মেন্যু
Placeholder
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

মধ্যপ্রাচের ডায়েরি

পরিমাণ

275.00  420.00 (35% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - মধ্যপ্রাচের ডায়েরি

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    পৃথিবীতে এমন কিছু লেখকের জন্ম হয়েছে, যাঁদের বই পড়ার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকে। যাঁদের বই চিন্তাভাবনা ছাড়াই চোখ বন্ধ করে পড়ে ফেলা যায়! আবুল হাসান আলি নদবি রাহিমাহুল্লাহ তেমনই একজন লেখক। তাঁর লেখা ভারতবর্ষ ছাড়িয়ে পুরো আরববিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। ‘মধ্যপ্রাচ্যের ডায়েরি’ তাঁরই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সফরনামা।
    হজরত আলি মিয়া নদবি রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও দাঈ। দীনের দাওয়াত নিয়ে ছুটে গেছেন পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে। ১৯৫১ সালে তিনি দীনের দাওয়াত নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, মিসর, সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বেশ কটি দেশ সফর করেন। ‘শরকে আওসত কি ডায়েরি’ শিরোনামে সেসব দিনের কথা লিপিবদ্ধ করেন। সেটা বই আকারে প্রকাশ হয়। এটা সেই বইয়েরই অনুবাদ।
    বইটিতে তিনি আরবের হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা-সংস্কৃতি, কীর্তি-অবদান ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং আরবদেরকে পুণরায় সজাগ ও উজ্জীবিত হওয়ার আহবান জানান। সাথে সাথে দীনের জন্য ভারতবর্ষের উলামায়ে কেরামের অবদানও তুলে ধরেন। এছাড়াও সেখানে দীনের দাওয়াতের ব্যাপারে কী কী কাজ চালু আছে এবং কীভাবে আরো উন্নত করা যায়, তা উল্লেখ করেন।
    বইটিতে তৎকালীন মধ্যপ্রাচ্যের সামাজিক চিত্র, রাজনৈতিক অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি সেখানকার দীনী ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানেরও আলোচনা করেছেন। বিশেষকরে টীকাভাষ্য দিয়ে বিখ্যাত দীনী ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন স্থানের পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরেছেন। যেসব শ্রেষ্ঠ মনীষীর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— আল্লামা শিবলি নুমানি, ইবনে জুবায়ের, ইবনে বতুতা, ইমাম গাজালি, ইবনুল জাওজি, ড. সায়্যিদ আবদুল্লাহ আব্বাস, রাবে হাসানি নদবি, উবায়দুল্লাহ বলিয়াবি, ড. আহমদ আমিন, আল্লামা মুহাম্মদ আসাদ, হাসানুল বান্না, সায়্যিদ সুলাইমান নদবি, ড. ইউসুফ কারজাবি, শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, সায়্যিদ আহমদ শহিদ বেরেলবি, ইসমাইল শহিদ, প্রফেসর আহমদ শিরবাসি, আল্লামা ইকবাল, কামিল কিলানি, আবদুল্লাহ ইবনে মুকাফ্ফা, ইবনে সিনা, মুজাদ্দিদে আলফে সানি, জামালুদ্দীন আফগানি, আবুল কালাম আজাদ, ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল আরাবি, ইমাম জাহিদ কাওসারি, আল্লামা ইউসুফ বানূরি, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম শাফিয়ি, ইবনে হাজার আসকালানি, সায়্যিদ কুতুব শহিদ, শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ। এছাড়াও বেশ কজন অমুসলিম জ্ঞানী লোকের কথাও আছে।
    আর যেসব স্থান ও দর্শনীয় স্থাপনার আলোচনা করা হয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল— আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, ফুয়াদ ইউনিভার্সিটি, পিরামিড, মিসরের সবচেয়ে বড় মূর্তি ‘আবুল হাওল’, জামে উমুবি ইত্যাদি।
    আলি মিয়া রাহিমাহুল্লাহ বইটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন মিসরের। সেখানকার ইসলামি পরিবেশ, ইসলামি নেতৃবৃন্দ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শায়খদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পত্রিকা ও সেমিনার ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক লম্বা স্মৃতিচারণ করেছেন। এছাড়া সিরিয়া, সুদান এবং ইয়েমেনেরও অনেক কথা নিয়ে এসেছেন। সেখানকার স্বাভাবিক এবং কিছু অস্বাভাবিক অবস্থাও তুলে ধরেছেন।
    বইটির ভাষা যেমন ঝরঝরে, তেমনি সুখপাঠ্য। অনুবাদও যথেষ্ট পরিশীলিত। শব্দ ও ভাবগত অর্থের মধ্যে রয়েছে সুন্দর সাযুজ্য। সাথে নয়নকাড়া প্রচ্ছদ বইটি পড়তে উদ্বুদ্ধ করে।
    বইটিতে একজন মুমিনের জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষা। একজন মুমিনের সফর কী উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত, কীভাবে হওয়া উচিত, রুটিন কীভাবে সাজাবে, দর্শনীয় স্থান কোন দৃষ্টিতে পরিদর্শন করবে— ইত্যাদি সম্পর্কে আছে সুন্দর শিক্ষা।
    তাই আজই বইটি নিয়ে বসে পড়তে পারেন। আর একজন ভারতীয়’র ‘আরবি এবং ইসলামি দৃষ্টি’তে দেখতে পারেন আরবের হালচাল! হতে পারেন ইসলামি শিক্ষায় উজ্জীবিত!
    Was this review helpful to you?