয়ের মতো উত্তম আর কিছু আমি দেখি না।’ (ইবনে মাজাহ, অধ্যায়: বিয়ে, হাদীস নং- ১৮৪৭)

    বিয়ে সম্পর্কিত পড়া এটাই আমার প্রথম বই। কিন্তু মাত্র ৬২ পৃষ্ঠার বইটাতে লেখক সত্যিই সুন্দরভাবে জীবনসঙ্গিনীর প্রেমে বারবার পড়ার মন্ত্র সাবলীলভাবে বলেছেন।

    আসলে শুধু লাইফ পার্টনার না, লেখক এমন অনেক পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলো পরিবার পরিজন এমনকি বন্ধু-বান্ধবিদের সাথেও প্রয়োগ করা যায় বা করা উচিত।

    দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার মন্ত্র গুলো লেখক যখন আলোচনা করছিলেন তখন সত্যিই খায়েশ জন্মাচ্ছিল ৩০ বছর পরেও যেন আমি আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়তে পারি।

    সুখী দাম্পত্য জীবনে কী কী ভূমিকা রাখে এমন প্রশ্নে লেখক মোটামুটি তিনটি বিষয়ে ফোকাস করতে চেয়েছেন তা হলো-

    ১- সত্যবাদিতা
    ২- যত্নবান হওয়া
    ৩- পারস্পরিক সম্মানবোধ

    এছাড়াও অনুরাগ প্রকাশে পাগলামি করা। উপহার দেয়া। শুধু মেয়েরা না, ছেলেরাও যে উপহার পেলে খুশি হয় এবং বরং মেয়েদের তুলনায় বেশি খুশি হয় সেটাও হয়ত অনেকের ভাবনাতেও থাকে না।

    বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর বইতে লেখক মূলত ২০ টি প্রশ্নের উত্তরের উপর আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে আরো একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আমার কাছে লেগেছে যে, দুজনার একটা ভাষা তৈরি করে ফেলা।

    ‘যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে তাদের আপনি দেখবেন যে, তারা হয়ত কোনো বিষয় নিয়ে মুচকি হেসে যাচ্ছে, কী কারণে তারা দুজন হাসছে তা কেবল তারাই বুঝতে পারে। হয়তো দেখবেন তারা এমন একটা ভাষায় কথা বলছে যা কেবল তারাই বুঝতে পারছে। তাদের কথাগুলো হয়তো অন্যদের কাছে একেবারেই সাধারণ মনে হয়, কিন্তু তা তাদের পরস্পরের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এটা যদি আপনি গড়ে তুলতে পারেন তাহলে ৩০ বছর পরেও দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়বেন বারবার।’

    এ বিষয়টা লিখতে গিয়ে লেখকের আরো একটা উক্তিও অবশ্য মনে পড়ে গেল,

    ‘আমি প্রায়ই বলি, ‘ঝগড়াটে কাউকে বিয়ে করার চেয়ে একটি ঘোড়া কেনা ভালো; ঘোড়াটি অন্তত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে আনতে পারতো।’ ‘ঝগড়াটে’ একটা উভয়লিঙ্গ শব্দ; নারী বা পুরুষ উভয়ের খেত্রেই প্রযোজ্য।’

    আমার কাছে মনে হয়েছে অল্প কলেবরের বইটিতে লেখক অত্যান্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন দাম্পত্য নিয়ে। যদিও আমার মনে হয়েছে দাম্পত্যের বাইরেও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গুলোর খেত্রেও বইয়ের নাসিহা গুলো মূল্যবান মুক্তোর মত।

    লেখক মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের সম্পর্কে বলতে গেলে এটা আমার পড়া তার প্রথম বই। তবে তার প্রথম বই পড়েই আমি মুগ্ধ হয়েছি সত্যি। প্রকাশকের কথা থেকে লেখকের পরিচয় টুকলে বলতে হয়,

    ‘মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের জন্ম প্রাচ্যে। জীবনের বড় একটা অংশ পশ্চিমে কাটিয়েছেন। কর্পোরেট জগতের বহু ডাকাবুকোর গুরু তিনি। ইসলামের আলোয় আলোকিত এ মানুষটি এমন এক চশমা দিয়ে দুনিয়াটাকে দেখেন যার জুঁড়ি নেই। আদর্শিক পা হড়কানো থেকে উদ্ভূত সমস্যাগুলোকে তিনি ঝানু ব্যাবসায়ীর চোখ দিয়ে দেখেন, ব্যবচ্ছেদ করেন। এরপর ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান সাধেন।’

    এবার আসি প্রকাশনীর কথায়। সিয়ান পাবলিকেশন সম্পর্কে কিছু বলার নেই আসলে। আজ যে এত সুন্দর সুন্দর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা কনটেন্ট আর নজর কাড়া লুক পৃষ্ঠা বিন্যাস, সুন্দর সাবলীল বানান এবং রুচিশীল শব্দচয়ন ইসলামী প্রকাশনী-বইয়ে আমরা দেখি তার অনেক অবদান সিয়ান পাবলিকেশনের। যার সুচনাটা হয়েছিল তাদের হাত দিয়েই।

    সত্যি বলতে অনুবাদ পড়ার সময় মনেই হয়নি আমি অনুবাদ পড়ছি। আল্লাহ সিয়ানের কাজে আরো বারাকাহ দ্বান করুন। আমার ব্যক্তিগত রেটিং যদি সার্বিকভাবে দেই বইটা সম্পর্কে তাহলে বলতে হবে, সুন্দর প্রচ্ছদ সুন্দর অনুবাদ অসাধারণ কিছু নসিহা যা বইটা পড়ে শেষ করার পর বাস্তব জীবনে এ্যপ্লাই করতে ইচ্ছে করবে। তাই আমার রেটিং- ৯.৪/১০

    ‘বিয়েঃ স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’ পড়ার পর আমি উপহার লিস্টে বইটা যুক্ত করেছি। আমার পরিবারের সদস্যদেরকেও যারা বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে বা বিয়ে করেছে তাদেরও বইটা উপহার দেয়ার নিয়াত করেছি। শুধু তো দাম্পত্য নয় পরিবারের সকলের সাথে সম্পর্কটা পোক্ত করা প্রয়োজন। আমার অনুরোধ থাকবে বইটা ছেলে-মেয়ে সকলের পড়ার এবং উপহার দেয়ার…

    1 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  9. 5 out of 5

    :

    লেখকের “Marriage : Making and Living of It” বইয়ের অনুবাদ এই বইটা, সমানভাবে প্রয়োজনীয় বিবাহিত এবং অবিবাহিতদের জন্য।
    বিয়ের জন্য বর/কনে নির্বাচন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জীবণের বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলিম দম্পতির করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো খুব সাধারণ কিন্তু সুন্দর উপমা এবং উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।
    “আজ আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে হালালকে ব্যয়বহুল, জটিল এবং কঠিন করে ফেলা হয়েছে; আর হারামকে করা হয়েছে সহজলভ্য – ফ্রি! কিন্তু ইসলাম হালালকে সহজ করেছে আর হারামকে করেছে কঠিন।আর এজন্যই বিয়ে এতটা সহজ, সরল এবং বাহুল্য ব্যয় থেকে মুক্ত।” ইসলামে বিয়ে কতটা সহজ, তার বিবরণ আছে বইটিতে।

    আবার যারা তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাচ্ছেন এবং পরিবার-সমাজের কারণে বিয়ে করতে না পেরে আফসোস করছেন, তারা বইটা পড়ে উপলব্ধি করতে পারবেন যে, বিয়ের পর সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার জন্য আপনি নিজে তৈরি কি না? সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য পারস্পরিক আচরণ এবং সৎ মানসিকতার গুরুত্ব যে সবচেয়ে বেশি তা উপলব্ধি করা যায়।

    কিভাবে বিয়ের ২৫/৫০ বছর পরও প্রতিদিন সকালে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আপনার জীবনসঙ্গীর প্রেমে পড়া পুরোপুরি সম্ভব, লেখক সেটাও দেখিয়ে দিয়েছেন বইটিতে।

    শেষ করছি বইটির ভূমিকায় লেখকের লিখা দুটি বাক্য দিয়ে, ” দাম্পত্য জীবনের সুখশান্তি কেবল স্বামী-স্ত্রীর মন-মানসিকতা ও আচার-আচরণের উপরই নির্ভর করে। তারা যদি সত্যিই সুখী হতে চায় তাহলে কেউ তা রোধ করতে পারবে না; আর তারা যদি অশান্তি সৃষ্টি করে তাহলে কেউই তাদের শান্তি এনে দিতে পারবে না।”

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  10. 5 out of 5

    :

    বইয়ের ধরনঃ বিয়ে, পরিবার ও সামাজিক জীবন, দাম্পত্য জীবন।

    ★ সংক্ষিপ্ত বই পরিচিতিঃ বিয়ে। দুই অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু বিয়ের মাধ্যমেই তো সব শেষ নয়। এ যে সবে শুরু – নতুন এক সম্পর্কের, নতুন এক জীবনের, নতুন কিছু দায়িত্ববোধের। অথচ দুঃখের বিষয় জীবনের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, দাম্পত্য জীবন আমরা শুরু করি একেবারে অজ্ঞতা থেকে। বড় বড় ডিগ্রী থাকে, দ্বীনদ্বার, কিন্তু দাম্পত্য জীবন মধুর হয় না- এরকম দৃষ্টান্তও দেখা যায়। এর কারণ আমরা দাম্পত্য জীবন সম্বন্ধে আগে থেকে জানার চেষ্টা করি না। কীভাবে একজন আদর্শ স্বামী হব, আদর্শ স্ত্রী হব, আদর্শ পিতা-মাতা হব এসব জানার চেষ্টা করি না। স্বামী-স্ত্রী একে-অপরের প্রতি কীরূপ আচরণ কাম্য, বিয়ের পর নিজ পিতা-মাতা ও স্ত্রীর বিরোধ হলে কী করণীয়, পুত্রবধুর সাথে কীরূপ আচরণ হওয়া উচিত ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি না। জানার চেষ্টা করি না। এই বই এসব জিনিসকে আলোকপাত করেই লেখা।বিবাহিত অবিবাহিত প্রায় প্রত্যেকের জন্য অবশ্যপাঠ্য বই বলা যায়।

    ★ লেখক পরিচিতিঃ মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ প্রাচ্যের প্রতিনিধি, জন্ম ভারতের হায়দ্রাবাদে। তিনি একাধারে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার, বক্তা, লেখক, করপোরেট কনসালটেন্ট, বিজনেস এনালিস্ট ও লাইফ কোচ।বিজনেস কনসালটেন্সি ও ফ্যামিলি বিজনেসের উপর তিনি বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেন। কনসাল্টেন্সি করেছেন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা আর শ্রীলংকার অসংখ্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। মাইক্রোসফট, ইউনিলিভার, রয়টার্স, সিমেন্স, মটোরোলাসহ অসংখ্য কোম্পানিকে দিয়েছেন পরামর্শ। রাসূলুল্লাহ (সা) এর নেতৃত্বের গুণাবলীর সমন্বয় করে গ্লোবাল লিডার প্রস্তুত করতে শুরু করছেন নিজস্ব প্রতিস্টান স্ট্যান্ডার্ড বিয়ারারস ট্রাস্ট। লিখেছেন অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ ইসলামিক বই আর সুন্দর লেকচার।ইসলামিক কন্টেন্ট এর কপিরাইটের ঘোরবিরোধী এ শায়খ প্রায়ই পশ্চিমা দায়ীদের ইসলামকে বাণিজ্যিকরণের বিরোধিতা করেও নজর কেড়েছেন। লিখেছেন ইসলামের বিয়ে, দাম্পত্য জীবন, রাসূলুল্লাহ (স) এর জীবন থেকে লিডারশিপ লেসন, শিশুলালন পালন, ইসলামের প্রাথমিক পরিচয় সহ সুন্দর বেশ কিছু বই।

    ★ বিস্তারিত বই পরিচিতিঃ লেখক দীর্ঘদিন দাম্পত্য সমস্যার সমাধান দিয়েছেন অসংখ্য মানুষকে। অনুসন্ধান করেছেন দাম্পত্য সমস্যার মূল কারণ। নিরূপণ করেছেন সফলতার কিছু সোনালী নীতি।এই বইটি তারই এক ক্ষুদ্র প্রয়াস।সূরা রোমের ২১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহতালা বলেছেন, বিয়ে আল্লাহরই একটি নিদর্শন। এ আয়াতে আল্লাহ তিনটি তাৎপর্যমূলক শব্দ উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন তিনি আমাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে ক/ আমরা সুকুন লাভ করতে পারি, খ/ আমাদের একে অপরের জন্য ভালবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন আর গ) একে অপরের জন্য পয়দা করে দিয়েছেন রাহমাহ বা মমতা। লেখক এভাবেই বিয়ের তিনটি তাৎপর্য বর্ণনা করে সেগুলোর আলোকে দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকে অস্টপ্রহর পর্যন্ত চলার বেশ কিছু সোনালী নীতি দিয়েছেন। বর-কনে দেখা বা খোঁজা থেকে শিশু লালনপালন – ছোট্র এ বইয়ে মোটামুটি সবকিছুরই কিছু সুন্দর মূলনীতি তুলে ধরেছেন।

    আমি এখানে অল্প কয়েকটি পয়েন্ট আকারে তুলে ধরব। বিস্তারিত জানতে বইটি পড়তে পারেন।

    ক) ইসলামে বিয়ে
    ১/ ভালবাসা তৈরি হয় সম্মান থেকে। আমরা যাকে সম্মান করিনা, তাকে ভালোবাসতে পারিনা। তাই স্বামী স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্বাবোধ থাকতে হবে।
    ২/ স্বামী-স্ত্রী পরস্পর একটি বিশেষ আয়নার মত। চেস্টা করতে হবে স্মৃতির এ আয়নায় ভাল স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে আর মন্দগুলো ভুলে যেতে। আমরা যেন মানুষের ভাল গুণগুলি পাথরের উপর আর ভুলগুলো বালির উপর লিখি। তাহলে ভালোটির প্রভাব দীর্ঘদিন রয়ে যাবে আর মন্দটা বাতাসের প্রথম ঝাপটাতেই মুছে যাবে।
    ৩/ জীবনসঙ্গীকে সময় দেয়া, তাদের ভাল বন্ধু হওয়া, তাদের সাহায্য সহযোগিতা করা অত্যাবশ্যক। দুজনে মিলে করেন এমন কিছু কাজ বানিয়ে নিতে হবে। আলাদা একটি চোখের ভাষা যদি তৈরি করা যায় সবচেয়ে ভাল হয়। এজন্য পরিশ্রম করতে হবে, সবর করতে হবে। একে অপরের পরিপূরক হতে হবে।

    খ) বিয়ে – স্বপ্নের শুরুঃ জীবনসঙ্গী নির্বাচনের জন্য ছয়টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
    ১/ ইসলামঃ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করে কিনা। যেমনঃ সালাত,সাওম, যাকাত, কুরআনের জ্ঞান ইত্যাদি। আখলাকের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। চেহারায় ইসলাম আছে কিনা সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের ক্ষেত্রে পর্দা আর ছেলেদের ক্ষেত্রে দাড়ি। দেখে পছন্দ হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মাস বাদেই রূপলাবণ্য বা স্মার্টনেসের আকর্ষণ হারিয়ে যাবে। তাই দ্বীনদ্বারি ও তাকওয়ায় গুরুত্ব দেন। কারণ এই মানুষটিই আপনার ভবিষ্যত সন্তানের দেখভাল করবে।
    ২/ প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা ভুলে যান। পড়ে যাওয়া কখনোই ভাল নয়। সম্মানবোধই সত্যিকার ভালোবাসা তৈরি করবে। সত্যিকার ভালবাসা হয় সম্মান, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা থেকে। তখন বিয়ের ২৫ বছর পরেও বউ এর প্রেমে পড়বেন।
    ৩/ তার ঘরের মানুষের সাথে নিজের আচার ব্যাবহার কেমন জানলে ভাল হয়। দ্বীনদ্বার অনেক মানুষেরও আচার ব্যাবহার ভাল হয়না এমন উদাহারণ আছে। অথচ আচার ব্যাবহার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমন আচার ব্যাবহারই আপনি সারাজীবন পাবেন।
    ৪/ কথোপকোথনঃ মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে চাইলে তার দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা, গঠনমূলক চিন্তাভাবনা বা কোন পরিস্থিতির ব্যাপারে সামগ্রিক বিবেচনা জানার চেস্টা করুন। সে কি সমালোচনা করতে বেশি ভালবাসে নাকি সমাধানেও আগ্রহী? পার্থিব বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলে নাকি আখিরাত নিয়ে? যখন ধর্ম নিয়ে কথা বলে, অন্যের দোষ ধরতে বেশি মত্ত নাকি নিজের সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়ন নিয়েও আগ্রহী? বিয়ের আগেই দ্বীনি দুনিয়াবি জরুরি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলে নিন। বিয়ের পরে চেঞ্জ হওয়ার আশা করবেন না। যদি এমন মানুষকে পছন্দ হয় যার পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে সে কাজটি তাকেই করতে দিন। আপনি বরং এমন কাউকে খুজুন যাকে দেখে মুগ্ধ হবেন, তার মত হতে চাইবেন।ইন্টারনেটে কারো প্রোফাইল দেখে বিয়ে করা জুয়া খেলার মত, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। যথেস্ট খোজখবর নেয়া ও মাহরামের উপস্থিতিতে সাক্ষাতের অনুমোদন ইসলাম দিয়েছে, যাতে করে আগেই ভালোভাবে জেনে নিতে পারেন।স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক কথোপকথন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন যেন না হয়, বিয়ের কয়েক বছর পর তার সাথে কথা বলার কমন টপিকই খুঁজে পাচ্ছেন না, শুধু দায়সাড়া প্রয়োজনীয় কথাই হচ্ছে। তাই এমন কাউকে বিয়ে করেন, যার সাথে মন খুলে কথা বলা যাবে, প্রিয় বিষয়গুলো আলোচনা করা যাবে।
    ৫/ অভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণঃ জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন হওয়া উত্তম। নতুবা সমগ্র জীবন লড়াই করতে হবে। এমন কাউকে খুঁজুন – যে হবে আপনার আনন্দ বেদনার সাথী। তার সাথে এমন কিছু কাজ করতে পারবেন যাতে উভয়েরই আগ্রহ আছে। দীর্ঘকালীন অভিন্ন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য।
    ৬/ পরিবারঃ সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখুন। তাদের আকিদা, ধর্মীয় প্রথা, সংস্কৃতি, অভ্যাস, রীতিনীতি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাথে থাকতে পারবেন কিনা, তা অনেকাংশে এগুলোর উপর নির্ভর করে। একেবারে মন মত না হোক, অমিল যাতে কম হয়, মানিয়ে যাতে কম নিতে হয়।ভিন্নতা যত কম, সুখী হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশী।

    গ/ বিয়ে- স্বপ্ন থেকে সংসারে এ অধ্যায়ে সংসার জীবনের প্রয়োজনীয় অনেক সোনালী নীতি উঠে এসেছে। সেগুলোর কয়েকটি হলঃ
    ১/ সুন্দর দাম্পত্য জীবনের বৈশিষ্ট্য হলঃ সত্য বলা, যত্ন নেয়া আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। ভালোবাসা এগুলো থেকেই সৃষ্টি হয়। জীবনসঙ্গীকে সম্মান করতে হবে, গুণগুলোর মূল্যায়ন করতে হবে, তাকে পেয়ে গর্ববোধ করতে হবে। এগুলোই হৃদয়ে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বেলে দেয় যা সময়ের সাথে আরো উজ্জ্বল হয়। সম্মান করার কারণগুলো বয়সের সাথে বাড়ে আর শারীরিক আকর্ষণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায়।
    ২/ সুখী হওয়ার সূত্রঃ এমন কাউকে বিয়ে করুন যাকে শ্রদ্ধা করা যায়, অনুকরণ করতে ইচ্ছা হয়, যার কাছ থেকে ক্ষমা করা শেখা যায়। একে অপরের ক্রুটিগুলোও ক্ষমাশীল চোখে দেখতে হবে।
    ৩/ দাম্পত্য জীবন সফল করার জন্য কাজ করতে হবে। প্রয়োজন উদ্দ্যেগ, সময় ও শক্তি।
    ৪/ অনুরাগ প্রকাশে পাগলামি করুন। ফুল বা প্রিয় কিছু উপহার দিন। সম্ভব হলেই উপহার দিন। দামী হতে হবে এমন কথা নেই। যত্নের সাথে র‍্যাপিং পেপারে মুড়িয়ে, ফিতে দিয়ে মুড়িয়ে, সুগন্ধি লাগিয়ে ফুলসহ তার হাতে দিন। একাকী সময়ে উপহার দিন। এভাবে দেয়া সাধারণ উপহারও ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন যে, তোমরা উপহার দাও কারণ তা পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা বাড়িয়ে দিবে।
    ৫/ যে দম্পতি একসাথে আনন্দ উপভোগ করতে পারে তারাই একসাথে দীর্ঘদিন থাকতে পারে। মুখের হাসিটা যেন সত্যিকার হাসি হয়।
    ৬/ অসুখী দাম্পত্যজীবনে সুখ ফিরিয়ে আনার উপায়ঃ আসলেই কী সুখ চান? তাহলে সত্যিকার চেস্টা করুন। জীবনসঙ্গী যা পছন্দ করেন তার তালিকা বানান। তার গুনগুলো লেখুন, সমস্যা গুলোও। তার ভাল কাজকে মূল্যায়ন করুন। সমস্যা হলে সে কথা অকপটে তার সাথে শেয়ার করুন ও সমস্যা নিরুপণের উপায় খুঁজুন।
    ৭/ দাম্পত্য জীবনে বাইরের মানুষকে জড়াবেন না। নিজেরাই সমাধান করুন। সমস্যা হলেই বাবা মার কাছে দৌড় দিবেন না। পরিবারের সবাইকে যার যার অবস্থানে রেখে সবার সাথে সম্পর্কের হক বজায় রেখে চলতে হবে।
    ৮/ মতপার্থক্য হলে মানিয়ে নেয়াটা জরুরি। সবকিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না, যদি না তা অনৈতিক বা অবৈধ কিছু হয়। খাপ খাইয়ে, পার্থক্যের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েও অনেক বিষয় মানিয়ে নিতে হবে। ছাড় দিলে সবসময় আপনি হেরে যান না, মাঝে মাঝে অন্তরও জয় করে নেন। বিষয়টি মনে রাখবেন।
    ৯/ নিজের দায়িত্ব পালনের পরও কিছু দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়া ভাল গুণ। যেমন বাসার কাজে তাকে সাহায্য করা। সব কিছু না হোক, অন্তত যে কাজে নিজের আনন্দ লাগে সেটিতে। পুরুষের মূল দায়িত্ব উপার্জন ও জীবিকা নির্বাহ করা। নারীর মূল দায়িত্ব সংসারকে সুখের নীড়ে পরিণত করা ও সন্তান লালনপালন।সন্তানকে জীবনের বাস্তবতা থেকে দূরে রাখবেন না। তাকে কঠিন দুনিয়াতে টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলুন। অধিক স্নেহ অনুচিত। তাকে শেখান আমরা ভাল কাজ এজন্য করিনা যে লোকে তা দেখে বাহবা দিবে। তাকে সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিন, সাহসী বানান।
    ১০/ সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য বাচ্চাকাচ্চার গুরুত্ব কতটুকু, জীবনসংগীর কাছে নিজের গুরুত্ব কীভাবে ধরে রাখা যায়, সংসার সুখী করতে টাকা পয়সার গুরুত্বই বা কতখানি? সাংসারিক জীবনের ক্ষতিকারক কাজুগুলিই বা কী কী? দাম্পত্য জীবনের সমস্যা নিয়ে কার সাথেই বা পরামর্শ করবেন? এসব গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও আলোচনা হয়েছে শেষ অধ্যায়ে। যুক্ত হয়েছে বিয়ের খুতবা ও তার সুন্দর একটি অনুবাদ ও সুন্দর কিছু শেষ কথা।

    ★ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ দাম্পত্য জীবনে অজ্ঞতার পরিণামস্বরুপ অনেক সংসার নস্ট হয়ে যায়। জীবনের জটিল এ অধ্যায়ে অধিকাংশ মানুষ প্রবেশ করে একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায়। এধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা ছোট্র কিন্তু উপকারী এ বইটি অবশ্যই অবশ্যপাঠ্যা হবার দাবী রাখে। লেখক নিজের দেখা সুখী দাম্পত্য জীবনের মূলনীতিগুলো বর্ণনা করেছেন পাকা জহুরীর মত, ইসলামের চোখে। এ ব্যাপারে এই বইটি সময় নিয়ে পড়লে ও সোনালী নীতিগুলো কাজে লাগাতে পারলে সকলের জন্যই উপকারী বই সাব্যস্ত হবে সন্দেহ নেই।বইয়ের প্রচ্ছদ চমৎকার। অনুবাদ ভাল হয়েছে। কলেবরও খুব বড় নয়। বইটি নিজে পড়ার জন্য বা নবদম্পতিকে উপহার দেবার জন্য কিনতে পারেন।

    6 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  11. 4 out of 5

    :

    লেখক সম্পর্কে কিছু কথাঃ
    মির্জা ইয়াওয়ার বেইগের জন্ম প্রাচ্যে হলেও জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন পশ্চিমে। কর্পোরেট জগত থেকে শুরু করে ইসলামের আলোকিত জীবনের সবদিকেই তার সমান দক্ষতা। জীবনের উদ্ভূত সমস্যাগুলো তিনি ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান করে থাকেন।
    পূর্ব কথনঃ
    একটু সুস্থ সুন্দর সমাজের ভিত্তি হলো পারিবারিক ব্যবস্থা আর পারিবারিক জীবনের ভিত্তি হলো একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবন। অথচ আজ বিশ্বে এমনকি বাংলাদেশেও ডিভোর্সের সংখ্যা মাত্রারিক্তভাবে বেড়েই চলছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর পারিবার শব্দটিী হয়তো হারিয়ে যাবে।
    বই কথনঃ
    আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন, ” তাঁর নির্দেশসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি যে তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের পেয়ে পরিতৃপ্ত হও। তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক প্রেম-ভালোবাসা ও মমত্ববোধ সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চিন্তাশীল লোকদের জন্য অবশ্যই অনেক নিদর্শন রয়েছে।”
    এখানে বিয়ের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে আল্লাহ তায়ালা সুকুন বা প্রশান্তি কথা বলেছেন। জীবনের প্রতিটি কাজে স্বামী-স্ত্রী যাতে একে অপরের জন্য প্রসান্তির কারণ হয়। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো আল-মাওয়াদ্দাহ, মানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি শরীর ও মনের আকর্ষণ অনুভব করবে। আর শেষ উদ্দেশ্য হলো রাহমাহ, মানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি দয়া, মমতা অনুধাবন করবে।

    বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ঃ
    ১. ইসলামঃ রাসুল (স.) যে চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করতে বলেছেন তাঁর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দীনদারি, অর্থাৎ নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত ঠিকভাবে পালন করে কিনা।
    ২. প্রেমে পড়ার কথা ভুলে যান, পড়ে যাওয়া কখনোই ভালো নয়।
    ৩. ছেলে/মেয়ের আচার-আচারন কেমন টা আগে লক্ষ্য করুন।
    ৪. তার কথোপকথন খেয়াল করুন, আজগুবি কথাবার্তা বললে সেই প্রস্তাব থেকে বিরত থাকুন।
    ৫. দুজনের জীবনের কিছু অভিন্ন লক্ষ্য ঠিক করুন, যেটা আপনারা দুজনই পছন্দ করেন এমন কিছু।
    ৬. পারিবারিক আকিদা কেমন লক্ষ্য করুন, ভিন্ন আকিদার হলে সেই প্রস্তাব থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
    বিবাহিত জীবনকে সুখী করার উপায়ঃ
    ১. সত্য কথা বলা, যত্ন নেওয়া, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে বাকি সব এভাবেই চলে আসবে।
    ২. এমন কাউকে বিয়ে করুন যাকে অনুকরণ করতে ইচ্ছে হয়, যাকে শ্রদ্ধা করা যায়, যার কাছে ক্ষমা করা শিখা যায়। এমন কাউকে বিয়ে করবেন না যাকে আপনি বদলে ফেলতে পারবেন বলে মনে করছেন।
    ৩. কাজ করে যান, এভাবেই সফলতা আসবে। এর জন্য দরকার উদ্যোগ, সময়, ও শক্তি।
    ৪. অনুরাগ প্রকাশে পাগলামি করুনঃ
    শুধু উপলক্ষ কেন্দ্র করে নয় যখন সম্ভব দুইজন দুইজনকে কিছু উপহার দিন। রাসূল (স.) বলেছনে তোমরা উপহার দাও কারণ টা পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা বাড়িয়ে দিবে।
    ৫. একসঙ্গে আনন্দ উপভোগ করাঃ
    খেলাধূলা, বিনোদন, ঘুরতে যাওয়া, একসঙ্গে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।
    ৬. অসুখী দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখ ফিরিয়ে আনা যায়?
    আগে ঠিক করুন আপনি কি সত্যি চান দাম্পত্য জীবন সুখের হোক? তাহলে চেষ্টা করে যান…
    ৭. দাম্পত্য জীবনে বাবা-মা ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের জড়ালে ঝামেলা বেড়ে যায়, এসব করা থেকে বিরত থাকুন।
    ৮. সাংসারিক জীবনে সবকিছুতেই মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন।
    ৯. একটু সংসারে স্বামীর দায়িত্ব উপার্জন করা আর স্ত্রীর দায়িত্ব সন্তান লালনপালনে খেয়াল রাখা, ঘরকে সুখের নীড়ে পরিণত করা।
    ১০. বর্তমান জীবনব্যবস্থায় ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার, তিভি সিরিয়াল দাম্পত্য জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। ইন্তারনেত/ফেসবুক থেকে পাত্রপাত্রী নির্বাচন কতটা ফলপ্রসূ হবে একবার ভেবে দেখুন।
    ১১. দাম্পত্য জীবনে কোন সমস্যায় পরলে দুইজনই যাকে শ্রদ্ধা করেন এমন কাউকে বেছে নিয়ে তার সাথে কথা বলুন।

    এছাড়াও বইটিতে আরও বেশ কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। বাকি টুকু জানতে পড়তে হবে বইটি।

    বইটির যা ভালো লেগেছেঃ
    বইটিতে স্বল্প পরিসরে বেশ গুছিয়ে দাম্পত্য জীবনের পূর্বে পাত্র/পাত্রী কিভাবে বাছাই করা দরকার ও দাম্পত্য জীবনকে কিভাবে সুখী করা যায় তা সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। বানান ভুল নেই বললেই চলে। পেইজ, বাইন্ডিং, প্রচ্ছদ অসাধারণ।
    বইটির যা খারাপ লেগেছেঃ
    বইটির পেইজ সংখ্যা মাত্র ৬২। অনেক কিছু আরো সংযুক্ত করা যেতো। কিছু কিছু বিবরণ আরো বড় করা যেতো। বইটিতে তেমন
    কোন রেফারেন্স এড করা হয়নি।

    শেষ কথাঃ
    একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রয়োজন দুইজনের প্রতি
    দুইজনের কৃতজ্ঞতাবোধ ও খারাপ স্মৃতি ভুলে যাওয়া। অথচ অধিকাংশ মানুষ উল্টাটা করে। দুইজন মিলে একটি ভাষা তৈরি করে ফেলতে পারেন যেটা মুখের না হয়ে হবে চোখের, হৃদয়ের ভাষা। না বলতেই যেন অন্যজন বুঝতে পারে কি বলতে চাচ্ছেন।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  12. 4 out of 5

    :

    সুন্দর
    Was this review helpful to you?
  13. 5 out of 5

    :

    আসলে এই বই এর ব্যাপারে যাই বলবো অনেক কম হয়ে যাবে। ৬০ পৃষ্ঠার একটা বই এর মধ্যে এতো সুন্দর করে বিয়ের ব্যাপার এ বলা হয়েছে সত্যিই লেখক, মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ এর প্রশংসার দাবি রাখেন। আর সিয়ান পাবলিকেশনকে ধন্যবাদ বইটি বাংলায় অনুবাদ করে আমাদের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য। জাজাকাল্লাহ খাইরান।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?