মেন্যু
bakser baire

বাক্সের বাইরে

প্রকাশনী : সরোবর
বাক্সগুলো সাধারণত আমরা জন্মসূত্রে পেয়ে থাকি। পরিবার থেকে, সমাজ থেকে। বাক্সগুলো আরামদায়ক—তাতে যে আমরা বন্দী আছি সে বোধটা আসে না মোটেই। বাক্সের ভেতরে আবর্তিত হয় নাওয়া-খাওয়া-ঘুম-বংশবৃদ্ধির চক্র। নিতান্তই গৃহপালিত পাশবিক... আরো পড়ুন

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

3 রিভিউ এবং রেটিং - বাক্সের বাইরে

5.0
Based on 3 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    লেখক শরীফ আবু হায়াত অপু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি। মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা লেখকের রয়েছে- পাহাড়ে চড়া, সমুদ্র ভ্রমণ করা,রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণকার্য অংশগ্রহণ করা, ফিল্ম সোসাইটি,কালচারাল ফোরাম,সাইন্স ক্লাব,বিতর্ক প্রতিযোগিতা,কুইজ কম্পিটিশন,ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা,এ ধরনের আরও বিচিত্র এবং ভিন্নমুখী অগণিত ক্ষেত্রে বিচরণ। এরপর একদিন হলেন সত্যিকারের মুসলিম। ইসলামের আলোয় আলোকিত প্রদীপ্ত চোখ দুটি সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরেন কলমের আঁচড়ে।

    ★বই কথনঃ বইটিতে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন ঘটনার উপর আলোকপাত করা হয়েছে।ঠিক ঘটনা বলা ঠিক হবেনা, দর্শন-মূল্যবোধ আর অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত আকর্ষণীয় মিশ্রণ,যা পাঠককে তার চারপাশের দুনিয়া এবং বর্তমান ঘটনাসমূহ নিয়ে অন্য ভাবে ভাবাবে এবং চিন্তার জায়গাকে নাড়া দিবে।আমাদের মধ্যে যাদের মানবতাবোধ আছে, তাদের নীল চশমাটা খুলে পৃথিবিকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন লেখক।
    প্রথম ঘটনা:চোখের ডাক্তার, একজন অতি মানব,ফি সাবিলিল্লায় একজন মানুষ যে কতটা প্ররিশ্রম করতে পারে! পাঠক লজ্জায় কুঁকড়ে যাবেন।মহশি গল্পে আল্লাহর দিকে ছুটে-যাওয়া এক মহীয়সী নফসে মুতমাইন্নার ঘটনা বলা হয়েছে।কয়েকটা গল্পে রানা প্লাজা,বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিক এবং কিছু বাস্তবতার (!) কথা খুব তীক্ষ্ণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
    কম্বল কোলোজ গল্পটা খুব ভালো লেগেছে, লেখক এবং তার বন্ধুদের কম্বল বিতরনের অভিজ্ঞতা।বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলো দরিদ্র।যাদের খাবার, পোশাক, বাসস্থান মোদ্দাকথা মৌলিক চাহিদা গুলো পূরন হয় না। ক্যামেরার পিছনে আল্লাহর জন্য সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব মানুষ গুলোর কাছে লেখক এবং তার বন্ধুদের কম্বল পৌছানোর গল্প বলা হয়েছে।এক গ্রামে দুই হাজার মানুষের জন্য অবশিষ্ট ছিল 200 কম্বল,কিছু না দিতে পারার লজ্জায় নিজেদের গায়ের থেকে গরম কাপড় খুলে দিয়েছিলেন লেখকরা। বাঙালিত্বঃধর্ম নাকি দেশ প্রেম,তাকদীর,সদকা, সদ্ব্যবহার, ভারত,টিপাইমুখী বাধ,ভ্যালেনটাইস ডে,,,,ইত্যাদি নানা বিষয়ে লেখকের যাবজ্জীবনের লব্ধ ও নির্যাসিত অভিজ্ঞতার আলোকে লিখেছেন ধর্ম-দর্শন-ঘটনার মিশেলে এক অন্য রকম রচনা।

    ★অনুভূতিঃ বইটি পড়ার পর মনে হবে,যে টাকাটা দিয়ে বিলাস ভ্রমণে যেতাম সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এক টুকরো জমি কিনে তাতে মাদ্রাসা দেব ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য।একটা বেগুন বা আলুর অল্প একটু পচা দেখলেই পুরোটা ফেলে দেয়ার সময় কম্পিত হৃদয়ে মনে হবে,আমার কত মুসলিম ভাইবোন ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে,তাদের হক নষ্ট করছি না তো!…….
    ★ বইটি কাদের জন্যঃযারা নিজেদেরকে সত্যিকারের মুসলিম হিসেবে তৈরি করতে চান বইটি তাদের জন্য,এমন অভিজ্ঞতালদ্ধ মর্মস্পর্শী লেখনি,পাঠকের জীবনের নানা প্রতিকূলতার সাফল্যের পিছনের গল্প হবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ লেখকে উত্তম জাযা দান করুন।

    6 out of 8 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ঠিক এই মুহূর্তে কি করছেন, আপনি?
    আপনার চোখদুটো কম্পিউটার স্ক্রিনে নিশ্চয়? নাকি মোবাইলের ক’ইঞ্চির চতুষ্কোণে?
    আপনার চোখ দুটো একটুকরো বাক্সে নিবদ্ব এখন। বাক্সটা বড় বা ছোট হতে পারে, তবে বাক্স-ই।
    আসুন, বাক্সের বাইরে গিয়ে আলাপ করি।

    শরীফ আবু হায়াত অপু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন স্নাতোকোত্তর। তার চিন্তা ও ভাবনার প্রতিফলনে কিছু আলাপ পেড়েছেন তিনি। যার গ্রন্থিক (মলাটবদ্ধ) রুপ- বাক্সের বাইরে।

    আমাদের দর্শন, আমাদের চিন্তা, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, আমাদের অভিমত, চালচলন, আচার-আচরণ সবটার একটা গন্ডী আছে। সবটাতে একটা বাক্সবন্দী ব্যাপার আছে। আমাদের কারো মস্তিষ্ক কাঁচের এপাশে বন্দী, আর কারো ওপাশে। আবার কেউবা দুটোর মাঝামাঝিতে। পুরো চিত্রপটটাকে ভিন্ন কোনো দৃষ্টি থেকে দেখার বা গন্ডীর বাইরে গিয়ে ভাবার প্রয়োজনও রয়েছে কিন্তু!
    বাংলা ব্যান্ডের কিংবদন্তী জেমসের একটা গান ছিল না-
    পৃথিবীটা ছোটো হতে হতে ড্রইংরুমে রাখা বোকা বাক্সে বন্দী… আ-হা আ-হাহা…
    পৃথিবী ছোটো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে চিন্তার ক্ষেত্র, ভাবনার জমিন সড়সড় করে বড় হচ্ছে। আসলেই বড় হচ্ছে কি?
    হয়তো হচ্ছে, অথবা হচ্ছে না। সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আমাদের ভাবতে হবে, বুঝতে হবে। আর সেসবের জন্য বাক্সের বাইরে যেতে হবে।
    “আমাদের একটু অন্যভাবে ভাবতে হবে- বাক্সের বাইরে। সমাজের দুটো প্রান্তের মাঝে একটা যোগসূত্র তৈরী করতে হবে, শহুরে চশমা পড়া চোখের সামনে দারিদ্রের, বাস্তবতার রুপ তুলে ধরতে হবে। আমাদের মধ্যে যাদের মানবতাবোধ আছে, তাদের কালো চশমাটা খুলে তারা দুনিয়াটাকে অন্যভাবে দেখা শুরু করবে।”
    -বাক্সের বাইরে, পৃষ্ঠা ১৫; সরোবর প্রকাশন (রবিউস সানী, ১৪৩৭ হিজরী)

    এই বই কোনো গল্পগ্রন্থ নয়। নয় কোনো দর্শন শাস্ত্র। তবে এখানে দর্শন নিয়ে আলাপ জমেছে। নির্দিষ্ট একটা দর্শন ও জীবন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নানান ধরণের বিষয়, আলোচ্য জমায়েত হয়েছে এখানে। সমাজ, দেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি সহ নানা সময়ের নানান ঘটনার আলোকপাত এবং সেসবের সঙ্গে জীবনবোধের মিশেল, লেখাগুলোকে করেছে দুর্দান্ত ও জীবন্ত। ভাবনার সুতো ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা, চিন্তার গতিপথ-কে গন্তব্য দেখানোর অভিপ্রায় লক্ষণীয়। এই বইয়ের রোমাঞ্চকর দিক হচ্ছে- পাঠক এই বই থেকে পাঠ আনন্দের নুড়ি পাথর কুড়িয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে একই সাথে অসাধারণ একটা ব্যাপার সঙ্গী করবেন। তা হচ্ছে- খেইহীন চিন্তাভাবনাগুলোর জুটবে একটা নৌকা। সেই নৌকা কোথায় নোঙর করছে, তা পরের ব্যাপার; লেখকের সার্থকতা এখানেই যে, তিনি পাঠককে একটা নৌকা অন্তত দিতে পারছেন।

    চিন্তা ভাবনার স্বরুপ বিবৃত হয়েছে এখানটায়-
    “অ্যামেরিকায় দেখেছি মাসজিদে মাসজিদে মুফতে ইফতার দেয়। মানুষ ডিসপোজ্যাবল প্লেট ভরে খাবার নেয়, কিছুটা খায়, কিছুটা ছড়ায় তারপরে প্লেট ভাজ করে ট্র্যাশে ফেলে দেয়। বিরিয়ানি ভর্তি প্লেট। রুটি-মাংস ভর্তি প্লেট। নাশপাতি-আঙুর-খেজুর ভর্তি প্লেট। বাবা-ছেলে পাশাপাশি বসে একই কাজ করছে। ফেলে দেয়ার আগে একটুও হাত কাঁপে না। মাথায় একটুও আসে না যে সোমালিয়াতে সেই মুহূর্তে মানুষ ইফতার করছে শুধু বাতাস দিয়ে। সৌদি আলিমদের কাছে ফতোয়া জানতে চাচ্ছে- তাদের সাহরিতে খাবার কিছু নেই, ইফতারেও না; তাদের রোজা হবে তো?
    সৌদি মুফতি উত্তর দিতে পারেননি, শুধু অঝোরে কেঁদেছেন। আমরা কেউ প্রশ্নটা শুনতে পাইনি। আমরা ছিলাম তখন ভোজনে ব্যস্ত।
    পৃথিবী কত বদলে যায়। এইতো বছর পঞ্চাশেক আগেও সোমালিয়াকে বলা হতো আফ্রিকার রুটির ঝুড়ি। সেই সবুজ আজ কোথায় হারিয়ে গেছে! হারিয়ে গেছে গরু-ছাগলের পাল। মানুষের পাল থাকে এখন খোঁয়াড়ে। আইএমএফ দয়া আর মমতার বাঁধনে বেঁধে রেখেছে ওদের। ভালবেসে ঋণ দিয়েছে। তারপর বাতলে দিয়েছে ঋণ শোধের উপায়। এই বাঁধন কি আর ছেড়া যায়! বিজ্ঞানীরা বলবেন ক্লাইমেট চেঞ্জ- জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণেই নাকি এ দুর্ভিক্ষ। পশ্চিমা মিডিয়া বলবে আল-শাবাব মুসলিম চরমপন্থীদের জন্যই আজ এই দশা। খিলাফাতোয়ালারা বলবে তাগুতের তাদেবার সরকারের দোষ।
    আমি কিছু বলব না। আমার চোখে ভাসতে থাকবে বিশাল সব ট্র্যাশব্যাগ। কালো কালো ট্র্যাশব্যাগ। একটা ব্যাগে যে পরিমাণ খাবার ফেলে দেয়া হয়েছে তাতে গ্রামের সবগুলো মানুষ একবেলা পেটপুরে খেতে পারত।”
    -বাক্সের বাইরে, পৃষ্ঠা ৬৭; সরোবর প্রকাশন (রবিউস সানী, ১৪৩৭ হিজরী)
    এই ক’টা লাইন পড়ে আপনি একটু হলেও ভাবতে বাধ্য হবেন। একটু হলেও অন্যমনস্ক হবেন। সামান্য হলেও জাগ্রত হবে আপনার বোধ-বিবেক। মন আদ্র হোক বা না-হোক, চোখে জলকেলি উঠুক বা না-উঠুক, মস্তিষ্কের নিউরণে ক্ষুদ্র হলেও আলোড়ন উঠবেই।
    আর এটাই বইটার বিশেষত্ব। প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে চিন্তার এই খোরাকই, বাক্সের বাইরে গিয়ে জীবনটাকে দেখার প্রচেষ্টা।

    এখানে স্মৃতিচারণা আছে, ঘটনার বর্ণনা আছে, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপ আছে। তবে সবকিছু ভিড়েছে একজায়গায়, এক দর্শনে। লেখক খুব সচেতনভাবেই পাঠকের মনোজগতে সৃষ্টি করতে সমর্থ হন যে- মানব জীবনের উদ্দেশ্য কি। সার্থকতাই-বা কোথায়।
    শব্দের দারুণ ব্যবহার, বক্তব্যের সাবলীলতা, বাক্যের যথাযোগ্য আড়ম্বর পুরো বইটাকে করে তুলেছে চমৎকার স্বচ্ছন্দ। পড়তে পড়তে বইটা ধুম করে বন্ধ করে দিয়ে আপনি ভাবতে বসতে পারেন, এক ভাবনার ডাল থেকে অন্য ভাবনার ডালে লাফিয়ে বেড়াতে পারেন, হয়তো বইটা অর্ধেক রেখেই উঠে যেতে পারেন। কিন্তু যেটুকুই পড়ুন না কেন, আপনার মনে আলোড়ন তুলতে পারে সেই অংশটাও! আপনাকে বলছি না, এটা পড়তে গিয়ে আপনি দারুণ শিহরণ বোধ করবেন, রোমাঞ্চিত হবেন, এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করবেন পুরোটা। উঁহু, মোটেই তা নয়। বরং উলটোটাও হতে পারে। বিরক্তিবোধ করতে পারেন আপনি। তারপরও আপনাকে এটুক নিশ্চয়তা দেয়া যায়, আপনি ঠকবেন না। আপনার মনোজগতে সামান্য হলেও অন্যরকম চিন্তার সূত্রপাত ঘটা খুব সম্ভব।
    আশাপূর্ণা দেবী তার অমর সৃষ্টি ‘বকুল কথা’য় লিখেছিলেন না-
    “নিভৃত চিন্তায় নিমগ্ন হবার গভীর আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে সবাই।”
    আপনি উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরবেন না হয়তো এরপর। বাক্সের বাইরে ভাবনার স্রোতটা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে দেবে না আপনাকে। নিভৃত চিন্তায় নিমগ্ন হবেন আপনি, লাভ করবেন গভীর আনন্দ।

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বই
    5 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No