মেন্যু
miratul mamalik the admiral

মিরআতুল মামালিক : দ্য অ্যাডমিরাল

প্রকাশনী : নবপ্রকাশ
১৫৫২ খৃস্টাব্দে উসমানি খেলাফতের এক তুর্কি অ্যাডমিরাল (নৌসেনাপতি) পর্তুগিজ জলদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে জাহাজ নিয়ে চলে আসেন ভারত মহাসাগরে। সেখানে প্রলয়ঙ্কাররী ঝড়ের কবলে পড়ে হারিয়ে ফেলেন তার নৌবহর, ভেঙে... আরো পড়ুন
পরিমাণ

105  140 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - মিরআতুল মামালিক : দ্য অ্যাডমিরাল

4.5
Based on 2 reviews
5 star
50%
4 star
50%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    moh.salehin.09:

    যে বছর বিখ্যাত স্পেনিশ অ্যাডমিরাল ক্রিস্টোফার কলম্বাস নয়া দুনিয়া তথা আমেরিকার খোঁজ পান, ঠিক বছর সে বছরই তুরস্কের গালাতায় জন্ম নেন আরেক জগদ্বিখ্যাত নৌকমান্ডার সাইয়িদি আলি রেইস। পশ্চিমায় যিনি সিদি আলি রেইজ নামে পরিচিত। নৌ-কমান্ডার হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ, ভূগোলবিদ ও কবি। সামুদ্রিক নৌবিদ্যায় ছিলেন বিশেষ পারদর্শি। লিখেছেন এবিষয়ে বেশ কয়েকটি বই। যা আজও বিভিন্ন দেশের নৌকমান্ডারদের চাহিদায় প্রথম স্থান দখল করে আছে। এই বইটি মূলত ভ্রমন কাহিনী। এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রার শুরু, যখন উসমানি খেলাফতের দশম সুলতান সুলায়মান কানুনি তাকে মিশর অঞ্চলের নৌকমান্ডার হিসাবে নিয়োগ দেন। তার প্রধান দায়িত্ব ছিলো ভারত মহাসাগর থেকে পর্তুগিজ দস্যূদের উৎখাত করা। তেমনি পর্তুগীজদের সাথে নৌযুদ্ধের মাঝে ভয়ানক এক ঝড়ের কবলে পড়েন এবং দিকভিক হারিয়ে ভারতের গুজরাটে নোঙর করে। ঝড়ে তার নৌযানগুলি প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নৌপথে তার ফিরে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাড়াই। সিদ্ধান্ত নিলেন স্হলপথে রাজধানী ইস্তানবুলে পৌছাবেন। বিশ্বস্ত সেনাদের নিয়ে শুরু করলেন এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রার, যার প্রতিটি ক্ষনে রয়েছে টান টান উত্তেজন। দীর্ঘ চার বছরের অভিযাত্রার পর তিনি রাজধানী ইস্তানবুলে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছিলেন। এই যাত্রায় তার ছিলোনা পর্যাপ্ত রসদ, ছিলো নিরাপত্তার অভাব, অপরিচিত জনপদ ও ছিলোনা কোন মানচিত্র। এই অবিশ্বাস্য অভিযাত্রায় তিনি ভ্রমন করেছেন গুজরাট, সুরাট, আহমেদাবাদ, দিল্লি, সিন্ধ, কাবুল, মুলতান, বালাখ, বাদাখশান, খোতলান, খোরাসান, তুরান, ইরান, ট্রানোক্সানিয়া, খারেজম, দাশত, কিপচাক, বুখারা, বাগদাদ সহ নাম না জানা আরও অসংখ্য জনপদের। এ অভিযাত্রায় আপনি ভারত কে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন। মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যু ও গ্রেট আকবরের সিংহাসনে আরোহন খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি যা তিনি খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও রয়েছে রাজপুতদের অজানা ইতিহাস। এ দীর্ঘ যাত্রার ফলে সব সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি নিজে থেজেই সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে এযাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে নবী, সাহাবী ও অসংখ্য ইতিহাস খ্যাত বুজুর্গদের কবর জেয়ারত করা। মুগ্ধ হয়ে যাবেন লেখকের কবিতার প্রতিভা দেখে। ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হয়েও ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রার জন্য। এই বই পাঠের মাধ্যমে ইতিহাসের অনেক অজানা আপনার জানা হয়ে যাবে। লেখকের শেষ ইচ্ছা ছিল কেউ যেন তাকে ভুলে না যায়, তাই তিনি বলেছেন;

    (“আমি সেই ব্যাক্তি যে, এই ভ্রমণবৃত্তান্ত পেশ করেছি। তাকে স্বরণে রাখবেন প্রার্থণার পর আপনার প্রতিটি হৃৎস্পন্দনে নয়, তাকে স্বরণে রাখবেন আপনার শান্ত-দুর্লঙ্ঘ্য হৃদয়ে যখন স্বরণ হবে। সত্যিকারের মানবিক দূঢ়তা লুক্কায়িত থাকে ওখানেই, যা কখনোই মলিন হয়ে যায়না”)।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 4 out of 5

    মানসূর আহমাদ:

    “…অবশেষে রাত নামলো। আমরা হরমুজ প্রণালির দিকে পিছু হটতে লাগলাম। কিন্তু এদিকটায় এসে প্রবল ঝড়ো বাতাসের সম্মুখীন হলাম। জাহাজের দু’পাশে বড় দেখে দুটো করে নোঙর ফেলতে হলো। পাল আর দড়ি-দড়া ভালো করে বাঁধার নির্দেশ দিলাম। যদিও উপকূলের কাছে চলে এসেছিলাম, তবে উপকূলে অবতরণ করা থেকে বিরত থাকলাম। যেকোনো সময় পর্তুগিজরা আবার আক্রমণ করতে পারে। আমাদের এখন যে অবস্থা, আবার ওদের আক্রমণ ঠেকানোর মতো মনোবল বা শক্তি, কোনোটাই আর অবশিষ্ট নেই।…”
    .
    সংক্ষিপ্ত কথা:
    __________________
    আমরা অনেকেই বিখ্যাত উসমানি নৌসেনাপতি খাইরুদ্দিন বারবারোসার নাম শুনেছি, তাঁর জীবনভিত্তিক বই পড়েছি। কিন্তু আরেক উসমানি নৌসেনাপতি সাইয়িদি আলি রইসের নাম শুনিনি বা তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছু পড়িওনি। অনেকে তাঁর নাম শুনে থাকলেও বিকৃতভাবে শুনেছেন, সিদি আলি রেইজ নামে।
    তিনি ছিলেন উসমানি সালতানাতের সবচে প্রভাবশালী সুলতান সুলাইমানের সময়কার একজন অ্যাডমিরাল। বেশ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ছিলেন তিনি। এজন্যই উসমানি খেলাফতের অধীন মিসরি নৌবাহিনীর পরপর দুজন অ্যাডমিরাল যখন পর্তুগিজ দস্যুদের সঙ্গে না পেরে পর্যুদস্ত হয়ে যান, তখন এই বাহিনীর নতুন অ্যাডমিরাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাইয়িদি আলি রইসকে।
    তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে যান, কিন্তু তিনিও পর্তুগিজদের সঙ্গে পেরে ওঠেননি; ব্যর্থ হন। ভাগ্যবিড়ম্বিত হয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও শহর পেরিয়ে তিনি আশ্রয় নেন ভারতে! তখনকার সময়ে এখানেও ছিল নানান সাম্রাজ্য আর রাজত্বের মারামরি। ততদিনে তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার চিন্তায় মশগুল। এখানকার বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করে তিনি ফিরতি পথে যাত্রা করেন। কিন্তু তাঁর যাত্রাপথ মশ্রিণ ছিল না। তবুও অটুঁট সংকল্প তাঁকে বিভিন্ন দেশ-শহর-নগর অতিক্রম করে এগিয়ে নিয়ে চলে। এভাবেই পারস্য-ইরান, ইরাক পেরিয়ে একসময় গিয়ে পৌঁছান তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে, তাঁর হৃদয় জুড়িয়ে দেওয়া তুরস্কে, ইস্তাম্বুলে! এর মাঝে কেটে যায় দীর্ঘ চারটি বছর!
    ভারত মহাসাগরের অ্যাডমিরাল হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত নানা চড়াই-উৎড়াইয়ের এই কাহিনিই তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর ‘মিরআতুল মামালিক’ গ্রন্থে। গ্রন্থটি সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে। মূল বইটি ছিল তুর্কি ভাষায়, পরে পৃথিবীর প্রায় পনেরোটি ভাষায় তা অনূদিত হয়।
    .
    লেখক পরিচিতি:
    __________________
    সাইয়িদি আলি রইসের জন্ম ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে, তুরস্কের গালাতা অঞ্চলে। তিনি ছিলেন ষোড়শ শতকে উসমানি খেলাফতের নামজাদা অ্যাডমিরাল। ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত প্রিভিজার নৌযুদ্ধে তুর্কি রাজকীয় নৌবাহিনীর বাম বাহুর নেতৃত্ব দিয়ে প্রভূত সুনাম অর্জন করেন। পরবর্তীতে ভারত মহাসাগরে তুর্কি নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল পদে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি ছিলেন গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ, কবি ও ভূগোলবিদ। মিরআতুল মামালিক গ্রন্থের সুবাদে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
    ভারত মহাসাগরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ মধ্যএশিয়ার বৃহদাঞ্চল ভ্রমণ করেন। সেই সফরনামাই বিবৃত হয়েছে এই গ্রন্থে। তুর্কি ভাষায় রচিত তাঁর এই গ্রন্থটি পরবর্তীতে ইংরেজি, ফরাসি, ইতালিয়ান, জার্মান, গ্রিক, আরবি, ফারসি, উরদু ও রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মিরআতুল মামালিক ছাড়াও তিনি ‘মিরআতুল কায়েনাত’ ও ‘কিতাবুল মুহিত : আলমুহিত ফি ইলমিল আফলাকি ওয়াল বুহুর’ নামে সামুদ্রিক নৌবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর আরও দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৫৬৩ সালের জানুয়ারিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সাইয়িদি আলি রইস মারা যান। রাহিমাহুল্লাহ তাআলা।
    প্রায় পনেরোটি ভাষায় অনূদিত হওয়া এ বইটির বাংলা কোনো অনুবাদ ছিল না। আমাদের অনেকেরই প্রিয় লেখক ও অনুবাদক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর সাহেব বাংলাভাষাভাষী পাঠকদের জন্য এই অভাবটা পূরণ করেছেন। মূল তুর্কি ভাষা জানা না থাকায় তিনি বইটা ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাঁর লেখার হাত বেশ ভালো। অনেকেরই প্রিয় লেখক তিনি। তাঁর প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বই ইতোমধ্যে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এ বইটাও তিনি যথাসম্ভব নির্ভুল অনুবাদে সচেষ্ট হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে কবুল করুন।
    .
    বিস্তারিত রিভিউ:
    __________________
    সে সময় তুরস্কের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন সুলতান সুলাইমান কানুনি। তাঁর রাজ্য ছিল তিন তিনটা মহাদেশে বিস্তৃত। সেসব শাসনাঞ্চলের মধ্যে মিশরও ছিল। মিশরীয় নৌবাহিনীর দায়িত্ব ছিল ভারত মহাসাগরে পর্তুগিজ দস্যুদের তাণ্ডব দমিয়ে রাখা। এসময় নৌসেনাপতি ছিলেন পীরি বেগ। তিনি ত্রিশটি রণতরী নিয়ে অভিযানে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় পর্যুদস্ত হয়ে বাহিনী ছেড়ে মিশরে ফিরে যান।
    রাজধানী কন্সটান্টিনোপলে সংবাদটা পৌঁছার পর সেই বাহিনীর দায়িত্ব অর্পিত হয় আরেক নৌসেনাপতি মুরাদ বেগের ওপর। তিনি সরাসরি পর্তুগিজদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং তার সকল সৈন্য হয় শহিদ হয়, নয়তো পর্তুগিজদের হাতে বন্দি হয়।
    পরপর দুজন নৌসেনাপতির ব্যর্থতার পর ভারত মহাসাগরের উসমানীয় নৌবাহিনীর দায়িত্ব পড়ে সাইয়িদি আলি রইসের ওপর।

    আলেপ্পো থেকে ঘোড়ায় চড়ে শুরু হয় তাঁর এ অভিযান। বিভিন্ন শহর-নগর, নদী-সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যান বাগদাদে। সেখান থেকে জাহাজে করে যাত্রা শুরু হয়, পৌঁছে যান বসরায়। বসরা থেকে নৌবহর সহকারে শুরু হয় তাঁর আসল অভিযান।
    বসরা বন্দর থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু হয়। চল্লিশটা দিন পেরিয়ে গেলেও পর্তুগিজদের দেখা মিলে না; রমজানের দশ তারিখে হঠাৎই দেখে যায় পর্তুগিজদের পঁচিশটা রণতরী ধেয়ে আসছে তাঁদের দিকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত লড়াই করে পর্তুগিজরা পালিয়ে গেল।
    আবারও যাত্রা শুরু, রমজানের ছাব্বিশ তারিখে আবারও পর্তুগিজদের হামলা করল। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণের পর অনেক ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিয়ে ইসলামি বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু বাঘের থাবা থেকে বাঁচতে গিয়ে কুমিরের মুখে পড়ল তারা— সামুদ্রিক ঝড় তাদেরকে বিধ্বস্ত করে দিল।
    সামুদ্রিক ঝড়ো বাতাস ও ঘূর্ণিঝড় যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নাবিক মাত্রই জানেন। একটানা কয়েক দিন ঝড়ের মুখে কোনো রকম টিকে থেকে স্রোতের টানে পৌঁছে যান ভারতের গুজরাট অঞ্চলে! তখন তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন।

    সে সময় ভারতে ছিল অনেক রাজা-বাদশাহর শাসন। একেক রাজার অনুমতিপত্র নিয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলেও ধরা পড়েন আরেক রাজার হাতে। এভাবে রাজা-বাদশাহর হাত বদল হতে হতে একসময় পৌঁছে যান সম্রাট হুমায়ুনের দরবারে! মাঝে সইতে হয় নানান বিড়ম্বনা ও মানসিক যাতনা। দুই রাজা-বাদশাহর রেষারেষির মাঝে পড়ে তিনিও পিষ্ট হন।
    সাইয়িদি আলি রইস কেবল নৌসেনাপতিই ছিলেন না; ছিলেন একজন সফল কবিও। সম্রাট হুমায়ুনের নামে দুয়েকটা কবিতা রচনার পর দরবারে তাঁর কদর বেড়ে যায়। হুমায়ুনের সাথে অনেক বিষয়ে তাঁর কথাবার্তা হয়। সম্রাটের দরবারে তিনি বেশ কিছুদিন থাকেন। এ সময়টাতেই সম্রাট হুমায়ুন একদিন মারা যান। আবারও নানান সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে; আবারও বিভিন্ন অনুমতিপত্র নিয়ে সফর অব্যাহত রাখেন।
    একসময় আফগানিস্তান হয়ে পারস্য সাম্রাজ্য পৌঁছেন তিনি। সেখানে শিয়াদের ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হয়ে গ্রেফতার হন।
    বইয়ের শুরু থেকেই বিভিন্ন নবি-রাসুল, পীর-বুজুর্গের মাজার জিয়ারতের ব্যাপার তুলে ধরেছেন তিনি। মাজার ও পীরদের প্রতি তাঁর আলাদা টান। আর এই টানই তাঁকে শিয়াদের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়! তবে তারা তাঁর মূল্যবান কিছু জিনিসপত্র রেখে দেয়। তন্মধ্যে দুষ্প্রাপ্য কয়েকটি গ্রন্থও ছিল। একসময় ইরানের শাহ’র সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। শাহ তাঁর সম্মানে ভোজের আয়োজন করেন।
    ওখান থেকে আস্তে আস্তে পৌঁছে যান ইরাক এবং সেখান থেকে আবারো বাগদাদ হয়ে পাড়ি দেন তিকরিত, মসুল-সহ আরও অনেক শহর। একসময় স্বদেশ ভূমে পৌঁছে তাঁর দীর্ঘ সফরের ইতি ঘটে।
    ততদিনে তুরস্কে তাঁর মৃত্যুর খবর চাউর হয়ে গেছে। স্বভাবতই তাঁর সরকারি চাকরিটাও বাকি নেই। তবে সুলতান তাঁকে দেখে খুবই খুশি হলেন এবং তাঁকে সেনাবাহিনীর এক উচ্চ পদে নিয়োগ করেন। তাঁর সঙ্গে যে দুয়েকজন তখনও ছিলেন, সবাইকেই বাহিনীতে নেওয়া হয়, ভাতাও বাড়িয়ে দেওয়া হয় আগের চেয়ে অনেক বেশি। এসব কাহিনি বর্ণনার মাধ্যমেই শেষ হয় ‘মিরআতুল মামালিক’ গ্রন্থটি।
    .
    সাইয়িদি আলি রইস একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিও ছিলেন, আধ্যাত্মিক বিষয়াবলীর প্রতি ছিল তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও টান। এজন্যই সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন মাজার জিয়ারতের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। বিভিন্ন বুজুর্গের সাহচর্য পাওয়ার কথাও বলেছেন বেশ আগ্রহের সঙ্গে। কয়েক জায়গায় স্বপ্নের কথা এবং স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করতেও ভুলেননি।

    তিনি একজন কবিও ছিলেন। বিভিন্ন রাজা বাদশাহর নামে কবিতা রচনার মাধ্যমে তাদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন এই অ্যাডমিরাল। এমনকি তাঁর কিছু কবিতা ভারতবর্ষে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সম্রাট হুমায়ুন তাঁকে তুরস্কের সেরা একজন কবি বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কাব্যপ্রেমী শাসকরা কবিতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে করেছেন অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা। তাই দ্য অ্যাডমিরাল বইটি একজন নৌসেনাপতির কাহিনি হলেও এতে উঠে এসেছে ভিন্ন স্বাদের অনেক আয়োজন।
    .
    পাঠ প্রতিক্রিয়া:
    __________________
    সমুদ্র আমাকে বরাবরই টানে; অন্যদিকে উসমানি সালতানাতও আমার আগ্রহের বিষয়। আবার নৌবাহিনীর যুদ্ধ কেমন হয়, সেটাও জানার খুব ইচ্ছে ছিল। সব বিষয় মিলে সাইয়িদি আলি রইসের সফরনামা ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।
    টানটান উত্তেজনার এক অ্যাডভেঞ্চার হল দ্য অ্যাডমিরাল। শুরু থেকে শেষপর্যন্ত এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো একটা বই। বইটা পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। জানা গেছে অনেক কিছু। পরিচয় হয়েছে অনেক বিষয়ের সাথে।
    .
    সমালোচনা:
    __________________
    বইয়ের সবকিছুই আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগার মতো। তবে বইটা মূল ভাষা থেকে অনুবাদ না হয়ে তৃতীয় আরেকটা ভাষা থেকে অনুবাদ হওয়ায় কিছু ভুল রয়ে গেছে বলে মনে করি। দুয়েকটা জায়গার নামে ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রায় টীকাভাষ্যেই ‘হয়তো’ ‘সম্ভবত’ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস আরেকটু খোঁজাখুঁজি করলে, আরেকটু শ্রম দিলা ‘হয়তো’ ‘সম্ভবত’ শব্দগুলো বাদ দিয়ে নিশ্চিতভাবেই কিছু বলা সম্ভব হত। পাঠকরা পেত বিশুদ্ধ জ্ঞান।

    কেবল একজন নৌসেনাপতির কাহিনি পড়তে গিয়ে প্রায় জায়গায় মাজার জিয়ারতের প্রসঙ্গ চলে আসায় কোনো কোনো পাঠক বিরক্ত হতে পারেন। এই বিষয়টা একজন অ্যাডমিরালের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চারকে কিছুটা হলেও বিঘ্নিত করেছে বলে মনে করি।

    বইটার বাঁধাই আরেকটু ভালো করা যেত। নতুন বই মাত্র দু-চারদিন পড়লেই যদি বাঁধাই খুলে যায়, তবে সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। (আশা করি প্রকাশক মহোদয় পরবর্তী সংস্করণে বিষয়গুলো আমলে নেবেন।)

    যাইহোক, তবুও বইটা অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেককেই বইটা পড়ার আমন্ত্রণ।

    বইয়ের শেষের দিকে লেখক আমাদের কাছে একটা আরজি পেশ করেছেন— আমরা যেন তাঁকে ভুলে না যাই; যেন তাঁর জন্য দোয়া করি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর এই বান্দাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন, আমিন।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top